|
ভারতকে সব কিছু উজাড় করে দেয়া হয়েছে
খালেদা জিয়া |
|
[প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং কয়েকটি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং যৌথ ইশতেহার নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য রাখেন তার পূর্ণ বিবরণ]
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
দীর্ঘদিন রোগভোগের পর ভারতের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জ্যোতি বসু আজই মৃত্যুবরণ করেছেন। দুই দশক ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতে মানুষ খুব কষ্ট পাচ্ছে। শিশু, বয়স্ক মানুষ ও গরিবদের কষ্ট আরো বেশি। অনেকে মারাও যাচ্ছেন। আমরা শীতার্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের সীমিত সাধ্য নিয়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সামর্থবান মানুষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তীব্র শীতের কষ্ট থেকে দরিদ্র মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।
বাংলাদেশের মানুষ ত্যাগী ও কষ্টসহিষ্ণু। তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অধিকার ও উন্নত জীবনের জন্য অতীতে চরম ত্যাগ স্বীকারের ইতিহাস গড়েছে। ভালো কিছুর জন্য যেকোনো কষ্ট স্বীকার করতে তারা সব সময়েই প্রস্তুত। তারা আশা করেছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর দেশের জন্য কল্যাণকর কিছু বয়ে আনবে।
কিন্তু তারা হতাশ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিছুই আনতে পারেননি। দিল্লি থেকে রিক্ত হাতে ফিরেছেন।
বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে।
কারণ বাংলাদেশের যা কিছু দেয়ার ছিল, সবই ভারতকে উজাড় করে দিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের মানুষ ক্রুদ্ধ হয়েছে।
কারণ ভারতের হাতে সব কিছু তুলে দিয়ে ঢাকা ফেরার পর শাসক দল তাকে সংবর্ধনা জানাবার নাম করে জনগণকে আরো বেশি কষ্ট দিয়েছে।
তারা মানতে পারছেন না, এই নজতানুতা, এই দাসখত লিখে দেয়ার পর বাংলাদেশে কেন প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হবে।
তাকে সংবর্ধনা জানাতে পারে ভারত, বাংলাদেশ নয়। কেননা এই সফরে যা কিছু হয়েছে তার সবই ভারতের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। কাজেই এ সফর ভারতের জন্য শতভাগ সফল হলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যর্থ শুধু নয়, চরম ক্ষতিকারক হয়েছে।
গত এক বছরে অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় দুই মাসের মতো দেশের বাইরে থেকেছেন। অথচ অন্য কোনো দেশ থেকে ফেরার পর এভাবে দলীয় লোকদের তাকে সংবর্ধনা জানাতে দেখা যায়নি।
এবার এ ডামাডোলের আয়োজন করা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর শোচনীয় ব্যর্থতা ও নতজানুতাকে আড়াল করতে।
এই হইচইয়ের উদ্দেশ্য ছিল দেশবাসীর চোখে ধুলা দিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
জনমতকে বিভ্রান্ত করার ওই অপচেষ্টা এখনো বহাল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সদ্য সমাপ্ত ভারত সফরের ওপর শনিবার যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেখানেও তিনি দেশবাসীকে প্রকৃত সত্য ও তথ্য জানাবার চেয়ে বিরোধী দলকে অসংযত ভাষায় আক্রমণ করার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি দিয়েছেন নানা রকম অসত্য তথ্য।
তিনি চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের মোট ক্যাপাসিটির যথাক্রমে শতকরা ৪০ ও ১০ ভাগ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে যে তথ্য দিয়েছেন, তা পুরোপুরি অসত্য। সকল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এখন চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ক্যাপাসিটির প্রায় ৬০ ভাগ এবং মংলা বন্দরের মোট ক্যাপাসিটির প্রায় ৪০ ভাগ আমরা ব্যবহার করছি।
প্রতি বছরেই এই ব্যবহারের হার বাড়ছে। অথচ এই বন্দর দুটি ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী এখন এ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদনদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ব্যাপারে সফরে কোনো অগ্রগতিই হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে, প্রথম দিকে বলা হয়েছিল যে, তিস্তা নদীর পানি ভাগের ব্যাপারে সফরের সময়ে একটি চুক্তি হবে।
পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেমন কিছু হচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত তিস্তার পানি ভাগেরও কোনো চুক্তি হয়নি। দুই দেশের যৌথ ইশতেহারে এ নিয়ে আগামীতে বৈঠকের আশ্বাস মিলেছে মাত্র। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই একাধিকবার বলেছেন, তিনি ফারাক্কার ব্যাপারে ভারতের সাথে যে ট্রিটি সই করেছিলেন, সেই আদলেই তিস্তার পানি ভাগের চুক্তি করতে চান।
দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ জানে যে, ফারাক্কা ট্রিটিতে আমাদের কী মহাসর্বনাশ করা হয়েছিল।
পাকিস্তানি শাসনামলে ভারত সকল প্রতিবাদ উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ফারাক্কা বাঁধ তৈরি করে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ শাসনামলে মুজিব সরকারকে প্রতারণা করে মাত্র ২১ দিনের জন্য ট্রায়াল রান করার কথা বলে ভারত এ বাঁধ কমিশনিংয়ের সম্মতি আদায় করে নেয়। তার পর কোনো রকম চুক্তি ছাড়াই ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করতে থাকে।
আপনারা জানেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং ফারাক্কার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করার বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ব্যাপারে জনমত গড়ে তোলেন।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে বিষয়টি বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন করে।
সকল ফ্রন্টে সমন্বিত ও সুসংহত এসব দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে ভারত বাধ্য হয় বাংলাদেশকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে শুষ্ক মৌসুমেও কমপক্ষে ৩৬ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং গ্যারান্টি ক্লজসহ একটি সফল চুক্তিতে উপনীত হওয়া সম্ভব হয় শহীদ জিয়াউর রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই।
এর আগে গঙ্গার পানি ভাগের ব্যাপারে ভারতের সাথে কোনো চুক্তি করা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিক ভাইবোনেরা,
আপনারা জানেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আমলে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারত নানান অজুহাতে ওই চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব এড়িয়ে গিয়ে নতুন করে চুক্তি করার প্রস্তাব দিতে থাকে।
আমরা আগের চুক্তি নবায়নের প্রস্তাবে অটল ছিলাম। এ নিয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তি অনুযায়ী পানি ভাগের ব্যাপারেই ভারতকে আমরা রাজি করাতে পেরেছিলাম।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে ভারতের সাথে নতুন পানি চুক্তি সই করে। এতে আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গার পানির সম্পূর্ণ প্রবাহের ওপর বাংলাদেশের দাবি ছেড়ে দিয়ে শুধু ফারাক্কা পয়েন্টে প্রাপ্ত পানি বণ্টনের কথা বলা হয়। অথচ এর আগেই ভারত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উজানে পানি প্রত্যাহার করায় ফারাক্কায় পানির প্রবাহ একেবারেই কমে যায়।
ফারাক্কা পয়েন্টে প্রাপ্ত পানি ভাগের ব্যাপারে সই করা ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো গ্যারান্টি ক্লজও সংযোজন করা হয়নি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ নূনতম কী পরিমাণ পানি পাবে তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
এমনকি চুক্তিতে যা বলা হয়েছে সেটুকু পানিও বাংলাদেশকে দিচ্ছে না ভারত। প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে তার প্রতিবাদ পর্যন্ত জানাননি।
ফলে পানির হিস্যার বিষয়টিকে পুরোপুরি ভারতের করুণার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ফারাক্কার অভিশাপে বাংলাদেশে মরুকরণ শুরু হয়েছে। জমির লবণাক্ততা বাড়ছে। উর্বরতা কমে যাচ্ছে। শস্য, গবাদিপশু, মাছ, প্রাণবৈচিত্র্য ও পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের নদীগুলো হারাচ্ছে নাব্যতা। সুন্দরবনের গাছপালা বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে।
আমরা ২০০১ সালে সরকারে আসার পর গঙ্গার পানি চুক্তি সংশোধনের জন্য বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। এতে সফল না হলেও আমাদের দাবি আমরা ছাড়িনি। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আজকের প্রধানমন্ত্রী ওই চুক্তি সংশোধনের কোনো আহ্বান জানাননি।
বরং ওই অভিশপ্ত চুক্তির আদলেই তিস্তার পানি ভাগের চুক্তি করার ব্যাপারে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এতে বাংলাদেশের জনগণের সাথে আমরাও গভীরভাবে উৎকণ্ঠিত।
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, এভাবে বারবার জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেবেন না।
আমরা যতবার সরকারে ছিলাম, ততবারই পানিসহ জাতীয় স্বার্থের প্রতিটি বিষয় বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছি। অথচ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা নাকি দিল্লিতে গিয়ে পানির কথা তুলতে ভুলেই গিয়েছিলাম। আমি এই অসত্য উক্তি ও অপপ্রচারণার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আপনারা জানেন, বাংলাদেশ আজ নানামুখী আগ্রাসনের শিকার। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য বহন করে। ভারতের সাথে সম্পর্ক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি উপেক্ষা করার উপায় নেই।
প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অথচ তিনি ভারতের সাথে যৌথ উদ্যোগে শুধু রবিঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছেন।
আমরা সকলেই জানি, দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধনের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এই দুই ব্যক্তিত্ব ভারতে জন্মগ্রহণ করলেও রবীন্দ্রনাথের গান আমাদের জাতীয় সঙ্গীত আর নজরুলের গান আমাদের রণসঙ্গীত। উপরন্তু, নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি।
তার সাহিত্য আমাদের ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরিসীম প্রেরণা জুগিয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে আমাদের জাতীয় কবিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেবল রবীন্দ্র জয়ন্তী যৌথভাবে উদযাপনে সম্মতি দিয়েছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি এই ঔদাসীন্য বাংলাদেশের জনগণকে হতবাক করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যাওয়ার আগে আমি বাংলাদেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো ভারতে যাতে দেখা যায় সে ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যের বিষয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরকালে বিষয়টি উত্থাপনেরই প্রয়োজনবোধ করেননি। তিনি তার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই চ্যানেলগুলো বেসরকারি মালিকানার বলেই তিনি এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
সরকারের থেকে দায় এড়াবার কী হাস্যকর প্রয়াস!
বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত ও বিকশিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে সকল ভারতীয় চ্যানেল অবাধে চলবে আর ভারতে নানান অজুহাতে বাংলাদেশী কোনো চ্যানেলই দেখানো হবে না এটি খুবই অন্যায়। ভারত সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কথা না বলে আরো গুরুতর অন্যায় করেছেন।
আপনারা জানেন, ভারতের লেখকদের বই অবাধে বাংলাদেশে এলেও আমাদের লেখকদের বই ভারতে অপাঙ্ক্তেয়।
ভারতীয় শিল্পীরাও অবাধে বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠান করছেন। কিন্তু বাংলাদেশী শিল্পীদের ভারতে গিয়ে অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে কোনো কথা না বলে এবং বৈষম্য দূর করার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রটোকল সই করায় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করবে বলে বাংলাদেশের মানুষ মনে করে।
টিপাইমুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণের তোড়জোড়ে সারা বাংলাদেশ প্রবল উৎকণ্ঠায় রয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এ সম্পর্কে কিছুই তিনি জানেন না।
কী ভয়াবহ কথা!
এর আগে সরকারি প্রতিনিধিদল টিপাইমুখ প্রকল্প সম্পর্কে জানার মিশন নিয়ে ভারতে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভারত সফর করে এলেন। অথচ তিনিই বলছেন, টিপাইমুখে কী হচ্ছে তা তিনি জানেন না।
এই অজ্ঞতা ক্ষমাহীন, এই নির্লিপ্ততা অমার্জনীয়।
টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে সারা জাতি উদ্বিগ্ন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সমগ্র পূর্বাঞ্চলসহ এক বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ভয়াবহভাবে বিপন্ন হবে। আমরা সরকারে না থাকলেও ইতোমধ্যে এ প্রকল্প বন্ধ করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। আমরা বলিষ্ঠ কণ্ঠে এর বিরোধিতা করার জন্য সরকারের প্রতিও সমর্থন দিয়েছি। এই পটভূমিতে দেশবাসী আশা করেছিল যে, প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরকালে তার আলোচ্যসূচির প্রধান বিষয়ই হবে টিপাইমুখ প্রকল্প।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি এ প্রসঙ্গে শুধু একটি পুরনো আশ্বাস হাতে করে ফিরে এসেছেন। ইতোমধ্যে শোনা যাচ্ছে, ভারত টিপাইমুখ প্রকল্প বন্ধ করছে না। এতে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।
এই উদ্বেগের সুরাহা করার বদলে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য তুলে ধরে বলেছেন যে, আমরা সরকারে থাকতে নাকি এ প্রকল্পের ব্যাপারে কখনো কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি।
প্রকৃত সত্য হচ্ছে, আমরা বারবার প্রতিবাদ করেছি। এর আগে তথ্য প্রমাণ দিয়ে দেশবাসীকে তা জানিয়েছি। সে কারণে আমাদের সময়ে ভারত এ প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হতে পারেনি। এখন এই সরকারের আমলে ভারত ওই প্রকল্প নিয়ে তোড়জোড় করছে। আর সরকার এর প্রতিবাদ না জানিয়ে বরং সমর্থনসূচক কথা বলছে। সে কারণেই দেশবাসী আরো বেশি উৎকণ্ঠিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান (ফ্যাপ) নাকি আমাদের সময়ে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছিল। এই তথ্যও সম্পূর্ণ অসত্য। প্রধানমন্ত্রীর জানা উচিত, ফ্যাপ একটি কনসালটেন্সি রিপোর্ট।
১৯৮৮ সালের বন্যার পর এরশাদ সরকার বিশ্বব্যাংকসহ দেশী-বিদেশী কিছু প্রতিষ্ঠানকে এই কনসালটেন্সি দিয়েছিল। এ ধরনের রিপোর্ট ক্যাবিনেটে আসার প্রশ্নই ওঠে না।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে তিনটি চুক্তি, একটি সমঝোতা স্মারক ও একটি প্রটোকল সই হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসবের মধ্যে কী আছে সে সম্পর্কে দেশবাসী পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। যেসব বিষয়ে চুক্তি হয়েছে তা খুবই সংবেদনশীল। কারণ এসবের সাথে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখ তার বিষয় খুবই নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ভারতের বন্ধুপ্রতিম জনগণ ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক এবং এ অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যের প্রসঙ্গ এসব চুক্তির আওতাভুক্ত। কাজেই এতে কী রয়েছে তা জানার অধিকার বাংলাদেশের মানুষের আছে।
আমরা এসব চুক্তির বিষয়বস্তু বিস্তারিত প্রকাশের দাবি করছি।
আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে একটি গোপন নিরাপত্তা চুক্তিও সই হয়েছে বলে সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে তার সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করায় জনমনে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
কী পেল বাংলাদেশ?
এই প্রশ্ন তো শুধু আমাদের নয়, সারা দেশবাসীর।
প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে ৫০ দফা যৌথ ইশতেহারে সই করেছেন। এ পর্যন্ত শুধু এ ইশতেহারটুকুই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। এতেই যা আছে তাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি বিকিয়ে দিয়ে এসেছেন।
এ সফরে তিনি ভারতকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, সড়ক, রেল, নৌপথ সব কিছু অবাধে একতরফাভাবে ব্যবহারের সম্মতি দিয়ে এসেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ লাভে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আগাম সমর্থন জানিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য আরেক মরণ ফাঁদ টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সবুজ সঙ্কেত দিয়ে এসেছেন। ভারতকে সকল মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছেন। এসবের ফলে সার্বভৌমত্বই কেবল ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার ব্যবস্থাও পাকাপোক্ত করা হয়েছে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
১৫ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশ কেবল রাস্তা ও বন্দর ভাড়া দিয়ে চলতে পারে না। যারা এ অলীক স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তারা বাংলাদেশে মানুষকে চিরকালের জন্য গরিব রাখতে চান।
কারণ আমাদের শিল্প খাতের যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ছিল এ বন্দর ও ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার ফলে তা শেষ করে দেয়া হলো। এর ফলে শিল্পায়ন ব্যাহত হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সঙ্কুচিত হবে এবং রফতানি কমে যাবে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ সব দিক থেকে ভারতের একটি বাজারে পরিণত হবে।
এর বিপরীতে আমাদের প্রাপ্তির ঘরে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার আশ্বাস মিলেছে।
এই ঋণ আমরা কেন নেবো?
বর্তমান সরকার এবং তাদের আন্দোলনের ফসল জরুরি সরকারের আমল মিলিয়ে গত তিন বছরে এ দেশে কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না। ব্যাংকে অলস টাকা পড়ে আছে। জাতীয় স্বার্থে কোথাও কোনো অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের প্রয়োজন হলে তা আমরা দেশের টাকাতেই করতে পারতাম।
কিন্তু জাতীয় স্বার্থে নয়, বর্তমান সরকার ভারতের স্বার্থে, ভারতের ব্যবহারের জন্য অবকাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে এ ঋণ নিচ্ছে।
এ ঋণের টাকা ভারতীয় পণ্য পরিবহনের অবকাঠামো তৈরি এবং ভারতীয় যানবাহন, রেল কোচ ও ইঞ্জিন কেনায় ব্যবহার করা হবে। আর সুদসহ ঋণ শোধ করতে হবে বাংলাদেশের গরিব জনগণকে।
বাংলাদেশ বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে অনেক দিন থেকেই দ্বিপক্ষীয় ঋণ নেয়াকে নিরুৎসাহিত করছে। এ ঋণের সুদহার বিশ্বব্যাংকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এ ছাড়া ভারত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কাছে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এই বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য ভারত নতুন পাওয়ার স্টেশন বসাবে। সেই স্টেশন তৈরি কাজ এখনো শুরুই হয়নি। অন্তত তিন বছর লাগবে এই বিদ্যুৎ পেতে।
আপনারা জানেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে দেশেই সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অঙ্গীকার রয়েছে।
সে ক্ষেত্রে তিন বছর পর পাওয়া যেতে পারে এমন ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের আশ্বাস নিয়ে এত মাতামাতি সত্যিই হাস্যকর।
মাত্র ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে বড় জোর একটি জেলার চাহিদা মিটতে পারে। এই সামান্য বিদ্যুৎ কেনা আসল কথা নয়। আসল উদ্দেশ্য হলো, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরমঞ্জাম নেয়ার নামে ভারতকে স্থায়ীভাবে ট্রানজিট সুবিধা দেয়া। প্রধানমন্ত্রী সেটাই দিয়ে এসেছেন।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
পানির প্রশ্নটি আমাদের জীবন ও জাতীয় অস্তিত্বের সাথে জড়িত। বর্তমান সরকারের সাথে ভারতের এত বন্ধুত্ব সত্ত্বেও সেই পানি সমস্যার কোনো সুরাহা হলো না। সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে কোনো মীমাংসা নেই। সীমান্তে আমাদের নাগরিকদের নির্মম হত্যাকা এখনো অবাধে প্রায় প্রতিদিনই চলছে, প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিবাদও করেননি।
বরং যৌথ ইশতেহারে সীমান্তে দুই পক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারতীয় বাজারে রফতানিযোগ্য বাংলাদেশী পণ্যেও শুল্কমূল্য প্রবেশাধিকার এখনো মান নির্ধারণের গোলকধাঁধা ও অন্যান্য অশুল্ক বাঁধায় আটকেই রইল, তিন বিঘা করিডোরের ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার নাগরিকদের জীবন অনিশ্চিত রয়েই গেল এখন আপনারাই বলুন, কিসের বিনিময়ে এত উচ্ছ্বাস?
আমরা ভারতবিদ্বেষী নই। সকল প্রতিবেশী দেশের সাথে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্কোন্নয়নে আমরা সব সময়ে বিশ্বাসী। কিন্তু বাংলাদেশ কেবল দিয়েই যাবে, বিনিময়ে তেমন কিছুই পাবে না এটি আত্মমর্যাদাশীল ও কোনো স্বাধীন জাতি মেনে নিতে পারে না।
আমরা আঞ্চলিক ভিত্তিতে বহুপক্ষীয় প্রকৃত কানেকটিভিটির বিপক্ষে নই। সেই কানেকটিভিতে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বন্ধুপ্রতিম সব দেশকে যুক্ত করার কথা আমরা সব সময় বলে এসেছি। সেই লক্ষ্য পূরণে এশিয়ান হাইওয়ের সুনির্দিষ্ট রুট ম্যাপ আমরা অনুমোদন করে এসেছি। আজ তাও পরিবর্তন করে শুধু ভারতকে করিডোর দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এভাবেই জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে সব কিছুকে কেবল ভারতমুখী, ভারতকেন্দ্রিক এবং ভারতীয় স্বার্থেও অনুকূল করার নীতির আমরা সর্বতোভাবে বিরোধিতা করছি। সেই আলোকেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর উপলক্ষে প্রণীত যৌথ ইশতেহার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের জনগণ জাতীয় স্বার্থবিরোধী এ ইশতেহার মানে না। এটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সাথে ভারত সরকারের ইশতেহার। এ ইশতেহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে সংসদে এসে সব কিছু নিয়ে কথা বলতে বলেছেন। আমার প্রশ্ন, দাসখত দিয়ে আসার পর আর আলোচনার অবকাশ কোথায়?
ভারত সফরে যাওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ ও সকল স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা করে একটি জাতীয় ঐকমত্য স্থাপন করা প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য ছিল। আমরা সে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং জাতীয় অঙ্গনে প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি এবং উত্তেজনাকেই তিনি উসকে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও আমরা একতরফাভাবে আপনাদের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও পরামর্শ তুলে ধরেছিলাম। তিনি সেসবও উপেক্ষা করেছেন।
কাজেই জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া জনগণের সামনে সরকার আর কোনো বিকল্প রাখেনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সার্বিক ফলাফলে আজ দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিক প্রবলভাবে উৎকণ্ঠিত।
তারা বুঝতে পারছেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৭ সালে দেশে জরুরি সরকার বসিয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক প্রথা-প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি তথা সার্বিক জাতীয় অস্তিত্বের ভিত্তিমূলে যে আঘাত হানা হয়েছিল, বর্তমান শাসনামলে তা ষোলো কলায় পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিলখানায় রহস্যঘেরা এক বিদ্রোহের ঘটনায় আমাদের ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত রক্ষাবাহিনী বিডিআর প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
৫৭ জন মেধাবী ও চৌকস সেনা অফিসারের মর্মান্তিক হত্যাকা প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। সেই রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি।
আমাদের সীমান্ত আজ প্রায় অরক্ষিত। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে আমাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়ে জাতীয় অস্তিত্বকে আজ বিপন্ন করে তুলেছেন। যেসব সমঝোতা তিনি করে এসেছেন তা অতীতে ভারতের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পাদিত ২৫ বছরের গোলামি চুক্তির চেয়েও বিপজ্জনক।
তাই এ সঙ্কটকালে সকল দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় নাগরিককে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আমার আহ্বান, যে যেখানে আছেন, সচেতন হোন। বিষয়গুলো গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। পরস্পরের মধ্যে মতবিনিময় করুন। প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিন।
দেশপ্রেমিক সকল ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সামাজিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আহ্বান দেশ ও মানুষ বাঁচাবার সংগ্রামে শরিক হোন। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন।
আমরা ইতোমধ্যেই আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি এগিয়ে যাবে। অচিরেই আমরা ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, নারী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সাথে পর্যায়ক্রমে কথা বলব। পাশাপাশি চলতে থাকবে আন্দোলনের কর্মসূচি।
জাতীয় স্বার্থে সেই বৃহত্তর আন্দোলনে সকলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হবেই, ইনশাআল্লাহ।
আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/KhaledaZia |
| |
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| লেখিকা বিএনপি চেয়ারপারসন, সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী। |
|