|
সঙ্ঘ-সমিতি না চললে ধর্মের নামে রাষ্ট্র চলে কি করে
তমাল রায়হান |
|
আওয়ামী লীগ কি আবারও তার আদর্শের সাথে আপস করতে যাচ্ছে! ৭২' র ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল দীর্ঘদিনের। যেখানে আদালতের নির্দেশ আছে ৭২' র ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সেখানে আইন মন্ত্রীর বক্তব্যে মৌলবাদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গত ৪ জানুয়ারীতে সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিল প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ের উপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর ৭২ সালের মূল সংবিধান আপনা আপনিই পুনর্বহাল হচ্ছে। এর ফলে দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে এবং চার মূলনীতির ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ৫ম সংশোধনী বাতিলের কারণে ৪র্থ সংশোধনীর আলোকে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েমের কোনো সুযোগ নেই। কেননা পরবর্তীতে রেফারেন্ডামের মাধ্যমে বাকশাল বিলুপ্ত করা হয়েছিল। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ৫ম সংশোধনী বাতিল হলেও বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ সংবিধানে থাকবে।
এখানে বলে রাখা ভাল যে, ক্যান্টনমেন্টের উর্দিওয়ালারদের একজন (জিয়াউর রহমান) ১৯৭২ সালের সংবিধান ঘোষিত ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেন। আরেকজন (জেনারেল এরশাদ) অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন। সংবিধানের যে পরিবর্তনের কারণে আজকে দেশ মৌলবাদের আখরায় পরিণত হয়েছে, দেশের ৬৩ জেলায় একই সাথে খৈ-এর মত বোমা ফোটে, আদালত পাড়ায় লাশের স্তুপ পড়ে তথাপি আওয়ামী লীগ পুরোপুরি ৭২' র সংবিধানে ফিরে যেতে নারাজ। তাহলে কি আওয়ামী লীগও শেষ পর্যন্ত ধর্ম ব্যবসায় নেমে পড়ল? আর এটাইবা কেমন হাস্যকর যুক্তি দেখালেন আইন মন্ত্রী-আপিল বিভাগের রায় কার্যকর হলে ধর্মের নামে কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। ধর্মীয় নামযুক্ত কোন সংঘ, সমিতি ও সংগঠন করা যাবে না। কিন্তু পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলেও সংবিধানের যেসব জায়গায় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রয়েছে, তা বহাল থাকবে। এছাড়া রাষ্ট্রধর্ম ইসলামও সস্থানে বহাল থাকবে। এটি সত্যিই গোলকধাঁধার জন্ম দিয়েছে যে, যেখানে ধর্মের নামে কোন সংঘ, সমিতি ও সংগঠন করা যাবে না সেখানে ধর্মের নামে রাষ্ট্র চলবে কি করে?
উর্দিওয়ালারা কামানের জোরে সংবিধানে একটা কিছু বসিয়ে দিল সেটা চলল তিন যুগেরও বেশী সময় ধরে আর আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেও একই ঢোল বাজাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এ ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ড নীতির জবাব জনগণ দিতে ভুল করবেনা। গত ২২ জানুয়ারীর না হওয়া নির্বাচনের আগে ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে চুক্তি করে যে পাপ করেছিল এবার সেটা মোচন করার একটা সুযোগ ছিল। জানিনা আওয়ামী লীগ সে সুযোগ কাজে লাগাবে কিনা। তবে আওয়ামী লীগ ভোট কমে যাওয়ার ভয়ে সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রেখে ধর্ম ব্যবসার যে দোকান খুলা রাখতে চাচ্ছে, জনগণ ভবিষ্যতে সে সুযোগ নাও দিতে পারে।
আমরা যেমন ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই, তেমনি চাই সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এর উচ্ছেদ।
লেখকঃ রাজনৈতিক বিশ্লেষক
|
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/TomalRaihan |
| |
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|
I want to tell you that,,u must know first about religion and what for the religion is. I dunno your religion. Islam is the religion that is totally different from other religions. This is given by our creator through prophet. Mohammad SW is the final messanger. Anyway..your knowledge or even any human knowledge are too limited to know what is good and what is bad for himself and for others. Quran is the complete code of life. Sunnah is its explanation. From using toilet to rule a country,,everything in the quran. If u dont agree with me..I must challenge you..
Try to understand youself and true things in the world. You will find out true solution. Allah may give u hedaya