শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ১২:২৮ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

বাণিজ্য মন্ত্রীর রঙ্গ-তামাশা

আরীফ মুহাম্মদ

আওয়ামীলীগ নেতৃত্তাধীন মহাজোট সরকারের নির্বাচনী অন্যতম ওয়াদা ছিল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রে দাম মানুষের নাগালে রাখা। সে লক্ষ্যে বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রী ফারুক খানকে শেখ হাসিনা সরকার দায়িত্ব দিয়েছেন। এতোমধ্যে সরকারের ৩ বছর মেয়াদ হতে চলেছে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাতো দুরের থাক, দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে বেশ কয়েকবার রেকর্ড ব্রেক করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রী তার কাজ না করে ব্যাবসায়ীদের নিয়ে সভা সেমিনার করে গাল গল্প করে সাধারণ মানুষকে মাঝে মধ্যে আশার বানী শুনিয়েছেন। মন্ত্রী কখনো বলেছেন- আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধি ব্যাবসায়ীদের কারসাজী, কখনো পণ্যের সংকট। তাহলে মন্ত্রীর কাজ কি? আমরা সহজ ভাবে বুঝি মন্ত্রীর কাজ হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির মাধ্যমে পণ্য মজুদ করে যে কোন জরুরি মুহূর্তে বাজারে বিক্রি করা। যাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদাকে পূজি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়াতে না পারে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে টিসিবি তার মজুদ করা পণ্য বাজারের চেয়ে কম দামে বিক্রয় করবে। এ সময়ে ক্রেতা বেশি দামের কারণে বাজারে না গিয়ে ক্রেতারা টিসিবি’র পণ্য কিনবে। এতে বাজার স্বাভাবিক থাকবে। এ কাজটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কখনো করতে পারেনি। খোদ ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন- "বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলবো, বক্তৃতাবাজি নয়- কাজের কাজটিও করতে হবে। বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সরকারকে অর্থাৎ পাবলিক সেক্টরকেও এগিয়ে যেতে হবে। বাজার শুধু ব্যবসায়ীদের হাতে ছেড়ে দিলে চলবে না। তিনি বলেন, "রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) আরো কার্যকর করা যেতো। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগ কার্যকর থাকলে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের এ পরিস্থিতি হতো না।" সরকারের ঘোষিত মুল্যের অধিক দামে বিক্রিয় হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। (বিডি নিউজ, ৪ আগস্ট)

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রী রমজানে আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণকে বেশ কয়েকবার আশ্বাস করলেও তার প্রতিপালন দেখা যায়নি। ৪৫ টাকা দিয়ে আমদানি করা ছোলা ৮০ টাকা, চিনি ৮০ টাকা করে কিনে খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আর সাক সবজির দামের কথা না বলা ভালো। রোজা আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি কেজিতে ১০/১৫ টাকা বেড়ে গিয়েছে। রোজার ৩ দিন আগে শশার দাম ২০/২৫ টাকা থাকলেও এখন ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাছ-মাংসতো গরীব মানুষ খাওয়া পরের কথা, মধ্যভিত্ত শ্রেণীও খুব হিসাব নিকাশ করে কিনছে।

গত ৩ আগষ্ট দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গেছে গত তিন বছরে রমজানে বাজার পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল, মুড়ি ও মাছ-মাংসসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেজি ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এখন বাণিজ্য মন্ত্রী কি বলবেন? তিনি অবশ্য নতুন ফর্মূলা নিয়ে জনগনের সামনে হাজির হয়েছেন। ফারুক খান সাধারণ মানুষকে কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আপনারা কম খান, সব ঠিক হয়ে যাবে। কম খেলে সমস্যা কমবে। খাবারের প্রতি লালসা কমান, তাহলে ব্যবসায়ীদের উচিত শিক্ষা হবে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগেকার মানুষ কম খেত বলে বেশিদিন বাঁচত। খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করতে পারে। তাই কম খাওয়াই ভালো। (দৈনিক আমার দেশ, ৫ আগষ্ট)। তবে মন্ত্রী নিজের খাওয়া কমিয়েন কিনা সে ব্যাপারে কোন ইঙ্গিত দেননি। আসলে মন্ত্রী সাধারণ মানুষকে খাওয়ার কথা বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন? মন্ত্রী মতে দেশের ১৬ কোটি মানুষ কি বেশি খায়! আমাদের দেশের মানুষকে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ক্যালরি গ্রহণ করে! বেশি খাওয়া বা বিলাসিতা করে খাওয়া লোকের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার কথা নই। যেখানে মানুষকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বেশি খাওয়া কি সম্ভব! আর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মানদন্ডে সে অবস্থানের দেশ নই। তাই মন্ত্রী নিজের ব্যর্থতার কথা আড়াল করতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে রঙ্গ- তামাশা করেছেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মহিত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে সাধারণ মানুষকে একদিন বাজারে না যাওয়ার যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাজারে যেতে এখন ভয় পান, এটা অর্থ মন্ত্রী জানেন বলে মনে হয়না। অনেক মানুষ একদিন কেন, বাজারে না যেতে পারলেই এ সরকাকে আজীবন ক্ষমতায় রাখতো। মন্ত্রী যদি সত্যিকারে মানুষকে ভালো বাসতেন, তাহলে মন্ত্রী, এমপিদের বেতন ভাতা, অযথা বিদেশ ভ্রমণ কমানোর কথা বলতে পারতেন। এতে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলেও গরীব মানুষদের খাদ্যে ভূর্তকি দিতে পারতেন।

লেখকঃ সাংবাদিক
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ArifMuhammad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
রিয়াদ সৌদিআরব থেকে শমসের দেওয়ান লিখেছেন, ১৫ অগাস্ট ২০১১; রাত ০৮:০৮
বানিজ্য মন্ত্রি আর জেনারেল মই উ আহমদ একই সুতে গঁতা তো সে বলেছিল ভাতের বদলে আলু খেতে , সে গাদ্দারের বর্তমান দোষর একই সুরে দেশের মানুষের দুংখ কষ্টকে নিয়ে ফাইজলামি করছে। এরা লাজ লজ্যহীন প্রানীর চেয়ে ও খারাপ।
65515
রাজশাহী থেকে জয় লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; রাত ১২:০৮
খেটে খাওয়া মানুষের সাথে ফাজলামি করার কারনে গনমানুষের উচিত তাকে তার আসন থেকে টেনে হেচঁড়ে নামানো....
65530
Dhaka থেকে notime লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; সকাল ১০:১৫
শুধু বাণিজ্য মন্ত্রীর রঙ্গ-তামাশা ই দেখলেন, বাংলাদেশ সরকারের রঙ্গ-তামাশা দেখলেননা ? বাণিজ্য মন্ত্রীর এরূপ রঙ্গ-তামাশা এর পরও , তাকে যে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়নি এটা কি জনগনের সহিত সরকারের রঙ্গ-তামাশা নয় ?
65562
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
লেখকঃ সাংবাদিক

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy