বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (Racism) : ইউরোপে বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপে মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি অনেকই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। ইউরোপের কিছু দেশে কিছু পার্টি রয়েছে তারা মুসলমানদের অস্তিত্ব সহ্য করতে পারে না। এর মধ্যে ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি), বেলজিয়াম ফেমিস ব্লক, ডেনমার্কের পিপলস পার্টি, ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্র্ন্ট, ইতালির নর্দান লিগ এবং সুইজারল্যান্ডের পিপলস পার্টি উল্লেখযোগ্য। তাদের প্রচারণায় ইউরোপের কিছু কিছু দেশে কিছু মানুষ চরমভাবে মুসলিমবিদ্বেষী হয়ে উঠেছে।
অতি সম্প্রতি MacGregor নামক জনৈক স্কটিশ Strathclyde Police এর নিকট ইমেইল করে জানায়, I'm a proud racist and National Front member. We as an organisation have decided to deal with the current threat from Muslims in our own British way, like our proud ancestors. Our demands are very small. Close all mosques in Scotland. If our demands aren't met by next Friday, we'll kidnap one Muslim and execute him or her on the internet, just like they did to our Ken Bigley."
‘আমি একজন গর্বিত বর্ণবাদী ও ন্যাশনাল ফ্রন্টের সদস্য। সংগঠন হিসেবে আমরা আমাদের নিজস্ব ব্রিটিশ পদ্ধতিতে মুসলমানদের সমস্যা মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেমনটি করেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা। আমাদের দাবি খুব সামান্য। স্কটল্যান্ডের সব মসজিদগুলো বন্ধ করো। যদি আগামী শুক্রবার নাগাদ আমাদের দাবি মানা না হয় তবে আমরা একজন একজন করে মুসলমানদের অপহরণ করবো এবং তাদের হত্যার দৃশ্য ইন্টারনেটে প্রচার করবো। যেমনটি তারা করেছিল কেন বিগলির ক্ষেত্রে।’
উপরিউক্ত উদাহরণ থেকে বুঝা যায় ইউরোপে বর্ণবাদী আচরণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের বর্ণবাদী তৎপরতার কারণে মুসলমানদের একটি অংশ শঙ্কিত এবং আরেকটি অংশ অহেতুক হয়রানির কারণে ক্ষুব্ধ। আর একটি অংশ তাঁদের বক্তব্য ও বিবৃতিতে মুসলমানদেরকেই বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের জন্য আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। তাঁরা বাস্তব সত্য তুলে ধরার সৎ সাহস রাখেন না। আর মুসলমানদের একটি অংশ আপসকামী হয়ে পড়ছেন। এমনকি ইসলামী পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁরা এমন বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা শুরু করেছেন যে, কেউ কেউ ইসলামের অন্যতম পরিভাষা জিহাদ শব্দটি উচ্চারণ করতেও ভয় পায়। অথচ ইতিহাস থেকে প্রমাণিত যে, ইসলাম কোন কালেই সন্ত্রাসকে লালন করেনি বা প্রশ্রয় দেয়নি। মানব সমাজ থেকে যুলুম নিপাত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়েই ইসলামে জিহাদ অনুমোদিত।
ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ: ইউরোপের কিছু দেশে সরকারি বা ব্যক্তিগতভাবে পরিকল্পিতভাবে ইসলামের বিরোধিতা করা হচ্ছে; তারা একজন মুসলমানের ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টা করছে, যা ইউরোপের মৌলিক মূল্যবোধ পরিপন্থী। এই সম্পর্কে আমি নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ পেশ করছি :
ক. নিকাব ও হিজাব নিষিদ্ধ করা : ইউরোপের কয়েকটি দেশে মুসলিম মহিলারা হিজাব ও নিক্বাব পরিধান করতে পারবে কিনা তা বড় ধরনের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্সে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয় এবং বোরকা পরার অপরাধে একজন মুসলিম মহিলাকে নাগরিকত্ব প্রদানে ফ্রান্স সরকার অস্বীকার করে। এছাড়া গত এপ্রিল ২০১০ সালে নিকাব পরে গাড়ি চালানোর দায়ে এক ফরাসি মুসলিম নারীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ফ্রান্স সরকার। ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় নানটেসা শহরের ওই মুসলিম মহিলাকে ২৯ ডলার জরিমানা করেছে ফ্রান্স ট্রাফিক পুলিশ। ২০১০ সালের মে মাসে জনসমাগমস্থলে নিক্বাব নিষিদ্ধ করতে ফ্রান্সের মন্ত্রিসভা আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। নতুন বিলে বলা হয়েছে যে, কোন মহিলাকে মুখমণ্ডল ঢাকতে বা নিকাব পরিধানে বাধ্য করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাকে এক বছর জেল এবং ১৮ হাজার ৫৫৫ ডলার জরিমানা করা হবে। ফ্রান্স স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে ফ্রান্সে বসবাসরত ৫০ লাখ মুসলিমের মধ্যে এক হাজার নয়শত মহিলা নিক্বাব পরিধান করে, যা সংখ্যায় পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই প্রসঙ্গে ফ্রান্স ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলির স্পিকার বার্নার্ড অ্যাকারেরো বলেন, ’নিক্বাব এবং বোরকা পরিধানের অনেক নেতিবাচক যোগসূত্রতা রয়েছে। এটা নারীদের প্রতি নিপীড়ন এবং ধর্মান্ধ চরম পন্থার প্রতীক। এটা নারী-পুরুষের সমতা ও সহাবস্থানকে অস্বীকার করে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে ফ্রান্স সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও তারা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করছে।
২০১০ সালের জুন মাসে স্পেনের বার্সেলোনা শহরে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়। ক্যাথলিক অধ্যুষিত স্পেনের বড় কোন শহরে এই প্রথম এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বার্সেলোনা পৌর সরকার এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে যে, জনসমাগম হয় এমন সব স্থানে নিক্বাব ও বোরকার মত মানুষের পরিচয় আড়াল করে রাখা যে কোন পোশাক নিষিদ্ধ হবে।” বার্সেলোনা হচ্ছে স্পেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। অষ্টম থেকে পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত স্পেনের অনেক এলাকা ইসলামী শাসনের অধীন ছিল। ২০০৯ সালে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুসারে দেশটিতে ১৪ লাখ মুসলমান বসবাস করে, যা মোট জনসংখ্যার তিন শতাংশ।
বিগত ১লা জুলাই ২০০৯ সালে মিশর বংশোদ্ভূত মারওয়া শিরবিনী নামক একজন মুসলিম মহিলা হিজাব পরিধান করার কারণে জার্মানিতে হত্যার শিকার হন। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত জনৈক জার্মান নাগরিক তাকে ১৮ বার আঘাত করে হত্যা করে। উক্ত ঘটনা ঘটে জার্মানির একটি আদালতের ভেতর। এর মাধ্যমে পরিষ্কার যে, ইউরোপের কিছু মানুষ ইসলামকে আদৌ সহ্য করতে পারে না। তবে এই জন্য জার্মান সরকারকে দায়ী করা যায় না। অবশ্য পুলিশের কতিপয় অফিসারের ভূমিকা প্রশ্নবোধক ছিল। তারা খুনিকে গ্রেফতার করার পরিবর্তে নিহত মারওয়া শিবরানীর স্বামীকে হয়রানি করে বলে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। পাশ্চাত্যের কিছু কিছু দেশে হিজাব নিষিদ্ধ করার পেছনে মৌলিক কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হচ্ছে: ১. এটা কোন কোন দেশের সেক্যুলার ভ্যালু পরিপন্থী ২. দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজনে শরীর আবৃত না থাকা দরকার।
উপরিউক্ত দুটি কারণ পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট যে, হিজাব পরিধান করা বা না করার সাথে কোন দেশের সেক্যুলার ভ্যালু নষ্ট হওয়ার বিষয়টি সম্পৃক্ত নয়। কারণ একজন মুসলিম মহিলা হিজাব পরিধান করেও সেক্যুলার ভ্যালু (তথা সকলের ধর্ম সকলে যেন পালন করতে পারে) পোষণ করতে পারেন। পাশ্চাত্যের কেউ কেউ হিজাবকে মহিলাদের অধিকারপরিপন্থী মনে করেন। অথচ হিজাব পুরুষদের দ্বারা তাদের মহিলাদেরকে দমিয়ে রাখার কোন বিষয় নয় বরং এটা হচ্ছে একটি ধর্মীয় অবশ্যই পালনীয় বিধান। যা সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মহিলা পালন করে থাকেন। হিজাব মুসলিম মহিলারা জেনে বুঝে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেন।
হিজাব নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া ইউরোপের কিছু দেশে চলছে এর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড জনমত সৃষ্টি করতে হবে। এই জন্য মুসলিম ও অমুসলিম বিভিন্ন সংগঠন এক সাথে ক্যাম্পেইন করতে পারে। ইউরোপের বিভিন্ন ভাষাতে হিজাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রবন্ধ লেখা, লিফলেট ও বুকলেট প্রকাশ করা যেতে পারে। বিভিন্ন ইন্টার ফেইথ ডায়ালগে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। এই ইস্যুতে পক্ষেবিপক্ষে যে সব প্রচারণা চলে সে সব রেকর্ড সংরক্ষণ করা দরকার।
খ. জার্মান আদালত কর্তৃক নামাজের অনুমতি প্রদান না করা : ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার সুযোগ পাবার অধিকার ইউরোপের সকল নাগরিকের জন্য স্বীকৃত হলেও বিগত মে ২০১০ সালে জার্মান আদালতে নামাজের অনুমতি পায়নি জনৈক শিক্ষার্থী। ইতঃপূর্বে জার্মানির একটি আদালত ওই শিক্ষার্থীকে দিনে একবার নামাজের অনুমতি দিলেও আপিল আদালত তা থেকে সরে আসে। আদালত জানায় নামাজ আদায়ের ফলে স্কুলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে স্কুলের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর ধর্ম পালনের অধিকারের চেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
গ. ডেনমার্কে আল্লাহর রাসূল (স.) কে ব্যঙ্গ করে একাধিকবার কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে। ডাচ এম.পি Geer Wilders কুরআন ও বোরকা নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানায়। তিনি ইসলামকে টেরোরিজমের সাথে সম্পৃক্ত করে বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করে মুসলমানদের সম্পর্কে ঘৃণাবোধ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
ঘ. নেদারল্যান্ড থেকে ২৬ হাজার অভিবাসীকে বিতাড়ন করা হয়েছে। এই ভাবে কোথাও কোথাও মুসলমানদের জন্য কিছুটা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত কোথাও কোথাও সহনশীলতার অভাব রয়েছে। মুসলিম কৃষ্টি-কালচার-এর বিস্তার ঘটুক তা তারা আদৌ সহ্য করতে পারেন না।
ঙ. অতি সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গণভোটে মসজিদে মিনার নির্মাণের বিপক্ষে রায় প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলমানদের ইবাদতের স্থান মসজিদের অবকাঠামোর অপরিহার্য অঙ্গ মিনার নির্মাণকে সুইজারল্যান্ড বিতর্কের বিষয়ে পরিণত করেছে। মসজিদের স্থাপত্য ইসলামের ইতিহাসের শুরু থেকেই মিনার নির্মাণ চলে আসছে এবং মসজিদের মিনার ইসলামের ধর্মীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় প্রতীকের বিরুদ্ধাচরণ এবং এর নির্মাণে বাধাদান শুধু দুঃখজনক নয়, জাতিসংঘ স্বীকৃত ধর্মীয় অধিকার ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো গীর্জার মিনার সদৃশ ক্রুশ নির্মাণকে কোন মুসলমান বা মুসলিম দেশই বাধা দেয় না। মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া নির্মাণে কখনো আপত্তি করা বা বাধা দেওয়া হয় না। ইহুদীদের সিনাগগ এবং বৌদ্ধদের প্যাগোডাও তাদের স্বরীতিতে বর্তমান। শুধু মুসলমানদের মসজিদের মিনার নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ মানসিকতা ও আচরণ চরম বৈষম্যমূলক এবং মুসলমানদের প্রতি বৈরিতার প্রকাশ। আমার বিশ্বাস, ইউরোপের চিন্তাশীল নাগরিকগণ এই ধরনের বৈরী আচরণ সমর্থন করে না।
চ. ইউরোপের কিছু দেশে Anti terrorism strategy -এর নামে মুসলিম তরুণদেরকে তাদের গোয়েন্দা হিসেবে রিক্রুট করার চেষ্টা করছে। গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, ব্রিটেনে নয় বছর বয়সী এক কিশোরকে Spy হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ছ. ইস্ট লন্ডনের Popular and Canning Town এরিয়ার এমপি ঔরস Jim Fitzpatric 2009 সালের আগস্ট মাসে লন্ডন মুসলিম সেন্টারে একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক উপস্থিত হন। বর পরে পক্ষ থেকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত পৃথক রুমে এম.পি পত্নীকে বসার অনুরোধ করা হলে তাঁরা উভয়ই ক্ষুব্ধ হয়ে বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে চলে যান এবং মিডিয়াতে লন্ডন মুসলিম সেন্টার ও মুসলিম কালচার সম্পর্কে বিষোদগার করে বক্তব্য দেন। অথচ তাকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনৈক ভোটারই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আর মুসলিম সংস্কৃতি অনুসারেই উক্ত বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একজন এম.পি কর্তৃক এই ধরনের আচরণ শুধু নিন্দিতই নয় তা ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী। কেননা ব্রিটেনে সকল ধর্মাবলম্বীর নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালনের সুযোগ স্বীকৃত।
জ. ইতালিতে একজন মুসলিম মহিলাকে প্রাদেশিক অফিসের পরিচ্ছন্নতার কাজ করা থেকে বাদ দেওয়া হয়। উক্ত মুসলিম মহিলাকে সিকিউরিটির জন্য হুমকিস্বরূপ আখ্যা দেওয়া হয়। নর্দান লিগ দলীয় প্রধান Alessandro Savoi এর পক্ষ থেকে কাউন্সিল চেয়ারম্যান Giovanni Kessler এর কাছে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘‘ÔÔGet these Islamists out of our offices; there is sensitive information on our desks and they can put their hands on anything (Muslim post 18/01/2010) এই সব ইসলামপন্থীদের আমাদের অফিসগুলো থেকে বের করে দেওয়া হোক। আমাদের ডেস্কগুলোতে অনেক নাজুক তথ্যাদি রয়েছে এবং সেগুলো তাদের হাতে পড়ে যেতে পারে। (মুসলিম পোস্ট ১৮/১০/২০১০)
ডিসেম্বর ২০০৬ সালে European Monitoring Centre on Racism and Xenophobia কর্তৃক প্রকাশিত এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, Muslims were suffering physical attacks, verbal taunts and widespread discrimination as Islamophobia took a grip across Europe. Muslims experience various levels of discrimination and marginalisation in employment, education and housing and are vulnerable to manifestations of prejudice and hatred in the form of anything from verbal threats through to physical attacks on people and property." Muslim post 18/01/2010
ঝ. এয়ারপোর্টে হয়রানি: বিগত কয়েক বছর থেকে ইউরোপ-আমেরিকার এয়ারপোর্টগুলোতে হয়রানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত মুসলমানদের প্রতি তীর্যক দৃষ্টিতে দেখা হয়। ইউকেতে মাঝে মধ্যে Body scanners এমনভাবে করা হয় যাতে একজন Naked image display করা হয়। অতিসম্প্রতি দুইজন ব্রিটিশ মুসলিম মহিলা স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় কারণে এইভাবে স্কেন করতে অস্বীকার করায় তাদেরকে ফাইটে যেতে দেওয়া হয়নি (In accordance with the government directive on scanners, they were not permitted to fly).
উক্ত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে Alex Deane বলেন, ‘‘People should n't have to sacrifice their health, their faith, their dignity, or their privacy in order to fly (islamonline.net & newspapers)
ঙ. বিগত ১৫ জুন ২০১০ লন্ডনের বাংলাদেশী অধ্যুষিত হোয়াইট চ্যাপেল টিউব স্টেশনের পাশে ইংলিশ ডিফেন্স লিগ (ইডিএল) এর কিছু কর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। ইডিএল কর্মীরা মুসলিমবিরোধী ঘৃণিত লিফলেট বিতরণ করে। তারা কয়েকটি মুসলিম দোকানে হামলা চালায় এবং মুসলিম মেয়েদের উপর থুথ-নিক্ষেপ ও উসকানিমূলক গালাগালি করে। তারা একজন বাংলাদেশী যুবককে “পাকি’’ বলে গালি দেয় এবং ঘুষি মেরে ফেলে দেয়। ইডিএল কর্মীদের এই ধরনের বর্ণবাদী হামলার বিরুদ্ধে ইস্ট লন্ডনের সকল ফেইথ গ্রুপের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করে। ইউনাইটেড ইস্ট এন্ড এর ব্যানারে ফ্যাসিবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ইউনাইটেড ইস্ট এন্ড ঘোষণা করে যে ফ্যাসিবাদীদের সাথে কোন আপস নয়। এদের নাম, গায়ের রং এবং চেহারা যাই হোক না কেন তারা এই কমিউনিটির ভালো চায় না। এরা আজ মসজিদ ভাঙতে নেমেছে, কাল মন্দির ভাঙতে নামবে। ইউনাইটেড এগেইনস্ট ফ্যাসিইজম, টাওয়ার হেমলেটস ইন্টার ফেইথ ফোরাম, দি লন্ডন কমিউনিটিজ অর্গানাইজেশন, টাওয়ার হেমলেটস কাউন্সিল অব মস্ক, বাংলাদেশ ইয়থ মুভমেন্ট, কমিউনিটি এগেইনস্ট এলকোহল এন্ড ড্রাগ এবিউজ, ইস্ট লন্ডন টিচার্স এসোসিয়েশান, ইস্ট লন্ডন মসজিদ, ইসলামিক ফোরাম অব ইউরোপ, ওসমানী ট্রাস্ট প্রভৃতি সংগঠন এই ধরনের ফ্যাসিবাদী তৎপরতার নিন্দা জানায়।
ট. ইউরোপের কিছু দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত মুসলিম কিছু স্কলারকে উক্ত দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যেমন ব্রিটেনে ইতঃপূর্বে ড. ইউসুফ আল কারযাভীকে আসতে বাধা দেয়। অতি সম্প্রতি ড. জাকির নায়েকের নির্ধারিত ইসলামী অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য তাকে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্রিটেনের হোম অফিস। এইভাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামী স্কলারদেরকে আসতে বাধা দেওয়ার ফলে তরুণদের মাঝে সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ ড. কারযাভী ও জাকির নায়েকের মত স্কলাররা মুসলমানদেরকে ইসলামী আদর্শ অনুসারে ইউরোপের সমাজ ও সভ্যতায় অবদান রাখার জন্যই অনুপ্রাণিত করেন।
ঠ. সন্দেহজনকভাবে মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জঙ্গি তৎপরতার সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অতি সম্প্রতি ইসলামিক শাইখা Extremist Hizbut Tahrir এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালিয়ে চ্যারিটি কমিশন নিশ্চিত হয় যে, The Islamic Shaykha Foundation no longer had any links with extremist group Hizbut Tahrir, and that its teaching was not influenced by the controversial group, the charity commission concluded... The Muslim Weekly, Friday 11 June 2010
এইভাবে মুসলিম কিছু চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত জঙ্গি তৎপরতায় পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ আনা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মুসলিম এইডসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি এইভাবে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়। অথচ এইসকল প্রতিষ্ঠান চ্যারিটিমূলক তৎপরতার চালিয়ে মানবতার সেবায় নিবেদিত।
জ. সরকারের সন্দেহজনক তালিকায় কিছু মসজিদ : ব্রিটেনের কিছু মসজিদ সরকারের সন্দেহজনক তালিকায় রয়েছে। সরকার এই সকল মসজিদের সকল তৎপরতা মনিটরিং করছে। বিগত ১১ই জুন ২০১০ সালে দি মুসলিম উইকলি পত্রিকায় বার্মিংহামের একাধিক মসজিদ সম্পর্কে নিম্মোক্ত খবর প্রকাশিত হয়, Muslims in two areas of Birmingham have been targeted by counter terrorism police through the use of hundreds of surveillance cameras to track the precise movements of people entering and leaving the neighborhoods...
বার্মিংহামের দুটি এলাকার মুসলমানরা সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। এজন্য শত শত পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এলকার মানুষদের চলাচল নখদর্পণে রাখার নিমিত্তে।
ঝ. কিছু কারাগারে মুসলিম বন্দীদের সাথে টেরোরিস্ট-এর মত আচরণ করা হচ্ছে: অতি সম্প্রতি Chief Inspector of Prisons for England and Wales মন্তব্য করেন যে, ‘Muslim inmates could be driven towards extremism because of the way they are treated by jail staff...prison staff tended to treat Muslims as a homogenous group and that few prisoners spoke of prison wardens ability to understand and engage with them’
জেলখানার কর্মচারীরা মুসলিম বন্দীদের সাথে যে দুর্বব্যবহার করে সে কারণে তারা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। কারা কর্মচারীরা মুসলমানদের একটি সমসত্ত্ব দল হিসেবে দেখে থাকে। কিছু কয়েদি অভিযোগ করেছে যে কারা কর্মচারীরা তাদের সাথে ঠিক মতো সম্পর্ক স্থাপনও করতে পারে না।
উপরিউক্ত কয়েকটি উদাহরণ থেকে এটা পরিষ্কার যে, ইউরোপের কিছু দেশে সরাসরি সরকারের পক্ষ থেকে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। আর কিছু কিছু দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক সংহতি বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব অনেকেরই বিদ্যমান। ইসলামভীতি গোটা ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় মুসলমানরা শারীরিক আক্রমণ, কটূক্তি এবং ব্যাপকভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মুসলমানরা শিক্ষা, চাকরি, বাসস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে অহমিকা এবং ঘৃণার কারণে তারা কটূক্তি, জীবন ও সম্পদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমি মনে করি, ইউরোপকে সুন্দরভাবে গড়তে হলে সকল ধর্মাবলম্বীর মাঝে সামাজিক সংহতি রক্ষার জন্য সকলকে আন্তরিক হতে হবে। এই ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হচ্ছে কিছু তরুণ মুসলমান তারা মুসলমানদের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন করছে। এই সম্পর্কে Remona Aly, campaign director of the Exploring Islam Foundation মন্তব্য করে বলেন, ‘‘We are a group of young Muslim professionals and a lot of us have given our time voluntarily because we are very concerned about the way our faith is perceived by the public. We want to foster a greater understanding of what British Muslims are about and our contribution to British society. We are proud of being British and being Muslim’’
আমরা একদল তরুণ মুসলিম পেশাজীবী। অনেকেই স্বেচ্ছসেবী হিসেবে কাজ করছে। জনমনে আমাদের ধর্ম সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা ব্রিটিশ মুসলিম এবং সমাজে তাদের অবদান সম্পর্কে বৃহত্তর সচেতনতা তৈরি করতে চাই। আমরা ব্রিটিশ এবং মুসলিম হতে পেরে গর্বিত।
চলবে.......... |
May Allah give us the realization.
For their wrong propaganda,Even Bangladesh which is 2nd largest muslim country actual practicing graveyard muslim some times call razakar,jongi etc.its the creation of media....So we should make learn to the others & realize the importance of strong media.