শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ১২:১৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

শুধু শ্রমিক নয়, অন্যান্য খাতও বিবেচনা করা জরুরী

ড. মোহাম্মদ আমিনুল হক

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মালয়েশিয়া, মরিশাস সহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশ থেকে সাময়িক ভাবে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ এবং ক্ষেত্র বিশেষে অতিরিক্ত শ্রমিক ফেরত পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়া প্রায় ৭০ হাজার কলিং ভিসা স্থগিত করায় বাংলাদেশে সর্বত্র হৈ চৈ পড়ে গেছে, যা স্বাভাবিকও বটে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল যাচ্ছে না। মূদ্রার মান কমে যাচ্ছে, বেকার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে, রপ্তানী কমে যাচ্ছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনীতিতে অস্তিরতা রয়েছে, নেতৃত্বের পরিবর্তন আসন্ন।এইসব মোকাবেলা, বিশ্বমন্দা সামাল দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকার দেশের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তা নিয়ে বাংলাদেশ এর কুটনৈতিক শাখা ততপর হয়ে উঠেছে, যেটা খুব ফলপ্রসু হবে বলে মনে করছি না। স্বাভাবিক কুটনৈতিক সম্পর্ক থাকাকালীন তাই এই ঘটনাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিতে হবে। বিশ্ব মন্দার প্রভাব বাংলাদেশে খুব বেশি পড়বে না বলে যতই প্রচার করা হোক বিশ্বায়নের এই যুগে এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশে তার প্রভাব পড়বেই, পড়তে বাধ্য। বাংলাদেশ সরকারের উচিত তরিত বিকল্প ব্যবস্থা তৈরী করা শ্রমিক রপ্তানী কমে গেছে বা ভবিষ্যতে আরো কমতে পারে সেটা মাথায় রেখা তাই সাথে অন্যান্য কোন খাতে কি কি প্রভাব পড়তে পারে, বিপর্যয় এড়াতে এখন সেসব ভেবে দেখতে হবে সরকারকে।

একটা জিনিস আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, শুধুমাত্র দয়া দেখানোর জন্য অন্যদেশগুলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়না, বাংলাদেশের শ্রম সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের নিজের স্বার্থেই তারা শ্রমিক নিয়ে থাকে। সে দেশের স্বার্থ না থাকলে শত দেন দরবার করলেও তারা আমাদের শ্রমিক নেবে না। সেটা হবে অহেতুক চেষ্টা। শ্রমিক নিয়োগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কুটনৈতিক প্রচেষ্টা হতে হবে মালয়েশিয়া সহ অন্য কোন দেশ ভবিষ্যতে শ্রমিক নিয়োগ করলে সেক্ষেত্রে যেন বাঙ্গাদেশী শ্রমিক দের প্রাধান্য দেওয়া হয়। আর কি কি কারনে বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রাধান্য দিতে হবে, তাও তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ সরকার ও শ্রমিক রিক্রুটিং এজেন্সি গুলো মাথা পিছু ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কোন মতে মালয়েশিয়াতে কাউকে প্রবেশ করাতে পারলেই যেন বেচে যায়। এখানে শ্রমিকরা কেমন আছে, কি করছে সে খবর আর কেউ রাখে না। এখানে আসার পর প্রতিদিন অসংখ্য বাংলাদেশী শ্রমিকদের সাথে দেখা হয়, কথা হয়। ব্যতিক্রম বাদে কারো কাছে শোনা যায়নি ভাল থাকার কথা। তারা নিজেরাও ভেবে পায়না কিসের আশায় কেন প্রতিদিন শত শত বাংলাদেশী শ্রমিক মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করছে। কুয়ালালামপুরের কোতারায়া চত্ত্বরে যখন মাঝে মাঝে সদ্য আসা শ্রমিক দের শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখি, তখন নিজেকেও খুব অসহায় লাগে। যাই হোক বাংলাদেশ থেকে এখানে শ্রমিক নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ন খাত হলেও একমাত্র খাত নয়। আরো অনেক সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে, সেসব বিষয়ে সরকার কুটনৈতিক ততপরতা চালাতে পারে। সাথে সাথে নতুন নতুন শ্রম বাজারের সন্ধানও করা যেতে পারে। এখন একটি বিশেষ বিষয়ের উপর সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই ।

শিক্ষা ও গবেষনায় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ছাড়া এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় যথেষ্ট এগিয়ে আছে এবং আরো এগিয়ে যাবার প্রয়াসে চেষ্টার ত্রুটি নেই। এই দেশে বেশ কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেগুলোতে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা সুনামের সাথে গবেষনা করে যাচ্ছেন। আমরা দেশে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট নিয়ে গর্ব করে থাকি তেমনি এখানে মালাইয়া বিশ্ববিদ্যালয় (university of malaya) নিয়ে এদেশের মানুষের গর্বের শেষ নেই। স্থানীয় ভাবে যদিও এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শীর্ষস্থানীয় বলে দাবী করে থাকে কিন্তু সম্প্রতি আন্তর্জতিক ভাবে এর মান কিছুটা কমে গেছে। এনিয়ে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জনগনের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। বলা হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান বিশ্বপর্যায়ে ২৩০ তম। দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান ২০০ এর নীচে নেমে যাওয়া সরকার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। প্রশাসন, সরকার ও জনগন চাচ্ছে যে কোন মূল্যে এর মান ২০০ এর উপরে আনতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থসহ আনুসাঙ্গিক সব ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যে ভিসি পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ভিসি আগেও এখানে ছিলেন শিক্ষক হিসেবে। মাঝখানে বেসরকারী মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সহিত ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইনি নতুন ভাবে ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেই শিক্ষা ও গবেষনার ক্ষেত্রে কিছু কিছু ত্রুটি ও দূর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ও জরুরী কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।শিক্ষা ও গবেষনা উপকরনের অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছেন। আরো ঘোষনা করা হয়েছে বিদেশ থেকে যোগ্য নবীন প্রবীন গবেষক নিয়োগ করা হবে। এমনকি দক্ষ গবেষকের খোজে ইন্ডিয়া পাকিস্থান সহ বিভিন্ন দেশে এখান থেকে প্রতিনিধি দলও পাঠানো হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কয়েক হাজার পিএইচডি গবেষক সহ কয়েক শত শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। প্রদান করা রলে হবে আকর্ষনীয় বৃত্তি, বেতন ও গবেষনা উপকরন। এই সূত্র ধরে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের আগ্রহী পিএইচডি গবেষনা সহ অন্যান্য গবেষকদের জন্য এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এই ইউনিভার্সিটি অব মালয়্যা তে। এই ক্ষেত্রে সরকার যদি একটু কুটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহন করে তাহলে হয়ত অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক প্রচুর সংখ্যায় পাঠানো সম্ভব হবে।

দুখের বিষয় হলো আমাদের সরকার গুলো বিভিন্ন দেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠাতে যতটা ততপর, ঠিক তার উলটো উদাসিন বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও শিক্ষিত লোকবল পাঠাতে। এখানে আমি শুধু মালয়্যা ইউনিভার্সিটির কথা বললেও এদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোও পিছিয়ে নেই। তারাও আকর্ষনীয় বৃত্তি ও বেতনে প্রচুর বিদেশী গবেষক নিয়োগ করছে। আর শুধু মালয়েশিয়ার কথাই বলি কেন, চীন, হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান ও তাইওয়ানেও প্রচুর সুযোগ রয়েছে শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল প্রেরনের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিডিয়ার বিদ্রোহ ও ছাত্রলীগের কারনে আপনার দিনবদলের সনদ যতটুকু বাধাগ্রস্থ্য হয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি অর্জন করতে পারবেন, যদি আপনার শিক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়গনকে এ বিষয়ে একটু নজর দিতে বলেন। নিদেনপক্ষে যে সকল শিক্ষক নিজ উদ্যোগে সুযোগ তৈরী করেছেন, তাদের যেন নানাবিধ শর্ত আরোপ করে ছুটির ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করা না হয়। অধিক সংখ্যক শিক্ষক এখানে পিএইচডি সহ অন্যান্য গবেষনা করতে আসলে একদিকে যেমন দেশের গবেষনার মান বাড়বে, দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে সাথে সাথে দেশের রেমিটেন্স ও বাড়বে। জাপান আসিয়ান দেশগুলোর জন্য স্পেশাল ফেলোশিপ প্রধান করে থাকে। ইন্ডিয়া কুটনৈতিক ততপরতা চালিয়ে সেখানে নিজেদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে নিয়েছে। যথাযথ কুটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহন করতে পারলে বাংলাদেশের জন্যও জাপানে বিশেষ কোটা তৈরী করা সম্ভব। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, এইদিকে একটু বিশেষ নজর দেওয়া সম্ভব হবে কি? সাথে সাথে শিক্ষকদের প্রাপ্য ছুটি সহজ ও শর্তমুক্ত করার ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যারা মালয়্যা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন মেয়াদে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত শিক্ষকতা করতে আগ্রহী তারা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পেজে গিয়ে নিজ বিষয়ের কোন শিক্ষকের মাধ্যনে আবেদন করেন। কিংবা সরাসরি বিভিন্ন পোষ্টে আবেদন করতে পাবেন। সবার সুবিধার্থে আবেদন ফরম সম্বলিত ওয়েব পেজ এখানে দেওয়া হল।

http://www.um.edu.my/career/career.php মালয়্যা ইউনিভার্সিটির বহু শিক্ষক এখন পিএইচডি ছাত্র নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সাথে RA দেওয়া হবে। ভার্সিটির ওয়েব পেজ থেকে খুজে নিন আপনার জন্য অপেক্ষায় থাকা শিক্ষককে।আমি নিজ উদ্যোগে গত ৪/৫ মাস আগে কমপক্ষে ৫ জনের চাকুরীরসুয়োহগ করে দিয়েছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। যদিও তাদের কয়েকজন হয়তো ছুটি না পাবার কারনে আসতে পারবেন না, কিন্তু বাকিরা আসবেন। ভাল রেজাল্ট ও ক্যারিয়ারের কেউ এখানে আসতে চান, কিন্তু এখানকার কোন শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না, তারা কোনরুপ দ্বিধা না করে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমার পক্ষ থেকে কোন কার্পন্য থাকবে না আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য।বরং আপনার ও দেশের জন্য কিছু করতে পারলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব।পিএইচডি( phd )ও পোষ্ট ডক (post doc)করতে আগ্রহীরা সহ বায়োডাটা এবং শিক্ষকতায় আগ্রহীগন list of publication সহ বায়োডাটা সরাসরি UM( UNIVERSITY OF MALAYA)কর্তৃপক্ষের নিকট অথবা আমার নিকট পাঠিয়ে দিন। তবে সরাসরি কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাতে পারলে সেটাই উত্তম।

লেখকঃ মালয়শিয়া প্রবাসী, ই-মেইল, mdaminulh@gmail.com

http://www.sonarbangladesh.com/articles/AminulHaque
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল থেকে ইশতিয়াক লিখেছেন, ১৪ এপ্রিল ২০০৯; রাত ১০:২১
সুন্দর লেখাটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশীপের জন্য সহায়তার আশ্বাস দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
447
dhaka থেকে samar লিখেছেন, ১৭ এপ্রিল ২০০৯; রাত ০১:৩৬
আপনার সহযোগিতা করার মানসিকতা দেখে ভাল লাগছে। এখনও ভাল মানুষ আছে যারা দেশের জন্য কাজ় করতে চাই।
519
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy