বৃহস্পতিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৭ মে ২০১২; রাত ১১:৩৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

এ কেমন জমি সংরক্ষণ!

আবু তাহের

হায়রে কপাল পোড়া বাঙ্গালী, হায়রে দেশ, হায়রে জাতি। কথাটা খুব দুঃখ নিয়ে এই সূদুর কোরিয়া বসে লিখছি। আমি ইনহা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি প্রোগ্রামে আছি। আমার প্রতি দিনের ব্যক্তিগত রুটিন হল দুপুরের খাবারের পর পেপার পড়া কিন্তু আজ (মার্চ ৯, ২০১১) খুব ব্যস্ত থাকায় সেটা হয়নি ফলে রাতে পেপার নিয়ে বসলাম। পেপার পরতে গিয়ে দেখলাম অধিকাংশ পেপার এ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অব্যাহতি, নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রতিবাদে হরতাল, শেয়ারবাজার প্রভৃতি প্রাধান্য পেয়েছে। এই পড়াগুলো পড়তে না পড়তেই চোখে পড়ল ভূমি ব্যবহার আইনের খসড়া যেটা আমার কাছে খুবই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাই শত ব্যস্ততার মধ্যেও লিখতে বসলাম জাতির উদ্দেশ্যে। জানি না জাতি আমার কথাগুলো কিভাবে নিবে বা আদো তাদের কোন উপকারে আসবে কিনা।

এখানে ভূমি ব্যবহার আইনের খসড়াতে বলা হয়েছে এখন থেকে কেউ কৃষি জমি নষ্ট করে বসতভিটা, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারবেন না। এমনকি নিজের জমিতে ইমারত নির্মাণেও সরকারের অনুমতি নিতে হবে। কেউ এটা অমান্য করলে তিনি ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা আর্থিক দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আইনটা দেখে আমার এমন মনে হচ্ছে যে, দুইদিন পর আবার আইন হবে জমিতে লাঙ্গল দিতে হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে ।এভাবে নাকি কৃষি জমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা পরে আইনে পরিণত হবে। উনাদের এই মহান উদ্যোগ কতটা জাতীর উন্নয়নে অবদান রাখবে সেটা আমি বলতে পারব না তবে আমি উনাদের এই মতের ঘোর বিরোধী। কারণ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যেখানে শিল্পকারখানা করতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে আমরা সেখানে এমন সব আইন করছি যা শিল্পকারখানার অন্তরায়। শিল্পকারখানা না হলে কিভাবে জাতীর উন্নয়ন সম্ভব? আমার এই প্রশ্ন যারা এই ধরনের আইন প্রনেতা, চিন্তাবিদ তাদের নিকট। দেশে যেখানে লক্ষ লক্ষ বেকার রাজ পথে ঘুরছে একটা চাকরির জন্য। এমন বেকারদের জন্য আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের শহরগুলোর রাস্তায় চলতে কষ্ট হয়। অনেকের বাবা-মার আর্থিক অবস্থা ততটা স্বচ্ছল না ফলে রাজ পথে এভাবে দিনের পর দিন চলাও সম্ভব হয় না। কারণ এখানে দরখাস্ত করতেও গুনতে হয় প্রচুর টাকা। আর তখন কবিতার ভাষায় বলতে হয় এই বাংলায় “জন্মই আমার আজন্ম পাপ”।

এমন সব অবস্থায় আমাদের উচিত শিল্পকারখানা করতে উৎসাহিত করা। শিল্পকারখানা বৃদ্ধি পাইলে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে কমবে আমাদের বেকারত্বের হার, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে জাতি, হাসি ফুটবে বাংলার ঘরে ঘরে। যে বাবাটা আজ অনেক টাকা ব্যয় করে সন্তানকে শিক্ষিত করেও কোন আশার আলো দেখতে পারছেনা তাকেও আর ছেলের অভিশপ্ত জীবন দেখতে দেখতে মরতে হবে না। বন্ধ হবে আমাদের অতি বন্ধু প্রতিম সাহায্য দাতা উন্নত দেশের পণ্য আমদানি। যারা কথায় কথায় আমাদেরকে শাসন করতে চায়, নাক গলায় আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিটি ব্যাপারে। এই উন্নত দেশগুলো আমাদেরকে এখন এমনভাবে ধরছে যেন আমরা ওদের পণ্য কিনতে বাধ্য হই। ফলে নামে মাত্র সাহায্য রুপি ঋণের বোঝা আমাদের উপর চাপায়ে দিচ্ছে, করতে দিচ্ছে না কোন উন্নত শিল্পকারখানা। আর এগুলো করে তারা ডিজিটাল সিষ্টেমে যখন যে সরকার ক্ষমতায় যায় সে সরকারের মাধ্যমে। তৎকালীন বৃটিশরা আমাদেরকে অত্যাচার, শাসন, শোষন করেছিলো দেশ দখল করে। তাদের সেই অত্যাচারের কাহিনী আমাদের সবারই জানা। বর্তমানে দাতা নামে উন্নত দেশগুলো আমাদেরকে এমনভাবে শোষণ, শাসন ও অত্যাচার করে চলেছে যা তৎকালীন বৃটিশদেরও হার মানাচ্ছে। তাই আমার মনে হয় নতুন নতুন এইসব ভিত্তিহীন জাতি ধংসকারী আইন তৈরী না করে এমন নতুন নতুন কৌশল তৈরী করা যা জাতি গঠনে অবদান রাখবে। এখন আমরা এমন এক যুগে বাস করছি সেখানে একটু ভুল হলেই জাতি এতটা পিছিয়ে পরবে যা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা অসম্ভব। তাই আমাদের বিজ্ঞদের প্রতি আমার আকুল আবেদন আপনারা শিল্পকলকারখানা ক্ষেত্রে উদার নীতি অবলম্বন করুন। এটা আমাদের সকলেই জানা জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিজনে মোট ভূমির পরিমাণ গড়ে ২৪ শতাংশ এবং চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১৫ শতাংশ। দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ জনসংখ্যা বাড়ছে। ফলে বারতি জনসংখ্যার জন্য আবাদি জমি ধ্বংস করে করতে হচ্ছে বসতবাড়ী।

আর এভাবে চলতে থাকলে একদিন এই ছোট আয়তনের বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে আমরা দেখতে পাব না। তাই অবশ্যই এখন থেকেই এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, বের করতে হবে এমন পন্থা যা এই বারতি জনসংখ্যা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, আমরা আজ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করে জনসংখ্যার উপর এমন সব নিয়ম বা আইন তৈরী করছি যা হইত একদিন মানুষকে মানুষ হিসাবে বাঁচার অধীকারটুকু দিবে না। তাই আমার পরামর্শ আমাদেরকে আরও একধাপ এগিয়ে কল্পনা করতে হবে মানে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য। আর এ কাজের প্রধান হাতিয়ার হল (১) জাতিকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করা (২) জাতিকে সচেতন করা (৩) দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের যে পদ্ধতি প্রচলিত আছে তাকে আরও কার্যকর করা। যেখানে অনেক উন্নত ও বিশাল আয়তনের দেশে জনসংখ্যা এখন মাইনাস এর দিকে সেখানে আমরা কি একবারও আমদের পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভাবতে পারি না?

আমদের বিজ্ঞ আইন প্রনেতারা নাকি বিভিন্ন দেশের ভূমি ব্যবহার আইন পরীক্ষানিরীক্ষা করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ আইনের খসড়া তৈরি করেছেন। উনারা কি সেই সকল দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান, শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নয়ন সূচক, নৈতিকতা বিশেষ করে দূর্নীতি এগুলো আমাদের দেশের সাথে তুলনা করে দেখেছেন? এখানেই আমার সব থেকে বড় ভয় কারণ আমার মনে হচ্ছে ঘুষ লেনদেনের আর একটা বড় ধরনের ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে। খসড়াতে বলা হচ্ছে উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে সরকার এ ব্যপারে অনুমতি দিবে। আর আমরা দেখেছি এই ধরণের অনুমতির ক্ষেত্রে টাকা হলে সহজে অনুমতি মিলে। উদাহরণ হিসাবে আমাদের অতি পরিচিত রাউক এর কথা বলা যায় সেখানেও তো ভূমি ব্যবহার এবং অবকাঠামো নির্মাণে অনুমতির কথা বলা হয়েছে যেখানে টাকা হলে অনেক অনুমতি মিলে (টিআইবি প্রতিবেদন ২০০৭)। পরিশেষে বলব অপ্রয়োজনীয় নতুন নতুন আইন নয় বরং নতুন নতুন উন্নয়নমূলক গবেষণাই হোক আমাদের আগামী দিনের দিক নির্দেশনা যা জাতিকে নিয়ে জেতে পারে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে।

লেখকঃ ইনহা ইউনিভার্সিটি, দক্ষিণ কোরিয়া।
taher_ru@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AbuTaher
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
জাপান থেকে বুলবুল লিখেছেন, ১৩ মার্চ ২০১১; সকাল ০৭:১২
তাহের লেখার জগতে অভিনন্দন রইল। I expect your continuation.
50814
সিজুওকা ইউনির্ভাসিটি, জাপান থেকে মো. নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ১৩ মার্চ ২০১১; রাত ০৯:৫৭
লেখার জন্য ধন্যবাদ, জাতির বিবেকে যদি একটু দোলা দেয় তবে লেখাটি স্বার্থক হবে।
50891
জেদদা,সৌদী আরব থেকে আবু নুসরাত লিখেছেন, ১৬ মার্চ ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:০২
জনাব আবু তাহের সাহেব ,আপনার সুন্দর ও যুক্তিপূর্ণ লেখার আপনাকে ধন্যবাদ ।
51164
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আবু তাহের লিখেছেন, ২১ মার্চ ২০১১; বিকেল ০৫:২৬
আবু নুসরাত ভাই,
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ...
51590
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy