রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ০৯:০৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
এখন আওয়ামী লীগই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যুক্তি (৩০/০১/২০১২)
‘আই গো অন ফর এভার’ (২৩/০১/২০১২)
অনুন্নয়নে নরহত্যা (১৬/০১/২০১২)
অসুরকে পরাস্ত করতে জনগণের অস্ত্র নৈতিকতা ও যুক্তি (০৯/০১/২০১২)
মানুষ জেগে উঠছে (০৬/০১/২০১২)
আবদুর রাজ্জাক ছিলেন আপাদমস্তক রাজনীতিক (২৬/১২/২০১১)
বিজয় দিবসকে শ্রদ্ধা জানানোর সুষ্ঠু পরিবেশ চাই (১২/১২/২০১১)
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আবার ধাপ্পা (০৫/১২/২০১১)
পানি আর ঘোলা করবেন না (২৮/১১/২০১১)
তারা সবাইকে বোকা হতে বলছেন (২৬/১১/২০১১)
অভিজ্ঞতার আলোয় বর্তমান দেখা (২১/১১/২০১১)
একেই বলে কানেকটিভিটি (১৭/১০/২০১১)
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে (১৫/১০/২০১১)
দুর্ভোগ শেষ হবার লক্ষণ নেই (১৩/১০/২০১১)
ভোঁতা অনুভূতির আশ্রয়ে (১০/১০/২০১১)
টয় স্টোরি (০৮/১০/২০১১)
বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চালচিত্র (০৭/১০/২০১১)
উত্তপ্ত শীতের পূর্বাভাস (০১/১০/২০১১)
তত্ত্বাবধায়ক :সাবেক রায় বহাল হোক (২৯/০৯/২০১১)
আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শিখাও (২৬/০৯/২০১১)
কালো মেঘ গেলো না (২৪/০৯/২০১১)
তিনি সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হলে দুর্নীতি বাড়বে (১৯/০৯/২০১১)
শরতের আকাশেও দুর্ভাবনার কালো মেঘ (১৭/০৯/২০১১)
ট্রানজিট :সুয়েজ ও পানামা খালে টোল ভালোই আদায় হয় (১৫/০৯/২০১১)
ছোট হয়ে আসছে বাংলাদেশের পৃথিবী (১০/০৯/২০১১)
বিভ্রান্ত সরকারের কাছে চাটুকাররা খুব দামি হয় (০৫/০৯/২০১১)
ট্রানজিটের জন্য রেলপথ ভালো, সড়ক নয় (০৩/০৯/২০১১)
যুগী নিজ গাঁয়ে ভিখ পেলে মান বাড়ে (২৯/০৮/২০১১)
সুপ্রিম কোর্টের আকাশে কালো মেঘ দেশে ঝড়ের আশঙ্কা (২৯/০৮/২০১১)
রাস্তার ডোবায় ডুবছে এই সরকার (২২/০৮/২০১১)
আগের লেখা
879


এখন আওয়ামী লীগই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যুক্তি

আতাউস সামাদ

হেরে গেল বাংলাদেশ। হারল অন্য কোনো দেশের কাছে নয়, দেশটির এ পরাজয় তার নিজের শাসকদের কাছেই। গতকাল (রোববার) বাংলাদেশের সামনে একটা সুযোগ এসেছিল সভ্য আচরণ ও গণতান্ত্রিক নীতিকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে বিশ্ব দরবারে তার নিজের সম্মান বাড়ানোর। কিন্তু যাঁরা সরকার চালাচ্ছেন তাঁরা সম্ভবত এভাবে বিষয়টাকে দেখছেন না। ফলে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার যে আইনি ক্ষমতা সরকারের আছে তার অপব্যবহার করে গতকাল বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে সারাদেশে গণমিছিল করতে যাচ্ছিল রাজধানী ঢাকা ও অন্য আরও ছয়টি প্রধান শহরে সেগুলো বন্ধ করে দিল।

সরকার হয়তো বলবে, রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে, কারণ তারা যে হুকুম দিয়েছে তাতে গতকালকে আওয়ামী লীগের যে জনসভা হওয়ার কথা ছিল তাও নিষিদ্ধ করেছে। বস্তুতপক্ষে ডিএমপি যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তাতেই বলা আছে, ‘২৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) গণমিছিলের কর্মসূচি রয়েছে।

এই মিছিলে শরিক জোট ও সমমনা ১৬ দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে জানা যায়। অপরদিকে একই দিনে বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।’ ডিএমপির হুকুম জারিকারক মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বিজ্ঞপ্তিতে এরপর বলছেন যে তাঁর কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে একই দিনে ঢাকা মহানগর এলাকায় গণমিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ‘আহ্বান করায়’ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর সেরকম অঘটন এড়ানোর জন্যই তিনি ডিএমপি আইনের ২৮ ও ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সব ধরনের মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, গণ-অবস্থান, সভা-সমাবেশ, মিছিল, সব ধরনের ছড়ি বা লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন। মূল কথা হলো বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই দিনে যথাক্রমে মিছিল ও জনসভা ডাকায় আইনশৃঙ্খলা বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে কমিশনার সাহেব আশঙ্কা করলেন এবং প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে দুটিই নিষেধ করে দিলেন। এতে সরকারপক্ষ আওয়ামী লীগকেও কোনো খাতির করা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে ‘কোনো পাগল ও শিশুও’ এ নিরাপত্তায় বিশ্বাস করবে না।

প্রথমত, দেশের সবার কাছেই ‘আসল সত্য’ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে, ডিএমপি কমিশনার আরও ওপর থেকে নির্দেশিত হয়েছেন বলেই মিছিল, সমাবেশ, সভা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

দ্বিতীয়ত, তাঁরা এও মনে করেন যে, ডিএমপির ক্ষমতা দিয়ে বিএনপির ঘোষিত গণমিছিল ভণ্ডুল করানোর জন্যই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দল ঢাকা শহরে রোববার বিএনপি-বিরোধী জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছিল। কেন জনগণ এরকম ভাবেন? তা এজন্য যে, আওয়ামী লীগ ২০০৮-এর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সারা বাংলাদেশে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ বানচাল করার জন্য একই স্থানে একই দিনে ‘পাল্টাপাল্টি’ সমাবেশ ডাকার ভণিতা করে আসছে। তারা এরকম হঠাত্ পাল্টা সমাবেশ আহ্বান করলেই স্থানীয় প্রশাসন সেইদিন সেখানে সব ধরনের কর্মসূচি নিষেধ করে দিচ্ছে। মনে হয় যেন ক্ষমতাসীন দল সরকারি প্রশাসনকে বলেই রেখেছে যে, বিরোধী দলের কোনো জনসভা বা সমাবেশ আমরা বন্ধ করতে চাইলেই সেই একই দিনে একই জায়গায় জনসভা ডাকব আর তোমরা ১৪৪ ধারা বা অন্য যুত্সই কোনো আইন (যেমন—ঢাকায় ডিএমপি অর্ডিন্যান্স) দেখিয়ে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে দেবে। গতকাল (রোববার, ২৯ জানুয়ারি)

আমার দেশ পত্রিকায় একটি খবর ছাপা হয়েছে যে, গত ২৫ মাসে বাংলাদেশে ২৪৫ স্থানে মিছিল-সমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে ১৪৪ ধারার অপব্যবহার করে। এ খবরটিকে আমার মন্তব্যের সপক্ষে উল্লেখ করলাম। তবে সরকার এর চেয়ে অনেক বেশিসংখ্যক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে তা স্পষ্ট, কারণ আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে ২০০৯ সালের হিসাব নেই। বিএনপির গতকালের প্রস্তাবিত গণমিছিল যে ক্ষমতাসীন দলই নিষিদ্ধ করিয়েছে তার তৃতীয় প্রমাণ হলো বিএনপির মিছিলের কর্মসূচি দলের চেয়ারপার্সন চট্টগ্রামে এক বিশাল সমাবেশে ঘোষণা করেছিলেন গত ৯ জানুয়ারি আর আওয়ামী লীগ ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তাদের জনসভা করার কথা বলেছে তার ১৭ দিন পর গত ২৬ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।

চতুর্থ কারণ হলো আওয়ামী লীগ শাসনের গত তিন বছরে চাল-আটা, তেল-ডাল, মাছ-মাংস, দুধ-ডিমের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সরকার এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। একই সময়ে ভুল নীতির কারণে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে দফায় দফায়। কারসাজির ফলে শেয়ার মার্কেট ধসে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা হয়েছেন নিঃস্ব। উন্নয়নখাতে ছিল না গতি। ফলে বেকার ও দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের লোভ, অনিয়ম, নির্লজ্জ টেন্ডারবাজির ফলে দুর্নীতি ছড়িয়ে গেছে দেশের সব ক্ষেত্রে ও প্রান্তে। আইনশৃঙ্খলা অবনতির ফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ বাস্তবত দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে না বলে জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা সেখানে ওঠে না। এসব মিলিয়ে জনগণ প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছেন এবং ক্ষোভে ফুঁসছেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচন এবং বেসরকারি জরিপে শাসক দলের প্রতি জনগণের বীতশ্রদ্ধ মনোভাব পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতারা ক্রমাগত উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। বোঝাই যায় যে, তাঁরা এখন জনগণকে ভয় পাচ্ছেন। যার দরুন বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের ওপর সরকার চালাচ্ছে নিপীড়ন।

শুরুতেই বলেছি, বাংলাদেশ তার শাসকদের কাছে পরাজিত হলো গতকাল। দেশটির ও এ দেশের সমাজের এই পরাজয় হয়েছে সরকারপক্ষ সভ্যতা ও গণতন্ত্রকে অসম্মান করার ফলে। বিএনপির পূর্ব-ঘোষিত নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি গণমিছিলের দিন আওয়ামী লীগ ঢাকায় তাদের জনসভা না ডাকলেও পারত। ওই জনসভা ডেকে তারা প্রমাণ করেছে যে, তারা ওই মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন বন্ধ করানোর অজুহাত সৃষ্টির জন্যই সভা ডেকেছে। এটা নিয়মতান্ত্রিকতা ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নীতি ও আচরণের পরিপন্থী। শুধু তা-ই নয়, এর মাধ্যমে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হলো, চলমান রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির ধারাকে আরও প্রবল করা হলো এবং দুঃশাসন কায়েম রাখা হলো।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দেশে তো সাধারণ মানুষ, বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা (যাতে সর্বশেষ সংযোজন ব্লু ব্যান্ড কল) এবং বিরোধী মতাবলম্বীরা তো সরকারি নিপীড়ন, পুলিশি নির্যাতন ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হামলার ভয়ে থাকছেন সারাক্ষণ। বিদেশেও বাংলাদেশের সম্পর্কে ধারণা জন্মাচ্ছে যে, বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্রমাগত বিলুপ্ত হচ্ছে। যে দেশ স্বাধীন করার জন্য লাখ লাখ লোক হানাদার পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে এবং তারপরও স্বৈরশাসকদের হটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করেছে, তার এই পরিণতি দুঃখজনক। এ প্রসঙ্গে অবশ্যই বলা যায় যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে অসহিষ্ণুতা এবং বিরোধী দল ও মতকে অত্যাচার করে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। যেমন—২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল আওয়ামী লীগ ঢাকায় যে সরকারবিরোধী গণসমাবেশ আহ্বান করেছিল, আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যার নাম দিয়েছিলেন ‘ট্রাম্প কার্ড’, তা বানচাল করার জন্য জোট সরকার ঢাকার লঞ্চঘাট, বাসস্টেশন ও রাজপথ থেকে বিরোধীদলীয় কর্মীদের এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করেছিল। সেই গণগ্রেফতারের ঘটনা আসলেই ছিল দেশের জন্য লজ্জাকর।

সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী নিপীড়নও হয়েছিল, যার উদাহরণ আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী, ইতিহাসবিদ ও প্রাবন্ধিক মুনতাসির মামুন, সাংবাদিক এনামুল হক ও সেলিম সামাদকে গ্রেফতার এবং জেলে হয়রানি। ‘ক্লিন হার্ট’ অপারেশনের কথাও ভোলার নয়। জোট সরকারের পর জরুরি আইনের শাসনের নামে দুই বছর ধরে যে সেনা-শাসন চলেছিল, তখন দেশের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং আরও বহু নেতাকর্মী, সংবাদপত্র সম্পাদক ও প্রশাসক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররা কারাভোগ করেছেন ও নির্যাতিত হয়েছেন। আর সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার তো স্থগিতই করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন হলো, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ জোরগলায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা দেশে গণতান্ত্রিক নীতি, রীতি ও মূল্যবোধের চর্চা প্রতিষ্ঠা করবে, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করবে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। আরও অনেক কিছু বদলে দেয়ার মতো রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনগণের মানবিক অধিকার ভোগের ক্ষেত্রেও তারা আনবে ইতিবাচক পরিবর্তন। কিন্তু কোথায় সেই দিনবদল। পরিবর্তন যা হচ্ছে সবই তো খারাপের দিকে। এখন বুঝি প্রতিবাদ করার সুযোগটুকুও যায়।

শুরুতে যে সভ্য আচরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলাম তার একটা বিশেষ কারণ আছে। সেটা হলো, ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও আরও কিছু দলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও জনজীবন স্থবির করে দেয়া ‘অবরোধের’ মুখে সে বছর মধ্য ফেব্রুয়ারিতে বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক ব্যবস্থা করে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই সংসদ ভেঙে দেন এবং নিজেও পদত্যাগ করেন। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবি ছিল আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী দলগুলোর। কিন্তু পদত্যাগ করার ও তার পরদিন বেগম জিয়ার ডাকে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরপর দুটি বিশাল গণজমায়েত হয়। ওই জমায়েতের অদূরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চলছিল আওয়ামী লীগ ও মিত্রদের জনতার মঞ্চ।

সেখানেও ছিল বড় সমাবেশ। কিন্তু ওই দুই দিনের একদিনও দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। সদিচ্ছা ও সহিষ্ণুতা থাকলে যে বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল একই দিনে একই শহরে তাদের আলাদা সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারে সেদিন আমরা তার জাজ্বল্যমান উদাহরণ দেখেছি। কাজেই রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা, সংযম, শিষ্টাচার ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রতি যত্নবান হওয়া যে আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে, তা প্রমাণিত। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কেন সেই আন্তরিকতা দেখাবে না?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের এই প্রসঙ্গে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ভেবে দেখতে বলি। তাঁরা জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার ব্যবস্থা তুলে দিয়েছেন। বিএনপি সেই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে বলছে। তবুও ক্ষমতাসীনরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হবে। কিন্তু রোববার ঢাকায় বিএনপির গণমিছিল নিষিদ্ধ করার পর বিরোধী দল তো সঙ্গতকারণেই বলতে পারবে এখনই আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ওপর জুলমের স্টিমরোলার চালাচ্ছে, কণ্ঠরোধ করছে ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করছে; তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তারা তো বিরোধীদের ঘর থেকেই বের হতে দেবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান আচরণই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি দাঁড় করিয়েছে।

আমি এই লেখাটা লিখেছি গতকাল সকালে। গত বিকাল নাগাদ জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সদস্য ও সমর্থকদের বিক্ষোভে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের ক্যাডারদের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন ও তিন-চারশত লোক আহত হয়েছেন। আমার এই লেখাটিতে এসব দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা বিবেচনায় নিতে পারিনি। এ বিষয়গুলোয় অধিকতর তথ্য জেনে আগামীতে লিখতে পারব বলে আশা করি। তবে আরও ১০ জনের মতো আমাকেও বিশ্বাস করতে হচ্ছে যে, দেশ বড় দুর্যোগের দিকে দ্রুত ধাবমান।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/AtausSamad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
uk থেকে mansoor লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; সকাল ০৯:৪০
Reviewing the AL and BNP regime after 1990 it appears more or less they are the same coin this or that side but yet it seems AL is more facistic in attitude than BNP. AL seldom follows normal and transparent road of democracy , their trends is mechanism of cunning way how to stay more duration in the power vis a vis destroying their rival, this is very henious attitude they possess, can't be seen in any democratic state. They beleive India will help them , so they don't hesitate to give them every thing with out thinking the consequences !They can't think even what the next generation will allocate their position ,the most hated then Pakistan army for this cause.

Famous journalist Mr. Ataussamad remarked on BNP's mass arrest prior to 30 April,2004 the day when AL declared total collapse of the govt on this day and tried to compare todays AL's treatment with opposition. I am not a BNP supporter , but can't support the collapse of a govt by any undemocratic way be it a coup-d-etat like recent incident or by anarchism like 2004, 30 April's declaration by Jalil. So if the govt of that day tried to resist the illegal mob they can't be blame ,so for the same cause we can't blame AL if they make recent coup d etat unworkable. But history says AL had always bit welcome to these forces or expressed their satisfaction !
77538
ঢাকা থেকে নাঈম লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; সকাল ১১:০০
আওয়ামী লীগ শুধু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যুক্তিই নয়; বরং তারা দেশ প্রেমিকের যুক্তি, তারা মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকারের যুক্তি, ন্যায়-অন্যায়ের যুক্তি, ভালো-মন্দের যুক্তিসহ নানা যুক্তি।

অর্থাত, আওয়ামীলীগ যদি মনে করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন তাহলে সেটা যুক্তিযুক্ত। পক্ষান্তরে তাদের বিরোধী কোনো রাজনৈতকি দল সেটা বললে সেটা যুক্তিহীন।
কোনো বক্তব্য বা কাজ যদি আওয়ামী ঘরানার কেউ দেয় বা করে তাহলে সেটা দেশ প্রেমের উদাহরণ। একই কাজ বিরোধী মতাবলম্বী কেউ করলে সেটা রাষ্ট্রদোহী বা দেশদ্রোহীতা।

কোনো মুক্তিযোদ্ধা যদি আওয়ামীলীগ ভিন্ন অন্য যে কোনো দল সমর্থন করে বা সক্রিয় অংশ গ্রহন করে তাহলে সে যে কোনো সময় রাজাকার আলবদর বনে যেতে পারে; পক্ষান্তরে কোনো প্রকৃত রাজাকারও যদি আওয়ামীলীগ সমর্থন করে বা সক্রিয় আওয়ামী রাজনীতি করে তাহলে সে মুক্তিযোদ্ধা হতে বাধ্য। অনেক সময় সে আবার কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে তা নয়, সে সার্টিফিকেটও প্রদান করার ক্ষমতা লাভ করে।

আওয়ামীলীগ যে কাজ করবে সেটা ন্যায় আর একই কাজ অন্য দলের কেউ করলে সেটা অবশ্যই অন্যায়।

আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক যে কর্মসুচী পালন করে সেটান মাধ্যমে কারো ক্ষতি হলেও তা ভালো। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ কোনো কর্মসূচী দিলে সেটা কারো ক্ষতি না করলেও তা মন্দ।

এরকম মানষিকতার কেউ আসলে মানুষের মধ্যে পড়ে কি না তা ভাবার বিষয়।
77541
েজদদা থেকে বােসত লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; দুপুর ০২:৪০
আমাদের দেশ এমনই , রাজনীতিও এমনই
77559
কঙ্গো থেকে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; বিকেল ০৪:২৭
আওয়ামীলিগের ইতিহাসে দেশের জন্য মঙ্গল করার কোন রেকর্ড আছে বলে আমার জানা নাই। যদি বলা হয় স্বাধীনতার কথা, সেটি আওয়ামীলিগের ইচ্ছায় হয়নি, জনগণের ইচ্ছায় হয়েছে। সে সময় বিএনপি কিম্বা অন্যান্য দল ছিলোনা বিধায় সেই সুবাধে আওয়ামিলিগ তার সুফল ভোগ করেছে মাত্র। দেশ পরিচালনায় কোন কালেই আওয়ামীলিগের ভালো কোন ইতিহাস নেই তার বড় উদাহরণ হলো আওয়ামীলিগ যাকে তাদের পিতা ভাবেন সেই শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতার সময় জনগণের একচ্ছত্র জন সমর্থন থাকা সত্যেও ততকালিন জাসদের মতো ক্ষুত্র দলটিকেও তিনি সহ্য করতে পারেন নাই অথবা তার আত্মবিশ্বাস ছিলোনা বিধায় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য একদলিয় "বাকশালের" জন্ম দিয়ে তার নিজের জীবন দিয়ে খেসারত আদায় করে দেশ। বর্তমান আওয়ামী সরকারও ঠিক তাই। কারণ বিগত নির্বাচনে জনতার ভোটে নয়- নির্বাচন কমিশন, সেনা, দেশের কিছু বেঈমান আমলা এবং ভারত সহ কিছু বৈদেশীক চক্রান্তে বিশাল বির্তকিত জনসর্মথনরে সরকারের ক্ষুদ্র আসন প্রাপ্ত বিরোধী দলকে এতো ভয় কেন? এটাই প্রমান করে জনসমর্থনে নয় চক্রান্ত করে ক্ষমতায় আসায় একই পথে যাতে বিরোধী দল সুবিধা ভোগ করতে না পারে তাই উচ্চআদালতের নির্লজ্জ রায় নিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করে নিজেদের রক্ষা কারর ফন্দি করে রেখেছেন। কিন্তু ইতিহাস কি বলে, গণজোয়ারের কাছে ঐসকল ফন্দি কি কাজে লেগেছে? ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সামরিক সরকার আমলেই দেশের বিশাল উন্নতি সাধিত হয়েছে। দেশের মানুষ নিরাপদে জীবন যাপন করতে পেরেছে। তাই পুলিশ, আনসারদের সহায়তায় আওয়ামিলিগের কমিশন খেকু কর্মীরা বিরোধী দলের উপর গুন্ডাগিরি দেখাতেই পাড়ে কিন্তু যখন সকল জনতা এক হয়ে রুখো দাড়াবে এই সকল গুন্ডাদের তখন পালানোর পথ খুজে পাবে বলে কি তারা মনে করে? ইতিহাসের শিক্ষা যখন না গ্রহন করে, তখনই আবার নতুন ইতিহাসের আর্ভিভাব ঘটে। তাই বর্তমান সরকারে ব্যর্থতা এতোমাত্রায় পৌচিয়েছে যে, যে কোন মুর্হুতে ক্ষুদ্র কোন একটি ঘটনার মাধ্যমে যে কোন মুর্হুতে আন্দোলন দানা বেধে উঠতে পারে। শুধু একটি শুভক্ষণের অপেক্ষ।
77564
Sweden থেকে Shaheen লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; বিকেল ০৫:০০
Sir,
What a candid and considerable article that brings the people to get together to stand up and be counted against bloody baksalist and Hasina's autocracy and eventually the cat came out of the bag that no election will be held without having a neutral care taker Govt, but not that bloody baksalist Rtd. Chief Justice Khairul Haque.Thanks so much for making us clear the main character of envious baksalist as to how they have planned to ´disperse the mob of BNP as Hasina and her stooges got very much scared to see the assemblage of BNP held in Chittagong and other districts etc.
77566
গাজির পাড়া, দক্ষিন সুরমা, সিলেট থেকে মোহাম্মদ সানা-উল গাজী লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ১২:৫০
------ডিল মারলে পাঠকেলটি খেতে হয়।
77582
দূরে কোথাও থেকে নাম লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০২:১০
আওয়ামী দলের নেতৃত্ব চিরকালের জন্য পরিবর্তন দেশের জন্য অতি জরুরী। এটা করার মত সাহসী লোকের অভাব দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী একাজ সুখ্যাতির সাথে অতীতে করলেও পুরা বাহিনীকে এখন আনসারের মত দুর্বল বাহিনীতে পরিণত করে ফেলেছে আওয়ামী চক্রান্তকারীরা। দেশ বাঁচাতে হলে আওয়ামী নেতৃত্বে স্থায়ী পরিবর্তনের কোনও বিকল্প নেই। এটা যত দিন জনগণ বুঝবে না তত দিন আওয়ামী শ্বাস্থি থেকে পরিত্রাণের কোনও সম্ভাবনা নেই।
77586
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy