কোন্ দল রাষ্ট্র পরিচালনা করছে সেটি আমার কাছে মুখ্য বিবেচ্য বিষয় নয়, বরং যে দল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে সরকার পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক স্কীকৃতি লাভ করেছে-সে দলের গঠিত সরকারটি দেশ ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, আইন শংখলা ও সুবিচার, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা বা সমুন্নত রাখছেন কি-না সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলে অবস্থান করে বিভিন্ন দল কখনো নির্বাচনে সুক্ষ কারচুপি, কখনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আন্ডারষ্ট্যান্ডিং-এর সরকার ইত্যাদি অভিযোগ উত্থাপন করে সরকার গঠনকারী দলের ক্ষমতা গ্রহণের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। দেশবাসী কিন্তু সে সব প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের অধীনেই প্রতিবার ৫ বছর মেয়াদ অতিবাহিত করেছে এবং করছে । বিভিন্ন দলের ব্যানারে ক্ষমতায় আসা এ দলগুলো নির্বাচনের পূর্বে দেয়া ওয়াদা কতটুকু পুরন করেছে এবং জনগনকে সুশাসন উপহার দেয়ার পরিবর্তে কতটুকু দুঃশাসন উপহার দিয়েছে জনগণ তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে। মজার ব্যাপার হলো আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সর্বদা বিভিন্ন আদর্শের কথা বলে জনগণকে প্রলুব্দ করতে চাইলেও সে সব আদর্শের সঠিক রূপ বা বর্ণনা খুব বিদ্যান বা সুশীল সমাজ ব্যতীত আম জনতার কাছে তা দুর্বোধ্য এবং কখনো ভাসা ভাসা ধারনা বলে মনে হয়।
জনগন কখন বিভ্রান্ত হন :
জনগন তখনই বেশী বিভ্রান্ত বোধ করে যখন তারা দেখতে পায় - ঐ সব মূল্যবান রাজনৈতিক আদর্শের প্রচারকারী সংশ্লিষ্ট দলটিই ক্ষমতায় গেলে প্রচারিত আদর্শের কিছুই অনুসরন বা বাস্তবায়ন করে না। যেমন-পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দুরীকরন এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য যে আন্দোলন করেছিলেন - বাংলাদেশ আমলে আমরা বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম - গণতন্ত্রকে বিদায় করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত মাত্র ৪টি সংবাদপত্র ছাড়া দেশের সকল সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন বাতিল করে বাকস্বাধীনতাকে বিদায় দিতে। এমনকি যে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছিলেন, সেই আওয়ামী লীগকেও অন্যান্য সকল দলের সাথে বিলুপ্ত করে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিএনপি যতই জাতীয়তাবাদী আদর্শের কথা বলুক না কেন তাদের ক‘জন নেতা শহীদ জিয়ার সততা, দক্ষতা, দেশপ্রেম এবং উন্নয়নের রাজনীতির আদর্শকে মেনে চলেছেন ? শহীদ জিয়া শুধুমাত্র খাল কাটা কর্মসূচী হাতে নিয়ে ফারাক্কার মরণ ফাদের প্রভাবে শুকিয়ে যাওয়া দেশের মাটিকে উর্বরকরণ, গাছ-পালা এবং শষ্য ফলানোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করা এবং মৎস উৎপাদন ও নৌযোগে পণ্য সরবরাহের যে কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন; গত দু‘বারের বিএনপি পরিচালিত সরকার কর্তৃক একটি খালও খনন করতে আমরা দেখিনি।
আবার, ৫ম সংশোধনীর বদৌলতে পুনরুজ্জীবিত হয়ে পুনরায় বাংলাদেশে রাজনীতি চর্চা করার সুযোগ প্রাপ্ত আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে প্রচার করলেও আমরা দেখেছি-এ আওয়ামী লীগ সরকারই ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে দেশের সংবিধান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটি চুক্তি রক্ষার করে উক্ত দেশদ্রোহী সন্ত্রাসী গোষ্ঠির হাতে দেশের এক-দশমাংশ এলাকা সারেন্ডার করেছিল। চলতি আমলেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশবাসী ও সংসদকে অগোচরে রেখে ভারতের সাথে সড়ক ও নৌ ট্রানজিট, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি সহ মোট ৫০টি বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে- যার বাস্তবায়ন দেশের অস্থিত্বকে হুমকির সম্মখীন করে তুলবে বলে সচেতন দেশবাসী মনে করেন। আরো বৈপরীত্যের বিষয় হলো এই যে, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও তার সর্বশেষ রাজনৈতিক আদর্শ তথা ও একদলীয় বাকশাল বাস্তবায়নে এ দলটির কোন প্রকাশ্য ঘোষণা নেই। যদিও বিরোধী দলগুলো এমন অভিযোগ করে আসছে যে- আওয়ামী লীগ পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে দেশে পুনরায় ৪র্থ সংশোধনী বাস্তবায়ন করতে চায়। তবে আমি মনে করি-আওয়ামী লীগ কখনই বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাস্তবায়িত ৪র্থ সংশোধনী পুনরায় বাস্তবায়িত করতে যাবেনা; কেননা সেক্ষেত্রে অন্যান্য সকল দলের সাথে আওয়ামী লীগ নিজেও বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং আওয়ামী লীগের প্রচারপত্র সকল দৈনিকও বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থ্যাৎ, অজগর সাপ যখন নিজেই নিজের লেজ গেলা শুরু করে- ব্যাপারটি তেমন হবে।
নাগরিকদের প্রত্যাশাঃ
এবার ফিরে আসি- কোন সরকারের কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা কি - সে বিষয়ে। জনগণ চায় : কোন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার বৈধতা অর্জন করতে হলে ১/১১ এর মত চক্রান্ত করে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনতাই করেনি; স্বাধীনতার চেতনার দাবীকারী কোন সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা হরন করা হবেনা; সুশাসনের পরিবর্তে জরুরী আইনের দুঃশাসন দিয়ে জাতিকে চাবকানো হবেনা; রক্ষী বাহিনীর মত কোন প্রাইভেট বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা কর্মীকে নির্যাতন ও হত্যা করা হবেনা; ক্রস ফায়ারের মত বিচার বহির্ভুত হত্যা এবং পুলিশ হেফাজতে মুত্যর ঘটানা ঘটানো হবে না; বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের উপর হামলা, মামলা, জেল-জুলুম চালিয়ে দেয়া হবেনা; কোন বেরোধী দলীয় নেতা-নেত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা হবেনা; রিমান্ডের নামে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মত কোন নাগরিককেই বিবস্ত্র করে অমানবিক নির্যাতন করা হবেনা; সরকার প্রধান বা মন্ত্রী এমপিদের পুত্র কন্যা ও আত্মীয়স্বজনের ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতি বেকসুর মাফ পেয়ে যাবেনা; ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের নামে দায়েরকৃত হাজার হাজার মামলা বিশেষ কমিটি গঠন করে খারিজ করা হবেনা; শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের লাইসেন্স দেয়া হবেনা; বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনকে দাঙ্গা পুলিশের টিয়ারগ্যাস আর লাঠি-পেটা দ্বারা দমন করা হবে না; মির্জা আব্বাসের বাড়ীতে হামলার মত বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের পারিবারিক বাসস্থানে র্যাব-পুলিশ দ্বারা হামলা চালিয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সহ মা বোনদেরকে বর্বরোচিতভাবে নির্যাতন করা হবেনা; সাংবাদিকদেরকে সত্য ঘর্টনা প্রকাশ করার দায়ে দেশব্যাপী ২/৩ ডজন মামলা দিয়ে হয়রানী করা হবেনা; সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে এবং বিরোধী দলীয় প্রয়াত নেতাদের প্রতি অসম্মানজনক কথা বলা হবেনা; নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির বাজার-দর সাধারন মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে সরকার ব্যর্থ হবেনা; দেশের লক্ষ লক্ষ বেকারদেরকে দেশ-বিদেশে চাকুরীর সুযোগ দেয়া থেকে বঞ্চিত করা হবেনা; নিজ দলীয় সন্ত্রাসীদেরকে সন্ত্রাসের লাইসেন্স দেয়া হবেনা;
মন্ত্রী এমপিদেরকে শত শত কোটি টাকা লুট করার সুযোগ দেয়া হবেনা; প্রশাসনকে দলীয়করন করা হবেনা দেশের সীমান্ত নিরাপত্তাকে দূর্বল করা হবেনা; দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে পিলখানার মত বিদেশী এজেন্ট দ্বারা হত্যা করার কোন ষড়যন্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সরকার ব্যর্থ হবেনা; কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকে জনগনের উপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া হবেনা; বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতারা ধর্ষনের সেঞ্চুরী করতে সক্ষম হবে না; বানিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানকে যেভাবে পাওয়ার প্রজেক্ট দেয়া হয়েছে সেভাবে কোন মন্ত্রী এমপিকে বিনা টেন্ডারে শত-শত কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট দিয়ে দেয়া হবেনা; সরকারের দুঃশাসনের সমালোচনা করতে পারে - এমন আলোচকদেরকে টেলিভিশনের টকশোতে অংশগ্রহনের ক্ষেত্রে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারী হবে না; ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বৈমাত্রেয় আচরন করা হবেনা এবং বিদেশী এজেন্ট ও উগ্রবাদী কিছু ব্যক্তির কর্মকান্ডকে পুরো আলেম সমাজের উপর চাপিয়ে দেয়া হবেনা; জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মত বিরোধী দলীয় নেতা-নেত্রীর নামে নামকরনকৃত কোন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হবেনা; নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত কোন উপ-নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে মাগুরা বা লালমোহনের উপ-নির্বাচনের মত প্রভাবিত করা হবেনা; ক্ষমতাসীন থাকার সুবাদে রাষ্ট্রীয় কোন ভিভিআইপি ভবন বা সম্পত্তি বিনা পয়সায় লিখে নিয়ে গ্রাস করা হবেনা; দেশের ভিভিআইপিদের জন্য নিযুক্ত নিরাপত্তা বাহনীকে কোন নেতা-নেত্রীর আজীবন নিরাপত্তা দানের প্রাইভেট বাহিনীতে পরিণত করা হবেনা; ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদেরকে টেন্ডারলুট, অপরের সম্পত্তি দখল এবং চাঁদাবাজির সুযোগ দেয়া হবেনা; সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি কুক্ষিগত করা বা তাদের উপর নির্যাতন করা হবেনা; নোবেল পুরস্কারের মত বড় কোন পুরস্কার লাভের মোটিভে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মত কোন এলাকা সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দেয়া হবেনা; দেশদ্রোহী ও সন্ত্রাসী শান্তিবাহিনীর গনহত্যার মত মানবতা বিরোধী ক্রাইমকে বিনা বিচারে ক্ষমা করে দেয়া হবেনা; দেশের মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ ধুয়া তুলে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভাজন তৈরী করা হবেনা; বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশকে উগ্র-মৌলবাদীদের স্বর্গ হিসেবে উপস্থাপন করা হবেনা;
দেশের আদমজী জুট মিলের মত শিল্প-কারখানাগুলো একে একে বন্ধ করে দেয়া হবেনা; কৃষি ও যোগাযোগ খাতে ছোট খাট যন্ত্রপাতি দেশে তৈরী করার প্রযুক্তি আহরন থেকে সরকার জাতিকে বঞ্চিত রাখবেনা; বিদেশী কোন আধিপত্যবাদী শক্তির সামরিক বা আধা-সামরিক বাহিনীকে বাংলাদেশের অবস্থানের অনুমতি দিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিদেশী শক্তির অনুপ্রবেশ করানো হবেনা; দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুন্নকারী কোন গোপন বা প্রকাশ্য চুক্তি করে আধিপত্যবাদী কোন শক্তির কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বার্থ সমর্পন করা হবেনা; সীমান্তে বাংলাদেশীদেরকে ভিন্নদেশী বাহিনী কর্তৃক হত্যা চালিয়ে যেতে দেয়া হবেনা; পদুয়ার মত সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের কোন ভুখন্ড প্রতিবেশী রাষ্ট্র কর্তৃক দখল করতে দেয়া হবেনা; সীমান্তরক্ষী বাহিনী কোন আগ্রাসী বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হলে আগ্রাসী বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমাদের প্রধান মন্ত্রী আগ্রাসী দেশের প্রধান মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করবেনা; বিদেশে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘মুখ্যমন্ত্রী‘ বলে সম্বোধন করে অপমান করলে তার কুটনৈতিকভাবে জবাব দেয়া থেকে সরকার বিরত থাকবেনা; পার্শ্ববর্তী দেশের কোন প্রাদেশিক পর্যায়ের প্রয়াত নেতাকে (যেমন পশ্চিবংঙ্গের জ্যোতি বসু) আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘অভিভাবক’ বলে অভিহিত করবেননা বরং যথাযথ কুটনৈতিক ভাষায় সম্মান দেখাবেন; পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ দেশের যে কোন অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশের অনুপ্রবেশকারী ও বসতি-স্থাপনকারীদেরকে ফেরত পাঠানো থেকে সরকার পিছপা হবে না; ক্ষমতার জোরে কোন সরকার স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করবেনা; নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পেছনে ষড়যন্ত্র করা হবেনা; কোন নেতা-নেত্রী এক হত্যার বদলে দশ হত্যার জন্য তার কর্মী সমর্থকদের উৎসাহ না দিয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দান থেকে বিরত হবেনা; স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে বিশ্বাঘাতকতাকারী ফ্যাসিস্ট বাকশাল সরকারের কোন নেতাকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের কোন সাংবিধানিক পদে বসানো হবেনা; কারাগারে বন্দীদের হাতে স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা স্বাক্ষ্য আদায় ও প্রপাগান্ডা ফিল্ম তৈরী করার মত ঘৃন্য কাজ কোন সরকার করবেনা, মানুষের মৌলিক চাহিদা তথা অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দল-করণ ও বাক স্বাধীনতা ইত্যাদি নিশ্চিতকরনে কোন সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দেবেনা;
কোন সরকার দেশের জাতীয় সম্পদ যেমন তেল-গ্যাস কয়লা সহ যাবতীয় খনিজ সম্পদ এবং রাস্তা-ঘাট নৌ ও বিমান বন্দর ইত্যাদি কোন বহিঃশক্তির কাছে ইজারা দেবেনা; দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হবে- এমন মান অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার ব্যর্থ হবেনা; দেশের মধ্যে বিদেশী এজেন্ট হিসেবে সকল উগ্রবাদী, বর্ণবাদী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে কঠোর হস্তে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হবেনা; নির্বাচিত সরকার প্রধান এবং মন্ত্রীগণ কোন দলীয় সরকার প্রধান বা মন্ত্রী হিসেবে আচরন না করে দেশের সকল মানুষের প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হিসেবে আচরন করতে ভুলবেন না; প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে দলীয় অফিস হিসেবে পরিণত করা হবেনা; দেশের সকল আবাসিক এলাকা, শিল্প কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী ও স্বায়ত্ব শাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিয়মিত সংযোগ সুবিধা দানে ব্যর্থ হবেনা; রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ যা জনগণের অতি কষ্টার্জিত কর (ট্যাক্স) দ্বারা গঠিত- তা দলীয় কোন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হবেনা; সরকার কোন সন্ত্রাসী গডফাদারকে প্রশ্রয় দেবেনা; ফেনীর কুখ্যাত জয়নাল হাজারী নাকি কোন একটি রাজনৈতিক দলীয় প্রধানের আদর্শ পুরুষ (!)- এমন কথা জাতি শুনতে পাবেনা; সরকারের মন্ত্রী এমপিরা সহযোগী ছাত্র-সংগঠনকে বিরোধী দলের নেতা কর্মী এবং রাজনৈতিক কর্মসূচী প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করবেনা; সরকারী মদদপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীবাসের (যেমন ইডেন কলেজ) ছাত্রীদেরকে মন্ত্রী এমপিদের বাসায় যৌন কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করবেনা; টেন্ডার, চাঁদাবাজী এবং আদিপত্ত রক্ষার জন্য ক্ষমতাসীন দল নিয়ন্ত্রিত কোন সংগঠন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সতীর্থদের উপর রামদা বন্দুক ইত্যাদি নিয়ে হামলা চালাবেনা; ক্ষমতাসীন দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডারদেরকে পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি বিরোধী দল দমনে লেলিয়ে দেয়া হবেনা; বিদেশী কুটনীতিকদেরকে দেশে ক্রসফায়ার হচ্ছে না বা নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাবস্থায় নির্যাতনের ফলে শ্রমিক দলনেতা বাকেরের মত হত্যার শিকার হচ্ছেনা- এমন অসত্য ভাষণ শোনানো থেকে সরকার বিরত থাকবেন এবং তাদের বোকা ভাবা হবেনা; কোন বিরোধী দল মাত্র ১ বছরের মাথায় সরকারকে ট্রাম কার্ড দেখাবেনা; কোন বিরোধী দল গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরদেরকে লগি বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে গণহত্যা চালাবেনা; কোন বিরোধী দল হরতাল পালনের সময় বোমা মেরে বাস যাত্রীদেরকে হত্যা করবেনা; কোন সরকার ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে বিরোধী দলের মিটিং মিছিলের সময় নারীদের ওপর ‘ধ্রুপদীর বস্ত্রহরন‘ জাতীয় ঘটনা ঘটাবেনা।
একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দেশবাসীর চাহিদা বা আশা আকাংখার কিছু বিষয় উপরে তুলে ধরলাম মাত্র, স্বল্প পরিসরের নিবন্ধে সকল বিষয় সংকুলান করা সম্ভব নয়। তবে উপরোক্ত বিষয়গুলো যদি সরকার নিশ্চিত করেন এবং নিজেদেরকে মানুষের প্রভূ মনে না করে জনগনের ভৃত্য হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেন- তাহলে আমাদের দেশের চেহারাই বদলে যাবে এবং সত্যিকারের ‘দিন বদল‘ বাস্তবায়িত হবে।
কোন্্ দল ক্ষমতাসীন আছেন তা কারো কোন দুঃশ্চিন্তার বিষয় হবার কথা নয়, কেননা জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে যে কোন একটি দলকে অন্তত পরবর্তী ৫ বছর মেয়াদের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব অর্পন করে। যখন যে দলই ক্ষমতাসীন থাকুন না কেন সে সরকার নাগরিকদের উপরোক্ত চাহিদা পূরনে ব্যর্থ হবেনা এবং দেশকে শিক্ষা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার, বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় চেতনা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি বিষয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবেন - এটাই জনগণ প্রত্যাশা করে।
This is a piece of excellent article written by Major Faruk Ahmed. All politicians will be benefited reading this article.
In drama “Macbeth” written by Shakespeare, an unseen power of the universe was seen to chase the criminal.
Every politician should follow the rule of law and be honest to fulfill election commitment.
Patriot citizens can inspire their friends to read this article.
29835
২
London,UK থেকে Syed Abu Bakar Siddique লিখেছেন,
৩১ জুলাই ২০১০; রাত ১০:১০
I enjoyed reading this article.All patriotic political masters should read this pertinent story based on reality of our national politics.
A true guide line for political masters-----for the prospect of our nation---
29847
৩
Sweden থেকে Shaheen লিখেছেন,
৩১ জুলাই ২০১০; রাত ১০:৪৪
Dear Major Faruque,
This is really a very very commendable statement that we have ever never noticed so all the praises that is found in scrupulous thesaurus are for you.tThis is fact that my respect and admiration to you has so far accrued that beyond of description,as you were much more aware about totalitarian of BAKSAL than us.There can not be denying the fact that we had been eye witness of absolutism Sheikh Mujib and his sycophants and the barbarism committed by so called RAKKI bahini to eliminate opponent while there had no been other political parties excepting JSD.Now his daughter with the assistance of her god father India and making every possible endeavour to establish the same BAKSALto get extinction mainly the BNP and Jamat. The another flimsy issue put on their map as a war crimes while the real war criminals had been emancipated by Sheikh Mujib.It is however, Mr. Faruque god bliss you and give courage to raise your voice like Mr. Mahmudur Rahman to establish the truth in the soil of Bangladesh.
29850
৪
UK থেকে Dr K Malik লিখেছেন,
০১ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৫:৪৬
Excellent contribution from Major Faruk Ahmed (retired). The nation needs more Faruk Ahmeds to speak for the common citizens.
29908
৫
khulna থেকে SHIRONAM লিখেছেন,
০১ অগাস্ট ২০১০; সকাল ১১:৫৯
শান্তি চাইলে আসে না শান্তি
করিতে হবে কাজ,
কাজ করিলে আসবে ফিরে
সোনালী ঐ রাজ।
কথাই বড় কাজে জিরো
আসবে নাতো ফল,
বাকশাল রুখতে আয় যুবারা
গড়ি নতুন দল।
কোন কারনে ভাবছ তুমি
হেরে গেছি মোরা,
দালাল কভূ জয় পাবে না
বদলে দেবো ধারা।
29943
৬
khulna থেকে SHIRONAM লিখেছেন,
০১ অগাস্ট ২০১০; দুপুর ১২:১৯
পুলিশ আমি
পুলিশ আমি সদা রাইট
সরকারের গোলাম,
আইন আমার হাতের মুঠোয়
দিতে হবে জানান।
এক নারীরে দেখে সেদিন
হয়েছিলাম ব্যাকুল,
সহাস্যে জানিয়ে ছিলাম
আমি আমার আকুল।
লজ্জার নারীর হাত ধরে
দিলাম একটান,
ঐ নারী তেড়ে আসল
হয়ে আগুয়ান।
বললাম আমি কাপড় খুলো
করনা ঝামেলা,
পুলিশের কাজে বাধা দিলে
করিব মামলা।
ওমনি নারী চুপে গেল
কাজ সারিলাম একা,
কে আমারে করবে আজি
একটু বোকা ঝোকা?
29951
৭
কাতার থেকে শামীম লিখেছেন,
০২ অগাস্ট ২০১০; সকাল ১১:১৮
ধন্যবাদ সুন্দর বুদ্ধিবৃত্তিক লেখার জন্য। সত্যে পথে যাদের কলম চলবে তা জিহাদের জন্যই অস্ত্র।
30124
৮
সুন্দর দেশ থেকে আশাবাদী ভালো মানুষ লিখেছেন,
০৩ অগাস্ট ২০১০; রাত ০৯:৩১
30358
৯
New York, USA থেকে Probashi লিখেছেন,
০৪ অগাস্ট ২০১০; সকাল ০৫:৩১
েমজর ফারুখকে ধন্যবাদ ত্াঁর মনের ভাব গুছিয় প্্রকাশ করার জন্য. তবে এ লেখাটা বেশী এক পেশে হয়ে গেল না? BNP & BJI এর ও কিছু ত্রুটি উলেলখ করলে লেখাটা আরো জোরালো হতো. তবে লেখা বেশ ভাল হয়েছে. আরো লিখবেন.
30395
১০
টরোন্ট,কানাডা। থেকে আবদুস সামাদ লিখেছেন,
০৫ অগাস্ট ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:২১
ফারুক সাহেব,অত্যন্ত সত্য সুন্দর সমালোচনাও গঠন মূলক নির্দেশনাসম্বলিত লেখা
উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
ক্ষমতা হাতে পাওয়ার আশায় সব দলই ভাল ভাল কথা বলে,এর পর 'যে লঙ্কায় যায়,সেই রাবণ হয় নীতিিতে পেয়ে বসে।'আবার তুই ইঁদুর হ'বলে যে একটা মন্ত্র
আছে তা সব দলই ভুলে যায়।
আপনার লেখা থেকে কিছু শিক্ষা লাভ হোক এই কামনা করি।
30582
১১
কাতার থেকে শামীম লিখেছেন,
০৭ অগাস্ট ২০১০; সকাল ১১:১৮
যোগ্য লেখাটি সর্বসাধারনের কথা। কিন্তু ভুলে যায় ক্ষমতার গরমে।
30732
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
In drama “Macbeth” written by Shakespeare, an unseen power of the universe was seen to chase the criminal.
Every politician should follow the rule of law and be honest to fulfill election commitment.
Patriot citizens can inspire their friends to read this article.