মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ইত্যাদি প্রসঙ্গ আসলে অনেকেই কি চেয়েছিলাম আর কি পেলাম এর হিসাব নিকাষ শুরু করেন। বলেন, কি চেয়েছিলাম, আর কি পেলাম। একটি জনপ্রিয় গান ছিল এরকম 'কি দেখার কথা কি দেখছি, কি শোনার কথা কি শুনছি। ৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।'
সত্যিই কি আমরা চল্লিশ বছরে কিছুই পাইনি? এই ভুমির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জীবনদান কি তাহলে সত্যিই বৃথা হয়ে গেছে? সত্যিই কি বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন সুদূর পরাহত হয়ে পড়েছে? আমার কিন্তু তা মনে হয় না। গত চল্লিশ বছরে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রসর হয়েছে। এমন অনেক কিছুই আমরা করেছি, যা ৪০ বছর আগে কল্পনাও করা যায়নি।
কোন জাতি কতটা উন্নত তা শুধু তার মাথাপিছু আয় দিয়ে মাপা যায় না। বরং কোন জাতির আসল উন্নতি মাপা যায় তার মানবিক মূল্যবোধ ও আচরণ দিয়ে। মানবিক মূল্যবোধের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর অনেক দেশের থেকে অনেক উপরে।
বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির একটি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এখানে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয় এবং সে নির্বাচনে জনমতের সঠিক প্রতিফলন হয়ে থাকে। বলা হয়ে থাকে যে, এ গণতন্ত্র অর্থহীন কেননা ভোটদাতারা কালোটাকা ও পেশীশক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়। অর্থ ও মিডিয়া দ্বারা কি আমেরিকানরা প্রভাবিত হয় না? নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিবর্তন তো মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই হয় না। আমাদের পুরানো পার্টনার পাকিস্তান, সেখানে তো আর্মির বুটের নীচে বার বার গণতন্ত্র পিষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশে গণমাধ্যম যে স্বাধীনতা ভোগ করে তা কি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অধিকাংশ দেশে পাওয়া যাবে?
বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের চাইতে ভালো। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে যে, দেশের নব্বই শতাংশ নারী শিশু স্কুলে যায়, যেখানে স্কুলগামী পুরুষ শিশুর হার পঁচাশি শতাংশ। নারীবাদের জন্মস্থান ফ্রান্সে যেখানে কোন নারী প্রেসিডেন্ট পাওয়া যায় না, সেখানে বাংলাদেশে গত প্রায় দুই দশক ধরে নারী প্রধানমন্ত্রীরা দেশ চালাচ্ছেন।
আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক কম।
বাংলাদেশের অতি দরিদ্র ব্যক্তিটিও প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের জন্য একটি স্যানিটারী ল্যাট্রিন ব্যবহার করে, সেখানে ভারতের ৬৫% মানুষের কোন ধরণের বাথরুম নেই, তারা খোলা আকাশের নীচে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখালঘুদের প্রতি এ জাতির আচরণ বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় হওয়ার যোগ্য। তসলিমা নাসরিন তার ‘দিখন্ডিত' উপন্যাসে কলকাতার সাথে ঢাকার সাম্প্রদায়িক উদারতার তুলনা করেছেন। কলকাতায় কোন হিন্দু বাড়ীওয়ালা মুসলমানদের বাড়ী ভাড়া দেয় না। একই বাড়ীতে ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাটে হিন্দু-মুসলিম বাস করবে এ দৃশ্য সেখানে অকল্পনীয়। অথচ, ভিন্ন ধর্মের বলে বাড়ীওয়ালা বাড়ী ভাড়া দেবে না, একই বাড়ীতে ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাটে হিন্দু-মুসলিম বাস করবে না- এই বিষয়টিই বাংলাদেশে অকল্পনীয়। ইন্ডিয়ার সব থেকে কম সাম্প্রদায়িক প্রদেশ পশ্চিম বাংলার মিডিয়াতে মুসলমানদের কোন স্থান নেই। অথচ, বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে হিন্দুদের স্থান শতকরা ত্রিশ ভাগেরও বেশী।
যেখানে আমেরিকা, বৃটিশ ও ফ্রান্সের মত দেশে কেবলমাত্র সংখাগুরু খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের উৎসবের দিনটিতেই সরকারী ছুটি দেয়া হয়, মুসলমান বা হিন্দুদের উৎসবের দিনগুলিতে ছুটি থাকে না, সেখানে বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ সকলের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি পালন করা হয়।
কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একেবারে পিছিয়ে নেই।
বাংলাদেশ কেবলমাত্র ভারত থেকেই বছরে ত্রিশ হাজার কোটি টাকার মত পণ্য আমদানি করে। এ টাকা কোথা থেকে আসে? এ টাকা কিন্তু এ দেশের মানুষই উপার্জন করে। আমাদের একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, বিদেশী সাহায্যের উপর আমরা অনেকাংশে নির্ভরশীল। সরকারের বাজেটের মাত্র পনের শতাংশ থাকে বৈদেশিক অর্থ যার অধিকাংশই ঋণ। তাছাড়া এর মধ্যে একটা বিরাট অংশ বিদেশেই বিভিন্নভাবে ফেরত চলে যায়। সুদসহ পূর্বের ঋণ শোধ দিতে যায় বৈদেশিক অর্থের অর্ধেকটাই।
বাংলাদেশী পণ্যের গুণগত মানের ব্যাপারে যে প্রচলিত নিম্ন ধারণা রয়েছে তা ও ঠিক নয়। বাংলাদেশের সিমেন্ট, সাইকেল, তৈরী পোশাক, চামড়াজাত দ্রব্য, ঔষধ, সিরামিক দ্রবাদি, কসমেটিক ইত্যাদি অসংখ্য পণ্যের মান পার্শ্ববর্তী দেশের পণ্যের থেকে অনেক বেশী।
বাংলাদেশের সামনে এখনও রয়েছে উন্নত, অগ্রসর ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার অপার সম্ভাবনা। এর জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি বন্ধ করা। এই সামান্য কাজটি করতে পারলেই আমরা শহীদদের স্বপ্ন পূরণে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবো।
|
আপনী সত্য লেখা লিখলেও আমাদের দেশে একটি দল আছে যারা জঙ্গী, গরিষ্ঠ, লগিষ্ঠ জড়তোলেন যখন ক্ষমতা হারায়। আসলে এই দেশে বিধর্মীরা ইসলামী দল গুলুর নিকট নিরাপদ।কেন কারন ইসলামে সংঘাত হারাম।
বাংলাদেশ উন্নত হইতেছে জনগন, কিন্ত সরকার না। কারন যারা ক্ষমতায় আসে তারা জনগনের আমানত ক্ষেয়ানত করে। আবার যারা আমানত ক্ষেয়ানাত করে না তাদের আদর্শকে মাটি করার জন্য ভিন্ন কৌশল হিসেবে যুদ্ধাপরাধীর অপবাদে লোকের অন্তরাল করা হয়েছে।