‘মা’ কথাটি পৃথিবীর সবচেয়ে আপন শব্দ। সবাই মায়ের আদরে এই পৃথিবীতে বেড়ে উঠে। একজন মা অনেক কষ্ট স্বীকার করে সন্তানকে ধারণ করেন এবং কঠোর পরিশ্রম করে, নিজের আনন্দ-সূখ কে অগ্রাহ্য করে আদর সোহাগ দিয়ে মানুষ করেন। প্রতিটি মা’ই এই কষ্ট সহ্য করেন। আদর্শ পরিবার গঠনে একজন বাবার থেকে একজন মায়ের ভূমিকা অনেক বেশী। একটা সুন্দর, সুখী পরিবারের পূর্ণতা আসে সন্তানের জন্ম ও যথাযথ ভাবে লালন পালনের মাধ্যমে। মা প্রথমতঃ শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দু দিয়ে অনেক কষ্ট স্বীকার করে একটি সন্তানের জন্ম দেন। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে সন্তানের জন্য অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করে তাকে বড় করে তুলেন। আল্লাহ একজন মা’র উপর প্রকৃতিগত ভাবে সেবার মহান দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। এজন্যই আমরা লক্ষ্য করি একজন মা’র মধ্যে একই সাথে ত্যাগের মন মানসিকতা; আবেগ, দুঃখ-কষ্ট স্বীকারের জন্য ধৈর্য্য এবং সন্তান লালন-পালনের জন্য নৈতিক যোগ্যতা সবই বর্তমান থাকে।
অপরদিকে একজন পিতার অবদানও অনস্বীকার্য। পিতা পরিশ্রম করে সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত খরচ বহন করেন। শিশুর জন্ম থেকে নিজের পায়ে দাড়ানোর আগ পর্যন্ত সমস্ত খরচই পিতার দায়িত্বে থাকে। একজন বাবা শিশুর এ অধিকার উদারতার সাথে পালন করেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ-সম্পদ যখন সে নির্দ্বিধায় খরচ করে সন্তানকে হাসিখুশি দেখতে পায় তখন তার সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। মহান আল্লাহতা’লা একজন বাবার অন্তরে পিতৃত্বসুলভ ভালোবাসার সীমাহীন আবেগ সৃষ্টি করে তার এবং সন্তানের উপর বিরাট অনুগ্রহ করেছেন। এ স্বভাবজাত মায়া-মমতা ছাড়া শুধুমাত্র কর্তব্য হিসাবে সন্তানের খরচ বহন করা কঠিন কাজ ছিল।
মুসলিম পিতা-মাতা সন্তানের জন্য কষ্ট করেন সহজাত ভালোবাসার কারণে। কিন্তু সাথে সাথে এ ধারণাও রাখেন যে, সন্তান প্রতিপালন আন্তরিকতার সাথে করলে দুনিয়া ও আখিরাতে এ কাজের উত্তম প্রতিদানও পাওয়া যাবে। বাবা-মা তাদের সন্তানকে ভালো মুসলমান হিসাবে গড়ে তুললে সেটা তাদের পরকালীন সাফল্যের মাধ্যমও হয়ে উঠে।
বাবা-মা’র কষ্ট, ত্যাগের জন্য তাদের মর্যাদা কতটা বেশী তা এই ছোট্ট হাদীস থেকে বোঝা যায়ঃ
“হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) আমাকে ওসিয়ত করেছেন- আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করোনা, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় কিংবা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আর কখনো মাতা-পিতার অবাধ্য হয়োনা, এমনকি তারা যদি নিজের সম্পদ ও পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দেন”
বাবা-মা’র সন্তুষ্টি ও তাদের মমতাপূর্ণ দোয়া একটি সন্তানের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ
“তিন ধরনের দোয়া এমন যা নিঃসন্দেহে কবুল হয়- (১) মজলুমের দোয়া, (২) মুসাফিরের দোয়া, (৩) সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া”।
এছাড়া পবিত্র কোরআনের সুরা লুকমানের দ্বিতীয় রুকুতে বাবা-মা’র মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে এভাবেঃ
স্মরণ করো যখন লুকমান নিজের ছেলেকে উপদেশ দিচ্ছিল , সে বললো, “ হে পুত্র! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। যথার্থই শিরক অনেক বড় জুলুম। আর প্রকৃতপক্ষে আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার হক চিনে নেবার জন্য নিজেই তাকিদ করেছি। তার মা দুর্বলতা সহ্য করে তাকে নিজের গর্ভে ধারণ করে এবং দু’বছর লাগে তার দুধ ছাড়তে । (এ জন্য আমি তাকে উপদেশ দিয়েছি) আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং নিজের পিতা-মাতার প্রতিও, আমার দিকেই তোমাকে ফিরে আসতে হবে। (সুরা লুকমানঃ ১৩-১৪)
প্রত্যেক বাবা-মা’ই চান যে তার সন্তান তার অন্তরের প্রশান্তি ও নয়ন শীতলকারী হোক, দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানের মাধ্যম হোক, তাদের ও সমাজের জন্য কল্যানকর হোক। এ আকাঙ্ক্ষা থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু আকাঙ্ক্ষা বা দোয়া করেই সফলতা পাওয়া সম্ভব না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতিতে চেষ্টা। একটি শিশুকে সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে পালন করা, নৈতিক চরিত্র শিক্ষা দেয়া, তাকে নেক সন্তান হিসাবে গড়ে তোলার জন্য যে নৈতিক গুনাবলী ও ধৈর্য্য দরকার তা প্রতিটি বাবা-মা’র মধ্যেই প্রকৃতিগত ভাবে কম-বেশি আছে। ধৈর্য্য, ত্যাগ, দয়া, নম্রতা, ভালোবাসার মত মৌলিক গুনাবলীর মাধ্যমেই সন্তানকে নেক বান্দা হিসাবে গড়ে তোলা যেতে পারে ও তাদের অধিকার সংরক্ষিত হতে পারে। এরপরেও সন্তানের কিছু অধিকারের উপর গুরুত্ত্ব দেয়া প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্বঃ
ক) সন্তানের কদর ও মুল্যঃ
সন্তানের প্রথম অধিকার হলো তাকে যথাযথ গুরুত্ত্ব ও মর্যাদা দেয়া। তার অস্তিত্বকে বিরক্তিকর মনে না করা, বরং নিজের জন্য আল্লাহর পক্ষথেকে রহমত ও পূরষ্কার মনে করা। দ্বিনী কাজে এবং পার্থিব কাজে সে যেন একজন বাবা মা’র জন্য ভালো সাহায্যকারী ও উত্তরাধিকার হতে পারে। এজন্য আলাহ নিজেই সুন্দরভাবে সাহায্য চাওয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেনঃ
“তারা প্রার্থনা করে থাকে, হে আমাদের রব ! আমাদের নিজেদের স্ত্রীদের ও নিজেদের সন্তানদেরকে নয়ন শীতলকারী বানাও এবং আমাদের করে দাও মুত্তাকীদের ইমাম।” (সুরা ফুরকানঃ ৭৪)
আবার এভাবে দোয়া করা যায়ঃ “হে রব, আপনি আমাদেরকে পবিত্র ও সুস্থ সন্তান দান করুন।” এ দোয়ার উদ্দ্যেশ্যই হচ্ছে, সন্তান একজন বাবা মা’র জন্য জান্নাতের ওসীলা ও মান সন্মানের মাধ্যম হবে।
সব সন্তান কে সমমুল্যায়ন করা উচিৎ। তা নাহলে শিশুর নিষ্পাপ মনে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তারা একটু একটু করে বাবা-মা থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। এজন্য প্রত্যেক বাবা-মা’র উচিৎ সন্তানের সাথে যতদূর সম্ভব খোলা মেলা হওয়া, সহজ সম্পর্ক তৈরী করা ও বন্ধুর মত সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাদের ভালো মন্দের শিক্ষা পরিবার থেকে হওয়াটাই ভালো।
(খ) সন্তানের জন্মের সময় করণীয়ঃ
একটি নবজাতক শিশু জন্মের পরপর সবচেয়ে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় থাকে। এ সময় সম্পূর্ণ ভাবে সে অন্যের মুখাপেক্ষী থাকে। শিশু যদি এসময় বাবা-মা’র অভিভাবকত্ব ও যথাযথ পরিচর্যা না পায় তাহলে সে ঠিকমত বেড়ে উঠতে পারে না।
শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা দেয়া উত্তম। তবে ১৫তম বা ২১তম দিনে বা অন্য সময়েও আকিকা দেয়া যায়। আকিকা দেয়া সুন্নত। বস্তুতঃ এটা শিশুর জীবনের জন্য উত্তম সাদাকা। তবে শর্ত হলো যে আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল হতে হবে।
জন্মের সাথে সাথেই শিশুর কানে আযান দেয়া সুন্নত। এটা এজন্য যে প্রথম থেকেই আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষনা তার কানে প্রবেশ করানো। এছাড়াও আর একটি উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে, যেহেতু শয়তান আযান শুনলেই পালিয়ে যায়, তাই শয়তানের প্ররোচনার পূর্বেই শিশুর কানে ইসলাম ও আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেয়া।
(গ) সুন্দর আচরন করাঃ
সন্তানের আরও একটি অধিকার হলো, তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করা। তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা, আদর-স্নেহ করা এবং আবেগ-অনুভূতির প্রতি খেয়াল করা। সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। এই আমানতের হক সঠিকভাবে আদায়ের জন্যই তাদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা ও তাদের অধিকার রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। তাদের সাথে সেরকম সুন্দর আচরন করা দরকার যে রকম আচরন আমরা তাদের কাছে আশা করি। তাদের ভূল-ত্রুটি ক্ষমা করা ও তাদের জন্য দোয়া করা দরকার। তাহলে সন্তানও বাবা-মা’র জন্য দোয়া করবেঃ
“হে আমার রব, আমার পিতামাতা’র প্রতি রহম করূন, যেমন তারা শৈশবে আমাদের কে (মেহেরবানী ও স্নেহের সাথে) আমাদের প্রতিপালন করেছিলেন।”
(ঘ) ভালো নাম রাখাঃ
নামের মধ্যেও মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে এবং মনের উপরেও নামের ভালো প্রভাব পরে। পছন্দনীয় ও সুন্দর অর্থযুক্ত নাম রাখার ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) গুরুত্ত্ব দিয়েছেনঃ
রাসুল সাঃ বলেন- “কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে নিজের এবং পিতার নামে ডাকা হবে। অতএব ভালো নাম রাখ।”
(ঙ) সন্তানের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসাঃ
সন্তানের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা তাদের একটি অধিকার। সন্তানের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা দেখানো একটা সহজাত ব্যপার। আল্লাহতা’লা প্রত্যেক মাতাপিতার অন্তরে এ সহজাত প্রবৃত্তি সৃষ্টি করেছেন। মানব শিশু অন্যসকল প্রজাতির তুলনায় বেশি অসহায়, দূর্বল ও সাহায্যের মুখাপেক্ষী থাকে। বাবা মা’র অসাধারণ ত্যাগ কুরবানী ও ভালোবাসার বদৌলতেই সে বড় এবং যোগ্য হয়ে উঠে।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই ভালোবাসা যেন এমন না হয় যাতে সন্তান দ্বীন ও ইমানের দাবীর ব্যাপারে গাফিল হয়ে পরে। সতর্ক থাকতে হবে যেন তাদের প্রতি ভালোবাসা, দ্বীনের প্রতি ভালোবাসার উপরে বিজয়ী হতে না পারে। কুরআনে বলা হয়েছেঃ
হে সেই সব লোক যারা ঈমান এসেছো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল করে না দেয়। যারা এরূপ করবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। (সুরা আল মুনাফিকুনঃ ৯)
(চ) উত্তম শিক্ষা দেয়াঃ
উত্তম ও নৈতিক শিক্ষা ছাড়া শিশু সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে না। বাবা-মা’র আশা পূরণ তখনই হবে যখন তার সন্তানকে নৈতিক ও দ্বীনি শিক্ষা পুরোপুরি দেয়া যাবে। বাবা মা অত্যন্ত ধৈর্য্য, কর্তব্য, সচেতনতা, উদারতা এবং একাগ্রতার সাথে যখন তার সন্তানকে উত্তম শিক্ষা দিতে পারেন তখন সে সন্তান বাবা-মা’র জন্য গৌরবের কারণ এবং ইসলামের জন্য সম্পদ হতে পরিনত পারে। এর প্রতিদানে দুনিয়াতে মান-মর্যাদা ও সম্মান পাওয়া যায় এবং আখিরাতেও মর্যাদার অধিকারী হওয়া যায়। রাসুল (সাঃ) এর দৃষ্টিতে সন্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো উপহার তাকে উত্তম শিক্ষা ও প্রশিক্ষন দিয়ে সুসজ্জিত করা। রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ
“পিতা নিজের সন্তানকে যা কিছু প্রদান করেন তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো ভালো শিক্ষা ও প্রশিক্ষন”
একটি শিশু যদিও জীবনের প্রথম দিনগুলোতে কথা বলতে পারে না, তবে অনুভব করতে পারে। সেজন্য এসময় প্রয়োজনঃ
- তাকে ভালো শব্দ শিখানো।
- কথা বলতে শেখার সাথে সাথে তাকে ‘কালিমা’ শিখানো।
- তার সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা।
- তাকে ইসলামী আচরন ও শিষ্টাচার ছোট থাকতেই শেখানো শুরু করা।
- তাকে শৈশবকাল থেকেই সুন্দর সুন্দর গল্প (নবী-রাসুল ও মনিষীদের) শোনানো।
সন্তানের ভালো শিক্ষা ও প্রশিক্ষন সাদাকায়ে জারিয়াহ। মৃত্যুর নির্ধারিত সময়ের সাথে সাথেই একজন ব্যাক্তির কাজের সময় ও সূযোগ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু তার আমলনামায় পূরষ্কার ও সওয়াব বৃদ্ধি পেতে থাকবে নেক সন্তানের উসীলায়। কোন বাবা-মা যদি নেক সন্তান রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তবে সন্তানের সব সওয়াব তাদের আমলনামায় লেখা হতে থাকবে। আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ
“যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমলের সুযোগ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি কাজ ছাড়া (এসবের সাওয়াব মৃত্যুর পরেও পেতে থাকে)। কাজ তিনটি হলোঃ
- এমন সাদাকাহ প্রদান করা যা থেকে মানুষ তার মৃত্যুর পরও উপকার পেতে থাকে।
- এমন জ্ঞান বা ইলম বিতরণ করা যা থেকে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে উপকৃত হতে পারে।
- এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া, যে মৃত্যুর পরেও তার জন্য দোয়া করতে থাকে।”
(ছ) বিয়েঃ
সন্তান বড় হলে তাকে নেক জীবন-সঙ্গী খুঁজে দেয়া পিতামাতার অন্যতম সামাজিক ও দ্বীনি কর্তব্য। রাসুল (সাঃ) বিয়ের জন্য পাত্রী নির্বাচনের সময় চারটি বিষয় দেখা হয়- (১) দ্বীন ও আখলাক, (২) ধন সম্পদ, (৩) বংশীয় আভিজাত্য ও (৪) রুপ-সৌন্দর্য্য। তবে তোমরা দ্বীনদারী দেখে বিয়ে কর, এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে।
উপরোক্ত কয়েকটি অধিকার সম্পর্কে গভীর ধারণা এবং তার জন্য পূর্ণ চেষ্টাই পারে আমার, আপনার সন্তানকে প্রত্যাশিত সন্তান রুপে গড়ে তুলতে। সবশেষে একটি সুন্দর হাদীস দিয়ে এ লেখাটি শেষ করতে চাইঃ
“যে ব্যাক্তি কুরআন পড়লো, শিখলো, এবং তার উপর আমল করলো, কিয়ামতের দিন তার মাতা-পিতাকে এমন নূরানী টুপি পড়ানো হবে যা থেকে সূর্যের আলোর মতো আলো বের হবে আর তাদেরকে এমন মুল্যবান দুটি পোষাক পরানো হবে যার মুল্য সমগ্র দুনিয়াও হতে পারবেনা। তখন মাতা-পিতা আশ্চর্য্য হয়ে জিজ্ঞেস করবেন, এ পোশাক তাদেরকে কিসের বিনিময়ে পরিধান করানো হচ্ছে। তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের সন্তানের কুরআন হাসিলের বিনিময়ে এটা পরিধান করানো হয়েছে।
ধন্যবাদ আপু, সুন্দর ও গোছালো লেখার জন্য। আপনার কাছে আরো লেখা চাই
44823
২
ইউকে থেকে হাসান লিখেছেন,
০২ জানুয়ারি ২০১১; রাত ০৯:০৬
পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপুর্ণ একটি জিনিস তুলে এনেছেন। পড়ে খুব ভালো লাগলো। আরও লেখা আপনার
44824
৩
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাহফুজুর রহমান আখন্দ লিখেছেন,
০৩ জানুয়ারি ২০১১; সকাল ০৭:৪৩
নিবন্ধটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো।
আদর্শ পরিবার গঠনে এ ধরনের প্রবন্ধ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
ঝরঝরে সুন্দর প্রবন্ধের জন্য ধন্যবাদ। নিয়মিত লেখার প্রত্যাশা করছি।
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা
44856
৪
িরয়াদ,সাউদীআরব থেকে ফরিদ মাহবুব লিখেছেন,
০৩ জানুয়ারি ২০১১; রাত ০৮:৩৭
আপুকে অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটি লেখা আমাদের উপহার দেওয়ার জন।
আরো লিখবেন আশা কর।
আপনার নেক হায়াত ও মংগল কামনা করি।
44913
৫
িরয়াদ,সাউদীআরব থেকে ফরিদ মাহবুব লিখেছেন,
০৩ জানুয়ারি ২০১১; রাত ০৯:৫৮
আপুকে অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটি লেখা আমাদের উপহার দেওয়ার জন।
আরো লিখবেন আশা কর।
আপনার নেক হায়াত ও মংগল কামনা করি।
44924
৬
িরয়াদ,সাউদীআরব থেকে ফরিদ মাহবুব লিখেছেন,
০৩ জানুয়ারি ২০১১; রাত ১০:২৩
আপুকে অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটি লেখা আমাদের উপহার দেওয়ার জন।
আরো লিখবেন আশা কর।
আপনার নেক হায়াত ও মংগল কামনা করি।
44929
৭
ঢাবি, ঢাকা থেকে রায়হান লিখেছেন,
০৩ জানুয়ারি ২০১১; রাত ১১:৪৫
আয়শা কে,
মাতা সন্তান লালন পালন করবেন আর পিতা সমস্ত খরচ বহন করবেন এই অদ্ভুত হাদিস কোথায় পেয়েছেন? আপনার দেয়া ফর্মুলায় সন্তানের ভবিস্যত অন্ধকার। ঐ সন্তান বড় হয়ে ইসলামি সন্ত্রাসী অথবা মসজিদের ইমাম/মুয়াজ্জিন ছাড়া আর কিছু হতে পারবে না।
44936
৮
ইংল্যান্ড থেকে আন্দালিব লিখেছেন,
০৪ জানুয়ারি ২০১১; রাত ০২:৩০
রায়হান ৭,
মুল্যবান মতামত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
সন্তানকে আপাদমস্তক ধর্মের চাদরে ঢেকে রাখলে ঐ সন্তান চার দেয়ালে আবদ্ধ বিশেষ প্রানী হিসাবে বেড়ে উঠবে কিন্তু মানুষ হতে পারবে না। মেইন স্টিম থেকে বিছ্ছিন্ন ঐ সন্তান সমাজের কোন কাজে আসবে না বরং বোঝা হিসাবে বিবেচিত হবে। সুসভ্য দুনিয়ায় আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সন্তানই কেবল আদর্শ সন্তান হতে পারে অন্য কোন পথে নয়।
44941
৯
London, UK থেকে Dr. Nizam লিখেছেন,
০৪ জানুয়ারি ২০১১; রাত ০৩:২০
Thanks a lot for this nice article. Please continue.
44946
১০
UK থেকে ৃAbdullah লিখেছেন,
০৪ জানুয়ারি ২০১১; সকাল ০৫:৩০
লেখিকার লেখায় বা ফর্মুলায় সন্তান আর যাই হোক ইনশাল্লাহ ৭ নম্বর কমেন্টধারি ব্যক্তির মতো হবে না। আর সেটা না হলেই সন্তানের জন্য মঙ্গলজনক এবং বাবা-মা স্বার্থক। লেখিকা-কে অসংখ্য ধন্যবাদ।
44949
১১
ইউকে থেকে রেজা আবিদুর লিখেছেন,
০৪ জানুয়ারি ২০১১; সকাল ০৮:৩২
শুধুমাত্র ধর্ম ভিত্তিক শিক্ষাদিয়ে সন্তান কখনো আদর্শ হবে না। ধর্মের আষ্টেপিষ্টে বাধা সন্তান একটা নির্দিষ্ট গোন্ডির ভিতর সীমাবদ্ধ থাকবে। পৃথিবীতে প্রতি ছয় জনের বিপরিতে মাত্র একজন মুসলমান এবং মুসলমানদের ভিতর ৯০% ধর্মের মৌলবাদ পছন্দ করে না। কলামিষ্ট যে ভাষায় সবক দিয়েছেন তাতে মনে হয় পৃথিবীতে ধর্মছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু ধর্মের বাইরেও মানুষকে অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হয় যেমন চিকিতসা, বাসস্থান, আবিস্কার, বিজ্ঞান, মানবতাবোধ আরো অনেক কিছু। আজকের এই যুগে শুধুমাত্র কোরান-হাদিসের ভিতর ডুবে থাকলে সভ্যতা বা জ্ঞান/বিজ্ঞানের কিছুই জানা হবে না। একজন কোরানে হাফেজ পরকালে ৭১ হুরের পাকাপক্ত ব্যবস্থা করতে পারলেও বাস্তবকালের জন্য নেহাৎ অপ্রয়োজনিয় এবং মুল্যহীন। তাই কলামিষ্ট কে সবশেষে বলছি, ধর্ম ধর্ম জিগির বাদ দিয়ে বরং উদার, উন্নত এবং আধুনিক শিক্ষা সন্তানকে দেয়ার চেষ্টা করেন। তা না হলে ইল্যান্ডের মত যায়গায় আপনার সন্তান উত্তর/দক্ষিন কোন দিকে তাও জানতে পারবে না। ধন্যবাদ
44956
১২
Chittagong থেকে M.Abdul Kader Farukey লিখেছেন,
০৬ জানুয়ারি ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:০১
Thanks for potibadon nasasary for any muslim
45101
১৩
রিয়াদ সৌদি আরব থেকে জাহেদ লিখেছেন,
০৬ জানুয়ারি ২০১১; রাত ১০:০০
আয়শা বিনতে সালাম, সুন্দর কলম দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ প্রতিটি মা আপনার মত জ্ঞানী হওয়া চাই তা হলে জাতি পরির্বতন হইতে বেশি দেরি লাগবে না।
৭
ঢাবি, ঢাকা থেকে রায়হান কে আয়শা আপু যেই হাদিস টা উল্লেখ করেছেন সেই খানে বলেছে বাপের দায়িত্ব হল সন্তানের খরচা বহন করা, সেই হাদিছে বলে নাই মা তার সন্তানের খরচা চালাইতে পারবে না, কামাকা সব জায়গায় কাদা ছুরাছুরি করেন কেন ? সূরা আল ইমরানের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা শুধু আল্লাহ এবং রাসূলের কথার ভিতর দুশ ত্রুটি খোঁজে।
দেশ আজ সন্ত্রাসের রাজত্ব হয়ে গেছে এর পিছনে আপনাদের মত প্রগতিশীলরা দায়ি,
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/01/04/61365
সরকার এখন নিজের ব্যায়ত্বতাকে ঢাকিয়ে রাখার জন্য মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন কে জি এমবি বানিয়ে উপস্থাপন করতেেছ, যার উদাহারণ হল পিল খানায় হত্যাকান্ড গঠিয়ে ৬০ জনের উপর অফিসার কে হত্যা করানোর সাথে সাথে খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে টানাটানি করা শুরু করেছে যাতে মানুষ পিল খানার হত্যানান্ড গঠনা ভুলে যায়।
৮
ইংল্যান্ড থেকে আন্দালিব কে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আগে ইসলামি শিক্ষা দিতে হবে এর পর সারা জীবন আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করুন তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়, আপনাদের মত যারা শুধু আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তারা এখন মা বাবা কে বৃদ্ধা আশ্রমে পাটিয়ে দিতেছে, মা বাবা আপনাদের কে নিজের দঃখ ভুলে গিয়ে বড় করেছে যাতে বৃদ্ধ অবস্থায় সুখ শান্তিতে মুত্যু বরণ করতে পারে সেই দঃখিনি দঃখ নিয়ে মৃত্যু বরণ করতেছে কেননা তারা নিজের সন্তানদের কে ইসলামি শিক্ষা দেয় নাই।
১১
ইউকে থেকে রেজা আবিদুর কে
চিকিতসা, বাসস্থান, আবিস্কার, বিজ্ঞান, এই গুলো নিয়ে ভাবার সাথে সাথে নিজের মৃত্যুর কথাও ভাবতে হবে কেননা মৃত্যুর পরেও একটা জীবন আছে।
৭১ হুর, বেহশত, দোজখ, এই গুলো যেই রকম ইসলাম র্ধমে উল্লেখ আছে সেই রকম হিন্দু, খৃষ্টান, ইহুদি র্ধমেও আছে ওদের ধর্ম নিয়ে আপনাদের কোন প্রশ্ন নাই ইসলাম ধর্ম নিয়ে এত প্রশ্ন কেন ?
45115
১৪
Malaysia থেকে Md. Saifuddin লিখেছেন,
১০ জানুয়ারি ২০১১; দুপুর ১২:২৪
Hope we will get more writing from you soon. May Allah bless you.....!
45386
১৫
Nepal থেকে shamim লিখেছেন,
১০ জানুয়ারি ২০১১; দুপুর ০৩:০৬
Thanks very much for this article. May Allah (swt) sharpen your pen for the Humanity.
Blogger 7: Without Religious education, one can not be well educated. Islam is not confined to only hereafter rather it's all about here and hereafter. If you don't know this then how can you claim yourself to be well educated??
@ Blogger 8: You never know about Islam that;s why you are raising this question. Islam does not discourage people to be a doctor, Engineer, Scientists and know about the modern science.
The writer is writing on the basis of Religion and it's in website. You will get lots of people working on it. There was superstition before but that superstition is not religion!!
ANyways, May Allah (swt) guide us on the right path.
Thanks againg to the Writer, expecting more from you.
45394
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: