বৃহস্পতিবার, ২৫ ভাদ্র ১৪১৭; ০১ শাওয়াল ১৪৩১; ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০২:৩২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
গৃহকর্মী প্রসঙ্গ : কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (০৮/০২/২০১০)
মাদ্রাসাশিক্ষার প্রেক্ষাপট (৩১/০১/২০১০)
আজকের প্রজন্ম নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন (২৮/০১/২০১০)
মুসলিম মেয়েদের শিক্ষাঃ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (২৩/০১/২০১০)
তথ্য মন্ত্রণালয় ও টিভি কর্তৃপক্ষের প্রতি কিছু নিবেদন (১৯/০১/২০১০)
ধর্মীয় দল নিষিদ্ধ করার অসঙ্গত চিন্তা (০৭/০১/২০১০)
দারিদ্র্য বিমোচনে ওয়াকফ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগ জাকাত ও ওশরের ভূমিকা (১৬/০৯/২০০৮)
My Essays on Socio Political and Islamic Issues (১৬/০৬/২০০৮)
আগের লেখা
362


গৃহকর্মী প্রসঙ্গ : কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

শাহ আবদুল হান্নান

আমি নিজে ঘরে কাজ করিনি, বিভিন্ন অফিসে কাজ করেছি। কিন্তু যারা ঘরে কাজ করেন তাদের কথা আমি জানি এবং তাদের সমস্যা খুব কাছে থেকেই দেখেছি।
ঘরে যারা কাজ করেন, তারা দুই ধরনের। এক গ্রুপে আছেন আমাদের মা, বোন ও স্ত্রীদের একটি অংশ। বাইরে আমরা যারা কাজ বা সার্ভিস করি, তাদের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেন এবং সময় দেন তারা। ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে তাদের কাজের সাধারণভাবে পূর্ণ মূল্যায়ন করা হয় না। এমনকি অনেকে মনে করেন, তারা বেকার। তাদের কাজের মূল্য আসলে অনেক। তাদের ঘর পরিচালনার কাজ, তাদের সন্তানদের মানুষ করার কাজ, তাদের রান্নাবান্নার কাজ ইত্যাদির মূল্য যোগ করলে তার পরিমাণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বামীর বেতনের চেয়ে অধিক হবে। কিন্তু এ বিষয়ে আলোচনা করা আজ আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি তাদের বিষয় আলোচনা করতে চাই, যারা বিভিন্ন গৃহে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে থাকে। একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করি যা আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি।
এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাসায় এক মহিলা কাজ করেন। তিনি সম্মানিত কৃষক পরিবারের কন্যা। অল্প বয়সে তার পিতা মারা যান। পরে আর্থিক দৈন্যের কারণে সাহেবের বাসায় কাজ গ্রহণ করেন। তার বয়স চল্লিশ। কিন্তু বাসার ছেলেমেয়েরা তাকে তুমি বলে, ‘বুয়া’ বলে। বুয়া শব্দটির উৎপত্তি যা-ই হোক না কেন, বর্তমানে তা তুচ্ছার্থেই ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে বাসায় যারা কাজ করেন, তাদের বেশির ভাগই কিশোরী বা মোটামুটি বয়স্ক নারী। তাদের বেশির ভাগই গ্রামের কৃষক সমাজ থেকে এসেছেন অথবা যারা কোনো কারণে ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন তাদের পরিবারের অংশ। কৃষক সমাজ আমাদের দেশে সবচেয়ে সৎ সমাজ। তাদের মধ্যে অনীতি ও দুর্নীতি সবচেয়ে কম। কৃষক পরিবার থেকে আগতা এ সব মহিলার বা গার্হস্খ্য কর্মচারীর পদের নাম ‘বুয়া’ বা এ ধরনের কেন হবে? এটাও তো একটা কাজ (জব) যা ঘরে করা হয়। এটা একটা সার্ভিস, বাইরের সার্ভিসের মতোই। কেন তাদের নাম গৃহ ম্যানেজার বা ম্যানেজার বা সহকারী ম্যানেজার হতে পারে না? রাসূল সা:-এর এ ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গী কী ছিল? তিনি তো তাদের ‘আমার কন্যা’ বা (ছেলে হলে) ‘আমার পুত্র’ বলতেন। এর আলোকে দেখলে আজকে যাদের ‘গৃহভৃত্য’ মনে করা হচ্ছে, তাদের পদবির পরিবর্তন দরকার; যেমন আমি আগে উল্লেখ করেছি।
তাদের বেতন, কাজের সময়, ছুটি, সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে অনেক কথা আছে। আইনে তাদের নিরাপত্তাব্যবস্খা খুবই কম। এসব দিকে সবাইকেই নজর দিতে হবে। অসম্ভব কিছু নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপই নিতে হবে।
লেখক : সাবেক সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
[সূত্রঃ নয়া দিগন্ত ০৮/০২/২০১০]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShahAbulHannan
পাঠকের মন্তব্য:
রিয়াদ , সৌদীঅারব থেকে ইকবাল লিখেছেন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১০; দুপুর ১২:০৪
মোহতারাম, অাপনাকে ধন্যবাদ । অাপনী একজন ভাল মানুষ , ভাল লেখক, ভাল সচিব, ভাল চিন্তাশীল, ভাল ইসলামী স্কলার ।
অােরা লেখবেন।
7994
বাংলাদেশ থেকে বোকালোক লিখেছেন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১০:১৯
লেখক লিখেছেন:
"এটা একটা সার্ভিস, বাইরের সার্ভিসের মতোই। কেন তাদের নাম গৃহ ম্যানেজার বা ম্যানেজার বা সহকারী ম্যানেজার হতে পারে না? রাসূল সা:-এর এ ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গী কী ছিল? তিনি তো তাদের ‘আমার কন্যা’ বা (ছেলে হলে) ‘আমার পুত্র’ বলতেন। এর আলোকে দেখলে আজকে যাদের ‘গৃহভৃত্য’ মনে করা হচ্ছে, তাদের পদবির পরিবর্তন দরকার; যেমন আমি আগে উল্লেখ করেছি।"

আমার খুব জানার ইচ্ছা:
লেখকের বাসায় কোন গৃহকর্মী আছে কিনা?
থাকলে, সেই গৃহকর্মীর পদবীর কি নাম?
গৃহকর্মীর কাজের সময় কি নির্ধারিত?

নির্ধারিত সময়ের বেশী কাজ করলে কি সে যথাযথভাবে ক্ষতিপুরিত (compensated)?
তার সাথে কি কোন লিখিত/মৌখিক চুক্তি আছে যেটা সে বুঝতে পেরেছে?
সে যখন (নির্ধারিত সময় অন্তর) ছুটিতে বেড়াতে যায়, তখন কি অর্জিত উপার্জন সংগে নিয়ে যেতে পারে?

সে কি বাসার সবার সাথে ভোজন টেবিল/পাটিতে তার আহার সমাধা করতে পারে?
বাসার যে (বাসী অথবা অনাকাংখিত) খাবার কেউ খেতে চায়না, সেটা কি তাকে খেতে দেয়া হয়?

তাকে কি অন্যের ব্যবহৃত পরিধেয় বা অন্য কিছু ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়?
ঈদ উপলক্ষে কি তাকে (চুক্তি অনুযায়ী) যথাসময়ে বোনাস প্রদান করা হয়?

তার কাজের ভুলের জন্য কি তার গায়ে হাত তোলা হয়?
সে কি তার পছন্দের লোকের সাথে গোপনে ফোনে কথা বলতে পারে?

এবং ..................
8127
পৃথিবী থেকে আফলাতা লিখেছেন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১১:৪৭
ধন্যবাদ। "বুয়া" ডাকটি যে তুচ্ছার্থে তা জানা ছিল না। তাহলে "মরিয়মের মা" ডাকেই বোধকরি ফেরত যেতে হবে।
8130
USA থেকে হক-কথা লিখেছেন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১০; রাত ১২:৩৪
মিস আফলাতা,

মরিয়মের মা ও কিন্তু আপনি তুচ্ছার্থে ব্যবহার করেছেন। আসল কথা হল আপনি বুয়া ডাকেন বা অন্য নামে ডাকেন কিছু যায় আসেনা, আপনে তাদের কিভাবে treat করছেন সেইটাই ব্যপার।

ধন্যবাদ।
8131
পৃথিবী থেকে আফলাতা লিখেছেন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৫:৩৫
হক কথা,

কিভাবে treat করছেন সেইটাই ব্যপার - একদম সত্যি কথা। তবে উপরের আর্টিকেলে "বুয়া" ডাকটির সমালোচনা করা হয়েছে বলে লিখেছিলাম যে পুরোনো সম্বোধন "মরিয়মের মা" ডাকেই ফেরত যেতে হবে।

"মরিয়মের মা" ডাকটি তুচ্ছার্থে হলে "আবু হানিফা" সহ একগাদা নাম যে সন্তানের পরিচয়ে রয়েছে, তার কি হবে?
8134
Canada থেকে Roksana লিখেছেন, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১০; সকাল ০৬:৪১
@আফলাতা
আসলে আমাদের উচিত 'বুয়া' না ডেকে খালা, আপা ইত্যাদি নামে ডাকা উচিত যাতে করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটা সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টির হয়।
@বোকালোক
বোকালোকের সাথে কথা বলাটা যুক্তিযুক্ত হবে কি?
তারপরও বলি, কিছু লোকের অভ্যাসই হলো এমন যে, যদি অন্য কেউ ভালো কথা বলে সেটা সহ্য করতে পারেন না। সেটা থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে, বক্তা বা লেখককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে আনন্দ পায় এবং অন্যদেরকেও অনুপ্রানিত হতে বাধা দেয়। লেখক ভালো কথা বলে যদি না পালন করেন সেটার জন্য লেখক আল্লাহ্‌র কাছে জবাবদিহি করবেন। কিন্তু আমাদের তো ভালো কিছু শিখতে বাধা নেই! বরং কি করলে আরো ভালো কিছু করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করলে, নিজের, পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক তথা সমগ্র মানবজাতির উন্নয়ন সম্ভব। আসুন ভালো কাজ করি, ভালো কিছু করতে উৎসাহ প্রদান করি, ইনশাল্লাহ্‌ আমরা সফল হবো।
9092
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2010. E-mail: editor@sonarbangladesh.com.