বৃহস্পতিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৭ মে ২০১২; রাত ১১:৪৩ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

জাতির বিবেকঃ যেখানে বিবেক নিয়েই প্রশ্ন

আবু জুহাইরিন

ধরুন আপনি আপনার গ্রামের ইউিনয়ন পরিষদের একজন মেম্বার।স্বভাবতই আপনার এলাকার জনগনের কিছু আশা-প্রত্যাশা থাকবে আপনার প্রতি। যেমন ধরা যাক, পারাপারের জন্য খালের উপর একটি সাঁকো, বাড়ির পাশের স্কুল মেরামতের জন্য দু-চারটি টিন, এক বাড়ী থেকে অন্য বাড়ী যাওয়ার জন্য ভেংগে যাওয়া রাস্তার উপর একটু মাটি ফেলা,ইত্যাদি ইত্যাদি ধরনের ছোট ছোট কাজ। কিন্তু সেই আপনি যদি একজন সংসদ সদস্য হয়ে যান,আপনি কি মনে করেন যে আপনার প্রতি এলাকার জনগনের আশার ব্যাপ্তি ঠিক আগের মত সেই ছোট ছোট বিষয় এর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে? অবশ্যই না। আশার পরিধী হয়তো বেড়ে গিয়ে সেটা ঠেকবে পারাপারের জন্য খালের উপর সেই সাঁকোর পরিবর্তে নদীর উপর একটি ব্রীজ,রাস্তার উপর একটু মাটি ভরাটের পরিবর্তে নতুন/পাকা রাস্তা, স্কুল মেরামতের জন্য দু-চারটি টিন এর পরিবর্তে নতুন নতুন স্কুল ও কলেজ নির্মান ইত্যাদি।

সম্মানিত পাঠক, আসলে আমি যে বিষয়ের প্রতি আপনাদের সু-দৃষ্টি আকর্ষন করছি, তা হল মানুষের পদ পরিবর্তনের সাথে সাথে তার কাজের ধরণ ও পরিধি, দায়িত্ব ও দায়িত্ববোধ, সর্বপরি তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের পরিবর্তন। বিখ্যাত নাট্যকার মুনির চৌধুরী তাঁর “রক্তাক্ত প্রান্তর” নাটকে লিখেছিলেন “মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়”। আসলে জীবনের এই চলার ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তন হচ্ছে একটি চলমান প্রক্রিয়া যা চিরন্তন সত্য। আর যদি পদ পরিবর্তনের ব্যপার হয়, তা হলে তার সাথে সাথে দায়িত্ববোধের পরিবর্তন হওয়া আবশ্যম্ভাভী। সচেতন পাঠক মহল অবশ্যই এ ব্যপারটি আমার চাইতে বেশী ভাল ভাবেই অবগত আছেন।

আবারো একটু ফিরে আসি ছোট একটি তুলনামুলক পর্যালচনায়। আচ্ছা, বলুন তো, একজন সাংবাদিক এবং একজন সাধারন ব্যাক্তির মধ্যকার মূল পার্থক্যটা কোথায়? প্রশ্নটা যদি করা হয় একজন সাধারন ব্যাক্তির জন্য, উত্তর হয়তো আসবে এরকম যে, ইচ্ছা করলে একজন সাধারন ব্যাক্তি অবলিলায় বলে ফেলতে পারেন তার মনের গহীনে লুকানো এবং অপ্রকাশিত অনেক কথা,আর স্বাধীন দেশের এই বাক স্বাধীনতার জন্য তাকে কোন ট্যাক্সও প্রদান করতে হয়না। যদি হতো, তাহলে বাংলাদেশের মত হাজারো দেশ বিক্রি করলেও তা জোগার করা সম্ভব হতো না। যাই হোক,এই সাধারন শ্রেনীর লোকদের অতি সাধারন কথা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় বোধ করি কারোরই নেই। আপরদিকে, একজন সাংবাদিক তার লেখনির মাধ্যমে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরেন, যা কিনা বিভিন্ন মহলে দিনের পর দিন আলোচনার খোরাক হয়, ছড়িয়ে পরে শহর থেকে শুরু করে পাড়ায়-মহল্লায়,প্রতিটি গ্রামের কোনায় কোনায় এবং মানবীক চেতনার রন্দ্রে রন্দ্রে। এমনকি আলোচনা হয় দেশের সীমারেখা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিসরের বিভিন্ন প্রান্তরে, বিভিন্ন আঙ্গিকে।

মনোযোগ দেয়া যাক মূল আলোচনায়। সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন গবেষনার বিভিন্ন বিশ্লেষন থেকে আমরা জানতে পারি যে, বর্তমান বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জি,ডি,পির প্রায় ৬৫-৭৫ ভাগ আসে সেবা সংস্থা থেকে। জি,ডি,পি সংক্রান্ত এই তথ্যটি দিয়েছিলেন মার্কেটিং এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পন্ডিত ব্যক্তিত্ব Philip Kotler, ২০০৩ সালে। আমারা আরো দেখতে পাই যে,সেবা সংস্থার তালিকার উপরের দিকের আসন গুলোর মধ্যে যে সব সংস্থাগুলো উল্যেখযোগ্য স্থান দখল করে আসছে “জাতির বিবেক” খ্যাত সংবাদপত্রের স্থান অন্যতম। যেহেতু সেবার দিক দিয়ে সংবাদ পত্রের স্থান অনেক উপরে তাই এর সঠিক মান নিয়ে চিন্তা, আলোচনা এবং পর্যালোচনা মোটেও অমলূক নয়, বরং অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

ইদানিং আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের দেশের প্রথম সারির অনেক সংবাদপত্রই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন না করে এমন এমন সব সংবাদ পরিবেশন করছে যা শুধু বর্তমান সমাজকে নৈরায্য ও অস্থিতশিল অবস্থার মধ্যেই ঠেলে দিচ্ছে না, বরং প্রানের চেয়েও প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশকে এক অন্ধকার ও গভীর সংকটের দিকে ধাবিত করছে। একজন সাংবাদিক একজন ব্যক্তি শুধু নয়, একাধারে তিনি একটি সমাজ, একটি জাতি এবং একটি রাষ্ট্রও বটে। কেউ যদি চান, তারপক্ষে প্রতিদিন অসংখ্য প্রকাশিত লেখা খুজে বের করা সম্ভব, যার ভিত্তি হচ্ছে কাল্পনিক, মিথ্যা, বানোয়াট এবং প্রকৃত তথ্য-বিহীন। যা কিনা এক কথায় বলা যেতে পারে একজন সাংবাদিকের সাংবাদিকতা পেশায় সেবার মানের সম্পুর্নই পরিপন্থী। আজ আমার লেখার উদ্দেশ্য সেই মিথ্যার বেসাতিতে পরিপূর্ণ প্রকাশিত সংবাদগুলোক খুঁজে বের করা নয় বরং সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সাংবাদিক ভাইয়েরা যারা দেশ ও জাতিকে তাদের ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে উত্তম সেবা দিতে চান,তাদের সেবার মান সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা।

এখানে ভাবনার কোন আবকাশ নেই যে নিন্মোক্ত যে বিষয়গুলো আমি উপস্থাপন করতে যাচ্ছি তা একজন সাংবাদিক জানেন না; বরং আমি বলব যে, তারা আমার চাইতে অবশ্যই ভাল জানেন,কারন সেটাই তাদের পেশা। এখানে আমার লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংবাদ লেখায় সেবার মান নিশ্চিত হওয়ার উপাদানগুলো বিনয়ের সাথে মনে করিয়ে দেয়া।

কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের অধীনে যে সব বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে, সেবার মান (সার্ভিস কোয়ালিটি) নিঃসন্দেহে তাদের ভিতরে অন্যতম। হাজারো স্কলারগন (Scholar) প্রতিনিয়তই তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এর উপর। আলোচিত কয়েকজন স্কলারদের মধ্যে Parasuraman, Zeithaml এবং Berry ‘র নাম বিশেষভাবে উল্যেখযোগ্য। তাদের লেখা ও প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধে “SERVQUAL model” টি সেবার মান (সার্ভিস কোয়ালিটি)-এ বাইবেল হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে দীর্ঘ দিন থেকেই। আশা করি এ ব্যপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না। “SERVQUAL model” এর আলোকে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো গভীর যত্ন সহকারে অনুসরনের মাধ্যমে একজন সাংবাদিক তার সাংবাদিকতা পেশায় সেবার মানের উন্নতি নিশ্চিত করতে পারবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

১।বিশ্বস্থতা ও নির্ভরযোগ্যতাঃ ইংরেজীতে একটি কথা আছে “Quality is much important than quantity”। গত এক দশকে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের একটি বিপ্লব সাধিত হয়েছে বললে ভুল হবেনা। এই বিপ্লব সাধনের সাথে সাথেই হাজারো প্রশ্ন উকিঁ দিচ্ছে আমাদের মনের কোনে। আসলেই কি সংবাদপত্রগুলো পারছে তাদের কাঙ্ক্ষিত মান অনুযায়ী সংবাদ পরিবেশন করতে? আমরা কি পাচ্ছি প্রতিনিয়ত সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ? নাকি আমরা পাচ্ছি সেই সমাজ, যেখানে উস্কে দেওয়া সংবাদকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা বিরাজ করছে সবসময়ই? এটাতো দিবালোকের মতই স্পষ্ট যে, যেখানে একটি হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করেই চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে বিরোধী দলের উপর, অপরদিকে হাজারো হত্যাকান্ড ধামা-চাপা পড়ে যাচ্ছে সেই সংবাদপত্রের বদৌলতেই। এখানে বলা বাহুল্য যে,যদিও কিছু সংখ্যক সাংবাদিক ভাইয়েরা যারা লেখনির মাধ্যমে দেশ ও জনগনের সেবা করতে চান, কিন্তু সাংবাদিকদের একটা বিরাট অংশ এ পেশার মাধ্যমে তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং গুটিকয়েক ব্যক্তির রাজী-খুশি বা স্বার্থসিদ্ধিকেই বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা এটাও লক্ষ্য করছি যে, সুনামধারী অনেক সংবাদপত্র যারা লাল কালীর বড় বড় শিরোনাম দিয়ে প্রতিদিন অনেক লেখা প্রকাশ করেন, কিন্তু অনেক সময়ই বিস্তারিত সংবাদের সাথে শিরনামের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে প্রতিনিয়তই প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে তাদের সংবাদের বিশ্বস্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। ফলে উক্ত সংবাদ্গুলো আমাদের সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করে কাজ করছে মরন-ব্যাধির মতই, যেটা জাতির বিবেক খ্যত সাংবাদিকদের কাছে মোটেও প্রত্যাশিত নয়।

২।দায়িত্ববোধঃ একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভব একমাত্র তখনই যখন একজন সাংবাদিক তার দায়িত্বের ব্যাপারে থাকবেন যথেষ্ট সচেতন। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার প্রকৃত সংজ্ঞা কি? অর্থগত দিক থেকে এর সংজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছিনা। দায়িত্ববোধ বা দায়িত্বসচেতন সংবাদ তখনই বলে গন্য হবে যখন প্রকাশিত সংবাদে কখনোই কোন মানুষ বিভ্রান্ত হবেন না, কিংবা প্রকাশিত সংবাদ ও সাংবাদিক এর ব্যপারে থাকবেনা কোন প্রশ্ন। সেই সাথে লেখায় থাকবেনা কোন ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠিগত ক্রোধ অথবা আক্রোশ, বরং সবার কাছেই থাকবে এর সমান গ্রহনযোগ্যতা। পক্ষান্তরে এমন সংবাদ পরিবেশন করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে যেটার ফলে দেশের অনেক গুরুত্বপুর্ন বিষয়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট ও অপ্রয়োজনীয় ব্যাপার নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস।

৩।যোগ্যতাসম্পন্নঃ এখানে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তি জীবনের যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ এবং ইচ্ছা কোনটাই আমার নেই। বরং এখানে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তি জীবনের চেয়ে কর্ম ক্ষেত্রের দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ইত্যাদি উপাদানে গড়া যোগ্যতার মাধ্যমে সত্যনিষ্ট, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক সংবাদ পরিবেশনকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। উপরে উল্যেখিত বিষয়গুলো ছাড়াও আরো যেসব বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দৃষ্টিপাত করা দরকার তা হল;সংবাদ লেখায় ব্যক্তিগত চরিত্রের ও নীত নৈতিকতার প্রতিফলন, লেখার বিষয়ের প্রতি পরিপূর্ন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, এবং সর্বপরি পাঠক সম্পর্কে ওয়াকিফহাল।

৪।নিরপেক্ষতা, সৌজন্যতাবোধ ও নিরাপত্তা বিধানঃ হয়তো এমন একটি সময় ছিল যখন কোন একটি সংবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছিল খুবই একটি দুরুহ ব্যাপার। চেষ্টা করা হতো প্রত্যেকটি সংবাদকে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করতে। কিন্তু দিন বদলের দিনে এবং সময়ের ব্যবধানে সংবাদ উপস্থাপনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক । প্রথম সারির অনেক দৈনিক সংবাদপত্রই মত প্রকাশের সজ্ঞাকে সজ্ঞায়ীত করছেন চোখে ধুলা দিয়ে, নির্লজ্জ ভাবে! এছাড়াও আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি যে, এরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রনোদিত হয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সম্মানীত ব্যক্তিগনকে বিভিন্ন শিরোনামে নিয়ে আসেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে এটাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তারা রাজনৈতিক ও আদর্শিক আক্রোশ মেটানোর জন্য উক্ত ব্যক্তিগনের প্রতি নুন্যতম সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতাটুকু পোষন করেন না। যা কিনা জাতির বিবেকখ্যত সাংবাদিকদের জন্য মোটেও শোভনীয় নয়।

পরিশেষে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখার সময় স্বাধীনচেতা ও আত্ননির্ভরশীল মানুষের মনের মধ্যে যে সব বিষয়গুল অত্যন্ত যত্নের সাথে লুকায়িত থাকে, তা হলো মানুষের চাহিদার প্রধান পাঁচটি উপকরন খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সার্বিক নিশ্চয়তাসহ একটি সোনার দেশ যেখানে সর্বদাই বিরাজ করবে নির্ঝঞ্জাট, শান্তিপূর্ন এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ। কিন্তু এর কতটকুই আমরা অর্জন করতে পেরেছি স্বাধীনতা উত্তর ৩৯ বছরে? বরং আমাদের দেশে রয়েছে হাজারো সমস্যা; যেখানে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি, বিদ্যুত পানি আর গ্যাস যেন আলাদিনের চেরাগ, অসহনীয় যানযট যেখানে দুর্ভোগের চরমে, টেন্ডারবাজী, হত্যা, ধর্ষণ মনে হয় যেনো প্রতিদিনের রুটিন। এমন কি, ইদানিং তো দেখতে পাচ্ছি ইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারন ছাত্রীদের উপর চলছে অমানবিক অত্যাচার, পাষবিক এবং দৈহিক নির্যাতন। যাকে এক কথায় আমরা বলতে পারি বাংলাদেশের ইতিহাসের সচেয়ে বড় দুর্দিন, মহা-সংকট ও কলঙ্কময় অধ্যায়। সরকারের পক্ষ থেকে এসবের প্রতিকারের ব্যাবস্থা তো নেই’ই, উপরুন্ত একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক তো বলেই ফেললেন যে এটা একটা ছোট-খাটো ঘটনা। আজ দেশবাশীর পক্ষ থেকে সেই সম্পাদকের কাছে বিনয়ের সাথে আমার খুব জানতে ইচ্ছা করেছে যে, ইডেনের সেই বোনদের মধ্যে যদি আপনার বোন থাকতো তাহলে কি পারতেন এই ধরনের নির্লজ্জ মন্তব্য পেশ করতে? মানুষ হলে অবশ্যই পারতেন না!

এই মহা-সংকটের পরও যখন কোন সাংবাদিক তার সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে উপরোক্ত বিষয়গুলোকে সম্পুর্নভাবে এড়িয়ে ছোটখাটো ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে বেশী গুরুত্ব দিয়ে দেশকে একটা বিশৃঙ্খল ও নৈরায্যকর পরিবেশের দিকে ঠেলে দেন, তখনই স্বাধীন বাংলাদেশের লেখার স্বাধীনতা নিয়ে দানা বাধতে শুরু করে হাজারো প্রশ্নের। এক পর্যায়ে সেই হাজারো প্রশ্ন রুপান্তরিত হয় কোটিতে,দল বেধে জানতে চায় “আসলেই কি এরা জাতির বিবেক”?

abuzuhairin@gmail.com, PhD Candidate , Business Administration
International Islamic University Malaysia
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AbuZuhairin
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
কুয়ালালুমপুর থেকে কাউয়ান লিখেছেন, ০৭ অগাস্ট ২০১০; রাত ০৯:৪৬
আপনিতো দেখছি সাংবাদিককে না খাওয়াইয়া মারার ফন্দি আটতাছেন। জাহান্নামে যাক দেশ, আগেতো নিজে বাঁচি। নিজে বাঁচলে বাপের নাম।
আর কিছু আছে , যেমনঃ আবেদ খান, আগাচৌ, মতিউর রহমান, এবি এম মুসা, গোলাম সারোয়ার, টক শোতে লম্বা লম্বা কথার রাজা নাইমুল ইসলাম খান সহ আরও অনেক। তবে এগুলো পালের গোদা। যা পরিবর্তন যোগ্য নয়। তার মধ্যে নাইমুল আর সারোয়ার বহুরুপী।

ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখা উপহার দেবার জন্য
কাউয়ান
30831
সাইপ্রাস থেকে মোস্তাক আহমদ লিখেছেন, ০৭ অগাস্ট ২০১০; রাত ১০:১৫
লেখককে ধন্যবাদ। বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক টাকার জন্য লেখে তাই এই অবস্হা। সাংবাদিকদেরকে জাতির বিবেক বলে "বিবেক "শব্দের মান-সম্নান নস্ট করা ঠিক না।
30839
নভোমণ্ডল থেকে অর্ক্য লিখেছেন, ০৯ অগাস্ট ২০১০; রাত ০১:৪৯
আমাদের মিডিয়া ঘটনাগুলোকে যে ভাবে প্রকাশ করে সেটিই সত্য বলে বিবেচিত হয়। যার ভিত্তি হচ্ছে কাল্পনিক, মিথ্যা, বানোয়াট এবং প্রকৃত তথ্য-বিহীন। অন্যদিকে আসল সত্যটা হয়তো অধরায় রয়ে যায়।
ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখা উপহার দেবার জন্য ।

সাংবাদিক ধরে মার দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজ়ন।
31019
madrid থেকে ৃalam লিখেছেন, ১১ অগাস্ট ২০১০; দুপুর ০৩:৫৭
chore na sone dhormer kahini. jader jonno e lekha. tara to vhai gondarer chamra. oder bibek o ridoy bolte kisu nai.jatir somosto durvhoger jonno e papisto ra e dai. are tader modhe jara bibek ban, tara nana hoyranir sikar.
31426
fnf থেকে আক্কাস লিখেছেন, ১৩ অগাস্ট ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৫৯
চুন্দর লিকেচেন বাইয়া, কিন্তু বাইয়া আপনার এই লিকাটা যদি চাংবাদিকেরা পড়ে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করে তাহলে কিন্তু বাইয়া চমচ্যা হয়ে যাবে। চাবদানে তাকবেন বাইয়া।
31664
জেদ্দা থেকে মোঃ আইয়ুব আলী লিখেছেন, ২১ অগাস্ট ২০১০; রাত ০১:৪৩
জনাব,আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনি যে কথা গুলো লিখেছেন উলু বনে মুক্তা ছড়ানোর মত। আমাদের দেশের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম তাই লিখে যা লিখলে ভারত খুশি হবে। দেশের প্রয়োজনে বা কল্যাণে এেদর লেখা লেখি হয় খুবই কম। আমি ছোট থাকতেই একটা প্রাণিকে ঘৃণা করতে শিখেছি সে হলো পুলিশ।এরও একটা কারণ আছে। আমার বয়স যখন ৯/১০ বছর আমি রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে। সম্ভবত ৈস্বরাচার এরশাদের সময়ের কথা। নির্বাচনের কেন্দ্রে কিছু একটা হয়েছে তা নিয়ে মানুষ হৈ চৈ করছে। হঠাৎ করে একজন পুলিশের লোক এসে আমাকে দিলো এক পিটা। আমি লোকটির দিকে তাকিয়ে থাকলাম্ আমি জানতে পারলাম না লোকটি কেন আমাকে মারলো। আরেক জন এসে আমাকে একটু দূরে নিয়ে বল্ল এরা মানুষ না এরা পুলিশ। সে থেকে পুলিশ দেখলে আমার ঘৃণা করেত ইচ্ছে করে । ইদানিং সাংবাদিক নাম শুনলে আমার ঘৃনা হয় (কিছু সাংবাদিক ছাড়া)। এরা র্নিলজ্জের মতো বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা প্রচার করতে ভালবাসে। এরা কোন না কোন দলের হয়ে কাজ করে। দেশের কথা একবারও ভাবে না। এরা হেদায়েত প্রাপ্ত কবে হবে আল্লাহই ভাল জানেন।
32594
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
পিএইচডি গবেষক
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া
ই-মেইলঃ abuzuhairin@gmail.com

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy