বৃহস্পতিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৭ মে ২০১২; রাত ১১:০৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাঃ ভাবতে হবে এখনই

এ.এন.এম. আরিফুর রহমান

বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২০০টির মত স্বাধীন সার্বভৌম দেশ আছে এবং সেগুলোর ভিতরে বেশিরভাগ দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে এবং নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই নির্বাচন হয়। নির্বাচনের ফলাফলে সে বিষয়টি কোন ভূমিকা রাখেনা। কোন বিতর্ক থাকেও না। কিন্তু আমরা বাংলাদেশি জনগন একেবারেই একজন অন্যজনকে বিশ্বাস করতে পারি না। এমনতর পরিস্থিতিতে ৫ম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের সাংসদ আপসহীন দাবী ও ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদের মাত্র ৩৭দিনের মেয়াদে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরাজিত দল প্রত্যাখ্যান করেন। অনুরূপভাবে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও পরাজিত দল প্রত্যাখ্যান করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্কালীন প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে একেবারে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলে। পরিবর্তীতে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতি প্রাক্কালে কিছু অতি বাস্তব বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে কিভাবে প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু তারপরও কেন এই বিতর্ক সে বিষয়ে একটু আলোপাত করা প্রয়োজন। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর জাতি আশা করেছিল পরমত সহিষ্ণুতার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় জীবনে গনতন্ত্র চর্চা ব্যাপক আকার ধারন করবে। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং হচ্ছে। সৎ, ন্যায় নীতিবান, যোগ্য দেশ প্রেমিক বিচারপতি হিসেবে ১৯৯০ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন (সাবেক রাষ্ট্রপতি) সাহেবের উপর প্রধান দুই দলই আস্থা রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকেও অতিঅবমাননা কর অবস্থাও বাক্য বানে জর্জরিত করা হয়েছে। এই সাবেক রাষ্ট্রপতি সংবিধানের সংশোধনের মাধ্যমে স্বপদে ফিরে দায়িত্ব পালন করেন। তখন যাদেরকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাতে জনমানুষ খুব খুশি না হলেও হালকা প্রতিবাদ ছিল। পরবর্তী সরকার একধাপ এগিয়ে দলীয় বিবেচনায় বিচারপতি নিয়োগ শুরু করেন। এরপর ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তত্কালীন সরকার তা আরো বাড়িয়ে পরিপূর্ণ দলীয় বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্ট-এর বিচারপতি নিয়োগ দেন, এমনকি তাঁদের অবসর গ্রহনের বয়সসীমা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। যা দৃষ্টিকটুতার সর্বশর্তই পূরণ করে। ফলে দেখা যাচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শর্তপূরণ বা আঙ্খাকা কোন ভাবেই রক্ষিত হচ্ছে না। বিষয়টা অনেকটা এরকম “রোপন করছি কলা গাছ আর ফল পেতে চাচ্ছি আম”। এহেন পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে কনসেপ্ট তাও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ফলে সংবিধানের এ অনুচ্ছেদগুলো কার্যকর হবে বা নতুন কোন প্রন্থা খোঁজতে হবে তা ভাবতে হবে এখনই অন্যথায় ২০০৭-এর পূনরাবৃত্তি অবধারিত। আমাদের দেশ নিয়ে বিদেশীদের চক্রান্তের কোন শেষ নেই। ২০০৬-এর শেষের দিকে কিছু ঘটনার দিকে দৃষ্টিপাত করলে তা অবধারিত ভাবেই চোখে পড়ে। তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যারিন এ্যান পিটার্স বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে যে বলেছিলেন “নির্বাচন কিভাবে সম্ভব, ভোটার লিস্টে ১৩% ভূয়া ভোটার” এবং খালেদা জিয়ার কাছে বলেছিলেন, “নির্বচন অবশ্যই সংবিধান সম্মত নব্বই দিনের মধ্যেই হতে হবে।” সুস্থ মস্তিসকের মানুষ মাত্রই এগুলোর যথার্থতা অনুধাবন করতে পারেন। কিন্তু এর পরপরই মধ্যবর্তী সরকার (ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে) যখন ক্ষমতা গ্রহন করলেন তখন তারা সবাই নিরব থাকলেন এবং তাদের কাজকে সাধুবাদ জানালেন। তাই আমাদের দেশ নিয়ে আমাদেরকেই ভাবতে হবে, নিতে হবে দীর্ঘ পরিকল্পনা, ছিন্ন করতে যে কোন চক্রান্ত। ৯ম জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হবে ২০১৩ সালে যে প্রশ্নগুলো ২০০৬ নির্বাচনের প্রাক্কালে ছিল তা ঐ সময় থাকবে। সুতরাং সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই আমরা কিভাবে তা মোকাবেলা করব-আবার লোগি-বৈঠা-হত্যা অথবা জরুরী অবস্থা বা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন? দেশের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য অর্থনৈতিক উন্নতির চাকা সচল রাখার জন্য স্থিতিশীলতা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। সুতরাং বর্তমান সরকারের হাজারও প্রতিশ্রুতির পাশে অত্যন্ত সন্তর্পনে আরো একটা চ্যালেঞ্জ রয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা উত্তরনের জন্য কিছু কাজ করা যেতে পারে। যেমনঃ ১• বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা পরিপূর্ণভাবে প্রধান বিচারপতির উপর ন্যাস্ত করা। ২• প্রধানমন্ত্রীর অনুস্বাক্ষরের বিধান রহিত করা। ৩• নুন্যতম দলীয় আচ বা জার্সি পরিহিত ব্যক্তিবর্গকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া। ৪• উঠতি তরুণ আইনজীবি ও বিচারকদের দক্ষতা প্রদর্শনের স্বার্থে গ্রহনযোগ্য ও বিবেচনা সম্মত পদক্ষেপ নেওয়া-যা বিচারাঙ্গনে পেশাজীবিদের সিন্ডিকেট ভাংতে সাহায্য করবে। বর্তমান সরকার যদি এই বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধী দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা অব্যর্থ ভাবেই কার্যকর হবে এবং কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবে। অন্যথায় আমাদের অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়বে এবং ভয়াভহ বিপদ ডেকে আনবে যা চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাবের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হবে, উন্নয়নের খেই হারিয়ে আমাদের জাতি সম্মুখীন হবে ভয়াবহ বিপদের, টুটি চেপে ধরবে নানা বিধ সমস্যা, ভিত গাড়ঁবে বিদেশী চেলা-চামন্ডদের দীর্ঘ মেয়াদী চক্রান্ত লেখকঃ লেকচারার, স্ট্যমফোর্ড ইউনিভর্সিটি, ঢাকা, ই-মেইলঃ arifpaul@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ANMArifurRahman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy