শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০২:১৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

বুয়েটে মুরগী সমাচার

গোলাম আহমেদ তুহিন

১৯৯১ সালে ক্লাস শুরু হবার পর বুয়েটের হলে থাকা অবস্থায় মুরগী নিয়ে অনেক কথা মনে পড়ে, মাঝে মধ্যে মনে হয় ঘটনাগুলো একটু লিখে সবার সাথে শেয়ার করি।

মেয়েদের হল সহ বুয়েটে তখন মোট ৭ টি হল ছিল। বিএনপির শাসনামল শুরু হলেও তখনো ছাত্রদের মধ্যে কিছুটা এরশাদ আমলের আমেজ দেখা যেতো, এই যেমন ছোটখাট ঘটনা ঘটলেই ক্লাস বর্জন শুরু হত, ভিসি বা শিক্ষকদের কথা ছাত্ররা তখনো শুনে না শোনার ভান করতো। এরশাদ বিরোধী আন্দলোনে অভ্যস্ত তখনকার ছাত্রদের অনেক বেশী ক্ষমতা, যে কোন ছোটখাট ব্যপার ঘটলেই আন্দোলন শুরু হত। যাই হোক, আসল কথায় আসা যাক, মূগরীর কথা, অনেকে আয়েশ করে মুরগীকে মূগরী বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করত।

আমি তখন নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ছাত্র যেখানে প্রায় ৩৫০ এর বেশী ছাত্রের বসবাস। হলে অবস্থানকারী একেক ছাত্রকে একেকজন বোর্ডার বলা হত। শোনা যেত বুয়েটের ৭ টি হলের মধ্যে নজরুল ইসলাম হলের খাবারের মান সবচেয়ে উন্নত ছিল। অন্যান্য হলের মতো প্রত্যেক মাসে প্রভোস্ট হলের ডাইনিং চালানোর জন্য ছাত্রদের মধ্যে থেকে একজন করে ম্যনেজার নিয়োগ দিতেন। ম্যানেজার নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অবশ্য তত সহজ ছিলনা। প্রত্যেক মাসের শেষের দিকে পরবর্তী মাসের জন্য ম্যানেজার হবার জন্য প্রভোস্ট ছাত্রদের মধ্যে থেকে দরখাস্ত আহবান করতেন। দরখাস্তের মধ্যে থেকে কেউ যদি ফাইনাল বা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র থেকে থাকতো তাহলে তাকেই প্রথমে ম্যানেজার হবার জন্য মনোনীত করা হতো। চতুর্থ বর্ষের ছাত্রদের মধ্যে থেকে কোন দরখাস্ত না পড়লে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের এই দায়িত্ব দেয়া হত। যদি একই বর্ষের ছাত্রদের মধ্যে থেকে একের অধিক দরখাস্ত পড়ে থাকলে সেইক্ষেত্রে লটারী করে ম্যানেজার নিয়োগ করা হত।

হলে দুপুর এবং রাত্রে খাবার জন্য একেকজন বোর্ডারকে মাসে তখন ৪০০ টাকা প্রভোস্ট অফিসে জমা দিতে হত, ৩৫০ জন বোর্ডারের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা জমা হত। ম্যানেজারের দায়িত্ব ছিল প্রতিদিনের বাজারের টাকা প্রভোস্ট অফিস থেকে নিয়ে হলের বয়দেরকে দিয়ে বাজার করিয়ে তারা যাতে ঠিকমত ডাইনিং এ পরিবেশন করে তার তদারকি করা। মাঝে মধ্যে ডাইনিং বয়রা যাতে এদিক ওদিক না করতে পারে তার জন্য বাজার গিয়ে যাচাই-বাছাই করা আর মাস শেষে বড় ধরনের একটা ডিনারের ব্যবস্থা করা যাকে বলা হত ফিস্ট (Monthly feast). যেই মাসে যিনি ম্যানেজার হতেন সেই মাসে তার খাবারের টাকা দেয়া লাগতোনা।

ডাইনিং এর খাবার বলতে ছিল দুপুরের লাঞ্চ এবং রাত্রের ডিনার। লাঞ্চের সাথে থাকতো এক টুকরা মুরগীর সাথে দুই পিস আলুর ঝোল, পিরিচে সামান্য একটু ভাজি, পাতলা ডাল(আন-লিমিটেড) এবং ভাত(আন-লিমিটেড)। মাঝে মধ্যে মুরগীর বদলে মাছ দেয়া হতো। আর যাই হোক, ৯১-৯২ সালের দিকে মাত্র ৪০০ টাকায় পুরো একমাস একটা ছাত্রের দুপুরের লাঞ্চ এবং রাত্রের ডিনার চালানো খুব কষ্টসাধ্য ব্যপার ছিল। তারপরেও ডাইনিং ওই টাকার মধ্যেই চালাতে হোত। যেমন একটা ছোট দেশী মুরগী ১৯ টুকরা করে ১৯ টা কাপ বা ১৯ জন বোর্ডারকে দেয়া হোত (এক টুকরা মুরগীর মাংস এবং দুই পিস আলুর ঝোল একটি পেয়ালায় দিয়ে সেটাকে একটা কাপ বলা হতো)। খাবারের মান ভালো করার জন্য প্রভোস্ট মহোদয় একবার মাসিক ডাইনিং ফি ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা করলে শুরু হয় ছাত্রদের আন্দোলন, বর্ধিত ডাইনিং ফি বাতিল কর-করতে হবে এই টাইপের স্লোগান। যাই হোক, প্রথম বার ছাত্রদের আন্দোলন সফল হয় এবং প্রভোস্ট মহোদয় বর্ধিত ডাইনিং ফি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন (তবে পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় সব ছাত্রদের সম্মতিক্রমে ডাইনিং ফি ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়)। জানিনা বর্তমানে হলের ছাত্ররা কত টাকা ডাইনিং ফি দিয়ে থাকেন।

এবার মূল কথায় আসা যাক। কথিত আছে কোন কোন অসাধু ম্যনেজার ম্যানেজারির মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কিছু টাকা কামিয়ে নিতেন। যেমন তারা বয়কে বলে একটা দেশী মুরগী ১৯ টুকরার পরিবর্তে ২১ টুকরা করতেন। পাঠকগন একটু চিন্তা করলেই বুঝবেন ৭০ টাকার একটা দেশী মুরগী ১৯ টুকরা কতটুকু হবার কথা(এই যেমন ধরুন একটা রানের অর্ধেক পরিমান মাংস দিয়ে সবাইকে খাবার খেতে হতো), সেখানে আবার ২১ টুকরা? এবার একটা হিসাব করা যাক, ১৯ পিসের জায়গায় ২১ পিস করলে লাভ কতটুকু? একেক বেলায় ৩৫০ জন ছাত্রের জন্য একেকটা মুরগী ১৯ পিস করলে লাগে মোট ১৯ টা মুরগী, আর ২১ পিস করলে লাগে ১৭টা মুরগী। তাহলে প্রতি বেলায় দেখা যাচ্ছে ২টা মুরগী কম লাগছে অর্থাৎ দুই বেলায় (দুপুর এবং রাত্রে) ৪টা মুরগী কম লাগে। এইভাবে অব্যহত থাকলে মাসে ১২০ টা মুরগী কম লাগে। একেকটা মুরগী ৭০ টাকা হিসাবে ধরলে মাসে টাকা বাচে ৮৪০০ (আট হাজার চারশ টাকা)। তখনকার সময় একজন ছাত্রের জন্য এই আট হাজার টাকা অনেক টাকা!! তবে হিসাবে এত টাকা দেখালেও বিভিন্ন কারনে বাস্তবে এত টাকা সরানো যেতনা মনে হয়।

প্রতিদিনের খাবারের মান যাই হোক, ম্যানেজারদের সবসময় লক্ষ্য রাখতে হত মাস শেষে ফিস্টের (monthly feast) দিকে। মাসের শেষের দিন ডিনারটা হত খুবই উন্নতমানের। এইদিন ডিনারে সাধারনত অর্ধেক মুরগীর রোস্ট, খাশীর রেজালা, ভেজিটেবল ভাজি, দই, কোক/পেপসী দিয়ে ডিনার সার্ভ করা হত, অনেক সময় খাবার শেষে পানও সরাবরাহ করা হত। যদিও কিছু কিছু ছাত্র মাস শেষে এত ভাল খাবার পরিবেশন করার বিপক্ষে ছিল (তাদের যুক্তি ছিল এত দামী ডিনার না দিয়ে সেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে প্রতিদিনের জন্য আরো কিছুটা উন্নতমানের খাবার সরাবরাহ করা)। তবে বেশীর ভাগ ছাত্ররা এই যুক্তিকে অসম্ভব বলে আখ্যায়িত করে ফিস্টের পক্ষে মতামত দিত। শেষ ভাল যার সব ভাল তার মতবাদের উপর ভিত্তী করে বেশীর ভাগ ম্যানেজারের লক্ষ্য থাকতো মাসের শেষে ফিস্টটা খুব ভাল মানের করতে।
একবার ম্যানেজার হয়েছিলেন তথকালীন হল সংসদের নির্বাচিত খাদ্য সম্পাদক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবুল ভাই (আসল নাম না বলে একটা নিক নাম দিলাম)। আবুল ভাই ছিলেন বিবাহিত তাই তার সবসময় টাকা-পয়সার টান থাকতো। ঢাকা শহরে একজন ছাত্রের পক্ষে বঊয়ের খরচ চালানো কত যে কষ্টসাধ্য ব্যপার তা মনে হয় আবুল ভাইয়েরাই জানেন। যাই হোক, আবুল ভাইয়ের ম্যানেজারের পারফর্মেন্স ছিল খুব খারাপ, পুরো মাস খুবই সস্তা খাবার খাইয়েছিলেন। আমরা মনে করতাম উনি বিবাহিত তাই ডাইনিংইয়ের ব্যপারে ততটা খোজ খবর নেওয়ার সময় না পাওয়ায় ক্যান্টিনের বয়দের গাফিলতির কারনে খাবারের মান খারাপ ছিল। সবার ধারনা ছিল প্রতিদিনের খাবারের মান যাই হোক, হলের নির্বাচিত প্রতিনিধি অন্তত মাস শেষের ফিস্টটা খুব ভালো খাওয়াবেন। অবশেষে ফিস্টের নির্ধারিত দিনে ডিনার করতে গিয়ে হলের প্রত্যকটি ছাত্রের মাথায় বাজ পড়ে। সবাই দেখে ফিস্টে অর্ধেক মুরগীর রোস্টের পরিবর্তে কোয়ার্টার মুরগীর (একটা মুরগীর চার ভাগের একভাগ)রোস্ট দেয়া হয়েছে। খাবার পরে পুরো হল ধরে আবুল ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাপা ইত্তেজনা/গুঞ্জন চলতে থাকে। সবাই সহজ হিসাব করে- তিনশ পঞ্চাশ (৩৫০) জন ছাত্রের প্রত্যেককে অর্ধেক মুরগী খাওয়ালে লাগে ১৭৫টি মুরগী, কিন্তু কোয়ার্টার মুরগী দিলে লাগে ৮৮টি মুরগী। অর্থাত আবুল ভাই সারা মাস খারাপ খাইয়েও খোদ ফিস্টের টাকা থেকে শুধুমাত্র মুরগী থেকেই ৮৭টি মুরগীর টাকা মেরে দিয়েছেন। একেকটি মুরগীর দাম ৭০ টাকা হলে আবুল ভাই কমপক্ষে ৬০০০(ছয় হাজার) টাকা মেরে দিয়েছেন। আবুল ভাইয়ের বিরোধী দলের নেতারা পেয়ে যায় তুরুপের কার্ড, তারা সাধারন ছাত্রদের এই ক্ষোভকে দ্রুত কাজে লাগিয়ে তাদের বিদ্রোহী করে তোলে। নায্য ইস্যুতে বাংলাদেশের সাধারন মানুষ যে কত তাড়াতাড়ি আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে তার প্রমান সেইদিন পেয়েছিলাম। ফিস্টের পরে রাত এগারোটার পরে শুরু হয় মিছিল-আবুল ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিছিল। যদিও হলের ক্ষমতাসীন পার্টির অন্যন্য ভাইয়েরা নিজের দলের ছাত্রদের সেই মিছিলে অংশগ্রহন না করতে অনেক বুঝিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কাজ হয় নাই। হলের লাইট নিভিয়ে দেয়া হয়, সবার সতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে গভীর রাত্রে মিছিলটি বিশাল আকার ধারন করে। আবুল ভাইয়ের চামড়া-তুলে নেব আমরা, ডাইনিং এর টাকা কোথায় গেল-আবুল তুই জবাব দে, হাফ মুরগী কোয়ার্টার কেন-আবুল তুই জবাব দে, মুরগী কেন কোয়ার্টার হল-আবুল তুই জবাব দে-ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠলো বুয়েট ক্যাম্পাস। মিছিলটি প্রায় রাত বারোটার দিকে ভিসির বাসায় গিয়ে ভিসিকে আবুলের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ভিসিও বাংলাদেশের সেই চিরাচরিত পদ্ধতিতে ছাত্রদের ঠান্ডা করার জন্য তদন্ত কমিটি করার আশ্বাস দিলে ছাত্ররা আশ্বস্ত হয়। আবুল ভাই সরকারদলীয় ছাত্র হওয়ায় আসলে কোন তদন্ত কমিটি হয়েছিল কিনা বা হয়ে থাকলেও বাংলাদেশের আর সব বেশীরভাগ তদন্তের মতো সেই তদন্তের কোন রিপোর্ট কখনো প্রকাশিত হয়নি। তখন থেকেই শিখেছিলাম-তদন্ত কমিটি গঠন হলো তাথক্ষনিকভাবে জনগনকে ঠান্ডা করার মোক্ষম উপায়। যাই হোক, ফিস্টের চেয়েও সেইদিন রাত্রের মিছিলটি ছিল আসলে মনে রাখার মতো। ভাগ্যিস বাংলাদেশে তখনো মুরগী-মিলন, সুইডেন-আসলাম, কানা-ফরিদ বা ছোলা-মাসুদ এই ধরনের নাম চালু হয়নি। হলে হয়তো আবুল ভাইয়ের নাম তখন থেকেই মুরগী-আবুল হয়ে থাকতো। সেই ঘটনার পর থেকে আবুল ভাই অবশ্য খুব লজ্জা পেয়েছিলেন-সবসময় মুখ নিচু করে চলাফেরা করতেন। জানিনা এখন আবুল ভাই কোথায় কেমন আছেন।

কলিজা ফাইটঃ হলে খুব নিরবে চলতো কলিজা ফাইট (liver fight). চতুর্থ বর্ষে ওঠার আগ পর্যন্ত জানতে পারিনি কলিজা ফাইটের কথা। আড্ডাচ্ছলে জানতে পারলাম কয়েকজন নিয়মিত কলিজা ফাইটারের কথা। একেকটি মুরগীর কলিজা, গিলা আর গলা দিয়ে তৈরী হোত একেকটি কাপ, বুঝতেই পারছেন একেক বেলায় ১৯টি মুরগী জবাই হলে কলিজা-কাপের সংখ্যা হোত ১৯টি। ১৯ বা ২১ পিস করা একেকটি দেশী মুরগীর মাংসের একেকটি কাপের চেয়ে কলিজা-গলা-গিলা সমৃদ্ধ এই কাপ অনেক লাভবান। তাই এই কাপের প্রতি আগ্রহ ছিল হলের বেশীর ভাগ ছাত্রের। কিন্তু কাকে কাকে দেবে এই কলিজা-কাপ? একজন পেলে আরেকজন ঝামেলা করতে পারে কিংবা নেতারা এই নিয়ে ঝামেলা করতে পারে যে কলিজা যেন তাদের দেওয়া হোক বা আরও অনেক সমস্যা তৈরী হতে পারে। যাই হোক, কলিজা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য হলে নিয়ম ছিল যে প্রথমে যারা খেতে বসবে তারাই শুধুমাত্র কলিজা পাবে। সুতরাং কোন এক বেলায় ১৯ টি মুরগী জবাই হলে প্রথম ১৯ জন কলিজা-গিলা-গলা সমৃদ্ধ এই কাপগুলো পেত। এখন সমস্যা হোল এই প্রথম ১৯ জন কারা? দেখা যেত প্রতি বেলায় কিছু সংখ্যক ছাত্র ডাইনিং এর দরজা খোলার আগেই লাইনে দাড়াতো। এই ধরুন দুপুর ১২টায় ডাইনিং খোলার কথা থাকলে দেখা যেতো ১২টা বাজার কয়েক মিনিট আগেই বেশ কিছু ছাত্র দরজার কাছে ভীড় করে দাড়াতো, দরজা খুললেই শুরু হোত গুতোগুতি করে ডাইনিং এ ঢোকার পালা, যারা টেবিলের প্রথম দিকে বসতে পারতো তাদের ভাগ্যেই মিলতো সেই মূল্যবান কাপ। তবে দেখা যেত হলে কিছু নিদৃষ্ট সংখ্যক ছাত্র প্রায় প্রতিদিনই কলিজা ফাইটে অংশগ্রহন করতো যার ফলে তারা অনেকের কাছে কলিজা ফাইটার নামে পরিচিত ছিল। মজার ব্যপার হোল যে হলের দুই একজন ছাত্র কিভাবে যেন মাঝেমধ্যে ডাইনিং এর বয়দের পটিয়ে নিদৃষ্ট সময়ের আগেই ডাইনিং এর দরজা খুলে টেবিলের প্রথমে বসে থাকতো এই কলিজা খাবার জন্য যার মধ্যে নেতা টাইপের ছাত্রদের সংখ্যাই ছিল বেশী। কলিজা ফাইটের ব্যপারটা আবিস্কৃত হবার পর আমিও যে দুই এক দিন ফাইট দেইনি তা নয়, বেশ মজার ছিল ব্যপারটা।


আজীবন ম্যানেজারঃ মাঝে মধ্যেই শুনতাম অমুক হলের অমুক গত মাসে হলের ডাইনিং ম্যানেজার ছিল আর এই মাসে এলিফ্যান্ট রোড থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে নতুন জিন্সের প্যান্ট কিনেছে। ভাবখানা এমন যে ডাইনিং এর ম্যানেজার হলে যেন পরের মাসে নতুন জিন্সের প্যান্ট কিনতে পারবেনা। তখন কিন্তু ৭০০ টাকা ছিল অনেক টাকা। যাই হোক, এবার এক আজীবন ম্যানেজারের কথা বলি। নাম তার ওবায়দুল্লাহ, খুব সহজ-সরল আরে সৎ ছেলে। আমাদেরই ব্যাচমেট এবং তখন চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আমরা। ম্যানেজারের অভিজ্ঞতা নেবার জন্য প্রভোস্টের কাছে দরখাস্ত করে-৩৫০ জন ছাত্রের ডাইনিং চালানোর অভিজ্ঞতা কিন্ত অনেক অভিজ্ঞতা। প্রভোস্ট অনুমতি দিলে ওবায়দুল্লাহ ম্যানেজার হয় এবং সেই মাসে সে খুব ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থা করে হলের সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে। আর যাবি কোথায়, ছাত্ররা তাকে আজীবন ম্যানেজার রাখার দাবি তোলে। ছাত্রদের দাবীর কাছে প্রভোস্টও ওবায়দুল্লাহকে অনুরোধ করে আরো কয়েক মাসের জন্য ম্যানেজার হবার জন্য। ওবায়দুল্লাহ অবশ্য পরবর্তী কয়েকমাসের জন্য ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হয়।

ওবায়দুল্লাহ এত সরল মনের ছিল যে পাশ করার পর ডিপার্টমেন্টের কিছু শিক্ষক তাকে বুয়েটের এনার্জি সেন্টারে প্রকৌশলী পদে চাকরী পেতে সহায়তা করেন। সেই থেকে ওবায়দুল্লাহ এখনো বুয়েটের এনার্জি সেন্টারে চাকুরীরত। ব্যাচেলর অবস্থায় ওবায়দুল্লাহ সুইডেন থেকে স্কলারশীপ নিয়ে মাস্টার্স করে আসে এবং বিয়ের কয়েক বছর পর থাইল্যান্ডের Asian Institute of Technology (AIT) তে ডক্টরেট করার জন্য যায়। দেশে বউ রেখে ডক্টরেট করতে যাওয়া বেচারা ওবায়দুল্লাহ বউয়ের টানে কয়েক মাস পরেই পড়াশোনা ফেলে দেশে ফিরে আসে। বর্তমানে ম্যানেজার ওবায়দুল্লাহ বুয়েটের এনার্জি সেন্টারে কর্মরত একজন উর্ধ্বতন প্রকৌশলী, তার বউও একজন বড় সরকারী কর্মকর্তা। রাখে আল্লাহ মারে কে? অবশেষে ওবায়দুল্লাহ দেশে বউ এবং দুই বাচ্চা রেখে এখন বেলজিয়ামে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনের পথে।

মুরগী ধরাঃ মুরগী ধরা নামে বুয়েটে একটি কথা খুব প্রচলিত ছিল। এই যেমন নেতারা প্রায়ই বলে থাকতেন কয়টা মুরগী ধরলি বা মুরগী ধরা কেমন চলছে ইত্যাদি। প্রথম প্রথম বুঝতে পারিনি। পরে বুঝতে পারলাম যে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে আসা ছাত্রদের নেতারা সাংকেতিকভাবে মুরগী বলে সম্বধোন করতেন। হলে ভর্তি হয়ে কোন একটি দলে নাম লেখানো না পর্যন্ত বিভিন্ন দলের নেতারা ছাত্রদের অর্থাৎ মুরগীদের খুব তেল দিত। যতই বলা হোক না কেন আমি কোন রাজনৈতিক দল করিনা বা করার কোন ইচ্ছা নেই তারপরও কোন না কোন দলে নাম না দেওয়া পর্যন্ত রেহাই নাই। প্রতিদিন কোন না কোন দলের নেতা রুমে গিয়ে ডিস্টার্ব করবেই। মজার ব্যপার ছিল বুয়েটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্রদের মধ্যে সহ অবস্থান ছিল খুবই চমৎকার। একই রুমে ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের নেতারা স্বচ্ছন্দে বসবাস করতেন। বিভিন্ন সময় নেতারা বিভিন্ন বর্ষের ভালো ভালো ছাত্রদের নিয়ে এসে দেখাতেন যে উনি আমাদের দলের এবং উনি পার্টি করে ঠিকই ভালো রেজাল্ট করছেন, সুতরাং আমাদেরো (মুরগীদের) পার্টি করা উচিত। অবশেষে প্রথম বর্ষের এই মুরগীরা যে কোন একটি পার্টিতে নাম লিখিয়ে দিলে আর কোন দল তার কাছে আর মুরগী ধরার আবদার নিয়ে যেতনা।

মুরগী নিয়ে আরও অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করে, যেমন ডেল কুদ্দুস স্যারের মুরগী দিয়ে ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাসের ম্যাক্সিমা-মিনিমার (Maxima and Minima) উদাহরন বা আরও অনেক ছোটখাট ঘটনা। আশা রাখি পরবর্তী কিস্তিতে আরও কিছু মুরগী সংক্রান্ত ঘটনা বা বুয়েট জীবনের আরও কিছু মজার ঘটনা লিখে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

পাঠকগন মুরগীসংক্রান্ত আপনাদের ছাত্রজীবনের এইরকম কোন ঘটনা মনে পড়লে লিখে পাঠান, পরবর্তী কিস্তিতে যোগ করার চেষ্টা করবো।
বুয়েটে এখন ডাইনিং সিস্টেম কিভাবে চলে, এখনো দেশী মুরগী না ব্রয়লার মুরগী সার্ভ করা হয়, মাসিক ডাইনিং ফি কত টাকা ইত্যাদি জানিয়ে বুয়েটে অধ্যয়নরত ছোট ভাইয়েরা যদি জানাতে তবে খুশী হতাম।

লেখকঃ গোলাম আহমেদ তুহিন, আমেরিকায় হোন্ডা মোটর কোম্পানীর রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে কর্মরত একজন উর্ধতন প্রকৌশলী ও আবিস্কারক (US Patent Holder). ইমেইলঃ golam2001@hotmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/GolamAhmedTuhin
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
USA থেকে Samor Das লিখেছেন, ১৪ অগাস্ট ২০১১; সকাল ১০:৫৭
Heavy ekta jose likha hoiche, ekkebare bastob ghotona.
Thanks
Samor, 93 batch, BUET
65374
ইউ এস এ থেকে ম ম রহমান লিখেছেন, ১৪ অগাস্ট ২০১১; সকাল ১১:৪১
পড়ে ভালো লাগলো। তবে শুনে তাজ্জব লাগলো ৯১ সালে বুয়েটের মাসিক ফুড-চার্জ ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। সে সময় মফস্বলের একটি কলেজে এর হোষ্টেলের ফুড চার্জ ছিল ৫০০ টাকার মতো। মনে হয় বুয়েটের বাবুর্চি ও বয়রা মুরগী-কাটার ইন্জিনিয়ারিং শিখে নিয়েছিল বুয়েটের ছাত্র ও শিক্ষকদের কাছ থেকে।
65382
মিশিগান থেকে অাবু মাহফুজ লিখেছেন, ১৪ অগাস্ট ২০১১; দুপুর ১২:০৭
তুহিন ভাই, কেমন আছেন। অাপনি যে এত ভাল লেখক তাতো বললেন না কখনো? তাজ্জবের কথা তো রে ভাই। ওহাই ও চলে গেলেন সেটাও জানিনা। ভাল লাগলো। খুবই ভাল লাগলো। ও হ্যাঁ, একটা সু সংবাদ বলে রাখি। এই গত সপ্তাহে আমি আরবান সাইন্সে, (ডাউন টাউন ডেট্রেয়েটের জি.এম হেডকোয়াটার্সে) জয়েন করেছি। দোয়া করবেন।
65386
ককসবাজার থেকে সাইফুল ইসলাম লিখেছেন, ১৪ অগাস্ট ২০১১; রাত ০৮:১৮
গোটা দেশের মানুষ গোস্ত বলতে সাধারণত মুরগীই খায়। গরুর গোস্ত এখন অনেক দামী। তবে ভারতীয়তা যদি আমাদের মত গরু খাওয়া শুরু করে তবে এখন যতটুকু গরু গোস্ত খাওয়া যাচ্ছে তাও পাওয়া যাবে না। তাই বলি, বয়লার মুরগী জিন্দাবাদ। এ শিল্পকে বাচিয়ে রাখুন।
65438
Annandale, Virginia থেকে Sheikh Kamal লিখেছেন, ১৪ অগাস্ট ২০১১; রাত ১০:২১
Hoping for more such writing from you in the future. Very enjoyable!!!
65446
Canada থেকে Sazzad Rahman লিখেছেন, ১৫ অগাস্ট ২০১১; রাত ০২:৪৩
Ha ha ha lol.. It refresh my mind and also remind me 18 years back BUET hall sriti. I like this article very much.

I think at that time price/murgi was not 70 taka may be 40 to 50 and koliga fight was known as Voirob party/mara in our Sohrawardy hall. ( histroy- long before there was a train service through polashi mor(Dhaka) to Voirob , Voirab passengers every early in the morning had breakfast in polashi mor restaurant at first and go to Voirob that's why we call it in our hall as Voirab party).So they are known as Voirob-Party-Mara instead of Kolija-Fighter in our Hall.
Thanks
65465
Loughborough UK থেকে Maruf Dewan লিখেছেন, ১৫ অগাস্ট ২০১১; সকাল ০৯:০০
Apnake SonarBangladesh'r pokhkho theke ''Murgi Bisheshoggo'' upadite bhushito kora holo .. .. Just Joking ..
Pore besh moja laglo .. Waiting for বুয়েটে মূরগী সমাচার 2 ..
65476
কানাডা থেকে শাহীন লিখেছেন, ১৫ অগাস্ট ২০১১; রাত ১০:৪৫
হা হা হা.....
সুন্দর করে ফুটায়ে তুলেছো তুহিন!
আনলিমিটেড ডাল আর আনলিমিটেড ভাত না থাকলে যে কি হত সেটাই ভাবতেছি।
65525
Toronto, Canada থেকে Humayun লিখেছেন, ১৫ অগাস্ট ২০১১; রাত ১১:৩৫
Your "Murgi kothon" is very interesting. Waiting for the next one.....


BUET EEE 97
65528
১০
Dhaka থেকে Rakib লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; রাত ০৪:১১
Superb writing . I really enjoyed after reading all this stuffs.I had a question on my mind? How they made 19/21 pcs of a single chicken???!!!!!I really cant imagine.!!!! I think its better to say "Chicken Soup" instead of Chicken Curry.hahahahahha.....

The story of liver fighting is great. I want to ask the writer please share your more funny story to us to make laughing.

Thank you to writer and publisher to write and publish such a nice real funny story.
65544
১১
malaysia থেকে kamruzzaman লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; দুপুর ০১:৫১
Nice write up. Thanks for focus the BUET dinning. We are proud of BUET graduate as tii BUET is number one in Bangladesh in all aspects. Selection of dinning manager may be role model for other university.
65574
১২
Norway থেকে Mamunur Rahman লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; দুপুর ০৩:৩৭
The above exactly same also in Dhaka college Hostel just need to change the name. By saving money so-called managers used to buy shoes, cades, jeans from Elephant Road. We gave the name monthly fest to Jagonna feast.
During my stay in Dhaka College North Hostel in the year of 1986 we paid 280 taka for dining. 99 taka for morning breakfast. 379 taka montly expenses, those days will never come again.
65582
১৩
রবি আজিয়াটা লিমিটেড, গুলশান ঢাকা থেকে আখলাক (শুভ্র, সিভিল, ৪১১ তিতুমীর হল) লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; বিকেল ০৪:১৬
তুহিন আমার সহপাঠি ও বন্ধু ছিল। অনেকদিন পর ছবিতে চেহারাটা দেখলাম। ঠিক বুঝছিনা, ওকি বুয়েট আমলের ছবি দিয়েছে! চেহারা তো আগের মতই দেখছি। ভাল আছিসতো, বন্ধু!

আমরা বলতাম যে আমাদের হলের খাবারই সবার সেরা। হয়তো অন্যরাও তাই বলে তবে সেই কূটতর্কে ১৫ বছর পরে জড়ানো অর্থহীন।

আমাদের মাহাবুব ভাই (এবং বুয়েটের কিংবদন্তিতূল্য গালি সম্রাটও-যদিও সেসব গল্প এখন আর করা যাবেনা) সম্ভবত বুয়েটের একমাত্র ডাইনিং ম্যানেজার ছিলেন যিনি সারা মাস ভাল খাইয়েও মাস শেষে ১৮/২০ পদের ফিষ্ট দিতেন। তার মাসে ছাত্ররা নিজ উৎসাহে ডাইনিং চার্জ জমা দিত যেন ফিষ্টটা মিস না হয়। তার ফিষ্টে ৮-১০ জন আমন্ত্রিত অতিথি থাকতেন (হল প্রভোষ্ট, হাউজ টিউটর সহ এবং ওনারাও আগ্রহ ভরে অংশ নিতেন)। এছাড়াও ফিষ্টের আগে ১৫/২০টা কার্ড বিক্রি করা হত ১৫০-২০০ টাকা মূল্যে।

যা হোক, যে জন্য এ লেখা। হলের ম্যানেজার কখনো থাকিনি কিন্তু সক্রিয় রাজনীতির সুবাদে ডাইনিং বিষয়ে দু'একবার নাক গলাতে হয়েছে।

আমাদের ছাত্রত্ব আমলে আমাদের প্রভোষ্ট ছিলেন সেকেন্দার আলি স্যার। সিভিলের শিক্ষক সুবাদে তিনি আমার সরাসরি শিক্ষকও ছিলেন। চিনতেন, বিশ্বাস করতেন, পছন্দও করতেন।

তখন আমরা িদ্বতীয় বর্ষের ছাত্র। একদিন সন্ধায় হঠাৎ স্যারের ডাক পেলাম। পিয়ন পাঠিয়েছেন। ৫ মিনিটের মধ্যে আমিও হাজির। আমি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে, সাথে এলো আমার আরেক সহপাঠী আওয়ামী ছাত্রলীগের খায়রুল (সিভিল), এক ব্যাচ সিনিয়ার ছাত্রদলের বড়ভাই ইলেকট্রিকালের শিফুন ভাই। সম্ভবত জাসদ ছাত্রলীগের রতন ভাই কে স্যার খুঁজেছিলেন কিন্তু উনি হলে ছিলেন না।

আমরা সবাই আসার পরে স্যার আমাদের জানালেন যে তিনি মনে করছেন যে ডাইনিং এর খাবার ছাত্রদের পরিশ্রমের তুলনায় যথেষ্ট না। খাবারের মান উন্নয়নে এবং মাছ/ মাংসের আকার বৃদ্ধির জন্য উনি প্রস্তাব করলেন যে আমাদের ডাইনিং চার্জ ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা করা হবে। এতে আমাদের অভিমত কি।

আমরা নিজেরাও বাস্তবতা বুঝি। হোক সে ৯২/৯৩ সাল ৬ টাকায় একবেলা ভরপেট খাওয়ানো যায় না। ৪৫০ টাকা হিসাবে সাড়ে সাত টাকাও যথেষ্ট না। তবে মন্দের ভাল। আমরা তিনজনের কেউই কোন আপত্তি করলাম না বরং স্যারের প্রস্তাবে স্বানন্দে রাজি হলাম।

ছাত্রদের ভাল-মন্দ বিষয়ে আমরা কেউ কোন দলের ছিলাম না। আমরা সবাই এক ছিলাম। আরো মজার ব্যপার হল, ঐ বছরই হল সংসদ নির্বাচনে আমরা তিনজনই আমাদের তিন দলের সাধারন সম্পাদক পদপ্রাথী ছিলাম আর নির্বাচনের আগে ক্যান্টিনে প্রায়ই আমরা তিনজন একসাথে এক টেবিলে বসতাম। একবার চিন্তা করুন তো মধুর ক্যান্টিনে এ রকম একটা দৃশ্য!

এখানেই ডাইনিং সমাচার শেষ না। আমাদের সেকেন্দার স্যার বললেন, ৪৫০ টাকাও যেহেতু যথেষ্ট না, তিনি প্রভোষ্ট ফান্ড থেকে প্রতি বেলায় প্রতি ছাত্রের জন্য ১ টাকা করে বরাদ্দ করতে চান। আমাদের ছাত্রত্বের শেষদিন পর্যন্ত সেটা কার্যকর ছিল। এখন কি অবস্হা জানিনা।

আমরা তিনজন স্যারের রুম থেকে এসে যার যার পরিচিত ছাত্রদের জানালাম স্যারের স্বিদ্ধান্তর কথা। অল্পক্ষণেই কথাটা ছড়িয়ে গেল মুখে মুখে। সবার এক কথা আমরা ৫০ টাকা বেশী দিচ্ছি কিন্তু হল আমাদের ৬০ টাকা ভর্তূকি দিচ্ছে। সবাই খুশি। কারন, যা হচ্ছে তা তো আমাদেরই ভালর জন্য!
65584
১৪
রবি আজিয়াটা লিসমটেড, গুলশান, ঢাকা থেকে আখলাক (শুভ্র, সিভিল, ৪১১ তিতুমীর হল, বুয়েট) লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; বিকেল ০৫:০৩
হলের ডাইনিং নিয়ে আর একটা কথা না বললেই না। দুপুরে ডাইনিং এর দরজা খুলতো ১২ টায় চলতো বন্ধ হত ২ টায়। আর রাতে ডাইনিং খোলা থাকতো ৮টা থেকে ১০টা। কিছু ছাত্র ছিল যারা সবার আগে খেতে যেত। তাদের বলা হত ভৈরব ধরতে যাচ্ছে। এর পেছনে মজার একটা ইতিহাস আছে।

অনেক আগে গুলিস্হানের ফুলবাড়িয়ায় (বঙ্গবাজারের পাশে) ছিল রেল স্টেশন আর বুয়েটের মাঝের রাস্তা বরাবর ছিল রেল লাইন। দুপুর ১২টায় ঐ পথে ভৈরব মেইল ট্রেন যেত আর তার হুইসেল শুনে ছাত্ররা বুঝতে পারতো ডাইনিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। তখন মজা করে বলা হত যে ওরা ভৈরবে যাচ্ছে বা ভৈরব মেইল ধরতে যাচ্ছে সেই ট্রেন আর নাই কিন্তু ভৈরব মেইলের ইতিহাস বুয়েটের মাধ্যমে চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবে।

একই রকম ইতিহাস আছে শাহবাগ নিয়ে। এখন যেখানে পিজি হসপিটাল (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সেই যায়গায় পাকিস্তান আমলে হোটেল শাহবাগ নামে একটা আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ছিল। আর তাই এই মোড়টা ছিল শাহবাগের মোড়। পরবর্তীকালে সরকার জায়গাটা একুয়ার করে পোস্ট-গ্রাজুয়েট মেডিকেল ইন্সটিটিউট করেন, হোটেলটা বিলুপ্ত হয় তবে নামটা থেকে যায়।
65586
১৫
New York থেকে Monon লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; রাত ০৯:৫৫
Mama,
Murgi----Is a good topics.Murgir size or wt was not mentioned. Try to write more like this and get the name Murgi Tuhin. hahahhhhh..I cannot imagine how a young person live with very law calorie?
65614
১৬
Northville, MI থেকে Munjurul Hassan Titu লিখেছেন, ১৬ অগাস্ট ২০১১; রাত ১০:৪৩
Tuhin- thanks for taking us to the past for a few moment. I really enjoyed your writing. "Ekta kotha, MURGIR kotha bolesis kintu DIM er kotha bolish ni. Mugdaler vitore half DIM upur kora thakto." - seems like full DIM with a full bati of MUGDAL.
65615
১৭
Square, Pabna থেকে Mazibur Rahman লিখেছেন, ১৭ অগাস্ট ২০১১; রাত ১২:০৮
It's very interesting @ practical cinerio in Buet life. After a long time , remembering those enjoyable moments. Thanks Tuhin. Keep it up.
65624
১৮
sudan থেকে alam লিখেছেন, ১৭ অগাস্ট ২০১১; রাত ১২:৪৮
nice to read ur writing.its a good one.thanks a lot.
65627
১৯
New Jersey, USA থেকে ৃAbu Siddique লিখেছেন, ১৮ অগাস্ট ২০১১; রাত ০২:১৮
The story is beautiful and 100% true. You forgot to mention about a special chicken piece called "Helicopter".
65724
২০
Australia থেকে LOVELY BOY লিখেছেন, ১৮ অগাস্ট ২০১১; বিকেল ০৪:৪৯
Tuhin Bai it is good article about University life, I was student of DU stayed in BB hall but we didn't get same lifestyle u guys get because roling party cader always shout our mouth.Cader get meal FOUE mean free meal.

RABI bai you were geniune student leader, We need leader who can compromise best interest for his/her people.

I wasn't involved in active politices in Bangladesh. Now I am Vice President Sydney Institute Student Association(SA). Sometime I make fun with my president She is white Australian I told her if we are in my country in campus everybody should know us and salut us. Also we can get commsion from Budget. She laugh I also laugh but I always think when we get student leader like her who will not a mussel man, will not be get commisson, respect other opnion, not belong a party belong to a student,
65770
২১
জেদ্দা, সৌদি আরব থেকে নূর আয়েশা সিদ্দিকা লিখেছেন, ২০ অগাস্ট ২০১১; রাত ০২:৩১
বেশ মজা লাগলো আপনার লিখাটি পড়ে। তবে কষ্ট ও লাগলো হোস্টেলে থাকা ছাএ ছাএীদের জন্য। আশা করি বর্তমানে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে নিশ্চয়। সুন্দর লিখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
65915
২২
শেরে বাংলা হল থেকে রাকিব লিখেছেন, ২০ অগাস্ট ২০১১; দুপুর ০২:০৩
সত্যি কথা হইল, এখন ডাইনিং এর টাকা মারা ১টা ওপেন সিক্রেট, এই জন্য আমাদের রাজনৈতিক বাবাজিরা মাথা নিচু করে হাটে না, বরং টাকা মারতে পারার আত্ম বিশ্বাসে তারা আরও বুক ফুলিয়ে হাটে।
65959
২৩
Australia থেকে Lovely Boy লিখেছেন, ২০ অগাস্ট ২০১১; বিকেল ০৪:৩৬
Subroy Bai sorry I put u name under ur company name. Sorry hahaha
65972
২৪
USA থেকে Rumman লিখেছেন, ২০ অগাস্ট ২০১১; রাত ১১:৫৫
আচছা, ছেলেদের হলে "মুরগি" ধরা হইতো বা নেতারা মুরগি ধরিত, তাহলে কি মেয়েদের হলে ওনারা "মোরগ" ধরিত? নাকি ওনারাও মুরগি বলিয়া চালিয়ে দিত?
65997
২৫
kansas থেকে obaed লিখেছেন, ২২ অগাস্ট ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:২২
It is very good and interesting .I went in the past for a few moment .Waiting for more next-------------
66126
২৬
Westland, MI থেকে ৃAlamgir লিখেছেন, ২২ অগাস্ট ২০১১; রাত ০৮:৩৭
Tuhin Bhai it's really nice and true,
I was also in Nazrul Islam hall at the same time, I think I can help you find the next topic "Nola mach" which was the worst cup in dinning and unfortunately that was the only one I use to get because I was always the last person in the dinning,
66132
২৭
UNOPS, Colombo, Sri Lanka থেকে Mustafa Iqbal Azam লিখেছেন, ২৬ অগাস্ট ২০১১; সকাল ০৯:৫০
This is fabulous story you have written and I really enjoyed & retried my past student life in 1977-1981. I was in Sohrowardi Hall. This is same practice all halls. But you have written interesting way.
Can you write few stories on Balaka Hall Cinema story and Modhumita James Bond's Cinema?
66432
২৮
Ctg থেকে syed a.m.m.saadi লিখেছেন, ২৬ অগাস্ট ২০১১; বিকেল ০৪:৪৪
Nice writtings and enjoyable humor. Tuhin has the capability of writting humor. University life in Bangladesh is all most typical in all the public university, except private one. Older person who once resident may feel the nostalgia by reading it.I have no experince in hostel life but my father once the resident of S.M.Hall had different experince from the present who was studying in DU 1936-1940 as he used to tell us his lifestyle there. Like today no such practice of making money squeezed from menu, slavery of senior by junior student, compulsory attending political programme,leasder's free eating from canteen, female student 's gossiping in room and keeping away from "salat and siam" etc.
We can have reply from Tuhin's story why our secretariat , AG office, parliament and courts are so corrupt. I think till the Qiamat corruption will continue and will increase in larger volume.
66445
২৯
Philadelphia থেকে A S M Rokanuzzaman লিখেছেন, ২৭ অগাস্ট ২০১১; সকাল ১০:৪৬
I used to stay in Nazrul Islam with Golam Ahmed Tuhin (GAT). GAT was my batch mate and friend. Later on, he became my match maker and maternal uncle in law. I know that GAT has many talents. He was used to write small stories in his BUET life as well. I am very proud that Tuhin has enhanced his writing skill. His small story “Murgi” is a testament of his continued advancement of writing skill. I am eagerly waiting for his next story
66495
৩০
Brussels, Belgium থেকে Md. Obaidullah লিখেছেন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৩৬
Thanks for writing for such an article on BURT Murgi Samachar. I went in the past life and sweet memories for a few moment. Tuhin thanks for writing about me in this write up. Go ahead and good luck for the next.
67633
৩১
জাপান থেকে আবু নূর রাশেদ আহম্মেদ (রাশেদ-৯১ ব্যাচ) লিখেছেন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৮:৩৮
আমিও একই হলের ছাত্র ছিলাম। কলিজা ফাইট শব্দিটি কখনও শুনিনি। কিন্তু মাঝে মধ্যে ফাইট দিয়েছি। হায়রে দিনগুলো আমার! বড়ই আফসোস!!!!!!!
67640
৩২
Bangladesh Army, Cox's Bazar থেকে Mizan, 89 Batch (nazrul -334) লিখেছেন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১; দুপুর ১২:৫০
Thanks Bap.Excellent. What abt your spl vedio arrangement? obeydullah standing on jaynamaj to say prayer & you are asking money for that arrangement. I am very happy to know that you are now ok.Go ahead, B happy &enjoy yourself.
67678
৩৩
বুয়েট থেকে মিজানুর রহমান পলাশ লিখেছেন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১; বিকেল ০৪:৪৯
দিন অনেক চেঞ্জ হয়েছে, কিন্তু সব কিছুই আগের মতই। এই ২০১১ সালেও সেই মুরগীকে ২০ টুকরো করা হয়, দুইটা আলু আর এক পিস মুরগীর কাহিনী, কিছু বাজে ম্যানেজার, কিছু ভাল ম্যানেজারকে জোর করে আবার ম্যানেজার বানানো, কলিজা ফাইট ইত্যাদি আগের মতই আছে।শুধুমাত্র ডাইনিং চার্জ ৯০০ টাকা হয়েছে। তখনও ৪০০ টাকায় চলতোনা এখনো ৯০০ টাকায় হয়না, তবে খাবারের মানের দিক দিয়ে এখন আর নজরুল হল শীর্ষে নেই। ৯১ এর জায়গায় ২০১১ আর ৪০০ এর বদলে ৯০০ বসিয়ে এই লেখাকে একদম এই সময়ের লেখা বলে দেয়া যাবে।

আর পলিটিক্স নিষিদ্ব হবার পরে মুরগী ধরার সিস্টেম আর নেই, সাধারন ছাত্রদের কেউ ডাকেনা। যেই সব উচ্ছৃংখল ছেলে (এরা ছাড়া এখানে আর কেউ এখন পলিটিক্স করেনা)
পলিটিক্স করবে, নিচের দোকানে আর গনরুমেই (আসন কম হওয়ায় এখন গেমরুম গনরুমে পরিনত হয়েছে) কিভাবে যেন খুজে নেয়।
আপনার লেখা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল, একসময় আমিও এই রকম লিখবো হয়তো, সেটা পড়ে কোন জুনিয়র কমেন্ট করবে, আসলে সময় খুব দ্রুত চলে যায়।

মিজানুর রহমান পলাশ।
ইলেক্ট্রিকাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক
০৭ ব্যাচ, নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ছাত্র।
67689
৩৪
সোহরাওয়ার্দি হল থেকে মিফতু'২০০৯ লিখেছেন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:১২
সত্যি বলতে কি কলিজা ফাইট না হলেও কলিজার কাপ আগের নিয়মেই দেয়া হই...আর আমরা এখন মুরগিকে "প্লাস্টিক" বলি।মজা পেলাম আপনার লেখা পড়ে।আগের ভাইদের ইতিহাস শুনতে অনেক ভাল লাগে...
68065
৩৫
নজরুল ইসলাম হল, বুয়েট থেকে সাহিদ'০৯ লিখেছেন, ১৭ এপ্রিল ২০১২; বিকেল ০৪:০০
এখন ডাইনিং চার্জ ১২০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একটা মুরগী ১৪ কাপ।
এখন উচ্ছৃংখল এবং ফাকিবাজ ছেলেরাই রাজনীতি করে।
83009
৩৬
Dhaka,BUET'11 থেকে shantu roy লিখেছেন, ২৩ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ০৩:৪০
vaiya ekhn buet e j koto faltu obostha choltese ta apnara cinta korte parben na,eta amdr swapner campuss na
83282
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
গোলাম আহমেদ তুহিন ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। বাংলাদেশে বেক্সিমকো গ্রুপে প্রায় ২ বছর চাকুরির পর ১৯৯৯ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে আমেরিকা গমন করেন এবং ২০০২ সালে আমেরিকার “ইউনিভার্সিটি অব ডেট্রয়েট মার্সি” থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্র থাকা অবস্থায় ২০০০ সাল থেকেই তিনি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ী তৈরীর কোম্পানীর (Ford Motor Company) বিভিন্ন প্রোজেক্টে কন্ট্রাক্ট কন্সাল্ট্যান্ট হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং একইসাথে ফোর্ড মোটর কোম্পানীর যেসব employee স্নাতকপূর্ব পর্যায়ের ছাত্র ছিলেন তাদের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি একজন উর্ধ্বতন প্রকৌশলী এবং ২০০৫ সাল থেকে আমেরিকায় হোন্ডা মোটর কোম্পানীতে (Honda Motor Company) রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে কর্মরত। তিনি একজন আবিস্কারক (US patent holder) ও আমেরিকান সোসাইটি অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের (ASME) সদস্য।

বর্তমানে স্ত্রী শামীমা আহমেদ মুনমুন, এক মেয়ে তাকিয়াহ আহমেদ ও এক ছেলে রাইয়ান আহমেদ সহ আমেরিকার ওহাইও স্টেটে বসবাস করছেন। চাকুরী এবং পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বিষয়ে লিখালিখি, ভ্রমন ও বাগানের কাজে ব্যস্ত থাকেন। ইতিপূর্বে তার বেশকিছু লিখা বিভিন্ন দৈনিক এবং অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তার লিখা প্রথম বই “মহাকাশ ও নভোচারীদের অজানা কথা” পাঠক মহলে বেশ সাড়া দিয়েছে।

লেখকের সাথে যোগাযোগের জন্য ইমেইল করুনঃ golam2001@hotmail.com

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy