শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০১:৪৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

স্বাধীনতা পক্ষ-বিপক্ষ ও নতুন সমীকরণ

এহসান জুবায়ের

আত্মসমালোচনা করার, যে কোন গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার, সময় ও প্রয়োজনের আলোকে নিজস্ব রাজনীতি ও কর্মসূচীর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সংশোধনী আনয়নের ক্ষমতা গণতান্ত্রিক পন্থায় যে কোন রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় সৃজনশীলতা। বড় বা ছোট যে রাজনৈতিক দল এটা পারে, ধরে নিতে হবে সে দলের জীবনীশক্তি পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান, অফুরন্ত সৃষ্টিশীল সত্তায় সে দলের বেঁচে থাকা একটি অম্লান উত্তরাধিকার। যতো বড় দলই হোক, অহমিকা ও গ্রহণবিমুখতা তাকে নিঃশেষ করে দিতে পারে, সময়ের ব্যবধানে তা হারিয়ে যেতে বাধ্য। বিষয়টি একটি দলের জন্য যেমন প্রযোজ্য, একটি দেশ বা জাতির জন্যও তেমনি প্রযোজ্য।
বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী এক অনিবার্য বাস্তবতা। কিন্ত্ত যে স্পর্শকাতর বিষয়টি তাকে কেন্দ্র করে বারবার আবর্তিত হচ্ছে, তাহলো বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে তার বিতর্কিত ভূমিকা। স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। স্বয়ং জামায়াতও এ ব্যাপারে খোলামেলা বক্তব্য কখনো দেয়নি। বরং সবসময় অস্পষ্ট বক্তব্য একধরনের রহস্যের ব্যুহ তৈরী করে রেখেছে। বাংলাদেশের একটি স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে এসব বিষয়ের সমাধান ও সুস্পষ্টতা যে কোন সচেতন নাগরিকেরই প্রত্যাশা।

এদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক এবং তরুণ যুবসমাজের একটি বিরাট অংশ বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ত। তাদের মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, তারা এদেশেরই সন্তান; তারা এ দেশের আলো-বাতাসেই বেড়ে উঠেছে। সবদিক থেকে তারা এদেশের একটা অনিবার্য অংশ। অন্যদিকে যারা হরহামেশা এ দলটিকে নিষিদ্ধের জন্য দাবী করছেন, ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বিরোধী একটা অবস্থানও তারা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন; তাদের আবেগ এবং বাস্তবতাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসে জন্মের আগের একটি বিষয় নিয়ে এ প্রজন্মের কেউ হীনমন্যতায় ভূগবে, বন্ধুদের বিদ্রূপের সম্মুখীন হবে, এটা চিন্তা ও সংস্কৃতির সুস্থতার পরিচয় বহন করতে পারেনা।

স্বাধীনতা বিরোধী কারা ছিলো? সহজ কথায় যারা তৎকালে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে থেকে তা সংহত রাখার চেষ্টায় সক্রিয় অংশ নিয়েছিলো তারা। এক্ষেত্রে জামায়াত, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম সহ প্রায় সকল ইসলামী দল বা ব্যক্তিত্ব যারা মুসলিম জাতীয়তাবাদে অবিচল থেকে পাকিস্তানের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং তারা সবাই এই কাতারে পড়েন। এ ছাড়া কমিউনিস্টদের একটি অংশও একই পথের অনুসারী ছিলেন।
কিন্ত্ত যারা একদা বিরোধী তারা চিরকালের জন্য বিরোধী কিনা, উপলব্ধির কোন প্রকার পরিবর্তন ঘটতে পারে কিনা তা বিবেচ্য। তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠিত প্রায় সকল নেতাই ছিলেন পাকিস্তান-আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। কাগমারী সম্মেলনে মাওলানা ভাসানীর পশ্চিমাঞ্চল অর্থøাৎ পাকিস্তানকে ‘ওয়া আলাইকুম আচ্ছালাম’ বলে বিদায়ী অভিনন্দন জ্ঞাপন, সত্তরের ঝড়ের পর প্রকাশ্যে খোলামেলা স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ এবং এল·এফ·ও·-এর অধীনে নির্বাচনে বিরোধিতা করা আওয়ামীলীগ সহজভাবে নিতে পারেনি। এটা কোনো দোষের ছিলো তা নয়, পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এসকল বিষয়ে আওয়ামীলীগের উপলব্ধির পূর্ণতা এসেছিলো। পূর্বোক্ত বিশ্বাসে পরিবর্তন এনে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালীর হৃদয়ের ভাষা পড়তে পেরেছিলেন বলেই শেখ মুজিব সবাইকে টপকে ‘বঙ্গবন্ধ’ু হতে পেরেছিলেন, আওয়ামী লীগ গণসংগঠনে পরিণত হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পেরেছিলো। এটাই ইতিহাস, বিশ্বাসের পূর্ণতা ও পরিবর্তনই স্বাভাবিক পরিণতি। জামায়াত, মুসলিম লীগ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো, কিন্ত্ত একাত্তর সালের বিরোধিতা এবং অর্জিত স্বাধীনতার চিরকালীন বিরোধিতা একই বৃন্তে গ্রথিত কিনা তা লক্ষ্য করা আবশ্যক। সময় যে কোথাও থেমে থাকেনা, আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক উপলব্ধির ক্রম রূপান্তর থেকেও তা প্রমাণিত। এ সকল রাজনৈতিক দলের উপলব্ধির ক্ষেত্রেও কোন বিবর্তন ঘটেছে কিনা তা লক্ষ্য করা আবশ্যক, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ও স্বাধীনতার বিরোধিতার মধ্যে পার্থক্য কোথায় তাও দেখা আবশ্যক।

একদিন যারা ইংরেজদের কাছ থেকে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য জীবনপণ সংগ্রাম করেছিলেন, তারা নিঃসন্দেহে মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন, আবার ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় যারা তা অখণ্ড রাখার চেষ্টা করেছিলেন, অতীতে প্রচুর অবদান সত্ত্বেও কট্টরপন্থীরা তখন তাদেরকে সাধুবাদ জানাতে পারেনি। এমনকি সোহরাওয়ার্দী বা আবুল হাশিমের মতো ব্যক্তিত্বও অখণ্ড বাংলার দাবী তুলে তখন হালে পানি পাননি, কট্টর পাকিস্তান-পন্থীদের হাতে বারবার নিগৃহীত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আলাদা রাজনৈতিক প্ল্লাটফরম তৈরী করে তাঁদেরকে টিকে থাকতে হয়েছে। ভাসানীর মতো বিশাল ব্যক্তিত্বও পরিস্থিতির কারণে ঐ সময়ে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলেন। যদিও পাকিস্তান সৃষ্টির পুরো বিষয়টিই লাহোর প্রস্তাবের সম্পূর্ণ ভিন্নতর ছিলো। আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় যারা এ পাকিস্তানকে অখণ্ড রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তারাই স্বাধীনতা বিরোধী বা রাজাকার হয়ে পড়েছিলেন। বাংলাদেশের জন্মের মূহুর্তেই ভারতের আধিপত্যবাদী ভূমিকা ও লুটপাটের বিরোধিতা করে যে সেক্টর কমাণ্ডার মেজর জলিল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সেই মেজর জলিলকে হতে হয়েছিলো প্রথম রাজবন্দী। সুতরাং স্বাধীনতার পক্ষ বা বিপক্ষের বিষয়টি সম্পূর্ণ আপেক্ষিক এবং সময়ের সাপেক্ষ। কিন্ত্ত এরপরও জামায়াত কেন বিরোধিতা করেছিলো এর কারণগুলো নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন। আবেগের বশবর্তী হয়ে আমাদের একথা ভুললেও চলবেনা যে, পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রেরই দু’টি অংশ ছিলো পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। তৎকালীন রাজনীতিকদের কেউ সমাধান চেয়েছিলেন বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে, আর কেউ চেয়েছিলেন পূর্বের রাষ্ট্রীয় কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে সমাধানে পৌছতে। ভিন্ন কোন দেশের পক্ষ বা বিপক্ষের বিষয়টি তখন প্রযোজ্য ছিলো না। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও একাত্তরের সাতই মার্চে স্বাধীনতা ঘোষণা করে আবার পঁচিশে মার্চের আগে আয়োজিত গোলটেবিলে অংশ নিয়েছিলেন নিঃসন্দেহে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য, স্বাধীনতার জন্য নয়। এখানেও একটা জটিলতা থেকে যায়। স্বাধীনতার স্বপ্ন নিঃসন্দেহে মুজিবের মনে ছিলো, কিন্ত্ত সেটা কি রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে? মনে হয়না। কারণ এ বিষয়ে তার পরিকল্পিত কোন প্রস্ত্ততি লক্ষ্য করা যায়নি। এবিষয়ে প্রখ্যাত সাংবাদিক এম·আর·আখতার মুকুলের লেখনীতে কিছুটা আভাষ পাওয়া যেতে পারে। “কথায় কথায় আমি মুজিব ভাইকে বেশ ক’টা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলাম। বললাম, নির্বাচনে জয়লাভ করে কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর আপনি পূর্ববঙ্গের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারবেন কি? এখানে শিল্প স্থাপন করবেন? বৈদেশিক মুদ্রা কোথায়? সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনে বাঙালীদের রিক্রুটমেন্ট ও প্রমোশন দিবেন? তার সুযোগ আছে কি? চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর হেড কোয়ার্টার স্থাপন করবেন? কেন্দ্রের খাজাঞ্চিখানায় সেই টাকা আছে কি? জবাবে মুজিবভাই তাঁর চিন্তাধারার কথা জানালেন। বললেন, অবস্থা যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও পূর্ববাংলার জন্য তেমন কিছু করা সম্ভব নয়। তাই কেন্দ্রে সরকার গঠন করার পর মাস ছয়েক পর্যন্ত খুব চিৎকার আর হৈচৈ করবো। এরপরই ঘোষণা করবো মধ্যবর্তী নির্বাচনের। এতে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাও অক্ষুণ্ন থাকবে। আর নির্বাচনী ফলাফল প্রায় একই রকম হবে। বার দুয়েক এই রকম অবস্থার সৃষ্টি হলে, ওরাই পূর্ববঙ্গকে আলাদা করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এজন্যই পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ মন্ত্রীসভাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এভাবে না হলে, ঘটনা প্রবাহ রক্তাক্ত পথে অগ্রসর হবে বলে ধারণা করা যায়। মোট কথা, পূর্ববাংলা ভবিষ্যতে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।”- (শতাব্দীর কান্নাহাসিঃ পৃষ্ঠা ২৫৪)। কিন্ত্ত মুজিবের এ প্রস্ত্ততিতো একান্তই গোপনীয় ছিলো। তাহলে তার সাথে ভিন্ন আদর্শ বা দলীয় কর্মীরা কিভাবে একাত্ম হবেন?

জামায়াত কর্তৃক স্বাধীনতা যুদ্ধে যে সক্রিয় বিরোধিতা ছিলো তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কিন্ত্ত বিরোধিতা তারা কেন করেছিলো? সকল ইসলাম পন্থীদের একযোগে বিরোধিতারই বা কারণ কী? বিশ্বাসগত কোন দায়বদ্ধতা কি তাদের ছিলো? নাকি বিষয়টি অন্য কোন সূত্রে গ্রথিত?

জামায়াত ১৯৭১ সালে নিঃসন্দেহে তেমন বড় কোন দল ছিলো না। জামায়াত-প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদূদী তৎসময়ে ছিলেন পাকিস্তানের অধিবাসী। বলা যায় ঐ সময়ে জামায়াত এ অঞ্চলে সংগঠিত হওয়ার পর্যায় অতিক্রম করছিলো। একটা ভাববাদী স্বপ্ন ও রোমান্টিকতা তাদেরকে আবেশিত করে রাখা স্বাভাবিক। অন্যদিকে জাতীয়ভিত্তিক একটি দল হওয়ার কারণে পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখা তাদের দলীয় প্রতিশ্রুতিরও একটা অংশ থাকা অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চিন্তার বাইরে এসে অঞ্চলভিত্তিক ভিন্ন চিন্তা করার দলীয় সুযোগও তাদের ছিলো কিনা তাও দেখার বিষয়। যে কোন দলের মাঝে এরূপ ইউনিটারি চারিত্র্য দলের জন্য মঙ্গলজনক। কিন্ত্ত পূর্ব পশ্চিমের পৃথক বাস্তবতার কারণে এ ইউনিটারী চারিত্র্য জামায়াতের জন্য কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই সৃষ্টি করলো অনেক বেশী। তৎকালীন জামায়াতের মূল নেতৃত্ব ছিলো পশ্চিম পাকিস্তান কেন্দ্রিক। আদেশ দানের উচ্চস্তরে যারা ছিলেন পূর্বাঞ্চলের বাস্তবতার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এতই কম ছিলো যে ধর্মীয় নীতিকথার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের সমস্যাগুলোকে তারা মিলাতে পারেন নি। ধর্মীয় কথার সাথে তারা রাজনীতিকেই মিশিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্ত্ত রাজনীতির মধ্যে পূর্বাঞ্চলের সমস্যাগুলোকে স্থান দিতে পারেন নি। পূর্বাঞ্চলের সমস্যার সঙ্গে নেতৃত্ব কার্যত সম্পর্কহীন ছিলেন বলে এ সকল ধর্মমিশ্রিত রাজনীতি সময়ের দাবীকে উপলব্ধি করতে পারেননি বা পূর্বাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অন্তরের লিখন তারা পড়তে সমর্থ হননি। এ কারণে একসাথে বসবাস করেও তারা আলাদা মানস-দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে পড়েছিলেন।

প্রাক-একাত্তরে যে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এদেশের মানুষ সংগঠিত হচ্ছিলো বা আওয়ামী লীগ সংগঠিত করছিলো, তার সাথেও জামায়াতের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ছিলো। সম্ভবত জামায়াতের দৃষ্টিতে বাঙালী জাতীয়তাবাদ বিশুদ্ধ ইসলাম প্রসূত ছিলোনা, এর সাথে পৌত্তলিকতার সংমিশ্রণ ছিলো। অনার্যদের কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতির যে বিষয়গুলো একসময় আর্যরাও গ্রহণ করতে রাজী ছিলোনা, সেগুলির সাথে আপোস করেই মুসলিম সুফী দরবেশরা এদেশে ‘পপুলার ইসলাম’ প্রসারিত করতে পেরেছিলো তা জামায়াত মেনে নিতে পারলোনা। অবশ্য না পারাটা কোন অপরাধ ছিলোনা· ছিরো তাদের আদর্শিক দায়বদ্ধতা বা সীমাবদ্ধতা। পাকিস্তানীদের বিরোধিতার মুখে এতদঞ্চলে অতিমাত্রায় রবীন্দ্র চর্চাসহ ও প্রান্তিক চিন্তাধারায় আক্রান্ত বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের দ্বারা ইসলামকে বাঙালীত্বের বিপরীতে স্থাপন করাও বিবিধ কারণে হয়তো তাদের এ আশংকাকে একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলো।
কারণ জামায়াত প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথাই বলে আসছে। তারা মুসলিম লীগের মত শুধুমাত্র মুসলিম শাসনে তৃপ্ত হতে চায়নি, এ কারণে তারা খিলাফতের আদলে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলে এসেছে তথা জীবনের সকল দিককে তারা ইসলামের আলোকে সাজাতে চেয়েছে। নিজ কর্মীদের স্বীয় আদর্শের আলোকে রূপায়িত করার একটা কার্যকর প্রচেষ্টা তাদের কর্মীদের অবশ্য পালনীয় ব্যক্তিগত রিপোর্ট বইয়ের কলামগুলোতেও লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে ভারত-নির্ভর স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ জামায়াতের জন্য আরো কঠিন বিষয় ছিলো। ইংরেজ শাসনামলের দীর্ঘ সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী অভিজ্ঞতা বিশেষত সাতচল্লিশের মর্মন্তুদ ঘটনাগুলো পাকিস্তান ভাঙার জন্য ভারতের যে কোন ধরনের সহযোগিতাকে সন্দেহের চোখে দেখতে জামায়াত ছিলো বাধ্য। কংগ্রেস নেতা নেহেরু ভারত বিভক্তির সময় পাকিস্তানের খণ্ডিত হওয়ার ব্যাপারে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তাও জামায়াত নেতৃত্বের মানসপট থেকে নিশ্চয় মুছে যায়নি। সত্যি কথা হলো অতীত অভিজ্ঞতাগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার কারণে জামায়াত কখনো বিচ্ছিন্ন এ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বন্ধু হিসেবে ভারতকে মেনে নিতে পারেনি। সময়ের ব্যবধানে জামায়াতের এ আশংকা একেবারে অমূলক প্রমাণিত হয়নি। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে জোর করে রাষ্ট্রীয় আদর্শ চাপিয়ে দেয়া সহ স্বাধীনতার পরবর্তীতে বিশেষত পঁচাত্তর পরবর্তী অভিজ্ঞতা কখনো সুখকর ছিলো না, এখনো নয়। মজার ব্যাপার হলো, যে ‘সমাজতন্ত্র’ ভারত নিজের জন্য গ্রহণ করেনি, সে ‘সমাজত’è বাংলাদেশকে গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতার পূর্বশর্ত হিসেবে যে সাত দফা গোপন চুক্তি তাজউদ্দীনকে কবুল করতে বাধ্য করেছিলো তার বিষয়বস্ত্তও সার্বভৌম একটি বাংলাদেশের অস্তিত্বকে স্বীকার করেনা। শেখ মুজিবের অসীম জনপ্রিয়তার কারণে যদি ভারত সৈন্য প্রত্যাহারে বাধ্য না হতো তাহলে এ জাতির পরিণতি কি হতো তা ভাবতেও কষ্ট হয়। ভারতের যে সে ধরণের অভিসন্ধি ছিলো ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধানের আত্মজীবনী থেকেও তা উপলব্ধি করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। এছাড়া সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী হত্যা, বি·এস·এফ· কর্তৃক বাংলাদেশের ভিতরে ঢুকে অহরহ লুটপাট, ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকে মরুকরণ এর দিকে ঠেলে দেয়া আমাদের বিবেচনার বাইরে থাকবে কেন? ফারাক্কার বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলে কোন ব্যক্তি বা কোন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যদি ভারতের পক্ষাবলম্বন করে গোটা জাতিকে ভুগোল শেখার উপদেশ দেন, তা কি আমাদের জাতীয় স্বার্থের স্বপক্ষে দাঁড়ায়?
গঙ্গানদী পূর্বে ভাগিরথীর খাত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়তো। পরবর্তীতে প্রবল জলপ্লাবনের তোড়ে ভাগীরথীর খাত ছেড়ে দিয়ে গঙ্গা নতুন খাত পদ্মা দিয়ে বইতে থাকে। এই নতুন খাতটির সঙ্গেই আজকের বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প এবং বাণিজ্যের সমৃদ্ধি তথা নতুন একটি সভ্যতার বিষয়টি জড়িত। এই অঞ্চলে আগে তুলনামূলকভাবে কম মানুষ বাস করতো। গঙ্গা প্রবাহ পদ্মা দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার কারণে ভূমির যে উর্বরতা বৃদ্ধি পায় তা-ই দলে দলে মানুষকে এখানে বসতি স্থাপনে অনুপ্রাণিত করেছে। পদ্মা নদীর কারণে এই অঞ্চলে নগর এবং জনপদ সৃষ্টি হয়েছে। ফল-ফসলে প্রাচুর্যে জীবন শান্তিময় হয়ে উঠেছে। গঙ্গার খাত পরিবর্তন করার কারণেই কৃষিজীবি মানুষেরা জীবিকার নিশ্চিন্তে অবলম্বন খুঁজে পেয়েছিলেন এবং কৃষিজীবি মানুষের মধ্যে প্রচারিত হয়ে ইসলাম ধর্ম ব্যপ্তি এবং প্রসার লাভ করেছে। আসল কথা হলো আজকে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে তার পিছনে পদ্মা নদীর ভূমিকা সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী। আর এ পদ্মার সর্বনাশ করেই চলছে ফারাক্কা বাঁধ।

যে ভারত আমাদের স্বাধীনতায় সর্বোতভাবে সহযোগিতা করেছে আজ তার ভিন্ন মূর্তিতে আবির্ভাব কেন? আসল কথা হলো, ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সৃষ্টি ভারত গ্রহণ করেছিলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মোকাবেলায়। কারণ দ্বিজাতিতত্ত্বকে ভারত কখনো মেনে নেয়নি, বাংলাদেশের অভূøদয়কে অনেকে দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে মনে করেন। মনে রাখা দরকার, ভারত একটি বহুজাতিক দেশ, পূর্বাঞ্চলের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ভারতের জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয়ও বটে। ভারতের নিকট মূল টার্গেট ছিলো পাকিস্তান, ঠিক বাংলাদেশ নয়। বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদ অথবা বাংলাদেশের নিজের পায়ে দাঁড়ানো ভারতের নিকট আকাঙ্খিত হবার কথা নয়, হয়তো আকাঙ্খিত ছিলোও না। এ উপলব্ধি বা আশংকা হয়তো তৎকালীন জামায়াত বা তার নেতৃত্বের ছিলো।

রক্তাক্ত অধ্যায়ের যে পর্বটি আওয়ামীলীগের জন্য কিছুটা হলেও পরিকল্পিত ছিলো, জামায়াত বা ইসলাম পন্থীদের জন্য তা অনেকটা আকস্মিকভাবেই আপতিত হয়েছিলো। জামায়াত যদি তখন স্বাধীনতার পক্ষে থাকতো সেক্ষেত্রেও তো তার জন্য আশংকা কম ছিলো না। কারণ ভারত তার জন্য কোন দিক থেকে নিরাপদ ছিলো না। মাওলানা ভাসানীর মতো চীনপন্থী লোক সবকিছু ত্যাগ করে স্বাধীনতার স্বপক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা নেয়ার পর প্রথম দিকে কিছুটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলেও পরবর্তীতে তাঁকে বাকী সময়টা অন্তরীণ জীবনই কাটাতে হয়েছিলো। এমনকি চীনপন্থী সিরাজ শিকদারদেরকে লড়াই করতে হয়েছিলো একসাথে পাকিস্তানী সৈন্য এবং মুজিববাদীদের সাথে। এ রকম কোন রি নেয়া জামায়াতের জন্য নিঃসন্দেহে কঠিন ছিলো। আর দেশে থেকেও তাকে কম প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়নি। দেশে জীবন নিয়ে থাকতে হলে পাকিস্তান সৈন্যবাহিনীর সাথে একটা আপোসমূলক অবস্থানে আসা ব্যতীত তাও সম্ভব ছিলো না।

জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতাকালে কতটুকু ভূমিকা পালন করেছিলো? জামায়াত দাবী করে তারা সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করার চেষ্টা করেছে, কারো উপর অযথা আক্রমণ পরিচালনা করেনি। স্বাধীনতার পর জামায়াত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে তেমন কোন মামলাও হয়নি। দু’একটি যা হয়েছিলো তাও আইনের চোখে টিকেনি। এমনকি জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার ফলাফলও এ বিষয়ের আইনগত একটা নিষ্পত্তি টেনে দেয়। বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা কোনটি? বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নাকি জামায়াতে ইসলামী? স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিষয়টি চিরস্থায়ী কোন ব্যাপার নয়, হওয়াও উচিত নয়। বিএনপির বিশাল জনসমর্থন আর জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি- এ দুয়ের ঐক্য যা বারবার বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের পরাজিত হতে বাধ্য করছে, তার মাঝেই কি এ বিরোধিতার উৎস লুক্কায়িত?

জামায়াত যদি ক্ষমার অযোগ্য কোন অপরাধ করেই থাকে তাহলে তার বিচারের ভার আমরা দেশের নাগরিক তথা ভোটারদের দিয়ে দিই। জামায়াতের এ বিরোধিতা কি আদর্শিক বা রাজনৈতিক সততা থেকে উদ্‌ভুত, নাকি নিজেদের আদর্শহীন রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ তৈরী করে রাজনীতিতে টিকে থাকার কৌশল? ১৯৯৬ সালে যুগপৎ আন্দোলনেও কোন সমস্যা হয়নি, ১৯৯১ সাল পরবর্তী তাদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের কাছে পাঠানোর সময় কি জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো না? ওয়ান-ইলাভেনের আগে খেলাফত মজলিশের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি (?) কি তাদের এ আদর্শবাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না? যে যুদ্ধাপরাধী নিয়ে এত হৈ চৈ, তার তালিকা কোথায়? স্বাধীনতার সময় বেসামরিক লোকজন হত্যা নিঃসন্দেহে জঘন্য অপরাধ। স্বাধীনতার সময় পাকিস্তান- সহযোগীদের হাতে নিহত এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত জাসদ কর্মীদের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যানও গবেষণার বিষয় হতে পারে। কারণ কোনটি বেশী তা নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য আছে। স্বাধীনতার তিন যুগ পর রাজনীতিতে পুরনো এসব বিষয়ের বারবার অবতারণার কারণ কি অন্য কোথাও - তাও চিন্তার বিষয়।

জামায়াত নেতৃত্বকে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। যদি সত্যিই এ রকম কোন অপরাধ থেকে থাকে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হতে পারে? কিন্ত্ত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে অন্তত একজন তালিকাভূক্ত যুদ্ধাপরাধী নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে বেশ ক’জন প্রার্থীও হয়েছিলেন। তাহলে শ্রেণীগত দিক থেকে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের মধ্যে পার্থক্য নেই· পার্থক্য যা তা হলো মাত্রাগত। এরপর কি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলার নৈতিক কোন শক্তি আওয়ামী লীগের থাকে? নির্বাচনে পরাজিত করার জন্য যদি তারা এ কৌশল নেয়, সেটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। এটি অনৈতিক হলেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটা সম্ভব। কিন্ত্ত এর চেয়ে বেশী অগ্রসর হওয়া কতটুকু যৌক্তিক?

জামায়াত অখণ্ড পাকিস্তানের মাঝে সমাধান চেয়েছিলো, এ কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর আওয়ামীলীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য জামায়াত নেতা গোলাম আযম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর কার্জন হলের একটি সভা থেকে দাবীও জানিয়েছিলেন। জামায়াত যে অপরাধে অপরাধী, সে একই অপরাধে অপরাধী খন্দকার মোশতাকসহ আরো অনেকে। যুদ্ধ চলাকালেই খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে তৎকালীন সংসদ সদস্যদের একটি অংশ শেখ মুজিবের মুক্তির বিনিময়ে অখণ্ড পাকিস্তানের মাঝে সমাধান চেয়েছিলেন। তাঁরা এ ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিকুল পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। সেই খন্দকার মোশতাক এবং অন্যান্য নেতারা পরবর্তীতে শেখ সাহেবের মন্ত্রীসভার সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন।
প্রকৃতপক্ষে জামায়াতের রাজনৈতিক সম্ভাবনা এর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিগুলোর নিকট আবিষ্কৃত সত্য, জামায়াতের সাংগঠনিক দক্ষতা তাদের নিকট ঈর্ষার বস্ত্ত, উত্তর পঁচাত্তরে জামায়াতের ক্রমবর্ধমান গতিশীলতা থেকেও তা প্রমাণিত। পাকিস্তান আমলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বা ক্ষমতার কাছাকাছি মুসলিম লীগ ছিলো, জামায়াতে ইসলামী নয়। কিন্ত্ত সে মুসলিম লীগের ব্যাপারে এখন তো কোন হৈ চৈ নেই। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ শাহ আজিজুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন, সে সংসদে আওয়ামী লীগও ছিলো। তাকে মেনে না নিয়ে আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে পদত্যাগ করেনি। তাহলে বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতিকে মেনে নিতে আওয়ামী লীগের অসুবিধা কোথায়? সম্ভবত উপরেই রয়েছে।

কিন্ত্ত স্বল্প সময়ে জামায়াতের এ অগ্রগতির রহস্য কী? সম্ভবত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামায়াত তা করতে পেরেছে, যা একাত্তরে করতে ব্যর্থ হয়েছিলো। তাহলো ভারতীয় আগ্রাসনের মোকাবেলায় জাতীয়তাবাদের নতুন ধারাটি সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি। জামায়াত যদি মুসলিম লীগ বা নেজামে ইসলামীর মতো প্যাড সর্বস্ব কোন দল হতো তাহলে সম্ভবত এত বিরোধিতার প্রয়োজন হতো না।
মূলত যারা মনে করেন যে জামায়াত এদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়, তা কি বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? পাকিস্তান কি সাবমেরিন নিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে এদেশের স্বাধীনতা হরণ করবে? মানসিকভাবে সুস্থ কোন লোক সম্ভবত তা বলবে না। একমাত্র ভারতের হাতেই এদেশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং হচ্ছেও। সুতরাং জামায়াত তার অস্তিত্বের জন্যই এদেশের স্বাধীনতা রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য। এমতাবস্থায় স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিষয়টি নতুনভাবে মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। জামায়াতের আশঙ্কা বা বক্তব্য ছিলো পাকিস্তান বিভক্ত হলে এদেশে ইসলাম বিপন্ন হবে। পাকিস্তানেও ইসলাম আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে নেই। কিন্ত্ত স্বাধীনতার পরবর্তীতে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্রের নামে যা করা হয়েছে বা করা হচ্ছিলো, তাতো তো জামায়াতের আশংকার সত্যতাই নিরূপণ করে।

একটা বিষয় আমাদের ভালোভাবেই উপলব্ধি করা প্রয়োজন। ইংরেজদের হাত থেকে আমাদের রক্ষাকবচ ছিলো ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদ’। ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে আত্মরক্ষার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’ তথা ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদ’। যখন পাকিস্তানী শোষণ আর নির্যাতনের স্টিমরোলার চলছিলো, তখন সময়ের দাবীকে সামনে রেখেই বিকশিত হয়েছিলো ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’। আর আজ ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার একমাত্র হাতিয়ার হলো ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিকাশ। মূলত এটিই এখন বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আদর্শ ও বিশ্বাস। বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফলও এটাই প্রমাণ করেছে। সম্ভবত বি·এন·পি এটি অনুধাবন করে তাদের বক্তব্যে ও কর্মসূচীতে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের হৃদয়ের কথার প্রতিধ্বনি ঘটাতে পেরেছিলো বলেই তেমন কোন সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়াই বি·এন·পি বারবার ক্ষমতায় আসীন হতে পেরেছে। কারণ স্পর্শকাতর দু’টি বিষয়- ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধকে সময়ের আলোকে মানুষের মতো করে পুনর্গঠন করে নিতে পেরেছিলে। নানা বিপত্তি ও বিরোধিতার পরও প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জামায়াত যতটুকু এগিয়েছে তাও কম নয়। অন্যদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার মত কৃতিত্ব থাকার পরও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থতার কারণে আওয়ামীলীগ সে পরিমাণ সুফল ঘরে তুলতে পারেনি যা তোলা তাদের উচিত ছিলো। এ ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি শেখ মুজিবর রহমানকে বিদায় নিতে হয়েছিল জনপ্রিয়তার সূচক সর্বনিম্ন অবস্থায়। বিপরীতে সামরিক উর্দি পরে রাজনীতিতে আগত জিয়াউর রহমান এদশের মানুষের জীবনের মূল সুর ধরতে পেরেছিলেন বলেই সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পেরেছিলেন। নতুন কোন আদর্শিক চেতনা না থাকায় নেতিবাচক রাজনীতিই আওয়ামী লীগকে গ্রাস করে ফেলেছে। আওয়ামীলীগ দিনে দিনে এদেশের মাটি ও মানুষের বিপরীতে চলছে বলেই মনে হচ্ছে। তার নির্ভরতা যেন জনগণের উপর নয়, অনেকটাই অন্যজায়গায়। তা না হলে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও এর যে ধারায় আওয়ামীলীগ চলছে, তা মূল ধারার একটি দলের পক্ষে কখনো শোভনীয় নয়। বিশেষত বিগত চারদলীয় সরকারের শেষদিকে এবং বিগত তত্ত্বাবধায়ক আমলে যা আওয়ামী লীগ করেছে, দেশের প্রতি, দেশের জনগণের প্রতি কোন কমিটমেন্ট থাকলে তা করা সম্ভব কিনা চিন্তা করার বিষয়। সম্প্রতি লন্ডনে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিলের দেয়া স্বীকারোক্তির পর এ বিষয় নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই থাকে।

এদেশের মাটি ও মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাইলে অতীতের অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে পড়ে না থেকে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজেদের রাজনীতিকে এরই আলোকে সাজাতে হবে। অন্যথায় মুখ থুবড়ে পড়তে হবে বা সময়ের ব্যবধানে সংকীর্ণ গণ্ডির মাঝে নিজেদের সীমিত করে ফেলতে হবে। একাত্তরে জামায়াত যা পারেনি, ২০০৯ সালে এসে আওয়ামীলীগ বা প্রগতিশীলতার দাবীদাররাও তা পারবে না- এটা আশা করা ঠিক হবে না। জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী ধারার রাজনীতিকেই মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী মনে করে পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে এ সত্যই উচ্চকিত হবে, কেউ স্বীকার করুক অথবা না করুক। জনগণের মন ও মননকে বাদ দিয়ে অতিমাত্রায় তাত্ত্বিকতা ও প্রান্তিক আচরণ বামপন্থী দলগুলোকে ্লোগান ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলে পরিণত করেছে। এমনকি নিজ পথ থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়ার কারণে একসময়ের সম্ভাবনাময় দল বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জাসদও এখন যতটুকু না জনগণের মাঝে, তার চেয়ে বেশী ইতিহাসের পাতায়।

রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদ ঘোষণা করেছে। আবার যাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে শুধু ভোটের রাজনীতির স্বার্থে তাদেরকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে বা তাদের সাথে ঐক্য করেছে। ২০০৮ সালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল শক্তির আনুকল্যের কারণে আওয়ামী লীগ যে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তা আওয়ামী লীগের কল্পনাতেও ছিলো না। এখন আওয়ামী লীগকে ঠিক করতে হবে যে ভিশন ২০২১ এর স্বপ্ন দেখিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছেন তার বাস্তবায়ন করবেন, নাকি আবারও বিভাজনের রাজনীতিতে মেতে উঠবেন। কারণ তাদের সাথে রয়েছেন কট্টর বামপন্থী জনবিচ্ছিন্ন কিছু বাম নেতা যাদের গণভিত্তি বলতে কিছু নেই। নিছক ক্ষমতার জন্য তারা স্বীয় আদর্শের জলাঞ্জলি দিয়ে নৌকার উপর ভর করে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। তাদের অতিমাত্রায় তাত্ত্বিকতা ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা শেখ মজিবুর রহমানকেও শেষ সময়ে জনবিচ্ছিন্ন করে ছেড়েছিলো।

ভবিষ্যৎ আওয়ামী সরকারের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি হবেন সজীব ওয়াজেদ জয়। আমেরিকার আনুকল্য পাওয়ার জন্য আমেরিকার অন্যতম সমর বিশারদ কার্ল সিওভাক্কোর সাথে সম্মিলিতভাবে যে থিসিস রচনা করেছেন তা নিয়ে হয়তো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ খুব বেশী অবগত নন। কিন্ত্ত যে পরিকল্পনা তাঁরা করেছেন তাতে যদি আওয়ামী লীগের সায় থকে তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে তা শুধু আল্লাহই বলতে পারেন। (বিস্তারিত দেখুন, http://www.harvardir.org/articles/1784)
যারা স্বাধীনতার তিনযুগ পরেও স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিষয়টি জিঁইয়ে রেখে রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়ে বিদেশী দূতাবাসে ছুটাছুটি করা বা পরাশক্তির কাছে দ্বারস্থ হওয়া আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ তা নিজেরাই বিবেচনা করে দেখুন। শুধুমাত্র দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে তোলার প্রচেষ্টা দেশীয় স্বার্থের সাথে কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ। দল বা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থাকা রাজনীতির জন্য অবশ্যই কল্যাণকর, কিন্ত্ত কারো প্রতি ভক্তির আতিশয্যে বা অন্ধ আবেগের বশবর্তী হয়ে কালোকে কালো বা সাদাকে সাদা বলতে না পারা কুপমুণ্ডকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশপ্রেমিক শান্তিকামী সকল রাজনৈতিক কর্মী বা সচেতন নাগরিকদেরই বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এদেশের নতুন প্রজন্ম পুরনো প্রেক্ষাপটকে নিয়েই শুধু ভাবেনা, আমাদের প্রিয় স্বদেশকে নিয়ে আমাদের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি তাও জানতে চায়। তারা সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখতে চায়, দেশ গড়ার কার্যকর কর্মসূচী তারা পেতে চায়, বুঝতে চায়। ১৯৭১ এর ভয়াবহতা তারা দেখেনি, কিন্ত্ত ২০০৬ এর ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠা নিয়ে সাপের মতো মানুষ মারার যে দৃশ্য তারা দেখেছে তার পুনরাবৃত্তি তারা চায়না। পুরনো দিনের কাসুন্দি ও বিশেষ কোন আবেগের ফেরি বা কথায় কথায় অরাজকতা আর নয়, তারা নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে চায়। এ স্বপ্ন ঐক্যের, সমন্বয়ের; দ্বন্দ্বের বা বিভাজনের নয়।

“নাইজেরিয়া থেকে বায়াফ্রা অঞ্চলটি আলাদা হতে চেয়েছিলো। ওজুকু বায়াফ্রার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। একবছর ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলে কিন্ত্ত শেষ পর্যন্ত বায়াফ্রা পরাজিত হয়। তখন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়াকুবু গাওয়ান বায়াফ্রাবাসীদের লক্ষ্য করে বলেছিলেন,‘আপনারা দেশকে ভালোবাসেন, আমরাও দেশকে ভালোবাসি, আপনারা বিচ্ছিন্ন হতে চেয়েছিলেন, আমরা তা হতে দেইনি। আমি প্রতিশোধ নেব বলে আপনাদের সামনে আসিনি, আমি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছি। আসুন আমরা উভয়ই মিলে নাইজেরিয়াকে নতুনভাবে গড়ে তুলি। ”
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে আগত বিশ্ব রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তী নেলসন ম্যাণ্ডেলাও একথাই বলেছিলেন। তাঁর চির প্রতিদ্বন্দ্বী শ্বেতাঙ্গ ডি·ক্লার্ককেই তিনি তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট করে সমন্বয়ের এ ধারাই অনুসরণ করেছিলেন। আমাদেরকে তা-ই করতে বলেছিলেন। সুতরাং জামায়াতকে যেমন তার ভূমিকার ব্যাপারে খোলামেলা কথা বলা উচিত, কারণ বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে নেয়ার মাঝেই সাহসিকতা, সংকীর্ণতার বেড়াজালে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখার মাঝে নয়। এদেশের মানুষ জামায়াতের বর্তমানের প্রেক্ষিতে অতীতকে বিবেচনা করতে বা মেনে নিতে পেরেছে বলেই জামায়াত এদেশে রাজনীতি করতে পারছে বা ধীরে ধীরে এগুতে পারছে। জামায়াত-বিরোধীদেরও আরো যৌক্তিক হয়ে বাস্তবতা উপলব্ধি করা প্রয়োজন, শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। বিরোধিতার ভাষা ও আচরণও গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন। কারণ নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন কোন আদর্শের উপস্থাপনার পরিবর্তে নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে বেশীদিন টিকে থাকা যায়না, সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যেতে হয়। ভালোবাসা, উদারতা আর ঐক্যের সমন্বয়ে এক নতুন আলোকিত বাংলাদেশই সবার স্বপ্ন; হিংসা, দ্বেষ সন্ত্রাস আর বিভাজনের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশ নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ১০ টাকা মূল্যে চাল এর ঘোষণার বাস্তবায়ন জনগণ দেখতে চায়, দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ভারতীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশ কারো কাম্য নয়।

মনে রাখা দরকার, ইতিহাস বা সময় একটা চলমান বিষয়। এদেশের ইতিহাস ১৯৫২ বা ১৯৭১ থেকেই শুরু হয়নি। আমরা ১৯৪৭ সালে প্রথমবার এবং ১৯৭১ সালে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা লাভ করেছি। আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে যদি এর মাঝেই আমরা মানস-বন্দী করে রাখতে চাই তা শুভ হবেনা। ১৯৪৭ পূর্ববর্তী পুরো ইতিহাস যেমন আমাদের জানা দরকার, মূল্যায়ন করা দরকার; তেমনি ১৯৭১ পরবর্তী বিষয়গুলোও ভুলে যাওয়া ঠিক হবেনা। যে গণতন্ত্রের জন্য এতো সংগ্রাম, এতো রক্তদান সে গণতন্ত্র পশ্চাদমুখী মানসিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবেনা আদর্শিক শত্রুতা আমাদের থাকতেই পারে, কিন্ত্ত তার সমাধান কখনো হত্যা বা নিষিদ্ধের মাধ্যমে নয়। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফলের জন্য জামায়াত যতই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ তুলুক না কেন মূল জায়গায় নিজেদের অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে আগামী প্রজন্ম থেকে তাদের আরো বিচ্ছিন্ন করবে। আইনী লড়াইয়ে জেতা আর গণমানসে বৈধতা পাওয়া এক বিষয় নয়। তৎকালীন পরিবেশে নিজস্ব অবস্থানের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে না পারলে এবং প্রয়োজনে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সাহস দেখাতে না পারলে হয়তো এ প্রজন্মের অনুগামীরাও ভবিষ্যতে “আস্‌সালামু আলাইকুম” বলে বসতে পারে-এ আশংকা একেবারে অমূলক নয়।

লেখকঃ শিক্ষক, গবেষক
http://www.sonarbangladesh.com/articles/EhsanJubaer
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
জেদ্দা থেকে সাজ্জাদ লিখেছেন, ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ০৮:১৩
সুন্দর বিশ্লেষণ। ধন্যবাদ।
6015
ইউ এস এ থেকে হক কথা লিখেছেন, ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ০৯:৫৩
আপনার লেখা আগে কখনো পড়েছি বলে মনে হয়না। আপনাদের মত লেখকদের আরো বেশি বেশি লেখা প্রয়োজন। আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। আমার মনে হয় আপনি যেন আমার মনের অব্যক্ত কথা গুলোই আপনার লেখায় তুলে ধরেছেন। আপনার এই লেখা যারা পড়বে তারা জামায়াত এবং আওয়ামীলিগ ও তাদের রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে স্বছ্ছ ধারণা পাবে। সব শেষে আপনার এই অতি মুল্যবান লেখার জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানাই।
6016
Cardiff, UK থেকে Imtiaz লিখেছেন, ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ১০:০৪
The form of Islam in Bangladesh is "Sufism" but Jammat wants to implement the "Wahabism" form in Islam. This is incompatible in Bangladesh and Bengal as a whole. For this reason only Jammat will never take its root on the hearts of the common people, however organized they evolve to or whether they sorry for 1971.
6017
Unidet States থেকে হককথা লিখেছেন, ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ০৯:১১
To Imtiaz @ UK,

I couldn't agree with you about two isms of Islam that you have said exists in Bangladesh. I believe there is only one ism in Islam and that is "Mohammedanism".
There is no Islam besides the holly Quran and Sunnah. There is no other way except the way of prohpet Mohammed (pbh).
6031
Dhaka থেকে Sharmin Sultana লিখেছেন, ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ০২:১২
Nice article! I have learned a lot from the article. Thanks the writer. We have to clear our conception & be united to develop our country.
6035
USA থেকে A. Wahab লিখেছেন, ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ১১:০১
I hope both party Jamat and Awamilig have lessons in the article. May Allah enable them to understand and implement that.
6040
London থেকে Faruque লিখেছেন, ১৮ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ০৮:৩৩
This is really nice article.I think jamat should clarify their role in 1971.if the do it i belive a good day is coming soon for them
6059
জেজু, দঃ কোরিয়া থেকে মোহাম্মাদ আল-আমিন লিখেছেন, ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯; সন্ধ্যা ০৬:০৩
সত্য ই ভাল লিেখ েছন। সময় উপযোগী চমতকার। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকারদের সাথে আমেরিকা এবং চীন ও আমাদের বিরোধীতা করেছে। শেখ মুজিবকে হত্যায় নাকি আমেরিকার যোগসাজোস রয়েছে, হাছিনার বক্তব্য অনুযায়ী। তাহলে সেই আমেরিকার সােথ শেখ হািছনার ছেলে সংসার বাধতে পারলে বাংলাদেশের রাজাকারদের সাথে বসবাস করতে সমস্যা কোথায়? বাংলাদেশের সমস্য আসলে
6086
RIYADH K.S.A থেকে SWORD OF ALLAH লিখেছেন, ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ১১:৫৮
আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভারতীয় দালাল । ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে মনোযোগী । বাংলাদেশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত এই সমস্থ প্রতারকের হাত থেকে মুক্তি না পাবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের কোন উন্নতি হবে না। এহসান জুবায়ের, আপনার প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ।আল্লাহ আপনার দীর্ঘ জীবন দান করুন।আমিন
6097
১০
সন্দ্বীপ থেকে আবদুর রহিম লিখেছেন, ২০ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ১১:৩১
রাজনৈতিক বা আদর্শিক ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্ত্ত শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো সতর্কতার পরিচয় দিতে না পারলে যথার্থ গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব হবে না। তাই আসুন, কারো বিরোধিতা করতে গেলেও সুন্দর এবং মার্জিত ভাষায় করি। আমাদের কেউ অনদেশের দালাল নই, আসুন সবাই বাংলাদেশের দালাল হই।
6107
১১
Dhaka থেকে N.I. Khalifa লিখেছেন, ২০ ডিসেম্বর ২০০৯; দুপুর ০১:১০
I agree with Abdur Rahim of Swandip.We should be prudent,polite & judicious in our words so that no body is hurt though there might have difference of opinion or ideology. I also thank the writer for his excellent article.
6108
১২
italy থেকে mahmudali লিখেছেন, ২০ ডিসেম্বর ২০০৯; বিকেল ০৫:০০
interesting discussion
6110
১৩
সন্দ্বীপ,চট্টগ্রাম থেকে মারজুকুল মাওলা পিপলু লিখেছেন, ২০ ডিসেম্বর ২০০৯; সন্ধ্যা ০৬:৪৬
সত্যকথা বলতে কী এই ধরণের একটি লেখা আমি অনেক দিন ধরে খুঁজছি আমাদের সুপরিচিত লেখকদের কােছ!াবশেষে য়ার কাছে পেলাম তাঁকে ধন্যবাধ দেওয়ার ভাষা আমার নেই। স্বাধীনতার প্রায় ৩৮ বছর পেরিয়ে গেছে, মুক্তিযোদ্ধাণ যে কারণে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের স্বপ্ন ছিলো একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, স্বনির্ভর জাতি গঠন করা। কিন্ত্ত এতদিন পরও তাঁদের মাঝে একটি প্রশ্ন জাগে। কেন আমরা মুক্তিযুদ্ধ করলাম? কার জন্য করলাম। কারণ স্বাধীন জাতি হিেসবেস্বোধীনতার কোন স্বাদই আমরা উপভোগ করতে পারিনি। না আছে আমদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, না আছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, না আছে স্বতন্ত্র সংস্কৃতির নিয়মিত চর্চা। এর কিছুই পাইনি আমরা। এতকিছুর পরও স্বাধীনতা নিয়ে নানা বিতর্ক এখনো চলছে। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন। এখন প্রয়োজন বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশগড়ায় নিয়োজিত হওয়া।
6112
১৪
Cardiff, UK থেকে Imtiaz লিখেছেন, ২০ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ০৯:৪০
To হককথা of USA

Shaykh Ba, a West African scholar, said this about Islam:

"The river is crystal clear.
Its water remains pure, sweet and unpolluted.
It reflects the colour of riverbed."

Thus it is that Islam in China is Chineese,
just as in Africa it is African,
and in Britain it is British.

- Peter Sanders The Art of Integration
6115
১৫
sydney,australia থেকে monjur amhed লিখেছেন, ২১ ডিসেম্বর ২০০৯; দুপুর ১২:৫৭
Excellent! so beautifulll ! সুন্দর বিশ্লেষণ। This is really nice article.I think jamat should clarify their role in 1971.if the do it i belive a good day is coming soon for them...thankু a lot the writer for his excellent article. Thanks also 'sandwip uttaran' for give us link.
6146
১৬
Dhaka থেকে Md.Moshiur Rahman লিখেছেন, ২১ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ১০:৩৭
Excellent ....thanks a bunch for writing such an informative nice column ..........Jamat should realize the issue.....clarifies their position ....... and save us (born after 1971) from blame……………. And as a father org save the Islamic movement of this country from such kind of blame …
6168
১৭
চট্টগ্রাম থেকে হেলাল...... লিখেছেন, ২২ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ০৯:২৬
চমৎকার বিশ্লেষনধর্মী লিখা........সবার এবং সব দলের জন্য পাঠ্য। আর সবাইকে কমেন্ট লিখায় সাবধানী হওয়া ধরকার। লিখককে ওনেক মোবারকবাদ।
6188
১৮
চট্টগ্রাম থেকে হেলাল...... লিখেছেন, ২২ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ১০:০৮
চমৎকার বিশ্লেষনধর্মী লিখা........সবার এবং সব দলের জন্য পাঠ্য। আর সবাইকে কমেন্ট লিখায় সাবধানী হওয়া ধরকার। লিখককে ওনেক মোবারকবাদ।
6194
১৯
newyork থেকে Faruq Azam লিখেছেন, ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ১০:৪১
It is wonderful article . AL should understand their future.Al leaders should read this article.Thanks to writer.You should write more.
6222
২০
Kagoshima থেকে Bangali Raj Khan লিখেছেন, ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯; দুপুর ০১:২৭
I apprecited this writer, really nice, he presented very well ! Thank you for the nice article, could you please write more and more, May Allah SWT bless you and your whole family, save us and our Bangladesh from the Enemy, especially from India. India is our direct enemy like the Saitan is the ememey of mankind. I asked all the Awami league, why you the people are not talking anainst India, they are killing our Bangaldeshis everyday in the boarder. Why your Minister did not tell against India in the Khopenhegen, India is the only country who destrying the nature and environment of Bangldesh, where is your love to our nations ? We know this BAKSAL Awami League ! Wait, one day everythings should be clear to the people. If you are worker of Awami league, think, the characters for all the workers from root to your Leader Sheik Hasina like you, their charasters like you, believe it. Allah SWT knows best, you the Awami league must be die one day, what happened on that day, just think ! May Allah SWT guide all you and also lead us on the exact right path of Islam until we reach of GOLA, INS-ALLAH.
6226
২১
Bahrain থেকে Mohd লিখেছেন, ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ০৯:২৫
Dear Brother Mr Zubair

Really we come to know many new things from you nice article. Really you understand our crisis and you are very keen to say what you intend. The way you thought if we can spread it among our people, I am sure that a change is imminent.
Brother I request you to continue your writing and thus let us know much more. Your writing will remove the curtain of our leader and give them a new spirit to minimize the vacuum.
I wish your good luck
6233
২২
সৌদী আরব থেকে আব্দূল কাইয়ূম লিখেছেন, ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ১২:৪৭
সকল পাঠক সালাম , লেখকের প্রতি শোভকামোনা আপনাকে আরও বেশী করে লেখা দ র কার।
6240
২৩
রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ লিখেছেন, ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ০৯:১১
সুন্দর ও বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য লেখক এহসান জুবায়েরকে ধন্যবাদ। আপনি সত্যই বলেছেন।
6249
২৪
বাংলাদেশ থেকে এহসান জুবায়ের লিখেছেন, ২৫ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ০৬:২৭
সবাইকে ধন্যবাদ যারা মন্তব্য করেছেন। অন্যদেরকেও গঠনমূলক সমালোচনা করার অনুরোধ করছি। যারাই পড়েন, সবার মন্তব্য পেলে উপকৃত হবো।
6281
২৫
মালাইসিয়া থেকে ছাঈদ লিখেছেন, ২৫ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ১০:০৩
এই লেখাটা বাংলাদেশের সকল মানুষ পড়া ও জানার দরকার এবঃ বাঃলা সব পেপারে দেওয়ার দরকার।
6286
২৬
Rampura থেকে Nowrose Rahman লিখেছেন, ২৬ ডিসেম্বর ২০০৯; দুপুর ১২:১১
েলখাটা সুন্দর হয়েছে । সন্দ্বীেপর আবদুর রহিম ও সন্দ্বীপ,চট্টগ্রাম থেকে মারজুকুল মাওলা পিপলুর comments ভালো লেগেছে । সত্যি এখন প্রয়োজন বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশগড়ায় নিয়োজিত হওয়া।
6291
২৭
ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে খালিদ লিখেছেন, ২৬ ডিসেম্বর ২০০৯; দুপুর ১২:২৩
খুবই সময়োচিত লেখা>>>
6292
২৮
NSW australia থেকে akter hossain লিখেছেন, ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯; রাত ০৩:১৪
জাতির পিতা নিজামী জিন্দাবাদ। পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ গড়ার দায়ে মরহুম শেখ মজিবর রহমানের মরনোত্তর বিচার চাই। হা: হা: হা: মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি......। jomot...blody leirs.Due to your cotinuous lying Bangladehi people did not give their mandet to you.You should appolozies for your bad, ugly job.This nation may forgive jomot. jomot.............তোদেরকে গালি দিতে গেলে যে সময়টুকু লাগবে, সেটাও তোদের প্রাপ্য না। আল্লাহ তোদের এতদিন বাঁচিয়ে রেখেছে কারণ এই বাংলার মাটিতেই তোদের বিচার হবে।
6302
২৯
rockdale, nsw, Australia থেকে rasl chy লিখেছেন, ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ০৬:৫৬
jamat is bullshit party, their leaders thought they give intellectual, honest, wisecare leadership to nation. But its proven true they never do like this, Now they doing bussiness................
6305
৩০
Riyadh, Saudi Arabia থেকে Qaman লিখেছেন, ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯; দুপুর ১২:৩৪
জনাব আক্তার, আমি জানিনা আপনি ধর্মীয় রাজনীতিতে নাকি ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে এটা স্পষ্ট অাপনি জামায়াত বিরোধী। আপনার সাথে আমি এক মত অপরাধীদের বিচার হওয়া দরকার। বর্তমান সরকার তা করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছে। একটু ধৈর্য্য ধরুন, হয়তোবা কয়েক মাসের মধ্যেই জামায়াতের নেতাদেরকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে আসা হবে একে একে। তখন আপনি প্রান ভরে তা উপভোগ করতে পারবেন। কাউকে গালি দেয়ার মধ্যে গালিদাতার মান সম্মান বৃদ্ধি পায় কিনা তা একবার ভেবে দেখবেন আশা করি। পরিশেষে যে কথাটা বলতে চায় তা হলো কোন প্রবন্ধ পড়ার পর কি ভাবে মন্তব্য করতে হয় তা জানার চেষ্টা করবেন দয় করে। আর সে যোগ্যতা না থাকলে নির্বোধের মত কলম চালাবেন না।
6310
৩১
চট্র থেকে আবু লিখেছেন, ০৪ জানুয়ারি ২০১০; সকাল ১০:৫৬
চমৎকার, আল্লাহ আপনােক আেরা েলখার তৌিফক িদন।
6559
৩২
বৃটেন থেকে এম এন হাসান লিখেছেন, ২৬ জুলাই ২০১০; সকাল ০৬:১৭
জটিল বিশ্লেষন....কিন্তু ভাই যাদের উদ্দেশ্য বলেছেন তা কি সেখান পর্যন্ত পৌছুবে...?
28957
৩৩
খুলনা থেকে সাউরি লিখেছেন, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১; দুপুর ০৩:৩০
মাহবুব সাহেব, খুব ভাল লিখেছেন। নিরপেক্ষ বিশ্লেষণধর্মী লিখা আরও বেশি বেশি লিখতে হবে। আবারো বলছি- চমৎকার।
47637
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy