মঙ্গলবার, ২৩ ভাদ্র ১৪১৭; ২৭ রমজান ১৪৩১; ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৯:৪৭ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
একটি মৃত্যু ও দেড় লাখ টাকার গল্প (০৭/০২/২০১০)
প্রতিবেশী যখন বড় দেশ (৩১/০১/২০১০)
শহিদুলের মৃত্যু, একটি সাঁকোর গল্প ও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর (২৪/০১/২০১০)
পরিবেশ বিপর্যয় রোধে আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু (২৩/০১/২০১০)
সংসদে বিএনপির যোগদান কেন জরুরি (১৯/০১/২০১০)
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে দুটি কথা (১৭/০১/২০১০)
তিনটি চুক্তি দুটি স্মারক : ভারতের পাল্লা ভারী (১৪/০১/২০১০)
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কিছু কথা (১০/০১/২০১০)
মঞ্জুরি কমিশন সংস্কার, যে কথাটিকে গুরুত্ব দিতে হবে (০৫/০১/২০১০)
নতুন বছরটি কেমন যাবে (০৩/০১/২০১০)
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর আশাবাদ ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা (২৭/১২/২০০৯)
রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পাকিস্তান (২১/১২/২০০৯)
রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পাকিস্তান (০০/০০/০০০০)
কোপেনহেগেন সম্মেলন নিয়ে কিছু কথা (২০/১২/২০০৯)
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক : প্রাসঙ্গিক কিছু কথা (০৫/১২/২০০৯)
গাবুরা থেকে কোপেনহেগেন কতদূর? (০৪/১২/২০০৯)
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, অনেক অমীমাংসিত ইস্যু (২৫/১১/২০০৯)
বারাক ওবামার চীন সফর এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভুমিকা (২২/১১/২০০৯)
ওবামার চীন সফর নিয়ে কিছু কথা (১৬/১১/২০০৯)
আফগানিস্তান: যুদ্ধের শেষ কবে? (১১/১১/২০০৯)
আগের লেখা
459


একটি মৃত্যু ও দেড় লাখ টাকার গল্প

ড. তারেক শামসুর রেহমান



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক মারা গেল গত বুধবার ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে মাথায় আঘাত লেগে। মাথায় আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও। কেউ কেউ বলছেন এ আঘাত লেগেছে পুলিশের নিক্ষেপ করা টিয়ারগ্যাসের শেলে। যদিও ডিএমপি অস্বীকার করেছে এ অভিযোগ। আর বৃহস্পতিবার আমরা জানলাম মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবু বকরের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেবে! একজন মেধাবী ছাত্রের জীবনের মূল্য মাত্র দেড় লাখ টাকা। মধুপুরের এক দিনমজুরের সন্তান ছিল আবু বকর। ভূমিহীন রুস্তম আলী, দিনমজুরি আর হকারি করে যার জীবন চলে, চেয়েছিলেন ছেলে আবু বকর তার দুঃখ লাঘব করবে। যে পরিবার বাবার একমাত্র উপার্জনে চলে, সেই পরিবারের সন্তানের সাধারণ উচ্চশিক্ষা আটকে যায়। কৈশোর ও যৌবনেও সংসারের বোঝা টানার জন্য বাবার পাশে এসে দাঁড়াতে হয় সন্তানকে। কিন্তু রুস্তম আলী তা করেননি। ধার-কর্জ করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কজনের সৌভাগ্য হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার? আবু বকর সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে একজন ছিল। ক্লাসে ভালোও ছিল। ছাত্র রাজনীতি অপছন্দ করত। বাড়িতেও যেত না। কারণ, তাতে পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে। এখন লাশ হয়ে বাড়ি গেল। যে বাবা এক হাজার টাকা ধার করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন, ধারের টাকা তিনি শোধও করতে পারেননি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবু বকর সিদ্দিকের লাশের সঙ্গে দেড় লাখ টাকার একটি চেকও দেবে বাবা রুস্তম আলীকে। রুস্তম আলী তার ছেলেকে আর কোনোদিনই ফিরে পাবেন না। এই দেড় লাখ টাকায় একজন মেধাবী ছাত্রের মৃত্যুকে কেনা যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। একই কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। এ ধরনের কথা নতুন নয়। অতীতে যখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ পড়েছে, ভিসিরা একই বক্তব্য দিয়েছেন। একই ধরনের বক্তব্য বার বার ছাপা হয়েছে পত্রপত্রিকায়। তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে একাধিক। এবারও একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে; কিন্তু দিব্যি দিয়েই বলতে পারি এ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কোনোদিনই আলোর মুখ দেখবে না। অতীতেও হয়নি। এবারও হবে না। ভিসি সাহেব বলেছেন দোষীদের শাস্তি দেয়া হবে। আসলেই কি শাস্তি হবে? ছাত্রলীগের এফ রহমান হল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সভাপতিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হল সভাপতিসহ ৮ জন আটক হয়েছে। ১৪ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে; কিন্তু খুনের মামলা কি হয়েছে? যদি খুনের মামলা না হয়ে থাকে, তাহলে তো দোষীদের শাস্তি দেয়া যাবে না। আবু বকরের বন্ধুরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এটা স্বাভাবিক। আবু বকরের ভাই, ভাই হত্যার বিচার চেয়েছেন; কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একজন দিনমজুরের সন্তানের হত্যার বিচার হয় না। এসব দিনমজুর, রুস্তম আলীরা, সমাজের কেউকেটা নন। সমাজের নামি-দামি ব্যক্তি নন। পত্রিকায় তাদের ছবি ছাপা হয় না। তিনি তার সন্তানের হত্যার বিচার চাইতেই পারেন; কিন্তু সেই বিচার কোনোদিনই হবে না। সংবাদকর্মীরা আমাদের জানাচ্ছেন, গেল ৩৮ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪টি লাশ পড়েছে। এর মাঝে মাত্র দুটির বিচার হয়েছে। বাকি ৭২টি হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। আজ তাই আবু বকরের মৃত্যু নিয়ে আমাকে ভাবায়। কেন এই মৃত্যু? স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের দুগ্রুপের বিবাদের জের ধরেই ঘটল এই বিয়োগান্তক ঘটনা। হল কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী এই মৃত্যুর দায়ভার এড়াতে পারেন? না, পারেন না। একজন ছাত্র যখন ক্যাম্পাসে থাকতে শুরু করে, তখন কর্তৃপক্ষই তার অভিভাবক। আমি খুশি হতাম যদি হল কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুর ঘটনায় ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করতেন। তারা তা করেননি। এমনকি ভিসি সাহেবও তার দায়ভার এড়াতে পারেন না। তিনি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সরাসরিভাবে জড়িত। তার কাছে তো তথ্য ছিল ওই হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের। দ্বন্দ্ব মেটাতে তিনি উদ্যোগ নিলেন না কেন? তিনি কি স্বীকার করবেন, এটা তার ব্যর্থতা? রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন ভিসি যখন দায়িত্ব নেন, তার দায়িত্ব কি শুধু ভিসি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা? বুধবার যারা বিবিসির বাংলা বিভাগের অনুষ্ঠান শুনেছেন, তারা আবু বকরের বন্ধুদের অভিযোগগুলো শুনেছেন। বন্ধুরা অভিযোগ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততাকে। তাদের অভিযোগগুলো মিথ্যা ছিল না। এখন ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটিকে। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম এই ১৫ দিনের জন্য। তদন্ত কমিটি যদি তদন্তে কিছু খুঁজে না পায়(?), আমি অবাক হব না। এক সময় মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৭৪টি হত্যাকাণ্ডের মতো, এই হত্যাকাণ্ডকেও ভুলে যাবে। যেদিন আবু বকরের মৃত্যুর খবর ও সাধারণ ছাত্রদের অসন্তোষের খবর পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে, সেদিন জাতীয় সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও ছাপা হয়েছে; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি কথাও বললেন না। আমি প্রত্যাশা করেছিলাম তিনি কথা বলবেন; কিন্তু তিনি বলবেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কোনো বিবৃতি দিলেন না সংসদে। এই হত্যাকাণ্ডকে কি তিনি গুরুত্ব মনে করলেন না? মেধাবী ছিল আবু বকর। হয়তো একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও হতে পারত সে। তার বন্ধুরা তো এমনটাই প্রত্যাশা করেছিল। তাহলে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি গুরুত্ব না পাওয়ায়, আমি শিক্ষক হিসেবে কষ্ট পেয়েছি।

আবু বকরের মৃত্যু আবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল তথাকথিত ছাত্ররাজনীতি নিয়ে ভেবে দেখার সময় এসেছে। যে রাজনীতি মেধাবী জীবন কেড়ে নেয়, সেই রাজনীতি আমরা চাই না। কদিন আগেও ছাত্রদলের সভাপতিকে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পিটিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। (১৯ জানুয়ারি)। অস্ত্রধারী যুবক পাশার ছবি ছেপেছিল সংবাদপত্রগুলোয়। রামদা হাতে পুলিশের পাশে দাঁড়ানো অপর এক যুবকের ছবিও ছাপা হয়েছিল। পুলিশ কি তাকে গ্রেফতার করেছিল? নাকি পুলিশ তাকে প্রোটেকশন দিয়েছিল? ছবি তো কথা বলে। পুলিশ যখন সংঘর্ষ থামাতে(?) তত্পর, তখন তার পাশে একজন সন্ত্রাসী রামদা নিয়ে থাকে কীভাবে? পাঠক, ১৯ জানুয়ারির সমকাল আর ২০ জানুয়ারির আমার দেশ দেখুন। ছাত্রদল সভাপতির মাথায় খুব কাছ থেকে রেঞ্জ দিয়ে আঘাত করছে জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগ কর্মী বরকত (আমার দেশ)। চাপাতি হাতে ছাত্রলীগ কর্মী সাকিব। পেছনে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। তাহলে পুলিশ এদের গ্রেফতার করল না কেন? নাকি উপরের কোনো নির্দেশ ছিল না? এর জবাব সম্ভবত আমরা সবাই জানি। আজ একজন সাধারণ কৃষকের ছেলে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তখন হলে সিট পেতে তাকে সাহায্য নিতে হয় ছাত্র নেতাদের। হল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখানে গৌণ হয়ে যায়। তারপর ওই ছাত্রটিকে বাধ্য করা হয় মিছিলে যোগ দিতে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে মিছিলে যেতে হয়। নাম লেখাতে হয়। এই হচ্ছে ছাত্র রাজনীতি। এই ছাত্র রাজনীতি কি আমরা চাই! যে ছাত্র রাজনীতি একদিন এ দেশের জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি করেছে, আজকের ছাত্র রাজনীতি সেই নেতৃত্ব তৈরি করতে পারছে না। আজ তৈরি করছে পাশার মতো সন্ত্রাসীকে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা চিন্তা করেই ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। সন্ত্রাসনির্ভর যে ছাত্র রাজনীতি, সেই রাজনীতি আমরা চাই না। অস্ত্রবাজ কোনো ছাত্রনেতাকে আমরা চাই না। চাপাতি হাতে যে ছাত্র মিছিল করে, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা উচিত। আমি জানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সে ক্ষমতা নেই। তিনি উপরের নির্দেশ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। নিতে পারবেনও না। আজ তাই লাশ পড়বে। ভিসি সাহেব দুঃখ প্রকাশ করবেন। সিন্ডিকেট নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে। এক সময় আবু বকরের মতো মেধাবী তরুণদের আমরা মনেও রাখব না।

তবুও একটা সময় বোধহয় এসেছে কথা বলার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভবুদ্ধির যেসব শিক্ষক রয়েছেন, তারা কথাগুলো বলতে পারেন। সেমিনার করতে পারেন। এতে করে কিছুটা হলেও জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে। তবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দুটি বড় দলকে। বড় দল দুটো যদি সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তা কখনওই কার্যকর করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্বউদ্যোগে একটি ডায়লগ ওপেন করতে পারেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের যে সংগঠন রয়েছে, সেখানেও বিষয়টি আলোচিত হতে পারে। তারা তথাকথিত ছাত্র রাজনীতি বন্ধে সরকার প্রধানের কাছে কিছু সুপারিশ পেশ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলরও একটি উদ্যোগ নিতে পারেন। আমি লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সেরও ছাত্র রাজনীতি দেখেছি। জার্মানিতে ছাত্র রাজনীতিও আমার দেখা। নিউইয়র্কের বিখ্যাত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও আমি গেছি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিকে আমি মেলাতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে থাকাকালীন সময়ে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা আমরা তৈরি করেছিলাম। সেখানে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য ছিল। এখনকার মঞ্জুরি কমিশন কি তেমনটি ভাবে? আমার মনে হয় না। যে অভিন্ন আইন আমরা তৈরি করেছিলাম, তা সম্ভবত গভীর বরফে ঢাকা পড়ে গেছে। মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের বোধ করি এ ব্যাপারে আগ্রহ কম।

প্রয়াত আবু বকর আমার ছাত্রতুল্য। ছাত্র মানেই তো সন্তান। একজন সন্তান যখন মারা যায়, বাবা সে ভার বইতে পারে না। আবু বকরের মৃত্যু ভারও আমি বইতে পারছি না। আসুন, আমরা সবাই মিলে দোষারোপের রাজনীতি পরিত্যাগ করে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলি। সীমিত সময়ের জন্য ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দিলেও, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তটি নিতে পারেন। তাতে করে রুস্তম আলীর মতো অনেক অভিভাবকের সমর্থন তিনি পাবেন।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষক
ই-মেইল: tsrahmanbd@yahoo.com
[সুত্র,আমারদেশ,০৭/০২/২০১০]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/TarequeShamsurRahman
পাঠকের মন্তব্য:
Vancouver, Canada থেকে Musleh Uddin লিখেছেন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৭:০৯
I believe 95% Bangladeshi have same feeling you did express here in this article. I would like to ask all Public Univ. VC, related Govt. authorities including political policy makers, please read this article and think do something. Please save our education sector. It is sad to see the ranking of Bangladeshi Universities. I did face and still facing hundreds of questions in my co-work place at the University of British Columbia regarding the standard of our education system. Thank you Professor TS Rahman to write a valuable article.
7935
NZ থেকে Abu Mazhar Bowal লিখেছেন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ১২:৩৬
Thank you Dr Rahman for this article. Hope your colleague from the DU will listen to your suggestion & do something to prevent self-destructive current system of student politics. We want student politics like the other universities as you have mentioned in your article to build a prosperous bright future for BD with these students of DU. They are like the stars of the country.
But is this message getting to the heart of ruling party? not at all, when you can see the comment of our home mnister! They are not worried as their children are not studying here in BD institutes. They will not feel it unless one of their own son is lost in this way. The ruling elites are not worried for developing the next generations of this country, not worrying that status of our universities are lost from world ranking as they are worried to build their personal wealth at the expense of the lives other peoples children. Their own children are studying in other countries & definitely will take the citizenship of other country. So why the ruler will hear so much explanation & advice about patriotism from you sir? Or do you think they have any time to sit, read these & think about these issues? Patriotic action is out of question to expect from this headless head of state.
Still we are a hopeful nation, looking forward that this discussion will bring some definite change in the heart of our DU teachers who are the guide of our future generation, it can't go like this.
7943
নবীনগর , বি-বাড়ীয়া থেকে শাহাদাত হুসাইন , সাবেক সভাপতি ইসলামী ছাত্র র্মোচা বাংলাদেশ লিখেছেন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০; বিকেল ০৫:৫৪
ছাত্র রাজনিতীর একটি সোনালী অতীত আছে , দেশের জন্য দশের জন্য , সৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস আছে , ছাত্র রাজনিতীর মধ্যে লুকিয়ে আছে দেশের উজ্জল ভবিষ্যত । আগামী প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ছাত্র রাজনিতী ই হলো একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী করা সম্ভব , তাই ছাত্র রাজনিতী নয় যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত ছাত্রদের হাতে লগি-বৈঠা আর অশ্র তুলে দেয় তাদের রাজনিতী বন্দ করা উচিত ।
7950
America থেকে Arun লিখেছেন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ০৮:৪৯
এ করুন হত্যার আসল দোষী প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তাদের প্রথম বিচার হওয়া উচিত ।
7961
গোপালগন্জ থেকে ফটিক লিখেছেন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১০:৫৮
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মুখে যেকথা শোভা পেয়েছে এতেকরে খুনীদের খারাপ কাজের পরিধি বাড়বে। আমরা এমন বদমন্ত্রীর পদত্যাগ কামনা করি।
7973
USA থেকে হক-কথা লিখেছেন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ০৯:৫৮
লেখার ভাষাটি খুভই করুন। বর্তমান ভিসি-র বা তার দলের যদি সামান্যতম মানিবকতাও যদি থাকে তাহলে তাদের হৃদয় একটু হলেও কাঁদার কথা। কিন্তু তা আছে বলে মনে হচ্ছে না। আমি মনে করি, ছাত্র রাজনীতি নয়, আগে বন্ধ করা উচিত শিক্ষক রাজনীতি। শিক্ষকরা যদি তাদের বিবেক, তাদের মনুষত্য, রুচি বিকিয়ে দেয় যেকোন দলের কাছে সামান্য কিছু সুবিধা লাভের আশায়, তাহলে তাদের কি শিক্ষকতা করার অধিকার থাকে? নিশ্চয় থাকেনা। তাই, এসব শিক্ষকের হয়ত রাজনীতি ছাড়তে হবে নইলে শিক্ষকতা। দু'টা এক সাথে চলতে পারেনা।

ধন্যবাদ।
8051
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
ড. তারেক শামসুর রেহমান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান। অধ্যাপক রেহমান গত দু’দশক ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে তিনি এসব বিষয়ে বেশ ক’টি গ্রন্থও প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রির অধিকারী ড. রেহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তুলনামূলক রাজনীতি তাঁর আরেকটি গবেষণার বিষয়। এ বিষয় নিয়েও তাঁর বেশ ক’টি গ্রন্থ রয়েছে। অধ্যাপনার পাশাপাশি ড. রেহমান নিয়মিত কলাম লিখছেন। প্রায় প্রতিটি জাতীয় দৈনিকে তাঁর কলাম নিয়মিত ছাপা হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরাক যুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক রাজনীতি, গণতন্ত্রের শত্রু-মিত্র, নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব রাজনীতির চালচিত্র, উপআঞ্চলিক জোট, ট্রানজিট ইস্যু ও গ্যাস রফতানি প্রসঙ্গ, বাংলাদেশঃ রাষ্ট্র ও রাজনীতি, বাংলাদেশঃ রাজনীতির ২৫ বছর, বাংলাদেশঃ রাজনীতির চার দশক, গঙ্গার পানি চুক্তিঃ প্রেক্ষিত ও সম্ভাবনা, সোভিয়েত-বালাদেশ সম্পর্ক, বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর ইত্যাদি। ড. রেহমান তাঁর গবেষণার কাজে পৃথিবীর অনেক দেশ সফর করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আইভিপি ফেলো।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2010. E-mail: editor@sonarbangladesh.com.