|
ব্লাসফেমি আইন নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
আব্দুল মান্নান |
|
মধ্য যুগের ইংরাজী blasfemie, ল্যাটিন blasphēmia, গ্রীক blasphēmein শব্দ থেকে blasphemy (ব্লাসফেমি) শব্দটির উৎপত্তি। অক্সফোর্ড ডিক্সনারি অনুযায়ী ব্লাসফেমি হচ্ছে আল্লাহ ও পবিত্র জিনিসকে কেন্দ্র করে এমন অপরাধ মূলক কাজ বা কথা যা ধর্মদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে। সংজ্ঞাকারে অল্লাহর প্রতি ঘৃণা, অসম্মান প্রদর্শন করা অথবা আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কমতি পরিলক্ষিত হয় এমন কাজ, কথা ও লিখনী এবং আল্লাহর গুণরাজির দাবী করা এবং পবিত্র জিনিসের ও নবী-রাসুলদের প্রতি অবজ্ঞা করা হচ্ছে ব্লাসফেম (Blaspheme)।
আল্লাহ্, তদীয় রাসুল এবং পবিত্র স্থান সমুহের ব্যাপারে অবজ্ঞা, অসম্মান, কটুক্তি ইত্যাদি করা ধর্মীয় দৃস্টিতে অপরাধ। এ অপরাধকে দমন করার জন্য যে বিধানের ব্যবস্থা করা হয় মূলতঃ তা ব্লাসফেমি আইন হিসাবে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং বিভিন্ন ধর্মে এ আইনের ব্যবহার দেখা যায়।
ধর্ম ভেদে ব্লাসফেমির কাজের পরিধিও বিভিন্ন। ইসলামের দৃষ্টিতে ব্লাসফেমির অন্তর্ভূক্ত বড় বড় অপরাধ গুলি মোটামুটি নিম্নরূপঃ
* আল্লাহ সম্বন্ধে কটুক্তি করা
* মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহ সকল নবী-রাসুলের দোষ খুঁজে বের করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, ব্যাঙ্গ চিত্র ও কার্টুন তৈরি করে নানা ধরণের উপাধি দেয়া ইত্যাদি।
* ইসলামের শাশ্বত বাণীর দোষ বের করা, ইসলাম শুধু মাত্র আরবদের ধর্ম বলা।
* পবিত্র কুরআন মানুষের তৈরি এবং ভূলে ভরা উল্লেখ করা, পবিত্রতা রক্ষা না করে অবজ্ঞা করে ছূঁড়ে ফেলা।
* পবিত্র কাবা সহ সকল আল্লাহর ঘরকে অপবিত্র করা।
এগুলি ছাড়াও আরো অনেক উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মেও ব্লাসফেমির ঘটনা ঘটে এবং শাস্তির বিধানও রয়েছে। এ ব্যাপারে বর্তমানে ইসলামই বেশী সমালোচিত হচ্ছে বলে ইসলাম তথা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ আইনের ব্যাপারে আলোচনা করার চেস্টা করব ইনশাল্লাহ্।
অধুনাকালে ব্লাসফেমি আইন নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। মানুষ শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান ও বিজ্ঞানে প্রভূত উন্নতি সাধন করাতে ভাবতে শিখেছে নিজেদের ভালো-মন্দ বাছবিচারের জন্যে অতি প্রাকৃতিক কোন শক্তির উপর নির্ভর করার কোনই প্রয়োজন নেই। নিজেদের জন্য নিজরাই যথেষ্ট। নিজেদের বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েই সকল সমস্যার সমাধান নিজেরা করতে সক্ষম।
উপরোল্লিখিত বিষয়ে চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ধর্মীয় ভাব ধারায় বিশ্বাসী এবং বিশ্বাসী নয় উভয়ই রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আল্লাহ্, আসমানী কিতাব, রাসুল ও অন্যান্য বিষয়ের উপর বিশ্বাস রাখেন বলে দাবী করেন। তবে উভয়ের মধ্যে মিল দেখা যায় বস্তুবাদী দর্শনের ক্ষেত্রে। বস্তুর বাইরে তাঁরা অন্য কিছু কল্পনা করতে পারেননা। যাঁরা সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করেননা তাঁদের নিকট ব্লাসফেম শব্দটি অলীক বলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করেন অথচ ব্লাসফেমি আইনের বিপক্ষে এমন কিছু ব্যক্তি দাবী করেন ব্লাসফেমি আইনের ব্যাপারে প্রবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনে কোন উল্লেখ নেই। এগুলি হচ্ছে মানুষের মনগড়া এবং কুরআন বিরোধী আইন। সেই দিক থেকে ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার অর্থ কুরআনের বিরোধীতা নয় বলে তাঁরা মনে করেন।
এখন আমাদেরকে যেটি বিশ্লেষণ করতে হবে তা হচ্ছে ব্লাসফেমি আইন কুরআন-সুন্নাহ্ থেকে উৎসারিত অথবা এ আইনটি কুরআন-সুন্নাহ্ বিরোধী। বিশ্লেষণে যাবার আগে একটি বিষয়ে একটু আলোকপাত করতে চাই তা হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমালোচকগণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে কোন বিষয়কে বিবেচনায় না নিয়ে পূর্ব প্রতিষ্ঠিত চিন্তা থেকে নিজের আদর্শকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বাক অথবা কলম যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। ফলে একটি আদর্শ কিভাবে মানব জাতিকে সফলতার দার প্রান্তে উপনীত করতে পারে একজন পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি তা উপলব্ধি করতে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হন। অপছন্দের আদর্শকে ঘায়েল করার জন্য অপ্রাসঙ্গিক ভাবে সুবিধাজনক স্থান থেকে কিছু উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়ে থাকে মাত্র। ব্লাসফেমি আইন নিয়ে বিতর্ক সে রকমই একাটা ব্যাপার। ব্লাসফেমি আইন ধর্মীয় বিশ্বাসকে সুরাক্ষা দেয়ার জন্য দরকার তা তাঁরা মেনে নিতে পারেননা।
প্রথমেই সমালোচকদের উক্তিগুলোকে ঝালিয়ে নিতে চাই। তাঁরা বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্ট করেন কুরআন ব্লাসফেমি আইনের বিপক্ষে। উদাহরণ হিসাবে সুরা বাকারাঃ ২৫৬, সুরা নিসাঃ ১৩৭, সুরা ইউনুসঃ ৯৯, সুরা কাহফঃ ২৯ সহ আরো কিছু কুরআনের আয়াত পেষ করে থাকেন। উল্লিখিত আয়াত গুলির সার কথা হলো - দীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই, যারা ঈমান আনার পর কুফুরী করে আল্লাহ তাদেরকে মৃত্যুর পর শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন, ঈমান আনার ব্যাপারে জবরদস্তি করা যাবেনা ইত্যাদি। কাজেই তাদের প্রশ্ন হলো ঈমান আনার পর আবারো কুফরী করলে যেখানে পরকালে শাস্তির কথা আল্লাহ্ নিজে বলছেন সেখানে ফিক্বাবীদগণ কিভাবে ধর্মদ্রোহীদের জন্য মৃত্যূর আগেই শাস্তির জন্য শরিয়ার বিধান তৈরি করছেন?
আমরা জানি পবিত্র কুরআন একটি র্পূণাঙ্গ কিতাব হিসাবে এক সাথে আল্লাহ্ আমাদের নিকট নাযিল করেননি। ২৩ বছরের ব্যবধানে প্রয়োজন অনুসারে ধাপে ধাপে তা নাযিল করেছেন। আমরা এমনও দেখেছি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রথম দিকের নাযিলকৃত কোন কোন আয়াতের হুকুম পরবর্তিতে আল্লাহ্ প্রয়োজনের তাগিদে অন্য আয়াতের দ্বারা রহিত করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ মদ হারাম হওয়ার আয়াতগুলি সামনে রাখা যেতে পারে। তাই কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সিদ্বান্ত দিতে হলে অনেক বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হয় এবং কুরআন-সুন্নাহর উপর গভীর জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়। ফিকাহবীদগণ শরীয়তের আইনের প্রয়োগের কথা যখন বলেন তখন কুরআন-সুন্নাহ্ থেকে গবেষণার মাধ্যমেই তা বলে থাকেন এবং তাঁরা এ কাজটি করে থাকেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। মানুষ হিসাবে তাঁদেরও ভূল থাকতে পারে সেটা ভিন্ন কথা। অপর পক্ষে যাঁরা আয়াত দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছেন ব্লাসফেমি আইন কুরআন বিরোধী তাঁদেরকে কখনই দেখা যায়নি কুরআনের আইন বাস্তবায়নের পক্ষে কথা বলতে।
এবারে কুরআনের অন্য দু-একটি আয়াতের দিকে মনযোগ আকর্ষণ করছি। আল্লাহ্ বলেনঃ
“যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে লড়াই করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য প্রচেষ্টা চালায়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলিবিদ্ধ করা হবে বা তাদের হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে। অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। দুনিয়ায় তাদের জন্য এ অপমান ও লাঞ্ছনা নির্ধারিত রয়েছে আর আখেরাতের রয়েছে তাদের জন্য এর চাইতেও বড় শাস্তি”। (৫. মায়েদাহঃ৩৩)
তিনি আরো বলেনঃ “তাহলে কি তোমরা কিতাবের একটি অংশের ওপর ঈমান আনছো এবং অন্য অংশের সাথে কুফরী করছো? তারপর তোমাদের মধ্য থেকে যারাই এমনটি করবে তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছিত ও পর্যুদস্ত হবে এবং আখেরাতে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে ? তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আল্লাহ বেখবর নন”। (২. বাকারাহঃ৮৫)
উপরের আয়াত দুটির একটিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে লড়াই করা এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার শাস্তি আর দ্বিতীয়টিতে কুরআনের কিছু অংশ মানা এবং অন্য অংশকে প্রত্যাখ্যান করার শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। উভয় আয়াতে ইহ এবং পরকালে শাস্তি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। কাজেই ফিতনা সৃষ্টি করলে মৃত্যুর আগেও শাস্তি ভোগের কথা পাবিত্র কুরআনে আছে।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে লড়াই করার অর্থ হচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিষ্ঠিত বিধানকে উৎখাত করার চেষ্টা করা অথবা কুরআন ও সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা। হতে পারে সেটা সশস্ত্র, কলমি অথবা বাক চাতুর্য্যের মাধ্যমে। কাজেই ব্লাসফেমি আইন তৈরিতে কুরআনের দিক নির্দেশনা নেই তা ঠিক না।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের বরাত দিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে ঈমান আনা এবং ধর্ম পালন করা প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভরিশীল। তাহলে আইন করে তা করতে বাধ্য করা হচ্ছে কেন? মনে রাখা দরকার ইসলামের বিধান পালনের দুটি রূপ আছে প্রথমটি গোপনীয় এবং দ্বিতীয়টি প্রকাশ্য। লোক চক্ষুর আড়ালে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে শরীয়তের এখানে করার কিছু নেই। কারণ বিচার ব্যবস্থা সাক্ষ্যি-প্রমাণ ছাড়া কোন ফায়সালা দিতে পরেনা। মুসলিম, অমুসলিম নির্বিশেষে কেউ যদি প্রকাশ্যে আল্লাহ্, কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধাচারণ করে এবং যেটির পরিনাম হচ্ছে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া তাহলে শান্তি ও নিরাপত্তার খাতিরে শরীয়ত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্তরে কি লালন করছে এবং কি ভাবছে সে ব্যাপারে শরীয়ত কোন বাড়াবাড়ি করবেনা।
যেহেতু গোপন ও প্রকাশ্য উভয়টি আল্লাহ্ জানেন সেহেতু মৃত্যুর পরে আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আর সংগত কারণেই গোপনে করা অপরাধের শাস্তি আল্লাহ্ তাঁর হাতে রেখেছেন। কেউ প্রকাশ্যে আল্লাহ্, কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধাচারণ করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে শাস্তির বিধান তৈরি করা স্বাভাবিক দাবি।
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সমালোচকদের কথা অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহ্ থেকে উপযুক্ত সমর্থন পাওয়া যাচ্ছেনা ব্লাসফেমি আইনের পক্ষে। কিন্তু সাথে সাথে এটাও বলা যায় এমন আয়াতও তো পাওয়া যাচ্ছেনা যা দ্বারা ব্লাসফেমি আইন তৈরি করতে মানা করা হয়েছে। কাজেই ধর্মদ্রোহীদেরকে নিরস্ত করার জন্য যদি কোন আইন রচিত হয় তাহলে সেটাকে অন্ততঃপক্ষে কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী বলা যাবেনা। মানুষ সে আইনটাকে কিভাবে দেখবে সেটা অন্য বিষয়।
১৯২ টি দেশের সমন্বয়ে আমাদের এ পৃথিবী। প্রতিটি দেশ নিজ নিজ স্বার্বভৌমত্ব নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সম্মানের সাথে। পরিচালিত হচ্ছে লিখিত অথবা অলিখিত সংবিধানের মাধ্যমে। স্বার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে সুরক্ষা দিতে প্রণিত হয়েছে আইনও। সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের অসম্মান করলে শাস্তি প্রদান করার সুযোগ রাখা হয়েছে বিচার ব্যবস্থায়। বাংলাদেশে আইনের সংশোধনী ২০১০ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীক অবমাননার শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা একসঙ্গে উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মহান আল্লাহ সুবহানু তায়ালা আমাদের এ মহাবিশ্ব ও এর ভিতরের সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও মালিক। সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই। তিনি মানুষকে সৃস্টি করেছেন সেরা জীব হিসাবে। সৃষ্টির সেরা ও বিবেক বুদ্ধির অধিকারী হলেও বিভিন্ন দিক থেকে মানুষ খুবই দুর্বল। তাই আল্লাহ্ যুগে যুগে কিতাব পাঠিয়েছেন মানুষের কল্যানের জন্যে। কিতাব অনুযায়ী চলার জন্য পথ প্রদর্শক হিসাবে পাঠানো হয়েছে নবী-রাসুলগণকে। কাজেই সকল বিচারেই আল্লাহ্, তাঁর প্রেরীত কিতাব সমুহ এবং নবী-রাসুলগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অতি সম্মানিত। যেখানে জাতীয় কিছু বিষয় অবমাননার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে সেখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আল্লাহ্ সহ অন্যান্য পবিত্র জিনিস ও ব্যক্তিদের অবমাননার জন্য শাস্তির বিধান তথা ব্লাসফেমি আইন তৈরির বিরোধীতা করার সঙ্গত কোন কারণই থাকতে পারেনা।
এ কথা সত্য ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ধর্মের মূলনীতি গুলোকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য কোন আইন তৈরি করবেনা। তাহলে তারাতো আর ধর্মনিরপেক্ষ থাকেনা। এটা প্রত্যশা করাও ঠিক হবেনা। আর এখান থেকেই আমরা প্রমাণ করতে পারি ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। তবে ঈমানের দাবি অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের উপর চাপ রাখতেই হবে।
ধর্মনিরপেক্ষ সরকার অথবা নামে মাত্র ইসলামী সরকার (যেমন পাকিস্তান। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও আসলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র) যদি ব্লাসফেমি আইন তৈরি করেও তাহলে সে আইনের অপপ্রয়োগের সমুহ সম্ভাবনা থেকেই যাবে। ধর্মনিরপেক্ষ সরকার কখনই কোন কাজের জন্য আল্লাহর নিকট জবাবদিহীতার ধারণা পোষন করেনা। কাজেই ব্লাসফেমি আইন তৈরি ও তার সঠিক প্রয়োগ শুধুমাত্র ধর্মীয় তথা ইসালামী সরকারই করতে পারে। সুতরাং ব্লাসফেমি আইন তৈরি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা একটি অন্যতম শর্ত হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে। |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/AbdulMannan |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|