মঙ্গলবার, ২৩ ভাদ্র ১৪১৭; ২৭ রমজান ১৪৩১; ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৯:৩৮ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলার অন্তর্ভূক্তি

আশরাফ রহমান

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল প্রকাশিত ‘বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি প্রতিবেদন ২০০৯’ অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৬৮২ কোটি ৯৪ লাখ। এরা প্রায় ৬ হাজার ভাষায় কথা বলে। তবে ভাষাতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, আগামী একশ বছরের মধ্যে প্রায় তিন হাজার ভাষা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কারণ অতীতেও অনেক ভাষা পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। একসময় পাশ্চাত্যের একটি বিখ্যাত ভাষা ছিল ‘ল্যাটিন’। কিন্তু এ ভাষায় এখন আর কেউ কথা বলে না। ভারতীয় উপমহাদেশের এমন একটি ভাষার নাম ‘সংস্কৃত’। ধর্মীয় কাজের বাইরে এর কোন ব্যবহার নেই। মধ্যযুগে ব্রিটেনের একটি ভাষা ছিল ‘কর্নিশ’। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত একজন মহিলা জীবিত ছিলেন যিনি ঐ ভাষায় কথা বলতেন। তার মৃত্যুর পর ঐ ভাষাটিও বিলুপ্ত হয়ে যায় ।

‘The languages of the world’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী,পৃথিবীতে প্রায় ৬ হাজারের মতো ভাষা আছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ অর্থাৎ শ'তিনেক ভাষায় পৃথিবীর ৯৬ ভাগ মানুষ কথা বলে। বাকী সাড়ে পাঁচ হাজার ভাষার মধ্যে যেসব ভাষায় কথা বলার লোক এক লাখের বেশী নেই, সেগুলোর মধ্যে বেশকিছু ভাষা এখন বিলুপ্তির পথে। এক হিসেবে দেখা গেছে, আজকের পৃথিবীতে প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, পৃথিবীতে এমন ৫১টি ভাষা আছে যেগুলোর প্রতিটিতে মাত্র একজন করে ব্যবহারকারী রয়েছে! এ চিত্র থেকে একটা বিষয় পরিস্কার যে, বিশ্বের জীবন্ত ভাষাগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিলুপ্তির হার বন্যপ্রাণী কিংবা গাছপালা বিলুপ্তির হারের চেয়েও বেশী। কিন্তু বাংলাভাষার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখা যায়।

বিশ্বে বাংলা ভাষার অবস্থান

বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার স্থান ৫ম। তবে ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলার অবস্থান ৪র্থ। শুধু বাংলাদেশের মানুষই যে এ ভাষায় কথা বলে তা নয় বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুর, মণিপুর, বিহার ও উড়িষ্যা এবং মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের রোহিঙ্গারাও বাংলা ভাষায় কথা বলে। আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিয়নে বাংলাকে ২য় সরকারী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সেদেশের জনগণ বাংলাভাষা শিক্ষা করছে।

বাংলা ভাষার আন্দোলন

বিশ্বে বাংলাই সম্ভবত একমাত্র ভাষা, যার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় পুলিশের গুলিতে আব্দুস, সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার সহ আরো অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে সারা পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ও তীব্র আকার ধারণ করে। অবশেষে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে উর্দুর সম-মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। এছাড়া ৫২-এর চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে ১৯৬১ সালের মে মাসে বাংলা ভাষার ব্যবহার বন্ধ করার প্রতিবাদে ভারতের আসামের শিলচর শহরে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন ১১ জন। ১৯৬১ সালে আসাম প্রাদেশিক সরকার শুধু অহমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরকারী ভাষা ঘোষণা দিলে বাঙালীদের ভেতর ক্ষোভ দানা বাঁধে। ক্রমশঃ তা আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯মে শিলচরে সকাল ৬টা-সন্ধ্যা ৬টা ধর্মঘট পালন করে। বেলা সাড়ে তিনটায় ভাষাবিপ্লবীরা যখন স্থানীয় রেলওয়ে ষ্টেশনে রেলপথ অবরোধ পালন করছিল তখন আসাম রাইফেলসের একটি ব্যাটালিয়ান তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আসাম রাইফেলস গুলবর্ষণ করলে ঘটনাস্থনে প্রাণ হারান ১১জন ভাষাবিপ্লবী। রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়। এরপর আসামে বাংলাকে ২য় রাজ্যভাষা হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

বাংলা ভাষার প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করতে গিয়ে বাঙালীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা ইউনেস্কোর নজরে আনার জন্য কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন ‘মাদার ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড’ প্রচেষ্টা শুরু করে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়। ওই দিন ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ২১শে ফেব্রুয়ারীকে ‘আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি জানানোর প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং অপর ২৫টি দেশের সদস্যরা সেটিকে অনুমোদন করে। এরপর থেকে সারা বিশ্বে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।'

ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০৮ সালের গত ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র দফতর ‘শান্তির জন্য সংস্কৃতি’ শীর্ষক একটি রেজুলেশন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরে। ভারত, জাপান, সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২৪টি দেশ এই রেজুলেশনটি সমর্থন করে। এই রেজুলেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এবং শান্তির জন্য সংস্কৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংস্কৃতির সংলাপকে উৎসাহিত করতে মাতৃভাষাগুলোর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি

২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘ ভাষা শহীদদের প্রতি নিঃসন্দেহে ব্যাপক সম্মান দেখিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এতেই কি সন্তুষ্ট? মোটেই না। আর এ জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে বাংলাভাষাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সদস্য দেশগুলোর সমর্থন চেয়েছেন ।
ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাংলাদেশের ভাষা শহীদরা জীবন দিয়েছিলেন। সেদিনের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতি বছর এই দিন ইউনেস্কো বিশ্বের সকল ভাষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দিবসটি পালন করে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পার্লামেন্ট জাতিসংঘকে অনুরোধ করেছে বাংলাকে এর অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য। ভাষার শক্তির প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বাংলাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে আমি সকল সম্মানিত সদস্যের সমর্থন কামনা করছি।’

বাংলাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাবির সাথে একমত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ২১শে ডিসেম্বর ২০০৯ জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিসংবলিত একটি সর্বদলীয় প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার হাসিম আবদুল হালিম।
জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে এখন ছয়টি ভাষা স্বীকৃত। এসব ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, আরবি, ফরাসি, রাশিয়ান ও স্প্যানিস। এর মধ্যে রুশ ভাষায় কথা বলে বিশ্বের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ এবং বিশ্বের প্রায় ২২ কোটি মানুষ আরবিতে কথা বলে। কিন্তু বাংলায় কথা বলে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ। ফলে রুশ ও আরবি যদি জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা হওয়ার যোগ্যতা রাখে তাহলে বাংলা কেন পারবে না? সরকার যদি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে তাহলে একদিন না একদিন বাংলাভাষা অবশ্যই জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষার স্বীকৃতি পাবে।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলা ভাষা

বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা, রেডিও, টেলিভিশন, ও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে বাংলা ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, জার্মানী, চীন, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, জাপান প্রভৃতি দেশ থেকে প্রতিদিনই বাংলা ভাষায় রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়ে থাকে। এছাড়া ব্রিটেন, কানাডার প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে টিভি অনুষ্ঠানও প্রচার করা হচ্ছে। এসব রেডিও, টিভির অনুষ্ঠান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষীরা উপকৃত হচ্ছেন। এছাড়া বর্তমানে বাংলা ভাষায় অনলাইন রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার এবং পত্রপত্রিকা প্রকাশ হচ্ছে উল্লেখযোগ্যহারে।

ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া বর্তমান যুগে কোন দেশই অগ্রসর হতে পারবে না। আর একারণেই ভাষাপ্রেমী প্রযুক্তিবিদরা তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছেন। বাঙালী প্রযুক্তিবিদদের প্রচেষ্টায় বর্তমানে ফায়ারফক্স ব্রাউজার, ওপেন অফিস, জুমলা, গুগল, লিনাক্স, উবুন্টু এসব বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা হয়েছে। ওয়েব ব্রাউজার মজিলা সম্প্রতি আটটি ভাষাতে বেটা সংস্করণ অবমুক্ত করেছে। এই আটটি ভাষার মধ্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাও আছে। এর ফলে এখন থেকে আমরা বাংলা ভাষার ইন্টারফেসের ফায়ারফক্স ব্যবহার করতে পারবো। ফায়ারফক্সে এখন বাংলা অভিধানও যুক্ত হয়েছে।

গুগলের দারুণ দারুণ সব সার্ভিস সম্পর্কে আমরা কে না জানি! গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বাংলা অনেক আগে থেকে যুক্ত হলেও সার্চের সময় বাংলা অটো-কমপ্লীট যুক্ত হয়েছে কিছুদিন আগে। গুগলের আর একটি ভাল সার্ভিস হচ্ছে Google transliteration, যে সব সাইটে বাংলা লেখার ব্যবস্থা নেই, সে সব ওয়েব ব্রাউজারে খুব সহজেই বাংলা লেখা সম্ভব। গুগল ট্রান্সলেটরে বাংলা ভাষা না থাকলেও গুগল অভিধানে সম্প্রতি বাংলা ভাষা যুক্ত হয়েছে। বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় সোসাল সাইট ফেসবুকেরও বাংলা রূপান্তর করা হয়েছে। ব্লগার ডট কম আংশিক বাংলা ভার্সন তৈরি হয়েছে প্রায় বছর খানেক আগেই। সম্প্রতি এ কার্যক্রম তাদের জনপ্রিয় মেইল সার্ভিসেও প্রয়োগ করেছে। ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরীতে ওয়ার্ডপ্রেস খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন জনপ্রিয় প্লাগইনের মধ্যে কন্টাক্ট ফরম ৭ অন্যতম। এতে সম্প্রতি বাংলা ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। ই-মেইল ব্যবহারকারীদের অধিকাংশেরই জিমেইল একাউন্ট আছে। জিমেইল এখন বাংলা ভাষায় ব্যবহার করা যাচ্ছে। মোটকথা, বলতে গেলে পুরো বাংলাতেই এখন কম্পিউটারের অনেক কিছু ব্যবহার করা সম্ভব।

উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়ায় বাংলা

ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডার হচ্ছে বাংলা উইকিপিডিয়া। ইন্টারনেটে মুক্ত বাংলা বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার নিবন্ধের সংখ্যা ২০ হাজার অতিক্রম করেছে। ২০০৪ সালে বাংলা উইকিপিডিয়ার কাজ শুরু হলেও শুরুতে এর অগ্রগতি ছিল ধীরগতির। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের বাংলা উইকি দল গঠনের পর থেকে দ্রুত এটি বিস্তৃত হতে থাকে। এখানে বাংলা ভাষার ইতিহাস, বাংলা বর্ণের উৎপত্তির বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়া ভাষা আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের দিনপঞ্জিও রয়েছে।
এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত একটি বিশ্বকোষ হলো বাংলাপিডিয়া। ২০০৩ সালে ১০ খন্ডে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই এটি ছাপা হয়। এছাড়া এর ইলেকট্রনিক সংস্করণও প্রকাশিত হয়। এখানে প্রায় ১২০০ লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। ওয়েবসাইটেও এসব তথ্য বিদ্যমান। বাংলা ভাষা, ভাষা আন্দোলন, একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে বাংলায় প্রচুর তথ্য রয়েছে।

প্রয়োজন সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার

অমর একুশকে জাতিসংঘের স্বীকৃতি, সিয়েরা লিয়নে বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদাদান এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার বহুল ব্যবহারের পরও বাংলা ভাষার ব্যবহার ও চর্চার ব্যাপক ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামের মানুষজন আঞ্চলিক বাংলায় কথা বললেও শহরাঞ্চল বিশেষকরে রাজধানী কোলকাতার অধিকাংশ বাঙালী ইংরেজি ও হিন্দির চর্চা করে। ফলে বাংলা ভাষা সেখানে আত্মাহুতি দেয়ার মুখে। এ দিকটি লক্ষ্যে করেই ভারতের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কয়েক বছর আগে বলেছিলেন, “আগামী পঞ্চাশ বছর পরে বাংলা ভাষার চর্চা হবে কেবলমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক।”

সুনীল বাবু বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা যথার্থ কিনা তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। কারণ খোদ বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে ভাষার ব্যবহার এখনও চালু হয়নি । উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা এখনও উপেক্ষিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও বাংলা ভাষার চর্চা নেই। অনার্স, মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি কোর্স কোথাও বাংলা সাহিত্যের জায়গা নেই। অথচ মহান ভাষা আন্দোলনের মূল দাবি ছিলো- ‘অফিস আদালতে সর্বত্র বাংলাভাষা ব্যবহার করতে হবে। আমাদের সংবিধানের প্রথমেই শেখা আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। কিন্তু তারপরও সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু এবং ‘শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাভাষা’ চালু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কোন উদ্যোগ এখনো নেই। নিজ দেশের সর্বত্র যদি আমরা বাংলা ভাষার ব্যবহার না করতে পারি তাহলে একুশের মূল দাবি যেমন উপেক্ষিত হবে তেমনি জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তর্ভূক্তির চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

লেখক : ইরান প্রবাসী সাংবাদিক। ই-মেইল : ashraf@journalist.com

তথ্যপঞ্জি :
- রেডিও তেহরান
- প্রথম আলো
- নয়াদিগন্ত
- ইত্তেফাক
- সামহোয়্যারইনব্লগ
- সমকাল দর্পন
- উইকিপিডিয়া
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AshrafRahman
পাঠকের মন্তব্য:
কলেজ রোড, রাজাপুর, ঝালকাঠী থেকে শাহরিয়ার লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ০৯:৩১
ধন্যবাদ অত্যন্ত বিশ্লেষণধর্মী লেখা দেয়ার জন্য। নিজেকে প্রকাশ করার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো মাতৃভাষা। অন্য কোন ভাষায় মনের ভাব সাবলিল ভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাই সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার ও চর্চার ক্ষেত্রে এখনই আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হওয়া দরকার। বিশেষ করে আমরা যারা ওয়েবে বিচরণ করি তাদের উচিত বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে লেখা এবং আমাদের ওয়েবসাইটগুলোতেও বাংলাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
7600
বাংলাদেশ থেকে বোকালোক লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১০:০২
লেখক লিখেছেন:
"বিশ্বে বাংলা ভাষার অবস্থান
বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার স্থান ৫ম। তবে ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলার অবস্থান ৪র্থ।"

ব্যাপারটা বুঝতে পারলামনা।

আমার মনে হয় বাংলা ভাষাকে মৃত্যুবরন করা থেকে বাঁচিয়ে রাখবে এর অর্ধশিক্ষিত/মুর্খ জনগোষ্ঠী (চাষা-ভুষা, দিন-মজুর, গ্রাম্য জনগন)। আরেক ধরনের শিক্ষিত লোকজন যারা বাংলাভাষার দুটো মৌখিক রূপকে প্রচলিত রাখতে পারে (চট্টগ্রাম ও
সিলেটের আঞ্চলিক বাংলা)।
তবে আমি মনে করি বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে এর পণ্ডিতরা। এনারা যতদিন আমাদের সন্ধি, সমাস, প্রত্যয়, বিভক্তি, কারক, ইত্যাদি শিখতে/চর্চা করতে বাধ্য করবেন, যতদিন আমাদের অযথা স্বরবর্ণ (ঈ, ঊ, ঋ, ঐ, ঔ) ব্যবহার করতে করবেন, ততদিন বাংলা ভাষা ল্যাটিন’ ও ‘সংস্কৃত’ ভাষার দিকে এগিয়ে যাবে।

আমি মনে করি বাংলা ভাষার একটা (সত্বর) বিবর্তন প্রয়োজন।
Bangla is dead.
Long live Bangla!!!!
7601
সেনবাড়ী, ময়মনসিংহ থেকে আশার আলো লিখেছেন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ০২:১৮
প্রথমেই চমৎকার একটি লেখা উপহার দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। লেখাটি পড়ে যেমন আশান্বিত হয়েছি তেমনি হতাশও হলাম। ইন্টারনেট প্রযুক্তি বাংলা ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে জেনে ভাল লাগছে। কিন্তু নিজ দেশের আদালতে, উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার হচ্ছে না জেনে খারাপ লাগছে। আমরা নিজ দেশেই যদি সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহার না করতে পারি, তাহলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তর্ভূক্ত করবো কিভাবে ?
7643
sayeed4std@yahoo.com থেকে swapon লিখেছেন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৫:৩৩
joy banbla
7660
মোমেনশাহী, বাংলাদেশ থেকে শামিম লিখেছেন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১০:২৮
আমার মাতৃভাষা বাংলার বিষয়ে আপনার এই আবেদন ও প্রচেষ্টা খুব ভাল লেগেছে। আপনাকে ধন্যবাদ।
7682
তেহরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১২:৫৬
@বোকালোক,

" বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার স্থান ৫ম। তবে ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলার অবস্থান ৪র্থ।"

এই অংশে একটা ভুল হয়ে গেছে। এখানে আসলে পড়তে হবে, "বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার স্থান ৫ম। তবে ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত The Summer Institute of Linguistics এর হিসেবে অনুয়ায়ী ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলার অবস্থান ৪র্থ।" আশা করি অনিচ্ছাকৃত এ ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার বাকী মতামতের সাথে সহমত পোষণ করছি।
7696
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম। থেকে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৬:৪০
চকচকে ভাষায় ঝরঝরে কথায় ঝকঝকে প্রবন্ধের জন্য প্রাবন্ধিককে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।
7706
মুসলিম বাংলাদেশ থেকে বাংলার লাঠিয়াল লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৮:১৫
জনাব আশরাফ কে ধন্যবাদ জানাই সুন্দর তথ্য ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপনের জন্য।

বাংলাদেশী প্রবাসী ইরানে আছেন তেমন খুব বেশী লোক আমার জানা ছিলো না, বাস্তবে ইরান সম্পর্কে আপনার ধারনা কি, একটু বলবেন? যেমন আঈন কানুন কেমন, কোনো সুবিধা অসুবিধা, ভালো খারাপ মিলিয়ে আপনার দৃষ্টিতে ইরান এর কি বিষয় আপনার নজর কেড়েছে?

বাংলাদেশী মিডিয়া পত্র পত্রিকাতে তেমন বেশী দেখা যায় না ইরান, অন্যান্য মুসলিম দেশের খবরাখবর, দোষ বাংলাদেশের মিডিয়ার। এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার ভাষায় একটু পরিচয় করাতেন ইরান এর বর্তমান সংস্কৃতি, আইন কানুন, বাংলাদেশীদের সম্পর্কে ধ্যান ধারনা, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রগতি, ব্যাবসা বানিজ্য চাকরি বাকরি, খাদ্যাভাস ইত্যাদি সম্পর্কে তাহলে উপকৃত হতাম।

আর হ্যাঁ, আপনার কথা থেকে নতুন করে জানতে পারলাম যে ফিলিপিনস থেকেও বাংলা ভাষায় সম্প্রচার করা হয়। আপনার লেখায় তিন টি মুসলিম দেশের কথা লিখেছেন, ইরান পাকিস্তান আর সৌদি আরব যারা বাংলা ভাষায় সম্প্রচার করে। আর কেউ কি আছে আপনার জানা মুসলিম দেশ?
7713
তেহরান, ইরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ০৩:১০
মুসলিম বাংলাদেশ থেকে বাংলার লাঠিয়াল @ আমার লেখা পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
.........................................
আপনার অবগতির জন্য বলছি, ইরানে প্রায় ১০ হাজার বাঙালী আছে । এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই চমৎকার। তবে বিপ্লব বিরোধীরা মাঝেমধ্যে নাশকতা ঘটিয়ে থাকে। তবে আইনের শাসন আছে বলেই পাশ্চাত্য শক্তিগুলোর শত চেষ্টা সত্ত্বেও বিপ্লব টিকে আছে। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কাউকে আকর্ষণ করতে পারে।
............................................................
বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো সাধারণত পশ্চিমা মিডিয়া থেকে ইরানের খবরগুলো নেয়। ফলে সেখানে প্রকৃত খবর বিকৃতভাবে উপস্থাপনা করা হয়। আপনি ইরান সম্পর্কে জানতে রেডিও তেহরান (বাংলা) http://bangla.irib.ir এবং প্রেসটিভির http://www.presstv.com ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।
....................................................................
আমার লেখায় বর্ণিত মুসলিম দেশগুলো ছাড়া অন্য কোন দেশ থেকে বাংলা অনুষ্ঠান প্রচার হয় কিনা আমার জানা নাই।
7737
১০
মুসলিম বাংলাদেশ থেকে বাংলার লাঠিয়াল লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ০৩:৫৭
@আশরাফ রহমান
আপনার তথ্যর জন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশীদের কে কেমন ভাবে দেখা হয় ইরানে।

যেমন অনেক অমুসলিম দেশে (প্রাচের কোরিয়া সিংগাপুর হংকং থাইল্যান্ড আর পাশ্চাত্যের মার্কিনি ব্রিটেন কানাডা ইটালী স্পেন ইত্যাদি) বাংলাদেশী জাতি কে খুব হেয় করা হয়, এবং নিচু ভাবে দেখা হয়।

আপনার দেয়া খবর এর মাধ্যম ছাড়াও english.farsnews.com
অথবা http://www.irna.ir/En/default.aspx?IdLanguage=3
এসব ও আমি অনেক সময় পড়ে থাকি। ভালোই খবর থাকে সেখানে।

দু:খজনক ভাবে বাংলাদেশি গনমাধ্যম ও খবর নেয় পশ্চিমা গনমাধ্যম থেকে। এ পরিস্হিতি থেকে অব্যাহতি করতে হবে বাংলাদেশিদের নিজেদের, গনমাধ্যমের কাছে চাচ্ছি এ অবস্হার পরিবর্তন।

তবে আপনার লেখায় এক জায়গায় লিখেছেন দুনিয়াতে আরবী ভাষা ভাষী লোক ২২ কোটি আর বাংলা ভাষা ভাষী ২৬ কোটি, কথা কি বাস্তব সম্মত হয়েছে?

আরব দুনিয়ার লোক সংখ্যাই ৩৩-৩৫ কোটি, তাছাড়া পবিত্র কুরান এর ভাষা হিসেবে আরবীর কদর দুনিয়ার ১৫৬ কোটির বেশী মুসলিম এর কাছে, তাছাড়া আরবী ভাষার ইতিহাস ঐতিহ্য গ্গান বিগ্গান ও কম উন্নত নয়।

সে তুলনায় বাংলাদেশের লোক সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৫ কোটি, পশ্চিম বংগে ৮ কোটি।

তবে, আপনি হয়তো কোনো ভালো উত্স থেকেই কথা টা বলেছেন।

শেষমেষ আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এ লেখার জন্য।
7740
১১
তেহরান, ইরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৪:৩৪
যে কোন ভাষাভাষীর সংখ্যা নিয়ে তারতম্য থাকবেই। আমি এ লেখাটি তৈরী করতে গিয়ে দেখেছি এক ওয়েবসাইটের সাথে অন্য ওয়েবসাইটের তথ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। কেউ বলছে বাংলা চতুর্থ বৃহত্তম ভাষা, কেউ বলেছে ৫ম, কেউ ষষ্ঠ আবার কোন কোন সাইটে ১০ নম্বরেও নেই বাংলা! আরবীর ব্যাপারেও একই সমস্যা। কেউ বলেছে ২২ কোটি, কেউ বলেছে ২৫ কোটি।
তবে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা ২৪ থেকে ২৬ কোটির মধ্যে হবে। প্রধানমন্ত্রীও জাতিসংঘে দাবি করেছেন, বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। আমি যে তথ্যটা এখানে দিয়েছি তা প্রথম আলো থেকে নেয়া। এতে বলা হয়েছে, " বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১০ কোটি এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আরও এক কোটি বাঙালি রয়েছে। সব মিলিয়ে পৃথিবীতে বাঙালির সংখ্যা ২৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।" @মুসলিম বাংলাদেশ থেকে বাংলার লাঠিয়াল
7742
১২
তেহরান, ইরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৪:৪০
যে কোন ভাষাভাষীর সংখ্যা নিয়ে তারতম্য থাকবেই। আমি এ লেখাটি তৈরী করতে গিয়ে দেখেছি এক ওয়েবসাইটের সাথে অন্য ওয়েবসাইটের তথ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। কেউ বলছে বাংলা চতুর্থ বৃহত্তম ভাষা, কেউ বলেছে ৫ম, কেউ ষষ্ঠ আবার কোন কোন সাইটে ১০ নম্বরেও নেই বাংলা! আরবীর ব্যাপারেও একই সমস্যা। কেউ বলেছে ২২ কোটি, কেউ বলেছে ২৫ কোটি।

তবে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা ২৪ থেকে ২৬ কোটির মধ্যে হবে। প্রধানমন্ত্রীও জাতিসংঘে দাবি করেছেন, বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। আমি যে তথ্যটা এখানে দিয়েছি তা প্রথম আলো থেকে নেয়া। এতে বলা হয়েছে, " বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১০ কোটি এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আরও এক কোটি বাঙালি রয়েছে। সব মিলিয়ে পৃথিবীতে বাঙালির সংখ্যা ২৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।" @মুসলিম বাংলাদেশ থেকে বাংলার লাঠিয়াল
7743
১৩
তেহরান, ইরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৪:৪৪
আপনার প্রশ্নের প্রথম অংশের উত্তরে বলছি, ইরানে বসবাসরত বাঙালীদের মধ্যে হাতে গোনা কিছু ছাড়া আর সবাই অবৈধ। তবে তারা তেমন কোন সমস্যায় পড়ছে না। এখানে বাংলাদেশীদের মুসলিম ভাই হিসেবে দেখা হয়।
7744
১৪
ঢাকা থেকে বাঙালী যুবক লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ০৮:০৭
বাংলাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের সর্বস্তরে বাংলা চালু না হলেও জাতিসংঘে চালু হবে আশা করি।
7760
১৫
মুসলিম বাংলাদেশ থেকে বাংলার লাঠিয়াল লিখেছেন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ০২:৫০
@জনাব আশরাফ রহমান, আপনার তথ্য এবং বিশ্লেষণ এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

আমি একমত যে কোনো ভাষাভাষী কত লোক তার বিভিন্ন হিসেবে বিভিন্ন সংখ্যায় পৌঁছানো যায়।

বাংলাদেশী রা ইরানেও ইল্লিগাল? এ জিনিস টা ভালো লাগলো না, বাংগালীরা কি কোথাও নিজেদের এবং দেশের দশের সুনাম নষ্ট না করে থাকতে পারবে না, ইরান এর মত এতো আতিথেয়তাপূর্ণ জাতি কম ই আছে তাবত দুনিয়ায়, পশ্চিমা দুনিয়াতে তো নাই একটাও। সেখানেও বাংলাদেশী রা যদি নাম খারাপ করে ফেলে ইল্লিগ্যালী অভিবাসন করে, তাহলে বলেন তো কি হবে এ জাতির ভবিষ্যত।

স্বাভাবিক ভাবেই এ জাতির কোনো চিন্তা ভাবনার ও নাই ঠিক, নাই মুসলিম হবে না হিন্দু তার সম্পর্কে ধারনা।


আশা করি ভবিষ্যতে আরো বেশী বেশী করে সুন্দর লেখা লিখবেন এবং আমাদের সবার গ্গান বাড়াবেন।

ধন্যবাদ।
7782
১৬
খুলনা থেকে সুমন লিখেছেন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৪:০৯
বিশ্বের সব দেশে কি আসলেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ? নাকি জাতিসংঘের ঘোষণা পর্যন্তই দায়িত্ব শেষ ?
7813
১৭
তেহরান,ইরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১১:৫৭
সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশের মত ঘটা করে পালিত হয় না। প্রবাসী বাঙালীদের সংঘঃগঠন ও বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোতেই মূলত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। জাতিসংঘ যদি সব দেশকে দিবসটি পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তাহলেই তা বাস্তবায়ন সম্ভব। কিন্তু জাতিসংঘ বিশেষ করে ইউনেস্কো এ ক্ষেত্রে দায়সারা গোছের পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা একটি করে পোস্টার বের করেই যেন অনেক কিছু করে ফেলেছে। পোস্টারগুলোর কোথাও বাংলাদেশের কথা, একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাঙালীদের আত্মত্যাগের কথা লেখা হয়নি! এখন পর্যন্ত কোন পোস্টারে শহীদ মিনারের ছবি ব্যবহার করাও হয়নি! একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই জাতিসংঘ মহাসচিব একটা বাণী দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করার ক্ষেত্রে যেমন এগিয়ে এসেছিলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এখনও মনে হয় তাদেরই দিবসটি পালনের ক্ষেত্রে প্রচারণায় এগিয়ে আসতে হবে। কারণ আমাদের সরকারে যারা থাকেন-এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় তাদের কোথায়? @সুমন
7827
১৮
বাড়ী নং ৫০৫, (৫ম তলা) রাস্থা নং ৩৫, নিউ ডি, ও, এইছ, এস, মহাখালী, ঢাকা, বাংলাদেশ। থেকে সুলতান আহাম্মদ লিখেছেন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ১০:৫৫
প্রথমে তথ্যবহুল প্রবন্ধের জন্য প্রাবন্ধিককে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা এবং অভিন্দন। বাংলা ভাষার ব্যবহার যেমন পৃথিবীতে সর্বদিক দিয়ে দিনদিন এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সে সময় বাংলাদেশের গুরুত্যপূর্ন কিছু ক্ষেত্রে এখনো বাংলা ভাষা অবহেলিত হয়ে আসছে। কিছুকিছু অতি সাধু বাঙ্গালী ব্যক্তি বাংলা ভাষার অনুষ্ঠানে ভীন্ন ভাষায় কথা বা বক্তব্য রাখছেন। জাতীকে এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে এবং প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
কিছু গুরুত্যপূর্ন ব্রাওজারে এখনো বাংলা ভাষা ব্যবহার করা যাচ্ছেনা এবং সকল ফন্ট সব ব্রাওজারে ব্যবহার করা য়ায়না। এজন্য সংস্লিষ্ট সকলকে আর সদয় হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
7846
১৯
তেহরান, ইরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ০৯:৫৭
জনাব সুলতান আহাম্মদ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ইন্টারনেট প্রযুক্তি বাংলা ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারী পর্যায়ে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। বাংলা ভাষাকে ভালবাসেন এমন প্রযুক্তিবিদরাই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছেন। আগামী দিনে তারাই সর্বত্র বাংলাকে ছড়িয়ে দেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
7866
২০
বাংলাদেশ থেকে সাইফ বরকতুল্লাহ লিখেছেন, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ০২:৪৩
লেখাটি খুবই ভা্ল। ত বে ২/৩ জন বিজ্ঞজনের মতামত থাকলে ভাল হতো। ধন্যবাদ ।
7904
২১
মানারাত ভািসিট ঢাকা থেকে িরমন লিখেছেন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৪:৩৫
অসাধারণ
8013
২২
University of Heidelberg,Germany থেকে A.T.M.Abdullahel Shafi লিখেছেন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৮:০৯
For the writers kind consideration,Bengali is not only the language movements,there are certain others language movements happened in world history.The polish fought against the Germans for their language and the Norwegian peoples too.see the website
http://en.wikipedia.org/wiki/Norwegian_language_conflict about Norwegian Language Movements and about the Polish see the concerned websites.
8104
২৩
তেহরান, ইরান থেকে আশরাফ রহমান লিখেছেন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ০৯:১৭
আমি লিখেছি, "বিশ্বে বাংলাই সম্ভবত একমাত্র ভাষা, যার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় পুলিশের গুলিতে আব্দুস, সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার সহ আরো অনেকে প্রাণ দিয়েছেন।"
এখানে আমি 'সম্ভবত' শব্দটি ব্যবহার করেছি। কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করতে গিয়ে আরও কোন ভাষাভাষী জীবন দিয়েছেন কিনা। যায় হোক, আপনার তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে পোলিশ ও নরওয়ের কতজন লোক ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তা উল্লেখ করলে ভাল হতো।
8123
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2010. E-mail: editor@sonarbangladesh.com.