বৃহস্পতিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৭ মে ২০১২; রাত ১১:০২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

রক্তে রাঙা পতাকা

এ কে আজাদ

একটা ছেলে চোখের পাতায় স্বপ্ন কেবল আঁকতো
পাখির মত ডানা যদি সেই ছেলেটির থাকতো!
একটা ছেলে সারাটাক্ষণ গাঁও গেরামে ছুটতো
আহা যদি ফুল হয়ে সে রোজ সকালে ফুটতো!

ভাবনা মনে - স্বপ্ন যে তার ক্যাম্‌নে হবে সত্যি?
চারপাশে তার ঘুরছে যে হায় পাক হানাদার দত্যি!
হঠাৎ একদিন রাতের বেলা দৈত্যরা সব এলো
বাবার বুকের টক্‌টকে লাল রক্ত চুষে খেলো।
সেই ছেলেটা উঠলো জ্বলে অগ্নিগিরির মত
রাইফেল হাতে করলো খতম খান সেনাদের শত।

তারপরে তার খোঁজ মেলেনি দীর্ঘ নয়টি মাস ধরে।
মা কেঁদে কন - দোহাই তোদের, বল্ না তোরা খাস করে -
কোথায় গেলো সোনা মানিক, কোথায় আমার টিয়ে?
বুকের ভেতর কল্‌জে ছাড়া বাঁচব রে কী নিয়ে!

লক্ষ মায়ের বুকের ব্যথা ছেলের বুকে জ্বলে
এমন সময় ঘরের কোণে থাকলে কি আর চলে?
তাই তো সোনা ফিরে নি আর মায়ের শীতল কোলে
দেশের তরে প্রাণ পাখি তার ঐ আকাশে দোলে।
অবশেষে খবর এলো- নদীর পাড়ে ডাঙা
সোনার রক্তে সবুজ ঘাসে হয়েছে লাল রাঙা।

সেই ঘাসেতে ছেয়ে গেলো সারা বাংলার মাটি
লক্ষ সোনার রক্তদানে এদেশ হলো খাঁটি।
দৈত্যরা সব লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলো শেষে
ডিসেম্বরে বিজয় এলো রক্ত রবির বেশে।
রক্তগুলো বৃত্তাকারে রইলো ঘাসের বুকে
সেই রক্তই পতাকাতে আজও আছে লুকে।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AKAzad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
হারা, রিয়াদ, সৌদি আরব। থেকে মামুনুর রশীদ লিখেছেন, ১৮ ডিসেম্বর ২০১১; বিকেল ০৪:১১
অত্যন্ত চমৎকার লিখেছেন, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
73917
বগুড়া, বাংলাদেশ থেকে ৃএ কে আজাদ (০০৮৮-০১৯১১ ৬২১৮৩২) লিখেছেন, ১৮ ডিসেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:৩১
ধন্যবাদ মামুনুর রশীদ
73931
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
এ কে আজাদ
সনদপত্রীয় নামঃ আবুল কালাম আজাদ
মাতাঃ উম্মে কুলসুম, পিতাঃ ইয়াকুব আলী, জন্মঃ ২৮ নভেম্বর, ১৯৭৮ ।
জন্মস্থানঃ নাটোর জেলার সিংড়া থানাধীন ১নং শুকাস ইউনিয়নের ধাপকুড়াইল (কুড়িপাকিয়া) গ্রাম।
শিক্ষাঃ ইংরেজী সাহিত্যে বি এ (অনার্স) এম এ।
পেশাঃ ব্যাংকার।
নেশাঃ লেখালেখি। কবিতা, ছড়া, গান, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ ইত্যাদি।
ব্যক্তিগত জীবনঃ ২০০২ সালের ২৩ আগস্ট তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নূর-ই-জান্নাত বিপার সাথে। এক মেয়ে কুররাতুল আইন জিশান (০৩-০৩-২০০৪) এবং এক ছেলে হাসানুল আজাদ আল্ ক্বারীব (১৪-০৭-২০০৭) এর জনক তিনি।
প্রকাশিত সাহিত্য কর্মঃ
মায়ের আঁচল গাঁয়ের ছায়া (কিশোর কাব্য- ২০০৯), মৃত্যু তোমাকেই বলছি (কবিতা - ২০১০), তুই কি আমার দুঃখ হবি (কবিতা - ২০১০), দমের ঘুড়ি [গানের সিডি (লিরিক্স)-২০১০], ছড়ামাইট [ছড়া (যৌথ) - ২০১০)] ।
পুরষ্কারঃ রকি সাহিত্য পুরষ্কার - ২০১০।
এ কে আজাদ ভেতরে বাহিরে একজন কবি। প্রকৃতি ও মানুষের কবি, প্রেম ও দ্রোহের কবি, পুষ্প ও প্রণয়ের কবি। দেশপ্রেমের আকুল আবেগে ফেঁপে ওঠা একজন কবি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বৃহৎ জনগোষ্ঠির বিশ্বাসের ধারক সিদ্ধহস্ত এক মায়াবী গীতিকার। এদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত তিনি রেখে চলেছেন তার সুদক্ষ হাতের আঁচড়।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy