|
র্যাব পরিচয়ে চলছে একে পর এক গুম অপহরণ
আলাউদ্দিন আরিফ |
|
ক্রসফায়ার এনকাউন্টার বন্দুকযুদ্ধ গুপ্তহত্যার পর এখন দেশে চলছে মানুষ গুম। কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ চাঁদার দাবীতে কিংবা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আগেও মানুষ অপহরণ ও গুম করতো। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও অপহরণ ও গুমের অভিযোগ বহুপুরনো। এখন অপহরণ ও গুমের অভিযোগে এসেছে ভিন্নমাত্রা। এখন যেসব গুম হচ্ছে তার অভিযোগ সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইনপ্রয়োগকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাবের নামেই এই অভিযোগ সর্বাধিক। এখন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এই অবস্থায় আমি আপনি কেউই নিরাপদ নয়। পুলিশ র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবী এসব ঘটনায় তারা জড়িত নয়। তবে আইজিপির এই দাবী করলেও আজ পর্যন্ত পুলিশের এতগুলো এজেন্সি একজন ব্যক্তিকেও উদ্ধার কিংবা অপরাধী শনাক্ত করতে পারেনি।
ইতোপূর্বে যারা র্যাব বা অন্যকোন এজেন্সির দ্বারা গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছিলো তাদের অন্তত: লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন যারা গুম হচ্ছে তাদেরও লাশটিও মিলছে না। তাদের পরিণতি কী হয়েছে সেটাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিয়েও কোনা সুরাহা করতে পারছে না। অথচ অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন কল লিস্ট, ধরে নেয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বাক্ষীসহ প্রমাণ মিলছে এলিট ফোর্সের বিরুদ্ধে। যদিও তারা এই বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রিপোর্ট মতে গত বছর অর্থাৎ ২০১০ সালে আইনপ্রয়োগকারি সংস্থার হাতে বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমসহ কমপক্ষে ১৬ জন গুম হয়েছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যপ্রমাণ বলছে, চলতি বছরের সাড়ে ৩ মাসে রাজনৈতিক কারণে গুম হয়েছেন অন্তত ৫ জন। রাজনৈতিক প্রতিসিংসার কারনে গুম হওয়া এসব ব্যক্তিদের লাশটিও উদ্ধার হয়নি। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যক্তি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নামে অপহৃত হয়েছেন। ভিকটিমের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এসব ব্যক্তিকে সাদা পোষাকধারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা র্যাব ও পুলিশের পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
গত ১০ এপ্রিল অপহরেণর শিকার হন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে মাওলানা আবুল হাসনাত। বিতর্কিত নারী নীতির প্রতিবাদে আমিনীর ডাকে দেশব্যাপী সফলভাবে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত হওয়ার পরই সরকারের রোষানলে পড়েন আমিনী ও তার পরিবার। ওই হরতালে আমিনী পুত্র হাসনাত ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। ১০ এপ্রিল সকালে সকালে গাড়ি মেরামতের জন্য মাওলানা আবুল হাসনাত তার দুই সহকর্মী আবু রায়হান ও হুমায়ুন কবীরকে সঙ্গে করে ধোলাইখালে যান। সেখান থেকে তারা টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত দিল্লি সুইটমিটের পাশে একটি কনফেকশনারিতে বসা অবস্থায় একটি ছাই রঙের মাইক্রোবাস সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে ৬/৭ ব্যক্তি নামে। এদের মধ্যে ৩ জনের কোমরে পিস্তল ঝুলছিল। আগতদের মধ্যে একজন আবুল হাসনাতকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসা করে, ‘আপনি কি আবুল হাসনাত?’ হাসনাত হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলে গাড়ির আরোহীরা বলে, আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।’ এরপরই তারা আবুল হাসনাতের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যায়। আবু রায়হান ও হুমায়ুন কবীর মাইক্রোবাস আরোহীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা জবাব দেয়, আমরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য। উপরের নির্দেশে আবুল হাসনাত সাহেবকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ১২ দিন পরে অবশ্য নানামুখী শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চলতি বছর ৮ এপ্রিল সূত্রাপুরের লালকুঠি ফরাশগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে র্যাব পরিচয়ে বিএনপি সমর্থক ব্যবসায়ী তারিক উদ্দিন আহম্মেদ রানাকে অপহরণ করা হয়। তারিক উদ্দিনের বড় ভাই মামুনুর রশীদ জানান, থানায় অভিযোগ, র্যাব ১০-এর কার্যালয়সহ র্যাবের বিভিন্ন ইউনিটি, ডিবি পুলিশ কার্যালসহ সম্ভাব্যা সবস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রানার হদিস মিলেনি। তারিক উদ্দিনের নামে থানায় কোন মামলা থাক দূরের কথা, জিডি পর্যন্ত নেই। রানা সদরঘাট ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের কালার প্লাস গার্মেন্টসের মালিক।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর ৬২০, উত্তর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে সাদা পোশাকে ও পোশাকধারী র্যাব সদস্যরা মুদি দোকান কর্মচারী ও বিএনপি কর্মী রফিকুল ইসলাম (৫০)কে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ রফিকুলের পরিবারের সদস্যরা অধিকারকে জানান, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁরা র্যাব সদর দপ্তর, স্থানীয় থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েছেন, কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা অধিকারকে জানান, ঘটনার দিন বিকেলে র্যাব-এর পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকের ১৫/২০ জন সদস্য দোকান থেকে রফিকুলকে আটক করে নিয়ে যায়। কী অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছে এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানায়নি। দিনদুপুরে রফিকুলকে আটক করে নেয়ার এ দৃশ্য আশেপাশের অন্যান্য দোকানদার, পথচারী ও সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। রফিকুলের বাড়ী গাইবান্ধা জেলায়।
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলমকে ২০১০ সালের ২৫ জুন ফার্মগেট এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারী লোকজন অপহরণ করে। চৌধুরী আলমের ছোট ভাই খুরশিদ আলম মিন্টু জানান, রাজনৈতিক কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। গত বছরের ২০ জুন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডিসিসির মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে দেখে ফেরার পথে র্যাব পরিচয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। চৌধুরী আলমকে বহনকারী প্রাইভেট কারটি কারওয়ান বাজার ওয়াসা ভবনের বিপরীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার ছেলে আবু সাঈদ আলম চৌধুরী হিমু শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। চৌধুরী আলমের ঘটনা উল্লেখ করে র্যাব বিভিন্ন জনকে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন তাকে হত্যার পর পেট কেটে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল।
২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল কাফরুলের বাসিন্দা মিজানুর রহমান সুমন নামের একজন ব্যবসায়ীকে সাদা পোশাকধারী র্যাব সদস্যরা গাইবান্ধার মহিমগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। সুমনের স্ত্রী সুরভী আক্তার গতবছরের ৩০ এপ্রিল ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে র্যাব কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সুমনের কোন হদিস পাননি তাঁরা। কাফরুল এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাঁর এই পরিণতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গতবছরের ১৯ মার্চ র্যাব-৫ এর সদস্যরা ঠাকুরগাঁও সালন্দর নওলা পাড়ার চাঁন মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া কাঠ ব্যবসায়ী মোঃ আকবর আলী সরদার (২৮) এবং একই গ্রামের বিপিন চন্দ্র সরকারকে (৩৬) সালেন্দার বিশ্ব ইসলামী মিশন মসজিদের সামনের রাস্তা থেকে আটক করে। পরদিন ২০ বিপিন সরকারকে র্যাব ছেড়ে দিলেও আকবর এর কোন খোঁজ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আকবরের পরিবার ঠাকুরগাঁও এর পুলিশ সুপারের মাধ্যমে র্যাব-৫ এর কাছে আকবরের খোঁজ করলে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি র্যাব পরিচয়ে কতিপয় ব্যক্তি গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিএনপি সমর্থক ব্যবসায়ী মোঃ সেলিমকে ধরে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ র্যাব-৪ এর একটি দল সেলিমকে তার দুই বন্ধু মইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীসহ গ্রেফতার করে। মইনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতারের বিষয়টি র্যাব-৪ স্বীকার করলেও মোঃ সেলিমের কথা অস্বীকার করে। র্যাব মইনুল ইসলামকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় সোপর্দ করে এবং মোহাম্মদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে সেলিম নিখোঁজ রয়েছেন।
এভাবে একের পর এক গুম বাড়ছে। তাদের লাশ পর্যন্ত মিলছে না। বিষয়টি দেশের মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, এরপর টার্গেট কে?
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডক্টর মিজানুর রহমান বলেন, একজন মানুষের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রের নাগরিকরা যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এবং অপহরণ হচ্ছে, তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নামে এই অপহরণ বন্ধ করতে হবে। এজন্য রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তার মতে, এসব মানবাধিকার লংঘনের দায়ে রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এজন্য সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি ঘটনা সূক্ষ্মভাবে তদন্ত করে প্রতিকার করতে হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, পুলিশ-র্যাবের নাম করে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। তবে এসব ঘটনায় আইন-শৃংখলা বাহিনী জড়িত নয়। অপরাধীরাই আইন-শৃংখলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করছে। এটা অপরাধীদের একটা কৌশল। যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনা তদন্ত করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, র্যাব-পুলিশ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি আরও বলেন, এই দুর্বৃত্তদের ধরতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তবে আইজিপির এই দাবী করলেও আজ পর্যন্ত পুলিশের এতগুলো এজেন্সি একজন ব্যক্তিকেও উদ্ধার কিংবা অপরাধী শনাক্ত করতে পারেনি।
র্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, এসব ‘অপহরণের’ অভিযোগ সঠিক নয়। র্যাব সদস্যরা এ ধরনের ঘটনায় জড়িত নয়। গ্রেফতারের প্রয়োজন হলে র্যাব বৈধভাবেই তা করতে পারে। তাছাড়া অপহরণের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। র্যাবের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, নিখোঁজ বা অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে রাষ্ট্র কোন ধরনের সহযোগিতা করছে না। উল্টো তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নামে যেভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটছে, এটা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। অনেক পরিবার ভয়ে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না। কেউ যদি আমাদের সহযোগিতা চায় তাহলে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যতদিন পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে আইন-শৃংখলা বাহিনী খুঁজে বের করতে না পারবে ততদিন পরিবারের অভিযোগ সত্য বলেই ধরে নেয়া হবে।
চৌধুরী আলমসহ একের পর এক অপহরণ ও গুমের ঘটনায় স্বভাবতই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পরবর্তী টার্গেট কে? আমি, আপনি যেকেউ পরিণত হতে পারেন র্যাব ও গোয়েন্দাদের টার্গেটে! |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/AlauddinArif |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|
They 1st started with looting hundreds of millions of dollars worth of most modern and sophisticated US weaponry including AK 47, Heavy Artillery & Armoured Vehicle, Heavy Machine Gun, Abrams Tanks and other variety of military hardware and equipments right after the surrender of PAK Army. Initial assessment was done that showed it was about USD 900 million in 1971 with current value with devaluation of currency stand about USD 10 Billion, bigger than national budget.
Why does Hasina do such blunder to the country? BD doesnt belong to her nor does she own the country. May Allah punish her severely for such conspiracy and shameful betrayal to the nation.
What a irony of fate and what type of leadership that conclude this deal. They are indeed the biggest Zalim and betrayer to the nation. Time is up to declare holy war against this enemy and they must be wiped off from the soil of BD.
Time will come this deal will be torn into pieces and buried together in the graveyard of tyrant AL and its evil leader, the PM herself.
Wake up, wake up, wake up Bangladeshi! still there is time before it is too late and everything gets out of control. Stand against the subjugation of our beloved country by the evil and monster India, the same way Nepal has risen against the tyranny. We dont need this Evil and Shaitan India as its history is awash with cheating, killing, dirty conspiracy and exploitation and all nasty doings. India killed Sri lankan Pm, Nepal King, Zia and also an indirect partner in the Mujib killing. Hasina will be definitely in the list if she cannot satisfy this monster. Stupid hasina and equally stupid is her ministers and its supporters throughout the country.
Let us see how fast Sri lanka is economically growing without any interferance from India. Sri Lanka does not care India anymore as she is well aware of how vengeful and dreaded India can be as shown in more than 25 years of wars with Liberation Tamil Tigers (LTT). Sri Lanka was on the verge of destruction as Indira Gandi trained and supplied weapons to the LTT for separation Tamil Population from Sri Lanka. There were 12 major military training camps in tamil Nadu during her time as prime minister who unleashed terror in Sri Lanka.
They have fortunately now found a million time better and more trustworthy friend China than a blood thirsty and exploiter India. China already invested and economically helping Sri Lanka with with tens of billions of dollars in the development of Port, agriculture, fishery, roads and highway and other key infrastructures. Nobody beleives and trusts India in the SARC, be it Nepal, Maldives, Bhuttan and let alone BD and Pakistan.