শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০২:১৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার শপথ নিতে হবে

জ়েনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান

বিজয় দিবসকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রতিবারের মতো এবারো বিজয় দিবস আমাদের সামনে উপস্থিত। কিন্তু এবারের বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বেশি অনুভবের বিষয়। ২০০৮ সালের এই বিজয় দিবস একটি বিরাট সম্ভাবনাকে সামনে এনে হাজির করেছে। ২৯ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ গত দু’বছর জরুরি অবস্থার ভেতর দিয়ে পার করেছে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানে ছিল না। ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আবার গণতন্ত্রে ফিরে আসব। গণতন্ত্রের ফিরে আসার এই বিজয় সত্যিই গুরুত্বের দাবিদার! একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার এবং সত্যিকারের গণতন্ত্রে উন্নীত হওয়ার শপথ নিতে হবে আমাদের। এই বিজয় দিবসে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে।

এবারের জাতীয় নির্বাচনও অনেক প্রত্যাশার নির্বাচন। অনেক অপেক্ষা শেষে নির্বাচন আসছে। ঠিক নির্বাচনের আগেই বিজয় দিবস। এই কারণেও এবারের বিজয় দিবস অনেক বেশি গুরুত্বের দাবি রাখে। আমরা অতীতে অনেক বিজয় দিবস ফেলে এসেছি যে বিজয় দিবসগুলোতে সত্যিকারের বিজয় আনন্দ ছিল না। বিজয়ের স্বাদ নেয়া যায়নি। বিজয়কে উৎসবের মতো উদযাপন করা যায়নি। সামনের নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আমরা মনে করি। এবং এই নির্বাচনও হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু। নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই জিতবে তারা সরকার গঠন করবে। বিরোধী দলে যারা থাকবে তারাও দেশ গঠনে এবং সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে। সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। ১৫ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আগামী সংসদ ভূমিকা রাখবে।

আমাদের সম্পদ অনেক। আমাদের এই সম্পদ যেমন প্রাকৃতিক তেমনি জনসংখ্যাগত। আমাদের মাটিই আমাদের বড় সম্পদ। মাটির নিচে রয়েছে খনিজসম্পদ। আমাদের নদীগুলো আমাদের বিরাট সম্পদ। আমাদের জনসংখ্যাও আমাদের সম্পদ। আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এসবই আমাদের সম্পদ। এসব সম্পদ আমাদের ব্যবহার করতে হবে। নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে চাই। যে বাংলাদেশে থাকবে না রাজনৈতিক হানাহানি, হিংসাবিদ্বেষ এবং দুর্নীতি। সন্ত্রাসমুক্ত দেশ হবে। হবে দারিদ্র্যমুক্ত।
স্বাধীনতার সাঁইত্রিশ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। অথচ আমরা দাঁড়াতে পারিনি স্বাধীনভাবে। আমরা অনাচার, দূরাচার মুক্ত করতে পারিনি। প্রতিহিংসা চরিতার্থ থেকে বিরত থাকতে পারিনি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কলহ মুক্ত হতে পারিনি। অথচ বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বিরাট সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের মাটি পানি মানুষ সবই সম্ভাবনার সাথে জেগে ওঠে।

আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। বিজয় পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতা ও বিজয়কে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য ওভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা উদারতা প্রদর্শন করতে শিখিনি। আমাদের দৃষ্টি খুবই ক্ষীণ। গোটা জাতি বিভক্ত। ভাগাভাগি হয়ে আছে আমাদের নাগরিকরা, এখন তাদের একত্রিত করার জন্য সত্যিকারের নেতৃত্ব দরকার। এমন নেতৃত্ব যারা দলাদলি, বিদ্বেষ ঘুচিয়ে উন্নয়ন ও সম্ভাবনার দিকে চালিয়ে দেবে। জাতীয় সংহতি সৃষ্টি করতে হবে। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে, করতে হবে। এ বিজয় দিবসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে। জনগণ যদি দেশপ্রেমের আকাঙ্ক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে বাংলাদেশকে কেউ পরাস্ত করতে পারবে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ হবে সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ! সুখী সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের জনগণ। এবারের বিজয় থেকে দেশপ্রেমের এই শপথ নিতে হবে। গণতন্ত্রের শপথ নিতে হবে। শপথ নিতে হবে এগিয়ে যাওয়ার।
(সূত্র, নয়া দিগন্ত, ১৬/১২/২০০৮)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/GenMahbuburRahman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy