শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০২:০৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
৩৯ বছরেও আমরা ১৬ কোটির পরিচয় ঠিক করতে পারিনি (০৪/০৯/২০১০)
গরম মাথায় (!) স্পীকারের সাথে কিছুক্ষণ (১৫/০১/২০১০)
অরক্ষিত বাংলাদেশ এবং একটি প্রার্থনাঃ ওহ আল্লাহ, সেইভ আওয়ার কান্ট্রি! (০১/০৩/২০০৯)
সিএনএনের ওয়েব পেইজে বাংলাদেশী পনের বছর বয়সী মা এবং মাতৃত্ব (১৬/০৮/২০০৮)
আর্টিফিশিয়াল সময়ের সাতকাহন (০১/০৮/২০০৮)
আগের লেখা
1630


৩৯ বছরেও আমরা ১৬ কোটির পরিচয় ঠিক করতে পারিনি

ফারজানা মাহবুবা

শিরোনামটা মনে হয় কঠিন হয়ে গেলো। উপায় নেই, সত্যকে শাক-মাছ দিয়ে ঢেকে রাখার প্রয়াস নিতে রাজী নই বলে কঠিন কথা কঠিনভাবেই বলতে হলো। সম্প্রতি সরকারের ঘন ঘন সংবিধান সংশোধনী, পূর্বসংশোধনীর আবার পূণঃসংশোধনী ইত্যাদির প্রেক্ষিতে পত্রিকায়, ব্লগে, ফেইসবুকে সবাই দেখি চরম বিতর্ক করে বাংগালী আর বাংলাদেশী নিয়ে। কেউ করে বুঝে, কেউ আবার না বুঝেই; হুযুগে বাংগালী, বুঝি আর না বুঝি গলা মেলানো চাই-ই চাই। নিজেকে খুব সতর্কভবে প্রথম থেকেই এই বিতর্ক থেকে দূরে রেখেছি। মরার এই ফ্যাসিস্ট সরকার সংবিধানকে বাবার দলিলপত্র মনে করে ইচ্ছামত চেইঞ্জ করে, এ আর নতুন কী। একজনের স্বামীর আরেকজনের বাবার- দেশটা তো সেই একানব্বই থেকেই এভাবে ভাগ হয়ে আছে। এতে নতুন করে ইন্টারেষ্টিং কিছু হওয়ার উপায় নেই।

নিজের ছোট এই জীবনে কনস্ট্রাকটিভ কিছু করার চিন্তা করলে এত্তকিছু করার আছে, এইসবে মাথা ঘামানো অনর্থক হিসেবে তাই কোনো কোনো লেখায় ঢুঁ মারলেও, নিরাপদ দুরত্বে থেকেছি যথারীতি। এক পিএইচডির পড়ার নাকানিচুবানিতে খাবি খাই সারাক্ষণ, নতুন এইসব তর্ক-বিতর্ক আমার জন্য না। কিন্তু এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে এসেও যে এসব থেকে রক্ষা নেই, সে আবার নতুন করে প্রমাণ পেলাম। কনফারেন্স ছিলো পাশের ডিপার্টমেন্টের। কনফারেন্সের পশ্চিম বাংলার এই কনভেনার ম্যাডাম আমার সিওসি (কনফার্মেশান অব ক্যান্ডিডেচার)-তে ছিলেন এই মে মাসে, তখনি বলে রেখেছিলেন, "অগাষ্টের কনফারেন্সে থাকা চাই কিন্তু"। তাই নিজের ফিল্ড-রিলেটেড না হলেও, চরম সময়ের টানাটানিতে থাকলেও, গেলাম।

গিয়ে দেখি সে এক ছোটখাটো লংকা কান্ড বটে। "বিয়িং বেংগালী- এট হোম এন্ড ইন দ্য ওয়ার্ল্ড"- বিষয়ে আলোচনা করতে কঠঠিন সব চেহারার প্রফেসার-প্রফেসারনীরা এসে জড়ো হয়েছেন। টাশকি খেয়ে দেখি হায় হায় একি, আমার ফিল্ডের অন্যতম গুরুমানুষ, বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটি থেকে মহুয়া সরকার-ও এসেছেন; যার একখান বই পড়তে গিয়ে আমার দশখান দাঁত ভাংগার জোগাড় হয়েছিলো! দেখি, ঢাকা ইউনি'র প্রফেসর আনিসুজ্জামানও এসেছেন! এসেছেন ব্র্যাক ইউনি থেকে ফেরদৌস আযিম। আরো 'গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ'। বুঝলাম, কাহিনী জটিল।

শুরুতেই আনিসুজ্জামান সাহেব "বেংগলী আইডেন্টীটি" নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টেনে নিয়ে আসলেন বাংগালী আর বাংলাদেশী বিতর্ক। কেনো যেনো এই বিতর্ক এলেই আমার কাছে নিজেদেরকে জাতিগতভাবে বেজন্মা মনে হয়। যারা অস্ট্রেলিয়ায় মানুষ/থাকেন তারা অস্ট্রেলিয়ান, বৃটেনের মানুষ বৃটিশ, এমেরিকার মানুষ এমেরিকান, ইন্ডিয়ার মানুষ ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানের মানুষ পাকিস্তানী, মালেশিয়ার মানুষ মালেশিয়ান, ইরানের মানুষ ইরানী, আফগানিস্তানের মানুষ আফগানী; সোজা এই সমীকরণে বাংলাদেশের মানুষ সোজা সোজা বাংলাদেশী না হয়ে "বেংগলী" কী করে হয় তাই-ই আমার বুঝে আসেনা। আর ধরে নিলাম, যদি কোনো "অদ্ভুতুড়ে" যুক্তিতে আমরা "বেঙ্গলী" হই-ও; তাই-ই ঠিক করতে আমাদের ৩৯ বছর লেগে গেলো??!?!?!?!

উচ্চমানের রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা আমার বুঝে আসেনা। পিএইচডি না করলে আমি বাংলার আর দশটা গৃহলক্ষী ঘরণী-ই গণ্য হতাম, সে হিসেবে উচ্চমার্গিক-সাহিত্যিক-রাজনৈতিক ইত্যাদি ইত্যাদি কঠিন আলাপ-সালাপ আমার না বুঝারই কথা। যতটুকু বুঝলাম তাতে, আনিসুজ্জামান সাহেবের আলোচনা এবং আলোচনার ডিসকাশনে মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের প্রেক্ষিতে কয়টা বেসিক সহজ সরল প্রশ্ন উদয় হলো মনে- ১)-আমরা যদি "বাংগালী" হই, তাহলে উপজাতী যারা বাংলা ভাষায় কথা বলেনা, তাদের কী হবে? তারা তো বাংলা ভাষায় কথা বলেনা; মগ, চাকুম-মাকুম কত রকমের ভাষায় কথা বলে। তাদের উপর "বাংগালী" পরিচয় চাপিয়ে দেয়া তো মহা অন্যায়। ২)-ইন্ডিয়ার পশ্চিম বাংলার মানুষজনও তো ভাষার ভিত্তিতে বেঙ্গলী/বাংগালী। আমাদের ন্যাশনাল-আইডেন্টিটি যদি বাংগালী হয় তাহলে আমাদের জাতিগত স্বতন্ত্রতা থাকলো কোথায়?? পশ্চিম বাংলার মানুষ বাংলায় কথা বলার পরও যদি ইন্ডিয়ান হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের থেকে কেনো আমরা বাংলাদেশী হতে পারবোনা???? ৩)-পুরা পৃথিবীতে দুইশ ত্রিশ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ বাংলায় কথা বলে। এরা সবাই-ইতো ভাষাগত দিক দিয়ে বাংগালী। নিজেদের জাতিগত আলাদা কোনো পরিচয় না থাকলে তো তাহলে আমরা এই বিশাল বাংলা-ভাষাভাষীর মাঝখানে হারিয়ে যাবো! আলাদা করে চেনার কোনো উপায় থাকবেনা!

ভাবতে ভাবতেই ভাবলাম, নাকি ‘এইসব মানুষগুলো’ আসলে নিজের দেশ নিয়ে লজ্জিত, তাই জাতিগত পরিচয়ে নিজের দেশের নাম রাখতে চায়না?? এমনটা না যে বাংগালী/বাংলাদেশী বিতর্কের পিছনের ইতিহাস আমার জানা নেই। মেজর জিয়া যে তার আর্মি-সরকারের বৈধতা জায়েজ করে নেয়ার স্বার্থে দেশের মানুষের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছে, তাও অজানা নয়। কিন্তু জিয়া নিজের সরকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাই করেছে যা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ করতে চেয়েছে! এতে তো উলটো ভালই হয়েছে আমাদের জন্য। এখন এতদিন পরে শুধুমাত্র কেনো মেজর জিয়া করলো এই কাজ, এই প্রতিহিংসাতেই আবার সব বদলে দিতে হবে????

একটু পরে মর্নিং-টী ব্রেক। রমজান মাস। বাংলাদেশের আল্ট্রা-মডার্ণ ইদানীংকার জেনারেশনের কথা বাদ দিলে, আর তথাকথিত কিছু অতি-সেক্যুলারিষ্ট গোষ্ঠীকে বাদ দিলে সাধারণ মানুষজন মোটামোটি নামায না পড়লেও রোযা রাখে! (এটা একটা মজার ব্যাপার বটে, নামায না পড়লে কেউ কিছু বলেনা। কিন্তু রোযা না রাখলে এমন ভাব করবে যেনো ইসলাম থেকেই বাদ হয়ে গেছে!) ছোট ছোট বাচ্চারা পর্যন্ত রোযা রাখার প্রতিযোগীতা দেয় একজন আরেকজনের সাথে। এমনকি যারা রোযা রাখেনা তারাও অন্যদের প্রতি সম্মান করে রোযা না রাখাটাকে বাহাদুরী হিসেবে শো-অফ করে বেড়ায় না। কিন্তু আমাদের "বেংগলী" আইডেন্টিটি নিয়ে কথা বলা মানুষজন দেখি দেদারসে চা-নাস্তা খাচ্ছেন!! পশ্চিম বাংলার হিন্দু ডেলিগেটদের কথা বাদ, কিন্তু প্রফেসর আনিসুজ্জামান থেকে শুরু করে ফেরদৌস আযিম থেকে শুরু করে সবাই দেখি বেশ আয়েশ করেই চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। আমি, আরেক বাংলাদেশী স্টুডেন্ট শারমিন আর আরেকজন বাংলাদেশী স্টুডেন্ট সাইফুল ছাড়া খেয়াল করে দেখলাম, লে বাবা! এই মানুষগুলোই এতক্ষন বাংলাদেশের মানুষজনের "আইডেন্টীটি"র ময়নাতদন্ত করলেন, কিন্তু এরা আসলে কারা??? এরাতো বাংলাদেশের মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করেনা!!! প্রতিটা মেয়ে-ডেলিগেট শাড়ী পড়ে, বেশীরভাগ হাতাকাটা ব্লাউজ পড়ে, সবার কপালে টিপ লাগিয়ে, এরাই বাংলাদেশের ষোলকোটি মানুষের প্রতিনিধি??? এরাই কিনা ঠিক করে দিচ্ছে আমরা বাংগালী হবো নাকি বাংলাদেশী?? লে হালুয়া!

মজার কথা হলো, কেউ একটু ভালভাবে এই বিতর্ক খেয়াল করলে দেখবে, ডানপন্থী মানুষজন, ইসলামিষ্ট, জামাত-বিএনপি "বাংলাদেশী"র পক্ষে; অন্যদিকে প্রো-সেক্যুলারিষ্ট, বামপন্থী, আওয়ামীলীগ "বাংগালী"র পক্ষে। কীভাবে যেনো বাংগালী'র সাথে একটা হিন্দুয়ানী ছাপ লেগে গেছে; আর বাংলাদেশীর সাথে একটা মুসলমানী গন্ধ। এই গন্ধের উৎস নিয়ে একটু পড়ালেখা করলেই টের পাওয়া যায়, বাংলাদেশে দু'টো চরমপন্থী দুইদল মানুষ গড়ে উঠছে। একদল যারা এমনকি পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত বয়কট করে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে; আরেকদল রোযার মাসে সবার সামনে খাওয়া-দাওয়া করে গর্ববোধ করে যেনো খুব বড় একখান 'মডার্ণ' মানুষ হতে পারলেন বলে! একদল এ দেশের সব মুসলিমকেই বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে মাইগ্রেট করে আসা পূর্বসুরীদের উত্তরসুরী প্রমাণ করতে ব্যতিব্যস্ত; যেনো পূর্বপুরুষদের বিশাল একটা অংশ হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছিলেন তা স্বীকার করে নিলে 'জাত' চলে যাবে(!); আরেকদল মাইগ্রেটেড মুসলিমদের হাজারবছরের গজানো শক্ত-শিকড়কে পুরোপুরি উপড়ে ফেলে দিয়ে আদি-হিন্দুত্বের গন্ধ-মাখানো সেক্যুলারিজমে ফিরে যেতেই বেশী আগ্রহী; যেনো নিজেদের মুসলিম ঐতিহ্যকে মুছে ফেললেই সব মানুষজন আমরা দারুন 'আধুনিক' হয়ে যাবো!

দেশের মানুষদের যেকোনো সামাজিক-গেদারিং এ গেলেই এই দুইগ্রুপের চরম-উপস্থিতি বেশভালভাবেই টের পাওয়া যায়। এবং সবচেয়ে দুঃখজনক হলো এদের সহিংস-মানসিকতা; যেনো একে অপরকে পারলে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেন টুকরো টুকরো করে। ইউনি'তে সোশাল সাইন্সের ক্লাস নিতে গিয়ে হুতু-তুতসীদের জাতিগত বিদ্বেষের উপর একটু পড়ালেখা করেছিলাম। পৃথিবীতে মানব-সামাজিক জীবনের বিশাল একটা ট্রাজেডী হলো জাতিগত দাংগা। এ যে কত সহিংস, বর্বর হতে পারে তার সামান্য নমুনা পাওয়া যায় হুতু-তুতসীদের একে অন্যের উপর নির্যাতনের ডকুমেন্টারীগুলো দেখলে। জীবন্ত মানুষকে চামড়ার ভিতর আংটা ঢুকিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে ছুরি দিয়ে একটু একটু করে লম্বা লম্বা চিড়ে ফেলে ভিক্টিমের প্রতিটা কষ্টের চিৎকারের সাথে ঘিরে ধরা মানুষদের জান্তব উল্লাস, অবিশ্বাস্য রকমের কাহিনী এসব। কিন্তু আমরাও কি হুতু-তুতসীদের চেয়ে কম কিছু? আমাদের দেশের মানুষদের মধ্যে গড়া উঠা এই দুই-গ্রুপের মধ্যকার চরম অবিশ্বাস আর সহিংস জিঘাংসা'র সামান্য নমুনা পাওয়া যায় ২০০৬ সালের আঠাশে অক্টোবরের ঘটনায়। তখন চরম বিষ্ময়ে দেখেছি, কেবলমাত্র প্রতিপক্ষ বলেই সাধারণ ‘আওয়ামী’ঘেষা মানুষজন পর্যন্ত এইসব বর্বর মৃত্যুগুলোকে জাষ্টিফাই করছেন! ব্লগে দেখেছিলাম কেউ কেউ লিখেছিলেন “এতো কেবল কয়েকজনকে মারা হলো, আমরা এভাবে ওদের সবগুলাকে রাস্তায় রাস্তায় মারবো”! জামাত-বিএনপি-আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আমার বিন্দুমাত্র কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু অস্থির হয়ে উঠি, ভীত হয়ে উঠি, হতভম্ব হয়ে উঠি যখন এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চারায় এভাবে পানি ঢালতে দেখি, এই প্রতিহিংসার গাছ ভীষণ দ্রুত বড় হয়ে বটগাছে রুপ নিচ্ছে। গত চারবছরে এই জিঘাংসা মোটেও কমেনি, বরং বেড়েছে হু হু করে। ভয় হয়; বেশীদিন দূরে না, যখন এই সংঘাত প্রকাশ্যে বের হয়ে এসে আমাদের দেশটাও হুতু-তুতসীদের দেশে পরিণত হবে। ভয় হয়; আমাদের অ-মনুষত্ব্য প্রবল হতে হতে আমরাও একে অপরের রক্তপান করতে ড্রাকুলা হয়ে উঠবো। বড় ভয় হয়।

ব্যক্তি আমি দেশ ভালবাসলেও নিজেকে সীমানার বাইরে পুরো পৃথিবীর একজন নাগরিক বলে মনে করি। বিশ্বাস করি, সম্মিলিতভাবে মানুষের এখনো অনেক কিছু দেয়ার আছে মানব-সভ্যতাকে। এখনো পূরণ করার বাকী অনেক স্বপ্ন। এখনো গড়ে তোলার বাকী সুস্থ-সুন্দর সমাজ যেখানে অনাগত শিশুরা হেসে-খেলে বেড়ে উঠবে। কিন্তু 'দিল্লী বহুত দূর'র মত সেই স্বপ্নের আগামী পৃথিবীকেও অনেক দূরের মনে হয় যখন দেখি গুটিকয়েক কিছু মানুষের হাতে জিন্মী হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন। যখন দেখি ষোলকোটি মানুষের নব্বই শতাংশ মুসলিম জনগনের প্রতিনিধিত্বের দাবী তুলে হাতাকাটা ব্লাউজ পড়া ললনাগণ কপালে ইয়া বড় টিপ পড়ে বাংগালীত্ব প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগেন। তখন কনফিউজড হয়ে যাই ভেবে ভেবে বাংগালীত্ব কী করে এই সব লোক-দেখানো পোষাক আষাকেই আটকে গেলো? আরো ভাবি, যে রিকশাওয়ালা গ্রাম থেকে ঢাকা শহরে এসে সারাদিন রিকশাচালিয়েও রোজা রেখে ইফতারের টাইমে কোনো মুদির দোকানের সামনে রিকশা থামিয়ে এক গ্লাস পানি চেয়ে খেয়ে রোজা ভাংগেন, তিনি বেশী বাংগালী/বাংলাদেশী? নাকি সুবর্ণা মুস্তফার মত হাতাকাটা ব্লাউজ পড়া, ফেরদৌসি মজুমদারের মত কপালে বিশাল লাল টিপ লাগানো 'ইনারা' বেশী বাংগালী/বাংলাদেশী? এ এক ফ্যাড়কা লাগানো তর্ক। সে তর্কে কাজ নেই। খালি ভাবি- কে যে বেশী কে যে কম, এই যদি আমরা প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকি, তবেই সেরেছে, ভবিষ্যত আমাদের ফকফকা; ৩৯ বছরেও জন্ম-পরিচয় ঠিক করতে না পারা আমরা ষোলকোটি মানুষ আজন্ম বেজন্মাই থেকে যাবো। হা কপাল!

লেখিকঃ পিএইচডি করছেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনী, অষ্ট্রেলিয়ায়। ইমেইল- farjanamahbuba@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/FarjanaMahbuba
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে শওকত আল-ইমরান লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০৩:০৭
ভাল লাগল।
34247
ঢাকা থেকে সাইফ বরকতুল্লাহ লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০৩:০৭
শিরোণামের সাথে একমত।
34248
সুইডেন থেকে পাশা লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০৩:৪৫
অসাধারণ লেখেছ আপু।
34255
বাংলাদেশ থেকে ওবায়দুল্লাহ, লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; বিকেল ০৪:৫৩
ফারজানা আপু লিখে যান। চমৎকার হয়েছে।
34266
আবুধাবী থেকে মোরশেদ লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; বিকেল ০৫:১৬
সত্য-সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
34267
সিডনী, অষ্ট্রেলিয়া থেকে শফিকুর রহমান লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; বিকেল ০৫:৪০
ফারজানা,
তোমার অসাধারণ লেখা আমার মতই আরও হাজার মান্ুষের ভাবনারই প্রতিধ্বনি। আর যে সকল সুবিধাবাদী পরজীবীগুলোর (রমজানে দিনদুপুরে চা খায়) কথা বলেছো, যুগেযুগে সেগুলো সময়ের সাথে সাথে রং বদলায়। তারাই বিদেশে বাঙলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করে। কি বিচিত্র!
-- শফিক স্যার, কেম্বলটাউন (মিনটো), িসডনী।
34273
সিলেট থেকে কবির লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৯:৫৩
আপনার সকল লিখাই ভাল লাগে। সামুতে আপনাকে নিয়ে খুবই সমালোচনা হলেও আপনি লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। ধন্যবাদ আপনাকে।
34311
কুয়েত থেকে আব্দুল্লাহ শাফি লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১০:০৮
আপনার দীর্ঘ লিখাটি পড়লাম। খুব চমৎকার হয়েছে। লিখে যান। আর নামধারী মুসলমানরা হিন্দুদের থেকেও যে খারাপ, তার বাস্তব প্রমাণ আপনার লিখায় ফুটে উঠেছে।
মানুষ মানুষের চরিত্রের পরিবর্তণকারী নয়, চরিত্র ঠিক করতে পারেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। অতএব আসুন এই পরিণতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দয়াময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। ধন্যবাদ আপনাকে
34315
ক্যাল্গেরী, আল্বার্টা, ক্যানাডা থেকে রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১০:১১
আমি যখন ক্যানাডিয়ানদের বলি আমার ভাষা বাংলা, ওরা খুব স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়, "ইউ মীন বেঙ্গলী?" আমি বলি, "না, আই মীন বাংলা", যে ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। এর সাথে হিন্দী বাংলার মিশ্রণযুক্ত পশ্চিমবঙ্গীয় বেঙ্গলীর কোন সম্পর্ক নেই। অল্প কয়েক জায়গায় ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে বাংলা আর বেঙ্গলী দু'টো অপশনই আছে দেখে আনন্দিত বোধ করেছি যে আমরা স্বতন্ত্র।
এখন তোমার কথায় মনে পড়ল, আমাদের মুসলিম আইডেন্টিটির কারণে বাংলার প্রতি যতই টান থাকুক না কেন আমরা ঠিক বাংলাদেশী হওয়ার উপযুক্ত নই। আর বাঙ্গালী তো হতেই চাইনা!
হা কপাল! দেশ থেকেও আমাদের পরিচয় নেই, ভাষা থেকেও আমরা নির্বাক!
34316
১০
কুয়ালালামপুর থেকে তারিক রিদওয়ান লিখেছেন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১০:১২
সত্যিই ৩৯ বছরেও আমরা ১৬ কোটির পরিচয় ঠিক করতে পারিনি

হুতু-তুতসীদের কাহিনী তো বড্ড মর্মান্তিক। আমেরিকান ফিল্ম ডিরেক্টর "টেরি জর্জ" এর একটি বিখ্যাত মুভি আছে রুয়ান্ডায় ঘটে যাওয়া কালের হিংস্রতম এই গৃহযুদ্ধ নিয়ে... মুভির নামঃ "হোটেল রুয়ান্ডা"। এই অসাধারণ একটা মুভিই যথেষ্ট বই ঘেঁটে ইতিহাস না পড়ে সত্যিকারের ইতিহাস জানার...
জানতে পেরেছিলাম আরেক নায়ক "পল রুসেসাবাগিনা"-র কথা, যিনি জাতিগতভাগে "হুতু" ছিলেন এবং গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হোটেল রুয়ান্ডার ম্যানেজার ছিলেন। মিলিশিয়া বাহিনী যখন হোটেল রুয়ান্ডায় আক্রমণ করে তখন UN এর শান্তিবাহিনী এসে বিদেশী নাগরিকদের বাঁচিয়ে নিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু হোটেলে অবস্থিত বাকি ১,২৬৮ জন তুতসিকে তারা নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়... তখন নিজের প্রখর উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহসিকতা দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন হোটেলে অবস্থিত এই ১,২৬৮ জন্য তুতসির জীবন।
পল রুসেসাবাগিনাঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Paul_Rusesabagina
মুভি হোটেল রুয়ান্ডাঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Hotel_Rwanda
মুভির ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://stagevu.com/video/hybiaacorlpt
34317
১১
কানাডা থেকে মোহাম্মদ আবদুল খালেক লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১২:৫৩
আমাদের জাতীয়তা "বাংলাদেশী" তা সঠিকভাবেই শহীদ জিয়া নির্মান করেছেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ অযুত জনতা তা বুকে সম্মানের সাথে লালন করে চলেছেন। আর এর পাশাপাশি ফরমায়েশী নকল জাতীয়তাবাদ "বাঙ্গালী" পয়দা করেছে আমাদের দেশের এক রাজনৈতিক অপশক্তি।
"মুখ্যমন্ত্রী" যোগ্যতার এই অপশক্তি দাদাদের ধুতির ধুলায় কপালে তিলক পড়ে নিজেদের "জাতে" তুলতে চায়। "বাঙ্গালী" বলে বাংলাদেশকে মুছে দিতে চায়। ধর্মনিরপেক্ষতার অযুহাতে ইসলামকে বর্জন করতে চায়।
তাইতো, রোজার দিনে "ইসলাম নামধারী" এই অপশক্তির বেতনভূক্ত কর্মচারীরা প্রকাশ্যে দাদাদের মজাদার চা খেয়ে চলেছে, ইসলামের বিরোধিতা করছে। লাভের গুড় দাদাদের হাড়িতে তুলে দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে করে তুলেছে সার্বভৈমত্বহীন ও বিষহীন বেদনায়।
বাংলাদেশ ও বাংলাদেশী চেতনার চিরন্তন মশালকে গর্বের সাথে প্রজ্জলিত রাখবার জন্য যে প্রতিবাদের সুনামী ধেয়ে আসছে তা থেকে বাঁচার জন্য "অপশক্তি" দাদাশক্তি প্রয়োগ করছে ও করবে। এটা সত্য ও মিথ্যার বিরোধ। আর এটাই চিরন্তন সত্য যে, সত্যই বারবার বিজয়ী হয়। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, স্বকীয়তায় স্বম্মানে টিকে থাকবে-ইনশাআল্লাহ।
ফারজানা মাহবুবাকে অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ মৌলিক একটা অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপর তথ্যবহুল লিখবার জন্য।
34342
১২
larnaca,cyprus থেকে nibir sarker লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০১:৫১
Apu,u r my FB friend.this article is awesome.really........
carry on...
34346
১৩
রিয়াদ সৌদি আরব থেকে জাহেদ লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৩:২৪
শিক্ষা, অর্থনীতি, এবং শক্তি ছাড়া জাতীয়বাদ কে লালন করা দুরহ ব্যাপার, আধিপত্যবাদি শক্তি চাইবে ছোট দেশ গুলো কে শোসন করে নিজেরা উপকৃত হওয়ার জন্য, যেমন ইরানের কথা বলি পশ্চিমা দেশ গুলো ইরান কে চাপাচাপি করার পরেও তারা নিজস্ব জাতিয়তাবাদ কে দরে রেখেছে কারন শিক্ষায় আছে জাতিয়তাবাদ, এবং শক্তিতেও আছে জাতিয়তাবাদ, দেশের প্রায় মানুষ সামরিক ট্রেনিং প্রাপ্ত বাহিরের কোন দেশ হস্তক্ষেপ করলেও যাতে দেশের সাধারণ মানুষ রুখে দিতে পারে, এবং এই শিক্ষা, শক্তিকে পৃষ্টপোষকতা করতেছে দেশের অর্থনীতি ।
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ কে ঠিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষা, অর্থনীতি এবং সামরিক দিক দিয়ে উন্নত হইতে হবে।
আজ কি বাংলাদেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্টানে এই রকম শিক্ষা দিতেছে যে খান থেকে মানুষ শিক্ষা নিয়ে দেশ কে কিছু দিতে পারবে ?
34362
১৪
কুয়ালালুমপুর থেকে কাউয়ান লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৩:৪২
ধন্যবাদ পাবেন লেখিকা ফারজানা সুন্দর লেখার জন্য। কিন্তু আমার মাথায় যা ঢুকছে না নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমানের জন্য জিয়াউর রহমানের সরকারকে অবৈধ বলতে হবে কেন? আমি ব্যাক্তিগত ভাবে জিয়ার ভক্ত না হলেও তার সরকারকে অবৈধ বলার মতো নিরপেক্ষ আমি নই। কারন ইতিহাস বলে জিয়ার সরকার ছিল অনিবার্য। ইতিহাসের কোন মোড়ে এসে জিয়ার সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা আমরা সবাই জানি এবং এটাও জানি এর কোন বিকল্প তখন ছিল না।

এরশাদের সরকার ছিল জবরদস্তি। এখানে ইতিহাস মোড় নিতে চায়নি কিন্তু জোড় করে বাধ্য করা হয়েছে।

অনেক জায়গায় সাহসি উচ্চারন করলেও জিয়ার সরকােরর বৈধতার প্রশ্ন তোলে লেখাটিতে ছোট্ট একটি কালিমা লেপন করলেন। কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলার সাহস সঞ্চয় করুন। তারপরও বলব সুন্দর লেখা। চালিয়ে জান।

ধন্যবাদ
কাউয়ান
34366
১৫
ঢাকা থেকে ইমরান লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; সকাল ০৫:৩৭
অনেক সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ। আসলেই আমরা এখনও ঠিক করতে পারিনি যে, আমরা বাঙ্গালী না বাংলাদেশী। এই বিতর্কের শেষ হবে না হয়ত।
34379
১৬
ঢাকা থেকে স্বপ্নচারী লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; সকাল ০৬:০০
অসাধারণ লেখা।

বাংলাদেশের 'তথাকথিত' দেশপ্রেমিকরা কীভাবে কীভাবে যেন এই আইডেন্টিটিতেই মুগ্ধ। তারা বাংলাদেশি হওয়াতে খুব খুশি। সেক্যুলারিজমের ফ্লেভার (বলবনা আসলেই) পাওয়াতে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখেছি আমার ডানে বামে। কারণ, ধর্মের এঁটে থাকা নিষেধাজ্ঞার বন্ধনীটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া গেলো যে!

এই সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে দেশের মানুষ আদর্শিকভাবে হয়ত আলাদাই ছিলো। কিন্তু সেই ভাব্নাতে হাতুড়ির ঘা দিয়ে দিয়ে পরিষ্কার করে আলাদাকরণে এই ক্ষমতাসীন সরকারের জুড়ি নেই। ক্রমাগত লেজু্রৃত্তির মনোভাব দিয়ে জনগণকে লজ্জায় ফেলে দেয়া এই বাংগালী করণের একটা অংশ।

আবারো বলবো। এরকম সত্যকে এরকম সরকাররা পছন্দ করেনা। হাতাকাটা ব্লাউজ পরা তথাকথিত "প্রতিনিধিগন' নিজেদের বাংগালি ভাবতে পছন্দ করেন। অদ্ভূত সুন্দর ধর্মীয় পরিবেশ থাকা সত্ব্বেও অনেক মুসলমান " সংখ্যাগরিষ্ট" হয়ে লজ্জা পান। তারা হিন্দুয়ানী আচরণ করাকে তাদের দ্বায়িত্ব মনে করেন।

অফটপিকে চলে যাচ্ছি।এখন থামি।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।
34381
১৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাখন লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; সকাল ১০:৪৬
আপু ! এক্কেবারে সত্যি কথা বলেছেন।
34400
১৮
দুবাই থেকে টিটু লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০২:১৯
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ
34421
১৯
Dhaka থেকে Anam লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; বিকেল ০৪:৪৪
Simply Thanks.
Oh My Lord Increase her in knowledge.
34444
২০
টরোনটো, কানাডা থেকে ডা: সাইফুল লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; বিকেল ০৫:৫০
ফারজানার লেখা বরাবরই ভালো লাগে। এই লেখাটাতে ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বুঝতে পারলাম রোজার দিনে মানুষকে দেখিয়ে পানাহার করতে না পারলে ''বুদ্ধিজীবি'' হওয়া যায়না। যেমন টি দেখেছিলাম আজ থেকে ৫/৬ বছর আগের রমজান মাসে দিনে দুপুরে টরোনটোর ড্যানফোর্থ এলাকায় বিলেতি আগাচৌ কে চা পান করতে । তিনি ও তো বুদ্ধিজীবি । পরজীবি হলেও।
34452
২১
Department of Social Work, Edinburgh University থেকে Tuhinul Islam Khalil লিখেছেন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৯:৩৯
Excellent and extra ordinary. Please don't stop writing even if you have PhD work. May Allah help and guide us all.
34464
২২
লন্ডন থেকে নেওয়াজ মোরশেদ লিখেছেন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১০; সকাল ০৮:২৬
সবচেয়ে যে বিষয়টি মনে দাগ কাটে সেটি হলো জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয়। বিলাতে আসার পর থেকে ইউনি বা কাজে যেখানেই নিজের পরিচয় দিতে হয়েছে, বাংলাদেশি বলতে হয়েছে। কারন দু'টিঃ ১) ফর্মে অন্য কোন (বাঙ্‌গালি)অপশন না থাকা এবং ২) বাংলাদেশি হিসেবে নিজেকে মনে করা। যারা বাঙ্‌গালি বলে নিজেদের দাবী করেন আমি হলফ করে বলতে পারি বিদেশ সফরের আবেদনে তারা নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবেই পরিচয় দিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। আপনার লেখাটা একেবারে আমার প্রবল অনুভূতিকে স্পর্শ করেছে এবং আমার মত অনেকেরই, যারা আমার আগেই মন্তব্য করেছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। মন্তব্যটি দীর্ঘ করতে চাইনি, কিন্তু আরো অনেক কিছু বলার আছেঃ যখন রোযা থেকে ১২ ঘন্টা কাজ করি, তখন সহকর্মীরা আব্লুত হয়ে ইফতারি করতে মনে করিয়ে দেয় এবং শ্রদ্ধাভারে বিরতি দেয়। আবারো ধন্যবাদ আপন।।
34495
২৩
ঘর থেকে গৃহলক্ষী লিখেছেন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৮:৪৭
লেখিকার উপস্থাপনার ভম্গীমা সুন্দর। কিন্তু বুঝলাম না গৃহিণী আর পি এচ ডির মাঝখানে রাজনীতিকে কোথায় স্থান দিলেন! রাজনীতি বুঝার জন্য কি সকল গৃহিণী পি এচ ডির অভাবে মূর্খ ?. অপনারা পি এচ ডি ধারন করে যদি এই ধরনের মতা মত পুষন করেন তাহলে যতই নীতি বাক্য বলেন অবশেষে তো আজকের যে বেজ্নমাদের উদাহরোন দিলেন তাদের দলে যেতে কিন্তু বেশি সময় লাগবেনা...
আপনার উক্তিটা নিয়ে একটু ভাবেন.'উচ্চমানের রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা আমার বুঝে আসেনা। পিএইচডি না করলে আমি বাংলার আর দশটা গৃহলক্ষী ঘরণী-ই গণ্য হতাম, সে হিসেবে উচ্চমার্গিক-সাহিত্যিক-রাজনৈতিক ইত্যাদি ইত্যাদি কঠিন আলাপ-সালাপ আমার না বুঝারই কথা'..
. সত্যের পথে থাকুন এবং বলার সময় ভেবে বলুন। আললাহ আমাদের সকলকে সঠিক পথের সন্ধান দিন।
34532
২৪
আবুধাবী, ইউ.এ.ই থেকে মোহাম্মদ লোকমান লিখেছেন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১১:১৫
নামের সাথে লিখার সুন্দর মিল। লিখাটা বেশ ভাল লাগলো।
34541
২৫
ঢাকা থেকে জিতু লিখেছেন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১১:২০
"মেজর জিয়া যে তার আর্মি-সরকারের বৈধতা জায়েজ করে নেয়ার স্বার্থে দেশের মানুষের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছে, তাও অজানা নয়। কিন্তু জিয়া নিজের সরকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাই করেছে যা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ করতে চেয়েছে!" আসলে মেজর জিয়া আজকে মহা এক ভিলেন কারণ হল তিনি বিএনপি নামক এত বড় একটা দলের জন্ম দিলেন কেন? ফলে আঃলিগের একচেটিয়া আধিপত্য বাশ খেয়েছে ও এই বিএনপিকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ধুর! সব 'স্বপ্ন' বরবাদ করলেন এই জিয়া। তাই তার সবকিছুই খারাপ বুঝলেন কুয়ালালুমপুর থেকে কাউয়ান ।
34542
২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ঝর লিখেছেন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০২:২০
ব্লগ না কলাম ঠিক বুঝলাম না। কলামের পাতায় ব্লগীয় ভাষায় লেখা পড়তে আমার আপত্তি নাই। কিন্তু সেক্ষেত্রে নির্বাচিত ব্লগের মাজেজা কি থাকল সেটা পরিস্কার না।
34607
২৭
habiganj থেকে bablu লিখেছেন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০২:৩১
very nice dear.
34609
২৮
বগুড়া থেকে রুমঝুম লিখেছেন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ১২:৪৩
''নাকি সুবর্ণা মুস্তফার মত হাতাকাটা ব্লাউজ পড়া, ফেরদৌসি মজুমদারের মত কপালে বিশাল লাল টিপ লাগানো 'ইনারা' বেশী বাংগালী/বাংলাদেশী? এ এক ফ্যাড়কা লাগানো তর্ক''। শম্পা রেজা কিন্তু সুবর্ণা মুস্তফার চেয়েও অনেক চিকন হাতাকাটা ব্লাউজ পড়েন আর এনজিও কর্মী খুশী কবীর ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সানজিদা খাতুনের চেয়ে বিশাল লাল টিপ আর কেউ পড়েনা।
34651
২৯
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ থেকে মাসরুর লিখেছেন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০১:২৭
সফরে থাকলে রোজা রাখার ব্যাপারে খুব সম্ভবত নিয়ম-কানুন সহজ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত ডেলিগেট অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন, তারা যেহেতু সফরেই ছিলেন তাই তাদের রোজা না রাখার ব্যাপার নিয়ে সমালোচনা না করাটাই মনে হয় উত্তম। কারণ কে কোন পর্যায়ের ইমানদার, সেটা পরীক্ষ করার দায়িত্ব আমাদের না। এমনও হতে পারে হয়ত দেশে গিয়ে তারা সুবিধা মত সময়ে সে সব রোজা পালন করবেন (কষ্ট কল্পনা হলেও অসম্ভব কিছু তো না!)! আর হাতা-কাটা ব্লাউজ পড়লেই সাথে সাথে অমুসলিম ঘোষণা দেওয়া বা সেরকম তুলনা করার পক্ষপাতিও আমি না। কারণ কার মাঝে কতটুকু ইমান আছে সেটা আমি কারও বহিরাবরণ দিয়ে বুঝতে পারি না। হতে পারে হয়ত সে স্বল্প-আমলকারী মুসলমান। আর আমি গ্রামে গণ্জ্ঞে অনেক গ্রাম্য দরিদ্র নারীকে দেখেছি ব্লাউজ ছাড়াই শাড়ী পড়তে এবং নামাজ আদায় করতে, ব্লাউজ না পড়ার কারণেই নিশ্চয় তাদেরকে অমুসলিম বলতে পারি না......

যাই হোক, লেখাটি ভাল লেগেছে। এটা দুঃখজনক যে গত ৩৯ বছর ধরে আমরা আমাদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছি। তবে অন্যদের কথা জানি না, স্বাধীনতা উত্তর প্রজন্মের একজন নাগরিক হিসেবে বলতে পারি, আমি 'বাংলাদেশী' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি, আছি, থাকবো এবং একজন বাংলাদেশী হিসেবেই মৃত্যূবরণ করবো ইনশাল্লাহ!!!!
34654
৩০
চট্টগ্রাম থেকে মানজার চৌধুরী লিখেছেন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৩৯
ব্যাপারটা সম্ভবত উনি জানেন, 'শো-অফ' শব্দের ব্যবহারে অন্তত: সেটা বুঝা যায়। সফরে থাকি, যেখানেই থাকি If we don't fast we can't show it off as a Muslim, and to show the respect for those who're fasting we can easily shun so. Moreover, probably she didn't declare. anybody non-Muslim..
34708
৩১
chittagong, Bangladesh থেকে manzar chowdhury লিখেছেন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৯:১৭
"সফরে থাকলে রোজা রাখার ব্যাপারে খুব সম্ভবত নিয়ম-কানুন সহজ করে দেওয়া হয়েছে।"
I think she knows it, for the use of the word �showoff� indicates so. If we don�t fast in this month as Muslim we shouldn�t show it off, thus we can show respect for those who�re fasting. And probably she didn�t declare non-muslim anybody.
34712
৩২
শান্তিনগর, ঢাকা থেকে ডা: নাসরিন রহমান লিখেছেন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৮:৩৪
গৃহলক্ষীকে বলছি:
"পিএইচডি না করলে আমি বাংলার আর দশটা গৃহলক্ষী ঘরণী-ই গণ্য হতাম"
লেখিকার এই ব্যাখ্যাটি তার একান্ত ব্যাক্তিগত মতামত। তাছাড়া, সকল গৃহিণী রাজণীতি বোঝেন না, এটাও সত্য। ব্যাতিক্রম আছেন ঠিকই, সেটাতো উদাহরণ হতে পারে না। সবাইতো মাহবুবার মত কঠিন কথা বলার সাহস রাখেনা। মাহব্ুবাকে অভিনন্দন!!!!!!
34773
৩৩
ইউ এস এ থেকে এম এম রহমান লিখেছেন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০; সকাল ০৭:৩৭
২৯কে বলছি:
সফরে রোজা না রাখার অনুমোদন আছে বলে যত্রতত্র বসে পানাহার করবেন? কে কোন পর্যায়ের ঈমানদার তঁার চলনে,বলনে আচরণে ফুটে উঠে। আমি/আপনি কি চক্ষুমাণদের কাছে বলতে হয় না। আমাদের আচার/আচারণ জানান দেয় সবই। হাতকাটা ব্লাউজ যারা পরেন তারা ফ্যাশন করে ওগুলো পরেন। নিজেকে একটু সেক্সি ভাবে উপস্হাপন করেন অন্যের চোখে। কোন কোন মডেল গার্ল,চিত্র নায়িকা, নট ও নটীরা ্ওয়েষ্টার্ন কালচারকে ফলো করতেছেন সেক্সি সাজার জন্য। গ্রাম/বাংলার মহিলারা ব্লাউজ ছাড়া শাড়ী পরেন, অভাবের জন্য। কারণ সীমিত আয়ের ভেতর সব কিছু মেইনটেইনস করা সম্ভব হয় না। ব্লাউজ ছাড়া শাড়ী দিয়ে অতি শালীনতার সাথে আব্রু রক্ষা করে চলেন। তঁারা কোন হাল ফ্যাশনের পিছনে ছুটে না। নিজেকে প্রকাশ করার তাদের উদ্দেশ্য নয়।
34803
৩৪
শান্তিনগর, ঢাকা থেকে ডা: নাসরিন রহমান লিখেছেন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১০; বিকেল ০৫:২৩
অনেকেই মনে করেন, বংগবন্ধু স্বাধীনতার পর পর অসংখ চ্যালেন্জের মুখোমুখী হয়েছিলেন, যেমন দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দলীয় নেতাদের দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতি, চারদিকে চাটুকারদের ভীড় ইত্যাদি ইত্যাদি। তাছড়া, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট এই মহান নেতা নিহত হবার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্ট্রীয় ইস্যুতে সুচিন্তত মতামত দেবার সময় তিনি পান নাই। পাকিস্তানের অধিবাসীদের জাতিয়তা পাকিস্তানী, উর্দূ নয় এবং ভারতের অধিবাসীদের জাতিয়তা ভারতীয়, হিন্দী নয়। যারা মনে করেন বংগবন্ধু এই সাধারন বিষয়টা বুঝতে পারতেন না, তারা নিশ্চই বংগবন্ধুর প্রতি অবিচার করছেন।

কিন্তু এক সাধারন মেজর জিয়া এই বিষয়টাই মানুষের সামনে নিয়ে এসে অসাধারণ হয়ে উঠলেন। বললেন, বাংলাদেশের অধিবাসীরা "বাংলাদেশী"। তিনি সংখাগরিষ্ঠ মুসলমানের সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করলেন আর গনতন্র ফিরিয়ে দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করলেন। "বাংলাদেশী" ঘোষণাটি যদি বংগবন্ধু দিয়ে যেতে পারতেন, তাহলে অনেকেই ধন্য ধন্য করে উঠতো। বির্তক শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমান ঘোষণাটি দেয়ার পর। হয়তো এই বির্তকটি চলছে সাধারন মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্যে। তলে তলে আওয়ামীলীগ বিএনপি নেতাদের দারুন মিল। সুযোগ পেলেই বিয়াই পাততে দেরী করেন না। রাতের বেলা এক সাথে ডিনার সারেন আর দিনের বেলা এক অন্যকে গালি দেন। সত্যি সেলুকাস!!!!!!!!
34894
৩৫
্মক্কা থেকে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন লিখেছেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ০২:২৮
সুন্দর আর বাস্তবাদি লেখা উপহার দেয়ার জন্ন্য লেখিকাকে ধন্ন্যবাদ।
35064
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy