শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০২:১২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

মালয়েশিয়ায় কমপক্ষে ৩ লাখ শ্রমিক অবৈধঃ কলিং ভিসা চালু না হবার নেপথ্য কারণ

গৌতম রায়

মালয়েশিয়ায় দিনে দিনে অবৈধ শ্রমিকের মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে কমপক্ষে ৩ লাখ শ্রমিক বর্তমানে অবৈধ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে যেন কারো কোন মাথাব্যাথাই নেই। অথচ অনেকে উম্মাদ হয়ে পড়েছেন কলিং ভিসার জন্য। কিন্তু অবৈধদের কি হবে সেটা কেউ ভাবছেন না। এত কিছুর পরও তর সইছে না। যেভাবেই হোক কলিং ভিসা চালু করতেই হবে। এছাড়া কিছুই আর শুনতে ভালো লাগে না। ‘তোরা যে যাই বলিস ভাই আমার কলিং ভিসা চাই’। আদম বেপারী বা দালালের আকুতি এরকমই। আর টাকার থলে নিয়ে বাংলাদেশে চৌকাঠে বসে থাকা বেকার যুবক আকাশের তারা গুনছে- কবে স্বপ্ন হবে সত্যি। মালয়েশিয়ার সোনার হরিণ ধরবে। অনেকের দিবারাত স্বপ্ন- যে করেই হোক মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চাই। অবশ্য এখন আর মুখে কেউ আটকে থাকা ৫৫ হাজার কাজের কথা বলছেন না। কারন ঐ কাজের ফাইল এতদিনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কেউ কাউকে আর সান্ত্বনার বানী শোনাচ্ছে না। বাংলাদেশে এই যখন অবস্থা তখন মালয়েশিয়ার মনোভাব একদম স্পষ্ট- না। কিন্তু যতবারই ‘না’ বলা হয় ততবারই যেন আমাদের অনুভূতি এমন- এটা মুখের কথা, মনের কথা নয়। তারপরও এত তৎপরতা, আগ্রহ ও অধৈর্য্য মানসিকতার কারনে দিন দিন আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে মালয়েশিয়ার এই শ্রমবাজারটি। গুজবে গুঞ্জনে সয়লাব হচ্ছে চারিদিক। সবকিছু মিলিয়ে ‘কলিং ভিসা’ নিয়ে তলে তলে তোলপাড় চলছে। কিন্তু কেন কলিং ভিসা হচ্ছে না সেটা খতিয়ে দেখছেন না অনেকেই।

আজ একথা নির্বাধায় বলা সাজে- পৃথিবীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক ও কাছের শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। কিন্তু এই লাভজনক বাজারটিকে তিলে তিলে ধংস করেছে কিছু মানুষ। সে ইতিহাস সবারই জানা। এরা যেদিকে গেছে সেদিকেই শ্রমবাজারকে ধংস করে এসেছে। এককালের অতি লাভজনক মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার আজ বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় যেখানেই শ্রমিক রপ্তানী করা হয়েছে সেখান থেকেই এসেছে নানা দুসংবাদ। বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সীগুলোও এত বেশী প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ত যে, তাদের বিরুদ্ধে কখনোই কোন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার কথা শোনা যায়নি। অথচ বিদেশে শ্রমবিক্রি করতে গিয়ে বহু পরিবারে যেমন স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে ঠিক তেমনি বহু পরিবার মাটিতে মিশে গেছে। ২০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় যেখানে একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মাসিক আয় ছিল ৭/৮ শ’ রিঙ্গিত ২০ বছর পরও একই জায়গায় নতুন বাংলাদেশি শ্রমিকরাও পাচ্ছে সেই একই মজুরী। এই ২০ বছরে বিশ্বে পন্যের মূল্য বহুগুন বৃদ্ধি পেলেও নতুন শ্রমিকদের বেলায় বাড়েনি এক টাকাও। সর্বনিম্ন বেতন ১৮ রিঙ্গিত ৫০ সেন্টে এখনো শ্রমিককে শ্রম বিক্রি করতে হচ্ছে। যেখানে লেভী ও আনুসাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়েও একজন মানুষের দৈনিক কমপক্ষে খরচ হয় ৮/১০ রিঙ্গিতের মতো। আবার সেখান থেকে নানা উপায়ে অর্থ কর্তনও চলে। এই মজুরী বৈষম্যের কারণেই মূলতঃ মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশী শ্রমিক চুক্তিবদ্ধ কোম্পানী পরিবর্তন করে অবৈধ হতে বাধ্য হয়েছে। এরপরও এ বৈষম্য দূর না করেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রপ্তানীর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকারও সহজেই বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালুর পক্ষে খুব বেশী ইতিবাচক মনে করা যায় না। কারণ-

অবৈধ শ্রমিক সমস্যাঃ
মালয়েশিয়ায় কতজন শ্রমিক অবৈধ এ মুহুর্তে এর কোন সঠিক হিসাব না থাকলেও ধারনা করা হচ্ছে ৩ লাখ শ্রমিক অবৈধ রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ট্যুরিষ্ট ভিসা, ষ্টুডেন্ট ভিসা বা বিভিন্ন উপায়ে এসে অবৈধ হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা। যেখানে এতজন শ্রমিক আজ অবৈধ হয়ে মালয়েশিয়ায় এক অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে সেখানে নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর চিন্তা করা বোকামীরই নামান্তর। মালয়েশিয়া সরকারও জানে এ শ্রমিকদের বৈধ করার আগে বা দেশে ফেরত পাঠানোর আগে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানী করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তার উপর বৈধ শ্রমিকদের ভিসা রিনিউ হচ্ছে না ইমিগ্রেশন সমস্যার কারণে। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে আদম ব্যবসায়ী ও এর সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা বুকভরা আশা নিয়ে থাকলেও কার্যতঃ শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই ধারনা করা যায়। এর সাথে মালয়েশিয়ায় ট্যুরিষ্ট ভিসার নামে যেভাবে লোক এসে এদেশে অবৈধ অভিবাসীর খাতায় নাম লেখাচ্ছে তা বন্ধ না করতে পারলে শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনাকে আরো সুদূর পরাহত করবে।

স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের আপত্তিঃ
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিক রপ্তানীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধান প্রতিবন্ধক মালয়েশিয়ার শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমবাজারের সেই শুরু থেকেই তাদের বিভিন্ন আপত্তির কথা শোনা যায় প্রায়ই। কারণ, মালিকরা একজন বিদেশী শ্রমিককে যে বেতন প্রদান করছে তা মালয়েশিয়ার একজন শ্রমিকের জন্য খুবই অপ্রতুল। মালিকরাও বিদেশী শ্রমিককে দিয়ে যে শ্রম আদায় করে নিতে পারে তা স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে আদায় করা সম্ভব নয়। কারণ একজন বাংলাদেশি শ্রমিক যখন ওভারটাইমের জন্য মালিকের কাছে ধর্না দেয় তখন একজন স্থানীয় শ্রমিক ওভারটাইম করতে বাধ্য না থাকায় ৮ ঘন্টা শ্রমই সে যথেষ্ট মনে করে। এছাড়া স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য ইপিএফ, সকসো ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা দিতে মালিক বাধ্য থাকে। আর বাংলাদেশি শ্রমিকের বেলায় হয় তার বিপরীত। বিভিন্ন উপায়ে মালিক শ্রমিকের বেতন থেকে অর্থ কর্তন ও বিভিন্ন প্রতারণার সুযোগ বের করে নেয় সহজেই। কাজেই মালিকদের সর্বপ্রথম পছন্দ বিদেশী শ্রমিক। এতে স্থানীয় শ্রমিকরা বিভিন্ন কোম্পানীতে কর্মসুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন মালিকদের স্থানীয় শ্রমিক সরবরাহে বাধ্য করার জন্য সবসময়ই বিদেশী শ্রমিক বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিক সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এ সংগঠন খুব প্রভাবশালী।

রাজনৈতিক ইস্যুঃ
অপ্রিয় হলেও সত্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক সরবরাহের কারণে বার বার মালয়েশিয়া প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢুকে যায়। যার কারণে ইতিমধ্যে এসব বিষয়গুলো রাজনীতির ইস্যুতে পরিনত হয়েছে। ইমিগ্রেশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পরই। এছাড়া বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিরোধীদল অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী শক্তিশালী। তাই বর্তমান সরকার বাংলাদেশি শ্রমিক আমদানী করে কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বলে অনেকের ধারণা। এছাড়া মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকার প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করাতে আন্তরিক বলেও জানা গেছে। অনেকের ধারণা, বাংলাদেশের ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় একটু ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। কারণ ওআইসির মহাসচিব পদে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে যে সম্পর্কের চিড় ধরিয়েছে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে সে প্রসঙ্গ সামনে আসলে তখন বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারনের সম্ভাবনা কমে আসে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ঘাটতিঃ
কাগজে কলমে বা সভা মঞ্চে যতই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলা হোক না কেন, বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার সম্পর্কে ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। যথাযথ সম্পর্কোন্নয়ন হলে মালয়েশিয়ায় আজ অন্ততঃ ৩ লাখ শ্রমিকের অবৈধ হওয়া বা জেলে যাবার কথা নয়। বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার যতটুকু সম্পর্কোন্নয়ন রয়েছে এতে লাভবান হচ্ছে মালয়েশিয়া। কারণ এখনো বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার বানিজ্য ঘাটতি বহুগুন বেশী। এছাড়া সম্প্রতিকালে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন আলাপ আলোচনা বা শীর্ষবৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ আশানুরূপ কোন সুফল পেয়েছে বলে ধরে নেয়া যায় না। বাংলাদেশে মালয়েশিয়াই এশিয়ার মধ্যে প্রধান বিনিয়োগকারী দেশ। সেখানের বাতাসও মালয়েশিয়ারই অনুকূলে।

দুর্বল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাঃ
বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার বানিজ্য ঘাটতি দূরীকরণে অন্ততঃ বাংলাদেশের একটি সুযোগই সামনে ছিল। সেটা হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে অর্থনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমবাজার সম্প্রসারনের সুযোগ গ্রহন করা। কিন্তু বাংলাদেশের দুর্বল কূটনৈতিক পদক্ষেপে বাংলাদেশ এ সুযোগ লাভে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকান্ড এতবেশী দুর্বল যে, বাংলাদেশের শ্রমিক সমস্যা সমধানে ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় কখনোই মালয়েশিয়ার সাথে দর কষাকষি বা জোড়ালো উদ্যোগ গ্রহন করতে দেখা যায়নি। যেখানে মালয়েশিয়ায় অন্য সোর্স কান্ট্রিগুলো এদেশে তাদের শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সারাক্ষণ সচেষ্ট, সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনের নীরবতা কুম্ভকর্নের মতোই নিদ্রাতুর। এছাড়া শ্রমবাজারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্বল দিকগুলো দূর করতেও হাইকমিশনের ভূমিকা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। যা প্রবাসীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ।

শ্রমবাজারেও সিষ্টেম লসঃ
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ চুরি বা বিদ্যুৎ ঘাটতির অপর নাম সিষ্টেম লস। যা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারেও চোখে পড়ে। আর এই সিষ্টেম লসের কারনেই শ্রমিকরা ৩ বছরের চুক্তিতে এসেও অনেকেই সে তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমসিম খাচ্ছে। সেখানে লাভের অংশ কবে যে আসবে শ্রমিকরা জানে না। মালয়েশিয়ায় লেভী দিয়ে শ্রমিক পাঠিয়ে যেভাবে সিষ্টেম লস করা হয়েছে সেখানে এই সিষ্টেম লস বন্ধ না করে শ্রমিক রপ্তানীর চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশকে বার বার এরকম সিষ্টেম লসই দিতে হবে। এখন মালয়েশিয়াও বুঝে ফেলেছে সিষ্টেম লস্ হচ্ছে কোথায়। তাই বিভিন্ন আলোচনায় মালয়েশিয়া সরকার বার বার এই সিষ্টেম লসের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। কারণ সিষ্টেম লস যেখানেই হোক না কেন ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে শ্রমিকের উপরেই। কাজেই মালয়েশিয়া সরকারও এই সিষ্টেম লসে অসন্তোষ্ট।

মধ্যসত্ত্বভোগীদের অপকর্মঃ
মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের কষ্টের আরেক নাম- মধ্যস্বত্ত্বভোগী বা দালাল ব্যবস্থা। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার ধংসের পেছনে অন্যতম দায়ী এই গোষ্ঠীটি। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত কোন অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। অথচ বিভিন্ন সরকারের আমলে দেখা যায় এই গোষ্ঠীটির হাতেই দৃশ্যতঃ জিম্মি হয়ে পরে বাংলাদেশ হাইকমিশন। অতীতে এর ভূড়ি ভূড়ি দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের অনেকেই শ্রমিকের আয়ে ভাগ বসিয়ে প্রতি মাসে তার বেতনের অংশ খেয়ে ফেলছে। আবার শ্রমবাজার চালু থাকাবস্থায় দেখা গেছে এই দালাল বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা শ্রমিকদের এয়ারপোর্ট থেকে কোম্পানীতে শ্রমিক না পাঠিয়ে বা শ্রমিকদের গোডাউনে জিম্মি রেখে রিক্রুটিং এজেন্টকে বেকায়দায় ফেলে অর্থ আদায় করেছে। অবশ্য বহু এজেন্সীও মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ন খরচ পরিশোধ না করেই শ্রমিককে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দিয়েছেন। যার কারনে এয়ার পোর্টে শ্রমিককে কষ্টভোগ করতে হয়েছে। এতে শ্রমবাজারের সুযোগকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য মালয়েশিয়ায় স্থানীয় এই মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ‘আউটসোর্সিং’ কোম্পানীর নামে আজ বৈধতাও পেয়েছে।

ভারসম্য বজায় রাখাঃ
মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় ম্যানপাওয়ার সোর্সকান্ট্রি বাংলাদেশ হলেও মাত্র কিছুদিনেই যে পরিমান শ্রমিক মালয়েশিয়ায় এসেছে তা আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর জন্য রীতিমত ঈর্ষণীয়। কম সময়ে এত শ্রমিক সরবরাহের ঘটনা হঠাৎ অনেকের চোখে ভালো ঠেকেনি। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ব্যালেন্স রক্ষার তাগিদ এলে তখন মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমবাজার ফ্রিজ করে দিতে বাধ্য হয়। এমনকি বাংলাদেশকে সোর্সকান্ট্রির ভেতরেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।

রিক্রুটিং এজেন্সীর আত্মশুদ্ধির অভাবঃ
রিক্রুটিং এজেন্সীগুলোর খারাপ দিক যেমন আছে ভালো দিকও আছে অনেক। কারন আজ বাংলাদেশ যে দেড় হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সাফল্য অর্জন করেছে সেখানে এই এজেন্সীগুলোর ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু এজেন্সী মালয়েশিয়ায় যে অপকর্মগুলো করেছে তার বিরুদ্ধে সরকারও যেমন কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করেনি ঠিক তেমনি ব্যাবস্থা নেয়নি রিক্রুটিং এজেন্সী সংগঠন ‘বায়রা’। তারাতো আত্মশুদ্ধি করেইনি তেমনি দুঃখজনক সত্য যে, অনেক অভিযুক্ত ও শ্রমিক প্রতারনায় জড়িত এজেন্সীও এবার বায়রার নতুন কমিটিতে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তার অর্থ এটাই যে, বাংলাদেশে অপরাধ করে তিরস্কৃত হতে হয় না। সে পুরষ্কৃত হয়।

দেশপ্রেমের অভাবঃ
আদম ব্যবসা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য জনকল্যানমুখী একটি বাণিজ্য ব্যবস্থা। যদি সেটা একটি সুষ্ঠু নিয়মে চালিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বেকার যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল বৃদ্ধিতে এটাই এখন বাংলাদেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সীগুলোর অতি মুনাফা লাভের কারনে আজ দেশে দেশে এই শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেকক্ষেত্রেই অনেকে দেশপ্রেমের কথা ভুলে গিয়ে নিজের লাভের জন্য পক্ষান্তরে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে অন্যদেশের স্বার্থকে সুযোগ করে দিচ্ছে। যেমন, কোম্পানীগুলোর সাথে শ্রমিকদের বেশী বেতন দেবার দরকষাকষির চেয়ে তারা দরকষাকষি করে কম বেতনে বেশী শ্রমিক সাপ্লাইয়ের জন্য। এতে শ্রমিক তার উপযুক্ত মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, বাংলাদেশও অভীষ্ট বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে না। আর রিক্রুটিং এজেন্সীর পক্ষে এ কাজগুলো করছে ঐ মধ্যস্বত্ত্বভোগীরাই।

উপসংহারঃ
মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু না হবার পেছনে অনেক যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। কিন্তু এ কারনগুলো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা না হলে খুব সহজেই যে আর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু হচ্ছে না তা আদম ব্যবসা সংশ্লিষ্ট মহল না বুঝতে পারলেও শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিগন বোঝেন সহজেই। গোপনে আবডালে কৌশলে দুর্নীতির মাধ্যমে শ্রমবাজার চালুর সুযোগ এখন আর মালয়েশিয়ায় নেই। কারন এখন এদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আর তিন বছর আগের পরিবেশে নেই। মালয়েশিয়া তার নিজের প্রয়োজনেই যদি কোনদিন বাংলাদেশের শ্রমিক আমদানী করে থাকে করবে। নতুবা স্বপ্ন দেখেও কোন কাজ হবে না। শ্রমবাজার চালু না হবার নেপথ্য কারনগুলো যাচাই বাছাই করে উদ্যোগ নিলে হয়তো আবার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের এই লাভজনক শ্রমবাজারটি আলোর মুখ দেখতে পাবে।

লেখকঃ সম্পাদক/প্রকাশক, সাপ্তাহিক প্রবাসীকন্ঠ, মালয়েশিয়া

ই মেইলঃ gautammsia@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/GautamRay
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Riyadh থেকে Abdul Aziz Mir লিখেছেন, ২৪ জুলাই ২০১০; বিকেল ০৫:৫০
Excellent and outstanding.
But Mr.Gautam we can write only, I do not think some one really care about it. Probashe brothers in Saudi Arabia having the same problems, some our concern Probashe try to get the kind attention of our right authorities, but nothing happend so far. They do not care suffering of our peoples, but they care one thing for sure, that is foreign currency.We must continue our writing, until, unless solve the problem of the suffering peoples. I think this is our duty towards our suffering brothers, as a concern citizen of our beloved country. Most of the so called free media in Bangladesh do not publish the article if we send to them, I have practical experience, but I salute and appreciate the !Sonarbangladeshh! to published the articles/Columns, which are writing by Expatriates. That are the real news. The most news publish in Bangladesh about the problems of expatriates are fabricated,even some time writes negative news about host countries, that news make more suffer than solve the problems.
Saudi Arabia, the single largest country in the world, hosting more than two million Bangladeshi, we must be thankful, and we must respect like our 2nd homeland,that must be in any cost, otherwise we will be treated in the history as a betrayers! And these are the reality not emotional at all. I kindly request all the Probashe brothers,please respect the law of the host country.We,all carrying the flag of our country, we, also small ambassador of our beloved country,always remember that.Help yourself. Thanks
28637
malayasi থেকে md.shamsul islam 00660162524191 লিখেছেন, ২৪ জুলাই ২০১০; বিকেল ০৫:৫৮
i like your writtng please call me think......
28642
কুয়ালালুমপুর থেকে কাউয়ান লিখেছেন, ২৫ জুলাই ২০১০; দুপুর ১২:১২
ধন্যবাদ গৌতম বাবু। আপনি সুন্দর একটি যোগপযুগি আর্টিকেল লিখেছেন। আমি দীর্ঘ ১৬ বছর মালেশিয়াতে আছি। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো কুটনৈতিক ব্যর্থতা। দুতাবাস কোন সময় তার সঠিক সবল পদক্ষেপটি নিতে পারেনি। তবে অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আওয়ামীলিগ সরকার যতবার এসেছে ততবারই এই দেশে শ্রমিক আমদানি বন্ধ হয়েছে। একবার হয়েছে ১৯৯৬ সনে, একবার হয়েছে ২০০১ আরেকবার হলো ২০০৮/৯ সনে। জানিনা আভ্যন্তরীন সমস্যটা কি, তবে খোলা চোখে তাই দেখা যাচ্ছে। আর বিদেশে লোক পাঠানোর আগে দয়া করে তাদের কোন একটা কাজ শিখিয়ে পাঠান । এটা সরকারের প্রতি আমার আবেদন। কথা বলার মত ইংরেজি অবশ্যই শিখিয়ে অবশ্যই পাঠানো উচিত। ধন্যবাদ
28794
cairo থেকে idris লিখেছেন, ২৫ জুলাই ২০১০; দুপুর ০৩:৪৭
thank u .mr kawon bhai
28833
Asudi arabia থেকে Tuhin লিখেছেন, ২৫ জুলাই ২০১০; বিকেল ০৪:০৮
Mr. Kawan I think your a cow boy because you did not write the achual fect A-Z Bangladeshi know Tareq zia is the main criminal for stop the Malaysian calling vissa. when BNP was on the power,Tareq zia dimanded per calling 20000, Thousand Taka this secret outed the chairman of baira.Everry body saw But You did't saw You were blind I Thand you are a most broker of this fact Because your are older in Malaysia.
28841
Riyadh থেকে Abdullah লিখেছেন, ২৫ জুলাই ২০১০; বিকেল ০৫:৫২
Tuhin, where this country called, Asudi arabia is located ?Be polite when you address someone or some countries. If you do not respect, you never get it back. Thanks
28868
Saudi Arabia থেকে Engr.Towfiqul Islam লিখেছেন, ২৬ জুলাই ২০১০; দুপুর ০১:৪৮
Thanks Mr.Gautom Rai Babu,
We are the same sufferer
like you,living in saudi arabia.At present we are more than 2 million Bangladeshi people working in saudi arabia.We have the same problem like Malaasia.Now saudi government does not issue new visa and no transfer to new employer. So it is a
national problem. We are writing to our concern authority to solve this problem but still not solve. So we request you to continue writing, we are also writing until solve this problem.Our present government should take necessary action to solve this problem .This is our request to our beloved government. Thanks again.
29017
Saudi Arabia থেকে Engr.Towfiqul Islam লিখেছেন, ২৬ জুলাই ২০১০; দুপুর ০২:০৩
Thanks Mr.Gautom Rai Babu,
We are the same sufferer
like you,living in saudi arabia.At present we are more than 2 million Bangladeshi people working in saudi arabia.We have the same problem like Malaasia.Now saudi government does not issue new visa and no transfer to new employer. So it is a
national problem. We are writing to our concern authority to solve this problem but still not solve. So we request you to continue writing, we are also writing until solve this problem.Our present government should take necessary action to solve this problem .This is our request to our beloved government. Thanks again.
29023
Riyadh থেকে Abdullah লিখেছেন, ২৭ জুলাই ২০১০; সন্ধ্যা ০৬:১৮
Mr.Gautom bhai, thanks for writing the real facts about Malaysia. But media in Bangladesh writing something fisy.
We are suffering here in K.S.A. same way, but no body care about it. It looks wait and see formula, which does not work always, other way it makes thing more complicated, may our authorities waiting for that.
29211
১০
কুয়ালালুমপুর থেকে কাউয়ান লিখেছেন, ২৮ জুলাই ২০১০; দুপুর ০৩:২১
ধন্যবাদ তুহিন ভাই, আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য। আমি মালেশিয়াতে থাকি তবে আপনার কথামত "দালাল" আমি নই। তবে আমার অনেক বন্ধুই বাংলাদেশ থেকে লোক আনার সাথে জড়িত। তারেক জিয়ার ২০'০০০ টাকার কেরামতি আমি দেখতে পাইনি। বাংলাদেশ সরকার নির্ধারন করেছিল ৮৪০০০টাকা। তবে খরচ কোথায় কত হয়েছে তার একটা ফিরিস্তি আমি দিচ্ছি তাতেই পাঠক বুঝবেন টাকা কোথায় গেছে।

১/ প্রতিটি লোকের এপ্রোভাল বাবদ এখানে দিতে হয়েছে ৫০০০ রিঙ্গিত। এবং এই টাকা কোম্পানির লোকেরা সরাসরি নিয়েছে। এই ৫০০০ রিঙ্গিতের মধ্যে লেভী ১২০০+২০০০ আরএম ঘুষ ইমিগ্রেশনে। আনুসঙ্গিক খরচ সহ টোটাল হতো প্রায় ৩৫০০রিঙ্গিত, বাকি টাকাটা কোম্পানীর ম্যনেজাররা নিত। তা না দিলে ওয়ার্ক অর্ডার অন্যদেশীদের দিয়ে দিত। আর বাংলাদেশ থেকে ট্রাভেল এজেন্সি গুলো টাকার বস্তা নিয়ে ঘুরোঘুরি করত যেভাবেই হউক কাজ চাই। এই ভাবে এপ্রোভালের দাম উঠত ৫০০০ রিঙ্গিত। বাংলাদেশী টাকায় ১১০,০০০টাকা। বাংলাদেশ দুতাবাসে খরচ হতো ৩০০/৪০০ রিঙ্গিত সেই এপ্রোভাল সত্যায়িত করার জন্য। এই টাকা তিন চারটি ডেস্কে দিতে হতো। বাংলােদশ পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে সত্যায়িত করার জন্য নিত ৫০০০ টাকা প্রতি জনে। কলিংয়ের জন্য আবার খরচ হতো ২০০ রিঙ্গিত (ঘুষ) প্রতি জনে। এরপর আছে টিকেট। টিকেট , ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মন্ত্রনালয় সত্যায়ন এবং ঢাকার অানুষঙ্গিক কাজের প্যাকেজ খরচ হতো ৩০০০০ টাকা।
টোটাল ৫০০০+৩০০+২০০=৫৫০০=১২১০০০+৩০০০০=১৫১০০০টাকা
এই টাকাটা শুধু খরচ হতো। তবে কিছু সেক্টরে কম আবার কিছু সেক্টরে বেশী খরচ হতো। কারন লেভির পরিমান কমবেশি এই কারনে। একটা এজেন্সী নিত ১৭৫০০০ েথকে ১৮০০০০টাকা। এখন বলুন তারকে জিয়ার টাকাটা কে নিল? এই সব বুজরুকি মার্কা কথা বার্তা ছাড়েন। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে তারকে জিয়ার ভক্ত নই। মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ অবশ্যই করবো। হাসিনা বলেছিলেন তারেক জিয়ার শত শত কোটি টাকা মালেশিয়া সরকার অাটকিয়েছে। তার কারখানা আছে। এখানে আমার একটা ট্রেডিং কোঃ আছে, তাই আমি ভালো করে জানি, কারো কোঃ ব্যাপারে তথ্য নিতে গেলে ১০ রিঙ্গিত এবং ১০ মিনিট সময়ের প্রয়োজন। সব বের হয়ে যায়, কোন কিছু লুকানো যায় না। কোথায় সেই কোম্পানি আর কোথায় শত শত কোটি টাকা আমরা তার খবর পেলাম না। মালেশিয়ার সিলাঙ্গরের মুখ্যমন্ত্রী মিলিয়ন মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহ অষ্ট্রেলিয়ার এয়ারপোর্টে নিউজিল্যান্ড যাবার পথে ধরা পড়ল তা জানলাম কিন্তু তারেক জিয়ার খবরটা কেএলআই'তে হলো তা আমরা জানতে পারলাম আপনার জানলেন? কত আর ভন্ডামি করবেন। কত আর লোকদের মিথ্যা খবর দিবেন।
এবার তর্কের খাতিরে বলি। তারকে জিয়া যদি ২০০০০ টাকা নেয় তবে তা নিক তার পরও লোক আসুক। দেশের বোঝা কমুক। কেউ পেটে দিয়ে পিঠে দুই একটা কিল দিলে সহ্য হয় কিন্তু খালি পেটে ভালো কথাও অসহ্য মনে হয়। তারেক জিয়া এই রকম কোন টাকা নেয় নাই। টাকাটা সংগ্রহের খাতটা কোথায় পাঠক আপনারা ভাবুন।

আর তুহিন ভাই আপনার অবগতির জানাচ্ছি, "কাউয়ান" একটা মালয় শব্দ, তার অর্থ "বন্ধু"

ধন্যবাদ
কাউয়ান
29348
১১
সৌদি আরব রিয়াদ থেকে জাহেদ লিখেছেন, ২৯ জুলাই ২০১০; সকাল ০৫:৩২
এই কোপা সরকার কে বিদায় দিতে হবে তা হলে আমরা প্রবাসি যারা আছি তাদের সমস্যা কিছুটা সমাধান হবে। আমি মনে কির মালেশিয়া তে যে শ্রমিক অবৈধ হয়েছে তার কয়েক গুণ বেশি সৌদি আরবে অবৈধ হয়েছে । এবং প্রতিদিন অবৈধ হইতেছে, এবং আমাদের মনে হইতেছে বাংলাদেশের অভিবাবক বলতে কেও নাই । বিশেষ করে এই হাছিনা সরকার আসলে দেখা যায় বাংলাদেশের জন শক্তি রপতানি কারক দেশ যে গুলো আছে তাদের রপতানি বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে অসহায় হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন কেন রাজনীতির কারনে আমরা প্রবাসীরা কষ্ট ভোগ করব?
29486
১২
মালয়েশিয়া থেকে সািব্বর আহ্েমদ লিখেছেন, ৩০ জুলাই ২০১০; দুপুর ০২:৪৯
সৌদি আরব রিয়ােদর জাহেদকে বোলছি,,,,, ধান ভাংতে সিবের গান গাওয়ার প্রচলনটা পাল্টা।
29647
১৩
রিয়াদ সৌদি আরব থেকে জাহেদ লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১০; সকাল ০৫:৪৪
মালয়েশিয়া থেকে সািব্বর আহ্েমদ কে সিবের গান না গেয়ে কি করব বললেন না তো ? আমি আপনাকে প্রশ্ন করি সিবের গান না গেয়ে কি হরে রাম হরে কিঞ্চ করব কি না ?
29723
১৪
মালয়েশিয়া থেকে সািব্বর আহ্েমদ লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১০; সকাল ১১:২৫
বলো জয় বাংলা।
29745
১৫
Saudi Arabi থেকে tuhin লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১০; রাত ০৮:৫৩
Hi Mr. Kawan thank you for write the details about the illegal money earner of Bangladesh Embassy in the Malaysia. I want teal to you that if you are a honest man you should inform to Media of Bangladesh if media can't take action then you inform to Malaysian CID why Bangladesh Embassy employee take the Money from overseas agents. Because they drawing a large amount per months from Bangladesh government.Bengladesh government send them to Malaysia for see and solve the problem of our labors, business man and see the diplomatic issue not for earn illegal money. Can help government and labour because you know very well who is taking illegal money and who is creating problem for earn illegal money. Personally I request you don�t support any criminal and broker. "Thank you"
29834
১৬
Saudi Arabi থেকে tuhin লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১০; রাত ০৮:৫৬
Hi Mr. Kawan thank you for write the details about the illegal money earner of Bangladesh Embassy in the Malaysia. I want teal to you that if you are a honest man you should inform to Media of Bangladesh if media can't take action then you inform to Malaysian CID why Bangladesh Embassy employee take the Money from overseas agents. Because they drawing a large amount per months from Bangladesh government.Bangladesh government send them to Malaysia for see and solve the problem of our labors, business man and see the diplomatic issue not for earn illegal money. Can help government and labour because you know very well who is taking illegal money and who is creating problem for earn illegal money. Personally I request you don�t support any criminal and broker. "Thank you"
29836
১৭
কুয়ালালুমপুর থেকে কাউয়ান লিখেছেন, ০১ অগাস্ট ২০১০; রাত ০২:১৫
ধন্যবাদ তুহিন ভাই।
মালেশিয়াকে দূর থেকে যত সুন্দর দেখেন না কেন, প্রশাসনিক ভাবে বিশেষ করে শ্রমিক আমদানীর সাথে জড়িত মন্ত্রনালয় ঘুষের বাজার বলতে পারেন। এখানে ঘুষ না দিলে ম্যানপাওয়ারের সাথে জড়িত কোন কাজ হয়না। দুতাবাস যে ঘুষ খায় তা কাকে জানাবেন? মালেশিয়ার সরকারকে? তারা এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। বাংলাদেশ সরকারকে যদি জানাতে বলেন তবেতো বলবো বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারন যারা দুতাবাসগুলোতে বদলী হয়ে আসে তারা কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে আসে। তারা কি সেই ঘুষের টাকা তুলবে না? আপনি তবে কার কাছে বিচার দিেবন?
ব্রোকারের কথা বললেন, বাংলাদেশী ব্রোকার থেকে বেশী ক্ষতি করেছে এই দেশী ব্রোকার এবং দুতাবাস। দুতাবাসের যেই রকম পর্যবেক্ষন করে এপ্রোভালে স্বাক্ষর করার কথা ছিল তারা তা করেনি। তাদের সরেজমিনে তদন্ত করার কথা ছিল, তারা তা করেিন। কারন তাদের নাকি যথেষ্ট লোক বল েনই। অনেক এপ্রোভালের মেয়াদ পার হয়ে গেছে দুতাবাসের স্বাক্ষরের অভাবে কারন তাদের হাতে সময় ছিল না তদন্তের (আসলে ঘুষ দেওয়া হয় নাই তাই)। অনেক ভালো কোম্পানী ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে দেরীর কারনে, অথচ সরকার চাইলে এখানে প্রয়োজন পরিমান লোক সাময়িক ভাবে নিয়োগ দিতে পারতেন তবে অন্তত তদন্ত ছাড়া সময়ের অভাব দেখিয়ে টাকা নিয়ে অনুমোদন দিতে পারত না। কিছু বাংলাদেশী এখানে আছে যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত, তাদের সাথে দুতাবাসের লোকজন জড়িত। দুতাবাস যদি একটু জত্নবান হতো কাজের অনুমোদনের ব্যাপারে তবে সমস্যা হতো না। এখানে অনেক কোম্পানী যেই বেতনের কথা বলেছে সেই বেতন দেয়নি। দুতাবাসে অভিযোগ নিয়ে আসলে তারা মালিক পক্ষের সাথে সমঝোতা করে দেবার ব্যাবস্থা করেছে, কিন্তু শ্রমিকদের স্বার্থের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। ইমিগ্রেশন যেই ঘুষের টাকাটা নিল বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। তারাতো প্রায় ৫৫০০০ টাকা ঘুষ নিয়েছে। এক কাজ ছেড়ে অন্যকাজে যাবার সুযোগ রাখা হয়নি, তাতে অনেকে বৈধ এসে অবৈধ হয়েেছ। অন্যদেশ থেকে যত দ্রুততায় লোক আসে বাংলাদেশ থেকে লোক আসে ৪/৫ গুন দেরীতে, এতে অনেক কোম্পানী লোক রিসিভ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে কারন তারাতো ৪/৫ মাস তাদের কারখানা বন্ধ রাখতে পারে না বাধ্য হয়ে অন্যদেশীদের বা মালেশিয়ানদের তারা কাজে নিয়ে নিয়েছে এতে বাংলাদেশীরা এসে হয়েছে কর্মহীন। আবার দেখা গেছে অল্প অযুহাতে কিছু বাংলাদেশী শ্রমিক নেতা সেজে কাজ বন্ধ করে দিতে। অনেক শ্রমিক লিডার বাস ভর্তি করে লোক এনে দুতাবাসের সামনে একটা হযবরল অবস্থা সৃষ্টি করেছে। শুনা যায় এতে ভারতের হাত আছে, কারন বাংলাদেশী শ্রমিকদের কারনে তাদের শ্রমবাজার হুমকির সম্মুখিন হয়েছিল। তবে একহাতে যেমন তালি বাজে না তেমনি এই সমস্যাটি শুধু মাত্র দালালদের কারনে হয়নি। কোন সন্দেহ নেই দালালরা একটা বিরাট ভুমিকা রেখেছে তবে বড় ভুমিকা রেখেছে,
১/দুতাবাস
২/মালেশিয়ান এজেন্সি
৩/ মালেশিয়ান ইমিগ্রেশন
৪/বাংলাদেশী দালাল এবং এজেন্সী
৫/বাংলাদেশি কিছু শ্রমিক লিডার
৬/ভারত বান্ধব মিডিয়া
৭/শ্রমিকদের প্রতিকুল কিছু আইন।

বাংলাদেশ দুতাবাসের লেবার কাউন্সিলর তখন ছিলেন তালাত মাহমুদ, ভদ্রলোক ভালোভাবে ইংরেজী বলতে পারতেন না। দুতাবাসের একজন কর্তা ধর্তা হয়ে ইংরেজী ফ্লোয়েন্সী থাকবে না তা কি করে হয়। দুই একবার আমার কিছু ব্যাক্তিগত কাজে দুতাবাসে যাবার সুযোগ/দুর্ভাগ্য হয়েছে। তালাত মাহমুদ সাহেবকে সবসময় দেখেছি দালাল পরিবষ্টিত হয়ে থাকতে। দুতাবাসের লেবার কাউন্সিলর হবে একজন স্মার্ট, কমিউনিকেটিভ ইংরেজীতে দক্ষ, নেতৃত্বের গুনাবলী সম্বলিত একজন মানুষ। যারা তালাত মাহমুদকে দেখেছেন তার তাকে দুতাবাসের ভেতর না দেখলে বিশ্বাস করবেন না যে তিনি একজন ডিপ্লোম্যাট। মালেশিয়ান সরকারের সাথে দর কষাকষিতে তিনি যে মুষিক ছানা ছিলেন এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

কাউকে জোর করে জয় বাংলা বলালে কি সে জয় বাংলায় বিশ্বাসী হয়ে যাবে। কাউকে জোর করে কালেমা পড়ালে কি সে মুসলমান হয়ে যাবে? বরঞ্চ তার মুসলমান হবার যতটুকু সম্ভাবনা থাকবে তাও দূর হয়ে যাবে।

ধন্যবাদ
কাউয়ান
29871
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy