|
সুইডেন সফর (আবেগ উৎকণ্ঠার বিশ্বভ্রমণ - ৪)
এহসানুল ইসলাম |
|
১.
বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে বিদেশ ভ্রমণকে ঠিক যেমন সোনার হরিণটি মনে হত, বিদেশে এসে দিনে দিনে সেই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটতে লাগল। এর পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিনল্যান্ডের আশেপাশের ২৪ টি দেশে যাতায়াত করতে ভিসা না লাগা, যাতায়াত খরচ নাগালের মধ্যে হওয়া এবং সর্বোপরি প্রায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের প্রবণতা সচল থাকা। তাইতো ফিনল্যান্ড আসার মাস দুয়েক আগে আমার ফিনল্যান্ড প্রবাসী বড় ভাই সুইডেন ঘুরতে গিয়েছে শুনে যেখানে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, ফিনল্যান্ডে আসার পর সেই ব্যাপারটাকেই স্বাভাবিক হিসেবে অনুভব করতে শুরু করলাম। নিজেও পরিকল্পনা করতে লাগলাম বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের। তবে পরিকল্পিত ভ্রমণের বাস্তবায়ন হতে লাগল খানিকটা পরে। তার আগেই অনেকটা শর্ট নোটিশে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে সুইডেন সফর করতে হল। খুব বেশি পরিকল্পিত ভ্রমণ না হলেও অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত হওয়া এবং উপভোগ করার ক্ষেত্রে মোটেও ঘাটতি ছিলনা।
২.
প্রথম বিদেশ ভ্রমণ ইন্ডিয়া এবং দ্বিতীয়ত ফিনল্যান্ড আসতে ভিসা কেন্দ্রিক বেশ ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে। কিন্তু ফিনল্যান্ড থেকে সুইডেন যেতে ভিসার দরকার হয়নি। শুধুমাত্র ফিনল্যান্ড-সুইডেনই না, ইউরোপের মোট ২৫ টি দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য ভিসার দরকার পড়েনা। এর কারণ হল এসব দেশ 'সেনজেন এগ্রিমেন্ট' এর আওতাধীন। এ চুক্তিভূক্ত দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ যাতায়াত এবং পণ্যদ্রব্য পরিবহনের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত। ১৯৮৫ সালের ১৪ ই জুন এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল লুক্সেমবার্গের 'রেমেরসেন' নামক জায়গায়। রেমেরসেন ওয়াইন প্রস্তুতকারী ছোট একটি গ্রাম যেটি জার্মানী, ফ্রান্স এবং লুক্সেমবার্গের সম্মিলিত সীমান্তে অবস্থিত। রেমেরসেনের মোসেল নদীর মাঝখানে Princess Marie-Astrid নামক নৌকায় বসে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং পশ্চিম জার্মানী স্বাক্ষর করেছিল এ চুক্তিতে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর ‘আমস্টারডাম ট্রিটি’তে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড ব্যতীত সবাই সেনজেনভূক্ত হতে সম্মত হয়। নরওয়ে এবং আইসল্যান্ড, যারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত নয়, তারাও সেনজেনভূক্ত হয়। ১৯৯৯ সালের ১ মে থেকে আমস্টারডাম ট্রিটি কার্যকর হয়। এরপর থেকেই এসব দেশের নাগরিকরা এবং এসব দেশের যেকোন একটির ভিসা থাকা বিদেশীরাও কোন প্রকার ভিসার ঝামেলা ছাড়াই এ দেশগুলোতে আসা-যাওয়া করতে পারেন।
সেনজেন এগ্রিমেন্টের স্মৃতি ধরে রাখতে ২০০৬ সালের ১৮ই জানুয়ারী রেমেরসেন গ্রামের নাম পরিবর্তন করে 'সেনজেন' রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং ঐ বছরেরই ৩ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্তকে কার্যকর করা হয়। ফলে সেনজেন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হওয়ার স্থানটি আজ সকলের কাছে 'সেনজেন' নামেই পরিচিত।
৩.
সুইডেন যাওয়ার প্রথম অফার পেয়েছিলাম ফিনল্যান্ডে আসার মাস দেড়েক পরেই। বাংলাদেশী এক মুরব্বি তার ব্যবসায়িক কাজে সুইডেন যেতে হেলসিংকি-স্টকহোম রুটের শিপে চার সিটের একটা কেবিন বুকিং দিয়েছিলেন। উনি আমিসহ তিনজনকে ভ্রমণ সঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। কোন টাকা পয়সা লাগবে না। নতুন এসেছি তাই প্রবাসের ব্যস্ততা তখনো স্পর্শ করেনি। সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলাম।
পূর্ব নির্ধারিত সময়ে আমরা তিনজন উনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পৌছলাম। সেখান থেকে হার্বার মিনিট দশেকের রাস্তা। আমাদেরকে বিকাল ৫.০০ টায় শিপ ছাড়ার কমপক্ষে পনের মিনিট আগে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করতে হবে। মুরব্বির জন্য আমরা তিনজন অপেক্ষা করছি। সময় যাচ্ছে… ৫ মিনিট, ১০ মিনিট, আধা ঘন্টা। কিন্তু মুরব্বি আর আসছেন না। শিপ মিস করার আশঙ্কা শুরু হতে লাগল আমাদের। মুরব্বি আসলেন ৪.৪৫ এ। উনি গাড়ি নিয়েই যাবেন সুইডেনে। গাড়িতে করে হার্বারের দিকে যেতে লাগলাম। পৌঁছানোর পরে দেখলাম শিপ ছাড়তে তখনো ৫ মিনিট বাকি। কিন্তু গাড়ির এন্টেরান্স ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হয়ত গাড়ি সঙ্গে না থাকলে অনুরোধ করে ঢুকতে পারতাম। কিন্তু তেমনটি না হওয়ায় অনুরোধ করার কোন সুযোগই পেলাম না। চোখের সামনেই বাল্টিক সীর হার্বার থেকে সুইডেনের পথে যাত্রা শুরু করল 'ভিকিং লাইন'। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাসার দিকে মোড় নিলাম। জীবনে ছোট-খাট অপ্রাপ্তিতে দুঃখপ্রাপ্ত না হওয়ার বিষয়টি আমার মাঝে আগে থেকেই ছিল। সেদিনও কষ্ট পেলাম না। কিন্তু বার বার শুধু মনে পড়তে লাগল ফেইসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস এর কথা …is going to Sweden today…। ইতোমধ্যেই বন্ধু-বান্ধবেরা দোয়া-শুভ কামনার পর্ব শেষ করে ফেলেছে। কিন্তু কি আর করার। বাসায় এসে ফেইসবুকে আরেকটা স্ট্যাটাস দিলাম …has missed the ship. Now staying in default bed room…। তিন চারদিন পরে মুরব্বি নতুন টিকিট করে আবারো আমন্ত্রণ জানালেন সফরসঙ্গী হবার। কিন্তু ঐ সময়ে আমার অন্য ব্যস্ততা থাকায় এ যাত্রায় সুইডেন ভ্রমণ আলোর মুখ দেখল না।
৪.
কয়েক মাস পরে আবার সুযোগ আসল। বড় ভাই হঠাৎ একদিন এসে বলল তিন-চার দিন পর সুইডেন যেতে হবে, এ্যাম্বেসীতে কিছু কাজ আছে (উল্লেখ্য, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মধ্যে শুধু সুইডেনেই বাংলাদেশের এ্যাম্বেসী আছে)। শুনে ভালই লাগল। দিনক্ষণ ঠিক করা হল। ১৩ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০১০। সব ঠিকঠাক করলাম। টিকিট করা হল। ১৩ তারিখ বিকেলের শিপে রওনা হয়ে ১৪ তারিখ সকালে স্টকহোম পৌছা হবে। সারাদিন কাজগুলো শেষ করে একটু ঘুরাঘুরির পর এদিন বিকেলেই আবার হেলসিংকি ফেরা হবে।
এবার আর ফেইসবুকে এই কেন্দ্রিক কোন স্ট্যাটাস দিলাম না। নির্ধারিত সময়েই শিপে উঠলাম, 'সিলিয়া লাইন'। বিশাল শিপ। ২০৩ মিটার লম্বা ১১ তলা বিশিষ্ট এ শিপে ২৮৫২ জন যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে ৯৮৬ টি কেবিন। এবং ৩৯৫ টি প্রাইভেট কার পরিবহনের ব্যবস্থা। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে শিপ যাতায়াতের একটি অন্যতম মাধ্যম। যাত্রীদের একটি বড় অংশ আকাশপথ এবং স্থলপথের পাশাপাশি নৌপথেও যাতায়াত করে থাকে। এসব দেশের শিপগুলো অত্যাধুনিক এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত।
৫.
সূর্যাস্তের পূর্বমুহূর্তে জানালার পাশে বসে একদিকে বাল্টিক সাগরের ছোট ছোট দ্বীপ এবং অপর দিকে ঘন বৃক্ষে আচ্ছাদিত ফিনল্যান্ডের ভূখন্ড দেখতে দেখতে সামনে আগাচ্ছিলাম আমরা। বড়ই মনোরম সে দৃশ্য। প্রথম কয়েক ঘন্টার রুট গভীর সমুদ্রে না হওয়ায় মোবাইলের নেটওয়ার্ক পুরোপুরিই ছিল। ভাবলাম এ অবসরে কয়েক জনের সাথে কথা বলা যেতে পারে। কয়েকজনের সাথে কথাও হল। ট্রিপের উদ্দেশ্য, ব্যাপ্তিকাল ইত্যাদি নিয়ে। রিপন ভাই নামের এক ভদ্রলোকের সাথে কথা বলছিলাম। উনার কাছ থেকে জানতে পারলাম আগামীকাল ১৪ তারিখ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এ্যাম্বেসী বন্ধ থাকতে পারে। বিষয়টা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ এ্যাম্বেসীর ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। না, রিপন ভাই ঠিকই বলেছেন। বুঝলাম ট্রিপের সময়কাল ১৫ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু ১৪ তারিখে আমাদের রিটার্ন টিকিট করা ছিল। টিকিটটা পরিবর্তনযোগ্য নহে, তাই জলেই গেল।
কেবিনের ভেতরটা বেশ নিরব। শিপ চলার মৃদু শব্দ এবং সময়ে সময়ে মৃদু কম্পন রাতের ঘুমের গভীরতাকে যেন আরো একধাপ বাড়িয়ে দিল। এপ্রিলের এই মাঝামাঝিতে ফজরের নামাযের শেষ সময় তথা সূর্যাস্ত একটু দেরিতেই। তাই খানিকটা পরেই উঠলাম ঘুম থেকে। সকালে শিপের ছাদে গেলাম। স্টকহোমের কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা। সাজানো গোছানো স্টকহোম শহরের স্থলভাগের সমান্তরালে সামনে আগাচ্ছে আমাদের শিপ। ছবি তোলার উপযুক্ত স্থান এটি। সুইডেন সময় ৯.৩০ এ আমরা স্টকহোমের ভারতান (värtan) টার্মিনালে ল্যান্ড করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম এখান থেকে সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশন গিয়ে আশে পাশের দর্শনীয় স্থানগুলো উপভোগ করার। তেমনটিই করা হল। পূর্ব পরিকল্পনায় কোন পরিচিত জনের সাথে সাক্ষাতের এ্যজেন্ডা ছিলনা। ব্যাপ্তিকাল একদিন বাড়ায় কয়েক জনের সাথে আলাপ করতে তারা তাদের বাসায় সাদরে আমন্ত্রণ জানালেন। আমন্ত্রন গ্রহন করলাম। একজন ভাই আসলেন রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী 'অহলেন্স সিটি' মার্কেটে আমাদেরকে রিসিভ করতে। উনার সাথে দুটি বাসা ভিজিট করলাম। অনেকগুলো নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হল। আন্তরিকতা এবং আতিথেওতার মোটেও কমতি ছিলনা মানুষগুলোর মাঝে।
৬.
স্টকহোমের ভারতান টার্মিনাল থেকে সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ বাস সার্ভিস রয়েছে। এ বাসগুলোর বৈশিষ্ট্য হল গন্তব্যে পৌছানোর আগে কয়েকটি দর্শনীয় স্থান হয়ে যায় এবং সেসব স্থানে কিছুক্ষণের জন্য যাত্রা বিরতি করে। এসব বাসে সাধারণ বাস থেকে একটু বেশি ভাড়া। টার্মিনালে বিভিন্ন দেশের মানুষের যাতায়াত থাকায় এখানে ইউরো এবং সুইডিশ ক্রোনার দুইটিই চলে। তবে আমাদের সাথে সুইডিশ ক্রোনারই ছিল। টিকিট ক্রয় করে দোতলা বাসের উপরের তলায় গিয়ে বসলাম। আমাদের বাসটি ‘গুস্তাভ অ্যাডল্ফস স্কয়ার’ (Gustav Adolfs Torg), রয়াল সুইডিশ অপেরা এবং ‘জুর গর্ডেনস (Djurgården’s) ব্রিজে’ থামল কিছুক্ষণের জন্য। আগেই বলেছি এই সফরটি বেশি পরিকল্পিত ছিলনা। কাজেই স্টকহোমের দর্শণীয় স্থানগুলোর ব্যাপারে তেমন ধারণা ছিলনা আমাদের। তারপরও এই স্থানগুলো যে মোটামুটি বিখ্যাত মানুষের ভীড় এবং আগ্রহ দেখে সেটা বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল না। পরবর্তীতে কিছু জানার চেষ্টা করেছি এ তিনটি স্থান বিষয়ে। গুস্তাভ অ্যাডল্ফস স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে রয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট ভবন এবং রাজপ্রাসাদ। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও রয়েছে এ স্কয়ারে। রয়াল সুইডিশ ওপেরা গুস্তাভ অ্যাডলফস স্কয়ারের পাশেই অবস্থিত। এটি সুইডেনের ওপেরা এবং ব্যালে নাচের (ballet) প্রধান মঞ্চ। জুর গর্ডেনস সেন্ট্রাল স্টকহোমের একটি দ্বীপ যেখানে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, জাদুঘর, বিনোদন পার্ক ইত্যাদি। জুর গর্ডেনস দ্বীপে যেতে হয় ৫৮ মিটার লম্বা একটি ব্রিজের উপর দিয়ে। ব্রিজের পাশেই আমরা থেমেছিলাম খনিকের জন্য। তিনটি স্থানে অল্প অল্প সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি করে কিছক্ষণ পর সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনে পৌছলাম আমরা।
স্টকহোম রেলস্টেশন হেলসিংকির চেয়ে ব্যস্ততর এবং বড় রেলস্টেশন। প্রতিদিন দুই লক্ষাধিক যাত্রী এ স্টেশনের মাধ্যমে যাতায়াত করে। স্টেশনের সামনে নীলস এরিকসনের একটি বড়সড় মূর্তি রয়েছে। নীলস এরিকসন সুইডেনের একজন অন্যতম ডিজাইন এবং নির্মান প্রকৌশলী। রেলস্টেশনের পাশেই নদী। শহরের মাঝখানে ঝকঝকে পানির নদী সবসময়ই মনোমুগ্ধকর। মধ্যদুপুরের ঝলমলে রোদে নদীর তীরে হাটলাম কিছুক্ষণ। সেখান থেকে সিটি সেন্টারে। তবে সিটি সেন্টারের মার্কেটগুলোতে জিনিসপত্রের দাম ফিনল্যান্ডের মতই, তাই সুবিধা করতে পারলাম না। ফিনল্যান্ডের খোলামেলা এবং ক্ষেত্র বিশেষে জনমানবহীন পরিবেশে বেশ কিছুদিন বসবাস করায় স্টকহোমের রাস্তাঘাটে মানুষের ভীড় দেখে ধারণা করেছিলাম স্টকহোম হয়ত বেশ ঘনবসতিপূর্ণ এবং জনবহুল শহর। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারলাম স্টকহোমের মোট জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে আট লাখ যা সোয়া সাত লাখ লোকের শহর হেলসিংকি থেকে খুব বেশি না। তবে রেল স্টেশন এবং আশে পাশের এই এলাকাগুলো সবসময়ই লোকে লোকারণ্য থাকে।
৭.
১৫ ই এপ্রিল ২০১০ তারিখ সকালে বাংলাদেশ এ্যাম্বেসীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম আমরা। স্টকহোমের সলনাতে (Solna) অবস্থিত বাংলাদেশের এ্যাম্বেসী। সোলনা মেট্রো স্টেশন থেকে এ্যাম্বেসী খুব বেশি দূরে নয়। এ্যাম্বেসীর কথা ভাবতেই মনে ভেসে উঠেছিল একটি দৃষ্টিনন্দন ভবনের ছবি যার চারপাশ দেয়াল ঘেরা। ভবনের সামনে খানিকটা খালি জায়গা। সেখানেই পত পত করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা। সামনের প্রধান প্রবেশ ফটকের পাশে সোনালী হরফে লেখা বাংলাদেশের নাম। কিন্তু বাস্তবের এ্যাম্বেসী এমনটি নয়। সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলাটি বাংলাদেশ এ্যাম্বেসীর। এ্যাম্বেসীতে বাংলাদেশের নামফলক আর পতাকা দুটিই আছে তবে পতাকাটি দ্বিতীয় তলা থেকে ১০০/১২০ ডিগ্রী কোণে উপরের দিকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে আর নামফলক দ্বিতীয় তলাতেই গেটের সামনে টাঙানো। তবে লেখাটি সোনালী হরফেই, ‘বাংলাদেশ দূতাবাস ষ্টকহলম’। (চলবে)
লেখক: ফিনল্যান্ড প্রবাসী শিক্ষার্থী
ই-মেইল : ehsan_bd@live.com |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/EhsanulIslam |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|
আপনার লেখাটা খুব ভাল লেগেছে।এরকম লেখা আরো লিখবেন।
ফয়সাল