A Portrait of Glorious Bangladesh

Home
Archive

বাংলাদেশ থাকলে আপনি থাকবেন আমিও থাকব
আল মাহমুদ

আশা করি বাংলাদেশ যতই দুর্যোগ-দুর্ভাবনার দেশে পরিণত হোক না কেনো, বাংলাদেশ বাঁচলেই আমরা থাকব; এর ব্যতিক্রম ঘটলে আমরা কেউ থাকব না। এই যখন পরিস্খিতি তখন সবাইকেই বাংলাদেশের পক্ষে এসে দাঁড়াতে হবে। কে না জানে ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বোধের মতো ভাবছে বাংলাদেশ না থাকলেও তারা থাকবে। কিন্তু তাদের সে আশা পূর্ণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আমি দেখতে পাই না। যেকোনো মূল্যেই বাংলাদেশের অস্তিত্ব এখন বাদি-প্রতিবাদী সবার জন্যই একান্ত দরকার।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। এর ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলমান। এমন একটি দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার উপযুক্ত নেতা না থাকলেও আমাদের সবারই উচিত এ দেশের নেতৃত্বের উদ্ভবের জন্য কাজ করে যাওয়া। এই মহাসঙ্কট মুহূর্তে কারোরই মাথা ঠিক রেখে চলা এক দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভরসার কথা শুধু এটুকুই, এখনো মানুষ অসহিষäু হয়ে কোনো দুর্ভাগ্যের শিকার হয়নি। কোনো খাদ্যপণ্যই চাল, ডাল, মাছ, গোশত, স্বাভাবিক মূল্যের মধ্যে আর কেনা যাচ্ছে না। এ অবস্খায় মানুষের চিৎকার করে ওঠা উচিত। কিন্তু সেটাও ঘটছে না আমাদের জনগণ বিবেকসম্পন্ন বলেই। তবে এ অবস্খা দীর্ঘস্খায়ী হলে এর যে কী কুফল আসতে পারে, তা একটু চিন্তা করে দেখা উচিত।

যারা ভাবেন বাংলাদেশ না থাকলেও তারা থাকবেন, আসুন আমরা তাদের নিয়ে একটু পর্যালোচনা করি। এরা কারা? যতটুকু জানা যায়, তথাকথিত নাস্তিক ও প্রগতিবাদীরাই এ ধরনের চিন্তাভাবনা করে চলেছে। এরা ভাবেন তাদের আদর্শের সাথে বাংলাদেশের স্খায়িত্ব নির্ভরশীল। আমি তা অস্বীকার করি। কোনো নাস্তিক্যবাদী আদর্শই বাংলাদেশের অস্তিত্বের গ্যারান্টি নয়। বাংলাদেশ টিকতে পারে শুধু ইসলামি আদর্শের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হয়েই। প্রথম কথা হলো, বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। এখানকার ধর্ম ও ভাষা এক। আশা-আকাáক্ষাও এর অনুকূলেই থাকতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। যারা ভাবেন তাদের তথাকথিত প্রগতিশীল আদর্শ বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে, তাদের মতলব হলো বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো বড় শক্তির মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক আদর্শের বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটা সম্ভবপর নয়। যারা ষড়যন্ত্র করে অন্যের মধ্যে বিলীন হয়ে বাঁচার, তারা জানে না যে এতে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। সবার আগে তারাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মাত্র। তাদেরও অস্তিত্বের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার শর্ত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওই কথাটাই এসে যায়, বাংলাদেশ থাকলে আমরা বাদি-প্রতিবাদী, শত্রু-মিত্র সবাই টিকে থাকব। এর ব্যতিক্রম হলে কেউই থাকবে না। আসুন দেখি আমাদের টিকে থাকার মূল আদর্শ যে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে জড়িত, সে বিষয়টি একটু পর্যালোচনা করি।

আমাদের দেশটি এমন এক জায়গায় অবস্খিত, যার গুরুত্ব অপরিসীম। এক দিকে তার সমুদ্র সন্নিহিত অঞ্চল, অন্য দিকে কাছেই হিমালয়ের প্রাচীর। এক দিকে ভারত অন্য দিকে চীন। এ অবস্খায় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বিরাজ করছে। নানা কারণে এ দেশের মানুষ দুর্যোগ-দুর্ভাবনায় নিজের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সে চাইলেই কাউকে তারা মাটির উপর দিয়ে ট্রানজিট দিতে পারে না। তবে যদি তাকে এ কাজে সম্মতি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে তা অবশ্যই কঠিন শর্ত যুক্ত হতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কখনো ভীরুতার পরিচয় দেয়নি। সে মাথা উঁচু করে আছে, থাকবেও আশা করি চিরকাল।

ষড়যন্ত্রকারীরা সব সময় অন্যত্র বাংলাদেশকে বিলীন করে দেয়ার চিন্তাভাবনায় মশগুল। অথচ এরা এতই সংখ্যালঘু যে তাদের উদ্দেশ্যের পাত্তা দিলেই বাংলাদেশ তার সর্বনাশ ডেকে আনবে। তার চেয়ে বরং এ দেশের ওই সব কুচক্রী শয়তানকে হজম করে ফেলার শক্তি যে বাংলাদেশের আছে, তা একবার দেখিয়ে দিলে মন্দ হয় না। যা হোক ষড়যন্ত্রকারীদের মতলব নিয়ে এত দুর্ভাবনার কিছু নেই। বরং বাংলাদেশ যে একটি নেতৃত্বহীন দেশ হয়ে পড়েছে এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করাই উচিত।

মনে হয় সাবেক কোনো নেতৃত্ব আর বাংলাদেশের ওপর প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তারের অবস্খায় নেই। এর মধ্যেই অনেক বিষয়ে আমাদের জনগণের বিরক্তি ধরে গেছে। সবাই নতুন পরিস্খিতিতে নতুনভাবে বাঁচার চিন্তাভাবনা করছে। এখন কথা হলো, নতুন পরিস্খিতিটা কী? দেশ তো চলছে কঠোর বিধিনিষেধ ও ইমার্জেন্সির মধ্যে। যদিও নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু নির্বাচন যে হবে এসবের লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সৌভাগ্যবশত যদি নির্বাচন হয় তাহলেও বাংলাদেশ যে অস্তিত্বের সঙ্কটে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে, সেখান থেকে উদ্ধার পাবে কিভাবে? আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারে তার ধর্ম। একমাত্র ইসলামই বাংলাদেশের অস্তিত্বের গ্যারান্টি। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এই মূল প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে বাইরের শক্তির যোগসাজশ থাকুক বা না থাকুক এরা হলো চিরকালই বাংলাদেশের নানাবিধ দুর্ভাগ্যের কারণ। এদের ষড়যন্ত্র সব সময় বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশে কখনো এমন সরকার ক্ষমতায় বসতে পারেনি, যারা এসব ষড়যন্ত্রকারীকে চিহ্নিত করে এদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

আমরা আগেই বলেছি, এদের সংখ্যা নগণ্য। কিন্তু এদের যোগসাজশ এবং ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাটি অনেক বড়। এই পরিকল্পনা ষড়যন্ত্রকারীরা প্রস্তুত করেনি। এর প্রস্তুতকারীরা সব সময় অনেক দূরে অবস্খান করে এদেশীয় চরদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা পাচ্ছে। ভরসার কথা এটুকু যে, এ দেশের সাধারণ মানুষ সব সময়ই এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে অবস্খান নিয়ে দেশের মাটিতে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কোনো ষড়যন্ত্রই আজ পর্যন্ত সফল হয়নি। যদিও এরা সফল হয়নি, কিন্তু কখনো এরা ষড়যন্ত্র পরিত্যাগ করে হাত গুটিয়ে বসে নেই। আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশের ধর্মই বাংলাদেশকে অস্তিত্ব বিলোপের আশঙ্কা থেকে আশ্বস্ত করে এসেছে। ভবিষ্যতেও ইসলামই বাংলাদেশকে নিশ্চিতভাবে অভয় দান করে বাঁচাবে। এতে শর্ত হলো এই বিশ্বাসের মধ্যে যদি নিজেরাই কোনো ঘুণ ধরানোর চেষ্টা না করি। একজন লেখক বা কবির কাজ কী, তা আমি বহুবার বহু নিবìেধ উল্লেখ করেছি। এর আর পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। তবে একটা কথা বারবার বলতে ইচ্ছা করে, সেটা হলো আপনি আমার শত্রুই হোন বা মিত্রই হোন বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথেই আপনার অস্তিত্বও নির্ভরশীল। বাংলাদেশ থাকলে আপনিও থাকবেন আমিও থাকব। আর বাংলাদেশ কোনো কারণে না থাকলে আপনিও থাকবেন না, আমিও থাকব না।

এই বিশ্বাস মনে জাগ্রত রেখেই আমাদের বাংলাদেশের পক্ষ অবলম্বন করতে হবে। নিশ্চিতভাবে একটা আশ্বাস আমি কবি হিসেবে উচ্চারণ করতে পারি, সেটি হলো এই দুর্যোগ-দুর্ভাবনার সময়টা আল্লাহর রহমতে অতিক্রম করতে পারলে বাংলাদেশের ওপর নতুন সূর্যালোক ঝলসিত হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ একটি অসাধারণ সম্ভাবনাপূর্ণ দেশ। এই দেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো উপযুক্ত নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটে, তাহলে এ দেশকে আর কোনো দিন অস্তিত্বের সঙ্কট নিয়ে দুর্ভাবনায় কাল কাটাতে হবে না। অবশ্যই সেই নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আমাদের তৈরি করে রাখতে হবে।

এবার দেশের ভেতরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির লাগামহীন দাম বাড়ানোর বিষয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই। কেনো এই অবস্খার সৃষ্টি হয়েছে? এখানে আন্তর্জাতিক বিশ্বের দাম বাড়ানোর দৃষ্টান্ত এনে লাভ নেই। আমাদের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানকার ব্যবসায়ীরা যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের বিবেকহীন আচরণের অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু সব ব্যবসায়ী তো আর একরকম মানসিকতার অধিকারী নন। অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা টাকার চেয়ে মানুষের দুর্দশাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে তা লাঘবের চেষ্টাও করেন। এই ধরনের ব্যবসায়ীরা কোনো অবস্খাতেই মালপত্র ধরে রেখে বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়ার প্রয়াসী হন না। তাদের কাছে আমরা বিবেক জাগিয়ে তোলার জন্য আবেদন জানাতে পারি। তাদের জন্যও আমাদের একই কথা। ‘বাংলাদেশকে রক্ষা করুন, তাহলে আপনিও রক্ষা পাবেন। মনে রাখবেন, বাংলাদেশ না থাকলে আপনিও থাকবেন না। আপনার টাকার পাহাড় কারুণের ধনের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

সাধারণ মানুষ কী পরিমাণ দুর্দশার মধ্যে কালযাপন করছে, তা সম্ভবত দেশটির এখন যারা কর্ণধার তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে না। মানুষের হাহাকারে দেশের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে আছে। এ অবস্খায় দেশের অস্তিত্বের বিষয়ে সাধারণ জনগণ খানিকটা উদাসীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই অশুভ অবস্খা থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার পেতে হলে কী করতে হবে তা অবশ্য আমার জানা নেই। তবে মানুষের ধৈর্যের এবং সহনশীলতার বাঁধ একবার ভেঙে গেলে কী ঘটবে সেটা অবশ্য আমি বিভিন্ন দেশের বিপ্লবের ইতিহাস থেকে জানি। এই জানা এখানে আর ব্যক্ত করতে ইচ্ছুক নই। বরং ধৈর্যের বাঁধ থাকতে থাকতে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর ভরসার কথাই আমি বলতে আগ্রহী। এখানেও ওই একই কথান্ধ বাংলাদেশ থাকলে আমরা থাকব, না থাকলে আমরা কেউ থাকব না। এই মহাসত্য উচ্চারণ করে আমি একজন কবি সমাপ্তিতে পৌঁছতে চাই। তবু এখানে একটি কথা না বললেই নয়। সেটি হলো আমার প্রভু এই জাতির উপর অনেক মেহেরবান। কারণ, তিনি এই জাতির অস্তিত্বের লড়াইয়ের কথা সবচেয়ে বেশি জানেন।

আমরা তো আমাদের অবস্খার পরিবর্তনের জন্য একই সাথে লড়াই এবং একই সাথে তার কাছে প্রার্থনা করে চলেছি। প্রভু এটি একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মসজিদের মিনারগুলো থেকে পাঁচবার তোমার মহিমা ঘোষণা করে আজান ধ্বনি উথিত হয়। এই দেশটিকে তুমি যেমন নানামুখী বৈরিতার হাত থেকে উদ্ধার করে এসেছ, এই সঙ্কটেও তুমি আমাদের রক্ষা করবে। তোমার করুণা ছাড়া এই জাতি রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। কিছু বিভ্রান্ত নাস্তিক্যবাদী মানুষের দুর্মতির অপরাধে আমাদের ধ্বংস করে দিও না। আমরা বংশানুক্রমে তোমার বন্দনা করে এসেছি। তুমি এই জাতির অস্তিত্ব যে বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে জড়িত তা উত্তমরূপে জ্ঞাত আছ। আমাদের রক্ষা করো প্রভু, বাংলাদেশকে রক্ষা করো।

 

 
© Sonar Bangladesh, 2002-2008, Dhaka, Bangladesh. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Last updated on April 14, 2008