বৃহস্পতিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৭ মে ২০১২; রাত ১১:২৮ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

সবচেয়ে ভালো বন্ধু বল কে?

আবু জারীর

অপু আর তপু খুব ভালো বন্ধু। যেমন তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা তেমনি তারা ছাত্র হিসেবেও কেউ কারো চেয়ে কমনা। অপু ফার্ষ্টতো তপু সেকেন্ড। আবার অপুকে ডিঙ্গিয়ে কখনোবা তপুই ফার্ষ্ট!

এদের দুজনের খাতা দেখতেও স্যারদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। একটু অমনযোগী হলেই রেজাল্ট উলটপালট! ফলে খাতা পূণঃ দেখার চ্যালেঞ্জ আর উনিশ বিশ কিছু হলে স্যারদের মান সম্মান নিয়েই টানাটানি!

এরা দুজনই তালুকদার বাড়ির সন্তান, সম্পর্কে চাচাত জেঠাত ভাই! ওদের সম্পর্ক চাচাত জেঠাত ভাইয়ের হলেও বুঝার উপায় নাই। যেকেউ এক বাক্যে বলে ফেলবে দুজন একই মায়ের টুইন সন্তান!

গ্রামের স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পেলেও তাদের চাহিদামত শিক্ষক না থাকায় ভালো রেজাল্টের আশায় বাড়ি থেকে বেশ দূরে অত্র অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ্য বিদ্যাপিঠ পালর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। অপু আর তপু প্রতিদিন গায়ের মেঠো পথ ধরে সাইকেলে করে তাদের নতুন স্কুলে যাতায়াত করে।

পালর্দি বহুমখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ফার্ষ্টবয় রেজাউল হক রিয়াজ। সেও এবার অষ্টম শ্রেণীতে ট্যানেলপুল বৃত্তি পেয়েছে। রিয়াজ নম্রভদ্র ও মিশুক প্রকৃতির ছেলে। রিয়াজের বাবা একজন বড় আলেম এলাকায়ও বেশ নাম ডাক আছে। বাবার কারণেই হোক বা ইসলাম বুঝার কারণেই হোক রিয়াজ ছোটবেলা থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, লেখাপড়ার ফাকে ফাকে কুরআন হাদীস অধ্যায়ন করে, খেলাধুলা আর সুস্থ্য বিনোদনেও সে কারো থেকে কম যায় না।

গুণগত বিচারে অপু-তপু, রিয়াজের চেয়েও ভালো ছাত্র কিন্তু তাতে কি? রিয়াজ পুরাতন ছাত্র উপরন্ত ক্লাসের ফার্ষ্টবয় আর নতুন হিসেবে ভর্তি হয়েছে অপু আর তপু, ফলে তাদের রোল যথাক্রমে ৯৯ ও ১০০! অর্থাৎ শেষের দিক দিয়ে ওরা প্রথম-দ্বিতীয়।

প্রথম দিন থেকেই রিয়াজ, অপু-তপুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে কিন্তু ওদের দুনজনকেই ভাল ছাত্র হয়েও ক্লাসের পিছনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে। এই স্কুলের একটা নিয়ম হলো রোল নম্বর অনুযায়ী ছাত্রদের সিট প্লান। অপু তপুকে প্রথম বেঞ্চে সিট পেতে হলে অন্তত প্রথম সাময়িক পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আর ফলাফলেও প্রথম দিকে থাকতে হবে নাহয় প্রথম বেঞ্চে সিট মিলবে না।

বসার দূরত্বের কারণে ক্লসে অপু-তপুর সাথে রিয়াজের তেমন একটা কথা নাহলেও ভালো ছাত্র হিসেবে সে ওদের দুজনকে সমিহ করে, সৎ উপদেশ দেয় এবং বিরতির সময় নামাযে ডাকে এবং টিফিন ভাগাভাগি করে খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। প্রথম প্রথম কয়েকদিন বেশ ভালোই জমে থাকে অপু-তপু আর রিয়াজের বন্ধুত্ব।

অপু-তপু ভালো ছাত্র হয়েও রিয়াজের সাথে একই বেঞ্চে বসতে না পারায় রিয়াজের প্রতি ওরা কিছুটা ঈর্ষাকাতর হয়ে পরে। যদিও নিয়মটা স্কুল কর্তৃপক্ষ করেছে কিন্তু তার দায় দায়িত্ব কেন যেন মনের অজান্তেই ওরা দুজন রিয়াজের ঘাড়ে চাপায়! মানুষের মন বড়ই আপেক্ষিক, কারো দুঃখে যেমন ব্যাথিত হয় তেমনি কারো সাফল্যেও ঈর্ষাকাতর হয়! রিয়াজের ক্ষেত্রে অপু-তপুরও তাই হল!

প্রথম প্রথম ওরা রিয়াজের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করলেও দিনদিন তা কেমন যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে! একেতো ওরা নতুন ছাত্র তারপরে বসেও পিছনে তাই স্যারদের নজরও ওদের দিকে তেমন একটা পড়েনা ফলে ওরা কেমন যেন দিনকে দিন চেনা জগতে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। আগের স্কুলে ওদের নামে যেখানে সিন্নি পড়তো আর এই স্কুলে ওদেরকে কেউ ডেকেও জিজ্ঞেস করেনা! গ্রামের স্কুলে বলতে গেলে ওদের চেয়ে ভালো ছাত্র আর কেউ ছিল না আর এখানে ওদের চেয়েও ভালো ছাত্রের কোন অভাব নাই। ফলে গ্রামের স্কুলে ওদের কদর থাকলেও এখানে ওদের খবর নেয়ারও কেউ নাই।

ভালো রেজাল্ট করার জন্য ভালো স্কুলে ভর্তি হলেও ওদের জন্য কেমন যেন তা হিতে বিপরীত হয়েছে। পিছনের বেঞ্চে বসা, স্যারদের অবহেলা আর নতুন পরিবেশের কারণে পড়ালেখার প্রতিও কেমন যেন অমনযোগীতায় ভুগছে।

দুষ্ট ছেলেদের সাথে পিছনে বসার কারণে দিনদিন ওদেরকেও দুষ্টমিতে পেয়ে বসেছে। এখন আর বিরতির সময় রিয়াজের সাথে নামাযে যেতে বা টিফিন ভাগাভাগি করে খেতে ভাল লাগেনা তার চেয়ে বরং পার্শ্ববর্তী দরগাহের খাদেম খাজা সাহেবের পুত্র রেজার সাথে আড্ডা দিতে আর হোটেলে গিয়ে টিফিন খাওয়ার ফাকে ফাকে অশ্লীল হিন্দি ফ্লিম দেখতেই মজা লাগে!

রেজার সাথে ভাব জমে যাওয়ার পরে ইদানিং ওরা টিফিন আওয়ারের পরে আর ক্লাসে থাকছেনা বরং অদূরে বাসস্টান্ডে গিয়ে হোটেলে বসে হিন্দি ফ্লিমে মজে থাকে, মাঝে মধ্যে সিনেমা হলেও ঢু মারে!

দেখতে দেখতে বর্ষা মৌসুম এসে গেলে বাড়ি থেকে সাইকেলে করে ওদের স্কুলে আসতে কষ্ট হওয়ায় ভালো লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে অপু-তপুর বাবা নিজেদের খরচ কমিয়ে ওদেরকে হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। হোস্টেলে উঠতো ওদের পোয়াবার। আগে বাড়িতে যতটুকু বিধি নিষেধ ছিল এখন তাও নাই। ওরা রেজার পাল্লায় পরে এখন সুযোগের পুরা সৎ ব্যবহার করছে, এমনকি মাঝে মাঝে সিগারেটেও টান মারছে!

ভালো রেজাল্টের আশায় ওদের বাবা-মা এত টাকা খরচ করে দূরে হোষ্টেলে রেখে পড়াচ্ছে অথচ ওরা দিনকে দিন উল্টো বখে যাচ্ছে। অপু-তপুর বখে যাওয়ার ঘটনা রিয়াজের চোখ এড়ায়নি! রিয়াজই বরং একদিন স্বেচ্ছায় ওদের হোষ্টেলে এসে বাস্তব অবস্থা দেখে ওদের বুঝানোর চেষ্টা করল এবং এর থেকে বাঁচার জন্য 'মুক্তির পয়গাম' নামে একটা বই পড়তে দিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলনা বরং ওরা রিয়াজের প্রতি আরো বিরক্ত হল!

ইতিমধ্যে নবম শ্রেণী থেকে ওরা দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে ঠিকই কিন্তু রেজাল্টে দেখা গেল ওদের রোল চল্লিশের ঘরে! ওদের মাথায় বাজ পরল কিন্তু কোন প্রতিকার করতে পারলনা। রিয়াজ ওদের অনুপ্রেরণা দেয়ার চেষ্ট করল কিন্তু ফলাফল শূণ্য বরং ওরা রিয়াজকে জঙ্গি মৌলবাদী বলে টিটকারী করতেও কসুর করলনা। বিড়ি সিগারেট না খেলে, মাঝে মধ্যে সিনেমা বায়েস্কোপ না দেখলে নাকি স্মার্টই হওয়া যায়না। ওরা প্রগতির ধারক বাহক হয়ে রিয়াজের মত আল্লাহর নাম জপতে আর দৈনিক পাঁচবার মসজিদে গিয়ে মাথা ঠুকতে পারবেনা বলে জানিয়ে দিল।

রিয়াজের কাছে এমনো খবর আসল যে ওরা তিনজন সিগারেটতো টানছেই মাঝে মধ্যে দরগাহে গিয়া বিভিন্ন উরুস উপলক্ষে গাঞ্জিকায়ও টান মারছে। অবশ্য এর মূলে যে দরগার ছোট খাজার ছেলে রেজার হাত আছে তা বুঝতে রিয়াজের আর বাকী রইলনা। রিয়াজ রেজাকে অপু-তপুর পিছু ছাড়তে বললে রেজার মাথায় তাদের পুরাণা শত্রুতাটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। রিয়াজের বাবা প্রসিদ্ধ আলেম আর রেজার বাবা ধান্দাবাজ দর্গাপন্থী হওয়ায় ওদের দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই একটা শত্রুতার ভাব ছিল তার পরেও রিয়াজ আর রেজার মধ্যে তেমন কোন মনমালিন্য ছিলনা কিন্তু রিয়াজ, অপু-তপুর ব্যাপারে মুখ খোলায় রেজার মাথায় রক্ত চেপে বসে এবং পূরাণা শত্রুতা মথাচাড়া দিয়ে উঠে।

কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিলনা তখন রিয়াজ উপায়ন্ত না পেয়ে অপু-তপুর বাবার কাছে চিঠি লিখে বিস্তারিত ঘটনা জানিয়ে দেয়। দূর্ভাগ্যই বলতে হবে! তবে তা অপু তপুর না রিয়াজের তা সময়ই বলে দিবে কারণ রিয়াজের চিঠি অপু তপুর বাবার কাছে পৌছবার আগেই ওদের হাতে পড়ল, ফলে অপু-তপুর বাস্তব অবস্থা আর তাদের বাবা-মারা জানতে পারলনা।

চিঠিতে যদিও ওদের কল্যাণ কামনা করা হয়েছে তথাপি ওরাও রেজার মত রিয়াজের সাথে শত্রুতা শুরু করল অন্য দিকে এমন ভাব ধরল যে রিয়াজের চিঠি পেয়ে ওদের বাবা-মা ওদের বকেছে আর ওরা সঠিক পথ ধরেছে।

অপুতপু এখন আর স্কুল ফাকি দেয়না বরং স্কুল শেষে প্রায় প্রতিদিন বিকেলেই খাজা পুত্র রেজার সাথে দর্গায় চলে যায়। মধ্যরাত পর্যন্ত গঞ্জিকা সেবন আর ফ্লিম দেখে সময় কাটায়! মাঝে মধ্যে বিভিন্ন নিয়তে দর্গাহে আসা কিশোরীদের সাথে ভাব জমায়। কেউ আশে বৃত্তি পাবার মানত নিয়ে কেউবা এসএসসিতে 'জিপিএ ৫' পাওয়ার মানত করে! দর্গায় এসেই যদি কেউ ভালো রেজাল্ট করত তাহলে খাজা পুত্র রেজা ক্লাসে সবচেয়ে খারাপ রেজাল্ট করে কেন সে প্রশ্ন আধুনিক শিক্ষিত অথচ কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রগতিশীলদের মাথায় ঢুকেনা! সন্তানের আশায়, বেহেস্তের আশায়, মুর্খেরা আল্লাহর পরিবর্তে মাঝারে ছের ঝুকায়! বেহেস্ততো দূরের কথা খাজা নিজেও নিঃসন্তান! নিজে নিঃসন্তান জানলে মাজারে ভক্ত মিলবেনা ভেবে খাজা নিজেই 'রেজাকে' পালক পুত্র হিসেবে লালন পালন করছে অথচ বাহিরে বলে বেড়াচ্ছে যে রেজা তাহার নিজের পুত্র!

দেখতে দেখতে ফাইনাল পরীক্ষা এসে যায়। যথারীতি পরীক্ষাও হয়ে যায়! পরীক্ষার পরে অপু-তপু আর রেজার আড্ডবাজি আরো জমে উঠে! একদিন ওরা দর্গাহের গেটে বসে আড্ডা মারছিল আর ঐ পথ ধরে রিয়াজ বাড়ির দিকে ফিরছিল। ওদের তিনজনকে আড্ডারত দেখে রিয়াজ ওদেরকে সালাম দেয় কিন্তু অপু-তপু আর রেজা সালামের জবাব না দিয়ে বরং চড় থাপ্পর লাথি গুতা আর উষ্ঠা দিতে শুরু করে। এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! রিয়াজ কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই ধরাসায়ি হয়ে যায়। কয়েকজন পথচারী এগিয়ে না আসলে রিয়াজের প্রাণ বায়ুই হয়ত বেড়িয়ে যেত।

অনেকদিন চিকিৎসার পরে রিয়াজ যখন সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফিরে তখনই কাঙ্খিত খুশির খাবরটি আসে। অত্র স্কুল থেকে রিয়াজই একমাত্র গোল্ডেন ফাইভ পেয়েছে। খুশির খবরে রিয়াজের মনের সব কালীমা দূর হয়েগেল এমন কি অপু-তপুর প্রতিও ওর কোন ক্ষোভ রইলনা।

পুরা স্কুলের এসএসসির রেজাল্টে দেখা গেল 'এ+' একমাত্র রিয়াজুল হক রিয়াজ! 'এ' পেয়েছে ২০ জন, অপু তপু সহ ৫০ জন 'এ-' আর রেজা সহ বাকীরা পেয়েছে 'বি'।

অপু-তপুদের গ্রামের স্কুল থেকেও ওর পূর্বের বন্ধুরা 'এ+' না পেলেও অনেকেই 'এ' পেয়েছে! অথচ অপু-তপুর রেজাল্ট এ'-'! অপু-তপুর হিসেবে রেজা ভালো করেছে। অপু-তপুর সাথে না থাকলে হয়ত রেজা 'সি' পেত কিনা সন্দেহ!

এমন বাজে ফলাফল নিয়ে অপু-তপু বাড়িতে যেতে সাহস পাচ্ছিল না আর বাড়িতে না গিয়েও উপায় ছিলনা। রেজার যেহেতু এতটুকু ভালো রেজাল্টেরও আশা ছিলনা সেহেতু সে এ রেজাল্টেই মহা খুশি!

অপু-তপুর সাথে থেকে আশাতীত ভালো রেজাল্ট করে রেজা কেটে পরেছে আর ওরা দুঃখের সাগরেতো ভাসছেই সাথে সাথে রিয়াজকে মারার অপরাধে অন্তদহনে জ্বলছে। স্কুলে গিয়ে নিজের চোখে রেজাল্ট সীট দেখতেও ভয় পাচ্ছে, কারণ রিয়াজদের বাড়ির সামনে দিয়েই স্কুলে যেতে হবে ফলে সুযোগ পেয়ে রিয়াজ যদি পূর্বের ঘটনার প্রতিশোধ নেয়।

অপু-তপু ভয়ে ভয়ে চুপিসারে রেজাল্ট নিয়ে চলে যাওয়ার সময় রিয়াজদের বাড়ির সামনেই রিয়াজের মুখমুখি হয়ে যায়! কথায় আছেনা যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়! যার জন্য রাজ্য ছাড়া সেই কিনা সামনে খাড়া! রিয়াজকে দেখেতো অপু-তপুর ত্রাহী মধুসূদন অবস্থা! দৌড় দিয়ে পালাবে নাকি রিয়াজের হাতে উত্তম মধ্যম খাবে তাই ভাবছিল। মার খাওয়ার চেয়ে দৌড়ে পালানো যে আরও অপমানজনক তাই ভেবে আপাতত পালানর চিন্তা ত্যাগ করে ভয়ে ভয়ে রিয়াজের দিকে এগিয়ে চললো। রিয়াজ অবশ্য অন্য বন্ধুদের সাথে গল্প করতে থাকায় অপ-তপুর চলে যাওয়ার দিকে খেয়াল করেনি।

রিয়াজকে ক্রস করেই অপু-তুপু হাটার গতি বাড়িয়ে দিল কিন্তু ততক্ষণে রিয়াজ ওদের দেখে ফেলেছে। রিয়াজ অপু তপুকে দাঁড়াতে বলে বন্ধুদের সহ ওদের দিকে এগিয়ে গেল। অপু-তপুর পা কাপছিল, মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছিলনা। নিজেদের চরম অপমানের অপেক্ষা করছিল। কিছুই বুঝতে পারছিলনা যে এমন পরিস্থিতিতে কি করা দরকার।

রিয়াজ ওদের কাছে গিয়ে পূর্বের ন্যায় সালাম দিয়ে অপু-তপুর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ভয়ে ভয়ে অপু-তপুও ওরদিকে হাত বাড়াল কিন্তু ভয়ে দাঁতে দাঁত লেগে আসায় সালামের জবাব ঠোটের ফাক গলিয়ে বেরুলোনা। রিয়াজ ওদেরকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বল্ল, 'বন্ধু তোমাদের ব্যথায় আজ আমি সম ব্যথি। তোমরা আমার চেয়েও ভালো ছাত্র ছিলে কিন্তু অসৎ সংঘের কারণে আজ তোমাদের এই করুণ পরিণতি। তবে চিন্তা করনা বন্ধু! এখনো সময় আছে, অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এস। কেবল মাত্র জীবনের শুরু এখনো সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। কথায় আছে শেষ ভাল যার সব ভাল তার'।

রিয়াজের কাছ থেকে এরকম মহৎ আচরণ অপু-তপুর মনে খুব দাগ কাটল। বাসায় এসে রিয়াজের দেয়া 'মুক্তির পয়গাম' বইটা খুঁজে বের করে দুজনে মিলেই বার বার কমপক্ষে দশবার করে পড়ল। বইটার বক্তব্যগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিল, তারাও নিজেদের জীবনকে বদলিয়ে ফেলবে। আর কোনদিন বিড়ি সিগারেট, গঞ্জিকা স্পর্শ করবেনা, দর্গাহে যাবেনা বরং গুরুজনের আদেশ আর স্বধর্মের বিধিবিধান মেনে চলবে।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AbuJarir
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
মালয়েশিয়া থেকে সর্বহারা লিখেছেন, ১৩ ডিসেম্বর ২০১১; বিকেল ০৫:৪৯
জনাব আবু জারীর ভাই, কেমন আছেন?
চমৎকার লিখেছেন। যদিও আপনাকে কখনো খারাপ লিখতে দেখিনি।
সুন্দর গল্পের মাধ্যমেই বাস্তবতার উপলব্ধি করার সুযোগ করে দিলেন।
আমি (মুহাম্মদ হাফিজ রহমান) ব্লগে সর্বহারা নামে লিখি। এ সংখ্যায় অবশ্য আমার একটা লেখা ছাপা হয়েছে "হৃদয়ের আর্তনাদে বাংলাদেশ" নামে লিখেছি। ভালো থাকবেন ভাই।

দোয়া প্রার্থী।
সর্বহারা।
73534
রিয়াদ, সৌদি আরব থেকে লোকমান বিন নূর হাশেম লিখেছেন, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১; রাত ১০:১৪
আবু জারীর ভাইকে অনেক ধন্যবাদ একটি সুন্দর পোস্ট উপহার দেয়ার জন্য। নিয়মিত আপনার লেখা চাই।
73710
সাউদি আরব রিয়াদ থেকে সেলিম মৃধা লিখেছেন, ২০ ডিসেম্বর ২০১১; রাত ০৮:৫৬
ভাই আপনার লেখা পড়লাম এবং লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই
ভাল থাকুন সব সময় ভাই শেষ কথা হলো দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে ভুলবেন না
74108
রাজশাহী থেকে মো: আকরাম হোসেন লিখেছেন, ২১ ডিসেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৩৪
ভাইয়া আমি অনেক দিন থেকে কোন গল্প পড়িনা। কেন জানিনা, ভাল লাগে না পড়তে কিন্তু আপনার এই গল্পটি পড়লাম আমার খুব ভাল লাগল। ভাইয়া আমি চাই আমার মত পাঠকদের আপনি এর চেয়ে আরো সুন্দর সুন্দর গল্প উপহার দিবেন। আর আপনার এই গল্প ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না আমার কতটা ভাল লেগেছে।
74199
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy