|
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনার কাছে সবিনয়ে জানতে চাই
ডি. এ. কবীর |
|
রাজনীতিবিদরা যত অপকর্ম করে তার সবই জনগণের দোহাই দিয়ে। কিন্তু জনগণ কারা? আ‘লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাপা, সহ অন্যান্য দলের লোকজনকে একত্রে জনগণ বুঝায় কিনা? না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় নিজস্ব ভোটাররাই কেবল জনগণ। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের আচরণে সেটাই মনে হয়। অন্যরা সবাই বিশৃঙ্খলাকারী। জনগণকে নিয়ে জনদরদিদের ধারাবাহিক প্রহসন দেখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার অংশ বিশেষ মনে পড়ে গেল ‘কুড়াল কহিল ভিক্ষা মাগি ওগো শাল, হাতল নাহিকো দাও একখানি ডাল। ডাল নিয়ে হাতল প্রস্তুত হল যেই, তারপরে ভিক্ষুকের চাওয়া-চিন্তা নেই। একেবারে গোড়া ঘেঁষে লাগাইল কোপ, শাল বেচারার হল আদি-অন্ত লোপ’। কুড়ালের মতই রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে ভোট ভিক্ষা নিয়ে ক্ষমতায় যায়। তারপর জনগণের দশা শালের চেয়েও করুন। প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণের অধিকার আর মানবাধিকার সবই ফানুস। পাঠকদের বিষয়টি মিলিয়ে দেখার অনুরোধ করে মূল বিষয়ে চলে যাচ্ছি।
১
কোনো পরীক্ষায় যদি বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্ন হয় ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের নাম লিখুন’। পরীক্ষার্থী যে মতাদর্শেরই হোন না কেনো শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান এর নাম বাদ দিতে পারবে না। হু. মু. এরশাদ এর নামও না। যে যেমনই দেশ পরিচালনা করুন না কেনো বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার নাম না লিখে উপায় থাকবে না। তবে জনগণ কোন রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীকে কিভাবে কতটা সম্মানের সহিত মনে রাখবে তা তাদের শাসনকর্মই বলে দিবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনি দলের নয়, ধর্মেরও নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার কথাই দেশের কথা। আপনার চলন বলনের স্টাইল বাংলাদেশ তথা ষোল কোটি মানুষের স্টাইল। আ‘লীগের নেত্রী মানে যারা আপনার দলের নীতি আদর্শ মানতে প্রস্তুত কেবল তাদের নেত্রী। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ হলো দল মত ধর্ম গোত্র ষোল কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী। আ‘লীগের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আপনি যে বক্তব্যে দিবেন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওই একই ধাঁচে জ্বালাময়ী হুল ফুটানো বক্তব্য অনুচিত। দল বিবেচনায় একজন নাগরিকের সাথে মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও আপনি তারও প্রতিনিধি। তাই দল মত নির্বিশেষে সমস্ত দেশবাসিকে এক কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনি যখন আপনার দুই দায়িত্ব ও অস্তিত্বকে এক করে ফেলেন তখন আমরা বিস্মিত ও মর্মাহত হই। আপনি আপনার নিজের বক্তব্য কখনও টেলিভিশনে দেখেন শুনেন কিনা জানিনা। হয়তো শুনেন। কেমন লাগে? আপনার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ভঙ্গিমা, তিরস্কারের ভাষা, শব্দ প্রয়োগ, প্রতিপক্ষকে অকারণে গালমন্দ ও আক্রমণ সব কিছুর মধ্যেই তামাশা এবং অন্যকে ছোট করার প্রতিহিংসাপরায়ন অপকৌশল পরিলক্ষিত হয়। যা মন্দ তা তাদের। আর যা কিছু সুন্দর এই ব-দ্বীপে তা সবই আমাদের সৃষ্টি। ভাবটা এমন যেন কর্মে আপনারা ফেরেশতাতুল্য।
পৃথিবীর কোনো সরকার প্রধানের বক্তব্যে এতটা স্ল্যাং ল্যাঙ্গুয়েজ থাকেনা যতটা আপনার। যে কোনো বাংলাদেশির তুলনায় মনমোহন সিং আপনার কাছে অনেক বড় পুঁজনীয় মডেল। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ। লক্ষ্য করুন তো তাঁর কথাবার্তার স্টাইলে বাহ্যত কোনো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্লতার ভাব আছে কিনা। দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান ও অশ্রদ্ধা করে তাঁদের নাম বিকৃত ও কটাক্ষ করে ভাষণ দেওয়ার মধ্যে নতুন ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুশিক্ষার কোনো লক্ষণ নেই। কনফিডেন্স থাকা ভালো কিন্তু অলীক কনফিডেন্স ধ্বংসাত্মক। আপনি মানুষ হিসেবে যত বড় তার সবটুকু জুড়ে আছে বঙ্গবন্ধুর কন্যার পরিচিতি। ওই পরিচয়েই আপনি আ‘লীগের নেত্রী। একই অস্তিত্বে ভর করে আপনি বাংলাদেশের দুইবার প্রধানমন্ত্রী। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজনীতি বৈই অন্য কোনো কর্মময় সফল অতীত আপনার নেই। শীর্ষপর্যায়ের কোনো মেধাবী স্টুডেন্টও আপনি ছিলেন না। বরং ছাত্রজীবনে পৌরনীতিতে ফেল করেছেন এমন বক্তব্য আপনার প্রতিপক্ষের মুখে শুনেছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা না হলে আপনার যোগ্যতায় প্রথম শ্রেণীর কোনো চাকরি পাওয়াটাই অসম্ভব হয়ে যেত। দেশব্যাপি অসংখ্য হাসান-হাসিনারা আপনার চেয়ে অনেক ভালো রেজাল্ট নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরির জন্য আপনার দলেরই নেতা পাতি নেতাদের পিছনে ঘুরে যেভাবে স্যান্ডেল-জুতা ক্ষয় করছে তাতে অন্তত সেটাই মনে হয়। সুতরাং সব বিষয়ের পাণ্ডিত্বপনা অর্থই হ-য-ব-র-ল। মুখ সামলে কথা বলতে পারাটা অমুর্খের যোগ্যতা। দুই নেত্রীর কথায় বিরক্ত হয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন আমরা প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী দু‘জনকেই সম্মান ও মান্য করি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কথায় মনে হয় বাংলাদেশের সব চাইতে খারাপ মানুষ বিরোধী দলীয় নেত্রী। আর বিরোধী দলীয় নেত্রীর কথায় বুঝতে পারি দেশের সব চাইতে বাজে মানুষ প্রধানমন্ত্রী। আপনারা এত বড় বড় নেত্রী। আপনাদের কথা অবিশ্বাস অমান্য করি কেমনে? যথার্থই।
২
শিক্ষার স্কুল জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিস্তৃত। অতি বুদ্ধিতে গোপাল ভাঁড় এর বিচক্ষণতা অতুলনীয়। মি. ভাঁড় নাকি বলেছিলেন আহাম্মকই তার বুদ্ধির উৎস। অর্থাত আহাম্মক যা বলে ও করে তার উল্টোটাই হলো বুদ্ধিমানের কথা ও কাজ। শেখ সাদীকে বিনয় নর্মতা শিষ্টাচার আর আদব কায়দার কবি বলা হয়। কবিকে জিজ্ঞাস করা হয় এত আদব কোত্থেকে শিখেছেন? উত্তরে কবি বলেন ‘বেয়াদবের কাছে থেকে’। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত বক্তব্যে তাৎক্ষণিক বিচার বুদ্ধিই প্রমাণ করে দেশবাসিকে কত বড় আহাম্মক তিনি ভাবেন! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমাদের শিক্ষার আছে বৈ কি! কিন্তু এই শিক্ষার দুর্বলতা নিয়েই আপনি আমাদের প্রায়শ উচিত শিক্ষা দেন। আপনার মনে আছে? এরশাদ বিরোধী আন্দোলোনের সময়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা না করার বিষয়ে আপনি একটি খেলা ছেড়েছিলেন। ট্রফি ছিল ‘জাতীয় বেঈমান’। দেশবাসির ভাগ্যে জোটেনি। পদকটি আপনি পেয়েছিলেন। জামায়াতকে সাথে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য হরতালের নিষ্ঠুর আন্দোলোন আপনি করেছিলেন। বিএনপি বলেছিলো শিশু ও পাগল ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপযুক্ত লোক নেই। আইনটি সংবিধানেও ছিল না। তবুও আপনি মানেননি।
পরিশেষে নির্বাচন ও সরকার গঠন করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধ আইনি শিশুটি জন্ম হয়। সেই বৈধ সন্তানের অভিভাবক হিসেবে আপনি দুইবার প্রধানমন্ত্রী। অথচ আন্দোলোনের সেই বন্ধু জামায়াত এখন নাপাক ঝুট ঝামেলা। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধ সন্তানকে অন্যায়ভাবে চতুরতায় গলা টিপে হত্যা আপনিই করলেন। জনগণের বোধশক্তিকে বধ করার কত মেহেনত! আপনি বলেছিলেন বিরোধীদলে গেলেও হরতাল দিবেন না। কথা রাখেননি। আপনার তাল দেশবাসি বুঝেনি। হরতালের রাজনীতিতে আপনি এখনো অদ্বিতীয়ভাবে অনুকরণীয়। একটি লাশের বিনিময়ে দশটি লাশ চেয়েছিলেন। রামদা-চাপাতিধারী সোনার ছেলেরা আপনার অবাধ্য বটে কিন্তু আপনার চাওয়া লাশের হিসেব বর্গফলে দিয়ে বেবাধ্য হওয়ার দুর্নাম অনেকটা ঘুঁচিয়েছে। আপনার আদালত ভক্তি আমরা কিছুটা জানি। আদালত অবশ্য সেটাকে অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ হিসেবেই নিয়েছিল। বিচারকদের দেওয়া ‘রং হেডেড’ ডিগ্রীটা আপনার ডিগ্রীলিস্টকে নিশ্চয় সমৃদ্ধ করেছে। আপনার দেশপ্রেম গতানুগতিক দেশপ্রেম নয়। স্পেশাল! ছেলে-মেয়ে বোন-জামাই আত্মীয়-স্বজন সবাইকে বিদেশে রেখে বিদেশিদের সাথে বিয়ে দিয়ে বিদেশ ভ্রমনের রেকর্ড স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমীকের উদাহরণ বটে! দেশপ্রেম ছিনতাইয়ের এ এক অনন্য নজীর! নিজেদের আন্দোলোনের ফসল ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দীন(উ) সরকার আপনাকে দেশের জন্য হুমকি চিহ্নিত করে আপনার দেশপ্রেমে অযথাই খোঁচা দিয়েছে। একেই বলে কৃষকের সাথে ফসলের বেঈমানি! আপনার নাটকীয়তায় দেশবাসি মুগ্ধ। মাথায় কাপড় বেধে ধার্মিক সেজেছিলেন। কাপড় খুলে বকধার্মিক সাজতে দেশের আর কোন প্রধানমন্ত্রী পেরেছেন? যে খেলাফত মজলিশ সহ ধর্মীয় দলের সাথে চার দফা চুক্তি করে আপনি ফতোয়া প্রেমিক সেজেছিলেন পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরোধীতা করায় রাজপথে গাঁজাখোর ছাত্রলীগসহ পুলিশ দিয়ে তাদের নির্মমভাবে পিটিয়ে প্রেমের হাদিয়া দিচ্ছেন। সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা বাদ দিলেন আবার বিসমিল্লাহ রেখে দিলেন। আপনার তরিকা আমরা বুঝলাম না। মানুষ জানতে চেয়েছে আপনাকে পরামর্শদাতা শয়তান কারা?
বিনা পয়সায় সার আর দশ টাকা কেজি চাল দিবেন। এত দিনে বুঝলাম আপনার ডিজিটাল চাল ‘চাউল’ না। ওটা ভোটের চাল! ভেরি ডিফিকাল্ট! বঙ্গভবন নিজের নামে করতে না পারার বোমাটি খালেদা জিয়ার ৪০ বছরের বাড়িতে ফেললেন। আপনার মায়া কান্না দেশবাসির খুব পরিচিত। খালেদা জিয়াও কাঁদতে পারে তার ম্যাজিক আপনি দেখালেন। এমন প্রতিশোধ পরায়ণ জননেত্রী জাতীয় সম্পদ বটে! আপনার সার্বিক যোগ্যতা আমাদের মতো নগন্য নয়। ডিগ্রী আর পুরস্কারের হিসেবও সেটাই বলে। আপনার পুরুস্কার প্রাপ্তির সীমা নোবেল প্রাইজ পর্যন্ত পৌঁছবে সেটা আমাদের অহংকার। কিন্তু নোবেল বিজয়ী ইউনুসকে যেভাবে নীচে নামানোর ফাঁদ দেখালেন তাতে কোনো মহত্ব ছিলনা। আপনি কেনো বুঝলেন না, যে নীচে থাকে সেই কেবল উপরের মানুষকে নীচে টানতে পারে। এত কিছুর পরেও যখন আপনি বলেন ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাকে এক পাল্লায় মাপবেন না’ তখন বলতেই হয় আপনার কাছে দেশবাসির অনেক শিক্ষাই বাঁকি আছে।
৩
আপনার ঝকমকে সুশাসনের সময়ে দেশবাসি অন্ধকার তিমিরে। বিদ্যুতের অবস্থা কচু পাতার পানির মতো আনপ্রেডিকটেবল। গ্যাসে চুলা জ্বলে না। আপনাদের শাসনামলে (১৯৭৪) বাংলাদেশে দূর্ভিক্ষ হয়েছিল। দূর্ভিক্ষ দুঃশাসনের নমুনা। বর্তমানে দেশজুড়ে পানিভিক্ষা চলছে। হালের দুঃশাসনে নদীমাতৃক দেশে পানির জন্য যে হাহাকার শুরু হয়েছে তা দূর্ভিক্ষের চাইতেও ভয়ংকর। আপনাদের ফারাক্কা চুক্তির ফলে পদ্মার মতো বৃহত্তম নদী শুকিয়ে গো-চারণভুমি হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের প্রেমের মরা জলে না ডুবে এখন বালিঝড়ে উড়ছে। গ্রাম্য কৃকেটের উন্নয়নে নদীবক্ষ এখন খেলার মাঠ। মরুকরনের নিদর্শন স্বরুপ ক্ষণকালেই উত্তরবঙ্গে খুরমা খেজুর চাষের সুসংবাদ দেশবাসি পাবে! পার্বত্যচুক্তির উপকারিতায় ভবিষ্যতে পার্বত্যঅঞ্চল বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত থাকবে কিনা সেটাই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। টিপাইমুখ নিয়ে সরকারের প্রাইভেসির মাত্রাতে জনগণের মতামত ও অধিকার খর্ব হওয়ার উপসর্গ উজ্জল। ভারতের মতো দুধের মাছি বিশ্বময় বাংলাদেশের ক‘টা আছে? ওরা প্রতি দু‘দিনে মাত্র একজন বাংলাদেশি মারে। প্রতিদিন একজন যে মারেনা সেটাই আমাদের জন্য বন্ধুদেশের উদারতা। বাংলাদেশের ভুমি দখল করে কাঁটা তারের বেড়া দিয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া স্বচ্ছ। এপারে বসেই ওপারের চাষবাস দেখা যায়। দুরুত্ব সত্ত্বেও প্রেম ও বন্ধুত্বের হাত ছানি দেওয়া যায়। চীনের প্রাচীরের মতো অস্বচ্ছ কিছু নির্মিত হয়নি তাই আমাদের জন্য সৌভাগ্য। এমন প্রেমকে প্যারাসাইটিক সম্পর্ক না বলে উপায় কী! আপনার তীক্ষ্ম বুদ্ধিতেই দেশের সীমানার সার্বিক সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা বিডিআর-এর মাজা ভেঙ্গে নিতান্তই পাহারাদার (বর্ডার গার্ড) বানানো হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা অফিসারকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে সুশাসনের নজীর গড়েছেন। যুদ্ধ ব্যতীত এত জন চৌকস অফিসারকে রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন করার সৌভাগ্য ক‘জন প্রধানমন্ত্রীর কপালে জোটে! আপনার নেতৃত্বেই শেয়ার বাজারের লক-আনলক পদ্ধতির কৌতুক শুনেছিলাম। এবার ৩৩ হাজার বিনিয়োগকারীকে পথের ফকির বানিয়ে শেয়ার কেলেঙ্কারীতে হ্যাট্রিক করার পথে আরো এক কদম অগ্রসর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
৪
কুকুর কখন শেয়ানা হয়? একজন মুচি বলেছিলেন ‘যখন ঠ্যাং তুলে মুতা শেখে’। ছাত্রলীগ চেনার উপায় কী? গাঁজা-ফেন্সিডিল-হেরোইন খোর যুবক দেখলে বুঝি ওরা গোন্ডেন বয়েস। ধর্ষণপ্রবণ জাবি-র মানিক ভিখারুন্নেসার পরিমলরা আপনাদের দলীয় চরিত্রের ধ্রুব নক্ষত্র। গামা-নূরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডমুক্ত খুনিসহ সাজেদা, হাসনাত, হানিফ, মায়া, মালেক, কামাল, মকবুল, বাবু, তাহের প্রমূখ পূত্ররা আপনার লালিত পালিত জাতিরপুত্র। গডফাদার জয়নাল হাজারী, ডা. ইকবাল, শামীম ওসমান, গোলন্দাজ, হাজী মকবুল, হাজী সেলিম আর তাহেররা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বীরপুরুষ! তাদের চরিত্রের হুঙ্কারে লগি-বৈঠায় ২৮ অক্টোবরের বর্বরতা দেখেছি, নাটোরের উপজেলা চেয়ারম্যান ছানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যার নির্মমতা দেখে না কেঁদে পারিনি, বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ জনাব ফারুকের ওপর নির্দয় ও অগণতান্ত্রিক আক্রমণ দেখে স্তম্ভিত হয়েছি। ভারতাবৃত বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্ববাসি নিজ চোখে যা দেখেছে আপনার বক্তব্যে শুনেছে তার উল্টো। ইউটিউবের সুবাদে প্রমাণ হয়েছে শোনা কথায় কান দিতে নেই। আইনের শাসনের নমুনা স্বরুপ লিমনকে পঙ্গু করে সন্ত্রাসী বানানোর অপচেষ্টা, পুরিশের নীরব হাজিরায় আমিন বাজারে ছয় ছাত্রকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে মারার ট্রাজেডি, ঢাবি-র ছাত্র কাদেরকে ডাকাত বানানোর নিষ্ঠুরতা এবং নোয়াখালীর কিশোর শামসুদ্দিন মিলন (১৬) কে পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে মারার হৃদয়বিদারক পাষাণ্ডুতা। আপনার সরকারের এত সব ত্রাসের নাটক দেখতে দেখতে আতঙ্কে জনগণের হার্ট এটাক হওয়ার দশা। তাইতো আদালত আক্ষেপ করে বলেছেন ‘আপনারা দয়া করে দেশ/জাতিকে উদ্ধার করুন’।
৫
শওকত ওসমান এর কবিতার অংশ বিশেষ অনেকটা এরকম ‘কাপড় তুলিয়া প্রভু মুতিলা যখন ভক্তরা কাঁদিয়া কহে .... এ তোমার কোন লীলা’? অর্থাত গুরুর নির্লজ্জ ভণ্ডামি-ভ্রষ্টামির মধ্যেও ভক্তরা অলৌকিকত্ব খুঁজে পায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনারা বলেন দেশের মানুষ এখন চার বার খায়। ক‘দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী কম খাওয়ার মন্ত্র শুনালেন। আমাদের খাওয়া নিয়ে আপনাদের এত ঠাট্টা-তামাশা! আপনারা শুধু খাওয়ার বার (সংখ্যা) দেখলেন ব্যয় দেখলেন না, পরিমাণ দেখলেন কিন্তু মান দেখলেন না। আপনার একদিনের খাওয়া খরচ দিয়ে আমাদের সারা বছরের পান্তা-পেয়াজ-মরিচের ব্যবস্থা হয় সেই হিসেব আপনি আমলে নিলেন না। আপনার চোখ বন্ধ হলে দেশবাসির ভাগ্যে কী জুটবে তা নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। দেশবাসির জন্য বিধাতার দেওয়া সব দায়িত্ব যে আপনার ওপর বর্তেছে তা আমরা বুঝি। কিন্তু এত অসীম দায়িত্ব দিয়ে বিধাতা যে আপনার প্রতি জুলুম করেছে সেটাও আমরা টের পাই। তবে উপায় কী? হ্যাঁ! একটাই পথ। বিধাতার কাছে আপনার দায়িত্ব লাঘবের জন্য দোওয়া করতে দেশবাসি সদা প্রস্তুত।
[বি. দ্র. পরবর্তী কোনো লেখায় মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে সবিনয়ে জানতে চাওয়ার আশা রইল]
লেখকঃ জাপান প্রবাসী, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
E-mail: da_kabir71@yahoo.com |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/DAKabir |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
লেখক সাংবাদিক ও কলামিস্ট
E-mail: da_kabir71@yahoo.com
|
|