বৃহস্পতিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৭ মে ২০১২; রাত ১১:০৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
সোহেল তাজ-নাটকের যবনিকাপাত কবে? (১৫/০৫/২০১২)
বাংলাদেশে প্রণব বাবুর প্রমোদভ্রমণ (?) (১৪/০৫/২০১২)
হিলারি ঢাকা থেকে কলকাতায় ছুটে গেলেন কেন? (১২/০৫/২০১২)
কেন এসেছিলেন হিলারি-প্রণব (০৮/০৫/২০১২)
ইউনূস সাহেবকে সার্চ কমিটির প্রধানের পদে বসাতে হবে কেন? (০৩/০৪/২০১২)
ত্রিভুজ রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি (০২/০৪/২০১২)
পশ্চিমা গণতন্ত্র এখন কত টাকায় বিক্রি হয়? (৩১/০৩/২০১২)
বহু শতাব্দীর আক্রান্ত স্বাধীনতা নিয়ে কিছু কথা (২৬/০৩/২০১২)
বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন (১৭/০৩/২০১২)
দেশের সব দুর্ভোগের জন্য কি রাজনীতিকরাই দায়ী? (১৩/০৩/২০১২)
বিএনপির কর্মসূচি আওয়ামী লীগ সরকারই সফল করে দিল (১৩/০৩/২০১২)
গোলাম আযম কি ভাষাসৈনিক ছিলেন? (১০/০৩/২০১২)
৭ মার্চ : ৪১ বছর আগে ও পরে (০৭/০৩/২০১২)
ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ, তার কাছে কিছু সবিনয় নিবেদন (২) (০৬/০৩/২০১২)
ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ, তিনি চক্রীদের ফাঁদে পা দেননি (০৫/০৩/২০১২)
সরকারের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা আস্থার সংকট (০৩/০৩/২০১২)
প্রধানমন্ত্রীর একটি অসতর্ক উক্তি এবং তার প্রতিক্রিয়া (২৮/০২/২০১২)
ফয়েজ, তুই যা আমিও আসছি (২২/০২/২০১২)
বিলাতে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি’ কম্যুনিটির অভ্যুদয় (২০/০২/২০১২)
ছেলের হাতের মোয়াও চাইলেই পাওয়া যায় না (০৭/০২/২০১২)
সেনা অভ্যুত্থানের পর গণ-অভ্যুত্থানের চক্রান্ত, কোনোটাই সফল হচ্ছে না (৩১/০১/২০১২)
কালো বুশ সাহেব কি ইরানের ওপর হামলা করবেনই? (২৮/০১/২০১২)
বাংলাদেশে ব্যর্থ ক্যু এবং পাকিস্তানে 'সফট ক্যু' (২৬/০১/২০১২)
ঢাকায় ব্যর্থ অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টা এবং ‘দিল্লির দাদাদের’ প্রতিক্রিয়া (২৩/০১/২০১২)
আবার ক্যু-চক্রান্ত, আবার একজন মেজর জিয়া? (২১/০১/২০১২)
‘প্রতিবেশী শত্রু হলেও তার ঘরপোড়া আলু খেতে নেই’ (১৬/০১/২০১২)
প্রদীপের নিচে অন্ধকার জমে উঠছে (১৪/০১/২০১২)
বঙ্গবন্ধুর দেশে ফেরা নিয়ে কিছু স্মৃতিকথা (১০/০১/২০১২)
বিএনপি-রাজনীতির গতিপ্রকৃতি (০৯/০১/২০১২)
একে একে তিনটি দুর্গের পতন :তারপর? (০৭/০১/২০১২)
আগের লেখা
1547


সোহেল তাজ-নাটকের যবনিকাপাত কবে?

আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী

আমি যতদূর জানি, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুজনেই নাটক দেখতে ভালোবাসেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত শেখ হাসিনা বর্তমানে তাঁর শত ব্যস্ততার জন্য হয়তো নাটক দেখার তেমন সময় আর পান না। কিন্তু ছোট বোন শেখ রেহানা সময় ও সুযোগ পেলেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে নাটক দেখেন বলে শুনেছি। গত ৭ ও ৮ মে লন্ডনে শেকসপিয়রের গ্লোব থিয়েটারে নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর পরিচালনায় তাঁর দ্বারা রূপান্তরিত টেমপেস্ট নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। এই নাটকের সম্পূর্ণ রূপান্তর এবং যাত্রার ঢংয়ে নব আঙ্গিকে তাঁর পরিবেশনা বিস্ময়বিমুগ্ধ দর্শকরা উপভোগ করেছেন। দর্শকদের মধ্যে সাদা দর্শকের সংখ্যাও ছিল অগণিত। তাদের হাততালিতেও মুখরিত ছিল প্রেক্ষাগৃহ।

৭ তারিখে শেখ রেহানা এই নাটক দেখতে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর দুই কন্যা- টিউলিপ ও রূপন্তি। এই নাটক দেখে শেখ রেহানা বিস্ময়ে বিমুগ্ধ হয়েছেন এবং একটি দারুণ মন্তব্য করেছেন বলে শুনেছি। তিনি বলেছেন, 'নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর মতো আমাদের দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভা দিয়ে বহির্বিশ্বে জাতীয় মর্যাদা সমুচ্চ করে তোলেন। কিন্তু রাজনীতিকরা সেটা মাটিতে মিশিয়ে দেন।' আমি নিজের কানে কথাটা শুনিনি। কিন্তু এমন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবরটা পেয়েছি, যাতে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, মন্তব্যটি শেখ রেহানারই। এমন একটি মন্তব্যের জন্য শেখ রেহানাকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

এবার আসি আসল কথায়। নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর টেমপেস্ট অবশ্যই দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশ ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মান উন্নত করেছে, যে উন্নতি নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। কিন্তু দেশের ভেতরে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা দিনের পর দিন যে রাজনৈতিক নাটকের মহড়া দিয়ে চলেছেন, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়োগান্ত ও মর্মান্তিক এবং যা দেশটির মুখে ক্রমাগত কালিমা লেপে দিচ্ছে।
কত নাটকের কথা বলব! সাম্প্রতিক দুটি প্রধান নাটকের কথাই বলি। একটি ইলিয়াস আলী অন্তর্ধান বা অপহরণ রহস্য-নাটক এবং অন্যটি সোহেল তাজ পদত্যাগ-নাটক। প্রথমটি ট্র্যাজিক এবং দ্বিতীয়টি এখন পর্যন্ত কমিক নাটক। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতানেত্রীরা নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর চেয়েও কত বড় নাট্যকার, এই দুটি ট্র্যাজিক ও কমিক নাটক তার প্রমাণ। ইলিয়াস আলী অপহরণের রহস্য-নাটক নিয়ে আমি একাধিক লেখা লিখেছি। আজ সোহেল তাজ ড্রামা নিয়ে কিছু লিখতে চাই।

সোহেল তাজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বদানকারী প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র। সম্ভবত তাঁর পুত্র হওয়াটাই সোহেলের ভাগ্যকে ক্রমাগত বিড়ম্বিত করে তুলেছে। তাজউদ্দীন আহমদকে আমি গ্রিক ট্রাজেডির একজন বাঙালি হিরো মনে করি। কোনো দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যিনি প্রধান নেতা, তাঁর প্রায় সমমর্যাদার দ্বিতীয় নেতার ভাগ্যে পরবর্তীকালে কী ঘটে, তা আমরা ইতিহাসে দেখেছি। নব্য তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনোয়ার পাশাকে মাথা তুলতে দেননি। নব্য তুরস্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনোয়ার পাশা গুরুত্ব হারান। ইন্দোনেশিয়া স্বাধীন হওয়ার পর বাংকার্নো বা সুকর্নের সহযোগী সুলতান শাহরিয়ারের পরিণতির কথা আমরা জানি।

বাংলাদেশের তাজউদ্দীনের ভাগ্যের সবচেয়ে কাছাকাছি উদাহরণ আলজেরিয়ার মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় প্রধান নেতা খালেদ আব্বাস। এই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতা বেন বেল্লা স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরুতেই বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর মতো ফরাসিদের দ্বারা আটক ও কারাবন্দি হন। দেশটি স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে 'মারদেকা' বা স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন খালেদ আব্বাস এবং তাঁর নেতৃত্বেই প্রবাসী স্বাধীন আলজেরিয়া সরকার (মুজিবনগর সরকারের মতো) গঠিত হয়। বেন বেল্লার প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য বজায় রেখে খালেদ আব্বাস ছয় বছর যাবত এই সরকারের নেতৃত্ব দেন।

তারপর আলজেরিয়া ফরাসি শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন হলো। বেন বেল্লা ফরাসি কারাগার থেকে ফিরে এসে সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। খালেদ আব্বাস শুধু সরকার থেকে অপসারিত হলেন না, তিনি আলজেরিয়ার ইতিহাস থেকেও মুছে গেলেন। ইন্দোনেশিয়াতেও প্রেসিডেন্ট সুকর্নের পতনের পরও তাঁর কন্যা মেঘবতী দেশটির সরকারপ্রধান হয়েছেন, কিন্তু সুকর্নের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান সহযোগীদের নামগন্ধ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেরও দ্বিতীয় প্রধান নেতা তাজউদ্দীন আহমদ এর কোনো ব্যতিক্রম নন। ৯ মাস তিনি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী সরকারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই নেতার ভাগ্য বিপর্যয় শুরু হয়। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী, পরে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর বিরোধের বানানো গল্প ছড়ানো শুরু হয়। রাজনীতি থেকে প্রায় অঘোষিতভাবে সরে গিয়েও তিনি অপবাদ ও অপপ্রচার থেকে মুক্ত হতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে তাঁকে প্রমাণ করতে হয়েছে, তিনি বঙ্গবন্ধুর কত বড় অনুসারী ছিলেন। তার পরও তাঁর চরিত্র হনন-চেষ্টার অবসান হয়নি।

তাজউদ্দীন আহমদের এই ভাগ্যবিড়ম্বিত জীবনের লেগাসিই সম্ভবত বহন করছে তাঁর পরিবার এবং এখন তাঁর পুত্র সোহেল তাজ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভায় তাজউদ্দীন আহমদের ভাই আফসার উদ্দীন আহমদকে গ্রহণ করা হয়েছিল। বেশি দিন তিনি মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেননি। যে কারণে তাঁকে মন্ত্রিপদ ত্যাগ করতে হয়েছিল, সে কারণে একজন মন্ত্রীকে সতর্ক করা যায় মাত্র। সরাসরি তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করার প্রয়োজন কতটুকু ছিল, তা এখনো বিতর্কের বিষয়।

শেখ হাসিনার দ্বিতীয় বা বর্তমান মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র সোহেল তাজ। পূর্ণমন্ত্রী নন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। বেশি দিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাঁকে মন্ত্রিত্বের লোভনীয় পদ আত্মসম্মান রক্ষার স্বার্থে ত্যাগ করতে হয়েছে। এই পদত্যাগের কারণটি এখন ওপেন-সিক্রেট। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়ে আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য সোহেল তাজ পিতার উপযুক্ত সন্তানের ভূমিকাই নিয়েছিলেন বলে অনেকের ধারণা।

সে যাই হোক, যে কারণেই সোহেল তাজ পদত্যাগ করে থাকুন না কেন, তাঁর এই পদত্যাগ নিয়ে সরকার দীর্ঘকাল ধরে যে রহস্যঘন কমিক নাটকটির মঞ্চায়ন করে চলেছে, তা কি দর্শকরূপী জনগণকে আনন্দ দিচ্ছে, না বিরক্তির শেষসীমায় নিয়ে যাচ্ছে? একটি গণতান্ত্রিক দেশে একজন মানুষকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এভাবে কোনো পদে আটকে রাখা যায়, তার স্বাধীন ইচ্ছার অবমাননা করা যায়, তা ভাবতে গেলে বিস্মিত হতে হয়।

২০০৯ সালের ৩১ মে সোহেল তাজ নাটকের মঞ্চে যবনিকা উত্তোলিত হয়। তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ ছেড়ে তখন দপ্তরহীন মন্ত্রী। তিনি এই পদে ইস্তফা দেন। এর পর ওই বছরের ১ জুন তিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠান। তারপর প্রায় তিন বছর কেটে যেতে চলেছে। সোহেল তাজের অবস্থা এখন ত্রিশঙ্কু মহারাজের মতো। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং তিনি গ্রহণ না করা সত্ত্বেও তাঁর অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতা ইত্যাদি জমা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে সোহেল তাজ বলেছেন, '২০০৯ সালের ৩১ মে পদত্যাগ করার পরও এখন পর্যন্ত তা গেজেট নোটিফিকেশন করা হয়নি, যা সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও আমার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ছাড়াও এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।'

সোহেল তাজ বর্তমান ওয়াশিংটনের উপকণ্ঠে মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে যা কাণ্ডকারখানা ঘটানো হয়েছে তা আবু হোসেনি উপকথাকেও হার মানায়। তিনি বলেছেন, 'মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আমার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠানো প্রতিমন্ত্রীর মাসিক বেতন-ভাতা ইত্যাদি কোনোভাবেই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য ও কাম্য হতে পারে না। এই অর্থ ফেরত নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কিছুই করা হচ্ছে না।'

গত বছর ২৭ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে এলে ঢাকা বিমানবন্দরে তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর প্রোটেকল দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তাঁর জন্য নির্ধারিত সরকারি গাড়িতেও চড়েননি। তবু তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির আগে-পিছে পুলিশের দুটি গাড়ি ছিল। জাতীয় সংসদের পতাকাবাহী গাড়িও তাঁকে অনুসরণ করে। পরে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গেলেও তাঁকে প্রোটকল দেওয়া হয়। তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে গত ২৬ এপ্রিল তিনি সংসদ সদস্যপদেও ইস্তফা দিতে চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠান। তারও কোনো সুরাহা নেই। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের কার্যকলাপ কোনো সরকার চালাতে পারে? আমাকে ঢাকার এক আইনজীবী বন্ধু ঠাট্টা করে বলেছেন, এটা তো একবারে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে আটকে রাখার মতো গর্হিত অপরাধ। এটা এক ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে সোহেল তাজ ইচ্ছা করলে হিউম্যান রাইটসের বিশ্ব আদালতে যেতে পারেন।

আমায় ঢাকায় অবস্থানের সময় সোহেল তাজের সংসদ থেকেও পদত্যাগের ইচ্ছায় সরকারের বাধাদানের অথবা তা বিলম্বিতকরণের অভিপ্রায় সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন, সোহেল তাজ পদত্যাগ করলে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জাতীয় সংসদের সদস্যপদ শূন্য হবে এবং ওই শূন্য আসনে উপনির্বাচন দিলে সরকারি দলের পরাজয় অনিবার্য, এ কথা জেনেই সংসদ থেকে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণে এই টালবাহানা।
এই টালবাহানা যে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে না, তার জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে না, বরং এই কমিক নাটক বর্তমান সরকারের জন্য ট্র্যাজিক পরিণতি বহন করে আনতে পারে, এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার দিকেই আওয়ামী লীগ ও তার সরকারের দৃষ্টি আমি আকর্ষণ করতে চাই। জোর করে যেমন ভালোবাসা আদায় করা যায় না, তেমনি কারো সমর্থনও আদায় করা যায় না।

যেকোনো কারণেই হোক, সোহেল তাজ এই সরকারে থাকা, সংসদ সদস্য পদে থাকা বাঞ্ছনীয় মনে করছেন না। তাঁর এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে সরকারের উচিত নিজের সম্মান পুনরুদ্ধার করা। তারা যেটা পারে, তা হলো সোহেল তাজ যাতে স্বেচ্ছায় তাঁর সম্মান ও সততা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদে ফিরে আসতে পারেন এবং সংসদেও থাকতে পারেন, তার পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। তা না করে বছরের পর বছর এই কমিক নাটক চালিয়ে যাওয়া একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার সহায়ক নয়। এই নাটকের যবনিকাপাত অবিলম্বে প্রয়োজন।

(সূত্র: কালের কন্ঠ,১৫/০৫/১২)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AbdulGaffarChowdhury
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
USA থেকে Afzal khan লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; সকাল ০৯:৩৩
Dear A.G.C,
৭ তারিখে শেখ রেহানা এই নাটক দেখতে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর দুই কন্যা- টিউলিপ ও রূপন্তি। এই নাটক দেখে শেখ রেহানা বিস্ময়ে বিমুগ্ধ হয়েছেন এবং একটি দারুণ মন্তব্য করেছেন বলে শুনেছি। তিনি বলেছেন, 'নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর মতো আমাদের দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভা দিয়ে বহির্বিশ্বে জাতীয় মর্যাদা সমুচ্চ করে তোলেন। কিন্তু রাজনীতিকরা সেটা মাটিতে মিশিয়ে দেন।' আমি নিজের কানে কথাটা শুনিনি। কিন্তু এমন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবরটা পেয়েছি, যাতে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, মন্তব্যটি শেখ রেহানারই। এমন একটি মন্তব্যের জন্য শেখ রেহানাকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন।--- No doubt Sheikh Rehana deserve our respect and support. We want to see strong BAL based on quality politicians not arrogant. Writer, I never read such a pure article from you. Through this article, I think, you are giving us a great hope that you will keep continue offering us this type of class article and you are able to do that. I do not have any personal problem with you. My problem is, why you are not using your potential for the progress of our motherland while you have that potential? Forget about opposition parties. Educate our young generation with the truth. Let us leave our personal liking's aside. Please do not change your writing style.
84307
চিটাগং থেকে শফিকুর রহমান লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; দুপুর ১২:৩২
এ কোন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী!" সখি কোন আলো লাগলো চোখে " উপদেশ দেওয়া শুরু করলেন তাহলে ? ভোল পালটে ১৮ দলীয় জোটে যোগদান করে ফেলবেন নাকি?
84311
Rehar Char, Bangladesh থেকে Vulumunsi10 লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; দুপুর ০১:২২
মাহমুদুর রহমান মান্নার উপস্থাপনাই এক টক শোতে Dr. Asif Nazrul delivered historical truth.

আসিফ নজরুলঃ বিএনপিকে ২টা জিনিস কনফার্ম করতে হবে। প্রথমটি হচ্ছে কোনোভাবেই এ দেশে জঙ্গি পলিটিক্স allow করা যাবে না। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে এখানে কোনোরকম রাষ্ট্রীয় মদদ দেওয়া যাবে না। ভারতের সাথে আমেরিকার যে strategic relation সেখানে আপনি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে মদদ দিবেন এবং ক্ষমতায় আসার চিন্তা করবেন, এটা সম্ভব না।

Dr. Asif Nazrul authenticated and cognized that BNP is a Terrorist Party (Jangi Dal).

BNP consisted of all pro-Pakistanis and Cantonment products. And in these days BNP composed of ১৮ দলীয় জোট along with murderer (7 murders) party, Pakistani collaborators Jamat, all pro-Pakistani elements and terrorist group.

Hence there is no reason of thinking that Abdul Gaffar Choudhry will join the ১৮ দলীয় জোট। এসব ফানুস বুলী উড়ায়া লাভ নাই।
84312
লন্ডন, ইউ কে । থেকে ডাঃ এস আহমেদ লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; দুপুর ০১:৩৮
একই অঙ্গে এত রুপ !!! গিরগিটি যেমন রং পাল্টায়, শীতের প্রারম্ভে এই দালালটিও রং পাল্টাতে শুরু করেছে ।
84313
বাহরাইন থেকে ছিদ্দিকুর রহমান লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; দুপুর ০১:৫৫
আগোচৌ সাহেব মনে কিছু নিবেন না । আমি জানতাম আপনি মুস……….না, যে কারনে আপনার লেখার মন্তব্য করতে গিয়ে সালাম ধন্যবাদ দেওয়ার মত পরিবশ ছিল না । গত কয়েকটা আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্চে আপনাকে আল্লাহ পাক কোন ভাল স্বপ্নে দেখায়েছেন । আমি দোয়া করি আপনার পরবতি লেখার মাঝে আমরা ভাল কিছু আশা করতে পারি। (এ দুইটা নাম কি কোন মুসলমানের কি না আপনার নিকট প্রশ্ন ? টিউলিপ ও রূপন্তি)
84315
DHAKA থেকে SAIKAT লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; দুপুর ০২:০৪
Vulumunsi10 and Afzal khan are two aspects of the same coin and are alike and same person so far. He comes repeatedly in disguised.
84316
ঢাকা থেকে ফাহিম লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৪৬
এই প্রথম আগাচৌ'র কাছ থেকে একটা পজিটিভ লেখা পেলাম। মামু এই ভাবে ভালো লেখা লিখে যাও। বয়স হয়েছে আর কতো কাল দালালি করবা।
84321
িরয়াদ, সউিদ অারব থেকে অাব্দুল মান্নান লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; বিকেল ০৪:১৯
“একটি গণতান্ত্রিক দেশে একজন মানুষকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এভাবে কোনো পদে আটকে রাখা যায়, তার স্বাধীন ইচ্ছার অবমাননা করা যায়, তা ভাবতে গেলে বিস্মিত হতে হয়।” – আ: গা: চৌ:
জনাব, আপনার প্রিয় দল আওয়ামীলীগ দেশে কোন্‌ গণতন্ত্র চালু রেখেছে বুঝতে পারছেন তো? কাজেই এটা বুঝতে কারোর অসুবিধা হচ্ছেনা আওয়ামীলীগ সরকার যা করছে তা সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য নয়। তাদেরকে যারা দয়া করে গতিতে বসিয়েছে তাদেরকে খুশী করা ছাড়া অন্য কিছু তাদের চিন্তার পরিসীমার মধ্যে নেই।
ধন্যবাদ
84322
dhaka থেকে rafiq লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; বিকেল ০৫:০৭
With your kind of intelligence you should have known that AL does not want face any kind of election now!!!!!!!!
84325
১০
টরোন্ট, কানাডা থেকে আবদুস সামাদ লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; বিকেল ০৫:৪৬
আগা সাহেবের কত মাসের মাসোহারা বাকী বড় জানতে ইচ্ছে করে। ও দিয়ে দেওয়া হবে। একটু টানা টানি যাচ্ছে কিনা। রাগ করেনা খোকা।
84326
১১
Narayangonj থেকে সেফালী লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; বিকেল ০৫:৫২
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটনার সাথে আওয়ামীলীগ জাড়ত।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৩ নভেম্বর ২০০৯ রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিনের বাড়িতে এ বোমা হামলায় আত্মঘাতী হামলাকারীসহ তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়। বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এ হামলা একটি নতুন মাত্রা পেল।

১৩ নভেম্বর সরকার সমর্থক টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ জানায়, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কম জানায়, বোমা বিস্ফোরণে নিহত সিদ্দিকুর রহমান ও হামলাকারী আহাদুল ইসলাম সম্পর্কে চাচাতো ভাই। সিদ্দিকুর এলাকায় যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল।
84327
১২
বলনিয়া/ ইতালি থেকে মিন্টু লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৩৫
শেখ হাসিনা নাটক তৈয়ার এবং পরিচালনা করে দেখার সময় কই পরে দর্শকদের কাছ থেকে শুনে নেই কার ডাইলক কেমন হয়েছে পুরস্কার দিতে হবেনা , রেহানার সময় আছে তাই দর্শক সারিতে বসে উৎসাহ দেয় ।
'নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর মতো আমাদের দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভা দিয়ে বহির্বিশ্বে জাতীয় মর্যাদা সমুচ্চ করে তোলেন। কিন্তু রাজনীতিকরা সেটা মাটিতে মিশিয়ে দেন।' ১০০ পারসেন সত্য তা করেন আওয়ামীলীগ পন্থী লোকেরা যেমন আগা চোঁ । লক্ষ শহীদের রক্তে রঞ্জিত স্বাধীন বাংলাকে ভারতের কাছে তুলে দিয়ে সামাজিক নাট্য মঞ্চ বানিয়ে মজা পায় ।
নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর টেমপেস্ট অবশ্যই দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশ ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মান উন্নত করেছে, যে উন্নতি নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। কিন্তু দেশের ভেতরে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা দিনের পর দিন যে রাজনৈতিক নাটকের মহড়া দিয়ে চলেছেন, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়োগান্ত ও মর্মান্তিক এবং যা দেশটির মুখে ক্রমাগত কালিমা লেপে দিচ্ছে । যা মিথ্যার ঝুলি থেকে বের করে রং তুলি দিয়ে সুন্দর করতে গিয়ে কালিমা লেপন করেন ।
মনে হয় দেশে এসে হাসিনার ধমক খেয়ে বেহুস হয়ে উল্টা পাল্টা শুরু করে দিয়েছে বুরু ।
কেউ আছেন বুরুর ইমেল নাম্বারটা দিতে পারেন ।
84330
১৩
Toronto,Canada থেকে Yesmin Sultana Sorgho লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:১৮
Goffer, You dont have any chance fulfill the vacant seat of TAZ. Because you are a indian servant. You have chance to be a caretaker of sonagashi,
84332
১৪
বাহরাইন থেকে ছিদ্দিকুর রহমান লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; রাত ০৮:৩৫
আগোচৌ সাহেব,
অবিচার কেন?
একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে অজ্ঞতা ভিন্ন মানবজীবনের অকৃতকার্যতার অন্য একটি কারণও আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠে। সামান্য জ্ঞান বিশিষ্ট ব্যক্তিও একথা বুঝতে পারে যে, মানুষ কোনো এক ব্যক্তি বা গোত্র বিশেষের নাম নয়, বরং মানুষ শব্দে এ দুনিয়ার সমস্ত মানব জাতিকেই বুঝায়। কিন্তু অনুরূপভাবে সুখ-শান্তি ও সম্মানের সাথে বসবাস করার দিক দিয়েও সকলের সমান অধিকার রয়েছে। মানবীয় সুখ-শান্তি অর্থে একজনের সুখ-শান্তি নয় গোটা মানব জাতির সুখ-শান্তিকেই বুঝতে হবে। তদ্রুপ কোনো এক ব্যক্তি বা গোত্র বিশেষের মুক্তিকেও সত্যিকার মুক্তি বলা চলে না, বরং গোটা সমাজের মুক্তিকেই মুক্তি নামে অভিহিত করা হয়। উল্লেখিত কথাকে জেনে ও মেনে নেয়ার পর একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, গোটা মানব সমাজের মুক্তি ও উন্নতি কি করে সাধিত হতে পারে। আমার মতে এর একমাত্র পন্থা এই যে, মানুষের জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য আইন-বিধান রচনার ভার তাঁরই উপর অর্পিত হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাঁর দৃষ্টিতে সমস্ত মানুষ সমান। সকলের অধিকার তিনিই সুবিচারের সাথে নির্ণয় করবেন তিনি স্বীয় স্বার্থ হতে সম্পূর্ণ মুক্ত হবেন এবং তাঁর সাথে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণী বিশেষের স্বার্থ জড়িত থাকবে না। সমস্ত লোক তাঁরই আদেশ পালন করবে যিনি আদেশ প্রদানে অজ্ঞতাবশত কোনো প্রকার ভুল করবেন না এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের খাতিরে স্বাধীনতার অপব্যয়ও করবেন না। কাউকেও বন্ধু মনে করে তার পক্ষাবলম্বন করা এবং কাউকে দুশমন ভেবে তার বিপক্ষে দাঁড়ানোর বদ অভ্যাস হতেও তিনি সর্বদা মুক্ত থাকবেন। শুধু উল্লেখিত অবস্থাতেই নির্ভুল সুবিচার লাভ করার আশা করা যায় এবং মানব সমাজের সমস্ত ন্যায্য দাবি দাওয়া পূরণ হতে পারে। যুলুম বা অত্যাচার নির্মূল করার এটাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। এখন আমার জিজ্ঞাস্য এই যে, দুনিয়ায় এমন কোনো মানুষ আছেন কি যিনি সকল স্বার্থপরতা ও উল্লেখিত মানবীয় দুর্বলতাসমূহের প্রভাব হতে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হতে সক্ষম? খুব সম্ভব এ প্রশ্নের উত্তরে আপনারা ‘না’ ভিন্ন ‘হাঁ’ বলতে সাহসী হবেন না। কেননা বাস্তবিক পক্ষে এটা কেবল আল্লাহ তা‘আলারই মহিমা, তাঁরই ক্ষমতা ও গুণ মাত্র। তিনি ভিন্ন অন্য কেউ উক্ত গুণাবলীর যথার্থ অধিকারী হতে পারে না। এজন্য যেখানেই মানুষের রচিত আইন-কানুন স্বীকার করা হয়, আল্লাহ ভিন্ন মানুষের প্রাধান্য বিস্তার করা হয়, সেখানেই অত্যাচার ও অবিচার বিভিন্নরূপে প্রকাশ পেতে থাকে। সেই সকল শাহী খান্দানী লোকদের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, যারা জোরপূর্বক নিজেদের হাতে কতকগুলি বিশেষ ক্ষমতা রেখে দিয়েছে। তারা নিজেদের জন্য সম্মান, অতিরিক্ত দাবি, টাকা আদায়ের উপায় ও এমন সব ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, যা অন্যান্যদের জন্য রাখা হয়নি। তারা অবস্থান করছে আইনের গণ্ডীর বাইরে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো দাবি-দাওয়ার প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় না। তারা যা ইচ্ছা তাই করে, কোনো আদালত তাদের বিরুদ্ধে ‘সমন’ পর্যন্ত জারি করতে সাহস পায় না। তাদের এই সকল অন্যায় আচরণ দেখে-শুনে লোকেরা শুধু এ ধারণার বশবর্তী হয়ে সবকিছু বিনা দ্বিধায় মেনে নেয় যে, বাদশাহগণ সকল প্রকার ভুল-ভ্রান্তি হতে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। অথচ দুনিয়ার প্রত্যেক লোকই একথা জানে যে, এরা সাধারণের মতই মানুষ ভিন্ন অন্য কিছু নয়। এতদসত্ত্বেও শক্তির প্রভাবে এরা খোদা সেজে উচ্চাসনে সমাসীন আর অন্যান্য দুর্বল জনসাধারণ তাদের সম্মুখে করজোড় ও কম্পিতভাবে দন্ডায়মান হয়, যেন তাদের জীবন-মরণ এবং জীবিকা ও সম্পদ তাদের হাতেই সীমাবদ্ধ। প্রজাদের শ্রমোপার্জিত টাকা-পয়সা অন্যায়ভাবে আদায় করা হয়। উক্ত টাকা-পয়সা রাজোচিত প্রাসাদ নির্মাণে ও বিলাস-সামগ্রী প্রস্তুতকরণে নির্বিবাদে ব্যয় হতে থাকে। এমন কি তাদের একটি কুকুরের জন্য এমন সব খাদ্য দ্রব্যের বন্দোবস্ত করা হয়, যা প্রজাবর্গের পাঁচজন পরিশ্রমী ব্যক্তির ভাগে অনেক সময় জোটে না। এখন চিন্তা করে দেখুন তো, এটা কি বিচার? এসব নিষ্ঠুর নিয়মাবলী কখনো এমন ন্যায় বিচারক প্রভু কর্তৃক সমর্থিত হতে পারে কি, যাঁর সামনে সমস্ত মানব জাতির দাবি-দাওয়া সমান? সেইসব ব্রাহ্মণ, পীর, নবাব, সরদার, জমিদার-জায়গীরদার এবং মহাজনের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, যারা স্বভাবতই নিজেদেরকে জনসাধারণ অপেক্ষা উচ্চ শ্রেণীর লোক বলে ধারণা করে থাকে, তাদের শক্তির প্রাবল্যে দুনিয়ায় এমন বহু আইন প্রণীত হচ্ছে যা দ্বারা তারাই জনসাধারণ অপেক্ষা ঢের বেশি উপকার লাভ করে থাকে। তাদের ধারণা, তারাই নিস্পাপ আর অন্য সকলে দোষী ও পাপী, তারা ভদ্র আর বাকি সব অভদ্র, তারা শাসক সমস্ত মানুষ শাসিত। তাই আমরা বলতে বাধ্য হবো যে, এ সকল নিষ্ঠুর নীতি ও অন্যায় আচরণ কখনও কোনো সত্যিকার ন্যায় বিচারক কর্তৃক রচিত হতে পারে না। জাতির ঐ সকল নেতা বা পরিচালকের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, যারা শক্তির প্রাবল্যে অন্য জাতিসমূহকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে। তাদের এমন কোনো আইন বা শাসন পদ্ধতি নেই, যা স্বার্থপরতার ছোঁয়াচ হতে মুক্ত। তাদের ধারণা দুর্বলেরা মানুষ নয়, অথবা অতীব নিম্নশ্রেণীর লোক মাত্র। তারা প্রত্যেক দিক দিয়েই নিজেদেরকে অন্যের তুলনায় বড় করে দেখে এবং নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে অন্যের স্বার্থ বলি দেয়াকে ন্যায্য মনে করে থাকে। তাই তাদের রচিত প্রত্যেক আইন-কানুনের পেছনে বদনামী ও দুর্নাম লেগে আছে। শুধু ইশারা স্বরূপই উল্লেখিত উদাহরণ কয়টি এখানে বর্ণনা করা হলো। বিস্তারিত বর্ণনার স্থান এটা নয়। আমি শুধু এ সত্যটি আপনাদের মনে জাগিয়ে দিতে চাই যে, যেখানে মানুষ আইন রচনা করে এবং মানব রচিত আইন কার্যকর রয়েছে, সেখানে অন্যায় ও অত্যাচার ভিন্নরূপে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তাই কেউ আপন ন্যায্য দাবি অপেক্ষা অধিক সুযোগ পেয়ে বসেছে, আর কারো যথার্থ স্বার্থ সম্পূর্ণ অন্যায় অমানুষিকভাবে দলিত মথিত হয়েছে। এর কারন এই যে, মানুষের অন্তরে ও মস্তিষ্কে স্বভাবতই স্বজাতি ও স্বগোত্রের উপকার-উন্নতির চিন্তা অন্য জাতির উপকার অপেক্ষা বেশিভাবে জেগে থাকে, তাই অন্যের স্বার্থ বা দাবির প্রতি তারা অপেক্ষাকৃত কম সহানুভূতি সম্পন্ন হয়। এ অন্যায় অত্যাচারের যথার্থ প্রতিকারের পন্থা এই যে, মানুষের রচিত আইন-কানুন ও শাসন-পদ্ধতি ত্যাগ করত আমরা একমাত্র আল্লাহ প্রণীত আইন-কানুন ও আদেশ-নিষেধাবলী মেনে চলবো। একমাত্র তাঁরই দৃষ্টিতে সমগ্র মানব জাতি সমান মর্যাদাসম্পন্ন। ব্যবধান শুধু মানুষের কর্মতৎপরতা, যোগ্যতা, কর্মদক্ষতার ভিতর দিয়েই পরিলক্ষিত হবে, বংশ শ্রেণী বা জাতিগত কোনো প্রকার আভিজাত্য সেখানে কারো জন্য স্বীকৃত হয় না এবং হতেও পারে না।
শান্তি কিভাবে স্থাপিত হতে পারে
আপনারা আবশ্য জানেন যে, মানুষকে আয়ত্তাধীন রাখার প্রধানতম উপায় হচ্ছে দায়িত্বানুভূতি। তাই যদি কারো এরূপ ধারণা হয় যে, তাকে তার কোনো কাজের জন্য কারো নিকট জবাবদিহি করতে হবে না, বরং সে তার কাজে সম্পূর্ণ স্বাধীন ; এমনকি, তার নিকট কোনো অন্যায় কাজের কৈফিয়ত তলব করার এতোটুকু অধিকার পর্যন্ত কারো নেই, তখন উক্ত মানুষের অবস্থা হবে লাগামহীন উটের সমতূল্য। একথাটি কোনো এক ব্যক্তি বিশেষের বেলায় যেমন প্রযোজ্য, অনুরূপভাবে কোনো দল, সমাজ বা সমগ্র বিশ্বের মানব সমাজের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ কোনো একদল লোক যখন ভাবে যে, তারা তাদের কাজে সম্পূর্ণ স্বাধীন, এমন কি তাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ দুটি কথাও বলার অধিকার কারো নেই, তখন উক্ত দল কর্তৃক ‘ধরাকে শরা জ্ঞান করা’ মোটেই আশ্চর্যজনক নয়। এমনিভাবে যখন কোনো এক জাতি অন্য জাতির উপর এবং কোনো এক রাজা আপন রাজত্বের সীমায় নিজেকে সর্বদিক দিয়ে শক্তিশালী ও স্বাধীন মনে করার সুযোগ পায়, তখন উক্ত প্রবল জাতি কর্তৃক দুর্বল জাতি ও রাজা কর্তৃক নিরীহ প্রজাবর্গ নানাদিক দিয়েই নিপীড়িত ও নির্যাতিত হতে থাকে। এ নিষ্ঠুর সত্যটি এ দুনিয়ার সমস্ত অশান্তির প্রধানতম কারণ স্বরূপ বিভিন্ন রঙ্গে ও রূপে অহরহ আমাদের চোখের সামনে প্রকাশ হতে চলেছে এবং যতোদিন পর্যন্ত মানুষ তদপেক্ষা কোনো এক বিরাট শক্তির নিকট আপন কাজের জন্য দায়ি হওয়ার সত্যটি মেনে নিতে প্রস্তুত না হয়, ততোদিন পর্যন্ত অত্যাচারের দ্বার রুদ্ধ হয়ে বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব হতে পারে না।
এখন আপনারা আমাকে বলুন, উক্ত বিরাট শক্তির প্রকৃত মালিক এক আল্লাহ ভিন্ন অন্য কেউ হতে পারে কি? মানুষের মধ্য হতে তো কেউ এ শক্তির অধিকারী হতে পারে না। কারণ এ শক্তির অধিকার লাভের পর মানুষ হবে অত্যাচারী ও অবিচারী। এক কথায় সে তখন হবে এ দুনিয়ার ফেরাউনদের অন্যতম। ফলে কেউ হয়ত তার সমর্থন লাভ করে খুব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করার সুযোগ পেয়ে বসবে, আর কেউ বা তার রোষাগ্নিতে পতিত হয়ে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হবে। তাই এ জটিল সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে ইউরোপে ষবধমঁব ড়ভ হধঃরড়হ বা জাতিসংঘ কায়েম করা হয়েছিল, কিন্তু শ্বেতাঙ্গদের সেই সংঘের অস্তিত্ব তেমন মজবুত হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত সেই তথাকথিত জাতিসংঘ মুষ্টিমেয় কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের হাতের ক্রীড়নক সেজে ছোট ও দুর্বল রাজ্যসমূহের সাথে অবিচার করে শান্তির পরিবর্তে সমগ্র বিশ্বের অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখিত তিক্ত অভিজ্ঞতার পর একথা আমাদের কাছে স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষের মধ্যে এমন কোনো শক্তির সৃষ্টি হওয়া সম্ভবপর নয় যা দ্বারা এ দুনিয়ার বড়-ছোট সমস্ত জাতির শক্তিকে যথাযথভাবে আয়ত্তে রাখা যায়। তাই আমরা বলতে বাধ্য হবো যে, উক্ত শক্তি নিশ্চিতরূপে মানবীয় সীমার বহু উর্ধে তদপেক্ষাও ঢের উচ্চ শ্রেণীর জিনিস, আর তা আল্লাহ তা‘আলার অসীম শক্তি ও মহিমা ভিন্ন অন্য কিছু নয়। তাই এ দুনিয়ায় সুখ-শান্তিতে বসবাস করার উদ্দেশ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করত বিশেষ বিনীত ও অনুগত প্রজাসম তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করা ও দৃঢ়ভাবে এ বিশ্বাস অন্তরে স্থাপন পোষণ করা আবশ্যক যে, তিনি আমাদের গুপ্ত ও প্রকাশ্য সবকিছু অবগত আছেন এবং একদিন আমাদের প্রত্যেককে স্ব-স্ব আমলনামা হাতে নিয়ে তাঁর আদালতে হাজির হওয়া ভিন্ন গত্যন্তর নেই।
বস্তুত একমাত্র উল্লেখিত সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা অবলম্বনের মধ্যেই মানব জাতির সত্যিকার সুখ-শান্তি নিহিত।
একটি সন্দেহ
আমার বক্তব্য শেষ করার পূর্বে আপনাদের সন্দেহ দূর করার উদ্দেশ্যে আরো একটি জরুরি কথা নিবেদন করা আবশ্যক মনে করছি। আপনারা স্বভাবতই ভাবতে পারেন যে, যখন আল্লাহর আদেশ ভিন্ন ক্ষুদ্র-বৃহৎ কোনো শক্তিই এদিক-ওদিক চলবার সামর্থ নেই বলে প্রমাণ পাওয়া গেলো, যখন সমগ্র মানবসমাজ আইনগত আল্লাহর রায়ত শ্রেণীতে পরিনত হলো, তখন ক্ষুদ্র মানব কি করে আল্লাহদ্রোহী হতে সাহসী হয়? কি করে বান্দাদের উপর আপন প্রভুত্ব বিস্তার করত অন্যায় ও অত্যাচারের তাণ্ডবলীলা চালিয়ে থাকে? কেন আল্লাহ তাআলা যথাসত্ত্বর উক্ত অত্যাচারীর শাস্তি বিধান করেন না?
এ সন্দেহের উত্তর এই যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিরাট রাজত্বের সামনে কয়েকটি মানুষ এ দুনিয়ার শক্তিশালী কোনো এক বাদশাহ কর্তৃক তাঁর অধীনস্ত কোনো স্থানের শাসনকার্য পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী স্বরূপ। উক্তস্থানের অন্তর্গত রেল লাইন, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, দেশ রক্ষা ও সৈন্যবাহিনী ইত্যাদি তাঁরই করতলগত। তাই তাঁর ব্যাপক শক্তির তুলনায় তৎকর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীর ক্ষমতা অতীব তুচ্ছ ও নগণ্য। এমনকি, বাদশাহের ইচ্ছা ভিন্ন কর্মচারীর এক পা এদিক-ওদিক চলার শক্তিও নেই, কিন্তু বাদশাহ উক্ত কর্মচারীকে প্রদত্ত ক্ষমতা এবং সৎ-অসৎ ব্যবহারের পরীক্ষা করার জন্য যথেষ্ট স্বাধীনতা প্রদান করত দূর হতে নীরবে তার কার্য নিরীক্ষণ করে থাকেন। এমতাবস্থায় শিক্ষিত, বুদ্ধিমান, ভদ্র ও নিমক হালাল (কৃতজ্ঞ) কর্মচারী রাজপ্রদত্ত ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হয়েও দেশের কোনো প্রকার অন্যায় ও অত্যাচারের সৃষ্টি না করে রাজভক্ত কর্মচারীর ন্যায় আপন কতর্বø সম্পন্ন করে নিজেকে রায়ত বা প্রজার নিকট প্রিয় করে তুলতে সচেষ্ট হয়। ফলে বাদশাহ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে তার পদমর্যাদা বৃদ্ধি করে থাকেন, পক্ষান্তরে কর্মচারী যদি দুষ্টবুদ্ধি ও নিমকহারাম (অকৃতজ্ঞ) হয় এবং প্রজাগণ যদি নির্বোধ বা অশিক্ষিত হয় তখন উক্ত কর্মচারী বাদশাহ প্রদত্ত ক্ষমতায় নিজেকে পূর্ণ ক্ষমতাবান মনে করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ও নিজেকে বাদশাহ বলে ঘোষণা করার অন্যায় সাহসেও সাহসী হয়ে থাকে। আর এদিকে মূর্খ ও অশিক্ষিত প্রজাবর্গ কোর্ট আদালতে চাকুরির কাজে এমনকি ফাঁসির আদেশ প্রদানেও উক্ত কর্মচারীর পূর্ণ ক্ষমতা দর্শন করে তাকে বাদশাহ বলে স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করে না। আর ঐদিকে বাদশাহ দূর হতে অন্ধ প্রজাবর্গ ও বিদ্রোহী কর্মচারীর অন্যায় আচরণ নিরীক্ষণ করতে থাকেন। ইচ্ছা করলে মুহূর্তেই তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করতে পারেন, কিন্তু তিনি খুব ধীর-স্থির, তাই সত্ত্বর শাস্তির ব্যবস্থা না করে প্রজাবর্গ ও কর্মচারীকে স্বাধীনতা প্রদান করেন তাদের পরীক্ষা করতে থাকেন যেনো তাদের দুষ্টবুদ্ধির সকল মাত্রা পুর্ণভাবে প্রকাশ পায়। বাদশাহ অচিরেই এদের জন্য কোনো শাস্তি বিধান করেন না। এর কারণ এই যে, তার শক্তি এতো বিরাট ও ব্যাপক যে, উক্ত বিদ্রোহী কর্মচারী হাজার চেষ্টা করেও তাঁর বাদশাহী ছিনিয়ে নিতে কখনো সক্ষম নয় বরং বিদ্রোহী ও অকৃতজ্ঞতার দ্বারা স্বীয় ধ্বংসের সুনিশ্চিত কারণ হতে থাকবে। এরূপে প্রজাবর্গের বিদ্রোহ ও অন্যায় আচরণ যখন চরমে উঠে, তখন বাদশাহের পক্ষ হতে উভয়ের জন্য এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, যার হাত হতে অব্যাহতির কোনো তদবীরই তখন আর কার্যকরী হয় না।
বন্ধুগণ!
আমরা উক্ত রাজ-কর্মচারী এবং প্রজাবর্গের প্রত্যেক ব্যক্তি আজ উল্লেখিত কঠিন পরীক্ষায় লিপ্ত। এখানে আমাদের জ্ঞান, শক্তি, কর্তব্যপরায়ণতা ও আনুগত্যের কঠিন পরীক্ষা চলছে। আমাদের প্রত্যেককে আজ এ মীমাংসা করতে হবে যে, আমরা আমাদের প্রকৃত বাদশাহের নিমক-হালাল প্রজা কিনা। অবশ্য আমি আমার জন্য নিমক হালাল হওয়ারই চূড়ান্ত মীমাংসায় উপনীত হয়েছি এবং প্রত্যেক আল্লাহদ্রোহীর সাথে পরিষ্কাররূপে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছি। আর আপনারাও আপনাদের স্ব-স্ব পথ নির্ধারণে সম্পূর্ণ স্বাধীন। একদিকে ঐ সকল উপকার ও অপকার, যা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত শক্তিতে শক্তিবান আল্লাহদ্রোহী কর্মচারীর মধ্যস্থতায় আপনারা পেয়ে থাকেন, অন্যদিকে ঐ সকল লাভ-লোকসান, যা স্বয়ং সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা‘আলা আপন বান্দাহদের উপর পৌঁছাতে ষোলআনা সক্ষম। এখন আপনারা আপনাদের পছন্দনুযায়ী এ দুয়ের কোনো একটিকে নিজেদের জন্যে মনোনীত করুন।
84334
১৫
Cox's Bazar থেকে Dr. Farooque লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; রাত ০৯:০১
" কত নাটকের কথা বলব! সাম্প্রতিক দুটি প্রধান নাটকের কথাই বলি। একটি ইলিয়াস আলী অন্তর্ধান বা অপহরণ রহস্য-নাটক ...."
হাসিনা সরকার ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে কি করেছে চেেপ গিয়ে রহস্য-নাটক বলে একটি Chance হাতে রেখে দিলেন !
"যেকোনো কারণেই হোক, সোহেল তাজ এই সরকারে থাকা, সংসদ সদস্য পদে থাকা বাঞ্ছনীয় মনে করছেন না। "
....... কারণ বললেন না, চেেপ গিয়ে মওকাটি ছাড়লেন না !
84336
১৬
বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে নাঈম লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; রাত ০৯:৫৫
মি. আগাচৌ যে শব্দ যুগল দ্বারা তার মহামূল্যবান(!) কলামটি শুরু করেছেন তা হচ্ছে-
''আমি যতদূর জানি, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুজনেই নাটক দেখতে ভালোবাসেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত শেখ হাসিনা বর্তমানে তাঁর শত ব্যস্ততার জন্য হয়তো নাটক দেখার তেমন সময় আর পান না। কিন্তু ছোট বোন শেখ রেহানা সময় ও সুযোগ পেলেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে নাটক দেখেন বলে শুনেছি। ''
ওয়ান্ডারফুল মি. আগাচৌ। আপনাকে প্রণাম করতে ইচ্ছে করছে। আপনার নেত্রী নাটক দেখতে ভালোবাসেন এবং নাটক দেখেন। ঠিক আছে। কিন্তু একটি তথ্য হয়তো আপনার জানা নেই অথবা জেনেও জানতে চাননা, সেটা হলো আপনার নেত্রী নাটক করতেও ভালোবাসেন।
যদি আমার কথার প্রমাণ চান, তাহলে আপনার সংগ্রহে থাকা (না থাকলে ধার নিতে পারেন) মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টুর বিখ্যাত বইটি আরেকবার পড়ে নিন না।
বইটি পড়লে অবশ্য অন্যেরাও অনেক নাটকের কথা, চিত্র নাট্যের কথা, অভিনয়ের রকমফেরের বাস্তব নমুনা হয়তো অনুধাবন করতে পারবেন।
আপনি সোহেল তাজ নাটকের যবনিকাপাত চান। কিন্তু ইলিয়াস আলী, সাগর-রুনিসহ অন্যান্য নাটকের কী হবে?
84337
১৭
Perth, Australia থেকে Soyeb Rahman লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; রাত ০১:৪৬
Vulumunsi, you are neither from Rehar Char nor you are Vulumunsi10. You are one hundred percent Awami Baksali brain crippled party fanatic. People knows what is BNP and what is Awami League. With your thinking style like BJP you consider every true patrotic people as "Islamic Jongi" and the Indian slave like AGC and you as patriot. You may be still sleeping on Awami pillow but the whole population of Bangladesh knows Awami League as nothing but Indian Slaves. No matter how many times you bark in favor for BAL, the people of Bangladesh does not have any choice but to stand by BNP. It is a proven fact that BNP loves Bangladesh and Bangladeshi people loves BNP.
84342
১৮
LONDON থেকে MOKSUDUL লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; রাত ০২:৪৯
MR.A G Chowdhury
Thanks for your nice artical . First time i read the artical in my life . I cant belive it you know how to write . i think you brrow from someone the artical . everyone knows about you. you r the number one CHAMCHA . How did you change your self ?
84343
১৯
চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে মু: ইউসুফ আলী লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; সকাল ০৭:১৭
চালিয়ে যান
84345
২০
মুন্সিগঞ্জ থেকে মোঃ রফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; সকাল ০৯:৩৯
আপনি একজন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিষ্ট। আপনি আপনার লেখার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা গুলো তুলে ধরবেন এবং যদি তা সমাধানের পথ বাতলান তাহলে অনেক ভাল হয়। আজকে যে লেখাটা লিখেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। এ লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছিনা। এ লেখাতে যেমন উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রী ও তার ছেলে সোহেল তাজ-এর বঞ্চনার কথা, সেই সাথে উঠে এসেছে আরও অনেক সামাজিক সমস্যা। এ দেশে যদি সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিরা বিনা বাঁধায় কাজ করতে পারত তাহলে সমাজ তথা দেশের অনেক উপকার হত। সরকারের কর্তা ব্যাক্তিরা সমস্ত মন্ত্রনালয়ে তাদের হাতের পুতুলদের বসায় যাতে তাদেরকে পুতুলের মত নাচানো যায়। আজ সরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে সমস্ত মন্ত্রনালয় গুলোতে সে রকমটাই চলছে। সোহেল তাজদের মত সৎ লোকদের স্থান সেখানে নেই। সবাই একটা দল করলেও সবার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে-এটা বুঝতে হবে। আমি গুষখোর তাই বলে কি অন্য ব্যাক্তি ভাল হতে পারে না, যে ভালো তাকে তো ভালো ভাবে চলতে দিতে হবে। সোহেল তাজের মত এক জন সৎ লোক সরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে থাকলে আইন শৃঙ্খলার এমন অবনতি হতো না। দেশ আজ গুম আতঙ্কে ভুগত না। আসলে যোগ্য লোকদেরকে সব জায়গাতেই অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। অযোগ্যদের সাথে ফাইট করেই যোগ্যদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হবে, দেশ থেকে পালিয়ে যেয়ে নয়। রাজনীতি করতে হলে অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। নাটকের শেষে সত্যেরই জয় হয়।
84349
২১
মুন্সিগঞ্জ থেকে মোঃ রফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; সকাল ০৯:৫২
আপনি একজন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিষ্ট। আপনি আপনার লেখার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা গুলো তুলে ধরবেন এবং যদি তা সমাধানের পথ বাতলান তাহলে অনেক ভাল হয়। আজকে যে লেখাটা লিখেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। এ লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছিনা। এ লেখাতে যেমন উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রী ও তার ছেলে সোহেল তাজ-এর বঞ্চনার কথা, সেই সাথে উঠে এসেছে আরও অনেক সামাজিক সমস্যা। এ দেশে যদি সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিরা বিনা বাঁধায় কাজ করতে পারত তাহলে সমাজ তথা দেশের অনেক উপকার হত। সরকারের কর্তা ব্যাক্তিরা সমস্ত মন্ত্রনালয়ে তাদের হাতের পুতুলদের বসায় যাতে তাদেরকে পুতুলের মত নাচানো যায়। আজ সরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে সমস্ত মন্ত্রনালয় গুলোতে সে রকমটাই চলছে। সোহেল তাজদের মত সৎ লোকদের স্থান সেখানে নেই। সবাই একটা দল করলেও সবার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে-এটা বুঝতে হবে। আমি গুষখোর তাই বলে কি অন্য ব্যাক্তি ভাল হতে পারে না, যে ভালো তাকে তো ভালো ভাবে চলতে দিতে হবে। সোহেল তাজের মত এক জন সৎ লোক সরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে থাকলে আইন শৃঙ্খলার এমন অবনতি হতো না। দেশ আজ গুম আতঙ্কে ভুগত না। আসলে যোগ্য লোকদেরকে সব জায়গাতেই অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। অযোগ্যদের সাথে ফাইট করেই যোগ্যদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হবে, দেশ থেকে পালিয়ে যেয়ে নয়। রাজনীতি করতে হলে অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। নাটকের শেষে সত্যেরই জয় হয়।
84351
২২
south korea থেকে khairul alam লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:২১
Thank you for come legal way.Always write same this.Not' DALALI'.
84375
২৩
Netrokona থেকে Majhimalla লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; রাত ১০:৩৮
No.22 Mr Khairul Alam from South Korea!!! Do you realize what you wrote here? Everyone has the right to express himself/herself in any form and method preferably in easy and correct way. With due & proper respect I like to tell you please do not write all this broken English. Rather express yourself in Bangla with English alphabets which will be more impressive and presentable. Your positive view on my comment is appreciated.
84389
২৪
USA থেকে Afzal khan লিখেছেন, ১৭ মে ২০১২; সকাল ০৫:১৫
I think, Mr. Khairul Alam #22 liked this article and he has appreciated writer with thanks. At the same time he is also demanding more this type of article from the writer. I think he has tried his best based on his ability may be reality is different than ours.
84396
২৫
coxsbazar থেকে বেরসিক লিখেছেন, ১৭ মে ২০১২; রাত ০৯:২০
(৭ তারিখে শেখ রেহানা এই নাটক দেখতে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর দুই কন্যা- টিউলিপ ও রূপন্তি। এই নাটক দেখে শেখ রেহানা বিস্ময়ে বিমুগ্ধ হয়েছেন এবং একটি দারুণ মন্তব্য করেছেন বলে শুনেছি। তিনি বলেছেন,
"'নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর মতো আমাদের দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভা দিয়ে বহির্বিশ্বে জাতীয় মর্যাদা সমুচ্চ করে তোলেন। কিন্তু রাজনীতিকরা সেটা মাটিতে মিশিয়ে দেন।"
' আমি নিজের কানে কথাটা শুনিনি। কিন্তু এমন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবরটা পেয়েছি, যাতে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, মন্তব্যটি শেখ রেহানারই। )
যে সমস্ত রাজনীতিকরা জাতীয় মর্যাদা ক্ষুন্ন করেন - তাদের মধ্যে হাসিনা-রেহেনারা আছেন কিনা একটু ভেবে দেখেছেন কি ?
84436
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy