|
“প্রবাসীদের নিয়ে আমার শেষ লেখা ও একটি কালো রাত”
আব্দুল আজিজ মীর |
|
প্রবাসী বাংলাদেশী, বিশেষ বরে সৌদি আরবে বসবাসকারীদের নিয়ে আমার লেখা শুরু নব্বইয়ের প্রথম দিকে, যা শুরু করেছিলাম দুটো সাপ্তাহিকের প্রবাসীদের নিয়ে জঘন্য অপবাদের প্রতিবাদ স্বরূপ। যা আমার লেখা “সৌদি আরবে বাংলাদেশী প্রবাসীদের অসহায় আর্তনাদ- ১৩” লেখা আছে। বাংলাদেশী প্রবাসীদের সমস্যার সূত্রপাত ২০০৫ এর শেষের দিকে শুরু হয়, যা কিছু প্রবাসীদের কৃতকর্মের ফল ছিল তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সমস্যার চরম আকার ধারণ করে ২০০৭ এর শেষের দিকে।
তখন থেকেই সাধারণ সৌদি সমাজ আমাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখতে থাকে এবং ২০০৮ এর প্রথম থেকেই মিডিয়া আমাদের বিপক্ষে চলে যায়। অবশ্য আমাদের কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এখানেই যে মুষ্ঠিমেয় লোকের অপকর্মের জন্য পুরো প্রবাসী বাংলাদেশীদের অপরাধের গ্লানি সহ্য করতে হয় বা প্রায়শ্চিত্ত দিতে হচ্ছে।
সৌদি আরবে বর্তমানে প্রচুর পত্র পত্রিকা আছে। যা আরবীতে প্রকাশিত হয় এবং দুটো ইংরেজী পত্রিকা আছে একটি আরব নিউজ অন্যটি সউদি গেজেট। প্রকাশনার দিক থেকে দুটোই সমপর্যায়ের ও জনপ্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত ও ক্ষমতাবান ধনকুবেরদের প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়। যাহারা নামকরা আরবী দৈনিকেরও প্রকাশক। আমার পুরানো লেখা বা মন্তব্য পড়লে তাহাদের সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। ২০০৮ এ যখন গণমাধ্যমের কিছু সৌদি ও বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানী সাংবাদিক যাহারা ঐ দুটো ইংরেজী দৈনিকে কর্মরত, তাহারা বাংলাদেশের একটু খারাপ সংবাদ পেলে তিলকে তাল করে রং চং দিয়ে মিথ্যাকে সত্য ও ফুলিয়ে ফাপিয়ে রসাইয়া রসাইয়া পর্যায়ক্রমে লিখছিল।
তখন আমরা মোটা চামড়ার অধিকারী শিক্ষিত কমিউনিটি নেতা দাবিদার ও আমাদের প্রবাসে সরকারী মুরব্বীদের গায়ে লাগতে ছিল না। আমাদের বিপক্ষে সমালোচনা এমন নিচু পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যা চোর চোট্টা, ডাকাত, মদখোর লুচ্চা এমনকি পরে আমাদের জাতিকে অসভ্য বর্বর লিখতেও গণমাধ্যম কার্পণ্য করেনি। বিনা প্রতিবাদে যা হয় আর কি। আমাদের দু এক জনের গায়ের চামড়া বোধহয় একটু কম মোটা ছিল বলে ২০০৮ এর প্রথম দিকে সৌদি গেজেট ও আরব নিউজে প্রতিবাদ পাঠাই, যাতে আমি জঘন্য ঐতিহাসিক নাইন ইলেভেনের (৯/১১) খোট্টা দিয়ে সোদি গণমাধ্যমকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম যে দু-চার জন বা কিছু খারাপ লোকের জন্য পুরো দেশ বা সমাজকে যেমন দায়ি করা যায়না তেমনি দায়ি করাও সঠিক না। মি. মেজবাউদ্দিন জওহার ভাই ও যৌক্তিক কিন্তু নিষ্ঠুর সত্য যুক্তি দিয়ে আমাদের পক্ষে লিখেন। আমাদের লেখা সৌদি গেজেট ও আরব নিউজ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছিল। উল্লেখ্য যে এই দুটো পত্রিকায় কোন বাংলাদেশী সাংবাদিক নেই। দুজন ফটো সাংবাদিক আছেন।
তারপর ইতিহাসে অর্থ্যাৎ ২০০৮ এর পর থেকে আমাদের মত কিছু বাংলাদেশী এমন কি সৌদি সহ কিছু বিদেশীরা আমাদের পক্ষে লিখেছেন। তাছাড়া সোনার বাংলাদেশ অনলাইন ম্যাগাজিনে আমার ধারাবাহিক লেখা “সৌদি আরবে বাংলাদেশী প্রবাসীদের অসহায় আর্তনাদ” লেখা দিয়ে কতটুকু সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি বা আমাদের কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের সমস্যা তুলে ধরতে পেরেছি তাও ইতিহাস বলবে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সৌদি আরবে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছি তাতে সন্দেহ নাই। যার প্রমাণ শত শত শিক্ষিত লোক তাহাদের মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের সরকারের ভুল বা করণীয় দেখিয়ে দিয়েছেন বা আমার লেখার উৎসাহ যুগিয়েছেন।
আমার লেখার কিছুটা আলোড়ন বাংলাদেশেও হয়েছে যার প্রমাণ কিছু পত্রিকা আমার লেখা প্রকাশের আগ্রহ দেখিয়েছে। এমনকি বহুল প্রচারিত ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকা তাহাদের বিদেশ প্রতিনিধি করার আগ্রহ দেখিয়ে ইমেইল করেছিল মি. ম. আবদুল্লাহ।
আমি সাদরে তা গ্রহণ করেছি। মাঝে মধ্যে লেখা পাঠাবো বলে কথা দিয়েছি এবং আমার কয়েকটি লেখা ইতিমধ্যে প্রকাশ করে প্রবাসীদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। এমন কি মানবজমিন. দি ডেইলি স্টার, প্রথম আলো আমার প্রবাসীদের নিয়ে মন্তব্য লেখা প্রকাশ করে প্রবাসীদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে অনলাইন ম্যাগাজিন “সোনার বাংলাদেশ ডট কম” তাহারা সৌদি প্রবাসীদের লেখা সবচেয়ে বেশী প্রচার করে ইতিমধ্যেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
আমি এরই মধ্যে অনেক চেষ্টা করে সৌদি গেজেটের সাথে তাহাদের অতিথি সাংবাদিক অর্থাৎ Guest Reporter হিসাবে আমাদের কমিউনিটি সংবাদ প্রকাশ করার অনুমতি পেয়েছিলাম এবং প্রকাশ করতেও ছিলাম। অর্থাৎ আমাদের ভাল দিক বা সফলতা তুলে ধরা বা কোনো মিথ্যা অপবাদ দিলে তাহার প্রতিবাদ করা। আমি স্বার্থক হচ্ছিলাম।
২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রদূত মি. সহিদুল ইসলামের কর্মতৎপরতা বিশেষ করে আকামা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা প্রশংসনীয় ছিল বা চেষ্টার কোনো প্রকার ত্রুটি ছিল না। আমি লেখালেখির সুবাদে এই সমস্ত তৎপরতা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। যার শেষ সুফল প্রবাসীরা পেতে যাচ্ছিলো মাননীয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জি. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তির অধুনা সফরের মাধ্যমে। সেই সফরের সংবাদ সৌদি গেজেট গত ৩/৩/১২ তাং শনিবার বিশেষ ভাবে অর্থাৎ কোয়ার্টার পাতায় আমার দেওয়া সংবাদ প্রতিবেদন আকারে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করে। আমার লেখার একটি সাধারণ শ্লোগান ছিল “আমরা সবাই এক একজন ক্ষুদে রাষ্ট্রদূত ও আমাদের পতাকা বহন করছি। আর একটি বিষয় গুরুত্ব দিতাম তা সৌদি আরবের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকবো বা থাকা উচিত কারণ তাহারা প্রায় ২০ লক্ষ প্রবাসীর কর্মের ব্যবস্থা করেছেন এবং আমাদের জাতীয় সমস্যায় প্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধাভাজন না থাকলে আমরা বেঈমান জাতি হিসাবে বিবেচিত হবো।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় গত ৫/৩/১২ সোমবার রাত অর্থাৎ ৬/৩/১২ মঙ্গলবার সকালে আমরা জাতি হিসাবে ঐ স্থান থেকে সিটকে পড়েছি। আমরা মরহুম জনাব খালাফ বিন মোহাম্মদ আল সালেম আল আলীর এই নিষ্ঠুর, নির্মম হত্যাকান্ডের তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। তাহার শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা ক্ষমা চাইছি “হে বীর তুমি যে পথকে একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ও নিজের ভাইসুলভ মনে করে রাতের অন্ধকারে দীর্ঘায়ুর জন্য, শরীর চর্চা করতে বের হতা। তোমার সেই দীর্ঘায়ু জীবন রক্ষা করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা তোমার নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আমাদেরকে ক্ষমা করে দিও। যদিও আমরা জাতি হিসাবে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছি। এই জঘন্য অপরাধের বিচার না করতে পারলে জাতি হিসাবে এই কলঙ্ক আমরা বয়ে যাবো”।
আমি তোমার পবিত্র দেশ সৌদি আরবে বসে আর কোনো দিন আমাদের জাতি বা আমাদের প্রবাসীদের পক্ষ ধরে আর লিখবো না। অন্তত যতদিন তোমার এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার না হয়। আর সেই সৎ সাহস ও নৈতিকতা আমার নেই। তুমি ইরান-ইরাকের আট বছরের যুদ্ধে বা কুয়েত-ইরাকের যুদ্ধে বা বর্তমানে ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধে লিবিয়া সিরিয়ার যুদ্ধে জাতিসংঘের জেনেভা আন্তর্জাতিক আইনে হত্যার শিকার হওনি বা হবে না কারণ তুমি দুতাবাসের কর্মকর্তা। কিন্তু জানিনা আন্তর্জাতিক কোন্ চক্রান্তের শিকার তুমি হয়েছো। যা ইতিমধ্যে তোমার এলাকার দেশ বরেণ্য ও দেশ পরিচালকগণ সন্দেহ করেছেন।
হয়তোবা আমরা গরীব দেশ, যার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটা অত্যাধুনিক নয়, তাই ঐ চক্র আমাদের দেশকে ব্যবহার করেছে। বা বর্তমানে আমাদের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি সৌদি কর্তৃপক্ষের থেকে পাওয়ার পর সমস্যা আরো বাড়িয়ে এর ফায়দা অন্য কোনো দেশ নিতে, তাদের বলির শিকার তুমি ও আমাদের দেশ, বা অন্য কিছু, মহান আল্লাহ সব জানেন।
তবুও আমাদের সরকারের দায়িত্ব এই নির্মম হত্যাকান্ডের অমানুষদের আইনের আওতায় আনা, তাই সরকারের কাছে অনুরোধ, দয়া করে এই নিষ্ঠুর নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার করবেন।
আমাদের টেকনোলজিতে ব্যর্থ হলে সৌদি আরব বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নিয়ে এই বিচার করে, জাতিকে দায়মুক্ত করবেন।
পরিশেষে আবার শোকার্ত পরিবারের প্রতি সহানুভুতি ও তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি, আল্লাহ যেন তোমাকে বেহেশ্ত নসীব করেন। তোমার আত্মার প্রতি সশ্রদ্ধ সম্মান জানিয়ে অন্তত তোমার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি আমাদের দেশ ও প্রবাসীদের গুণ কীর্তন করে তোমার এই পবিত্র দেশে লিখবো না। এটা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/AbdulAzizMir |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|
Therefore we have to concern our voice in favour of his soul. You should direct us, please
Do not forget your noble duty towards the Bangladeshi expats in KSA.
We all pray for him and his families and try our best to write in the media like journalist couple Sagar & Runi, then we can expect for some things positive result.