শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০১:৫১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

সৌদী প্রবাসীদের চাপা আর্তনাদ এবং কিছু মায়াকান্না

এনামুল হুদা

ভদ্রলোকের বাসাটা নীচ তলায়। মহল্লার রাস্তার সাথে লাগোয়া এ বাসাতে তিনি থাকেন সপরিবারে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে। চার তলা বিল্ডিংটার বাইরের গেইটটা খোলাই থাকে সাধারনত। সকাল তখন সাড়ে আটটা। অফিসের উদ্দেশে বের হচ্ছেন। বাসার মেইন দরজা খুলে বাইরে পা দিতেই ৩ জন লোক তাকে ঘিরে ধরল। ছোরা হাতে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাকে বাসার ভেতরে নিয়ে গিয়ে দরজাটা লক করে দিল। তাদের সাথে ধস্তাধস্তির কারণে ভদ্রলোক কিছুটা আহত ও হয়েছিলেন। তিনি দেখলেন ৩ জন’ই বাংলাদেশী। ভেতরে ঢুকেই তারা তাকে বেঁধে ফেলে তার কাছ থেকে মোবাইল, চাবি সব কিছু নিয়ে তার স্ত্রীকে ও ছোরা উঁচিয়ে চুপচাপ থাকতে বলল, না হয় জানে মেরে ফেলার ভয় দেখাল এবং তার মোবাইলটাও নিয়ে ফেলল। পরে দেখা গেছে বাসার ল্যান্ড লাইনের ক্যাবলটাও তারা বাইরে থেকে আগেই কেটে দিয়েছিল। তারপর শুরু করে লুটপাট। ২০/২৫ মিনিটের মধ্যে ৩ জনের ডাকাত দলটি এ পরিবারের স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ বাংলাদেশী টাকায় আনুমানিক ৪০ লাখ টাকার জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

এটা কোন নাটক বা সিনেমার গল্প নয়। আবার ঢাকা শহরের নিত্যনৈমিত্তিক কোন ঘটনা ও এটি নয়। সৌদী আরবের রাজধানী রিয়াদের জনবহুল এলাকা ‘হারা’ তে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ডাকাতি ঘটনার একটি বাস্তব ঘটনা এটি। শুধু গত রমজান মাসেই মোট ৭/৮ জনের এ ডাকাত দলটি আরো দু’টি বাংলাদেশী পরিবার এবং এক ব্যবসায়ীর বাসায় হানা দিয়ে তাদের সর্বস্ব লুট করে নেয়। এর আগেও আরো কয়েকটি এ রকম ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ডাকাত কর্তৃক ঘরের লোক খুন হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছিল। অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যপার হচ্ছে এ ডাকাতদলের সবাই’ই বাংলাদেশী; বাংলাদেশী নামের কলঙ্ক। স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা বিভাগের সক্রীয় তৎপরতা ও দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তাদের ৩ জন ইতিমধ্যে ধরা পড়ে এখন জেলে আছে। বাকীদের কেও ধরার জোর প্রচেষ্টা চলছে।

গত শুক্রবার রিয়াদে আট বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদের ঘটনায় দেশব্যপী ভীষণ হৈ চৈ পড়ে গেছে। বিবৃতির পর বিবৃতি। কিন্তু বাছবিচারহীন এ রকম বিবৃতি আবার নতুন কোন সমস্যার জন্ম দিচ্ছে কিনা সেটাও আমাদের একটু ভেবে দেখা দরকার। ২০০৭ সালে এ বিচার কার্যটি শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রায় চার বছর পরে এটার রায় কার্যকর করা হল। এ শাস্তিটা যদি আরো আগে হতো তাহলে বিগত মাস গুলোতে ডাকাতির যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা নাও ঘটতে পারতো। প্রাণহানী ও লুটপাটের হাত থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার বা ব্যক্তিগুলো যেমন রক্ষা পেত, তেমনি যারা অপরাধী হিসেবে ধরা পড়েছে বা ধরা পড়ার আশংকায় তারাও হয়তো এ জঘন্য পথে পা বাড়ানো থেকে বিরত থাকতো। আসলে যে কোন অপরাধের শাস্তি বিধানের স্বার্থকতা তো এখানেই।

যে কোন মৃত্যুই বেদনাদায়ক, নিঃসন্দেহে তা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্যই। আমাদের চিন্তা করা উচিৎ আজ থেকে চার বছর আগে যখন ঐ ডাকাত দল কর্তৃক মিশরী দারোওয়ান খুন হলো, তা তার পরিবারের কাছেও সমান বেদনাদায়ক ছিল। তার পিতামাতা স্ত্রী পরিজনও এই ভাবে আহাজারী করেছিল সেদিন। সে দিকটা কিন্তু কেউ একবার ও ভেবে দেখছিনা। বাংলাদেশী বলে খুনী হলেও তার পক্ষ নেব আর ভিন্ দেশী বলে আরেকজনের খুন হওয়ার নির্মমতাকে পাত্তাই দেব না, এটা মানবাধিকার এবং ন্যায় বিচার দুটোর’ই সম্পুর্ণ পরিপন্থী একটি দ্বীমুখী নীতি বৈকি। জাতীয় পর্যায়েও আমরা এরুপ দ্বীমুখী নীতির অনেক নমুনা দেখতে পাই, যে নিজের দলের এবং মতের লোক হলে সে যত জঘন্য অন্যায়’ই করুক না কেন তাকে কিভাবে কোন্ কৌশলে সবধরনের অভিযোগ এবং শাস্তি থেকে বাঁচানো যায় তার জন্য আরো কোন জঘন্য অন্যায় যদি করা লাগে তা করতেও অনেকে পিছ পা হন্ না। নিজের স্বজন খুন হলে খুনিকে ফাঁসিতে চড়ানোর জন্য সব শক্তি নিয়োগ করি, পক্ষান্তরে নিজেদের লোক কর্তৃক অন্য মত বা দলের লোক খুন হলে তা নিয়ে একটুও মর্মবেদনা অনুভব করি না, বরং আদালত কর্তৃক শাস্তি ঘোষিত হয়ে যাওয়ার পরে অবলীলায় তাকে ক্ষমা করে দিয়ে মহানভূবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। অন্যদিকে আমার সুদীর্ঘ প্রায় ১৯ বছরের প্রবাস জীবনে দেখে আসছি -

অনেকেই আছে যারা মনে করে – এত টাকা খরচ করে বিদেশে এসেছি, টাকা রোজগার করার জন্য। সুতরাং যে কোন উপায়ে টাকা নিজের পকেটে আসলেই হলো। তা কার টাকা, কিভাবে কোথ্থেকে আসল, বৈধ না অবৈধ, এটার জন্য কোন জবাদিহি করা লাগবে কি না – এসব যেন কোন দেখার’ই বিষয় না। অবশ্য এটা আমাদের একটি প্রধানতম জাতীয় ব্যাধিও বটে, যা সংক্রমনের মাধ্যমে কম বেশী সবার মধ্যেই দিন দিন বেড়ে চলেছে। যার নাম দুর্নীতি। দেশে জাতীয় পর্যায়ে যেমন লুটেপুটে খাওয়ার একটা মহোৎসব চলে আসছে, প্রবাসে এসেও তাদের বংশবদরা যেন সেই এক’ই ধারা বজায় রাখার মহড়ায় নেমেছে। স্বৈরাচারী এরশাদ এর আমলের একটা মজার ঘটনা আমার মনে পড়ছে। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত একদল পরীক্ষার্থী একবার রাস্তায় মিছিল বের করেছিল আর তাদের স্লোগান ছিল এই রকম “নির্বাচন হইছে যে ভাবে, পরীক্ষাও হবে সে ভাবে”। জাতীর কলঙ্ক কিছু দুবৃত্ত এ প্রবাসেও সেই এক’ই ধারা বাস্তবায়নে নেমেছে আর যেন তাদের স্লোগান হচ্ছে – ”লুটপাট আর সন্ত্রাসের মহোৎসব দেশে চলছে যে ভাবে প্রবাসেও চলবে সে ভাবে”। সেই আট জন বাংলাদেশী তো নিছক অর্থ লোভেই ডাকাতি করতে গিয়ে একজন মানুষ পর্যন্ত খুন করতে এতটুকু পিছপা হয় নাই। আর আমাদের সুশীল সমাজ তাদের সেই ঘৃণ্য অপরাধের কথা বেমালুম ভূলে গিয়ে নিন্দার ঝড় তুলে চলেছেন। কারণ তো একটাই, যে তারা আমার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার জন্য সেই সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিল, আর সেই অর্থ কামাই করতে গিয়েই আজকে সেই বিদেশ বিভুঁইয়ে তাদের প্রাণ বিসর্জন দিল। পারলে যেন জাতীয় বীর খেতাব দিয়ে বসে আর কি!

কিন্তু আমরা একবারও কি ভেবে দেখেছি এ সৌদি আরবেই কর্মরত আরো প্রায় ২০ লক্ষ বাংলাদেশী’র কথা! যারা দীর্ঘ দিন নানা প্রকার সমস্যার ঘুর্ণাবর্তে নিষ্পেষিত হচ্ছে অনেকটা লাওয়ারিশ এর মত। অনেক লেখালেখি আবেদন নিবেদন সত্ত্বেও সেই সব সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কার্যকরী কিছুই আজ পর্য্যন্ত তো করা হয়’ই নাই, উপরন্তু ঐসব ডাকাতির ঘটনা সহ, বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটা অনেক মারামারি কাটাকাটি আর সন্ত্রাসী ঘটনার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশীদের জন্য আরো চরম প্রতিকূলে যাচ্ছে দিন দিন। আর আমাদের সুধী সমাজ সেই সব কলঙ্কজনক ঘটনার নায়কদের জন্য মায়াকান্না করে প্রকারান্তরে তাদের অপকর্মের প্রতি নিরব সমর্থন প্রদর্শন করে – বাকী বিশ লক্ষ লোকের ভাগ্যকে আরো অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।

বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে প্রধান সমস্যার ব্যপারে কিছুটা আলোকপাত করতে চাই। অনেক সমস্যার মধ্যে প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে ‘কফিল পরিবর্তন’ বন্ধ হওয়া। প্রধানতমঃ বললাম কারণ এটি আরো অনেক সমস্যার উৎসও বটে। ‘কফিল পরিবর্তন’ করা কে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় “নক্বল কাফালা” বা “Transfer of sponsorship”। অর্থাৎ যদি কারো বর্তমান কফিলের কাছে কাজ না থাকে কিংবা কাজ আছে কিন্তু বেতন বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কম। অন্য কোম্পানীতে আরো ভাল সুযোগ সুবিধাসহ চাকুরীর অফার পাওয়ার পর বর্তমান কফিল বা নিয়োগর্তার সাথে একটা সমঝোতার মাধ্যমে তার সম্মতি নিয়ে অন্য কোম্পানী বা কফিলের কাছে স্থায়ী ভাবে transfer বা স্থানান্তর হয়ে যাওয়াকে বলা হয় “নক্বল কাফালা” বা “Transfer of sponsorship”। এ সুযোগ বর্তমানে সৌদিআরবে কর্মরত অন্যান্য সব দেশের নাগরিকদের জন্য বহাল আছে। বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের জন্য এ সুযোগ সৌদি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে – কতিপয় বাংলাদেশী দুবৃত্তের কিছু সন্ত্রাসী এবং আইনশৃংখলা বিরোধি কর্মকান্ডের কারণে, যা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে কর্মরত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ সমুহের নাগরিক কিছু সাংবাদিক কর্তৃক অতিরঞ্জিত রুপে ফলাও করে প্রচারীত হওয়ার কারণে। এসব সংবাদ সৌদি আরবের নীতি নির্ধারণী মহলের নজরে আসে এবং অনেকটা অঘোষিত ভাবে বাংলাদেশীদের “নক্বল কাফালা” বন্ধ করে দেয়া হয়। সবাই আশায় বুক বেঁধেছিলাম নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে, কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি। বরং এখন সমস্যার আরো নতুন নতুন জট তৈরী হচ্ছে, যা থেকে মুক্তি পাওয়া কি ভাবে সম্ভব, আদৌ সম্ভব হবে কি না এসব ভেবে আমরা চরম ভাবে হতাশ এবং উদ্বিগ্ন।

এই “নক্বল কাফালা” বন্ধ হওয়ার ফলে বাংলাদেশী নাগরিকরা কি সব মারাত্মক সমস্যার মধ্যে প্রতিনিয়ত হাবুডুবু খাচ্ছে আর কি চরম পরিস্থিতির সাথে রাতদিন যু্দ্ধ করে টিকে আছে তার কিছুটা বর্ণনা এখানে না দিলেই নয়ঃ

যাদের বর্তমান কফিল এর কাছে কাজ নেই তাদের সামনে সাধারণতঃ চার টা পথ খোলা থাকে – এক, অন্য কফিলের অধীনে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়া। দুই, বর্তমান কফিলকে মাসিক বা বাৎসরিক একটা নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করা হবে মর্মে রাজি করিয়ে তার বিনিময়ে ট্রান্সফার হওয়া ছাড়াই অন্য কফিলের অধীনে কাজ করা। তিন, Final Exit বা চুড়ান্ত ভাবে দেশে চলে যাওয়া। চার, কফিলকে না জানিয়ে তার কাছে পাসপোর্ট ফেলে রেখেই অন্যত্র চলে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া।

এক নম্বর পথটা বাংলাদেশীদের জন্য সম্পুর্ণরুপে বন্ধ এবং অনেক কফিল তাদের নিজস্ব কিছু জটিলতার কারণে দুই নম্বর উপায় অবলম্বনের ব্যপারে কখনো সম্মত হয় না। তাছাড়া ট্রান্সফার না হয়ে অন্য কফিলের অধীনে কাজ করাও কিন্তু এখানে আইন সম্মত নয়। সেই ক্ষেত্রে কফিল তিন নম্বর পথ অর্থাৎ Final Exit এ তার বাংলাদেশী শ্রমিকদের দেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাভাবিকতঃই চুড়ান্ত ভাবে দেশে চলে যাওয়াটা খুব’ই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ অনেকে অনেক টাকা খরচ করে ভিসা কিনে সৌদিতে আসে, হয়তো তখনো তার খরচ তো দূরে থাক ঋন ও শোধ হয় নাই। এ অবস্থায় Final Exit এ দেশে যাওয়াটা অনেকে মেনে নিতে পারে না। সেই ক্ষেত্রে এ সকল শ্রমিকেরা চার নম্বর পথটি বেছে নেয়, অর্থাৎ কফিলের কাছ থেকে পালিয়ে যায়, চুড়ান্ত ভাবে অবৈধ হয়ে যায়। আবার যে সকল কফিল তার শ্রমিকদেরকে দ্বিতীয় পথটি গ্রহণ করার সুযোগ দেয়, তারাও এ সুযোগের অসৎ ব্যবহার করে অতি মাত্রায় অর্থ্ দাবী করে। বিশেষ করে প্রতি বছর আকামা বা work permit নবায়নের সময় তারা মাত্রাতিরিক্ত অর্থ দাবী করে বসে। তখন অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার মত সামর্থ্য যাদের থাকে না, তারা আকামা নবায়ন না করার কারণে অবৈধ হয়ে যায়। অনেকে আবার কফিলের দাবী অনুযায়ী মাত্রাতিরিক্ত অর্থ দেয়ার পরে ও মাসের পর মাস চলে যায়, কিন্তু ঐ অর্থ লোভী কফিল তার আকামা নবায়ন করে দেয় না। হয়তো বা সেই কফিল নিজের’ই লাইসেন্সগত কোন সমস্যা বা মামলা থাকার কারণে তার শ্রমিকদেরকে এমন সমস্যায় পড়তে হয়। তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ লোকগুলোকে অবৈধ হয়ে যেতে হয়। এসব ক্ষেত্রে কফিলরা সাধারনতঃ

নিজেদেরকে যে কোন অনাহুত ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখার জন্য পালিয়ে যাওয়া বা অবৈধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকের বিরুদ্ধে থানায় তার শ্রমিক পালিয়ে গেছে মর্মে জিডি করে দেয়। এর পর ঐ সকল শ্রমিক কে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যে পর্য্যন্ত সম্ভব একেক দিন বা মাস একেক জায়গায় সাময়িক ভাবে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে নিজে চলতে হয় এবং দেশে পরিবারের জন্যও অর্থের যোগান দিতে হয়ে। এরকম অবৈধ অবস্থায় প্রতি মুহূর্তে অনেকটা সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মত লোকদের কে তটস্থ থাকতে হয়, কখন জানি পুলিশের চেক আসে এবং ধরা পড়ে ২-৩ মাসের জন্য জেলে মানবেতর জীবন পার করে দেশে চলে যেতে হয়। এই যে কষ্টের জীবন কেবলমাত্র ভুক্তভোগি ছাড়া কারোর পক্ষেই অনুধাবন করা সম্ভব না। কিন্তু “নক্বল কাফালা” চালু থাকলে এ রকম অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখিন বাংলাদেশীদের হতে হতো না।

অন্যদিকে যারা বর্তমান কফিল এর অধীনে বৈধ ভাবে কাজ করছে, তাদের জন্য আগে সুযোগ ছিল, যদি অন্যত্র ভাল অফার পাওয়া যায়, তাহলে “নক্বল কাফালা”র মাধ্যমে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ার এবং অধিক বেতনের চাকুরী করার, উপার্জন বাড়ানোর, প্রকারান্তরে নিজের পরিবার এবং দেশের আয় বাড়ানোর। কিন্তু “নক্বল কাফালা” বন্ধ থাকার কারণে যে সে সুযোগ বন্ধ হয়েছে শুধু তা নয়, বরং আজকে অনেকে তাদের বর্তমান নিয়োগকর্তার কাছে এক ধরনের জিম্মি হয়ে গেছে এবং নানারূপ বৈরী আচরণের স্বীকার হচ্ছে।

সর্বশেষ, এখানে গত মাস থেকে চালু হওয়া একটা নতুন সিষ্টেম বাংলাদেশীদের জন্য এখন মড়ার উপর খড়ার মত হয়ে দেখা দিয়েছে। সৌদি সরকার তাদের বিশাল বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানকার ছোট বড় সব গুলো কোম্পানীকে চারটি ক্যাটাগরীতে ভাগ করে নিয়েছে। ক্যাটাগরীগুলো হচ্ছে – Blue, Green, Yellow and Red. যে সব কোম্পানীতে মোট কর্মচারীর ৮০% বা তার উপরে সৌদী নাগরিক রয়েছে, তারা Blue, যাদের ৩০% এর উপরে সৌদী নাগরিক রয়েছে তারা Green, যাদের ৩০% এর কম কিন্তু ১০% এর বেশী সৌদী নাগরিক রয়েছে তারা Yellow, এবং যে সব কোম্পানীতে ১০% এর কম সৌদী নাগরিক রয়েছে তার Red ক্যাটাগরীর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে। Blue and Green ক্যাটাগরীর কোম্পানীগুলোর বিদেশী কর্মচারীদের ব্যপারে তেমন কোন সমস্যা আপাততঃ নাই। কিন্তু এই দুই ক্যাটাগরীর কোম্পানীর সংখ্যা হাতে গোনা ১০% এর বেশি হবে না। আর Yellow ক্যাটাগরীর কোম্পানীগুলোতে যে সকল বিদেশী কর্মচারীর চাকুরীর মেয়াদ ইতিমধ্যে ৬ বছর পূর্ণ্ হয়েছে, তাদের আকামা নবায়ন করা হবে না। আর Red ক্যাটাগরীর কোম্পানীগুলোর বিদেশী কর্মচারীদের চাকুরীর মেয়াদ যাই হোক না কেন, তাদের আর আক্বামা নবায়ন করার কোন সুযোগ দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে Yellow and Red ক্যাটাগরী কোম্পানীগুলোর বিদেশী কর্মচারীদের জন্য একটা সুযোগ রয়েছে। তা হচ্ছে এদের কেউ যদি Blue and Green ক্যাটাগরীর কোন কোম্পানীতে চাকুরী নিশ্চিত করতে পারে, অর্থাৎ Job offer arrange করতে পারে তাহলে ঐ সকল বিদেশী নাগরিকরা যে কোন সময় তার বর্তমান Yellow or Red ক্যাটাগরীর কোম্পানী ত্যাগ করে উক্ত Blue and Green ক্যাটাগরীর কোম্পানীতে Permanently Transfer হয়ে যেতে পারবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের জন্য এ সুযোগ গ্রহণের কোন অবকাশ নেই, যেহেতু বাংলাদেশীদের নকল কাফালা বন্ধ।

মোটকথা বর্তমানে সৌদিআরবে “নক্বল কাফালা”গত এ সমস্যার কারণে একদিকে কর্মরত বাংলাদেশীরা যেমণ চরম অনিশ্চয়তা, উৎকন্ঠা আর ঝুঁকির মধ্যে দিনাতিপাত করছে, অন্যদিকে শতকরা ৪০ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রার এ গুরুত্বপূর্ণ উৎসটি দিন দিন সংকুচিত শুধু নয়, হাত ছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ বাংলাদেশীদের ট্রান্সফার বন্ধ হওয়ার সুবাদে অন্য দেশীরা; বিশেষ করে ভারতীয়রা অধিক হারে চাকুরীতে ঢোকার সুয়োগ পাচ্ছে। এই ভাবে দেখা যাবে এক সময় বাংলাদেশীরা সব জায়গাতে অবাঞ্চিত এবং সংখ্যায় নগন্য হয়ে পড়বে শ্রমবাজারের এ বিশাল ক্ষেত্রটিতে।
আর দুঃখজনক হলেও সত্য হচ্ছে – সৌদী আরবে বাংলাদেশীদের এ অস্তিত্ত্ব টিকে থাকা না থাকার বিষয় নিয়ে কারোর’ই কোন মাথা ব্যথা নেই। সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার বা দূতাবাস কারো কাছ থেকেই কোন প্রকারের কোন তৎপরতা তো নাই’ই, বরং কয়েকজন খুনিকে শাস্তি দেয়ার কারণে লজ্জিত বা অনুত না হয়ে বরং উল্টো এরুপ শাস্তি বিধানের জন্য সমালোচনার ঝড় তুলে চলেছে। যার প্রতিক্রিয়া জানাতে বাংলাদেশস্থ সৌদি দূতাবাসকে সাংবাদিক সম্মেলন পর্যন্ত করতে হয়েছে।

এবার আমি যে শাস্তি তথা শিরচ্ছেদ নিয়ে এত হৈচৈ তার ব্যপারে কিছু কথা পেশ করতে চাই। প্রত্যেক দেশেই অপরাধী মাত্রই প্রচলিত আইনে বিচারের রায় অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে, এটি একটি প্রথাসিদ্ধ ব্যপার। আমাদের দেশেও হত্যাকান্ডের জন্য মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান রয়েছে এবং যথারীতি মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর ও হচ্ছে। কই সেটা নিয়ে তো কোন উচ্চবাচ্য করে না কেউ। কেন করে না? কারণ এটা আইনসিদ্ধ পন্থায় যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয়। এর ব্যতিক্রম হলে প্রতিবাদ প্রতিরোধ আসতেই পারে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর সৌদিআরবেও এটা কোন নতুন ঘটনা নয়, নতুন আইনও নয় এটি, কিংবা শুধু যে বাংলাদেশী হওয়ার কারণে এ শাস্তি প্রয়োগ করা হয়েছে তাও নয়। বরং এক’ই দিন এক’ই স্থানে এক সৌদি নাগরিকেরও এক’ই কায়দায় মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করা হয়েছে। সৌদিআরবে রাষ্ট্রিয় ভাবে কোরআনের আইন অনুসরণ করা হয় এটা আমরা জেনে বুঝে সেই আইন সম্পূর্ণ রূপে মেনে চলার অঙ্গিকার করেই এখানে এসেছি। আর নির্দোষ কাউকে তো শাস্তি দেয়া হয় নাই। তারা যে খুন করেছে তার স্বাক্ষ্য প্রমাণ এবং স্বীকারোক্তি সব কিছু পাওয়ার পরে দীর্ঘ চার বছরাধিককাল ধরে বিচার কাজ চলার পরে আল্লাহর আইন অনুযায়ী’ই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। আল্লাহর আইনের ব্যপারে কেউ কেউ চরম ঐদ্ধৈত্যপূর্ণ্ মন্তব্য করেছেন, যাদের নাম দেখে মুসলিম’ই মনে হয়। কিন্তু এ নাম পরিচিতি যে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া, তা বুঝা যায় মুসলিম হয়েও আল্লাহ, তার রাসূল (সাঃ), কোরআন এবং সর্বোপরী ইসলাম এর ব্যাপারে তাদের চরম অজ্ঞতা আর ঔদ্ধৈত্য দেখেই। প্রকৃত অর্থে মুসলিম মানে তো হচ্ছে আত্মসমর্পণকারী, আল্লাহর আইন বা হুকুমের কাছে এবং কোন দ্বিধাহীন চিত্তে।

সাধারনতঃ একজন মানুষ যখন অন্য মানুষ কর্তৃক অত্যাচারের স্বীকার হয়, তখন এটা তার ন্যায্য দাবী বা হক হয়ে যায় যে তাকে যে ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে এবং এর কারণে সে যে রকম কষ্ট পেয়েছে, সেই অত্যাচারকারীও যেন ঠিক তেমনি শাস্তি পায়, যাতে সে তেমনি কষ্ট পায়। মানুষের প্রতি মানুষের এ দাবী বা অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তো দেশে দেশে এত আইন আদালত, কোর্ট্ কাচারী, জর্জ্ ব্যারিষ্টার। মানুষের তৈরী করা আইনে অসম্পুর্ণতা ও অসংগতি থাকাটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আল্লাহ্ পাকের প্রিয় এবং শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মানুষের জন্য কোন্ ধরনের আইনে সুবিচার নিশ্চিত হবে, কি শাস্তি প্রযোজ্য হবে, সর্বোপরী সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী দুষ্ট ক্ষতগুলোকে কি ধরনের শাস্তির মাধ্যমে নির্মুল করে সমাজে শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা যাবে তা স্বাভাবিকতঃই সৃষ্টিকর্তা হিসেবে একমাত্র আল্লাহ্ই যে সর্বাপেক্ষা নির্ভুল ও সন্দেহাতীত ভাবে বলতে পারবেন, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আল্লাহ্ পাক এ কথাটাই সূরা ত্বীন এর মধ্যে কি ‍সুন্দর ভাবেই না ব্যক্ত করেছেন – “আমি মানুষকে পয়দা করেছি সর্বোত্তম কাঠামোয়। তারপর তাকে উল্টো ফিরিয়ে নীচতমদেরও নীচে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। তাদেরকে ছাড়া, যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করতে থাকে। কেননা তাদের রয়েছে এমন পুরস্কার যা কোনদিন শেষ হবে না। কাজেই (হে নবী!) এরপর পুরস্কার ও শাস্তির ব্যাপারে কে তোমাকে মিথ্যাবাদী বলতে পারে? আল্লাহ কি সব বিচারকের চাইতে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?” মানুষ হত্যার মত জঘন্য অপরাধের ব্যপারে আলকোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে - “নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা ছাড়া অন্য কোন কারণে যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করলো সে যেন দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে হত্যা করলো। আর যে ব্যক্তি কারো জীবন রক্ষা করলো সে যেন দুনিয়ার সমস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করলো।" সূরা মায়েদা ৩২

আর যেহেতু মানুষের সাধারণ প্রবণতা তথা চাহিদাই হচ্ছে একজন অত্যাচারী বা অন্যায়কারীর শাস্তি তাই’ই হোক, যে কষ্ট তার অত্যাচার বা নিপীড়নের কারণে অন্য একজনকে ভোগ করতে হয়েছে, সেই হিসেবে ‘প্রাণের পরিবর্তে প্রাণ’ নেয়ার জন্য আল্লাহর যে নির্দেশ তা অবশ্যই যথার্থ। এর আর কোন বিকল্প হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে একজন অপরাধী বা খুনী ক্ষমা পেতে পারে কেবল সেই নিপীড়িত বা নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকেই। কোন বিচারক বা রাষ্ট্রপ্রধান কে এ ক্ষেত্রে ইসলাম কোন এখতিয়ার দেয়নি। কারণ এ দাবী বা অধিকার নিপীড়িত বা নিহত ব্যক্তির হওয়াই যুক্তিযুক্ত যা মানুষের হক্ব হিসেবে ইসলাম গণ্য করে। আর শেষ বিচারের দিনেও কোন মানুষের হক বা অধিকার স্বয়ং আল্লাহ ও ক্ষমা করবেননা যতক্ষণ না তার হক্বদার বা দাবীদার ক্ষমা না করবে। এ হিসেবে ‍উক্ত আট ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড ক্ষমা করার এখতিয়ার ছিল সম্পুর্ণরুপে সেই নিহত মিশরী ব্যক্তির পরিবারের’ই। দীর্ঘ চার বছরে এ ক্ষমা আদায় করার ব্যপারে আসামীদের পক্ষ থেকে সরকার বা স্থানীয় দূতাবাস প্রয়োজনে মিশরস্থ বাংলাদেশী দূতাবাসের মাধ্যমে ঐ পরিবারের কাছ থেকে ক্ষমা আদায়ের ব্যপারে আরো জোরালো তৎপরতা চালাতে পারতো। প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার যৌক্তিকতাও অনেক। এখানে এর একটা মাত্র প্রত্যক্ষ এবং তাৎক্ষণিক সুফল আমি উল্লেখ করতে চাই। বিগত কয়েক মাসে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনা গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশী পরিবার ও ব্যবসায়ীরা তো বটেই, অবাংলাদেশী পরিবার গুলো পর্যন্ত একটা আশংকা আর আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছিল। অনেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিল বাইরের গেইটে তালা লাগানো, ঘরের দরজায় অতিরিক্ত লক লাগানো, গেইটে সিসিটিভি ক্যামরা লাগানো ইত্যাদির মাধ্যমে। গত শুক্রবারের শিরচ্ছেদের মাধ্যমে ঐ ডাকাত দলের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর সবার মধ্যে একটা স্বস্তি এবং হাঁফ ছেড়ে বাঁচার একটা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কারণ আগামী কয়েক বছর এ শাস্তির ঘটনা যারা নিজ কানে শুনেছে বা মিডিয়াতে প্রচার হতে দেখেছে তাদের কেউ’ই একান্ত মস্তিষ্ক বিকৃতি না ঘটলে কিংবা নিতান্ত আত্মাহুতি দেয়ার সিদ্ধান্ত না নিলে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হওয়ার সাহস পাবেনা। এখানেই আল্লাহর আইনের ব্যাপকতা, কার্যকারীতা, কল্যাণ এবং স্বার্থকতা।

সুতরাং এসব ব্যপার নিয়ে অনভিপ্রেত কোন মন্তব্য বা বক্তব্য দেয়ার পূর্বে এর সুদূর প্রসারী প্রভাব মাথায় রাখা উচিৎ। সর্বোপরী এ রকম সমস্যার মূল উৎস যেখানে সে জাতীয় জীবনে আমাদের সঠিক শিক্ষা এবং তার চর্চার ব্যপারে আরো সিরিয়াস হতে হবে, বিশেষ করে জাতির কর্ণধারদের। তাহলেই কেবল এ ধরনের জীবন বিধ্বংসি ঘটনার পূনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব। সাথে সাথে জাতীয় স্বার্থে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের চলমান সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের ব্যপারে কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

লেখকঃ রিয়াদ, সৌদি আরব
http://www.sonarbangladesh.com/articles/EnamulHuda
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
রিয়াদ, সৌদি আরব থেকে লোকমান বিন নূর হাশেম লিখেছেন, ১৬ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৯:৫৭
প্রবাসে কতিপয় বাংলাদেশীর কৃত অপকর্ম আজ আমাদের সকল বাংলাদেশীর গায়ে অপরাধের কালিমা লেপন করে দিয়েছে। কতিপয় লোকের জন্য আজ আমাদের সকল বাংলাদেশীদের গাল মন্দ শুনতে হয় প্রবাসে। আমাদের ছোট করে দেখা হয় এবং সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই অপরাধীদের অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের আরো অনেক সচেষ্ট হতে হবে অথবা তাদের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে যাতে বাকিরা ঐ পথ থেকে ফিরে আসে।

ধন্যবাদ এনামুল হুদা ভাইকে একটি বাস্তব সম্মত সুন্দর লেখা উপহার দেয়ার জন্য। আশা করি ভাই আমাদের জন্য নিয়মিত ম্যাগাজিনে লিখবেন। আপনার লেখায় অনেক কিছু জানার ও শেখার আছে।
69808
Riyadh থেকে Yusuf লিখেছেন, ১৭ অক্টোবর ২০১১; রাত ১২:০০
Very nice & informative article. True picture depicts here. Some of Bangladeshis do regular corruption here and we the general Bangladeshis are suffering from the image problem. Local Embassy can play a big role by educating people the local law and eliminating some bad elements from the community here. Local community leaders from different groups can play a vital role to identify the culprits and handed to the Govt. to give exemplary punishment. Well done Mr.Enamul Huda for this very timely article.
69831
Riyadh থেকে Abdul Aziz Mir লিখেছেন, ১৭ অক্টোবর ২০১১; সকাল ১১:২৪
Thanks Mr.Enamul Huda for presented a nice article, which are based on facts and figure. Keep writing.....

From Sonarbangladesh, dated on 01.04.2010

২০০৭ সালে এক মিশরীয় লোককে পিটিয়ে হত্যা করেছিল ১০/১২ জন বাংলাদেশীরা, তার পিছনেও ছিল বৈদ্যুতিক তার চুরি সংক্রান্ত বিবাদ। সেই থেকেই আরব সংবাদ মাধ্যমে এর প্রচার হতে থাকে, বিশেষ করে সৌদী আরব ও মিশরের পত্র পত্রিকা ও টেলিভিশন মাধ্যম।

কিছু বাংলাদেশী অন্যায় করে তা সত্যি, কিন্তু প্রচার মাধ্যম সমস্ত বাংলাদেশীদের অন্যায় ভাবে অপরাধী বলে চিহ্নিত করতে থাকে। এমনকি ২০০৮ এর প্রথম দিকে বাংলাদেশ বিরোধী ওয়েব সাইট খুলে যা তিন/চার সপ্তাহে আশি হাজার আরববাসী বাংলাদেশী বিরোধী মন্তব্য বা অপকর্মের বর্ণনা ঐ ওয়েব সাইটে আসে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে সৌদী শ্রম মন্ত্রী ঐ দেশের মজলিশে সুরা বা সংসদের অনুমতিক্রমে বাংলাদেশীদের কিছু পেশার ভিসা বন্ধ করে দেন। আসলে তারপর থেকে অঘোষিত ভাবে আর কোনো ভিসাই হচ্ছেনা।

আমাদের জাতির দুর্ভাগ্য কিছু সংখ্যক লোকের পাপের প্রাশ্চিত্ত আমরা ২০/২৫ লক্ষ লোক আজ এদের দৃষ্টিতে অপরাধী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কোন সরকারি কর্মকর্তা সৌদী আরবে আসেনি। পত্র পত্রিকা, টেলিভিশন ও ওয়েব সাইটের এই ঢালাও সমালোচনা এক প্রকার বিনা প্রতিবাদে চলছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি হালকা প্রতিবাদ সৌদী গেজেটে এসেছিল।
আমি নিজের বিবেকের তাড়নায় উজ্জীবিত হয়ে সৌদী গেজেট তাং ৮-২-২০০৮ এবং আরব নিউজ তাং ৯-২-০৮ এবং মি. মেজবাউদ্দিন জওহের আরব নিউজ তাং ৪.৩.০৮ প্রথম প্রতিবাদ বা আত্মরক্ষা যাই বলুন লেখা পাঠাই এবং পত্রিকা আমাদের লেখা হুবহু প্রকাশ করেছে। আমাদের এই সামান্য চেষ্টার মাধ্যমে অন্তত এই দুটো পত্রিকার মিলিয়ন পাঠককে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পেরেছি। পর্যায়ক্রমে আমাদের পক্ষে কিছু লেখা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরব নিউজের সুলেখক মি. তারিক এ. আল মায়েনা এক উপসম্পাদকীয় লিখেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে অগাধ ধারণা না থাকলে এমন অপূর্ব প্রতিবেদন লেখা সম্ভব নয়, যা প্রকাশিত হয় ১২.৪.০৮ তাং।

These are the few lines from my article at SONARBANGLADESH, which was published on 01.04.2010.
I am going to write the real fact about the unfortunate beheaded 8 persons in Saudi Arabia very soon. Our some media & some intellectuals are given some short of negative information about this misfortune accident. We have to accept the reality, not to be emotional. Now some printing media became very friendly for expatriates, but actuality are some thing else, like when we some expatriates tried to write the problems of expats in some Bengali papers in Bangladesh to get the kind attention of our goverment, we always ignored or rejected. Please do not try to show too sympathy for us, which will be worst in other way around. We must respect the law of the host country.
69874
Riyadh থেকে Meer Hasan লিখেছেন, ১৭ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০১:৫৫
Enam Bhai,
Thank to so much for your write-ups on Bangladeshi’s agony in Riyadh specially displaying the info-based live situations. I amazed to see your writing capabilities and hope to have your future writings.
I wish you all the success.
69888
Riyadh থেকে Nazim Rahman লিখেছেন, ১৭ অক্টোবর ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:২৪
Dear Enam Bhai,
Thanks for writing a fantastic article where you have depicted details live situation facing, as well as created by Bangladeshi expats in Saudi Arabia. Like me, I beleive that this is what the voice of almost all Bangladeshis living in Kingdom. Keep it up….
69910
Jeddah থেকে Abdul Kader লিখেছেন, ১৮ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০২:০২
Comm:-3
Dear Mir bhai,
I am a regular reader of your articles. I became
a reader, because your brave writing at Saudi Gazette and Arab News about the expatriates Bangladeshi, which were really affective writing for those days, when we were almost
guardianless in a foreign country.
On behalf of Bangladeshi you play a wonderful,excellent and
charismatic role, which must be play by our embassy or government, but you did first that job, and we some follow you as a commentators or writers.
I salute Sonarbangladesh to give us a space to express our oppinion. Once again I salute Mir bhai as well to show us the road.
We are always waiting some things from you for the welfare of the Bangladeshi communities in this Holy land,Saudi Arabia. We always with you Inshallah, Allah will solve our suffering brothers..
I thak Mr. Enamul Huda bhai as well for his contribution for our communities.
69963
Riyadh থেকে Enam লিখেছেন, ১৮ অক্টোবর ২০১১; বিকেল ০৫:২৪
Thank you all for your nice and encouraging comments to my above said article. I think everybody should take part to make our nation aware about the real view of the Bangladeshi expatriates everywhere in the world, because our beloved citizens and leaders think, whoever got chance to go and live in abroad is very happy and living cheerful life over there. That's why they are also very cheerful always having the healthy funds of foreign currency, which are mainly formed by the restless contributions of the Bangladeshi expatriates with no doubt. But painfully they never think (or think very little) and take no steps to solve the hanging issues accordingly, which we have been suffering several years.
69974
হারা,রিয়াদ, সৌদি আরব থেকে মামুনুর রশীদ লিখেছেন, ১৮ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৮:২৩
এনাম ভাই আপনি লিখেছেন অনেক সুন্দর, এখন সেটা যদি আমাদের দেশের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাহলে আমরা লাভবান হব, তা নাহলে আমাদের দুঃখগুলো আজীবন আমাদেরকেই বয়ে বেড়াতে হবে। আপনার এই অসাধারন লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
69986
Paris, France থেকে Habib Uddin লিখেছেন, ২২ অক্টোবর ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:০১
Nice writing from Mr Enamul Huda who have clarified about the major problem most of Bangladeshi facing in Saudi Arabia. But is there any Administration available in our country who will take the Issue (Sponsorship Transfer) with Saudi Authority to alleviate the problem for two million Bangladeshi living in Saudi Arabia. Finally we hope that everyone will abide by the Saudi Arabian rules & regulations and try to build-up good image for our country. Bear in mind that we are each representing our country on foreign soil. thank you.
70300
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy