বৃহস্পতিবার, ২৫ ভাদ্র ১৪১৭; ০১ শাওয়াল ১৪৩১; ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০২:৩৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
ছিটমহল ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব (১৫/০১/২০১০)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাঃ একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (১৫/১২/২০০৯)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও হাইকোর্টের রায়ঃ একটি দালিলিক পর্যালোচনা (১৬/০৭/২০০৯)
স্বাধীন বাংলাদেশের সাফল্যগাঁথা (২৬/০৩/২০০৯)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও কিছু প্রশ্ন (১৫/০১/২০০৯)
বাংগালী নারীঃ সংগ্রামে সাফল্যে অজেয় (১৫/১১/২০০৮)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতির রূপরেখা (০১/১১/২০০৮)
মাদক নয়, চাই প্রাণবন্ত তারুণ্য (৩০/০৯/২০০৮)
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কাঁটাগুলো (০১/০৯/২০০৮)
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বি পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা যেখানে (১৬/০৮/২০০৮)
ইন্ডিয়াকে ট্রানজিট প্রদানে বাংলাদেশের লাভের পরিমাণ কতটা ? (০১/০৮/২০০৮)
আগের লেখা
445


ছিটমহল ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব

তানিম আহমেদ

ছিটমহল ভৌগলিক সীমানা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ভূখন্ড। বিচ্ছিন্ন কিছু জনপদ। বাংলাদেশ ও ভারতের মূল ভূখন্ড থেকে এমন বিচ্ছিন্ন জনপদ আছে দেড় শতাধিক। বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী থানার কিছু জমি ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা কুচবিহারের অন্তর্গত। জমিগুলো বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, একইভাবে কুচবিহার জেলার কিছু জমি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ, নীলফামারীর ডিমলা, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার অন্তর্গত। এসব জমিও ভারতের মূল ভূখন্ড থেকেও আলাদা। এভাবে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের এবং ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের যেসব ছোট ছোট ভূখন্ড রয়েছে সেগুলোকেই বলা হয় ছিটমহল। ছিটমহলবাসীর নামমাত্র নাগরিকত্ব পরিচয় থাকলেও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। তিন দশকে বারবার সরকার পরিবর্তন হলেও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করেনি কেউ। ফলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এসব ভূখন্ডে।

ছিটমহলের  ইতিহাস

ছিটমহল সমস্যাটা দীর্ঘদিনের তথা বৃটিশ আমল থেকে। যে সমস্যা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তা দেশ স্বাধীন হওয়ার ফলে তা দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে। ১৯৪৭ সালে যখন বৃটিশদের দ্বারা প্রণীত এক আইনে বলা হয়, উপমহাদেশের স্বাধীন অঞ্চলগুলো তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবে অথবা তারা স্বাধীন সত্তা নিয়েও থাকতে পারবে। এ আইন অনুযায়ী রাঙামাটির রামগড় ও বান্দরবান পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেয়। আর পূর্ব সীমান্তের পার্বত্য ত্রিপুরা ও উত্তরের কুচবিহার যোগ দেয় ভারতে। অন্য কোনো রাজ্য নিয়ে সমস্যা না হলেও সমস্যা হয় কুচবিহার নিয়ে। কারণ সে সময় কুচবিহারের রাজা ছিলেন জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ। যার কিছু জমিদারি স্বত্ব ছিল বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলার মধ্যে। অপরদিকে রংপুর ও দিনাজপুরের জমিদারের কিছু তালুক ছিল কুচবিহার সীমানার মধ্যে। জমিদারদ্বয় এ নিয়ে সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হন। ফলে ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু ভূখন্ড আর পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পড়ে ভারতের কিছু ভূখন্ড যা পরে ছিটমহল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর উভয় দেশই এসব ভূমির দফারফা করার দিকে অগ্রসর হয়। গঠন করা হয় রেডক্লিফ মিশন। শেষ পর্যন্ত এ মিশনও চূড়ান্ত মীমাংসায় আসতে ব্যর্থ হয়। তাই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর এ সমস্যা দেখা দেয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে।

ছিটমহল সমস্যার সমাধানে গৃহিত উদ্যোগ

ছিটমহল সমস্যা সমাধানের সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৪৭ সালে। যা দু'দেশ অর্থাৎ ভারত ও পাকিস্তানের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে সম্ভব হয়নি। পরে উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৫৮ সালে, যা পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নূন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু একটি চুক্তির মাধ্যমে চেষ্টা করেন। তবে সমস্যার সমাধান করা যায়নি। ফিরোজ খান নূন ও জওহরলাল নেহরু বেরুবাড়ী ছিটমহল হস্তান্তরের একটি যৌথ ঘোষণায় সই করেন, যা ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি।

দেশ স্বাধীনের পর ছিটমহল সমস্যা সমাধানকল্পে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে ১৯৭৪ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা মূলত ইন্দিরা মুক্তির চুক্তি নামেই পরিচিত। চুক্তিতে বলা হয়, 'বাংলাদেশে ভারতীয় ছিটমহল এবং ভারতে বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো অতি সত্বর বিনিময় করতে হবে।' চুক্তিতে আরো বলা হয়, 'ভারত দক্ষিণ বেরুবাড়ী ইউনিয়ন নং-১২ এর দক্ষিণ দিকের অর্ধাংশ ও পার্শ্ববর্তী ছিটমহলগুলোর অধিকারী হবে, যে এলাকার পরিমাণ ২�৬৪ বর্গমাইল। বিনিময়ে বাংলাদেশ দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমলের অধিকারী হবে। বাংলাদেশের পানবাড়ী মৌজার সঙ্গে দহগ্রামকে সংযুক্ত করার জন্য ভারত বাংলাদেশকে 'তিন বিঘা' নামে (১৭৮.৮৫) মি. এলাকা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেবে।' এ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বেরুবাড়ী দিয়ে দিলেও ভারত আজও চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী কথা রাখেনি। কথা ছিল উভয় দেশই দেশীয় পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদন করে নেবে। বাংলাদেশ অনুমোদন করলেও ভারত তা করেনি। ১৯৯০ সালে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট তিন বিঘা বাংলাদেশকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, যার ফলে ১৯৯২ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও আবার একটি চুক্তি করেন। এ চুক্তির মাধ্যমে দহগ্রাম আঙ্গরপোতা ছিটমহল সমস্যার একটি সাময়িক সমাধান হয়। ১৯৯২ সালের ২৬ জুন থেকে তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টায় ৬ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জিইয়ে থাকা ছিটমহল সমস্যায় উদ্যোগী হয়। এ উদ্যোগের ফলে উভয় দেশ বৈঠকে বসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ এটাকে ভারতীয় হঠকারিতা এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এটাকে আইনি জটিলতা বলে ব্যক্ত করেন।

ছিটমহলের বাসিন্দাদের মানবেতর জীবনযাপন

ছিটমহলগুলোর সঠিক সমাধানের অভাবে দিন দিন অপরাধ বেড়েই চলছে এসব ভূখন্ডে। বর্তমানে ছিটমহলগুলো দাগি আসামি ও অপরাধীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছে। আইনি জটিলতার কারণে কোনো দেশের পুলিশই ছিটমহলে প্রবেশ করে না। ফসল নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকেন এখানকার অধিবাসীরা। বিএসএফের ভয়ে অনেকেই জিরো লাইনে ফসল চাষ করতে যান না। অনেক সময় আবার সন্ত্রাসীরা ফসল কেটে নিয়ে যায়। ভয়ে কিছুই বলতে পারেন না। মাঝে মধ্যে সন্ত্রাসীরা কৃষকের একমাত্র হাতিয়ার গরু নিয়ে যায়।

এসব অপরাধের পাশাপাশি ছিটমহলগুলো মানুষ পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী ও শিশুদের এসব রুটেই পাচার করা হয় ভারতে। যেসব নারী এসব ছিটমহল দিয়ে পাচার হয়ে যায় তাদের অধিকাংশের আশ্রয় মেলে কলকাতার পতিতালয়গুলোতে। ইউনিসেফের রিপোর্টে দেখা গেছে, পাচার হওয়া নারীদের মাঝে ৫৫%-এর বয়স ১৭-২৪ এর মধ্যে, যাদের ৯৫%ই অশিক্ষিত। আর শিশুদের আশ্রয় মেলে কোনো কারখানায় বা তাদের হত্যা করে বিক্রি করে দেয়া হয় তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। এছাড়াও মদ-গাঁজার উন্মুক্ত আসর বসে ছিটমহলগুলোতে। দু'একটি ছিটমহলে আবার চাষ করা হয় গাঁজা। সব মিলিয়ে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি লক্ষ্য করা যায় সেখানে ।

ছিটমহলগুলোতে সমস্যার অন্ত নেই। নেই শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয়জল, রাস্তাঘাট, যানবাহনের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা। তারা বাংলাদেশের ভূখন্ডে অবাধে চলাচল করলেও তাদের পরিচয় ভারতীয়। কিন্তু ভারতেও যেমন তাদের নেই নাগরিকত্ব, তেমনি ওই সব ছিটমহলে ভারতীয় প্রশাসনের নেই কোনো কর্তৃত্ব। এ কারণে ছিটমহলবাসীর আর্থসামাজিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ছিটমহলে ব্যাংক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পাকা সড়ক, সেতু, হাটবাজার নেই, নেই শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও। ছিটমহলের শিশুরা কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। সেখানে স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাটবাজার কোনো কিছুই নেই। ছিটমহলবাসী অমানবিক জীবন কাটাচ্ছে। এসব নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার লোকজনও কোনো কথা বলছে না এমনকি সেখানে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাও কাজ করে না। তারা ভারতীয় ছিটমহলের নাগরিক হলেও তাদের ভারতে ঢোকার সুযোগ নেই।

সীমান্তে উত্তেজনা

ছিটমহল নিয়ে বারবার উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটায় এখানকার অধিবাসীরা। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎই গুলি। পাখির মতো গুলি করে মারছে বাংলাদেশীদের। যেন মানুষ মেরেই হাত ঠিক করে নিচ্ছে বিএসএফ সদস্যরা। মানবাধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা অধিকারের হিসাব মতে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৫-এর জুলাই পর্যন্ত বিএসএফ ও ভারতীয় দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হয় ৪০৬ জন, আহত হয় ৪৮৪ জন এবং অপহৃত হন ৫০১ জন। অন্যদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার তথ্য মতে, ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে ৩২৫টি। এতে নিহত হন ১১৪ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৩৯ জন। এই ১১৪ জনের মধ্যে ৮ জন ছিল বিডিআর নওজোয়ান। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এরূপ আচরণে দিন দিন অতিষ্ঠ করে তুলছে ছিটমহলবাসী ও বিডিআর নওজোয়ানদের।

ছিটমহলের সংখ্যা

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছিটমহল নিয়ে দু'দেশের মধ্যে বেশ টানাপড়েন চলে। এ সমস্যার সমাধানকল্পে ১৯৯৬ সালের ১-১২ অক্টোবর কলকাতায় বিডিআর ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। একই বছর মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে ছিটমহলের তালিকা তৈরি করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মোট ছিটমহলের আয়তন দাঁড়ায় ২৪ হাজার ২৬৮ দশমিক ০৭ একর। তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের ছিটমহলগুলো লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার অন্তর্গত হলেও এগুলো অবস্থান করছে ভারতের কুচবিহার জেলায়। বেসরকারি তথ্য মতে, এসব ছিটমহলের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। বাংলাদেশের চতুর্থ আদমশুমারি ২০০১ সালের প্রতিবেদনে ছিটমহলের জনসংখ্যার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
                                                         টেবিল- ১
                                    এক নজরে বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহল
 দেশ          ছিটমহলের সংখ্যা    আয়তন (একর)    জনসংখ্যা
বাংলাদেশ    ৫১                     ৭,১১০�০২          প্রায় ৭০,০০০
ভারত         ১১১                    ১৭,১৫৮�০৫       প্রায় ১,০০,০০০
মোট          ১৬২                    ২৪,২৬৮�০৭       প্রায় ১,৭০,০০০
                                                        
                                                 টেবিল- ২
                                      ছিটমহলের জেলাভিত্তিক  অবস্থান
জেলা      বাংলাদেশী ছিটমহলের সংখ্যা    ভারতীয় ছিটমহলের সংখ্যা
লালমনিরহাট            ৩৩                                ৫৯
পঞ্চগড়    -              ৩৬
নীলফামারী    -          ৪
কুড়িগ্রাম                  ১৮                                ১২
মোট                       ৫১                                ১১১


বাংলাদেশে ভারতের ছিটমহল

বাংলাদেশে ভারতের যে সব ছিটমহলের জমির পরিমাণ ১৭৫২�৪৪ একর। এখানকার অধিকাংশ জনগণই মুসলিম। ভূখন্ড ভারতের হলেও সবকিছু কেনাবেচা চলে বাংলাদেশি টাকায়।

বাংলাদেশের ভেতর ভারতীয় ভূখন্ডের সংখ্যা ১১১টি, যাতে প্রায় এক লাখ লোকের আবাস।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছিটমহলের অবস্থা তুলে ধরা হলো

বালাপাড়া খাগড়াবাড়ি
নীলফামারী জেলায় আছে ৪টি ভারতীয় ছিটমহল। এর একটি বালাপাড়া খাগড়াছড়ি। এর জমির পরিমাণ ১৭৫২�৪৪ একর। এখানকার অধিকাংশ জনগণই মুসলিম।

বেহুলাডাঙ্গা
পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় ভারতীয় যে ২৫টি ছিটমহল রয়েছে তার মধ্যে বেহুলাডাঙ্গা একটি। এর আয়তন ৮৬২�৪৬ একর।

দাশিয়ারছড়া
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানায় রয়েছে ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ারছড়া। সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভেতরে এর অবস্থান। আয়তন ১৭৪৩ একর। লোকসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার।


ভারতীয় ভূখন্ডে বাংলাদেশের ছিটমহল

ভারতে বাংলাদেশের ছিটমহলের সংখ্যা ৫১টি। যাতে প্রায় ৭০ হাজার জনগণের বসবাস। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ছিটমহলবাসীর গায়ে। তাদের দিন কাটে বিএসএফের কড়া নজরদারিতে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছিটমহলের অবস্থা এরূপ-

দহগ্রাম আঙ্গরপোতা

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ ছিটমহলটি। ভারতীয় ভূখন্ডে এটি একটি বাংলাদেশি ইউনিয়নও বটে। দেশের সবচেয়ে বড় ছিটমহল এটি। বেসরকারি হিসাব মতে এখানের মোট জনসংখ্যা ১৫ হাজারের মতো। যাদের মধ্যে দুই থেকে আড়াইশ পরিবার একেবারেই ভূমিহীন।

ছিটকরলা
ছিটকরলা দেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি বাংলাদেশি গ্রাম। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় এ অবস্থান। প্রায় তিন কিলোমিটার ভারতীয় ভূখন্ড বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এটিকে মূল ভূখন্ড থেকে। ভারতীয় ভূখন্ড না পেরিয়ে ছিটকরলা যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ছিটকরলার আয়তন প্রায় ২৭০ একর। এখানে প্রায় ৪,৫০০ লোকের আবাস, নেই কোনো স্কুল কিংবা হাসপাতাল। তাদের জীবন চলে ধরলায় মাছ ধরে আর দিনমজুরি করে।

বত্রিশগাছ ও কিসমত বত্রিশগাছ
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুটি ছিটমহল হলো বত্রিশগাছ ও কিসমত বত্রিশগাছ। ছিটমহল দুটির আয়তন যথাক্রমে ৫৭৭ একর ও ২১০ একর। বেসরকারি হিসাব মতে এখানে ছয় হাজার লোকের বসবাস। প্রায় ২০০ গজ ভারতীয় ভূখন্ড পার হয়ে যেতে হয় ছিটমহল দুটিতে।

ছিটতিলাই
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার ১০ কিলোমিটার দূরে একটি বাংলাদেশি গ্রাম ভারতীয় ভূখন্ডে। নাম ছিটতিলাই, এর আয়তন ৮৭ একর। এখানে রয়েছে ২৫টি বাংলাদেশি পরিবার। লোকসংখ্যা ২৫৬ জন। যাদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উপায় মাছ ধরা ও দিনমজুরি করা।


বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত সম্পর্কে টানাপোড়েনের একটি বড় ইস্যু হলো ছিটমহল। ছিটমহলগুলোতে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। সেখানকার ৯০ শতাশের বেশী মানুষ অক্ষর জ্ঞান শূন্য। অবহেলা, অবিশ্বাস আর হয়রানি তাদের নিত্যসঙ্গী । সমাজের পিছিয়ে পড়া ওই মানুষগুলোর সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের উচিত যথোপোযুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া।

ই-মেইলঃ  nasar.du@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/TanimAhmed
পাঠকের মন্তব্য:
রাজশাহী ইউনির্ভাসিটি থেকে ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ লিখেছেন, ১৪ জানুয়ারী ২০১০; রাত ০৯:৫৪
তানিম আহমেদ,
শুেভচ্ছা েতামায়। েতামার েলখািট ভাল লাগলো। এর আগেও তোমার লেখা দেখেছি, মন্তব্য লেখা হয়নি। এ বয়স থেকেই এগিয়ে যাবার চেষ্টা, খুব ভালো লাগছে। নিয়মিত লিখ। আবারো ধন্যবাদ।
6856
ঢাবি থেকে আনজুমান আরা নাসরিন লিখেছেন, ১৬ জানুয়ারী ২০১০; দুপুর ০১:৩২
ভাল লেখা।
ক্যাম্পাসে দেখা হবে।
6917
কানাডা থেকে সাদাদুল লিখেছেন, ১৯ জানুয়ারী ২০১০; রাত ০৩:৪৭
আপনার লেখা পড়ে মনে হবে যে, মুজিব ইন্দিরা চুক্তিতে "দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা ও তিনবিঘা করিডোর বাংলাদেশকে আর দক্ষিন বেরুবাড়ী ইউনিয়ন ভারতকে" হস্তান্তর করার কথা ছিলো। বাংলাদেশ ভারতকে দক্ষিন বেরুবাড়ী ইউনিয়ন হস্তান্তর করে। বিনিময়ে ভারত দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা বাংলাদেশ হস্তান্তর করলেও তিনবিঘা আর হস্তান্তর করেনি।

আমরা যতদূর যানি যে, দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা ও বেরুবাড়ী ছিটমহল পূর্ব-পাকিস্তানের অংশ ছিলো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা ও বেরুবাড়ী ছিটমহল আমাদের দেশের অংশে পরিণত হয়।

"দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাওয়ার সুবিধার জন্য ভারত "তিন বিঘা" পরিমান জায়গা বাংলাদেশকে দেবে আর এর বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতকে ২.৬৪ বর্গমাইলের দক্ষিণ বেরুবাড়ী হস্তান্তর করবে" এই কি ছিলো না মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে?

তানিম ভাই, বিষয়টি পরিস্কার করে বলবেন কি? ছিটমহল নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ।
7027
Dhaka, du থেকে লেখক লিখেছেন, ১৯ জানুয়ারী ২০১০; সকাল ১১:৪৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত ভারত সফরে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহলের অধিবাসীরা যাতে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ও সহজ যাতায়াত সুবিধা পায়, এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে এ বিষয়ে কিছুই হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের গত এক বছরে কমপক্ষে ৯৬ বাংলাদেশীকে বিএসএফ হত্যা করেছে। নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের হত্যার মতো মানবাধিকার বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদও করার সাহস দেখাননি প্রধানমন্ত্রী।
7050
জাপান থেকে আরিফা নাজনিন লিখেছেন, ২৬ জানুয়ারী ২০১০; সকাল ১১:৪৯
তানিম ভাইয়া,

এরকম আরো লিখবেন
7343
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মারুফ আল্লাম লিখেছেন, ২৬ জানুয়ারী ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৪৭
তানিম আহমেদ ভাইয়া, অনেক ভালো লাগল তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটি পড়ে। নিয়মিত লিখবেন আশা করি।
7358
USA থেকে হক-কথা লিখেছেন, ২৬ জানুয়ারী ২০১০; রাত ০৯:৩৯
তানিম ভাই,

তোমার লেখা আগে আরো পড়েছি কিন্তু এটা খুবই চমত্কার হয়েছে। অনেক তথ্য বহুল লেখা। লেখার হতও ভালো, লেখা চালিয়ে যাও, ভালো করার সম্ভাবনা খুব বেশি।
ধন্যবাদ
7361
গাইবান্ধা থেকে মুহাম্মদ শাহাদত েহােসন লিখেছেন, ২৭ জানুয়ারী ২০১০; রাত ০২:১৮
েলখা ভােলা হয়েছে।

কেমন আছো তানিম? অনেক দিন দেখা হয় না...........
7371
সাইপ্রাস ; নিকোসয়া থেকে আরিফুল ইসলাম ( নােটার; লালপুর) লিখেছেন, ২৯ জানুয়ারী ২০১০; রাত ০২:১২
ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।
7448
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
তানিম আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। জন্ম ১৯৮৮ কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার শ্রীরামপুর গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখিতে হাতে খড়ি। ১৯৯৭ সাল থেকে সাপ্তাহিক, মাসিক এবং দৈনিক পত্রিকায় গল্প, কবিতা, ফিচার, কলাম লিখে চলেছেন অনবরত।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2010. E-mail: editor@sonarbangladesh.com.