শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ১২:৫২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

তৃতীয় মত (৩য় পর্ব)

বশীর উদ্দীন আহমেদ

বাংলাদেশের চাটিগায়ে গরু বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন মাননীয় এক পশু মন্ত্রী। পশু শবদের আগে মাননীয় (!) ভূল করলাম নাতো? এদেশে সরকারী অর্থে কোন বিষয়ই নয় এমন বিষয়েও কলেজ খুলতে দেখা যায়, যেমন রাজধানীর গ্রীন রোডে সরকারী সংগীত মহাবিদ্যালয়, মোহাম্মদপুরে শরীর চর্চা মহাবিদ্যালয় ইত্যাদি। আচ্ছা ঐ পশু বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষদ ও বিভাগগুলির নাম কি হতে পারে? হেড অব দি ডিপার্টমেণ্ট গাই গরু, হেড অব দি ডিপার্টমেণ্ট বলদ গরু, হেড অব দি ডিপার্টমেণ্ট উচ্চাঙ্গ সংগীত-নিম্নাঙ্গ সংগীত, ডিপার্টমেণ্ট অব্ হাই জাম্প, ডিপার্টমেন্ট অব লং জাম্প! আহা! কত কিছুই না হতে পারে। নুরুল ইসলাম নাহিদ ভাইকে কানে কানে একটা কথা বলতে চাই। বছরে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে যদি সাহস থাকে, থাকে দেশপ্রেম। রাজধানী ঢাকার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম বদলাতে হবে! না না, মুজিব থেকে জিয়া, জিয়া থেকে মুজিব নয়। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হবে "স্কুল অব মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হবে "স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ইউনিভার্সিটি অব্ ঢাকা এবং শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হবে "স্কুল অব্ এগ্রিকালচার, ইউনিভার্সিটি অব্ ঢাকা। কথায় বলে আক্কেলমন্দ ক্যালিয়ে ইশরাই কাফী। প্রশাসনিক ব্যয় শত কোটি টাকা কমে যাবে নিঃসন্দেহে। এবার দেশপ্রেমের পরীক্ষা নিব আপনার। আচ্ছা! বর্তমান ডিজিটাল জামানায় কত যন্ত্রই তো আবিষ্কার হল কিন্তু দেশপ্রেম মাপার কোন যন্ত্র আজ অবধি আবিষ্কার হলনা। হায় আফসোস, মনে হয় বিজ্ঞানীদের দেশপ্রেম খুবই কম তাই তারা আগ্রহী নন।

পৃথিবীর উন্নত প্রতিটি দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই কৃষি, চিকিৎসা এবং প্রকৌশল অনুষদ রয়েছে, এজন্য গৌরিসেনের অর্থের শ্রাদ্ধ করে আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ভিসি হওয়ার খায়েশ/হাউস/উয়াম্মা পূর্ণ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। সিলেটের জৈনতা পুরে খায়েস হল উয়াম্মা, আর চট্টগ্রামে বলা হয় হাউস, যেমন হাউসের পিরীত। অকারণে কেউ হাতি পোষে? যেকোন সার্বজনীন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আলাদা আলাদা ক্যাম্পাস থাকতেই পারে। পারেনা? অবশ্যই পারে। চট্টগ্রামে শুধুমাত্র পশু বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় যারা প্রতিষ্ঠা করলেন তারা নিজেরাও কি উন্নত মানের পশু নন! বিশেষ করে বাংলাদেশের মত দারিদ্র পীড়িত দেশে! স্যার, আপনি কি শুনছেন নাকি ঘুমিয়ে পড়েছেন?

স্যার আপনিই বলুন, প্রতিটি বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আর কোম্পানীর মাল দরিয়ামে ঢাল, কি এক কথা নয়? এসব উচ্চ শিক্ষিত গরুদের খপ্পর থেকে শিক্ষা বিভাগকে রক্ষা কি নাহিদ ভাইয়ের কর্তব্য নয়। সর্বনাশ! মাননীয় মন্ত্রীকে ভাই বলে ফেললাম! বেয়াদবী মাফ করবেন, দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। পাক আমলে মুজিব ভাই ছিলেন সাত কোটি মানুষের ভাই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কোন দুঃখে? এটাতো একটা ফ্যাকাল্টি মাত্র! যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়েই "ফ্যাকাল্টি অব্ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি" থাকতেই পারে। স্যার, আমার ধারণা শিক্ষিত গরুতে দেশ ভরে গেছে, একটা কিছু করুন স্যার। আর গবেষণা!!! ইন্নালিল্লাহ্!!! লেবু গবেষণা, আম গবেষণা, ইক্ষু গবেষণা, ধান গবেষণা, পাট গবেষণা, নদী গবেষণা, পানি গবেষণা, মৃত্তিকা গবেষণা, চা গবেষণা, বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি ফল ও ফসলের নামে একটি করে আলাদা আলাদা গবেষণা ইনষ্টিটিউট সহাপন করার পর ও জনগণের রেহাই নেই স্যার। ফার্ম গেটে কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও এলিফ্যান্ট রোডের বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা (সাইন্স ল্যাবরেটরী)।

প্রতিষ্ঠানের কাজ কি তাহলে? এসব ধান্ধা যদি একদিন জনগণ বুঝে ফেলে তাহলে তথাকথিত ডঃ খোরাশানীদের কি উপায় হবে ভেবে স্যার আমার ঘুম হারাম। মার মার ক্যা কীমা বানিয়ে দিবেনা স্যার! আপনি স্যার একটা সহজ উপায় বাতলে দেন, কি করে শিক্ষিত গরুদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করা যায়। আমার না স্যার খুব শখ গরু বিষয়ে একটা রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করার। ১ম পুরষ্কার ডায়মন্ড মেডেল, ২য়-গোল্ড, ৩য় সিলভার। একারণে বহুদিন যাবৎ লটারী খেলছি। লটারীটা লাগামাত্রই অনুষ্ঠান। আজকাল আবার বেশ কিছু অর্ধ শিক্ষিত গরু নামের আগে ডঃ লাগিয়ে বুদ্ধিজীবী বুদ্ধীজীবী ভাব দেখাচ্ছেন। আমার অনুষ্ঠানে স্যার এরকম কোন বিশিষ্ট ডঃ গরুকে প্রধান অতিথি করার ইচ্ছা আছে, তাহলে ইলেকট্রোনিক মিডিয়া কাভারেজ পাওয়া যাবে। তাদের মাল আছে স্যার খরচ তারাই দিয়ে দেন শুনেছি। মেয়ে কিংবা নাতীনের বয়সী ছুকড়ি বিবাহ করেন। তাদের সুরুচীর প্রশংসা না করে পারিনা স্যার। আশা আছে স্যার আমিও একদিন তাদের মত উন্নত মানের বলদ হব, থুক্কু,বলদ না ষাঁড়? যদি লটারীটা লাইগা যায়। আমার জন্য খাস করে আশীর্বাদ করেন স্যার, আমি যেন অচিরেই অতি উন্নত মানের বলদে রুপান্তরিত হতে পারি। আমার না স্যার আগামীতে নির্বাচন করার ও ইচ্ছা আছে। কি বললেন? নমিনেশন! বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ আছেনা স্যার। হয়ে যাব লন্ডনী "দামা"এম,পি/উপজেলা চেয়ারম্যানের মাথার উপর দিয়া ছড়ি ঘুরাব ইনশাল্লাহ্। একটা কথা আমার মাথায় আসেনা স্যার, বিগত ৪ দলীয় জোট সরকার কেন গরুদের অবহেলা করে ছাগল প্রকল্প হাতে নিয়ে ছিল! তারা কি জাতিকে গরুর বদলে ছাগল বানাতে চেয়েছিল? দেখুন তো কি সর্বনাশা কথা!। ঐ ছাগলগুলি কোথায় গেল? ছাগল চাষের জন্য কোটি কোটি টাকা লোন দিল, গরুর জন্য দিলনা। এজন্য স্যার তাদের বিচার হওয়া উচিৎ, জাতি তাদের বিচার চায়। নির্বাচন করলে স্যার আমি গরু মার্কা নিয়েই নির্বাচন করব। কারণ স্যার গরু খুবই উপকারী জন্তু।

বাংলাদেশের চোর ডাকাত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, কলমচোর সবাই শিক্ষিত। অশিক্ষিত সাধারণ মানুষ চোর নয়। চোরকে চোর না বলে কায়দা করে বলা হয় দুর্নীতিবাজ! এটা স্যার খুবই অন্যায়। আমি যদি স্যার ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে চুরিচামারী থাকবেনা। কারণ আমি শিক্ষিত চোরদের বদলে অশিক্ষিত সৎ মানুষ দিয়ে দেশ চালাব। কোন শিক্ষিত গরু আমার মন্ত্রী সভায় স্থান পাবেনা। "আমাদের রাজাকার চলে ফাঁকে ফাঁকে, মন্ত্রী সভায় তার দুই সীট থাকে" এরকম হবেনা। মন্ত্রণালয়ের গেটে লিখা থাকবে" গরু, কুত্তা ও রাজাকারের প্রবেশ নিষেধ"। আমার না স্যার একটা স্বপ্ন, মার্টিন লুথার কিং এর মত "আই হ্যাভ এ ড্রীম"। সেটা হচ্ছে স্যার একটি আন্তর্জাতিক গরু মহাসম্মেলন আয়োজন করা। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ একান্ত কাম্য। ইদানিং স্যার বাংলাদেশে বখাটে গরুদের উপদ্রবে ছাত্রীরা স্কুল কলেজে যেতে না পেরে আত্মহত্যা করছে অবলিলায়। ঐ জায়গাটার নাম কি স্যার? কে যেন বলেছিল, কিসের যেন খোয়াড়??? ঐ জায়গায় খালি মরা মানুষ নিয়ে তর্ক হয়, হাতাহাতির উপক্রম হয় কিন্তু বখাটে গরুর উপদ্রব নিয়ে কোন কথা হয় না। কেন হবে স্যার! তারা এখন সিনিয়র গরু, জুনিয়র থাকতে তারাও রাস্তা ঘাটে মেয়েদের উত্যক্ত করতেন। এখন তাদের জুনিয়ররা করছে। অসুবিধা কি? ঐ পবিত্র স্থানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলে বসে যখন তারা বস্তির ভাষায় শালা ভাইচদ বলে একে অপরকে আক্রমণ করেন তখন আমার মনে হয় ঐ জায়গাটাও শিক্ষিত মাস্তান গরুতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। হবে না স্যার?

যারা ভোট দিয়ে ওদের ওখানে পাঠিয়েছে তাদের কোয়ালিটি দেখতে হবেনা? ভোট স্যার একটি পবিত্র আমানত। কিন্তু মাথা পিছু এক দেড়শ' টাকায় এটা কিনা যায়! আফসোস কি বাত্! বৃহত্তর সিলেটে স্যার কুকুরকে বলা হয় কুত্তা। সরাইল কুত্তার জন্য বিখ্যাত। দাম আছে স্যার, সরাইলের একটা কুত্তার বাচ্চার দাম দেড় দুই হাজার। বড়ই পরিতাপের বিষয় ভোটের মৌসুমে এর চেয়ে অনেক কম মূল্যে মানুষের মাথা বেচা কেনা হয়। পরাজিত হন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবি। মানুষ তখন কুত্তার চেয়েও সস্তা হয়ে যায়। তাই ঐ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনটাকে গরুমুক্ত করার আশু পদক্ষেপ নিতে হবে স্যার যাতে অদুর ভবিষ্যতে আর কোন গরু সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। ভবন শুনলে কলিজা কাঁপে? না স্যার, ঘাবড়াবেন না এটা হাওয়া ভবন নয়, হাওয়া বাতাস নিয়ন্ত্রিত ভবন। স্যার আজ তাহলে রাখি, আগামীতে কথা হবে। আমার সব কথা আপনাকে শুনতেই হবে স্যার, তা'নাহলে আমি বাঁচবনা। কি করব স্যার, পেটে কোন কথা ধরে রাখতে পারিনা। বদহজম হয়।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/BashirUddinAhmed
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy