শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০১:১৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
তিস্তা চুক্তি নিয়ে সংশয় (১১/০৫/২০১২)
সরকারের তাহলে ভয় কিসের (১১/০৫/২০১২)
গুম হয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র? (২৪/০৪/২০১২)
দুই যোগ দুই চার (১৩/০৪/২০১২)
ভারতের দালাল (!), পাকিস্তানের দালাল (!) (৩০/০৩/২০১২)
১২ মার্চ ঘিরে আশঙ্কা (০৯/০৩/২০১২)
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড: কেন বাড়ছে বিতর্ক (০২/০৩/২০১২)
সীমান্তে গুলি, নির্বিকার সরকার (১৮/০২/২০১২)
ক্ষমতার যুদ্ধ স্থগিত রাখুন (৩১/০১/২০১২)
ষড়যন্ত্র রুখতে হবে (২৩/০১/২০১২)
রাষ্ট্রপতির কি কিছুই করার নেই! (১৩/০১/২০১২)
অনেক বেশি দেওয়ার কথা ছিল (৩০/১২/২০১১)
গওহর রিজভীর লেখা হতাশ করেছে (২০/১২/২০১১)
যে বিচার করতেই হবে (১৬/১২/২০১১)
টিপাইমুখ: সরকারের ভূমিকা উদ্বেগজনক (২১/১১/২০১১)
এসব প্রশ্নের জবাব কোথায় (১১/১১/২০১১)
আইভীর জয়, মানুষের জয় (৩১/১০/২০১১)
কে জিতবেন, কে হারবেন? (৩০/১০/২০১১)
দাতা হাতেম তায়ি (২২/১০/২০১১)
‘চোর-বাটপারদের’ সঙ্গেই বসুন (৩০/০৯/২০১১)
হরতাল সমস্যা নয়, সমাধানও নয় (২৩/০৯/২০১১)
তিস্তা চুক্তি: বাংলাদেশ কী পাচ্ছে? (০৪/০৯/২০১১)
ব্যর্থ মন্ত্রীদের অপসারণ কেন জরুরি (২৭/০৮/২০১১)
কেন কাঁদি আমি! (১৮/০৮/২০১১)
দুই নেত্রী: বিরোধের শেষ কোথায় (০৬/০৮/২০১১)
নৃশংস খুনির পক্ষ নিয়েছে রাষ্ট্র (!) (২৭/০৭/২০১১)
পঞ্চদশ সংশোধনী: অগণতান্ত্রিক এবং বিপজ্জনক (০৮/০৭/২০১১)
দেশপ্রেমের হরতাল (০৪/০৭/২০১১)
তাঁরা কোথায় যাবেন? (২৪/০৬/২০১১)
বিএনপি: এগোনোর পথ সহজ নয় (১০/০৬/২০১১)
আগের লেখা
347


তিস্তা চুক্তি নিয়ে সংশয়

ড. আসিফ নজরুল

অবশেষে ভারতীয়রা আমাদের জানিয়ে দিল, তিস্তা চুক্তি অচিরেই হচ্ছে না। হচ্ছে না যে তার বড় কারণ বাংলাদেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান ভারতের কাছে অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন, বাণিজ্য সুবিধা, ট্রানজিট, বিনা আপত্তিতে টিপাইমুখ মেনে নেয়ার মতো বহু কিছুতে ভারতের স্বার্থ রক্ষার পর ভারতের এই মনোভাব অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি সরকারের একপেশে ভারতনীতির ব্যর্থতার একটি বড় উদাহরণও।

তিস্তা নদীর পানি প্রধানত সেচকাজে ব্যবহারের জন্য ভারত জলপাইগুড়িতে গজলডোবায় এবং বাংলাদেশ লালমনিরহাটে তিস্তা (দালিয়া) ব্যারেজ নির্মাণ করেছে বহু বছর আগে। উজানের দেশ হওয়ায় ভারত আগেই ব্যারেজ ও সেচখালের মাধ্যমে পানি সরিয়ে ফেলায় বাংলাদেশের ব্যারেজটি শুষ্ক মৌসুমে অকার্যকর ও মূল্যহীন হয়ে পড়ে। আবার বর্ষা মৌসুমে এই পানি ভারত পুরোপুরি ছেড়ে দেয়ায় বাংলাদেশে বন্যা ও নদীভাঙনেরও সৃষ্টি হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্যদশা ঘোচানোর একটি বড় শর্ত হচ্ছে তাই তিস্তায় ন্যায্য পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

তিস্তা নদী নিয়ে স্বাধীনতার পরপর আলোচনা শুরু হলেও ১৯৮৩ সালে প্রথম একটি সমঝোতা হয়। এই সমঝোতা অনুসারে তিস্তার পানির ৩৯ শতাংশ ভারত ও ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল। বাকি ২৫ শতাংশের কতটুকু বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত তিস্তার গতিপথকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন এবং এটি কিভাবে ভাগাভাগি হবে, তা নিয়ে পরে আরও আলোচনার কথা ছিল। এ আলোচনা কখনও আর সুসম্পন্ন হয়নি। ১৯৮৬ সালে জয়েন্ট কমিটি অব এক্সপার্টের সভায় বাংলাদেশ নদীর পানি ভাগাভাগির একটি সার্বিক রূপরেখা প্রদান করে। এতে বাংলাদেশ ব্রহ্মপুত্র নদের ৭৫ শতাংশ এবং তিস্তাসহ আটটি নদীর পানির ৫০ শতাংশ পানি দাবি করে। পরে বাংলাদেশ নির্দিষ্টভাবে ২০ শতাংশ পানি তিস্তার নাব্যতার জন্য রেখে দিয়ে বাকি ৮০ শতাংশ সমান ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেয়। ভারত এটি মেনে নেয়নি। ভারতের কোন কোন মহল থেকে এ সময় ভারতের অধিক পরিমাণ কৃষিভূমি ইতিমধ্যে সেচ সুবিধা ব্যবহার করছে এই যুক্তিতে তিস্তার সিংহভাগ পানি দাবি করে বসে। যেমনÑ পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলীয় সংসদ সদস্য গত বছর ১ সেপ্টেম্বর বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বর্তমানে তিস্তার ৩৯ শতাংশ পানি পেলেও তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ভারত পাবে ৭৫ শতাংশ! ভারতের পক্ষে আলোচনাকারী দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন তাকে এ তথ্য দিয়েছেন বলে তিনি বিবিসিকে জানিয়েছিলেন।

আমার ধারণা, তিস্তায় বেশি পানি দাবি করার ক্ষেত্রে ভারত এর পানির বর্তমান ব্যবহারকে (এগ্জিস্টিং ইউটিলাইজেশন) যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে চাচ্ছে। এটি অত্যন্ত অসঙ্গত এ কারণে যে, উজানের দেশ হওয়ায় ভারত একতরফাভাবে বেশি পানি ব্যবহার করার ভৌগোলিক সুযোগ পেয়ে প্রথমেই বাংলাদেশকে পানি ব্যবহারের সুযোগ থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত করে ফেলে। এ বঞ্চনা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নয়, তাই এটি নদীর পানি ভাগাভাগির ভিত্তি হতে পারে না। বাংলাদেশের যে পরিমাণ জমিকে সেচসুবিধা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছিল, তাতে সেচ সুবিধা দেয়ার বিষয়টি অবশ্যই তাই তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে বিবেচনায় নিতে হবে। সেক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ তো প্রশ্নই আসে না, তিস্তার ৫০ শতাংশ পানি পেলেও তা বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট হবে না।

আমার ধারণা, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের এত ঢাকঢোল পেটানোর পর ২৫ শতাংশ পানিতে রাজি হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয় বাংলাদেশের পক্ষে। অন্যদিকে এর বেশি পানি দেয়া সম্ভব নয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজি নন এ ধরনের কথা বলে চুক্তি ঝুলিয়ে রাখলে ভারতের কোন ক্ষতি নেই। কারণ উজানের দেশ হিসেবে তিস্তার পানি ব্যবহারের জন্য ভাটির দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কোন চুক্তির অপেক্ষা তাদের করতে হয় না। তাছাড়া আরও উজানে তিস্তার যে দীর্ঘ গতিপথ ভারতের সিকিমের ভেতরে এবং সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় প্রবাহিত হচ্ছে, সেখান থেকে ভারত যে পানি প্রত্যাহার করছে বা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে, চুক্তি হলেও তাতেও ঝামেলা বাড়তে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে তিস্তা চুক্তি আদৌ কখনও হবে কিনা বা বাংলাদেশ এ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা কখনও পাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান হওয়ার যথেষ্ট
কারণ রয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল
: আন্তর্জাতিক নদী আইন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
(সূত্র: যুগান্তর,১১/০৫/১২)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/DrAsifNazrul
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকা থেকে নাজনীন ইলিয়াস লিখেছেন, ১১ মে ২০১২; সকাল ০৮:১৫
''ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন, বাণিজ্য সুবিধা, ট্রানজিট, বিনা আপত্তিতে টিপাইমুখ মেনে নেয়ার মতো বহু কিছুতে ভারতের স্বার্থ রক্ষার পর ভারতের এই মনোভাব অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি সরকারের একপেশে ভারতনীতির ব্যর্থতার একটি বড় উদাহরণও''। ----সত্যিই আমরা একটি দুর্ভাগা জাতি। আর তাই অতীতে পাকিস্তান এবং বর্তমানে ভারত দ্বারা আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
84112
USA থেকে Afzal khan লিখেছেন, ১১ মে ২০১২; সকাল ০৮:৫৬
Dear writer,
অবশেষে ভারতীয়রা আমাদের জানিয়ে দিল, তিস্তা চুক্তি অচিরেই হচ্ছে না। আমার ধারণা, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের এত ঢাকঢোল পেটানোর পর ২৫ শতাংশ পানিতে রাজি হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয় বাংলাদেশের পক্ষে। অন্যদিকে এর বেশি পানি দেয়া সম্ভব নয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজি নন এ ধরনের কথা বলে চুক্তি ঝুলিয়ে রাখলে ভারতের কোন ক্ষতি নেই------Still do you think there will be a Tissta agreement? Forget about Tissta agreement. Tissta already a dead issue like Farakka. My dear, Indian help during liberation war was not free? Indian army gave their life to liberate our land, do you think with out any reason? If you think so, than you are very naive? They liberated our country not for us rather for their own interest? To connect their 7 sister's with their main land by using our motherland with out any obstacle and taking full control of the water. For your information, right now war is going on around the globe for oil and gas and next war will be for water. So let us not device our innocent people in the name of friendship. My dear, liberator can not be a friend rather owner. We are their Borgadar. Relationship is based on who has the power not based on friendship. When power makes decision then powerless decides how to surrender best way. So half surrender and half barking meaning nothing. There is another way to get the rights and that is national unity. I do not think the concept of Bangladeshi and Bengali will unite against Indian oppressed regime. So let us sing all together Amer Shonar bangla ami still tomai Vhalobashi. While there is a looting going on from inside and outside. Thank you.
84114
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে আন্তর্জাতিক নদী আইনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। জার্মানির এনভায়রনমেন্টাল ল সেন্টার থেকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনে ফেলোশিপ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। আন্তর্জাতিক নদী আইন বিষয়ে তিনি এডিবি, আইইউসিএন, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy