পৃথিবীর সবচেয়ে সহিংস সীমান্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত!!!
এ. বি. এম. আল-আমীন
গতকাল ছিল বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ-এর বর্বরতার চুড়ান্ত নিদর্শন কিশোরী ফেলানীর মৃত্যু বার্ষিকী। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশীদের মৃত্যু যেন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে আজ। ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারী কুঁড়িগ্রাম সীমান্ত পাড় হতে গিয়ে বিএসএফ-এর হাতে ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীর মৃত্যুর পর দু‘দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে ফ্লাগ মিটিং, পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক, ভারতীয় পরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির পরও থেমে থাকেনি সীমান্তে বেসামরিক বাংলাদেশীদের হত্যা। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতর হয়ে উঠছে দিন দিন। ফেলানী হত্যা থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাটুকুও গ্রহণ করতে পারছিনা আমরা। প্রতিবেশী সম্পর্কে আমরা কেবলমাত্র মূল্যায়ন, আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমেই কালাতিপাত করছি। কাজের কাজ কিছুই করতে পারছি বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী কোন কাজ করবে না মর্মে বার বার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও একের পর এক বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করছে ভারত। তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি মত বাংলাদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি সেদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত খোড়া অজুহাতে বাস্তবায়ন না করে পিছিয়ে দিয়েছে। ছিটমহল হস্তান্তর বিষয়ক কার্যক্রম কেবলমাত্র ভারতীয়দের নীচু স্বার্থপরতা এবং একগুয়েমির কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বাংলাদেশী ছিটমহল ভারতীয়দের বুঝিয়ে দিলেও ভারতীয়রা বাংলাদেশকে তার ন্যায্য ও প্রাপ্য ছিটমহল বুঝিয়ে দিতে নানা বাহানা দেখাচ্ছে। টিপাইমূখ বাধঁ নির্মাণ নিয়ে ভারতীয়রা প্রশাসনের বক্তব্য এবং কার্যক্রম ঠিক বিপরীতমূখী। যা ভারতীয় আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। এতে ভারতীয় প্রশাসনের বক্তব্যের বিশ্বাস যোগ্যতা এবং সদিচ্ছার ব্যাপারে দেখা দিয়েছে বিরাট প্রশ্ন।
গত বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়টি বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর মতে বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস সীমান্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। রিপোর্টে বলা হয়েছে “এখনো কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সহিংস সীমান্ত। ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সীমান্তও হয়তো এতো সহিংস নয়।”
আর এই সহিংসতা ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিকটু এবং একপক্ষীয়। যা সংঘটিত হয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক। গতকাল বিবিসি বাংলা মানবাধিকার সংগঠন অধিকার কর্তৃক শনিবার প্রকাশিত রিপোর্টের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, “২০১১ সালে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ ৩১ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে, ফলে এটি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সহিংস সীমান্ত হিসেবে রয়ে গেছে।” বিবিসির রিপোর্টিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সাবেক একজন প্রধান ভারতীয় প্রতিশ্রুতির আন্তরিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এই রিপোর্টটি কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে পার হতে গিয়ে কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়ার পর বিএসএফ-এর গুলিতে কিশোরী ফেলানীর মৃত্যুর ঘটনার প্রথম বার্ষিকীর দিনে প্রকাশ করলো। যার মৃতদেহ ঐ কাটাতারে বেড়ায় দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রাখার ছবি বাংলাদেশীসহ বিশ্ববাসীকে হতবাক এবং ব্যথিত করেছিল। এতকিছুর পরও এই সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়াকে একটি ভয়াবহ ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান। তিনি তার রিপোর্টে বলেন, তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী একটি দেশে হত্যা করার সুযোগ ভারতীয় বিএসএফ যেভাবে পেয়ে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ দৃঢ় না হওয়ার কারণেই এটি এখনো চলছে।
অধিকারের হিসেবে, ২০১১ সালে বিএসএফ-এর হাতে ৩১ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। ২০০৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৮, আর ২০১০ সালে ৭৪ জন।
অদ্য প্রকাশিত বিবিসি বাংলার রিপোর্টে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সাবেক প্রধান আজিজুর রহমান খান বলেন, হয়তো এটি খুব শোভনীয় হবে না যদি আমি বলি, তাঁরা সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেন, তা পালন করার জন্যে নয়। কারণ, সর্বোচ্চ পর্যায় যদি অধীনস্থ একটি বাহিনীকে হুকুম দেয় কিংবা আদেশ বা নির্দেশ দেয়, সেটি তারা মানবে না, এটা ধরে নেয়া অসম্ভব।
ভারতের সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হত্যা বন্ধে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা রাখেনি। ভবিষ্যতেও তারা তাদের কথা রাখবে এমন কোন সুখ স্বপ্নও দেখার সুযোগও খুব কম। তার কারণ, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শীতার অভাব। শুধু বর্তমান সরকার নয়, আগের সরকারগুলোর ভূমিকাও একই রকম দুর্বল ছিল।
এই দুর্বলতা আমাদের কত দিন বয়ে বেড়াতে হবে? আমরা কি যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের সীমান্তবর্তী ভাই-বোনকে যাতে ফেলানীর মত কাঁটা তারে ঝুলে থাকতে না হয় সেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি না?
করোনেশন রোড, মোমেনশাহী থেকে আব্দুল্লাহ তাসনীম লিখেছেন,
১৫ জানুয়ারি ২০১২; রাত ১১:৫২
ভারত সরকারের আচরণ নি:সন্দেহে বাংলাদেশের জন্য শত্রুভাবাপন্ন। এখানে রাখ ঢাকের কিছু নেই। তাই, নিজ দেশের স্বার্থ বিকিয়ে আজ যারা ভারতের জন্য নগ্নভাবে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে, আমাদের উচিৎ এদেরকে চিহ্নিত করে রাখা। পরবর্তীতে তালিকা করে এদেরকে দেশদ্রোহের অপরাধে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।
আমার মনে হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখন ব্যাপক জনমত তৈরীর কোন বিকল্প নেই। কারণ, দেশপ্রেমিক মুসলিম জনতার ঐক্যই কেবল এখন দেশের শেষ অবলম্বন।
76362
২
বুয়েট,ঢাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিক লিখেছেন,
১৭ জানুয়ারি ২০১২; সকাল ১১:২৬
শিক্ষক মহোদয়,
আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ। তিন বছর যে হিসাব দেওয়া হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে আস্তে আস্তে হত্যা কমে আসছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান দিতেপারলে আমরা বুঝতাম স্বাধীনতা এনে দিয়ে ভারত কত মানুয়ের রক্ত নিয়েছে। ফারাকার বাধ হয়েছিল পাকিস্তান আমলে কিন্তু চালু করেছে শেখ মজিব সরকারের আমলে। অর্থাৎ দেশ স্বাধীন করে দিয়ে ভারত আমাদের উপর সিমান্ত নিয়ে পানি নিয়ে কি তালবাহানা করে আসছে।গত ৪০বছর ধরে দেখে আসছি। আর কত কি করবে ভারত।বাংলাদেশের সরকার এব্যাপারে কিছু করার সাহাস পাচ্ছেনা। এখন আমরা যারা মাসিদের বাড়ীর কাছে বসবাস করি আমাদের সচেতন না হলে এই রক্ত ঝড়তে থাকবে। সুতরাং বর্ডার এলাকায় এমন একটি দল থাকা প্রয়োজন যারা মানুষকে সাবধান করবে। যাতে মাসির দেশের লোক আমাদের রক্ত আর পান করতে না পারে। বর্ডার এলাকার কিছু সংখ্যক লোক এই কাজে নিয়োগ করা দরকার যাহাতে আমার দেশের লোক মাসিদের দিকে চোখ তুলে না তাকায়। বর্ডার এলাকার লোকদের বুঝাতে হবে ধনি হওয়ার দরকার কি সম্পদ দিয়ে কি হবে ইত্যাদি। আমার মনে হয় বর্ডার এলাকার লোক নৌকায় ভোট প্রদান করেনা। যদি সারা বাংলাদেশের লোক এমনটি হত হয়তবা মাসিদের সমর্থক দল সরকার গছন করতে পারতনা আর এভাবে দেশের সাধারণ মানুয়ের রক্ত দিতে হত না। সবাই ভাল থাকুন।
76494
৩
ইউ এ ই থেকে "" বিপ্লব "" লিখেছেন,
১৭ জানুয়ারি ২০১২; দুপুর ০১:১৫
ভারত সবচেয়ে হিংস্র বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে। কারণ ভারত ঝোপ বুঝে কোপ দেয়।
76502
৪
cyprus থেকে yakub khan লিখেছেন,
২০ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০২:৩২
one day india will eat(like tiger) us.
76750
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
আমার মনে হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখন ব্যাপক জনমত তৈরীর কোন বিকল্প নেই। কারণ, দেশপ্রেমিক মুসলিম জনতার ঐক্যই কেবল এখন দেশের শেষ অবলম্বন।