মঙ্গলবার, ২৩ ভাদ্র ১৪১৭; ২৭ রমজান ১৪৩১; ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১০:১৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

উন্নয়নের রাজনীতি: ভাষার মারপ্যাচ, সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ও আমাদের জাতিসত্ত্বার পরিচয়

তাপস হাওলাদার

দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বিশেষ করে আমাদের এই উপমহাদেশে ইউরোপীয় জাতিগুলোর আগমনের পর জ্ঞানতাত্ত্বিক যে বিষয়টি নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশী কাজ করেছে সেটা হলো ভাষা ও ভাষাতত্ত্ব। তারা আগে ভাগেই উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে এক সময় দুনিয়াব্যাপী তাদের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সাম্রাজ্যবাদ ইউরোপীয় জাতিগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হবে না। তাদেরকে সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উপর থেকে শাসন আর শোষণের হাত গুটিয়ে নিতে হবে। তাই পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় আস্তে আস্তে ভৌগোলিক সাম্রাজ্যবাদ থেকে তারা সরে দাঁড়ালেও জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে কিভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ধরে রাখা যায়- সে বিষয়ে তারা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। আর সেই প্রস্তুতিরই অংশ হিসেবে তারা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদকে যতটুকু সম্ভব দীর্ঘস্থায়ী করা যায় তার জন্য প্রথম থেকেই তারা জ্ঞানতত্ত্বীয় সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তিকে মজবুত করার দিকে অধিক নজর দিয়েছিল।

সুদূরপ্রসারী সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী প্রক্রিয়ার নীলনক্সার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তারা উপমহাদেশের ইতিহাস রচনায় হাত দেয়। এউপমহাদেশে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মুসলিম শাসকদের চরিত্রে যতটুকু সম্ভব কলঙ্কের কালিমা লেপন করে দিতে সচেষ্টা হয় এবং তাতে তারা বিশেষ সাফল্য লাভ করে। আমাদের উপমহাদেশের মুসলিম শাসকদের সম্পর্কে তাদের লেখা ইতিহাসের বইগুলো পড়লেই বোঝা যায় তাদের সেই সচেতন মিথ্যাচারের মাধ্যমে ঐতিহাসিক সত্যকে ঢেকে ফেলার ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ সফলও হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ঐতিহাসিককেরা সেটাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। বহিরাগত ইউরোপীয়দের তুলনায় প্রতিবেশী কট্টর ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ঐতিহাসিকরাই হয়ে ওঠে উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসকে কালিমা লেপনে সিদ্ধহস্ত। সেই সব কালো অধ্যায়গুলো সম্পর্কে জানার জন্য পশ্চিম বঙ্গের লেখক গোলাম মোর্তজার নিষিদ্ধ ঘোষিত ইতিহাসের ইতিহাস ও চেপে রাখা ইতিহাস বই দুটো অনবদ্য।

স্বাধীনতা-উত্তর কালে আমাদের সমাজকে জ্ঞানীয়ভাবে নানা ধারায় বিভক্ত করতে প্রথমে আমদানী করা হয়েছিল বুদ্ধিজীবী নামক এক শ্রেণীর সেবাদাস যারা সমাজে পরজীবীর মতো সমাজ-জীবনের অন্তর্তলে ক্ষতের সৃষ্টি করে গিয়েছে অনবরত। তারপর যখন সাধারণ মানুষের কাছে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে, তখন অতি সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সাথে বেসরকারী সংস্থাগুলোর তথাকথিত উন্নয়ন কর্মীদেরকে এক শ্রেণীভুক্ত করে নতুন পদবাচ্যে বিভুষিত করেছে তাদের প্রভুরা সুশীল সমাজ নামে। আশ্চর্যের বিষয় হলো তাদের প্রভুদের পশ্চিমা দেশগুলোতে সুশীল সমাজ বলে তেমন কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। অথচ তারাই আমাদের দেশে আমদানী করছে সুশীল সমাজের ধারণা। এখন প্রশ্ন হলো তবে কেন তারা আমাদের জন্য সুশীল সমাজের ধারণা নিয়ে এসেছে? এধারণার মাধ্যমে অতি সহজেই তারা এক ঢিলে দুই পাখী মারার ফন্দি করেছে। সুশীল সমাজের নামে একদল ভুঁইফোড় সর্ববিদ্যাবিশারদ তৈরী করার মধ্যে দিয়ে একদিকে আমাদের সাধারণ মানুষদের মনে এক ধরনের হীনমণ্যতার বোধ জন্ম দিতে পরবে, অপর দিকে তাদের আশীর্বাদপুষ্ট এ দালাল শ্রেণী গায়ে মানে না আপনি মোড়ল হয়ে তাদের ঊদ্দেশ্য সাধনে কাজ করে যাবে। এই চাটুকার শ্রেণীর মাধ্যমেই তারা তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করবে। তবেই না তাদের জ্ঞানতত্ত্বীয় আধুনিক বিভাজন ও শাসন নীতি বাস্তবায়ন করা যাবে সমাজের প্রতিটি স্তরে, আর এই পা-চাটা উচ্ছিষ্টভোগী একটা শ্রেণীকে দিয়ে অতি সহজেই তারা তাদের অভীষ্ট কাজগুলো উদ্ধার করে নিতে পারবে।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর যে সব রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে পশ্চিমারা নানা সময় উদ্বেগ কিংবা উষ্মা প্রকাশ করে সেসব বিষয়গুলো হলো- গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায় বিচার, শিশুশ্রম, সংখ্যালঘুর অধিকার, নারীর অধিকার। যখনই একটা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে তারা হস্তক্ষেপ করে, কিংবা কোন দেশ থেকে ফয়দা লুটতে চায় তখনই তারা নিজেদেরকে উল্লেখ করে- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হিসেবে। এখন কথা হলো যে তথাকথিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে আমার দেশ অন্তর্ভুক্ত নয়, কিংবা নিধেনপক্ষে কোন মুসলিম রাষ্ট্র অন্তর্ভূক্ত নয়, সেই সম্প্রদায় কিভাবে আমাদের জন্য অন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হয়? অথচ আমাদের জ্ঞানপাপী সেই সব বুদ্ধিজীবীরা কিংবা তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রতিভুরা তাদের প্রভুরা যা-ই বলে দিনরাত তারই প্রতিধ্বনি করে বেড়ায়। আর তাদেরকে সেই গলাবাজী আর ক্রিয়াকর্মের কভারেজ দিয়ে চলে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর ভূইফোড় গণমাধ্যম। যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে কথা বলে, সে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকুচি করি। আমাদেরকে জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে প্রতিবাদী হতে হবে, সচেতন হতে হবে, হতে হবে স্বোচ্চার আমাদের জাতীয় স্বার্থে। নতুবা এসব চটকদার শব্দবন্ধের মধ্যে দিয়েই তারা আমাদেরকে বোকা বানিয়ে শাসন ও শোষণ করে যাবে চিরকাল।

আমাদের দেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের উন্মেষের আগেই আমাদের অবক্ষয়িত সামন্ততান্ত্রিক গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় পশ্চিমাদের অর্থে পরিচালিত এনজিওগুলোর মাধ্যমেই আমদানী করা হয় ক্ষমতায়নের নানা ধরনে ধারণার। ভালো ভালো কথা বলে শিক্ষার নামে, প্রশিক্ষণের নামে, লোন প্রদানের নামে নানাভাবে নানা মাত্রায় তারা কাজ করতে থাকে। আর বোকা জাতির সামনে তুলে ধরতে থাকে যে এনজিওগুলোর তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের আমজনতার ক্ষমতায়ন হবে। কিন্তু সেই ক্ষমতায়ন আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় যে প্রকৃত ক্ষমতায়ন না করে সমাজের পরিকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে দিয়েছে, তা কি আমাদের সমাজ বিজ্ঞানীরা তলিয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছেন? পাননি। কারণ সেটা করতে গেলে তার সেই সমাজবিজ্ঞানী খেতাব থাকবে না। প্রচার মাধ্যমগুলো তাকে আর কাভারেজ দিবে না, কিংবা ডাকবে না তাদের সভা-সমাবেশে। আমরা আশা করছি, আমাদের নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ উন্নয়নের নামে দেশে গত কয়েক দশক ধরে এনজিওগুলোর চালিয়ে যাওয়া কর্মকান্ডের উপর নিরপেক্ষ গবেষণা করে জাতিকে তাদের কর্মকান্ডের প্রভাব সম্পর্কে তুলে ধরবে।

অস্ত্রের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করাই হলো সন্ত্রাস। আর সেটাই মরণ ব্যধি হিসেবে ব্যাপকভাবে আমাদের সমাজ-জীবনে আত্মপ্রকাশ করেছে আশির দশকের শেষের দিকে। তার আগে সমাজে সন্ত্রাসের মাত্র ছিল খুবই কম। যে সন্ত্রাস করে তাকে বলা হয় সন্ত্রাসী আর সন্ত্রাস বিষয়ক কর্মকান্ডকে বলা হয়ে থাকে সন্ত্রাসবাদ। ২০০৫ সাল থেকে হঠাত করে সন্ত্রাসীকে জঙ্গী, সন্ত্রাসবাদকে জঙ্গীবাদ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যম। আসলে এ অপকর্মটি এমনি এমনি করা হয়নি। সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী আর সন্ত্রাসবাদকে ইসলাম আর মুসলিম সমাজের সাথে সমার্থবোধক করতেই জঙ্গী ও জঙ্গীবাদ শব্দ দুটোর আমদানী করা হয়। এ শব্দটি মূলত ফারসী ভাষা থেকে উর্দু ও হিন্দীতে গৃহীত হয়েছে। আর ফারসী আর উর্দু ভাষায় জঙ্গ মানে যুদ্ধ। উপমহাদেশে ফারসী ভাষার প্রভাবে এটা আমাদের আটপৌঢ়ে গ্রামীণ মানুষগুলোর ভাষায়ও জঙ্গ শব্দটি প্রবেশাধিকার লাভ করেছে। আর অন্যদিকে গ্রামীণ মানুষগুলোর কাছে জঙ্গে বদর, জঙ্গে অহুদ প্রভৃতি ধর্মযুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হয়। এসব যুদ্ধে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাদেরকে তারা শ্রদ্ধার চোখে দেখে থাকে। সেই জঙ্গীদের সাথে সন্ত্রাসবাদীদের একাকার করার সাফল্য জ্ঞানীয় সন্ত্রাসীদের এখানেই।

আমরা আমাদের দেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীকে উপজাতি হিসেবেই চিহ্নিত করে এসেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতারও অনেক আগ থেকে। হঠাত করে আশির দশক থেকে উপজাতিদেরকে খ্রীস্টান মিশনারীরা যখন ধর্মান্তরিত করা শুরু করল, তখন থেকে দেশের কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী পশ্চিমা মিশনারী ও তাদের অনুগ্রহদানকারীদের প্ররোচনায় উপজাতি শব্দটি ব্যবহার না করে আদিবাসী বলা শুরু করে। শব্দের অর্থগত দিক থেকে উপজাতি হলো ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পরিচয় বহনকারী আর আদিবাসী মানে ভূমিপুত্র। অর্থাৎ যারা এভূমিতে অনাদি কাল হতে বসবাস করে আসছে। ইতিহাসিক ও নৃতাত্তিকভাবে বাংলাদেশের উপজাতিগুলো বহিরাগত জনগোষ্ঠী। তাদেরকে ভূমিপুত্র প্রমাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুমল্যান্ড আন্দোলন ও ময়মনসিংহের গারোল্যান্ড আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় আছে বাংলাদেশে সেবার বহিরাবরণে কাজ করে যাওয়া খ্রীস্টান মিশনগুলো। সেটা বুঝতে আমাদের যত দেরী হবে, দেশের ততই সর্বনাশ হবে। আশির দশকের শেষের দিকে- বাংলাদেশে খ্রীস্টান মিশনারীদের অপতৎপরতা- নামক একটা বই পড়েছিলাম। এ মুহুর্তে লেখকের নাম মনে করতে পারছি না। লেখক বইটিতে নানা নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র দিয়ে বাংলাদেশে খ্রীস্টান মিশনারীদের বিভিন্ন অপতৎপরতার কথা বলেছেন। সেখানে তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে উপজাতিদেরকে কিভাবে সুকৌশলে খ্রীস্টান বানানো হচ্ছে এবং তাদেরকে দিয়ে ভবিষ্যতে কিভাবে আমাদের দেশের অখন্ডতাকে বিনষ্ট করা হবে, তার একটা তথ্যনির্ভর বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর বর্ণিত সেই ভবিষ্যতের দিকই যে আমরা হেঁটে চলেছি পার্বত্য চট্রগ্রামের বর্তমান অবস্থা তারই ইঙ্গিতবহ।

আশির দশকে দেশে খ্রীস্টান মিশনগুলোর অপতৎপরতা মোকাবেলা করতেই ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর অধীনে ইসলামিক মিশন নামে একটা উইং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে তাকে অকার্যকর করে দেয়া হয়। ফলে দেশের দূর্গম এলাকায় ও ক্ষুদ্র জাতিগুলো বসবাসকারী এলাকায় খ্রীস্টান মিশনগুলোর মোকবেলায় কোন সংস্থা কাজ না করায় তারা ব্যাপকভাবে সাফল্য লাভ করেছে বিগত বছরগুলোতে। আমাদের উপজাতিগুলোকে নিয়ে ওদের ব্যবসার একটা উল্লেখ্যযোগ্য দিক হলো ক্ষুদ্র জাতিগুলোর মাতৃভাষা নিয়ে। তারা ক্ষুদ্র জাতিগুলোর শিশুকিশোরদেরকে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের কথা বলে থাকে। কিন্তু অভিবাসী বাংলাদেশীদের সবাই জানেন যে, ব্রিটেন কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে কি অভিবাসীদের কারো সন্তানকে কি তারা অভিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে? না, তা তারা দিচ্ছে না। তবে কেন এই দ্বিমুখী অবস্থান? সেটাই আমাদেরকে বুঝতে হবে। কারণ তারা নিজ দেশের নাগরিকদেরকে জাতীয় সংহতির জন্য সমন্বয় (integration) ও সহার্দ্য (cohesion)-এর কথা বলে জোর করে অভিবাসীদেরকে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি গ্রহণ করতে বাধ্য করছে।

এ উপমহাদেশে পশ্চিম বঙ্গের শ্রীরামপুরে প্রতিষ্ঠিত শ্রীরামপুর মিশনই প্রথম সংগঠিত খ্রীস্টান মিশন। এটা বাংলা ভাষার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অন্যান্য মিশন এ উপমহাদেশে খ্রীস্টান ধর্ম প্রচারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। ইংরেজ শাসনামলে খ্রীস্টান মিশনগুলোর প্রচেষ্টায় যে সব মুসলমানকে বিভ্রান্ত করে খ্রীস্টান বানাতো তাদেরকে পুনরায় ইসলাম ধর্মে নিয়ে আসার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন মুন্সী মেহের উল্লাহ। তিনি বিভিন্ন স্থানে খ্রীস্টান পাদ্রীদেরকে মুকাবিলা করতে বহাচে অবর্তীর্ণ হতেন। পাদ্রীদেরকে বিতর্কে হারিয়ে বিভ্রান্ত লোকজনকে ইসলাম সম্পর্কে অনেক সচেতন করে তুলতেন। আর তাঁর জন্য খ্রীস্টান মিশনারীদের ধর্মপ্রচার অনেকটাই বাঁধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিষয়গুলো আজ সবাই ভুলতে বসেছে। যাই হোক, ব্রিটিশ শাসনামলে উপমহাদেশের জনগণের জন্য সরকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায় ম্যাকেলের বিবরণীতে। এ শিক্ষাবিষয়ক এবিবরণীতেই প্রথম ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক চিন্তাচেতনার বর্হিপ্রকাশ ঘটে। বাংলা ভাষার সংস্কৃতায়নে সহায়তা করেছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বামন পন্ডিতেরা। আর এখন আমরা যারা মূল ধারার আধুনিক শিক্ষায় অভ্যস্ত তারাই বাংলা ভাষার ইংরেজীকরণে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখছি।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ে নানা ধরনের কথা প্রচলিত আছে। আমরা অবাক হয়ই যখন একজন বাংলাদেশী মাদ্রাসা শব্দের ইংরেজী অনুবাদ করেন ইসলামিক স্কুল বলে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষা কতটুকু ইসলামিক সেই বিতর্কে না গিয়ে এতটুকু বলা যায়, মাদ্রাসা একটি আরবী শব্দ যার মানে স্কুল। কিন্তু মাদ্রাসা নামক এই প্রতিষ্ঠানগুলো রূপরেখা তৈরী করেছে কারা? ব্রিটিশরাই প্রথম আমাদের উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে। অথচ আজ তারাই আবার মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের অনুগ্রহপ্রাপ্ত তথাকথিত সুশীল সমাজের মাধ্যমে। পাশ্চাত্যের প্রভুরা যে ভাষায় কথা বলে, আমাদের দেশের সুশীল সমাজভুক্ত সেবাদাসরাও সে ভাষায় কথা বলে। তারই একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী আফগানিস্তান সফরে গিয়ে সেদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে সে দেশকে সন্ত্রাসবাদের প্রজনন কেন্দ্র বলেছেন, আর তার পর থেকেই আমাদের দেশের কেউ কেউ সেই একই শব্দ ব্যবহার করছেন মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে। শব্দটার মাঝে যে শালীনতার এতটুকু মাত্রাও নেই সেটা বোঝার মতো জ্ঞানও কি আমাদের সাংবাদিকদের নেই? তাই সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিকতায় কিংবা সুশীল সমাজে ভজনে বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদেরকে উন্নয়নের রাজনীতির কুটকৌশলগুলো সম্পর্কে সচেতন ও সেগুলো মুকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

লেখক: তাপস হাওলাদার, উন্নয়ন কর্মী ও প্রাবন্ধিক।

http://www.sonarbangladesh.com/articles/TaposhHawladar
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলােদশ থেকে েমা : অালী করীম ,িশক্ষক ,বাউিব, গাজীপুর । লিখেছেন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৪:১৫
ইিতহােসর একজন সােবক ছাত্র িহসেেব বলেত চাই অাপনার েলখাটা চমৎকার । িকছু বই এর েরফােরন্সসহ অােলাচনা থাকেেল ভােলা হেেতা ।
9338
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2010. E-mail: editor@sonarbangladesh.com.