|
আরাকানী মুসলমানদের গোত্রগত পরিচয়
ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ |
|
জড়োপসনা ও বস্তুবাদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন আরাকানী সমাজ। পরবর্তীকালে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে হিন্দু এবং পরবর্তীকালে ক্রমশ বৌদ্ধ ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত হয় আরাকানী সমাজ। অষ্টম শতাব্দীতে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সামাজিক রীতির মধ্যেই ইসলামি রীতিনীতির বিকাশ শুরু হয় এবং ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকানের রাজা নরমিখলা সোলায়মান শাহ নাম গ্রহণ করে মুসলমানদের প্রতি অনুরাগী হলেও আরাকানী মুসলিম সমাজ বাংলা কিংবা আরবের মত পুরোপরিভাবে ইসলামের অনুসরণে গঠিত হয়নি। কারণ আরাকানী মুসলমানদের উত্থানই হয়েছে বর্ণসংকর জাতি হিসেবে। কেননা আরাকানের প্রাচীন জনগণ বলতে মোঙ্গলীয়, ভোট চীনা, মুরং, খুমী, চাক, সিন, সেন্দুজ, ম্রো, খ্যাং, উইনাক, মারূ, পিউ প্রভৃতি কিরাত উপজাতির জনগোষ্ঠীকে বুঝায়। আরবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শতাব্দীতে আরব, ইরানী, গৌড়ীয় ও ভারতীয়সহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসলিম বণিক, নাবিক, ইসলাম প্রচারক, পরিব্রাজক প্রমুখ আরাকানে এসে এখানকার স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হত। তাদের ঔরস ও গর্ভজাত আরাকানী মুসলমানগণের মধ্যে বর্ণসংকর জাতির সৃষ্টি হয়। আকার আকৃতির দিক থেকেও তাদের মধ্যে বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়; যেমন কেউ বেটে, খাটো, কেউ মধ্যম আকৃতির, লম্বাটে, নাক চেপ্টা, চক্ষু আয়ত ও ক্ষুদ্র ও দাড়ি বিহীন, চুল তামাটে এবং সজারু কাটার মত খাড়া আবার কেউবা আরব ও ইরানীদের মত সুঠাম দেহের অধিকারী। বিবাহের সময় ভিনদেশী কোন কোন মুসলমান প্রস্তাবিত মহিলাকে আগে ইসলামে দীক্ষা দিত, আর কেউবা ইসলামে দীক্ষিত না করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হত। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে ঈমানিয়াত বা বোধ-বিশ্বাস ও রুচির ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। এ বিশ্বাস ও রুচিবোধের ভিন্নতার কারণে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন রীতিপ্রথা ও কুসংস্কার প্রবেশ করে এবং সে প্রেক্ষিতে আরাকানী মুসলমানদের মধ্যে গোত্রগত শ্রেণিবিভাজন শুরু হয়, যেমন ক থাম্ভইক্যা, খ জেরবাদী, গ কামানচি, ঘ রোহিঙ্গা। উক্ত শ্রেণিসমূহের মধ্যকার রোহিঙ্গাদের পরিচয় ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে বলে রোহিঙ্গা ছাড়া অন্যান্য মুসলিম গোত্রসমুহের বিবরণ উপস্থাপনই এ প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
থাম্ভইক্যা
থাম্ভইক্যা বা থাম্ভুকেয়া আরাকানী শব্দ। এর অর্থ জাহাজ ডুবি থেকে রক্ষা প্রাপ্ত। এ শাব্দিক অর্থ থেকে অনুমান করা হয় যে, দুর্ঘটনাবশত জাহাজ ডুবে যাবার পর যে সকল মুসলমান প্রাণে রক্ষা পেয়ে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারাই থাম্ভইক্যা নামে পরিচিত। আরাকান অঞ্চলে আরব বণিকদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা যেহেতু প্রমাণিত বিষয়, সেহেতু থাম্ভইক্যা শব্দের অর্থগত দিক বিবেচনা করে অনেকে এ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আরাকানের প্রাচীন ও প্রাথমিক পর্যায়ে আগমনকারী আরব মুসলমান হিসেবে অনুমান করেন। আরাকানের প্রাচীন ইতিহাস রাজোয়াং এর উদ্ধৃতি দিয়ে কোন কোন গবেষক উল্লেখ করেন যে, আরাকানের বৈশালী রাজা মহতইঙ্গ চন্দ্রের রাজত্বকালে (৭৮৮-৮১০ খ্রি) কয়েকটি আরব বাণিজ্যিক জাহাজ দক্ষিণ আরাকানের রনবী বা রামরী দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়। ডুবন্ত জাহাজের আরব বণিক ও নাবিকগণ স্থানীয় অধিবাসীদের নিকট সাহায্য প্রার্থী হয়। উদ্ধার প্রাপ্ত আরব নাবিক এবং বণিকদেরকে রাজা মহতইঙ্গ চন্দ্রের দরবারে উপস্থিত করা হলে রাজা তাদের দুরাবস্থার কথা শুনে দয়া পরবশ হয়ে তার রাজ্যের পল্লী অঞ্চলে বসবাস করার অনুমতি দান করেন। তারা স্থানীয় মহিলাদের বিয়ে করে আরাকানেই বসতি স্থাপন করে। ঠিক একইভাবে স্থানীয় ইতিহাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্মা গেজেটিয়ারেও অনুরূপ মন্তব্য পাওয়া যায়।
About 788 A.D. Maha-taing Sanday ascended the throne, founded a new city on the site of the old Ramawati and died after a reign of tweenty two years. In this reign several ships were wrecked on Ramree Island and the crews said to have been Mahomedans, were sent to Arakan proper and settled in villages.
উপরোদ্ধৃত বিবরণসমূহে প্রতীয়মান হয় যে, নবম শতাব্দীতে আরব বণিকদের জাহাজ ডুবে যায় রামরী দ্বীপের পার্শ্বে। সেখান থেকে উদ্ধার প্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে আরাকানের বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়। বৃটিশ-বার্মা গেজিটিয়ারেও এ ধরনের বিবরণ উল্লেখ আছে - যেমন
The local histories relate that in the ninth century several ships were wrecked on Ramree Island and the Mussalman crews sent to Arakan and placed in villages there.
কিন্তু এখানেও শুধু উল্লেখ করা হয়েছে জাহাজ ভাঙ্গার কথা এবং তাদেরকে আরাকানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দানের কথা। কিন্তু তারাই যে থাম্ভইক্যা গোত্রের লোক তা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। যেহেতু আরাকানী থাম্ভইক্যা শব্দের অর্থ জাহাজডুবি থেকে রক্ষা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী। সেহেতু রামরী দ্বীপের পার্শ্বে বিধ্বস্তু হওয়া জাহাজের বেঁচে যাওয়া মুসলমানদেরকে থাম্ভইক্যা মনে করে কেউ কেউ তাদেরকে আরাকানের প্রথম আগমনকারী এবং প্রথম বসতি স্থাপনকারী মুসলিম জনগোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বক্তব্যের স্বপক্ষে তেমন কোন যুক্তি নেই। আরাকান মুসলিম কনফারেন্স এর সভাপতি ও সম্পাদক যথাক্রমে জহিরউদ্দীন আহমদ ও নজির আহমদ আরাকানে বসতি স্থাপনকারী থাম্ভইক্যদের সম্পর্কে লিখেছেন, A few hundreds of Muslims along the sea-shore near Akyab, known as Thambuky সুতরাং থাম্ভইক্যারা আকিয়াবের সমুদ্রোপকুলে বসবাসকারী জেলে সম্প্রদায় হলেও এরাই যে প্রথম বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠী কিংবা মহতইঙ্গ চন্দ্রের সময়কালে আগত জাহাজ ডুবি সেই মুসলিম সম্প্রদায় তা শুধুমাত্র অর্থগত বিষয় চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। তবে হতে পারে এরা অন্য কোন কোন সময়কালে আরাকানে আগমনকারী জাহাজডুবি থেকে রক্ষা প্রাপ্ত মুসলিম জনগোষ্ঠী।
থাম্ভইক্যারা মুসলিম হিসেবে পরিচিত হলেও বিশ্বাস ও সামাজিক দিক থেকে প্রায় আরাকানী মগদের মত। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামের মৌলিক বিষয় এবং রীতিনীতি ছাড়া আরাকানী মগদের সাথে তাদের তেমন কোন পার্থক্য নেই। তারা আরাকানী মগদের মত পোষাক পরে এবং আরাকানী মগদের মতই আরাকানী মগী ভাষায় কথা বলে। এ গোত্রের লোকসংখ্যা মাত্র কয়েকশত। বর্তমানে এরা আর্থ-সামাজিকভাবে অনেক পিছিয়ে। শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তারা আরাকানের মগদের চেয়ে অনেক নিম্নস্তরে অবস্থান করছে। সমুদ্রোপকুলে বসবাস করে মৎস শিকার করাই তাদের একমাত্র পেশা। ফলে সামাজিক ক্ষেত্রে তারা প্রতিষ্ঠা হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে নিম্ন শ্রেণির জনগণ হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছে। মুসলিম প্রভাবিত আরাকানের ষোড়শ-সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে তাদের ভাষা-ধর্ম ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা খানিকটা উন্নত থাকলেও সময়ের ধারাবাহিকতায় তারা নিজস্ব ভাষা ভুলে পুরোপুরি আরাকানী ভাষাভাষী ও আরাকানী সমাজের সাথে মিশে গেছে। কিন্তু কৌলিন্যগত দিক থেকে তারা নিম্নশ্রেণির মুসলমান হিসেবে পরিচিত।
বর্তমান বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে থাম্ভরগ্যা নামে পরিচিত একটি মুসলমান গোত্রের বসবাস রয়েছে। তারা আরাকানী বর্ণসংকর জাতি বলে পরিচিত এবং পেশায় তারা জেলে। সম্ভবত অষ্টাদশ শতাব্দীর দিকে তারা আরাকান অঞ্চল থেকে কক্সবাজারে এসে এখানকার বিভিন্ন নদী ও সমুদ্রোপকুলবর্তী এলাকায় বসতি স্থাপন করে। অনুমান করা যায় যে, তারা ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে আরাকানের রাজা বোধাপায়া কর্তৃক আরাকান দখলের সময় কিংবা তারও আগে কক্সবাজার অঞ্চলে বসতি শুরু করে। কোন কোন গবেষক এদের সম্পর্কে বলেন - প্রাচীনকালে তারা আরাকান থেকে কক্সবাজার অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছে। এ থেকেও অনুমান করা যায় যে, চট্টগ্রাম যখন আরাকানের অন্তর্ভুক্ত ছিল অর্থাৎ শায়েস্তা খান কর্তৃক ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল বাংলার সীমান্তভুক্ত করার পূর্বেই হয়তো তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে বসতি শুরু করেছে। থাম্ভরগ্যা মুসলমানরা আকার-আকৃতিতে আরাকানী মগদের মত। তৎকালীন সময়ে তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ, আচার ব্যবহার, সামাজিক রীতিনীতি এমনকি গৃহনির্মাণ পদ্ধতি ও ছিল আরাকানীদের মত। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসগত পার্থক্য ছাড়া আরাকানী মগদের সাথে তাদের কোন পার্থক্য ছিল না। ফলে এরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন গোত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কক্সবাজার অঞ্চলের মুসলমানরা ঘৃণা করে তাদের সাথে বৈবাহিক সম্বন্ধ কিংবা সামাজিকভাবে মেলামেশা করত না। ফলে তারা কক্সবাজারের সমাজ-সংস্কৃতি থেকে আলাদাভাবে জীবন চালাত এবং বৈবাহিক সম্বন্ধ ও সামাজিক মেলামেশা নিজেদের গোত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখত। জেলে পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে শুধুমাত্র মাছ ধরার জালই ছিল তাদের একমাত্র সম্পত্তি।
চিটাগাং ডিস্ট্রিকট গেজেটিয়ারে কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্বনীজ নামে একটি গোত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে তাদের যে জীবিকার বিবরনী, আকার আকৃতি, সামাজিক মর্যাদা, ভাষা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের বিবরণ দেয়া হয়েছে তা পুরোপুরি কক্সবাজারের থাম্ভরগ্যাদের সাথে মিলে যায়। এজন্য সাম্ভুনী বলতে থাম্ভরগ্যাদেরকেই বুঝানো যেতে পারে। মূলত আরাকানের থাম্ভইক্যা, কক্সবাজার থাম্ভরগ্যা কিংবা সম্ভুনী এরা সবাই আরাকানের থাম্ভইক্যা মুসলমান এতে কোন সন্দেহ নেই।
জেরবাদী
জেরবাদী আরাকানের অন্য আর একটি মুসলিম জনগোষ্ঠী। বর্মী মুসলমানদেরকে সাধারণত জেরবাদী নামে আখ্যা দেয়া হয়। এরা মূলত বাংলা, ভারতীয় এবং বর্মী তথা আরাকানীদের সমন্বয়ে একটি বর্ণসংকর মুসলিম জনগোষ্ঠী। ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আরাকানের বিতাড়িত শাসক নরমিখলা ওরফে সোলায়মান শাহ কর্তৃক আরাকান পুনর্দখলের পর সেখানে মুসলমানগণ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা লাভ করে। এ প্রেক্ষিতে বাংলা ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল হতে মুসলমানগণ ভাগ্যান্বেষণে আরাকানে পাড়ি জমায়। বাংলার মুসলমান ছাড়াও ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকজন আরাকানে গিয়ে স্থানীয় মগ মেয়েদের বিয়ে করার ফলে যে বর্ণ সংকর মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়, এরাই জেরবাদী নামে পরিচিত। জেরবাদী শব্দটি ফারসি ভাষাজাত। জেরবাদ শব্দের বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জেরবাদ শব্দটি জিরবাদ বলে উচ্চারিত হিসেবে। এক্ষেত্রে জির+বাদ = জিরবাদ অর্থাৎ বায়ুর নিম্নদিকে তথা অনুবাত। জেরবাদ নৌবিদ্যায় ব্যবহৃত একটি শব্দ। সাধারণত পূর্বদিকে অবস্থিত দেশসমূহকে এ বিশেষ নামে অভিহিত করা হত। এ হিসেবে কতিপয় ভারতীয় দ্বীপকে বায়ুর অনুবাত ও অপর কতিপয় দ্বীপকে প্রতিবাত স্থান বলে চিহ্নিত করা হত। এক্ষেত্রে লঙ্কা দ্বীপ বা শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং সকোত্রা প্রভৃতি দ্বীপকে প্রতিবাত স্থান বলা হত বলে অনুমিত হয়। তবে এ সম্পর্কে সঠিক কোন প্রমাণ নেই। অপরপক্ষে মালাক্কা, সুমাত্রা, টেনাসেরিম, বাংলা, মার্তাবান, পেগু প্রভৃতি দেশ ছিল অনুবাত স্থলের অন্তর্ভুক্ত, ফলে এ আঞ্চলিক সমুদ্রে পরিভ্রমণকারী নাবিকদিগকে বুঝাতে জিরবাদী শব্দটি ব্যবহৃত হত। অন্যদিকে জেরবাদ শব্দটি মালয়ী ভাষা হতে উৎপত্তি হয়েছে বলে কেউ কেউ অনুমান করেন। এ সকল অনুমানের উপর ভিত্তি করে আরব বণিকগণ অনুবাত অঞ্চলের দেশ হিসেবে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশকেও অনুবাত অঞ্চল হিসেবে দেখেন। সে ভিত্তিতেই বর্মী কিংবা আরাকানী মুসলমানদেরকে জেরবাদী বলা হয়ে থাকে।
আরাকানে বসবাসকারী জেরবাদ নামে খ্যাত মুসলমানদের সংখ্যাও খুব কম। এরা উর্দূ ভাষাভাষী হলেও সময়ের ধারাবাহিকতায় আরাকানী ভাষাকেই গ্রহণ করে। আরাকানী মগদের সাথে বেশী পরিমানে সম্পৃক্ত হবার কারণে জেরবাদী মুসলমানদের বিশ্বাস ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বৌদ্ধ ও মগ প্রভাব খুব বেশী।
কামানচি
কামানচি আরাকানের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম জনগোষ্ঠী। এরা মূলত মোগল সুবেদার শাহ মুহাম্মদ শুজার সাথে আরাকানে আশ্রিত শুজার অনুগামী বিশ্বস্ত অনুচর এবং তাদের আত্মীয় স্বজন। কামান ফারসি শব্দ। পারস্যে ধনুককে কামান নামে আখ্যা দেয়া হত। এ ধনুক ব্যবহারকারী মুসলিম সৈনিকদেরকে কামানচি নামে অভিহিত করা হয়।
বাংলার মোগল সুবেদার শাহজাদা মুহাম্মদ সুজা উত্তরাধীকার দ্বন্দ্বে ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধে স্বীয় ভাই আওরঙ্গজেবের সাথে পরাজিত হয়ে আরাকান শাসক সান্দা থু ধম্মার দরবারে আশ্রয় প্রার্থী হয়েছিলেন। রাজা সান্দা থু ধম্মা লোভের বশবতী হয়ে সহযোগিতার পরিবর্তে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে স্বপরিবাবে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর শাহ সুজার অনুসারীগণ বিদ্রোহী হয়ে উঠলে রাজা সান্দা থু ধম্মা তাদের সকলকে রাজার দেহরক্ষী এবং প্রাসাদরক্ষী বাহিনীতে চাকরি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ মোগল সৈনিকগণ তীরন্দাজ বাহিনী ছিলেন এবং আরাকানের রাজার প্রাসাদ রক্ষী ও দেহরক্ষী বাহিনীতেও তীরন্দাজ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবার কারণে এদেরকে কামান বাহিনী বা কামাঞ্চী বলে অভিহিত করা হত।
শাহ সুজা হত্যার ঘটনায় সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক প্রতিশোধ গ্রহণের নিমিত্তে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের পক্ষ থেকে ৬৫,০০০ নৌসেনা দুইশত আটাশি খানি রণপোত মগ দস্যুদের সমুলে বিনাশ করার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। তারা অতি সহজেই মগদের প্রধান ঘাঁটি চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের রামু দখল করে নেয়। বিজয়ী মোগল বাহিনী ২,০০০ আরাকানীকে ক্রীতদাসরূপে বিক্রি করে এবং ১০২৬টি জিঙ্গল কামান (পধহহড়হ, সড়ংঃষু ঔরহমধষংঃযৎড়রিহম ধ ড়হব ঢ়ড়ঁহফ নধষষ) দখল করে নেয়। ১৩৫টি আরাকানী রণপোত বিজয়ীদের অধিকারে আসে এবং অবশিষ্ট আরাকানী রণপোতগুলি যুদ্ধ চলাকালীন এবং পরবর্তীতে পলায়নকালে সমুদ্র গর্ভে নিমজ্জিত হয়। আরাকানীদের দুটি হাতি অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। আরাকানী বাহিনী প্রাণ ভয়ে স্বদেশ অভিমুখে পালানোর চেষ্টা করলেও পথিমধ্যে তারা তাদের পূর্বতন মুসলমান কৃতদাসগণ কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং অনেকে নিহত হয় কিংবা আহত হয়ে স্বদেশ ফিরে যায়।
আরাকানের রাজা কর্তৃক শাহ সুজার হত্যাকাণ্ড এবং সে প্রেক্ষিতে সংঘটিত মোগল আরাকান যুদ্ধের ফলে আরাকানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এমনকি সামরিক শক্তিও ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর আরাকান রাজ্যের গৌরব ও সমৃদ্ধির উপর যে আঘাত আসে তা আর কোন দিন দুরিভুত হয়নি। তবে শাহ সুজার অনুচরবর্গ কামানচি নামে পরিচিত হয়ে বরং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে থাকে। কামানচি বাহিনী গঠিত হবার পর এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকে। বিশেষত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক মর্যাদা পাবার আশায় এ সময় উত্তর ভারত থেকে অনেক মুসলিম যোদ্ধা আরাকানে পাড়ি জমায় এবং কামানচি বাহিনীতে যোগদান করে। ফলে কামানচি বাহিনীর শক্তি দিন দিন বাড়তে থাকে।
কামানচিগণ আরাকানী সমাজে নয়া গণ্যমান্য (এলিট) শ্রেণি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ বাহিনীর প্রত্যেক সৈন্য মাসিক চার টাকা হারে বেতন পেত। বেতন ভাতার মাধ্যমে যেমন অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা বোধ করে তেমনি রাজ্যের প্রাসাদরক্ষী ও রাজার দেহরক্ষী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে আরাকানী সমাজে তারা নিজেদের প্রভাব বলয় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। এমনকি কামানচিরা দেশের রাজা কিংবা জনসাধারণকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তোয়াক্কাই করত না। তারা আপন খেয়াল খুশি মত রাজাকে নিজেদের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহার করত। কোন রাজা তাদের অবাধ্য হলে তাঁকে হত্যা করে নিজেদের পছন্দমত রাজ পরিবার থেকেই পুনরায় রাজা নির্বাচন করত। তবে তারা নিজেরা কখনো রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতনা। ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা সান্দা থু ধম্মার মৃত্যুর পর কামানচিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা নব নিযুক্ত রাজা থিরি থুরিয়ার (১৬৮৪-৮৫ খ্রি) নিকট বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবী করে। তিনি বেতন বৃদ্ধিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কামানচিরা ১৬৮৫ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি প্রাসাদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে রাজা, রানী ও রাজ পরিবারের বহু নর-নারীকে হত্যা করে এবং রাজকোষ লুণ্ঠন করে। অতঃপর স্বীয় ভ্রাতা ওয়ারা ধম্মা রাজাকে সিংহাসনে বসিয়ে তার নিকট বেতন বৃদ্ধির দাবী জানালে তিনিও এতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
অবশেষে ১৬৯২ খ্রিস্টাব্দে কামানচিরা প্রাসাদ অবরোধ করে। রাজা পালিয়ে গিয়ে কোন মতে প্রাণে বেঁচে গেলেও কামানচিরা প্রাসাদ পুড়িয়ে দেয় এবং রাজপ্রাসাদও লুণ্ঠন করে। এভাবে ১৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মাত্র ২৫ বছরে কামানচিরা তাদের খেয়াল খুশিমত রাজ পরিবারের দশজন লোককে সিংহাসনে বসায় এবং স্বীয় দাবী পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে তাদের হত্যা কিংবা পদচ্যুত করে। অবশেষে মহাদণ্ডায়ু নামক জনৈক আরাকানী সামন্ত আরাকানের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সান্দা উইজা নাম ধারণ করে কামানচিদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি পরিচালনা করেন। এমনকি তিনি কামানচিদেরকে চাকরি থেকে পদচ্যুত করে আরাকান অধিকৃত দক্ষিণ চট্টগ্রামের শংখ নদীর তীর পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যান। তিনি কামানচিদের ক্ষমতা খর্ব করে আরাকানের রাম্রী, দুলে, লেড়ং, আরাগাঁও, সিক্কেবীন, সিন্দবিন, নদোবিন প্রভৃতি স্থানে নির্বাসিত করে তাদের শক্তি চিরতরে শেষ করে দেন। পরবর্তীকালে এ সকল স্থানেই কামানচিদের আবাসিক পল্লী গড়ে ওঠে।
কামানচিরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মর্যাদা এবং ক্ষমতাধর হিসেবে আবির্ভূত হলেও সফল হতে পারেনি। তারা শাসক নির্বাচন ও পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও রাজশক্তি দখলের চেষ্টা করেনি। কারণ তারা হয়তো মনে করেছিল যে, রাজশক্তি হাতে নিয়ে জনতার বিরাগভাজন হবার চেয়ে বরং প্রশাসনের বাইরে থেকে রাজক্ষমতা প্রয়োগ ও সুবিধাসমূহ আদায় করাই শ্রেয়। এতে জনগণও রুষ্ট হবেনা পক্ষান্তরে তাদের স্বার্থও হাসিল হবে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মালয়ের বুগিজ শ্রেণি কিংবা মোগল প্রশাসনে ইংরেজদের মত সুবিধা আদায় এবং ক্ষমতার প্রয়োগ তাদের লক্ষ্য থাকলেও তারা কিছু দিনের জন্য আরাকান প্রশাসনের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে আবির্ভুত হয়। কিন্তু তারা নিজেদের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়নি। কামানচিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপত্তি শেষ হলেও এদের পরবর্তী বংশধরগণও কামানচি নামেই খ্যাত হয়। তারা ইসলামে বিশ্বাসী হলেও অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আরাকানীদের অনুকরণীয় জাতি গোষ্ঠীতে পরিনত হয়। পোষাক পরিচ্ছদে তারা আরাকানী মগদের মত তারা উর্দূ ও আরাকানী ভাষায় কথা বলে। প্রাথমিকভাবে ফারসি ভাষা চালু থাকলেও তারা আর সংরক্ষণ করতে পারেনি। আকার-আকৃতি ও স্বভাবগত দিক থেকে তারা মোগল কিংবা আফগানদের মতো। এদের সংখ্যা খুব বেশী নেই। ১৯৩১ সালের আদম শুমারী মোতাবেক এদের সংখ্যা পাওয়া যায় ২৬৮৬। সময়ের প্রেক্ষিতে ক্রমশ তারা অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল হবার কারণে সামাজিকভাবেও পিছিয়ে পড়ে।
রোহিঙ্গা নামের উৎপত্তি ম্রোহং শব্দ থেকে হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। আরাকানের বিতাড়িত রাজা নরমিখলা ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ শাহের প্রত্যক্ষ সহায়তায় হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করে মুহাম্মদ সোলায়মান শাহ নাম নিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তিনি রাজধানী লংগিয়েতের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দে রামু বা টেকনাফ থেকে শত মাইলের মধ্যে লেম্ব্রু নদীর তীরে ম্রোহং নামক স্থানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। এটাই ছিল আরাকানের শেষ অবধি (১৭৮৫ খ্রি পর্যন্ত) রাজধানী। এ ম্রোহং শব্দটি মুসলমানদের মুখে এবং লেখায় রোহাং উচ্চারিত হয়। এভাবে রোয়াং> রোহাং> রোহিঙ্গা নামকরণ হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, আরাকানের শেষ রাজধানী ম্রোহং; এর সাধারণ উচ্চরণ রোহাং। এ রোহাং এর মুসলিম অধিবাসীদেরকে রোহিঙ্গা বলা হয়।
এ প্রবন্ধে যেসব মুসলিম গোত্রের পরিচয় পাওয়া গেল এদের বর্তমান অবস্থান খুব দুর্বল। মুলত বর্তমানে আরাকানী মুসলমান মানেই অনেকাংশে রোহিঙ্গাদেরকেই মনে করাহয়। যদি রহম থেকে রোহিঙ্গা শব্দের উৎপত্তি ধরা হয়, তবে বলা যায় রোহিঙ্গারাই আরাকানে বসতি স্থাপনকারী প্রথম পর্যায়ের আরব মুসলিম নাবিক ও বণিক সম্প্রদায়। আরব বণিক হিসেবে এলেও তাদের বসতি নির্মাণ হয়েছে আজ থেকে প্রায় ১৩শত বছর পূর্বে। জাহাজ ডুবি থেকে রক্ষা প্রাপ্ত রহম রহম বলে চিৎকার করা আরব বণিক গোষ্ঠী থাম্ভুইক্যা হবার সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা বর্তমান থাম্ভুইক্যাগণ নিম্ন শ্রেণির জেলে সম্প্রদায় হিসেবে বসবাস করছে, সেই সাথে ঈমান আকীদাগত দিক থেকে তারা ইসলামের বিধি বিধান থেকে অনেক দুরে অবস্থান করছে। অর্থাৎ ইসলামের সঠিক ধারণা ও চর্চা তাদের মধ্যে পাওয়া যায়না। সুতরাং আরব বণিক ও নাবিক সম্প্রদায়ের সকলেই জেলে পেশা গ্রহণ করবে কিংবা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও আমল থেকে দুরে সবে যাবে তা সহজ সাধ্য বিষয় নয়। তাছাড়া চেহারাগত দিক থেকেও তাদের মধ্যে আরবীয় কোন নিদর্শন পাওয়া যায়না। পক্ষান্তরে রোহিঙ্গাদের ঈমান-আকিদা, জীবন পদ্ধতি এমনকি চেহারাগত দিক থেকেও কিছু কিছু লোককে আরবীয় বলে অদ্যাবধি মনে করা যায়।
[লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। mrakhanda@gmail.com] |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/DrMahfuzurRahmanAkanda |
| |
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
মাহফুজুর রহমান আখন্দ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতার নাম মোজাফফর রহমান আখন্দ এবং মাতার নাম মর্জিনা বেগম। নিজ এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে বগুড়ায় অধ্যায়ন করেছেন দীর্ঘসময়। তিনি ১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাষ্টক্লাশ ফাষ্ট হয়ে এম. এ করেছেন; অতঃপর ২০০০ সালে এম.ফিল এবং ২০০৫ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রীও অর্জন করেন।
অধ্যাপনা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি ছড়া-কবিতা, গান, প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখেন নিয়মিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা, পদ্মাপাড়ের ছড়া, (যৌথ), পরিলেখ প্রকাশনী, রাজশাহী, ২০০৪; ধনচে ফুলের নাও (ছড়া), পরিলেখ প্রকাশনী, রাজশাহী, ২০০৭; মামদো ভূতের ছাও (ছড়া), শব্দশিল্প প্রকাশনী, চট্টগ্রাম, ২০০৮; গুমর হলো ফাঁস (লিমেরিক), পরিলেখ প্রকাশনী, রাজশাহী, ২০০৭, স্বপ্নফুলে আগুন (ছড়া), পরিলেখ প্রকাশনী, রাজশাহী, ২০১০; তোমার চোখে হরিণমায়া (প্রেমের পঙক্তিমালা), অন্ত্যমিল প্রকাশনী, বগুড়া,২০১০; রোহিঙ্গা সমস্যা : বাংলাদেশের দৃষ্টিভংগী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, গবেষণা বিভাগ, ঢাকা, ২০০৫; প্রভৃতি। এছাড়াও হৃদয় বাঁশির সুর, (গানের বই); সংস্কৃতি ও বিনোদন (প্রবন্ধ), আরাকানের মুসলমানদের ইতিহাস (গবেষণা); দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলমানদের ইতিহাস (গবেষণা) তাঁর প্রকাশিতব্য গ্রন্থ। সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যের ছোটকাগজ সমন্বয়, বিজয়ের ছড়া প্রভৃতি।
সেইসাথে তিনি বাংলা একাডেমী ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সদস্য; বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ এর জীবন সদস্য; বাংলাদেশ লিমেরিক সোসাইটি’র নির্বাহী সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরাম এর সভাপতি।
ইতোপূর্বে তিনি বগুড়ার সমন্বয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ঢাকা সাহিত্য শতদল এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ সংস্কৃতিকেন্দ্রের সহকারী সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের পিতা।
|
|