শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০১:৫৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
এক সপ্তাহের সহীহ সুরঞ্জিতনামা (১৪/০৪/২০১২)
বাপকা বেটাঃ সুরঞ্জিত গুপ্তের পর এবার সৌমেন গুপ্ত (১৩/০৪/২০১২)
আইএসআইর টাকা নিয়ে হৈচৈ ও মিডিয়ার লুকোচুরি খেলা (২৫/০৩/২০১২)
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের জোট মহাজোটের খবর (২-১০ মে) (১০/০৫/২০০৯)
কে কার এজেন্ট এবং একজন সুনিতা পালকে নিয়ে তিনটি রিপোর্ট (১৯-২৫ এপ্রিল) (২৫/০৪/২০০৯)
২৪ ঘন্টার আলোচিত সফর ও একটি ভাল খবর (১১-১৮ এপ্রিল) (১৯/০৪/২০০৯)
আগের লেখা
2966


এক সপ্তাহের সহীহ সুরঞ্জিতনামা

ফারিয়া জামান

৯ এপ্রিল রাতে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের কথিত এসপিএস বস্তাভর্তি টাকা সহ পিলখানায় বিডিয়ার হেড কোয়াটারে ধরা পড়েন। ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটায় পরের দিন ১০ এপ্রিল স্বাভাবিকভাবেই কোন দৈনিক পত্রিকা নিউজটি কাভার করতে পারেনি । ১০ এপ্রিল দুপুরে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী তার এপিএস ও রেলওয়ের জিএম (পূর্বাঞ্চল)-এর ‘আটক’ হওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন। সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, ``সোমবার গভীর রাতে টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় এপিএস ওমর ফারুককে গাড়িরচালক অপহরণ করেছিলো বলে শুনেছি। এসময় জীবন বাঁচাতে তিনি (এপিএস) বর্ডার গার্ড,বাংলাদেশ`র (বিজিবি) সদর দপ্তরের ভেতরে প্রবেশ করেন।``

মন্ত্রী আরও জানান, ওই সময় গাড়ির মধ্যে ছিলেন রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল) ইউসুফ আলী মৃধা ও এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার। তবে তারা এরই মধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন।``তারা এখন বাসায় আছে`` জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ``নিজের টাকা নিজের সঙ্গে রাখার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। কারণ তার টাকা তিনি কোথায় রাখবেন, নিজের সঙ্গে রাখবেন নাকি বাসায় রাখবেন তা তার ব্যাপার। তবে কোনো অন্যায় আছে কি না তা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।`` ঘটনাটি ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরার জন্য আমাদের আজকের আয়োজন।

১.

পরের দিন ১১ এপ্রিল অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে প্রথম আলো ও মানবজমিনের রিপোর্টি ছিল বেশ তথ্যবহুল ও গোছালো। রেলমন্ত্রীর এপিএসের গাড়ি হঠাৎ পিলখানায় শিরোনামে প্রথম আলোর লীড নিউজে বেশ রহস্য করেই লিখেছে, “একটি গাড়ি। তিনজন যাত্রী। একজন চালক। কয়েক লাখ টাকা। রাত প্রায় ১১টা। ধানমন্ডি ৩ নম্বর সড়ক থেকে ছুটে চলা। গন্তব্য কাছেই, জিগাতলা। পথে বিজিবির সদর দপ্তর, পিলখানা। হঠাৎ চালকের সেখানে ঢুকে পড়া। রাতভর ‘আটকে থাকা’। দিনভর আলোচনা, গল্প-ডালপালা। অতঃপর দুটি তদন্ত কমিটির ঘোষণা।

গাড়ির তিন যাত্রী হলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধা, তাঁর নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হক ও রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদার। মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ ১৩-৭৯৯২) চালাচ্ছিলেন এপিএস ফারুকের ব্যক্তিগত চালক আজম খান। গন্তব্য—রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাসা। বাকি সব ঠিক আছে, গোল বাধিয়েছে টাকা। ঘটনা সম্পর্কে রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজম দুই বছর ধরে আমার গাড়ি চালায়। কিন্তু সোমবার রাতে সে আমাকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চেষ্টা করে। মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় যাওয়ার পথে হঠাৎ করে গাড়িটি সে বিজিবি সদর দপ্তরে ঢুকিয়ে দেয় এবং চেঁচামেচি করে বলতে থাকে, গাড়িতে অনেক টাকা আছে। তাঁর হইচই শুনে বিজিবির সদস্য ও সেনাসদস্যরা সেখানে আসেন। তাঁরা আমাদের বিজিবির নিরাপত্তাকক্ষে নিয়ে বসিয়ে রাখেন। গতকাল সকালে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আমাদের ছেড়ে দেন।’

রেলের পূর্বাঞ্চলের জিএম ইউসুফ আলী মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন একটি ট্রেন চালু হবে। সেটি শায়েস্তাগঞ্জে থামবে কি থামবে না, সে বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় যাচ্ছিলাম। এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি মন্ত্রীর বাসায় গিয়েছি। সোমবার রাতে আমি ফারুক ভাইকে (মন্ত্রীর এপিএস) ফোন দিয়ে বলি, মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় যাব। ফারুক ভাই আমাকে ধানমন্ডিতে যেতে বলেন। সেখানে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় যাই এবং ফারুক ভাইয়ের সঙ্গে গাড়িতে উঠি। মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় যাওয়ার পথে গাড়িচালক হঠাৎ করে পিলখানায় ঢুকে পড়ে। সে আমাদের সবার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’
অপর যাত্রী এনামুল হক রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট ও ইউসুফ আলী মৃধার নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘জিএম স্যার আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁর আদেশেই আমি কমলাপুর থেকে তাঁর সঙ্গে যাই। ধানমন্ডি থেকে গাড়ি নিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের বাসার দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই আজম গাড়িটি পিলখানায় ঢুকিয়ে দেয়। আমরা তখন তাকে বলি, “তুমি কই যাচ্ছ?” সে বলে, “আপনারা সবাই গাড়ি থেকে নেমে যান। নইলে আমি সিনক্রিয়েট করব।” এর পরই সে হইচই শুরু করে দিলে বিজিবির সদস্যরা এগিয়ে আসে। এরপর সারা রাত আমাদের একটি কক্ষে বসিয়ে রাখে বিজিবির সদস্যরা। তবে তারা সবাই ভালো ব্যবহার করেছে।”’
জানতে চাইলে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতের বেলা তিনজন লোক একটি গাড়িয়ে নিয়ে পিলখানায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় পিলখানার ভেতরে বসিয়ে রাখা হয়। সকালে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে প্রশ্ন করেছিলেন, শোনা যাচ্ছে, গাড়িতে নাকি ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এটা কি সরকারি টাকা? জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না।’ আপনার এপিএস ওমর ফারুকের কাছে এত টাকা কোথা থেকে এল জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাঁর ব্যক্তিগত টাকা। ফারুককে “ব্ল্যাকমেইল ও হাইজ্যাক” করার জন্য গাড়িচালক বিজিবির সদর দপ্তরে ঢুকে পড়ে। গাড়িতে ওই সময় রেলওয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব) ইউসুফ আলী মৃধাও ছিলেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় আইনে নিজের টাকা নিয়ে চলার অধিকার সবারই আছে। যদি তাদের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ অর্থ পাওয়া যায়, এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) তা খতিয়ে দেখবে। এটা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়।’

প্রথম আলোর এই লেখা পাঠক মহলে বেশ সাড়া ফেলে। অনলাইনে প্রায় বার শতাধিক পাঠক মন্তব্য দেখা যায়। এনিয়ে ১২ এপ্রিল “পাঠকরা কালো বিড়ালের পদত্যাগ চায়” শিরোনামে পাঠকদের নির্বাচিত কিছু কমেন্ট ছেপেও দেয়। একই দিন আমার দেশ ও ডেইলী ষ্টার সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সন ও বিভিন্ন সামাজিক সাইট তথা ব্লগ গুলো থেকে পাঠক মন্তব্য দিয়ে আলাদা রিপোর্ট করে। ‘কালো বিড়ালের’ পদত্যাগ দাবি দিয়ে প্রথম আলো পাঠকদের মন্তব্যের মধ্যে কয়েকটি ছিল এরকম,
এ কে এম বদরুদোজ্জা লিখেছেন, ‘বিড়ালের লেজ কাটা গেছে। বিড়ালের যদি লজ্জাশরম থাকে, তবে সে আর শুঁটকি খাবে না।’
এন ইসলাম নামের এক পাঠক লিখেছেন, ‘এই হলো কালো বিড়াল। সব জলের মতো পরিষ্কার।’ রুবেল আহমেদ মন্তব্য করেছেন, ‘শুঁটকির হাটে বিড়াল চৌকিদার হলে যা হয় আর কি।’ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘রেলের কালো বিড়াল ধরতে গিয়ে থলের বিড়াল বের হয়ে গেছে!’ যুগান্তরও ১৩ এপ্রিল পাঠক প্রতিক্রিয়া নিয়ে রিপোর্ট করে।
১২ এপ্রিল মানবজমিন সুরঞ্জিত কেলেংকারী নিয়ে পাচটি রিপোর্ট ছাপে। কোটি টাকা ভাগ হয় এপিএস-এর বাসায় শিরোনামে মানবজমিন লিখে,

“আটক টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের। টাকার অঙ্ক ছিল কোটি ছাড়িয়ে। ওই টাকার ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিবের বাসায়। সেই ভাগের এক অংশের মূল্যমান ৭০ লাখ টাকার গন্তব্য ছিল রেলমন্ত্রীর বাসভবন। মধ্যরাতে একান্ত সচিবের গাড়িচালকের গোঁয়ার্তুমির কারণে নিয়োগ-বাণিজ্য ও ভাগ-বাটোয়ারার পুরো বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ৬৫ ক্যাটিগরিতে ৭১৪০ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ১৩৩৮ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অগ্রগতি হচ্ছে। আর এ নিয়োগের পুরো বিষয়টির মূল তদারকের দায়িত্ব পালন করছেন রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের দুই জেনারেল ম্যানেজার। এদের একজন ইউসুফ আলী মৃধা। নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির খবর ওপেন সিক্রেট। সূত্র জানায়, ইউসুফ আলী মৃধার নিয়োগ সিন্ডিকেটের শক্তিশালী সদস্য হিসেবে খুব কম সময়ের ব্যবধানে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একান্ত সচিব ওমর ফারুক তালুকদার ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (ঢাকা বিভাগ) কমান্ড্যান্ট এনামুল হক। তারা দু’জনেই অধঃস্তন নিয়োগ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার লোকজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সর্বশেষ ধাপের নিয়োগ-বাণিজ্যের প্রায় দুই কোটি টাকা তারা তিনজনে ভাগ-বাটোয়ারা করেন। এ জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নেন একান্ত সচিব ওমর ফারুক তালুকদারের ধানমন্ডি-৩ নম্বরের বাড়ি।

এ ভাগে অংশ নিতে চট্টগ্রাম থেকে ঘটনার আগেই ঢাকায় এসেছিলেন ইউসুফ আলী মৃধা। ঢাকায় এসে তিনি তার ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নেন রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর কমান্ড্যান্ট এনামুল হককে। সরাসরি যান একান্ত সচিব ওমর ফারুকের ধানমন্ডির বাসায়। সেখানে প্রত্যেকে ৩০ লাখ টাকা করে বুঝে নেন। পরে ৭০ লাখ টাকার আলাদা একটি ভাগ ব্যাগে ভরে ওমর ফারুক তার গাড়িতে তোলেন। নিজের গাড়ি ছেড়ে ইউসুফ আলী মৃধা ও এনামুল হক ওঠেন ওমর ফারুকের গাড়িতে। এরপর রওনা দেন মন্ত্রীর বাসার উদ্দেশ্যে। পুরো বিষয়টি চালক আলী আজমের নজরাধীনেই হয়েছে। তিনিও টাকার একাংশ দাবি করেছিলেন। তার দাবি মেটানো হয়নি। পরে এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায়। কমান্ড্যান্ট এনামুল হক সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ওই রাতে আমরা তিনজনই মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলাম। পথে চালক হঠাৎ করেই বিজিবি সদর দপ্তরের ভেতর ঢুকে পড়ে। তবে সে সময় গেটে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি’র সদস্যরা বাধা দেননি। একরকম বিনা বাধায় বেশ খানিক দূরে যাওয়ার পর চালক গাড়ি থামিয়ে দেয়। কোন বিষয় নিয়ে ওমর ফারুকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাখানেক আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলে। এরই মধ্যে বিজিবি’র সদস্যরা আমাদের দর্শনার্থীর কক্ষে বসিয়ে রাখে। তিনি দাবি করেন, সে সময় আমাদের কাছে কোন টাকা ছিল না। ওমর ফারুকের কাছে ছিল কিনা তা-ও জানি না। তবে আমরা তিনজনই মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলাম।

নিয়োগ বানিজ্য কেমন হচ্ছে তার একটা চিত্র পাওয়া যায় ১২ এপ্রিল প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে। “আড়াই থেকে আট লাখ টাকায় রফা!” শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে,
‘এই যে কাজ না, এর জন্য আমাকে টেন পার্সেন্ট দিতে হয়।... এর কমে না, আরে ধুর মিয়া, এগুলা কী সব বাইর করেন!’
প্রত্যাশার চেয়ে কম পরিমাণের ঘুষ দিতে গেলে বাবুল আকতার নামের রেলওয়ের প্রথম শ্রেণীর এক ঠিকাদারকে এভাবে ধমক দিয়েছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা।
মুঠোফোনে ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়, ইউসুফ আলী মৃধা ১০ শতাংশের কমে কাজ করেন না শুনে বাবুল আকতার বলেন, ‘স্যার, এইখানে পঞ্চাশ হাজার আছে।’ ইউসুফ আলী বলেন, ‘পঞ্চাশ হাজারে হবে না।’ এবার বাবুল আকতার বলেন, ‘স্যার, স্যার, স্যার, পায়ে ধরছি, স্যার। একবারে পায়ে ধরছি।’ ইউসুফ আলীকে বলতে শোনা যায়, ‘শোনেন, আমার সঙ্গে এইসব ভণিতা করে কথা বলতে হবে না।’ বাবুল আকতার আবারও ‘স্যার, স্যার’ করে উঠলে ইউসুফ আলী ধমকে ওঠেন, ‘আরে, ধুর মিয়া! পঞ্চাশ হাজার টাকায় কাজ হবে না। আরে কী সব বাইর করেন, যান তো মিয়া!’ আবদুল কাদির নামের এক ব্যক্তি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে জুনিয়র নিরীক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষা দিয়ে তিনি উত্তীর্ণ হন। এরপর রেলের কর্মকর্তারা তাঁকে বলেন, ‘ছয় লাখ টাকা দিলেই নিয়োগপত্র হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে। নইলে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই।’ কাদির জানান, টাকা না দেওয়ায় তাঁর চাকরি আর হয়নি। ১২ এপ্রিল মানবমিনের খবরে আরো দেখা যায়, সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনে সুরঞ্জিত বাধা দেয়।
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির বাইরে আর কোন তদন্ত কমিটির প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের একজন বিচারকের অধীনে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাবকেও নাকচ করে দেন মন্ত্রী। একই দিন প্রথম আলো লিখে, অভিযোগের তির সুরঞ্জিতের দিকে। ৩০ লাখ কিংবা ৭০ লাখ—টাকার অঙ্ক যা-ই হোক, টাকার থলে নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তারা মধ্যরাতে যে মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলেন, তা তো সবাই স্বীকার করেছেন। ১৩ এপ্রিল প্রথম আলো “তিনজনই বলেন গাড়িটি মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিল” শিরোনামের রিপোর্টে লিখেছে,
“রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাসা জিগাতলায়। আর এপিএস ওমর ফারুকের বাসা মোহাম্মদপুরের পিসি কালচার আবাসিক এলাকায়।
তবে টাকাসহ ধরা পড়ার পরদিন এপিএস ওমর ফারুক, মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা, রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হক তিনজনেই প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলেন। গাড়িচালক আজম খানও একই কথা জানিয়েছিলেন। ।“

২.

অবস্থা বেগতিক দেখে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন রেলমন্ত্রী ১২ এপ্রিল। ১৩ এপ্রিল প্রায় সব পত্রিকাই সুরঞ্জিতের প্রেস কনফারেন্সকে প্রথম বা দ্বিতিয় লীড লিউজ হিসেবে স্থান দেয়। সমকাল শিরোনাম করেছে 'ষড়যন্ত্রে'র গন্ধ পাচ্ছেন সুরঞ্জিত, অপরদিকে প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল “বিপদে আছি, এটা গণতন্ত্রের বিপদ”। মানবজমিনের শিরোনাম ছিল “রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারি, মন্ত্রী বললেন সবই ষড়যন্ত্র”

। সমকাল ও প্রথম আলো সংবাদের একপর্যায়ে সুরঞ্জিতের মাথায় হাত দেয়া বিমর্ষ ছবিও ছেপে দেয়। মানবজমিন সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরে। সেগুলোর কয়েকটি ছিল এরকম,

প্রশ্ন: ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে কি? ৭০ লাখ টাকার অবস্থান এখন কোথায়? কার কাছে আছে?
উত্তর: ৭০ লাখ টাকার অবস্থান কোথায় এটা আপনার মতো আমারও প্রশ্ন। আপনারা বুঝতেই পারছেন, টাকাটা নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় বিজিবি’র কাছে ছিল। টাকাটা অঘোষিত হলে আইন অনুযায়ী জব্দ করা হবে। কেউ দাবি করলে তিনি নিয়ে যাবেন। এটা বিজিবি’র কাছ থেকে নিয়ে যাবেন। তবে কাগজে করেছি- ফারুক নাকি বলেছেন ওটা তার টাকা। কিভাবে এ টাকা ফারুক পেলেন এ জবাব তো তিনিই দেবেন। ঘটনা শোনার পর দিন বেলা ১১টায় আমি ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমি বলেছি, রাতে তারা যাচ্ছিল। এরপর কি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো শুনেছি আপনার লোকজন নাকি পিলখানা দখল করে নিয়েছে। এরপর তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তাই কথা হয়নি।
প্রশ্ন: বিজিবি’র কাছে চারজন আটক হয়েছে, পত্রিকায় জানা গেছে তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনজন বাদে ড্রাইভার এখন কোথায় আছে?
উত্তর: এ প্রশ্নটি বিজিবিকে করতে হবে। আমার মন্ত্রণালয় তো তাকে আটকায়নি। তাই বিজিবিই জানবে ওই ড্রাইভার এখন কোথায় আছে।
প্রশ্ন: সরকারদলীয় সদস্যরাও আপনি পদত্যাগ করলে তারা সম্মানের চোখে দেখবেন বলে জানাচ্ছেন। তাহলে তারাও কি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য?
উত্তর: আপনি বুঝতে ভুল করেছেন। এমপিদের সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্রকে মেলালে হবে না।
প্রশ্ন: কোন কোন পত্রিকা বলছে চার কোটি ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। দুই জন সরকারি কর্মকর্তার কাছে এত টাকা থাকা কি স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক?
উত্তর : পত্রিকায় জেনেছি কেউ বলেন ৭০, কেউ বলেন ৭৪। তবে চার কোটি ৭৪ লাখ টাকা চার জনে বয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। যা-ই হোক টাকা কত ছিল, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিজিবি জানতে পারবে। কারণ সরকারি এজেন্সি হিসেবে নিশ্চয়ই তারা টাকা গুনেছে এবং গুনে ফেরত দিয়েছে।
প্রশ্ন: আমাদের কাছে ভিডিও রেকর্ড রয়েছে মৃধা কার কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তিন জনের বক্তব্য অনুযায়ী টাকা নিয়ে তারা আপনার বাসার দিকে যাচ্ছিলেন- এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
উত্তর: আপনার কাছে ভিডিও রেকর্ড থাকলে তদন্ত কমিটির কাছে দিয়ে দিন। এটা তারা নিতে পারে।
প্রশ্ন: কথা উঠেছে এপিএস ও জিএমকে আপনি ছাড়িয়ে এনেছেন?
উত্তর : প্রশ্নই আসে না। এ সম্পর্কে আমি প্রথমেই বলেছি।
প্রশ্ন: রাজনৈতিক জীবনে আপনি অন্যের দিকে যথেষ্ট তীর বিদ্ধ করেছেন? এখন সব তীর আপনার দিকে? এখন আপনার মনের অবস্থা কি?
উত্তর: ‘চির সুখী জন, ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন, বুঝিতে কি পারে, কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে’। আমি যে কথা বলেছি সব বিশ্বাস থেকেই বলেছি। আমি আগেও যেভাবে তীর বিদ্ধ করেছি, অবশিষ্ট জীবন সেভাবেই চলবে। যে তীর আসছে সবার সহযোগিতায় উত্তরণ করতে পারবো।
মন্ত্রীর দাবী যে ভুয়া তার প্রমান ১৩ এপ্রিল মানবজমিনের রিপোর্ট।
“স্যার আর দশ মিনিট লাগবে” শীর্ষক রিপোর্টে এই ট্যাবলয়েড দৈনিক লিখে,
“এপিএস ওমর ফারুক ও জিএম ইউসুফ মৃধার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রেলপথ মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। রাত ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে এ দু’জনকে ১০ বার ফোন করেছেন তিনি। এপিএস ও জিএমকে বহনকারী গাড়িটিতে থাকা রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হক বলেন, ‘পথে মন্ত্রী মহোদয় তাদের দু’জনকে একাধিকবার ফোন করেন। একবার এপিএস ফারুক সাহেব মন্ত্রী মহোদয়কে বলেন, স্যার, আর ১০ মিনিট লাগবে।’ এছাড়া, গভীর রাত পর্যন্ত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সরকারের উচ্চমহলে ফোনে কথাবার্তা বলেছেন। মন্ত্রীর ফোন কল পরীক্ষা করে এ তথ্য জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে তিনি কি কথাবার্তা বলেছেন তা জানা যায়নি। “

৩.

সুরঞ্জিতের এই দুরাবস্থায় তার দলের অন্য নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। সরকার দলীয় আলোচিত এমপি গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করুন ।বেসরকারি একুশে টেলিভিশনের টক শো 'একুশের রাত' অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমপি রনি বলেন,
“এটা আমাদের সবার জন্য লজ্জার কথা। সরকারের জন্য বিব্রতকর। যারা রাজনীতিতে এখনও আদর্শ খুঁজে বেড়ান, রাজনীতিকে অনুসরণ করেন, তাদের জন্য অশনিসংকেত। রনি বলেন, বিখ্যাত নাটক ইডিপাসের ট্র্যাজেডি এখন পর্যন্ত কেউ তৈরি করতে পারেননি। এ নাটকের বিষয়বস্তু হলো, মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় নিজের জীবনের সত্য। এ সত্য কখনও কখনও এমন হয় যে, নিজের বোল উল্টে দেখতে হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউনস্কির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ক্লিনটন প্রথমে তা অস্বীকার করলেন। পরে তিনি প্রথম ফোন করলেন অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের কাছে। জানতে চাইলেন তার কী করা উচিত। স্টিভ জবস ক্লিনটনকে বললেন, আপনি সত্য কথা বলুন। রনি মনে করেন, এ ঘটনা সম্পর্কে সুরঞ্জিত সেনের সত্য কথা বলা উচিত। সত্যের চেয়ে বড় মহৎ আর কিছু নেই। রনির এই প্রতিক্রিয়াটি প্রকাশ করে সমকাল ১৩ এপ্রিল।

১২ এপ্রিল অনলাইন মিডিয়া রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের প্রতিক্রয়া ছেপেছে। তিনি দাবী করেছেন, রেলমন্ত্রীর সহাকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) গাড়িতে টাকা পাওয়ার ঘটনা তদন্তের আগে গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকা দুঃখজনক । গণমাধ্যমের এমন ভূমিকা আওয়ামী লীগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রেলমন্ত্রীর এপিএসের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা সঠিক ঘটনা জানতে চাই। দরকার হলে দলের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে।’

রেলভবন হাওয়াভবন হবে তা হতে পারে না, এমন মন্তব্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের। তিনি বলেছেন, দুই-একজনের জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে না। রেলমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, আপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যই তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিন। আপনার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন যদি কলুষিত করতে না চান- তাহলে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করুন। নামিসের এই প্রতিক্রিয়া পরের দিন ১৩ এপ্রিল প্রায় সব পত্রিকায় স্থান পায়।
ফুরফুরে মেজাজে আবুল হোসেন! এমন শিরোনাম দিয়ে ১৩ এপ্রিল আমার দেশ। বেশ ফুরফুরা মেজাজে আছেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন। ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির দায়ে এই মন্ত্রণালয় থেকে অপসারিত আবুল হোসেন যেন সঙ্গী খুঁজে পেলেন!’ সাধারণ মানুষের মুখেও গতকাল এমন কথা শোনা গেছে। আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ আনতেই সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন সুরঞ্জিত সেন। আর এর পরই তিনি দায়িত্ব পান রেলমন্ত্রীর। তখনও রাজনীতিসচেতন জনগণের মুখে আলোচনা ছিল, রসালো ও তিক্ত সমালোচনার ফলই কী রেলমন্ত্রী!

৪.

পদত্যাগের বিষয় নাকচ করলেন সুরঞ্জিত। আগের দিন বিবিসিতে দেয়া সাক্ষাতকার রেফার করে পরের দিন ১৩ এপ্রিল প্রায় সব পত্রিকাই সুরঞ্জিতের খবরটি ছাপে। নয়া দিগন্তের শিরোনাম ছিল, বিবিসিকে সুরঞ্জিত আমার পদত্যাগের প্রশ্ন আসে কেন? সমকালের শিরোনাম , 'পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না' । তিনি বলেছেন, দুর্নীতি তো আমার বিরুদ্ধে নয়। দুর্নীতির অভিযোগ হচ্ছে আমার এপিএস ও রেলওয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার জন্য আমার পদত্যাগ করার প্রশ্নই ওঠে না। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরও বলেন, এটি এক ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খেলা। আমাদের দেশের গণতন্ত্রে আমরা যেমন আজীবন একটা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক যুদ্ধ করে আসছি, তাতে তো আমাদের যেমন মিত্র পক্ষ আছে, তেমনি আমাদের শত্রু পক্ষও আছে।

অপরদিকে একই দিন আমাদের সময় সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে রিপোর্টি করেছেন, সুরঞ্জিতের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ধস, নানা প্রশ্নের ঘুরপাক : বস্তাভর্তি টাকা এখন কার হাতে?। রিপোর্টে বলা হয়, সরকারের শেষ বেলার মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এখন কী করবেন এই প্রশ্ন সর্বমহলে। সভা সমাবেশে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার বক্তব্য শুনত শ্রোতারা। সংসদে বিরোধী দলকে কাবু করতে তার জাদুকরি মারপ্যাঁচ, যুক্তি উপস্থাপন অতুলনীয়। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী ভাটিবাংলার জনপ্রিয় ‘দাদা’ জীবনের শেষ বেলায় মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন। মন্ত্রিত্ব গ্রহণের ৪ মাস পাড়ি দেওয়ার আগেই বিশাল অঙ্কের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লেন খ্যাতিমান এই পার্লামেন্টারিয়ান।

বস্তাভর্তি টাকার পাশাপাশি দেড় শ’ বিঘা ওয়াক্ফ সম্পত্তি দখল করেছেন সুরঞ্জিত সেন এমন দাবী করেছে তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ৫৫ বছর রাজনীতিকে ব্যবসায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন একই সাথে সুরঞ্জিত নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা উপজেলায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে প্রায় দেড় শ’ বিঘা ওয়াক্ফ ও শত্রু সম্পত্তি দখল করারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সুরঞ্জিত সেনকে পরাজিত করে একবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
শুধু রাজনীতি করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক কিভাবে হলেন তা তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি রেল মন্ত্রণালয় থেকে সরঞ্জিতকে প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সুরঞ্জিতের বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত চাকরির সুবাদে দিরাইয়ে বসতি গড়েন। যে সুরঞ্জিত ছোটবেলায় লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন অন্যের কাছ থেকে ধার-দেনা করে সেই ব্যক্তি শুধু রাজনীতি করে কিভাবে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হলেন তা জানার অধিকার দেশের জনগণের আছে। লিখিত বক্তব্যে নাছির উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা থাকাকালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনী এলাকার ওয়াক্ফ এস্টেট ও অর্পিত সম্পত্তি দখল করে নেন। তিনি মোস্তফা চৌধুরী মোগল মিয়া এস্টেটের ৬০ ও ৩৩৮ নম্বর দাগের ৩১ দশমিক ২১ একর জমি দখল করে নিয়ে দিরাই-শাল্লা সমন্বিত মৎস্য ও কৃষি খামার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি খামার করেন। কয়েক কোটি টাকার এ জমি দখল করে তিনি এস্টেটটিকে মাত্র দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। সুরঞ্জিত ১৯৯৮ সালে একই স্টেটের আরো ১৫ দশমিক ৬০ একর জমি মাত্র এক লাখ টাকায় সাফকবলা করে দখল করে নিয়েছেন। এভাবে দুই দফায় মোট ৪৭ একর জমি বিভিন্নভাবে কাগজপত্র করে তিনি নিজের দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নাছির চৌধুরী। নাসির উদ্দিনের এই খবরটি নয়া দিগন্ত ছাড়া অন্য পত্রিকা হাইলাইটস করেনি।

৫.

প্রবীণ এই আওয়ামী নেতার কেলেকাংরীতে মুল দল আওয়ামী লীগ কি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, এটা সবার কৌতুহল। ১৩ এপ্রিল সমকাল লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলে ভাগ্য নির্ধারণ। একই দিন কালের কন্ঠ
"প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ" শিরোনামে লিখে, এদিকে মন্ত্রিসভার একজন দায়িত্বশীল সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের টাকার বস্তাসহ আটক হওয়ার ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি এ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার তুরস্কে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘটনাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এমনকি রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করুক- এমন কথাও উচ্চারণ করেন তিনি।

“সুরঞ্জিতের পদত্যাগ না বরখাস্ত” এটি বাংলাদেশ প্রতিদিনের ১৩ এপ্রিলের শিরোনাম। পত্রিকাটি লিখেছে, রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করবেন, নাকি বরখাস্ত হবেন_ এ নিয়ে সরকারি দলে তৃণমূল আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। বস্তাভর্তি টাকার গাড়ির গন্তব্যস্থল যে রেলমন্ত্রীর বাসভবন ছিল, তা সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দিতে স্পষ্ট হতেই তার পদত্যাগ বা বরখাস্তের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন, সুশীল সমাজসহ সর্বত্র যেমন ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তেমনি সরকারের ভিতকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। নানা সমস্যায় জর্জরিত সরকারের এই নাজুক পরিস্থিতিতে রেলমন্ত্রীর ঘটনাটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থ কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় তুরস্কে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিয়মিত ঢাকায় এ ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছেন। দেশে ফেরার পরই এ বিষয়ে তিনি কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।

“কী করবেন সুরঞ্জিত” পরের দিন ১৪ এপ্রিল সমকাল একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সমকাল প্রতিবেদক লিখে, “কী ভাবছেন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি কি পদত্যাগ করবেন, নাকি আত্মপক্ষ সমর্থন করে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়াবেন? তবে শলাপরামর্শ করার জন্য তিনি ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। ধানমণ্ডির অফিসে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আকস্মিক বৈঠকের ঘটনায় তারাও কিছুটা অবাক হয়েছেন। প্রায় আধাঘণ্টার এ বৈঠকের আগে বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা বাছাই নিয়ে ছোট পরিসরে কাজী জাফরউল্যাহর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। সুরঞ্জিত আসার পর ওই বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। এপিএসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তাকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব জানার চেষ্টা করছেন।“

“সুরঞ্জিত কেলেঙ্কারিতে সরকারে ঝড়” এটি নয়া দিগন্তের ১৪ এপ্রিলের শিরোনাম। নয়া দিগন্ত লিখেছে,“সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নিয়োগবাণিজ্যের ঘুষ কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ঝড় বয়ে যাচ্ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগে। জনপ্রিয়তার পড়ন্তবেলায় এই কেলেঙ্কারি সরকারি দলকে নানামুখী বৈরিতার সম্মুখীন করছে বলে মনে করছেন অনেক প্রভাবশালী নেতা। কেউ কেউ মুখও খুলেছেন এ ব্যাপারে। আর রাতারাতি নায়ক থেকে ভিলেনে পরিণত হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন যেন এখন আওয়ামী লীগের আপাদমস্তক বোঝা। ‘তাকে যত তাড়াতাড়ি বিদায় দেয়া যায় ততই মঙ্গল। যত তাকে আঁকড়ে ধরা হবে কিংবা ইনিয়ে-বিনিয়ে তার পক্ষ নেয়া হবে সরকার ততই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনিতেই যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন শুধু কৈফিয়তের পথ খোলা রাখা।’ বস্তাভর্তি ঘুষের টাকা কেলেঙ্কারির পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন আপাতত এমনটাই। তাদের মন্তব্য হচ্ছে, ‘এই লোকটি দল ও সরকারের চরম ক্ষতি করল। নিজেও ডুবল দলকেও ডুবাল। কয়েক দিন ধরে সহকর্মীদের কাছে এমন শত শত মন্তব্য করছেন দলের তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতা পর্যন্ত। আলাপচারিতায় নিজেরা এমন মন্তব্য করলেও মিডিয়ার কাছে এ ব্যাপারে কোনো নেতা মুখ খুলতে রাজি নন”।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তুরস্ক থেকে দেশে ফিরেছেন। দেখা যাক পত্রিকা গুলো ভাষ্যমতে সুরঞ্জিতের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেন।

লেখকঃ সংবাদ ও উন্নয়ন কর্মী, ইমেইল, faria78uk@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/FariaJaman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকা থেকে নাজনীন ইলিয়াস লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ১২:৫৮
'মিঁয়াও'

বিড়াল ছিলো থলের ভিতর
এক্কেবারে চুপ
মনের ভিতর জ্বলছিলো তার
যেমন জ্বলে ধূপ।

গায়ের মাঝে রঙ ছিলো তার
কুচকুচে ওই কালো
থলের উপর হাত বুলিয়ে
বললো, তারা ভালো।

সেই যে বিড়াল হঠাৎ করে
মিঁয়াও দিলো ডাক
ডাক শুনেতো পাশের সবাই
হলেন হতবাক!

মিঁয়াও ডাকে কাঁপছে এখন
এক যে নেতার ভিত
আবোল তাবোল বলছে কথা
তিনি সুরঞ্জিত! ( চমৎকার এই কবিতাটি আমাকে পাঠিয়েছেন Nayan Khan)
82898
চট্টগ্রাম থেকে শাজিদ বলছি --- ভাগিনা লা-জবাব লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ০২:৩০
ভাগিনা লা-জবাব
চুপষে গেছে আওয়ামী নেতা কর্মী সমর্থকেরা। আমার রুমে একজন প্রতিদিন বকবক করিত। তাকে বলিলাম, এটি যুদ্ধাপরাধ ঠেকানোর জন্য বিএনপি জমায়াতের চক্রান্ত। ড্রাইভার আজম খানের সাথে বিএনপি জমায়াতের সংযোগ রয়েছে নিশ্চ্যই এই রকম সাহসী কাজ জামায়াত কর্মী ছাড়া আর কেউ করবেনা আর এই ব্যপরে উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা না থাকিলে সফল হতোনা সূতরাং আজম খানের সাথে বিএনপি জমায়াতের সম্পৃক্ততার কথা উড়িয়ে দেয়া যায়না। ঘুষ দূর্নীতি দখলবাজী চাঁদাবাজী ধ্বর্ষণবাজী এখন বর্তমান সরকারের সাংস্কৃতি হয়ে গেছে সূতরাং এইসব নিয়ে মাথা ঘামানের দরকার নাই। দলীয় সাংস্কৃতিতে আঘাত করিয়া যুদ্ধাপরাধ বিচার কার্য ঠেকানোর চেষ্টা কিছুতেই সহ্য করা যায়না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন এখন কোনো না কোনো ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সাংবাদিকেরা এখন সাগর-রুনির কথা ভূলে যাবে শুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এখন হেডলাইন। ভদ্রলোক নিচু গলায় বলিলেন যেই ধরুক না কেন ঘুষের টাকাই ধরছে, শুরঞ্জিতকে ভাল জানিতাম নিশ্বার্থ রাজনীতিক ভাবিতাম, এই টাকা ধরা পরার পর তার ছেলের ব্যবসা ও মার্কেটের খবরও এসেছে আগামীতে আরও অনেক খবর আসবে। যেখানে শুরঞ্জিত এই রকম সেখানে অন্যন্যরা কি রকম হতে পারে আমি সন্দিহান। আমি বলিলাম "ভাগিনা" এতো কিছু না ভেবে দেশে চলে যাও, বর্তমানে দেশে ভাল মৌসম চলছে, এখন দেশের ১০ দিন বিদেশের ১০ বছরের সমতুল্য। অনর্থক সময় নষ্ট না করে একবার ঝুকি নাও, মালদার হয়ে যাবে। "ভাগিনার" আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেল। নোট:- ভাগিনা এখানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচিত নেতা
82905
লন্ডন, ইউ কে । থেকে ডঃ এস আহমেদ লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ০২:৩২
শেখ হাসিনা কালো বিড়াল সুরন্জিতকে কিছুই বলবেন না, কারন সুরন্জিত যে স্কুলের ছাত্র তিনি যে সেই স্কুলের হেডমাস্টার !!!
82906
ঢাকা থেকে আরাফাত আলী লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ০২:৫৭
মিডিয়া হুদাই চিল্লাইতাছে..........ইচ এন এভরি নিয়োগই তো লেনদেনের মধ্য দিয়া হইতেছে.......একটা ধরা খাইছে তাই কি না কি যেন হইয়া গেছে........................
82908
বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে নাঈম লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ০৩:১৭
রাজনীতিতে তীর্যক মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত সুসেগু বাবু এমন ধরাই খেলেন, যার কোনো তুলনা নেই।
82909
সৌদিআরব থেকে আবু জারীর লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; বিকেল ০৪:২৪
চোরের নতুন নাম দেয়া যায় 'গুপ্ত'
ডাকাতদের নাম দেয়া যায় 'সেন'
আর ইভটিজারদের নাম দেয়া যায় 'সুরঞ্জিত'
82911
Riyadh থেকে Morur Pathic লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; বিকেল ০৪:৫০
The place of kidnap is BGB!!!!!!!!!! very fantastic? kidnaper is one with zero arms and the victims are 03. ASARE GOLPO
82912
Netrokona থেকে Majhimalla লিখেছেন, ১৫ এপ্রিল ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৪৩
The problem to bring the railway minister (if found guilty) into justice is who will conduct the investigation and give neutral verdict? The reality is that the commissions out of such recruitment are distributed up to top level. So let's see what actions are taken by the Prime Minister against Mr Suranjit Sengupta and his allies. People are not stupid now-a-days if some fake stories are fed to hide the facts & figures.
82919
ঢাকা থেকে মোঃ ওহিদুল ইসলাম, উল্যাখালী, নাংগলকোট, কুমিল্লা। লিখেছেন, ১৬ এপ্রিল ২০১২; বিকেল ০৪:২৭
দশ টাকা সের চাল খাব, এই খুশিতে,
ভোট দিলাম বাক্স ভরে নিজের অমতে।
বস্তা ভরা টাকা দিল, বুবুর দাদারা,
তাই পেয়েইতো করল ভুল, পাবলিক বেচারা।
সার নাকি দিবে বুবু, কোন পয়সা ছাড়া,
এ কথাটি বললে এখন, খেতে হয় তাড়া।

কুইক রেন্টালে হবে নাকি, কুইক বিদ্যুৎ উৎপাদন,
লোডশেডিংয়ের হবে নাকি, আর কভু আগমন।
বিদ্যুৎ এখন যায়না তবে, মাঝে মাঝে আসে,
তাইনা দেখে বুবু আমার, মিটমিটিয়ে হাসে।
মারব এবার লোডশেডিংয়ে, বললে বেশি কথা,
বুঝবে ঠ্যালা এবার তবে, বুঝবে কত ব্যথা।
কুইক ধ্বংস হচ্ছে দেশ, কুইক রেন্টাল এর ফাঁদে,
বিলের বোঝা বাড়ছে তবু, জনগণের কাঁদে।

নির্মূল নাকি হবে যত, অনিয়ম আর দূর্নীতি,
অনিয়মই নিয়ম এখন, হোক যতই দেশের ক্ষতি।
দূরীভূত হবে যত, বিশৃঙ্খলা আর সন্ত্রাস,
বুবুর সোনার ছেলেরাই এখন, মূর্তিমান এক ত্রাস।
শতটা খুন হয় দিনে এখন, নেই কোন শান্তি,
পুলিশে যদি যেতে চাও, হবে বড় ভ্রান্তি।

পদ্মা সেতু হবেই এবার, সে কিরে ভাই দাপট,
কাজ শুরুর আগেই হল, হাজার কোটি লোপাট।
লুটেরা নিল শেয়ার বাজার হতে, হাজার কোটি টাকা,
কেঁদে মরে বিনিয়োগকারীরা, পকেট হল ফাঁকা।

রেলওয়ের কালো বিড়াল, ধরতে গিয়ে এক মন্ত্রী,
চালান একটা ধরা খেয়ে, বাধলো যত বিপত্তি।

হীরক রাজার দেশ, আছি মোর বেশ,
এভাবেই থাকতে হবে, সন্দেহ নেই লেশ।
82969
১০
south korea থেকে khairul alam লিখেছেন, ১৬ এপ্রিল ২০১২; বিকেল ০৫:৫৪
Thanks.....
82972
১১
Cox's Bazar থেকে Dr. Farooque লিখেছেন, ১৬ এপ্রিল ২০১২; রাত ১১:৪৭
British আমলটা থাকলে মজা দেখাতাম....
চোর-ন্জিত শেয়ান গুপ্তধন পেলে যত দুষ !
কাইয়ুম গাজীরা হজ্্ থেকে এসে দেখতো দাদা গমস্তারা কেমন "ভাওয়াল-রাজা" হয়ে যায়....
যাক গে দিদি আছে না ! কিন্তূক আ.গা. দাদা এখনো ষড়যন্ত্রে'র কথা-টথা দিয়ে একটা Thesis দাড় করাবে না ? RAW হুদাই ওটাকে পালতেছে ।
82988
১২
ঢাকা থেকে জয় লিখেছেন, ১৭ এপ্রিল ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:২৪
এবার সবাই খুশি তো?
83021
১৩
ঢাবি থেকে হিমায়িত হিন্দোল লিখেছেন, ১৮ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ০২:৪৮
ছড়া: প্রণব বাবুর ‌‌'বিলাই ম্যাসেজ'

বিলাই বিলাই কালা বিলাই
তোরাই এখন হিট
গুপ্ত দাদার ধুতির তলে
হাসছে যে পিক পিক
বিলাই গুলা ইঁদুর ছেড়ে
টাকার থলির গিট
মুখে নিয়ে ছুটছে দেখ
গুপ্ত বাবু ফিট
বিলাইর গলায় ঘন্টা দিতে
হচ্ছে যখন লিস্ট
ভারত থেকে প্রনব দাদায়
ম্যাসেজ দিছে ঠিক
বিলাই মারা যন্ত্র দেবো
মারবো জোরে কিক
গুপ্ত মিয়ার হিসটিরিটা
করে তোল পিক।
নইলে কিন্তু খবর আছে
চান্দু যতো আছো
ওইপারের সব ভাদা-ভাকু
লুঙ্গি খুলে নাচো।
83059
১৪
Chittagong থেকে Iqbal Mahmood লিখেছেন, ১৯ এপ্রিল ২০১২; সকাল ০৮:১৪
৩০ ঘন্টার মধ্যে এমন কী ঘটনা ঘটল, যার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুরন্জিত সেন গুপ্তকে দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রেখে দিতে বাধ্য হলেন। পত্রিকায় প্রকাশ একটি বিদেশি দূতাবাসের হস্তক্ষেপের দরুন সুরন্জিত সেন গুপ্তকে মন্ত্রিসভায় রেখে দেয়া হয়েছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সন্ধ্যায় ফোন করেন। তার ফোনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট সচিবকে তলব করেন। কেবিনেট সচিব প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ঘোষণা জারি করেন। সুরঞ্জিতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার যেমন চাপ রয়েছে তেমনি একই সঙ্গে দুর্নীতির ক্ষেত্রে তাকে নির্দোষ হিসেবে প্রমাণ করারও চাপ আছে। এক্ষেত্রে এপিএস ফারুক এবং জিএম মৃধা ফেঁসে যাচ্ছেন। আর তাই এপিএস ফারুক গতকাল সাংবাদিকদের কাছে বলতে বাধ্য হলেন যে, '৭০ লাখ টাকা আমার,মন্ত্রীর নয়'।
83085
১৫
বান্দরবন থেকে বান্দরপোলা লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৩৫
ফারিয়া জামান, দয়া করে এবার আপনার 'এক সপ্তাহের সহীহ সুরঞ্জিতনামা' টা সড়ান। কারন শেখ হাসিনার আশীর্বাদে সুরঞ্জিত বাবু আবার রেলমন্ত্রী হচ্ছেন।তাই এখন আবার নূতন 'সুরঞ্জিতনামা' শুরু হবে।
84371
১৬
ঢাকা থেকে কামাল লিখেছেন, ১৭ মে ২০১২; দুপুর ০২:১২
ফারিয়া আপনি স্টপ হয়ে গেলেন কেন? যদি না পারেন সাকিব ভাইকে নিয়ে আসুন।
এই অংশটি এই সাইটটির জনপ্রিয়। কিন্তু মালিক সাহেবরা তা সম্ভবত বুঝতে চেষ্টা করেন না।
84414
১৭
ঢাক থেকে কামাল লিখেছেন, ১৭ মে ২০১২; দুপুর ০২:১৫
তাহলে বোঝা গেল সোনার বাংলাদেশও তথ্য গায়েব করে। তাহলে প্রথম আলোর সাথে তাদের পার্থক্য কি?

বান্দর পোলার আগে পোষ্ট করা আমর মন্তব্যটি না ছেপে তারা অসততার পরিচয় দিয়েছে।
84416
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy