ওইতো নদীর পারে কে যেন ডাকিয়া মরে
‘পার কর, পার করহ আমায়;’
হয়ত বা খেয়ামাঝি খেয়ায় নেইকো আজি
খেতে গেছে বুঝি আপন আলয়।
এইভাবে কতক্ষণ বসে থাকে কতজন
এই ঘাটে শুধু পারের আশায়;
এমনি প্রহর কাটে মাঝিতো আসে না ঘাটে
কতক্ষণ আর বসে থাকা যায়।
কাজের রয়েছে ত্বরা ওপারে দুরের পাড়া
ছটফট করছে বসিয়া তীরে;
দেখিতে দেখিতে ভোলা ওপারের বটতলা
পূরিল বহুবর্ণা লোকের ভীড়ে।
গল্প গুজবে রত রহিয়াছে গোটা কত
শুনিছে আর কত নীরবে বসি;
তারি মাঝে কোনজন ভেবে চলে অণুক্ষণ
কাজ বুঝি হয়ে যায় বাসি।
কতক চেঁচায়ে চলে সুজন এলোনা বলে
শিরে হাত দিয়ে করে হায় হায়’
পা দুটি লাগিয়া আসে কতক্ষণ থাকে বসে
মাঝে মাঝে তাই উঠিয়া দাঁড়ায়।
রজনী ঘনায়ে এলো সাড়া আর নাহি পেল
যাত্রীরা ফিরিতে চাহে নিজ ঘরে;
হতাশায় নদীতীর গ্রাসিল লোকের ভীড়
উঠিয়া দাঁড়াল নিজ পদ ‘পরে।
হেনকালে পরপারে মাঝি নায়ে গান ধরে
আসিতেছে ধীরে এপারের পানে;
সে গানে হৃদয় গলে ওপারেতে নিয়ে চলে
অজানা আশঙ্কা জেগে ওঠে মনে।
এতবেলা যার আশে নদীতীরে ছিল বসে
তাহারে পেয়েও নাহি মনে সুখ’
সাধ হয় ফিরে যেতে আসিয়াছে যেই পথে
যদিও লভিতে হয় শত দুখ।
পশ্চিমে চাহিয়া দেখে আঁধার ফেলেছে ঢেকে
পথ আর তার যাবে নাকো চেনা;
তরণী লাগিল ঘাটে খেয়ানী বসিয়া ডাঁটে
ডাকিতেছে ধীরে এস দশজনা।
নৌকায় উঠিতে সব এল করে কলরব
এমন ক্ষণে মাঝি হাঁকিল ধীরে;
পয়সা এনেছ যারা তরীতে উঠহ তারা
বাঁকী সব ত্বরা ফিরে যাও তীরে।
মাঝি তরী ছেড়ে দিল কড়ি যারা এনেছিল
তাহাদেরে সবে লয়ে তরী ‘পরে;
আবার ধরিল গান পাগল করিল প্রাণ
বাঁকীরা নদীকূলে রহিল পড়ে।