Rights enumerated in the international covenant on civil and political Rights ICCPR-এ ৬ থেকে ২৭ অনুচ্ছেদে প্রত্যেকের ২২ নাগরিক ও রাজনৈতিক আধিকার স্বীকৃত। বিশেষ করে ১.জীবন রক্ষার অধিকার (অনু:৬) ২.নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ থেকে মুক্তি (অনু:৭) ৩. স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পাবার মানবিক অধিকার (অনু:৯) ৪. আটক ব্যক্তির মানবিক আচরণ পাবার অধিকার (অনু:১০) ৫. নিরপেক্ষ বিচার পাবার অধিকার (অনু:১৪) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে (International Human Rights Law) তখন ঘটনাটিকে বলপূর্বক গায়েব করে দেয়া (Forced disappearance or enforced disappearance) বলা হয়।
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম আইন (Rome statute of the International Criminal court) অনুসারে যখন কোনো বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বলপূর্বক নিখোঁজ বা অদৃশ্য করে দেয়ার অস্ত্রটি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তখন এরকম গুম করাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে। উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, ‘গুম হওয়ার অর্থই প্রায়ই হলো খুন হওয়া। বাংলাদেশে যে গুম-খুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে ও ঘটছে সেগুলো উপরিউক্ত অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাকলোয়েন চার্লস মানুষের দূর্দশার চিত্র আঁকতে গিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন তা, যেন আজকের বাংলাদেশের দৃশ্যটি-ই প্রতিপাদিত হয়েছে। তিনি বলেন ‘‘আমার মতে ইতিহাসের কোন যুগেই কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এত কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়নি, প্রশাসনের সামনে বিচার বিভাগ কখনো এতটা অসহায়ত্ব বোধ করেনি, এ বিপদ অনুভব করা এবং তার প্রতিকারের ব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্বে কখনো চিন্তা করার এতটা তীব্র প্রয়োজন দেখা দেয়নি-যতটা আজ দেখা দিয়েছে”।
ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া এখন ”টক অব দ্যা ওয়াল্ড” এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াও সরব। প্রতিদিন কোন না কোন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় স্থান পাচ্ছে বাংলাদেশের খবর। কিন্তু ভালো খবর নয়, মন্দ খবর। যা বিশ্বের দরবারে আমাদের দেশের মর্যাদা ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। এটি কারো করুণা নয়। কিন্তু যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সেই রাষ্ট্রের-ই বিরুদ্ধে যদি নাগরিক অধিকার লুন্ঠনের অভিযোগ ওঠে তখন বিষয়টি প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে তা বড়ই আতংকের। আর মহাজোটে শাসনামলে গুমের ঘটনা চলে আসছে অনেকদিন থেকে-ই। এর সংখ্যা এখন শতাধিক। সম্প্রতি ইবিতে ছাত্রশিবিরের দু'জন মেধাবী ছাত্রের গুমের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে লাগাতার ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলন। ইলিয়াছ আলী নিখোঁজ হওয়ার পর সারাদেশের আরো নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের খবর আলোচনায় আসতে থাকে। এরি পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন ধরেই নানা ধরনের খবর প্রকাশ করছে মিডিয়াগুলো।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে খ্যাতনামা সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা, রয়টার্স, এএফপি ও ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান। একাধিক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক প্রচারিত নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ। নিউইয়র্ক টাইমসের লেখক ব্লগেও বেশ কয়েকটি বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। আলজাজিরা নেটওয়ার্ক প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে।” 'বাংলাদেশে রাজনৈতিক নিখোঁজের মহামারী” (পলিটিক্যাল ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স প্লেইগ বাংলাদেশ)। অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে গত বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মানুষ গুম হয়েছে, যাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। এদের মধ্যে আছেন সিলেট অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী। ইলিয়াসের স্ত্রী নিশ্চিত যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে অপহরণ করেছে।
"দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের শিরোনাম,”'বাংলাদেশ পুলিশ আউট ইন ফোর্স অ্যাজ টেনশন রাইজেস ওভার মিসিং পলিটিশিয়ান”। এতে বলা হয়েছে, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আরও বলা হয়, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের জন্য সন্দেহের আঙুল তোলা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দিকে। গত কয়েক মাসে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলো এসব ঘটনায় র্যাব ও পুলিশকে দায়ী করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বলা হয়, ”'শেখ হাসিনার সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় পায়। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি, বৈষম্য বৃদ্ধি ও সম্প্রতি কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তার সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস করেছে। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ লিখেছে,” '২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে বিএনপির আরেক নেতা, ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর চৌধুরী আলম নিখোঁজ রয়েছেন। গত দুই বছরেও তিনি কোথায় আছেন বা তার কী পরিণতি হয়েছে, সে সম্পর্কে পুলিশ কোনো হদিস দিতে পারেনি।” অনলাইন রেডিফ” 'এনফোর্সড ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেস অন দ্য রাইজ ইন বাংলাদেশ”' শিরোনামে লিখেছে, 'ইলিয়াস নিখোঁজের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বাড়ছেই। বার্তা সংস্থা পিটিআই বলছে,” 'ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হলেও এর প্রতি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের আস্থা নেই।' "বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এফএফপি সার্বক্ষণিক হরতাল ও আন্দোলন-সংগ্রামের আপডেট সংবাদ প্রচার করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ”'ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের প্রতিবাদে সিলেটসহ সারা দেশ উত্তাল”।' এএফপি জানিয়েছে, ”'ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।” 'রাজনৈতিক নিখোঁজ নিয়ে সরব বিদেশি মিডিয়া”।
ইলিয়াছ আলী নিখোঁজের ঘটনায় সারা বিশ্ব যখন তোলপাড়। তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী এক সভায় যখন ইলিয়াস আলীর অপহরণ সম্পর্কে ব্যঙ্গ করে বলেন যে, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে ইলিয়াস আলী লুকিয়ে আছেন। সৈয়দ আশরাফ বললেন” আমরা ইলিয়াস আলীকে জীবিত অবস্থায় হাজির করব” আইনপ্রতিমন্ত্রী কামরুল বললেন” বিএনপি সিলেটের আন্ত:কোন্দল কিনা আমরা খতিয়ে দেখছি।” আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বললেন-” ইলিয়াস আত্মগোপন করে আন্তধ্যানে আছে”। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন-”ইলিয়াস আলীর ঘটনায় সরকার বিব্রত”। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন- বিএনপির তৈরী করা জঙ্গীরা হয়ত ইলিয়াসকে গুম করেছে আমরা খতিয়ে দেখছি”। এখানে আসলে কোন কথা ঠিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দয়া করে বলবেন কি? সরকারের দায়িত্ব যেখানে জনমনে আতংক শঙ্কার বেড়াজাল খোলা, সেখানে সরকারের শীর্ষকর্তা ব্যক্তিরা নিজেরাই সৃষ্টি করছে এজাতীয় হাজারো প্রশ্ন। এই বর্তমান সরকারের অবস্থা।
আর আওয়ামী লীগের এসব বিপজ্জনক নেতানেত্রীরা যা-ই বলুন, সারাদেশের আজ গুম বা অপহরণ যেভাবে হচ্ছে তা নিয়ে আতংকিত দেশের সাধারণ মানুষ। শরীক দলের লোকেরাও এখন খুব আতংকিত। মহাজোটের শরীক এরশাদ বললেন ”দেশে আইন শৃঙ্খলা একেবারে ভেংগে পড়েছে, বাসায় থাকলে খুন আর বাহিরে গেলে ঘুম”। মেনন আর ইনু সাহেব বললেন” রাজনীতিবিদদের ঘুম হওয়ায় নিজেদের অ-নিরাপদ ভাবছেন তারা”। কাদের সিদ্দিকী বললেন” দেশে এখন প্রধানমন্ত্রীর ও নিরাপত্তা নেই।
A PROBE magazine report Something is rotten in the state of Bangladesh. In a series of unfortunate events, the nation is sinking deeper and deeper into a dark chasm of crisis. BNP leader Ilias Ali is missing, some fear that he may have been killed. Veteran Awami League leader Suranjit Sengupta, who had recently been the Railways Minister for the shortest stint, has been implicated in a multi-million taka corruption scandal. Sohel Taj, the dashing young leader of the ruling party and son of one of the nation's founding fathers Tajuddin, has resigned from the parliament. He previously resigned as State Minister for Home Affairs. Then there are the gruesome murders -- the killing of the young journalist couple Sagar and Runi, and the gunning down of the Saudi Embassy official. The killers in both cases remain at large and the mysteries are yet to be solved.
.And if people are waiting to see what the opposition does now, their eyes are equally trained on the government, to watch its next move. All indications are that the government is moving towards a very hard line. The government is adopting a 'zero tolerance' policy.
The government is in an aggressive mood. It has spent its tenure so far in building and nurturing a powerful police force. Unlike the past, now automatic weapons and APC's are being used to control the mobs. This does not bode well.
দেশের আমজনতাকে সবচেয়ে বেশী আঁৎকে দিয়েছে দেশের কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় যখন খবর ছাপা হলো ”র’র খাঁচায় আ. লীগের ১০০ কমান্ডো: গুম-খুন-অপহরণে প্রশিক্ষণ লাভ” রিপোটে বলা হয়েছে, ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ১০০ ক্যাডারকে খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে ছয়মাস মেয়াদি কমান্ডো ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। গত জুন থেকে দেরাদুনের ট্রেনিং নেওয়া এসব (ছাত্রলীগ বা যুবলীগ) ক্যাডারদের গুপ্তহত্যা ও অপহরণের কৌশল শেখানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান। ‘ক্রুসেডার-১০০’ ছদ্ম নামে পরিচিত এসব ক্যাডার রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের হত্যা ও গুম করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এসব ক্যাডার ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে থেকে ২০১০ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতের সেনাবাহিনীর কমান্ডো প্রশিক্ষণ নেয়। বিস্তৃত পরিসরে আওয়ামী ক্যাডারদের দেওয়া এ প্রশিক্ষণটিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু তরুণ সদস্যকে’ দেওয়া কমান্ডো ট্রেনিং হিসেবে চালিয়ে দেয়।
ক্রুসেডার-১০০ নামের পুরো প্রকল্পটি ‘র’ এর পরিকল্পনার ফসল এবং বাংলাদেশ সরকারের অতি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে। ভারতের ‘র’ ও যুক্তরাজ্যের এম আই-৬ এর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষাকারী অবসরপ্রাপ্ত এক উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা পুরো প্রকল্পটি দেখভাল করছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃস্থানীয় পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কই এসব যোগাযোগ রক্ষা করতে তাকে সাহায্য করেছে। ক্রুসেডার-১০০ এর পুরো দলটি ছাত্রলীগ-যুবলীগ থেকে নেওয়া হয়। দলটি ওই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও তার বিশ্বস্ত কিছু সহকর্মীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রশিতি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে আসার পর আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদ, মিডিয়া কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের একটি তালিকা দেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ তালিকায় ৮৩ ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাদের ক্রুসেডার-১০০ ‘সাফ’ করবে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ১০০ ক্রুসেডারকে ঢাকার গুলশান ও বারিধারা এলাকার কিছু ভবনে রাখা হয়েছে। বারিধারার ক্রুসেডাররা সেই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীন ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। এসব ঘাঁটি স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতি ও নজরদারির নানা সাজ সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত। সেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। বিএনপির সদ্য নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর নামও ক্রুসেডার-১০০ এর তালিকায় ছিল। শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানের নয়াদিল্লি সূত্র আরও কিছু নাম জানিয়েছে। এর মধ্যে আমান উল্লাহ আমান, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, হাবিবুন নবী সোহেল, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, সাইফুল আলম প্রধান, আসম আব্দুর রব, মুফতি ফজলুল হক আমিনী ও মাওলানা ফজলুল করিম। আওয়ামী লীগ ও ‘র’ এসব লোককে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে খতম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব ব্যক্তির অস্তিত্ব আওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্রুসেডার-১০০ স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার সাইলেন্সর যুক্ত অত্যাধুনিক অস্ত্র, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, গ্যাস বোমা ও যানবাহনে সজ্জিত। দেশের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এদের অনেকেই স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে থাকে। এদের প্রত্যেক সদস্য নানা রকম সুবিধাসহ উচ্চ পারিতোষিক লাভ করে থাকে। সেই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় ফ্লাট দেওয়া হয়। এদের দিনের বেলায় প্রকাশ্যে আসতে অনুমতি দেওয়া হয় না এবং সাধারণত নিজ নিজ ঘাঁটিতেই রাখা হয়।
জরুরি অবস্থা তৈরি হলে বা রাস্তায় নেমে আসা প্রয়োজন হলে তাদের কালো হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। পর্যায়ক্রমে এ বাহিনীর সদস্যেরা ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটিতে ভারত যায় আমোদপ্রমোদের জন্য। এসব ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের কোনও নথি প্রদর্শন করতে হয় না। প্রত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয় আরও স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে। সেগুলো নিরাপত্তার কারণে এড়িয়ে যাওয়া হলো। (সূত্র; দৈনিক আমাদের সময়)
প্রখ্যাত সাংবাদিক বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন-”আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে বড় আকারে শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের পর থেকেই। সে সময় আওয়ামী-বাকশালী সরকার হাজার হাজার বামপন্থী, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গুম-খুন করেছিল। বাস্তবত বাংলাদেশে গুম-খুনের রাজনীতি শুরু বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই। এ দেশের শাসকশ্রেণীর ঐতিহ্য অনুযায়ী অপহরণ ও গুম-খুন এখনও চলছে। কিন্তু এদিক দিয়ে এখনকার মতো পরিস্থিতির অবনতি আগে কখনও দেখা যায়নি।”
বামপন্থীদের ওপর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মাওলানা ভাসানীর হক কথা লিখে, “একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ প্রোগ্রামে এ দেশে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের হিসেব হলো, বাংলাদেশে সোয়া লক্ষ বামপন্থী কর্মীকে হত্যা করতে হবে। তা না হলে শোষণের হাতিয়ার মজবুত করা যাবে না।” (২৬ মে-১৯৭২ : সাপ্তাহিক হক কথা)
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ ক্রুসেডার-১০০ নামের আজকের এই প্রকল্পের মত-ই ৭২-৭৫ সালের শাসনামলে শেখ মুজিব বাহিনী/বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ), ভারতীয় গোয়েন্দাসংস্থা র এর তত্বাবধানে ভারতের দেরাদুনে মেজর জেনারেল সুজন সিং উবানের ট্রেনিংয়ে প্রায় ১০ হাজার সদস্যের এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেন তৎকালীন তিন ছাত্রলীগ নেতা। মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী কিংবা পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল অরোরা এর কমান্ডের বাইরে এই বাহিনী গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান ডানপন্থী ও চীনপন্থী বামদের হাত থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব কৌশলে ছিনিয়ে নেয়া। সেই লক্ষ্যেই তারা মাঠে নামে।
তাছাড়া জাতীয় রক্ষীবাহিনী ১৯৭২ সালে 'আর্মড পুলিশ এ্যাক্ট' সংশোধন করে মূলত মুজিব বাহিনীর একটি অংশ থেকে তৈরি এই সেনাবাহিনী প্যারালাল ওই মিলিশিয়া বাহিনী। স্বাধীন বাংলাদেশেও এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ ভারতীয় অফিসাররা দিতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এদের হাতে নির্যাতনে ২৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে। এছাড়াও এই সময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ১৯ হাজার মানুষ। গুম ও খুন হয় এক লাখ। পিটিয়ে মারা হয় ৭ হাজার মানুষকে। এর মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু নারী-শিশুও বাদ যায়নি। তাদের মূল টার্গেট ছিল বামপন্থী দলগুলো ও অবাঙালি বিহারীরা। কিন্তু দু:খজন হলেও সত্য সেই বামপন্থীরা আজ আবার হালুয়া-রুটির প্রয়োজনে আওয়ামীলীগের সাথে জোট বেধেছে, যদিও এটা অনেক বামপন্থী নেতা ও বুদ্ধিজীবিরা মেনে নিতে পারেনি এখনও। মূলত আওয়ামীলীগের আজকের শাসনামল ৭২-৭৫ এর মুদ্রার এ-পিঠ ও পিঠ। তা আওয়ামীলীগের জন্য না যত বিপদজনক তার থেকে বেশী ভয়াবহ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আমজনতার জন্য। মহাজোটের শাসনামলে সাগর-রুনি সহ ১৪ সাংবাদিক হত্যা, সৌদি কুটনীতিকের খুন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অর্থ কেলেঙ্কারীতে পদত্যাগ, সোহেল তাজের সাংসদ ছাড়া, ইলিয়াস সহ শতাধিক বিরোধী দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের গুম হওয়া নিয়ে বিরোধী দলের লাগাতার আন্দোলন, নেতা-কমী কমীদেও উপর হামলা মামলা দিয়ে দমন নিপিড়ন আওয়ামীলীগ কে দেশে-বিদেশে সমালোচনা মুখোমুখি আর অগ্নি-পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে।
এই সব নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মোর্চা ১৮ দলীয় জোট হরতাল করেছে। আন্দোলনে বেসামাল হয়ে সরকার ইতিমধ্যে সরকার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মকবুল আহমদ, সাদেক হোসেন খোকা, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমানউল্লাহ আমান, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, রুহুল কবির রিজভী এবং আরও তিরিশ-চল্লিশ জনের নামে থানায় মামলা করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে অনেক নেতার বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এর উদ্দেশ্য বিএনপি ও তার সঙ্গী দলগুলো ইলিয়াস আলীর সন্ধান লাভ করার জন্য তথা গুম ও গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চালিয়ে যাবার হুশিয়ারি দিয়েছিল তা নস্যাৎ করার জন্য সরকার এখন হামলা ও মামলা এই দুই পথেই বিরোধীদের ওপর জুলুমের স্টিমরোলার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী জুলুম-নির্যাতন আন্দোলনের গতি বাড়িয়েছে সব সময়।
এ অবস্থায় ঢাকায় আসছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন। হিলারীর সাথে থাকছে আওয়ামীলীগ কর্তৃক অপমান কৃত ড.ইউনুস এর জন্য মহা-সম্মান আর পুরস্কারের মহাবার্তা। বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন থেকে এ নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এ পরিস্থিতি অবসানের জন্য তাগিদ ও দিচ্ছে। কিন্তু সরকার বেপরোয় ভাবে উপেক্ষা করছে সবাইকে। মনে রাখতে হবে সবাই কে উপেক্ষা করলেও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ কে উপেক্ষা করা যায় না। তার পাকড়াও অনেক ভয়ংকর যা মানুষ কল্পনা ও করতে পারেনা। আমরা আশাবাদিরা যদি ধরেও নিই জীবিত ইলিয়াছ আসবে! কিন্তু বাকী শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের চোখের পানি মুছবে কে? |