|
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: সাফল্যের মুকুটে একটি উজ্জ্বল পালক
সমর কুমার ঘোষ |
|
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। বিএনপি-জামায়াত ও তাদের পোষ্যরা এমন একটা রব তুলেছিল যে, প্রধানমন্ত্রী যেন ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করতে যাচ্ছেন। তারা ভুলে গিয়েছিল, শেখ হাসিনা সেই দেবতূল্য মহামানবের সন্তান যিনি বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি জাতির পিতার সন্তান। তাঁর হাতে এদেশ যতটা নিরাপদ, অন্য কারো হাতে তা নয়। আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু ভারতের ব্যাপারেও এই মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে ক্ষতিকর অনেক চুক্তি করিয়ে নিবে।
অথচ, বাস্তবে দেখা গেলো ভারত তার বন্ধুত্ব ও সহায়তার দ্বার অবারিত করে দিয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের কিছু লোকের হৈচৈ এর জবাবে ভারত বাঁধ তৈরীর কাজ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ দিতে রাজী হয়েছে। বাংলাদেশকে একশ' কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ৪৭টি বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে নয়া দিল্লি।
তবে নিন্দুকের মুখ কখনো বন্ধ হবে না। এদেরই একজন ড. মাহবুবউল্লাহ বলেছেন, 'বাংলাদেশ দিয়েছে অনেক কিন্তু পাওয়ার খাতা শূন্য। এ যৌথ ঘোষণা এবং ট্রানজিট দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভারতের অর্থনীতি এবং রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট। সে তুলনায় ২৫০ মেগাওয়াট কিছুই নয়। এর উপর রয়েছে বিদ্যুতের দাম, ট্রান্সমিশন এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। আবার অবকাঠামো খাতে যে একশ' কোটি ডলারের ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য করিডোর ব্যবহার করার আগেই অতিরিক্ত যান চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট প্রস্তুত করে নেয়া। এই ঋণের টাকা বাংলাদেশকে সুদে-আসলে পরিশোধ করতে হবে। টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে ভারতের বক্তব্য অস্পষ্ট। আমরা আশা করেছিলাম এবং এদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল ভারত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা দেবে।'
ফরহাদ মজহার বলেছেন, সমগ্র ঘোষণা যদি তন্ন তন্ন করে খুঁজি তাহলে বাংলাদেশ এখানে কি পেল তার কোনো চিহ্ন নেই। আমরা দিলামই কেবল, পেলাম না কিছুই। .. এই ঘোষণা ভারতকে দাসখত লিখে দেয়ারই শামিল এবং বাংলাদেশ যদি ভারতের কাছে দাসখত লিখে দিত তাহলেই ভালো হতো। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে কিছু কিছু গণমাধ্যম ব্যাপারটিকে ফলাও করে যেভাবে মহাকিছু প্রাপ্তি সংবাদের খবর দিচ্ছে তাতে অবাক হতে হয়। ... টিপাইমুখ বাঁধ হলে কি ক্ষতি হবে এটা কে নির্ধারণ করবে। ভারত ফারাক্কার মাধ্যমে বাংলাদেশকে পানিশূন্য করেছে। বাংলাদেশের পরিবেশ এবং প্রাণের সমূহ ক্ষতি করেছে। এরপর ক্ষতিকর কিছু করা হবে না কথাটা বলা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার মতো।
পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেয়ার বিষয়টি একটি হাস্যকার বিষয়। যেখানে ভারত এবং বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্য চুক্তির অধীনে অবাধ বাণিজ্যের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেখানে বাংলাদেশের পণ্য ভারতে প্রবেশ করতে না দেয়াটাই ছিল ভারতের দিক থেকে অন্যায়। এজন্য উচিত ভারতের কাছে জবাব চাওয়া। সেখানে উল্টো বলা হচ্ছে, ভারত বুঝি আমাদের ভারি দয়া করছে।
তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে ঋণ দেয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট। ভারত বাংলাদেশের কাছে তাদের যানবাহন বিক্রি করতে চায়। তারই প্রাথমিক শর্ত তৈরি করার জন্য এই ঋণ। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট চাওয়ার চাপ দীর্ঘদিন ধরেই অব্যাহত ছিল। ট্রানজিট দেয়ার মাধ্যমে ভারত সেটা পেল। এরপরও নগদ প্রাপ্তি ঘটল চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি।
সাবেক সচিব আসাফ উদ দৌলা বলেছেন, ঢাক-ঢোল পেটানো এ সফরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি হচ্ছে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার। অন্য কোনো অর্জন নেই। তিনি বলেন, যে তিনটি চুক্তি হয়েছে, তার সবক'টি নিরাপত্তা সম্পর্কিত। এ চুক্তির দোহাই দিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইহুদি ও মার্কিন এজেন্টদের বাংলাদেশে সদম্ভ উপস্থিতি না দেখলে আমি বিস্মিত হব।
ভুটান ও নেপালের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র কয়েক কোটি টাকা। এই দুই দেশের করিডোর পাওয়ার মাঝে কোনো কৃতিত্ব নেই। সরকারের সাহস থাকলে তারা চীনের সঙ্গে করিডোর দাবি করতে পারত ভারতের কাছে। কিন্তু ভারতকে ক্ষেপানোর ঝুঁকি হাসিনার সরকার কখনোই নেবে না।
তিনি টিপাইমুখ ইস্যুতে বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধ চালুর আগেও ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা এ বাঁধের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষতি হতে দেবে না। আমার বিশ্বাস, টিপাইমুখ নিয়ে মনমোহন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা স্রেফ দৈববাণী হয়ে ইতিহাসে রেকর্ড হয়ে থাকবে। আর এ বাঁধের প্রভাবে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ মরুকরণ শুরু হবে।
তিনি বলেন, সরকার তিস্তা থেকে এক ফোঁটা পানি আনতে পারেনি। এ সফরে আমরা কিছু দৈববাণীই পেলাম।
এসব কথা শুনলে রাগও হয়, হাসিও পায়। তাদের কথা শুনে মনে হয় বাংলাদেশের ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির পুরোটাই মেটানোর দায় ভারতের। ভারত নিজেই যেখানে পানি পাচ্ছে না, সেখানে তিস্তার পানি দিবে কিভাবে?
এই অত্যন্ত সফল সফর সম্পর্কে যে মিথ্যাচার হচ্ছে, তার দাতভাঙ্গা জবাব সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হবে বলে আশা করি। বিশেষ করে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধের বিষয়ে ভারতীয় কতৃপক্ষ আরও স্পষ্ট ঘোষণা দিবেন যাতে পাকিস্তানপন্থীদের বলার কিছু না থাকে।
|
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/SamarKumarGhosh |
| |
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
|