বৃহস্পতিবার, ২৫ ভাদ্র ১৪১৭; ০১ শাওয়াল ১৪৩১; ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০২:৩৭ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
টিপাইমুখ প্রকল্পে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না-এটা অবিশ্বাস্য (০৪/০২/২০১০)
আপনি আওয়ামী লীগ, নাকি বিএনপি (০২/০২/২০১০)
আন্দোলনের হুমকি (৩০/০১/২০১০)
আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ চাই (১৭/০১/২০১০)
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে কী অর্জিত হলো (১৫/০১/২০১০)
ডিডো কাহিনী (২২/১২/২০০৯)
বিজয় অর্জনের বাকি হিসাব (১৮/১২/২০০৯)
ভারত ফ্যাক্টর! (০৮/১২/২০০৯)
বিএনপি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ (০৭/১২/২০০৯)
বিচার বনাম রাজনীতি (০৮/১১/২০০৯)
ভুল সিদ্ধান্ত (১৮/১০/২০০৯)
সংবিধান সংশোধনের চিন্তা কেন (২৭/০৯/২০০৯)
বিচার বিভাগঃ অসামান্য মানুষের গল্প (১৩/০৯/২০০৯)
আওয়ামী লীগঃ নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন (০২/০৮/২০০৯)
ওয়ান-ইলেভেনঃ কিসের বিচার চাই (১৯/০৭/২০০৯)
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করতে পারে না (১২/০৭/২০০৯)
পিনাক রঞ্জনের ছোট ভুল, আমাদের বড় ভুল (০৫/০৭/২০০৯)
টিপাইমুখ প্রকল্প বিতর্ক ড্যাম নির্মিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ (২০/০৬/২০০৯)
টিপাইমুখঃ প্রতিবাদ জরুরি কেন (০১/০৬/২০০৯)
পিলখানা হত্যাকাণ্ডঃ সর্বনাশের নতুন পর্ব (?) (১৭/০৫/২০০৯)
আগের লেখা
742


টিপাইমুখ প্রকল্পে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না-এটা অবিশ্বাস্য

ড. আসিফ নজরুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক, আন্তর্জাতিক পানি আইন বিশেষজ্ঞ ড. আসিফ নজরুল 'টিপাইমুখ প্রকল্পে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করা হবে না' মর্মে ভারতীয় প্রতিশ্রুতিতে দ্ব্যর্থহীন অনাস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরসঙ্গীদের দেশপ্রেম নিয়ে সুস্পষ্ট সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, এটা অবিশ্বাস্য। আরো বলেছেন, 'যৌথ ইশতেহার বা চুক্তির মাধ্যমে ভারতকে যা দেয়ার, তা অলরেডি দিয়ে দিয়েছি।' বার্তা সংস্থা প্রোব'র সাথে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। নিচে সাক্ষাৎকারের পূর্ণ বিবরণঃ

'টিপাইমুখ প্রকল্পে ক্ষতিকর কিছু করা হবে না' যৌথ ইশতেহারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এই নিশ্চয়তার ওপর বাংলাদেশ কতটা ভরসা করতে পারে?
ড. আসিফ নজরুলঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন 'টিপাইমুখ প্রকল্পে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করা হবে না।' তার এ বক্তব্য ভিত্তিহীন। কারণ, বাংলাদেশ অঞ্চলে ওই প্রকল্পের কোনো ইমপ্লিমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট হয়নি। সুতরাং বাংলাদেশ অঞ্চলে অ্যাসেসমেন্ট না করে পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষের পক্ষেও বলা সম্ভব নয় যে, এ প্রকল্পে আমাদের ক্ষতি হবে কি হবে না। যদিও ভারতের অংশে একটা অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। সেটা নিপ্পনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। সেখানেও কিছু কিছু ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অতীতে আমরা দেখেছি, ফারাক্কা ব্যারাজের ব্যাপারেও ভারত বহুবার বাংলাদেশকে বলেছে, এমনকি জাতিসংঘে গিয়েও অ্যাসিওর করেছে যে, ক্ষতিকর কিছু হবে না। এ কথা বলার পরও ফারাক্কা ব্যারাজ বাংলাদেশের জন্য পরিবেশগত ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটিয়েছে। কাজেই তাদের সব আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে আমাদের বসে থাকা ঠিক হবে না।

বিষয়টি কী এমন যে, বাংলাদেশের ক্ষতি না করেও টিপাইমুখ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব? অর্থাৎ বিকল্প ব্যবস্থায় করা যাবে?

ড. আসিফ নজরুলঃ বাংলাদেশের ক্ষতি না হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নেই। একটা বড় ধরনের মেগা হাইড্রো ইলেকট্রিসিটি প্রকল্প যখন নেয়া হয়, তখন এর ক্ষতিকর দিক থাকেই। ওয়ার্ল্ড কমিশন অন ড্যাম-এর বিভিন্ন স্টাডিতে এ ধরনের প্রমাণ রয়েছে। বিশ্বের যেসব জায়গায় এ ধরনের প্রকল্প রয়েছে, অথচ সেখানে ক্ষতি হয়নি এমন একটাও নজির যদি কেউ দেখাতে পারে, তা হলে আমরা বিশ্বাস করব যে ক্ষতি হবে না। তা ছাড়া, একটি নিম্ন অববাহিকার দেশ একটি উচ্চ অববাহিকার দেশের একজন সরকারপ্রধানের আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে চলবে, এটা তো খুব বিপজ্জনক ধারণা। অবাস্তব ধারণা।

তবে টিপাইমুখে যদি কোনো ব্যারাজ না থাকে শুধু ড্যাম করে এবং ড্যামগুলোর আয়তন ও উচ্চতা যদি ছেঁটে ছোট করে ফেলে তাহলে বাংলাদেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব। কিন্তু কোনো ক্ষতি হবে না এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
যৌথ ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না। তার মানে টিপাইমুখ প্রকল্প হবেই। এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাতে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে যে, ঠিক আছে তোমরা প্রকল্প করো, কিন্তু আমাদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। কিন্তু ক্ষতি কিভাবে হবে না সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোনো মেকানিজম কিংবা স্টাডি অথবা এ ধরনের কোনো কথা ইশতেহারে লেখা নেই। যৌথ ইশতেহারে যদি বলা থাকতো যে, প্রজেক্ট রিপোর্ট সব বাংলাদেশকে দেয়া হবে। বাংলাদেশ-ভারত মিলে যৌথভাবে পরিবেশগত একটা সমীক্ষা করবে। সমীক্ষার ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত করবে যে ক্ষতি হবে না তাহলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারতাম। আস্থা রাখতে পারতাম।

বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কাছে টিপাইমুখ প্রকল্পটি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের কাছে জনগণের এই দাবি কতটা গুরুত্ব পেয়েছে?

ড. আসিফ নজরুলঃ না, সরকার জনগণের দাবিকে মোটেও গুরুত্ব দেয়নি। দুর্ভাগ্য যে, আমাদের দলগুলো যখন নির্বাচিত হয়, নির্বাচিত হয়ে ভাবে, জনগণ তাদের যা ইচ্ছা তা করার ম্যান্ডেট দিয়েছে। এটা গত সরকারের আমলেও আমরা দেখেছি। তারা কথায় কথায় বলতো আমরা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি। আমার কথা হলো, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে কী জনগণের কাছে বলেছিল যে, টিপাইমুখ প্রজেক্ট হবে, আমরা তাতে কোনো বাঁধা দেবো না! কোনো ক্ষতি হবে না, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই আশ্বাস দিলে আমরা তা বিশ্বাস করব এসব বলে যদি ভোট নিতো তা হলে বুঝতাম তারা এ ব্যাপারে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েছে।
আমি মনে করি, জনগণের দাবিকে কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিৎ নয়। এটা সরকারের জন্য মারাত্মক ভুল হবে। কারণ, অনেক অরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞও টিপাইমুখ প্রকল্পের ক্ষতি সম্পর্কে অতীতে বলেছেন। এমনকি বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ও আবুল মাল আবদুল মুহিত যখন সরকারে ছিলেন না, এই প্রজেক্টের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে তখন ওনারা নিজেরাও বলেছেন। কাজেই বিষয়টিকে শুধু বিরোধীদলের রাজনীতি হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
ফারাক্কার অভিজ্ঞতা থেকে টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে আমাদের জনগণের মধ্যে দারুণ উৎকণ্ঠা রয়েছে। জনগণের এই উৎকণ্ঠাকে যদি ঠিকমতো বিবেচনায় আনা হতো, তাহলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আরো অনেক জোরালো ভূমিকা রাখতে পারতেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

কিভাবে জোরাল ভূমিকা রাখতে পারতেন?

ড. আসিফ নজরুলঃ ক্যাটাগরিক্যালি তিনি বলতে পারতেন যে, আমাদের প্রজেক্ট রিপোর্ট দাও। আমাদের সাথে পরিবেশগত যৌথ সমীক্ষা কর। সমীক্ষার ভিত্তিতে যদি আমাদের কোনো ক্ষতি না হয়, তাহলে আমরা কিভাবে বেনিফিট শেয়ার করব। কারণ ওই প্রকল্প হবে আর বাংলাদেশ ক্ষতির ঝুঁকি নেবে এটা তো হয় না। আমার কথা হলো, ক্ষতি যে হবে না, কিভাবে হবে না, আর ক্ষতি হলে ভারত বাংলাদেশকে কী কী বেনিফিট দেবে, বা অন্যভাবে ক্ষতিপূরণ করবে, এটা যদি সুস্পষ্টভাবে কাগজে লিখে একটা চুক্তি করা হতো তাহলে বুঝতাম ভারতের সদিচ্ছা আছে। তখন বলতে পারতাম যে, আমাদের সরকারও জোরাল ভূমিকা রেখেছে। এখন সে কথা বলার কোনো কারণ নেই।

তিস্তার পানিপ্রবাহ এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুদেশের যৌথ বৈঠকে ২০১০ সালের মাঝামাঝি মন্ত্রীপর্যায়ে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ কতটা গুরুত্ব বহন করে?

ড. আসিফ নজরুলঃ ১৯৫২ সাল থেকেই তিস্তা নিয়ে ভারতের সাথে বৈঠক হয়ে আসছে। বহুবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠক মানেই যে সমাধান, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ বাংলাদেশের নেই। তিস্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পরে ভারত বিভিন্ন সময় তিস্তার উজানে শুধু গজলডোবায়ই নয়, তারও অনেক উজানে অনেকগুলো বাঁধ নির্মাণ করেছে।
ব্যাপারটি যদি এমন হয় যে, তিস্তার অনেক উজান থেকে ভারত যত ইচ্ছা পানি প্রত্যাহার করে নেবে, তারপর তিস্তার সর্বনিম্ন অংশে এসে অবশিষ্ট পানিপ্রবাহ দুদেশ ভাগাভাগি করবে, এ ধরনের কোনো চুক্তি হলে সেটা ফারাক্কার অনুরূপ হবে। অর্থাৎ চুক্তি ঠিকই থাকবে কিন্তু আমরা পানি পাব না।
আপনি কী মনে করেন যে, শেখ হাসিনার সফরের আগে দুদেশের মন্ত্রীপর্যায়ে বিষয়টি ফয়সালার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো যেতো?

ড. আসিফ নজরুলঃ অবশ্যই চূড়ান্ত করা যেত। কারণ আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, যৌথ ইশতেহার বা চুক্তির মাধ্যমে ভারতকে যা দেয়ার তা অলরেডি আমরা দিয়ে দিয়েছি। অপর দিকে, ভারত আমাদের সবকিছুতে কেবলই আশ্বাস, সহযোগিতা আর আলোচনা করার কথা শুনিয়েছে। আমরা ভারতকে সবই দিয়ে দেবো, তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে যাবে। গত ৩০-৩৫ বছরে তাদের কোনো আশ্বাসেরই বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। কাজেই আমি মনে করি, যৌথ ইশতেহারে কেবল ভারতের জন্য উইন সিচুয়েশন। আর বাংলাদেশের উইন সম্ভাবনা নির্ভর করছে আশ্বাস, সহযোগিতা এবং আরো বৈঠকের ওপর।

অনেকেই বলেন যে, ভারতের তরফে সব ঝানু আমলা ও মন্ত্রী ছিলেন। এর বিপরীতে আমাদের আমলা-মন্ত্রীরা অনেকটাই অনভিজ্ঞ ও নবীন। এ ব্যাপারে আপনি কী মনে করেন?

ড. আসিফ নজরুলঃ শুধু অনভিজ্ঞ আর নবীনই নয়, তাদের কারো কারো দেশপ্রেম নিয়েও সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমাদের পানিমন্ত্রীও সেখানে গিয়েছিলেন। উনি তো এর আগে টিপাইমুখের পক্ষে অনেক কথা বলেছেন। যিনি আগে থেকেই ভারতের স্বার্থের পক্ষে কথা বলে আসছিলেন, তাকেই আবার ভারতের সাথে চুক্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্যই অনেক পড়াশুনা করা মানুষ। কিন্তু পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে উনার যে অনভিজ্ঞতা রয়েছে তা প্রমাণিত। উনি করিডোর কী, বাফার স্টেট কী তা বুঝতেন না। এবং যে উপদেষ্টাদের নেয়া হয়েছে তাদের কারো কারো বাংলাদেশের সাথে কতটুকু আত্মিক সম্পর্ক, এ নিয়েও সন্দেহের কারণ রয়েছে।

নদী সমস্যা প্রসঙ্গে ভারতের আশ্বাসের পর এগুলো সফল করতে এখন আমাদের করণীয় কী?

ড. আসিফ নজরুলঃ আমাদের সাথে নাকি ভারতে বন্ধুত্ব রয়েছে। আমাদের করণীয় হচ্ছে সোজাসুজি বলা যে, তুমি যদি আমাদের বন্ধুই হও, তুমি যদি আমাদের নদী ও সমুদ্র বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করতে চাও, তাহলে তোমার কাছে আমার যে যৌক্তিক দাবি আছে, যেটা আমাদের অধিকার, সেটা আগে দাও। তাহলে বুঝব ভারত আমাদের বন্ধু। পোর্ট, রেল-সড়কপথ, ট্রানজিট এসবের সাথে নদীর পানি হিস্যা পাওয়ার সাথে সম্পর্কিত করে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ আমার পাওনাগুলো দাও, তারপর তোমাকে কি দেয়া যায় সেটা আমরা দেখব।
(সূত্র, নয়া দিগন্ত, ০৪/০২/২০১০)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/DrAsifNazrul
পাঠকের মন্তব্য:
মক্কা আল মুকাররমা থেকে মোহাম্মদ আলী লিখেছেন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৫:০৮
بِـــــــــــــــــــــــــِسم اللًهِ الرًحمَن الرًحـــــــــِيم
بَرَاءةُ مًنَ اللًهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الًزِينَ عَاهَدتُم مًنَ المُشرِ كِين
সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে,যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।
إِلاً الًزِينَ عَاهَدتُم مًنَ المُشرِ كِنَ ثُمً لًم يَنقصُو كُم شَيئًا وَلَم يُظَا هِرُوا عَلَيكُم أحَدًا فَاَْتِمُوا إلَيهِم عَهدَهُم إلَى مُدًتِهِم إنً اللًه يُحِبًُ المُتًقِينَ
তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রু টি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি,তাদের সাথে কৃত চুক্তি তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পুরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।
كَيفَ يَكُونُ لِلمُشرِ كِينَ عَهدُ عِندَ اللًهِ وَ عِندَ رَسُولِهِ إلاً الًزِينَ عاَهَدتُم عِندَ المَسجِدِ الحَرَامِ فَماَاستَقاَمُوا لَكُم فاَستَقِيمُوا لَهُم إنً اللًهَ يُحِبًُ المُتًقِينَ
মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রাসুলের নিকট কিরুপে বলবৎ থাকবে, তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল হারামের নিকট, অতএব যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক নিঃসন্দেহে আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।
كَيفَ وَ إن يَظهَرُوا عَلَيكُم لاَ يَرقُبُوا فِيكُم إلاً وَلاَ زِمًةً يُرضُونَكُم بِأفوَاهِهِم وَتَأبَى قُلُبُهُم وَ أكثَرُهُم فاَسِقُونَ
কিরুপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্বীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবেনা,তারা মুখে তোমাদের সন্তষ্ট করে, কিন্ত তাদের অন্তরসমুহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।
لاَ يَرقُبُونَ فِيِ مُوْمِن إلاً وَلاَ زِمًةً وَ أُولَئكَ هُم المُعتَدُونَ
তারা মর্যাদা দেয়না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্বীয়তার, আর না অঙ্গীকারের, আর তারাই সীমালংঘনকারী।
7837
লালবাগ, ঢাকা। থেকে িসরাজুল ইসলাম হানিফ লিখেছেন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৪৮
সত্য কথা সাহসের সাথে বলার জন্য ডঃ আসিফ নজরুল কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
7860
Bangladesh থেকে siwiqi লিখেছেন, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১২:০০
ভারত এমন কিছু করবেনা যা’তে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়।“
এটি জাতি অর্ধশতাধিক বছর ধরে শুনছে। কথাটা যে অর্থহীন,অসার তা এজাতি প্রতিদিন উপলব্ধি করে। তারা দেখে যে চোখের সামনে তাদের জীবন-জীবিকা একটু একটু করে ধ্বংসের শেষ সীমানার দিকে চলছে। সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে অনুভব করে যে প্রানচঞ্চল উর্বর পলিমাটির দেশটা আর অল্পদিনের মধ্যে পুরোপুরি মরুভুমি হয়ে যাবে। পানি-সম্পদ বিশেষজ্ঞরা একমত হয়ে বার বার বলছেন যে দুদেশের সহযোগীতায় গঙ্গা,তিস্তা,বরাক সহ সকল কমন নদীগুলিকে যৌথ নদী ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য অমুল্য প্রাকৃতিক সম্পদে পরিনত করা সম্ভব। ভারত সে কথা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে একতরফা নদীশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যবিপর্যয় সৃষ্টি করে। শুধু ভারতের স্বার্থে আন্তর্জাতিক নদীগুলিকে ব্যাবহার করতে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য তৈরী করে মৃত্যু-ফাঁদ। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সমুদ্রসীমা,বানিজ্য,টিপাইমুখ,তিনবিঘা,সীমান্ত,করিডোর,ট্রানজিট,ফারাক্কা,বন্দর, জলবায়ু -এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে ভারত বাংলাদেশকে প্রতারিত করেনি। সে সব প্রতারনা এদেশের নিরীহ মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে। শেখ হাসিনার গায়ে সে উত্তাপ কখনো লাগেনি বলে অর্থহীন আশ্বাসবানীতে তিনি আশ্বস্ত বোধ করছেন কিন্তু তিনি বুঝতে অক্ষম যে তাঁর দেশের জনগন অপমানিত ও একই সাথে আতংকিত॥

শেখ হাসিনা পরিস্কার বুঝিয়ে দিলেন যে এ দেশের জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিন প্রধানমন্ত্রী হননি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন ভারতের প্রভুদের কৃপায়। তাই পুনরায় ক্ষমতায় আসার জন্য তাঁর প্রয়োজন ভারতের চাহিদা মিটিয়ে দিয়ে তাদের সমর্থন লাভ করা। জনগনের স্বার্থ দেখা ও জনগনের সমর্থনের প্রয়োজন নেই তাঁর।
7875
Bangladesh থেকে siwiqi লিখেছেন, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১২:০৪
ভারত এমন কিছু করবেনা যা’তে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়।“
এটি জাতি অর্ধশতাধিক বছর ধরে শুনছে। কথাটা যে অর্থহীন,অসার তা এজাতি প্রতিদিন উপলব্ধি করে। তারা দেখে যে চোখের সামনে তাদের জীবন-জীবিকা একটু একটু করে ধ্বংসের শেষ সীমানার দিকে চলছে। সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে অনুভব করে যে প্রানচঞ্চল উর্বর পলিমাটির দেশটা আর অল্পদিনের মধ্যে পুরোপুরি মরুভুমি হয়ে যাবে। পানি-সম্পদ বিশেষজ্ঞরা একমত হয়ে বার বার বলছেন যে দুদেশের সহযোগীতায় গঙ্গা,তিস্তা,বরাক সহ সকল কমন নদীগুলিকে যৌথ নদী ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য অমুল্য প্রাকৃতিক সম্পদে পরিনত করা সম্ভব। ভারত সে কথা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে একতরফা নদীশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যবিপর্যয় সৃষ্টি করে। শুধু ভারতের স্বার্থে আন্তর্জাতিক নদীগুলিকে ব্যাবহার করতে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য তৈরী করে মৃত্যু-ফাঁদ। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সমুদ্রসীমা,বানিজ্য,টিপাইমুখ,তিনবিঘা,সীমান্ত,করিডোর,ট্রানজিট,ফারাক্কা,বন্দর, জলবায়ু -এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে ভারত বাংলাদেশকে প্রতারিত করেনি। সে সব প্রতারনা এদেশের নিরীহ মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে। শেখ হাসিনার গায়ে সে উত্তাপ কখনো লাগেনি বলে অর্থহীন আশ্বাসবানীতে তিনি আশ্বস্ত বোধ করছেন কিন্তু তিনি বুঝতে অক্ষম যে তাঁর দেশের জনগন অপমানিত ও একই সাথে আতংকিত॥

শেখ হাসিনা পরিস্কার বুঝিয়ে দিলেন যে এ দেশের জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিন প্রধানমন্ত্রী হননি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন ভারতের প্রভুদের কৃপায়। তাই পুনরায় ক্ষমতায় আসার জন্য তাঁর প্রয়োজন ভারতের চাহিদা মিটিয়ে দিয়ে তাদের সমর্থন লাভ করা। জনগনের স্বার্থ দেখা ও জনগনের সমর্থনের প্রয়োজন নেই তাঁর।
7877
canada থেকে karnafullyparer chele লিখেছেন, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ০২:১৭
Khaleda kutti to eta spstobhabe bolte parchena. Tara khomotai thakte kono din farakka nie kono kotha bole nai. uchit chilo deshe bideshe farakka 'r khotikor dik guli prochar kora. seta tara koreni. ekhon tipaumukh badh o BNP thekate parbena. khomotai thakte durniti kore relief er tin , biscuit porjonto churi korben ar khomotar baire ese tipaimukh nie dui ekta bibriti deben ------ erokom korle to tipaimukh badh thekano jabena.
7902
Daraiya , Riyadh থেকে ৃHabib লিখেছেন, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৫:২৩
Hasina came to power by India. So which she is doing that is right. She is not bissas gatok.
7914
খুলনা থেকে নাইম ইসলাম লিখেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৯:০২
আপনার লেখা আমাকে খুব ভাল লেগেছে।
8176
ওমান থেকে আবু জাবের লিখেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৪১
ডঃ আসিফ নজরুল সাহেব আপনাকে ধন্যবাদ এই সত্য কথা গোল বলার জন্য । শুধু অনভিজ্ঞ আর নবীনই নয়, তাদের কারো কারো দেশপ্রেম নিয়েও সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমাদের পানিমন্ত্রীও সেখানে গিয়েছিলেন। উনি তো এর আগে টিপাইমুখের পক্ষে অনেক কথা বলেছেন। যিনি আগে থেকেই ভারতের স্বার্থের পক্ষে কথা বলে আসছিলেন, তাকেই আবার ভারতের সাথে চুক্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্যই অনেক পড়াশুনা করা মানুষ। কিন্তু পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে উনার যে অনভিজ্ঞতা রয়েছে তা প্রমাণিত। উনি করিডোর কী, বাফার স্টেট কী তা বুঝতেন না। এবং যে উপদেষ্টাদের নেয়া হয়েছে তাদের কারো কারো বাংলাদেশের সাথে কতটুকু আত্মিক সম্পর্ক, এ নিয়েও সন্দেহের কারণ রয়েছে।
এখন সরকার বিরোধী আেন্দালনে সরিক হবেন কি না বলবেন দয়া করে কারন কোন দেশ দেশপ্রেমীক লোক বর্তমান এই অবস্তায় চুপ করে বসে তাকতে পারেনা।দুই একটা লিখা দিয়ে আওয়ামী লীগ কে সোজা বরতে পারবেননা আওয়ামী লীগ এ সমস্ত ভাষা বুজেনা ।
ধন্যবাদ
8207
dhaka থেকে Moin Khan লিখেছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৯:৫০
Thank you for the bold statements.
8342
১০
Rajshahi,Bangladesh থেকে Asfak লিখেছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১০:১৩
excllent
8767
১১
uwait থেকে absar hussain লিখেছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ১২:১৩
dr asif it s death project of bnp . so writing comments about that as genuine dalal of bnp is suitable for you.
9376
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে আন্তর্জাতিক নদী আইনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। জার্মানির এনভায়রনমেন্টাল ল সেন্টার থেকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনে ফেলোশিপ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। আন্তর্জাতিক নদী আইন বিষয়ে তিনি এডিবি, আইইউসিএন, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2010. E-mail: editor@sonarbangladesh.com.