ভুমিহীন কৃষক পরিবারের সন্তান আমাদের আজকের নায়ক। নিত্য অভাব নিয়ে বেঁচে থাকাই যেখানে সংগ্রাম সেখানে পড়ালেখা করা বিলাসিতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। বছরের অর্ধেক সময় পেটে খাবার পড়লেও বাকী অর্ধেকটা সময় প্রায় না খেয়ে থাকতে হতো তাদের। একবেলা রাখালের কাজ করে অন্য বেলা পড়ালেখায় মত্ত ছিল সেই ছেলেটি। গ্রামের মানুষদের আর্থিক সহযোগিতা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে এই বালকটি ভর্তি হয় মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে,
তারপরের গল্প কেবল এগিয়ে যাওয়ার. . . . . . .কেবল সফলতার।
জামালপুর জেলার অজ-পাড়াগাঁয়ের সেই ছেলেটাই আজকের ড. আতিউর রহমান, স্কুলের হেড মাস্টার বড় কেউ একজন হবে ভেবে যার নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন সেই আতিউর আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতির অধ্যাপক।
আরেক তরুণের গল্প শোন, মাত্র ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ ২০০৪ সালে যখন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির হলে থাকতো তখন শুরু করলো সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম সাইট ফেসবুক। ভার্চুয়াল জগতের সত্যিকারের রাজা এই তরুণ অসাধ্য সাধন করেছে মেধা আর একাগ্রতা দিয়ে।
আজ প্রশ্ন, এত এত সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের তরুণরা কী পিছিয়ে আছে?
না, আমাদের তরুণরাও পিছিয়ে নেই।
আজকের সমাজের মানুষের মধ্যকার চলমান পারস্পরিক অশ্রদ্ধা, অসম্মান; ব্যাক্তিগত জীবনে মূল্যবোধের অবক্ষয়, দায়বদ্ধহীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি; সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনিয়ম, দুর্বলের উপর সবলের নির্যাতন ও অশান্তির বিপরীতে একটি সুন্দর আগামী গড়ার দায়িত্ব তাই তুলে নিতে হবে আজকের তরুণদেরই।
আমাদের সমাজে শিক্ষিত লোকের অভাব তীব্র নয়, তীব্র সৎ, শিক্ষি ও বিবেকবান মানুষের।
৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, মা-বোনের সম্ভ্রমহানি আর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এই সুজলা-সুফলা দেশটি আজও এর যোগ্য নেতৃত্ব পেল না। স্বাধীনতা অর্জনের ৪০ বছরান্তে আজও স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়িত হয়নি।
জাতি আজ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অসৎ, ঘুষখোর, সন্ত্রাসী, কালোবাজারি, দুর্নীতিপরায়ন শাসকের হাতে। আমরা সবাই এই অবস্থার পরিবর্তনে আগ্রহী হলেও উদ্যোগ নেয়ার জন্য উদাসীন। আজকের এই তরুণদের বুঝতে হবে আমাদের ভবিষ্যত পরিবর্তনে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
দেখো আমাদের চারপাশের সবাই ছুটছে আত্মসুখের সন্ধানে, দু’হাতে আয় করছে আর খরচ করছেও দেদার; কিন্তু সুখ কী পাচ্ছে? আমাদের সনাতন পারিবারিক কাঠামো আজ ভেঙে পড়ছে, আমরা ব্যক্তিগত সুখের পেছনে ছুটছি। কিন্তু সুখী মানুষের যে কোনো জামা থাকে না, টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না তা আমরাও বুঝি যখন দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
তাই অর্থ উপার্জনের চেয়েও যে বিষয়টি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় তা হলো, ভালো মানুষ হওয়া, সৎ মানুষ হওয়া, উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া।
আজ জাতির আশা- আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে এই উঠেছে তরুণরা,
এ তোমরাই তো পাল্টে দিয়েছো বছরের পর বছর চলতে থাকা মিসরের নীল নদের জন আশা, তিউনিশিয়ায় জনচাহিদাকে বাস্তবায়িত করেছো এ তোমরাই, এ আমরাই।
আমাদের এই শক্তি আর সাহসকে তাই ওদের এত ভয়।
মাদক আর অপসংস্কৃতি দিয়ে বুদ করে রাখতে চায় আমাদের তরুণদের।
আজ আমাদের শপথ করতে হবে আমরা কখনও মাদক নেব না ..
আমাদের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যময়ী ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের ভেতরকার প্রতিবাদী মানুষটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের মধ্যে তৈরী হচ্ছে এক মনোজাগতিক উপনিবেশ। আর তাই ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতাও আমরা হারিয়ে ফেলছি।
এই সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে আজ তাই সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, মেধাবী মানুষই পারে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। আর তাই মেধাচর্চার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন পালন করা বাধ্যতামূলক, তা যে ধর্মেরই হোক না কেন।
পথ যত বন্ধুর আর কণ্টকাকীর্ণ হোক একাগ্রতা আর মেধা থাকলে যে আমরা যেকোন পরিবর্তন আনতে পারি তার প্রমাণ তো আমাদের মুসা ইব্রাহীম, ড. মুহম্মদ ইউনুস, তিউনিশিয়ার বু আব্দুল আজিজ।
আজকের তরুণরা আগের থেকে অনেক প্রযুক্তিবান্ধব, চাইলে হাতের নিমিষে ঘুরে আসতে পারে ভার্চুয়াল জগত থেকে। ফেসবুক, টুইটার আর ইন্টারনেটের নিত্য নতুন গেজেট পরিবর্তন করে দিচ্ছে তাদের জীবনবোধকে।
কিন্ত এই ভার্চুয়াল জগত আবার আমাদের নিয়ে যাচ্ছে এক ফ্যান্টাসির জগতে। আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে বেখেয়াল হয়ে উঠছি। হয়ে উঠছি বাস্তব বিষয়ে উদাসীন। নিজের অগোচরে জড়িয়ে পড়ছি অপরাধ জগতে।
আবার এ ফেসবুকই এনে দিয়েছে জেসমিন রেভ্যুলেশন।
তাই কানেকটিভিটি গুরুত্বপূর্ণ,
কিন্তু তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজের ভেতরকার মানসের গঠন।
আমরা জানি, আমরা পারবো . . . .
আর তাই দৃঢ় পদক্ষেপে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে শত ভ্রকুটি উপেক্ষা করে, এগুতে হবে ধীরে কিন্তু প্রচন্ড সাহস আর প্রত্যয় নিয়ে।
তরুণরা পারে কিন্তু যারা এরকম একটা আন্দোলন করবে তাদের তো আগে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আপনি মিসরের উদাহরণ দিলেন কিন্তু সেখানকার তরুণ আর এখানকার তরুণদের মধ্যে রাতদিন তফাৎ। কারণ এখানকার তরুণরা বিভিন্নগ্রুপে বিভক্ত। তারপরও আশায় থাকি একদিন না একদিন তারা বুঝবে। লেখাটি ভালো হয়েছে
61630
২
ঢাকা থেকে যোবায়ের লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; রাত ০৮:৪০
এরপরও আমরা স্বপ্ন দেখি ।
61745
৩
সৌদি আরব থেকে সোহাগ লিখেছেন,
১২ জুলাই ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:২৩
পড়ে ভালো লাগলো।
62644
৪
Dhaka থেকে Raju Rafiq লিখেছেন,
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২; দুপুর ০৩:৫১
A very inspiring kind of writing, a very positive creation of well wishing thought. A great many thanks to the writer.
78701
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: