সম্প্রতি বহুল আলোচিত লিবারেল কমিশন অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের ভাঙচুরের জন্য সঙ্ঘ পরিবারকে দায়ী সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু এর দায়দায়িত্বের জাল থেকে ফসকে গেছে নরসিমা রাও সরকার। এখন প্রশ্ন হলো, এ ক্ষেত্রে কমিশনের সুপারিশমালা কোন কাজে আসবে তাও আবার কমিশনের বিতর্কিত ইতিহাস এবং সরকার দায়সারা ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে। অবশ্য একধরনের সন্দিগ্ধতা সব সময়ই এই কমিশন ও তার কার্যক্রমকে ঘিরে না থেকে পারেনি, যখন মনোমহন সিং নিয়োজিত লিবারেল কমিশন ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরে সংঘটিত ভাঙচুরের তদন্ত দীর্ঘ সতের বছর ধরে চলেছিল এবং ইতোমধ্যে তদন্ত চালু রাখার জন্য আটচল্লিশবার বর্ধিত সময়ের জন্য আবেদন করেছিল। বলা বাহুল্য এই দীর্ঘসূত্রতায় প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সরকার ইচ্ছা করেই তার বাছাই করা লোকজনকে তদন্ত থেকে রেহাই দেয়ার চেষ্টা করছিল, যাতে কমিশনের ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা হারায়।
শেষ পর্যন্ত সরকার গত ২৪ নভেম্বর প্রবল চাপের মুখে উপায়ান্তর না দেখে কমিশনের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে। তখন থেকেই রাজনৈতিক, সামাজিক এবং আইনি মহলে এ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। যা হোক, এক হাজার পৃষ্ঠা সংবলিত চার অধ্যায়ে বিভক্ত প্রতিবেদনের কেন্দ্রীয় যুক্তিমালায় সবার কাছে জ্ঞাত বিষয়গুলোর অতিরিক্ত কিছু নেই। তা হলো আরএসএস এবং তার অন্যান্য উগ্রবাদী অঙ্গসংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং ভারতীয় জনতা পার্টি যাদের সমন্বয়ে সংঘ পরিবার গঠিত হয় তারাই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পশ্চাতে সক্রিয় ছিল।
কমিশন যদিওবা উত্তরপ্রদেশের কল্যাণ সিংহ নেতৃত্বাধীন সরকারকে অত্যন্ত হাল্কাভাবে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট করে তা এমন ভাষা ও বর্ণনাভঙ্গির ভেতর দিয়ে যে, তা অপরাধের অভিযোগ গঠন করার জন্য জোরালো কোনো যুক্তি রাখে না। বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সম্বন্ধে কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বোঝা যায়, শেষ পর্যন্ত তারাও নিধন কাজে স্বেচ্ছায় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অংশ নিয়েছিল। ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে যখন প্রতীয়মান হলো, ভুল বা নিলভাবে এই কাঠামো ভাঙা হবে সমগ্র ভিড়কে তখন ওই ভাঙার কাজেই লেলিয়ে দেয়া হলো এবং তারা নিখুঁত সামরিক কায়দায় কাজটি সম্পন্ন করল।
তবে এই কুকার্যে সর্বাধিক পাপাচার ছিল একথার প্রচারণা যে, পুরো মিশনে পুলিশ বাহিনীও ছিল এ কাজের অংশীদার। স্বভাবতই এমন একটি বাহিনী যে পাশে পেয়ে করসেবকদের হাত ছিল মুক্ত এবং উভয়ে মিলে ভারতীয় অসাম্প্রদায়িকতার বারোটা বাজিয়েছিল এবং তাও ছিল কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়া। ব্যক্তিক পর্যায়ে কমিশন তালিকাভুক্ত করেছে ৬৮ জনকে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সংঘ পরিবারের নেতারা এবং প্রদেশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ জন্য যে, তারা দেশকে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। সংঘ পরিবার নেতাদের যারা তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন তার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি, সাবেক কেন্দ্রীয় মানবসম্পদমন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশিসহ প্রধানমন্ত্রী অযোধ্যা রথযাত্রা নেতা লালকৃষ্ণ আভবানি ছিলেন। অবশ্য কমিশন এই শেষোক্ত ব্যক্তিদের 'ভণ্ড উদারবাদী' বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাদের আরএসএস-ই নিয়ে তাদের ভূমিকার নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী আরএসএস, বজরংদল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা যথাক্রমে সুদর্শন, বিনয় কাটিয়ার এবং অশোক সিনখাল মসজিদের ওপর তাদের বিধ্বংসী বলয় তৈরি করে রেখেছিল এবং তাদের সতত সমর্থন জোগাচ্ছিলেন আদভানি, যোশী এবং বাজপেয়ি প্রমুখ। সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনের প্রতিপাদ্য হলো এই যে, মসজিদ ধ্বংসের মূল হোতা সংঘ পরিবার। অবশ্য তাদের পেছনে ছিল মূল দল বিজেপির এক শ ভাগ সমর্থন। সংঘ পরিবারের কোনো কোনো রাজনৈতিক খেলোয়াড়কে নির্দোষ চিহ্নিতকরণ এবং নরসিমা রাও নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার মসজিদ রক্ষায় যার একটি বিরাট ভূমিকা ছিল, তা পালন করা ছাড়া তাকে কমিশনের দায়মুক্তি দেয়ার প্রচেষ্টা অবশ্যই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
অনুপম গুপ্ত, কমিশনের সাবেক কাউন্সিলর যিনি ২০০৭ সালে জাস্টিস লিবারেলের সাথে মতদ্বৈধতার কারণে পদত্যাগ করেছিলেন। শ্রী অনুপম গুপ্ত এখনো বিস্মিত যে, নরসিমা রাও সরকারের ভূমিকাকে যাচাই না করে কমিশনের তদন্তই অসম্পূর্ণ। বর্তমান প্রতিবেদনের অর্থ এই দাঁড়ায়, কমিশনের কর্মসম্পাদনে যেসব দলিল তাকে ন্যস্ত করা হয়েছিল, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপারে তা তিনি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেননি। তার মতে, (অনুপম গুপ্ত) সম্পূর্ণ ক্রাইম থেকে ওই সরকারকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে যা এক ধরনের আইনবহির্ভূত।
জাস্টিস লিবারেল অযোধ্যা ট্র্যাজেডিকে শুধু সাদা দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তা শুধু ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন। ভারতের বিশাল মুসলিম সম্প্রদায় যাদের স্বার্থ, মর্যাদা, ইতিহাস এর সাথে সম্পৃক্ত মনে হয় না যে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি এই জটিল ও কলঙ্ককর বিষয়টির অদুর্ঘটনের অবসান তার হয়েছে।
লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার এবং নিরাপত্তা, রাজনীতি, বৈদেশিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক
[সূত্র, নয়াদিগন্ত, ০৬/০২/২০১০] |
Hindu temple attacked in Bangladesh
Press Trust Of India
Dhaka, February 07, 2010
Miscreants in Bangladesh’s Narayanganj district vandalised an ancient Hindu temple, with assailants destroying six idols, a top official said on Saturday.
A gang of 30-35 men attacked the Sonargaon temple and broke six idols, said Md Yunus Ali, the local police chief. He said the incident took place while the devotees were holding a religious function at the Sree Sree Rakshakali Temple at Ashrafdi village.
The miscreants vandalized the temple and four houses, injuring at least five people, in Narayanganj’s Sonargaon subdivision on Friday, the private bdnews24 news agency said. A case is underway, the police official was quoted as saying in the report. The Sonargaon police chief said religious programme began on February 2. The gang attacked the temple following an altercation between a devotee and three youths of the village.