রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১০:১৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি (২৬/০৩/২০১১)
অচিনপুর স্টেশনে কিছুক্ষণ (২৬/০২/২০১১)
কন্যা তুমি (কবিতা) (২২/০১/২০১১)
কাকে বিয়ে করবেন, কখন করবেন? (১৮/১২/২০১০)
কন্যা তোমার কখন সময় হবে (কবিতা) (২৫/০৭/২০১০)
লেখক (গল্প) (০১/০৫/২০১০)
তোমার কাছে যাবো বলে (কবিতা) (০১/০৪/২০১০)
বশীকরণ (গল্প) (০১/০৩/২০১০)
শেয়ার বাজারের জুয়াড়ীদের কৌশল এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ (১৩/০২/২০১০)
ফাউন্টেন পেন (গল্প) (১৫/০১/২০১০)
ডিজিটাল বাংলাদেশ: রূপরেখা ও রোডম্যাপ (০২/১২/২০০৯)
কোরবানীর গল্প (০১/১২/২০০৯)
কি পোড়া কপাল আমার (কবিতা) (০১/১১/২০০৯)
রুহানী চিকিৎসা (গল্প) (১৬/০৯/২০০৯)
মিসরের রোজা (০১/০৯/২০০৯)
চল্লিশ ডাক দিয়ে যায় (কবিতা) (১৬/০৭/২০০৯)
মিসরের প্রেম ও বিয়ে-শাদী (০১/০৭/২০০৯)
মিসরের খাবার দাবার (১৪/০৪/২০০৯)
প্রতিটি পরিবারের একজনের জন্য চাকুরী অসম্ভব নয় (০১/০১/২০০৯)
ছেড়া ক্যানভাস ও একজন মুক্তিযোদ্ধার কষ্ট (গল্প) (১৫/১২/২০০৮)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোরবানীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব (০১/১২/২০০৮)
চাঁদরাতের অংক (গল্প) (৩০/০৯/২০০৮)
Ramadan in Bangladesh (০১/০৯/২০০৮)
সরকারী আইটি সিস্টেম টেকসই হচ্ছে না কেন? (০১/০৮/২০০৮)
এক দশকে কতটুকু এগিয়েছে বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্প? (২৬/০৯/২০০৬)
দারিদ্র বিমোচনে যাকাতকে কার্যকর করতে কয়েকটি পরামর্শ (২৯/০৯/২০০৬)
দারিদ্র বিমোচনে পিআরএসপি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে? (০৬/১০/২০০৫)
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ অর্জনের কৌশল ও রোডম্যাপ (১৯/০২/২০০৮)
মুক্তিযুদ্ধের শহীদগণের ডেটাবেজঃ একটি প্রকল্প প্রস্তাব (১২/০৩/২০০৮)
দুর্নীতি দমন ডেটাবেজের রূপরেখা (০৬/০৬/২০০৭)
আগের লেখা
1034


শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি

আমিনূল মোহায়মেন

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ইত্যাদি প্রসঙ্গ আসলে অনেকেই কি চেয়েছিলাম আর কি পেলাম এর হিসাব নিকাষ শুরু করেন। বলেন, কি চেয়েছিলাম, আর কি পেলাম। একটি জনপ্রিয় গান ছিল এরকম 'কি দেখার কথা কি দেখছি, কি শোনার কথা কি শুনছি। ৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।'

সত্যিই কি আমরা চল্লিশ বছরে কিছুই পাইনি? এই ভুমির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জীবনদান কি তাহলে সত্যিই বৃথা হয়ে গেছে? সত্যিই কি বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন সুদূর পরাহত হয়ে পড়েছে? আমার কিন্তু তা মনে হয় না। গত চল্লিশ বছরে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রসর হয়েছে। এমন অনেক কিছুই আমরা করেছি, যা ৪০ বছর আগে কল্পনাও করা যায়নি।

কোন জাতি কতটা উন্নত তা শুধু তার মাথাপিছু আয় দিয়ে মাপা যায় না। বরং কোন জাতির আসল উন্নতি মাপা যায় তার মানবিক মূল্যবোধ ও আচরণ দিয়ে। মানবিক মূল্যবোধের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর অনেক দেশের থেকে অনেক উপরে।

বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির একটি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এখানে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয় এবং সে নির্বাচনে জনমতের সঠিক প্রতিফলন হয়ে থাকে। বলা হয়ে থাকে যে, এ গণতন্ত্র অর্থহীন কেননা ভোটদাতারা কালোটাকা ও পেশীশক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়। অর্থ ও মিডিয়া দ্বারা কি আমেরিকানরা প্রভাবিত হয় না? নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিবর্তন তো মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই হয় না। আমাদের পুরানো পার্টনার পাকিস্তান, সেখানে তো আর্মির বুটের নীচে বার বার গণতন্ত্র পিষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যম যে স্বাধীনতা ভোগ করে তা কি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অধিকাংশ দেশে পাওয়া যাবে?

বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের চাইতে ভালো। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে যে, দেশের নব্বই শতাংশ নারী শিশু স্কুলে যায়, যেখানে স্কুলগামী পুরুষ শিশুর হার পঁচাশি শতাংশ। নারীবাদের জন্মস্থান ফ্রান্সে যেখানে কোন নারী প্রেসিডেন্ট পাওয়া যায় না, সেখানে বাংলাদেশে গত প্রায় দুই দশক ধরে নারী প্রধানমন্ত্রীরা দেশ চালাচ্ছেন।

আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক কম।

বাংলাদেশের অতি দরিদ্র ব্যক্তিটিও প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের জন্য একটি স্যানিটারী ল্যাট্রিন ব্যবহার করে, সেখানে ভারতের ৬৫% মানুষের কোন ধরণের বাথরুম নেই, তারা খোলা আকাশের নীচে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখালঘুদের প্রতি এ জাতির আচরণ বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় হওয়ার যোগ্য। তসলিমা নাসরিন তার ‘দিখন্ডিত' উপন্যাসে কলকাতার সাথে ঢাকার সাম্প্রদায়িক উদারতার তুলনা করেছেন। কলকাতায় কোন হিন্দু বাড়ীওয়ালা মুসলমানদের বাড়ী ভাড়া দেয় না। একই বাড়ীতে ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাটে হিন্দু-মুসলিম বাস করবে এ দৃশ্য সেখানে অকল্পনীয়। অথচ, ভিন্ন ধর্মের বলে বাড়ীওয়ালা বাড়ী ভাড়া দেবে না, একই বাড়ীতে ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাটে হিন্দু-মুসলিম বাস করবে না- এই বিষয়টিই বাংলাদেশে অকল্পনীয়। ইন্ডিয়ার সব থেকে কম সাম্প্রদায়িক প্রদেশ পশ্চিম বাংলার মিডিয়াতে মুসলমানদের কোন স্থান নেই। অথচ, বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে হিন্দুদের স্থান শতকরা ত্রিশ ভাগেরও বেশী।

যেখানে আমেরিকা, বৃটিশ ও ফ্রান্সের মত দেশে কেবলমাত্র সংখাগুরু খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের উৎসবের দিনটিতেই সরকারী ছুটি দেয়া হয়, মুসলমান বা হিন্দুদের উৎসবের দিনগুলিতে ছুটি থাকে না, সেখানে বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ সকলের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি পালন করা হয়।

কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একেবারে পিছিয়ে নেই।

বাংলাদেশ কেবলমাত্র ভারত থেকেই বছরে ত্রিশ হাজার কোটি টাকার মত পণ্য আমদানি করে। এ টাকা কোথা থেকে আসে? এ টাকা কিন্তু এ দেশের মানুষই উপার্জন করে। আমাদের একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, বিদেশী সাহায্যের উপর আমরা অনেকাংশে নির্ভরশীল। সরকারের বাজেটের মাত্র পনের শতাংশ থাকে বৈদেশিক অর্থ যার অধিকাংশই ঋণ। তাছাড়া এর মধ্যে একটা বিরাট অংশ বিদেশেই বিভিন্নভাবে ফেরত চলে যায়। সুদসহ পূর্বের ঋণ শোধ দিতে যায় বৈদেশিক অর্থের অর্ধেকটাই।

বাংলাদেশী পণ্যের গুণগত মানের ব্যাপারে যে প্রচলিত নিম্ন ধারণা রয়েছে তা ও ঠিক নয়। বাংলাদেশের সিমেন্ট, সাইকেল, তৈরী পোশাক, চামড়াজাত দ্রব্য, ঔষধ, সিরামিক দ্রবাদি, কসমেটিক ইত্যাদি অসংখ্য পণ্যের মান পার্শ্ববর্তী দেশের পণ্যের থেকে অনেক বেশী।

বাংলাদেশের সামনে এখনও রয়েছে উন্নত, অগ্রসর ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার অপার সম্ভাবনা। এর জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি বন্ধ করা। এই সামান্য কাজটি করতে পারলেই আমরা শহীদদের স্বপ্ন পূরণে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবো।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AminulMohaimen
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
কাতার থেকে শামীম লিখেছেন, ২৭ মার্চ ২০১১; সকাল ১০:৫৬
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
আপনী সত্য লেখা লিখলেও আমাদের দেশে একটি দল আছে যারা জঙ্গী, গরিষ্ঠ, লগিষ্ঠ জড়তোলেন যখন ক্ষমতা হারায়। আসলে এই দেশে বিধর্মীরা ইসলামী দল গুলুর নিকট নিরাপদ।কেন কারন ইসলামে সংঘাত হারাম।
বাংলাদেশ উন্নত হইতেছে জনগন, কিন্ত সরকার না। কারন যারা ক্ষমতায় আসে তারা জনগনের আমানত ক্ষেয়ানত করে। আবার যারা আমানত ক্ষেয়ানাত করে না তাদের আদর্শকে মাটি করার জন্য ভিন্ন কৌশল হিসেবে যুদ্ধাপরাধীর অপবাদে লোকের অন্তরাল করা হয়েছে।
52136
ঢাকা থেকে নাজনীন ইলিয়াস লিখেছেন, ২৭ মার্চ ২০১১; সকাল ১১:০১
আপনার সুন্দর লেখাটি পড়ে আমার মনে হচ্ছে শহীদদের রক্ত সত্যিই বৃথা যায় নাই। কিন্তু যখন উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই তখন আমার মনে হয় এই দেশটি যদি দুইটি দলে বিভক্ত না হতো এবং আমরা যদি দূর্নীতিতে ফার্স্ট না হতাম তাহলে আমরা এই চল্লিশ বছরে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতাম। তাই নয় কি ?
52137
বগুড়া থেকে রুমঝুম লিখেছেন, ২৭ মার্চ ২০১১; সকাল ১১:৫০
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি ঠিকই লিখেছেন,''বাংলাদেশের সামনে এখনও রয়েছে উন্নত, অগ্রসর ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার অপার সম্ভাবনা। এর জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি বন্ধ করা''। এ প্রসঙ্গে আল মামুন যথার্থই লিখেছেন, ''একাত্তরের চেতনা ও একাত্বতার আজ দেখা পাইনা কোথাও। বিভক্তি আর প্রতিহিংসার অস্ত্র দিয়ে যেন আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে চলেছি''।
52140
ঢাকা থেকে অমি লিখেছেন, ২৭ মার্চ ২০১১; দুপুর ০৩:০৭
সবকিছু তো আর একসাথে পাওয়া যায় না। একটু ধৈর্য ধরতে হয়। আমরা আশা করি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলেই আমাদের দেশটা অনেক উন্নত হয়ে যাবে। তবে আপনার এই আশাবাদিতা আমাদের আরো আশাবাদি করে তুলবে সেই প্রত্যাশাই করি।
52160
জেদদা,সৌদী আরব থেকে আবু ওবায়েদ লিখেছেন, ২৭ মার্চ ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:৩৫
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি লিখেছেন,''বাংলাদেশের সামনে এখনও রয়েছে উন্নত, অগ্রসর ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার অপার সম্ভাবনা। এর জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি বন্ধ করা''। সম্ভাবনার কথা রাজনীতিবিদরা আরো বেশী বলেন কিন্তু বলার বেলায় কাজী,কাজের বেলায় ফাঁকি ।নাহয় মালয়েশিয়া ও সিংগাপুরের মত দেশ, দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে রয়েছে ।দেশ গড়ার জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ পথ চলা ।নিজের জন্য িবশভাগ এবং দেশের জন্য আশিভাগ হওয়া চাই ।আঈনের শাসন চাই,দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ওপুলিশ বাহিনী ।
52177
মুক্ত বাংলা থেকে কালের বয়াতি লিখেছেন, ৩০ মার্চ ২০১১; রাত ০৮:০৮
চমৎকার কিছু তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরার জন্য লেখককে ধন্যবাদ, সাথে কিছু যোগও করলাম।
১. ইউরোপের দেশগুলো আমাদের চেয়ে অনেক বেশী মৌলবাদী। তারা ভিন্ন ধর্মের অনুষ্ঠানগুলোতে ছুটি দেয় না। যদিও এদেশের খৃষ্টান সম্প্রদায়ের তুলনায় সেখানে অনেক দেশেই মুসলমানদের শতকরা হার বেশী। আর যারা তাদের সেক্যুলার ভাবেন - তারা প্রস্তাব করুন বাংলাদেশে বড়দিন, ইস্টার, ইত্যাদি ছুটি ছাটা বাদ দিয়ে আমরাও ওদের মত আদর্শ (?) সেক্যুলার হয়ে যাই। বার্ষিক কর্মঘন্টায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

২. ওরা মৌলিক মানবাধিকার খর্ব করে সুস্থ ধারার মহিলাদের (দুষ্টের বিরুদ্ধে বর্মসরূপ) পর্দা করতে বাঁধা দিচ্ছে। এমন কি সংসদে আইন পাশ করছে। মসজিদের মিনার তৈরীতে বাঁধা দিচ্ছে। তো আমরাও তাদের মত গীর্জা সংস্কারের ব্যবস্থা নেব কি? ওরা তো আবার অনেকের কাছে আইডল।

৩. ওরা "নারীর ক্ষমতায়ন" নামের ধোঁকার পসরা নিয়ে এ দেশী এনজিও আর সরকারী নীতিমালা পরিবর্তনে উঠে পড়ে লেগেছে, অথচ ফ্রান্স-আমেরিকায় এখনো কোন নারী সরকারপ্রধান দেখা যায় নি। তারা ভালই জানে - এতে কুলনারীর নৈতিকতায় ভঙ্গুর (ভালনারেবল) হয়ে পড়বে। আর কিছু নগদ নারায়ন পরিবারে আসতে পারে, কিন্তু অবিশ্বাস দানা বেঁধে পারিবারিক শান্তি ও বন্ধনকে (যেটা এশীয় ঐতিহ্য) তাই দূর্বল হয়ে পড়বে। আর সঙ্গত কারণেই সৃষ্টিকর্তা-পালনকর্তা এই বিপদ থেকে বাঁচতে পুরুষ-নারীর অধিকার এবং দায়িত্ব বন্টন করে দিয়েছেন। কাজেই এদিক থেকে আমরা পিছিয়ে, কারণ - রাষ্ট্র পরিচালনার গুরু বোঝা আমরা মাতৃ জাতির উপর চাপিয়ে অন্যায় করছি, যা ইসলামী ব্যবস্থায়ও সংগত নয়।

৪. আমরা পাশ্চাত্যের দেশগুলো থেকেও অনেক বেশী সভ্য। খেয়াল করুন - সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও অপরাধের মাত্রা অনেক বেশী। তাদের মাথাপিছু নিরাপত্তা ব্যয় আমাদের চেয়ে শতগুণ বেশী বই কম নয়। কিন্তু আমরা ধর্মীয় নৈতিকতার কারণে মাথাপিছু স্বল্প খরচেই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি।

৫. বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে ঘন জনবসতি কোন সমস্যাই নয়। বরং বিশ্বব্যাপী উৎপাদক গোষ্ঠীর কাছে আমরা ১৫ - ১৭ কোটি ভোক্তার এক লোভনীয় বাজার হিসাবে গুরুত্ব পাচ্ছি। খাদ্য উৎপাদনের প্রযুক্তিনির্ভর জ্যামিতিক প্রবৃদ্ধি জনসংখ্যা বৃদ্ধির গানিতিক প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্যে বোধোদয় হয়ে সম্প্রতি চীন "এক পরিবার এক সন্তান" নীতি থেকে সরে এসেছে।

৬. আমরা বেহুদা কর্জ নিয়ে বিশ্বব্যাঙ্ক, এডিবিকে বাঁচিয়ে চলৎশক্তির যোগান দিচ্ছি। বেহুদা বললাম - কারন আমাদেরই বেকার যুবকরা শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে একদিনেই সম্প্রতি ধ্বসের কারনে ৮৪,০০০ কোটি টাকা গচ্চা দিতে পারে। তা দিয়ে তো আমরা গোটা দশেক পদ্মা সেতু করে ফেলতে পারি।

৭. আমরা ভারতকে বছরে ৩০০০০ কোটি টাকার বানিজ্য সুবিধা দিয়ে থাকি। গত ৪০ বছরে এর থেকে সম্ভবতঃ কম টাকায় আমরা তো গোটা পশ্চিমবঙ্গটাই কিনে নিতে পারতাম। তাতে অন্ততঃ আমাদের বাঙালী জ্ঞাতিদের ঘুণেধরা বর্ণবাদী (ব্রাক্ষ্মণ - কায়স্থ দুরাচার) শোষণ থেকে বাঁচাতে পারতাম। আর ভাষাভিত্তিক শৌর্যবান বৃহত্তর বাঙালী জাতি গঠন করতে পারতাম। তদ্বেশীয় পত্রিকায় ভাষ্যে ইদানীং কিনা সে দেশটি বিশেষ দুষ্কর্মে শামদেশকেও (থাইল্যান্ডকে) পিছে ফেলে দিয়েছে।

যাই হোক - স্বাজাত্যবোেধ বলীয়ান,সত্যাশ্রয়ী মর্যাদাবান জাতি গঠনে লেখকের ব্যতীক্রমী বিশ্লেষণ অন্যদের কাছ থেকেও কাম্য
52499
ঢাকা থেকে হিন্দোল লিখেছেন, ০৩ এপ্রিল ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৩৭
আমরা ভারতকে বছরে ৩০০০০ কোটি টাকার বানিজ্য সুবিধা দিয়ে থাকি। গত ৪০ বছরে এর থেকে সম্ভবতঃ কম টাকায় আমরা তো গোটা পশ্চিমবঙ্গটাই কিনে নিতে পারতাম। তাতে অন্ততঃ আমাদের বাঙালী জ্ঞাতিদের ঘুণেধরা বর্ণবাদী (ব্রাক্ষ্মণ - কায়স্থ দুরাচার) শোষণ থেকে বাঁচাতে পারতাম। আর ভাষাভিত্তিক শৌর্যবান বৃহত্তর বাঙালী জাতি গঠন করতে পারতাম। তদ্বেশীয় পত্রিকায় ভাষ্যে ইদানীং কিনা সে দেশটি বিশেষ দুষ্কর্মে শামদেশকেও (থাইল্যান্ডকে) পিছে ফেলে দিয়েছে।
52950
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy