শুক্রবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ১৮ মে ২০১২; রাত ০২:১৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (৭ম পর্ব-ফের সূর্য) (২৮/০৫/২০১১)
একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (নতুন পৃথিবী) (০৭/০৫/২০১১)
একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (হোয়াইট হল) (১৬/০৪/২০১১)
একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (৪র্থ পর্ব) (০৯/০৪/২০১১)
একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (৩য় পর্ব ফ্যাক্টর সিসিসি) (০২/০৪/২০১১)
একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (২) (২৬/০৩/২০১১)
একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (১৯/০৩/২০১১)
আগের লেখা
195


একটি রোবটের আজন্ম মনুষ্যত্ব (৭ম পর্ব-ফের সূর্য)

গুল্লা সানোয়ার

সূর্য উঠেছে। পৃথিবীর যেন আবার নতুন সাজ, পৃথিবী জুড়ে। অন্ধকারে অত্যাচারিত মানুষগুলো হাঁফ ছেড়ে যে যার কাজে লেগে গেলো আবার। আর একটু হলে অন্ধকারের অভ্যেসে অভ্যস্ত হয়ে পড়তো ভাবাই যায় না। সারা দুনিয়া জুড়ে আজ নতুন উদ্দম। আবার বৃক্ষের বাতাস পাতার শিরশির শব্দ, সবুজ মাঠের মায়াবী নিস্তব্দতা, নদীর কুলকুল বয়ে চলা ছন্দ বহুদিন পর পৃথিবীবাসীকে নতুন করে আপ্রুত করে তুলছে দেশে দেশে।
তবে একটা দুইটা পরিবর্তন এই ভূমাণ্ডের বড়ই অপ্রত্যাশিত ঘটে গেছে, এই নিয়ে জীব জগতের কোন পরিবর্তন না হলেই হল। মাটি উল্লেখযোগ্যভাবে ফ্যাঁকাসে হয়ে গেছে সূর্যকেও আগের থেকে দূরবর্তী ও খানিকটা তেজহীন তাপীয়। বায়ু প্রবাহ আমূল পরিবর্তিত যা সত্যিকারে ভাবনার। মানুষের চিরচেনা অভ্যস্ত বিষয়গুলো নতুন করে নতুন সাজে আর তা খটকা লাগবারই কথা। শেষ মেশ সূর্যটাই যে পৃথিবীবাসীর কাছে ফিরে এসেছে এটাই বড় ভাগ্যজোর। সবচেয়ে আশ্চর্য যে বিষয়টা তা চাঁদ, হড়হড় তরতর করে একবার তার কক্ষপথে বড় হচ্ছে আবার ছোট হয়ে জন্ম দিয়ে চলছে মানুষের মনে নানা আশঙ্কা। চাদের আকর্ষণে দেশে দেশে মানুষ মাথা ব্যথা জ্বর হাজারো শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে নতুন এক মহামারীর আকার ধারণ করার খবর প্রায়ই শুনা যেতে থাকলো। সেই প্রেয়সী চাঁদ হাজারো উপমায় উপমিত যে সৌন্দর্যের আধার সেই চাদ আজ যক্ষপুরীর রাক্ষুসী ডাইনী। আহত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ফুটো হয়ে গেছে আর তা কৃত্রিম স্থায়ী মেঘ দিয়ে সেই ফুটো ভরাট করে রাখার প্রয়াস বিজ্ঞানী মহলে, সাধ্যমত সারিয়ে তুলাটাই এখন জরুরী। নয়তো এই পৃথিবী আর বেঁচে থাকবার উপযোগী নয়।

যুদ্ধ শেষের বিধস্ত পৃথিবীকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে দেশে দেশে ব্যস্ত মানুষের হা হুতাশ ঠিক এমনটিই এই পৃথিবীর আনাচে কানাচে।

যাক কিয়ামত আপাতত হচ্ছে না। দাজ্জালও কোথাও পাহাড় ফুঁড়ে বেড়িয়ে আসেনি এই খবরে সবাই আস্থাশীল তবে রোবটদের হাতে পৃথিবী হাতছাড়া হবার আশঙ্কা একেবারে অমূলক একটুও না। রোবটরা যদি পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ হাতে তুলে নেয় বিজ্ঞ বিজ্ঞানী মহল যে একটুও বিস্মিত হবেন না তা এই মহল ভাল করেই জানে। কারণ তারা কিছুতেই বুদ্ধি বলে পেরে উঠছেন না তা আর সাধারণ মানুষের কাছে গোপন থাকলো না। এখন ভগ্যের জোরের উপর ভাগ্যকে সপে দেওয়া ছাড়া কিছুই করবার নেই।
যন্ত্রের সাথে তো আর আইন করে সমঝোতা হয়না। হলও না।

রুশ নিয়ন্ত্রিত রোবটদের নিয়ন্ত্রক রাডার স্থাপনা রোবটরা ধ্বংস করে দিয়েছে তারা আর তাদের আদেশ মানতে রাজি নয়।
চৈনিক রোবটেরা যে সে পথেই এগুবেনা তাই-বা বলতে পারে কে!
ঠিক তখনই ডুকরে উঠা নতুন সূর্য-সময়ে ঘোষণা শুনা গেল চীনরা এমন একজাতীয় রোবট আবিষ্কার করেছে যারা এই অবাধ্য রোবটদের ধ্বংস করে দিবে। যাকে, সহজ কথায় বলা যায় রোবটদের রোবটীয় যুদ্ধ। হতে পারে এটা আরেকটা বিপর্যয়ের ডাক। এই যুদ্ধের দামামা যে মানুষের এসে লাগবেনা তা কি হলফ করে বলতে পারে কেউ! রোবটের যুদ্ধ একপক্ষ মানুষের প্রতিনিধি যাই হোক এযুদ্ধ আপাতদৃষ্টির কথা মানুষ ও রোবটের যুদ্ধ।

যাক এতো দিনে একটা আশার কথা। এই হারামি রোবটের যন্ত্রণা যত্রতত্র একটা দুর্ভাবনারই ব্যাপার এই অবস্থা থেকে নিরসন একমাত্র এই একটাই পথ খোলা। নয়তো এই পৃথিবী রোবটের ছেড়ে দিয়ে মানুষকে হতে হবে দ্বীপবাসী। আর রোবটের ধ্বংসলীলা যারা জানে তারা যে এই ভয়াবহতার কথা শুনে শিহরে উঠবেন তা বলার কোন অপেক্ষাই রাখে না।

রোবট দুনিয়ার পিতা আজ নিরুদ্দেশ।
মানুষেরা কেউ জানে না কোথায় সেই বিজ্ঞ বিজ্ঞানী মানুষটি! মানুষ আজও বিশ্বাস করে যে লোক এই রকম একটা যন্ত্রের প্রাণসঞ্চার করবার প্রয়াস চালিয়ে গেছেন সারাজীবন নিশ্চয়ই তাঁর হাতে থামিয়ে দেবার লাটাইও যে আছে তাতে সন্দেহ কারও বিন্দু পরিমাণেও নেই। কিন্তু আজ তাঁর টিকির নাগাল কে পায়! তাঁকে ফিরে পেলেই না বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা পরানো যায়। সে লোকটাকেই তো কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা।

কোন মনুষ্য জাতি তো নয়ই এমনকি কল্পনার বহির্ভূত তাঁদের ফিরে পাবার প্রয়াস। আজ পৃথিবীর এই বিজ্ঞ জন রোবট সৃষ্টি করে আজ এলিয়েনদের হাতে বন্দি দূর আকাশের গ্রহে এমনকি সেই আকাশের নাম কী তাই কারও জানা নেই।
তাঁর একমাত্র রোবট সন্তান বনি সিনহাও উধাও। উধাও না বলে ফেরারি বলাই যুক্তি যুক্ত।

যাকে আদর করে নিজের নাম জুড়ে দিয়েছে নামে। অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিরলস গবেষণা করে যে রোবট শিশুকে মানুষের মস্তিষ্কের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে যে রোবট কিনা মানুষের বিকল্প চিন্তার আধার, যে রোবট মানুষের মনের কথা মানুষের থেকেও বেশি বুঝতে পারে সেই বনি সিনহাকে রোবট জাতি হন্নে হয়ে খুঁজছে গত আট আটটা মাস। বনিকে খোঁজে ফিরবারই বা এত জরুরী ই-বা কেন এই রোবট জাতির? সেই বা পালিয়ে বেড়ায় কেন? কী সেই রহস্য? তা হয়তো একমাত্র ডঃ সিনহাই জানতেন। আর তা হয়তো রোবট জাতির জন্য সুখকর ছিলনা। আর সেই রাগেই কী একের পর এক হামলা হতে চলছিল তাঁর উপর? শেষ মেশ তো শেষ রক্ষেটা হলই না। তবে এ কথা নিশ্চিত বনি আফ্রিকার যেখানেই মনুষ্য পরিবেশে মানব হয়ে আত্মগোপন করুক না কেন তা একমাত্র ডঃ সিনহাই জানতেন। একটা যন্ত্রকে প্রাণসঞ্চার করতে যেয়ে ভালোবেসে নিজের সন্তান জ্ঞান করে তার খবর সে জানবে এতে বিচিত্র কী! আর সেই স্পেশাল রোবট মানবকে রোবটরা কমে যে ছাড়বে তা ভাবা অবান্তর বৈকি।
খবরের কাগজ খবরের সাথে গাঁজা মিশিয়ে এমন খবর প্রকাশ করতেও ছাড়ল না যে এত কিছুর কী দরকার রোবটের ধ্বংস সেই বহু প্রত্যাশিত মানব-রোবটই সমস্ত রোবটজাতির প্রাণবায়ু ওটাকে ধ্বংস করে দিতে পারলেই প্রাণ সঞ্চারণকারী সব রেডিয়েশন বন্ধ হয়ে রোবটরা ধাতব পুতুলে পরিণত হয়ে যাবে।

গুজব নেহায়েত গুজব। খবরের কাগজগুলো একটার বিরুদ্ধে আরেকটা ঢালাওভাবে প্রতিবাদ করতে থাকলো। অদ্ভুত অদ্ভুত খবর ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিদিন এমনকি খবরের কাগজ গুলো বেশি বেশি তুঁতে গাছ রোপণের পরামর্শ দিয়ে রীতিমত বিজ্ঞানী সেজে বসে থাকলো। তুঁতে গাছ নাকি রোবটরা ভয় পায় দাড়ের কাছে ভিড়ে না। তাহলে পৃথিবীর চারপাশ তুঁতে গাছ রোপণ করে দিলেই তো এই ল্যাটা চুকে যায়।
লাল রঙ দেখেও নাকি ওরা এলোপাথাড়ি ছুটে ভয়ে। মরীচিকা দেখে এই লাল রঙে।

রোবট জাদুকর ডঃ সিনহার মন কী কাঁদে না এই পৃথিবীর জন্য এই সব রোবটের জন্য তার সন্তানের জন্য।
যে কিনা সর্বক্ষণ কোন না কোন গবেষণাতে ব্যস্ত কাটাতেন প্রতিটা মুহূর্ত সে কী আর পারবে শুধু শুধু পড়ে থাকতে। ঢেঁকি যদি স্বর্গে গেলেও ধান বানে তো ডঃ সিনহার জন্যই বা ব্যতিক্রম হবে কেন?
যেখানে তাঁর সাথে রয়েছে তাঁর চারজন যোগ্য সহকারী। তারা কী কোনদিন পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে? হায় ফিরে আসবার পথই জানা নেই।
কত লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে যে তারা আছে তা তো কেউ জানেনা।

অনেক গুলো দুনিয়াবি ঘণ্টা হাঁটার পর বন্দি অভিযাত্রীরা একটা পাহাড় ঘেরা ধাতব শহরে উপনীত, আশ্চর্য একটা গ্রাম বা একে নয়া পৃথিবীর প্রথম শহর বললেই ভাল। চারদিকে মালার মতো ছোট ছোট পাহাড় প্রত্যেকটা পাহাড় ভিন্ন আঙ্গিকে মনোরম। একদিকে দিগন্ত জুড়ে মাঠ যেন দূরের আকাশে যেয়ে মিশে গেছে। এই রকম ধাঁধানো সবুজ যে সবুজ হতে পারে মানুষ ভাবতেই অবাক। কী সব আশ্চর্য রঙের গাছগাছালি এইসব রঙের সাথে এই প্রথম অভিযাত্রীদের পরিচয়। দক্ষিণ দিকটার আকাশ যেন অনেকটা হলুদাভ আসলে এইখানে এতসব রঙে সব রঙিন যে ঠিক করে ঠাহর করাই মুশকিল যে এই রঙটা কি এই রঙটাকে পৃথিবীতে কী বলে! সেই পাহাড় ঘেরা স্বর্গ শহরে অভিযাত্রীরা নয়া পৃথিবীতে একদল আদমের গোড়াপত্তন হল যেন। সারি সারি অনেকগুলো ধাতব কটেজ কী এক ধাতবে গড়া অভিযাত্রীরা হাত দিয়ে দেয়াল স্পর্শ করেই শিহরিত হয়ে উঠছে আনন্দে। অনেকগুলো বাড়ি। এলিয়েনেরা ইশারা করে ও দুর্বোধ্য ভাষায় জানিয়ে দিলো এই শহর তোমাদের এই ঘর বাড়ি আজ থেকে তোমাদের তোমরা তোমাদের নিজ নিজ বাড়িতে চলে যাও আনন্দ কর। আজ এই নয়া পৃথিবীতে তিনশ' বিশ জন আদম হাওয়া দিয়ে শুরু হয়ে গেলো নতুন মানব জীবনের নতুন অধ্যায়। পৃথিবীর মানুষ আজ নতুন গ্রহে।

যদিও আজ থেকে ৩শ বছর আগে পৃথিবীবাসী উড্ডীয়মান একটা আকাশ-দ্বীপের শহরকে ১৫০ মানুষের একটা অভিযাত্রী দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। বেশ কয়েকদিন পর আর তাঁদের কোন হদিস পাওয়া যায়নি বিশাল আকাশ গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছিল।
সেই শহরটা আজও আছে কীনা, হয়তো কোন এক সৌরজগতে তারা বহাল হয়ে বেঁচে রয়েছে। হয়তো আজ তারা কয়েক মিলিয়ন হয়ে গেছে। নয়তো ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই যাই হোক সেই কথা পৃথিবীবাসী ভুলে গেছে সেই কবে!

মানবজাতির সেই অদম্য ইচ্ছাকে মানবজাতির অগোচরেই সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে। আর তা করেছে এলিয়েনরা।এখন পৃথিবীর বাইরে মানুষ নতুন পৃথিবীর পত্তন করেছে।

শহরের কেন্দ্রস্থলে একটা ফোয়ারা আর পাশেই এই নয়া পৃথিবীর ম্যাপ যা দেখেই সহজে অনুমান করে নিল ডঃ সিনহা। তার পাশে সব সময় ছায়ার মত তাঁর সহকর্মী সাথী। চীনা ব্যবসায়ী দলটাও তাঁর সাথে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ শুধু বাইসন একটু আলাদা ধাতুর মানুষ। অদূরে এলিয়েনরা গা এলিয়ে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলে হাসাহাসি করছে। হয়তো এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তারা ক্লান্ত নয়তো মানুষের নিয়ে নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা করতে পেরে ওরা যারপরনাই আনন্দিত আর তাই এই আয়োজন। সবাই সবার ঘরে এই ঝলক দেখে নিয়ে আবার বাইরে মুক্ত বাতাসে নিচে আনন্দিত বদনে পায়চারী করছে। একটু পরেই একটা চাতকির মতো ভাসমান একটা আকাশযান এসে থামলে এলিয়েনরা যেখানটায় বসে আনন্দ করছিল তার পাশে। এদের আনন্দ করবার ধরনটাই আলাদা ঠিক একদল কিশোর যেমন ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এদের মেজাজ মর্জি যে ভিন্ন তা খুব প্রবল ভাবেই লক্ষণীয়। সবাই তারা ছাদহীন যানটাতে আয়েশ করে বসা মাত্র ধাতব শহরের উপর দিয়ে প্রবল বেগে শব্দহীন চলে গেলো।
নিস্তব্দ বিকেল। (আসলে বিকেল বলতে যা বুঝায় ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দের সময়। আসলে তো এখানে সূর্য নেই সূর্য না থাকলে সকাল বিকাল বৃথা বিব্রত শব্দ ছাড়া আর কী!) অপরূপ আকাশের নিচে সবাই আনন্দে ছুটোছুটি করছে। এখানকার বায়ুমণ্ডলটা বড়ই অদ্ভুত।

শহরটা খুব বেশি বড় নয় তবে কোন কিছুর যে অভাব এইখানে নেই তা সহজেই অনুমেয়। ইচ্ছে করলে সবাই, তিনশ বিশ জন মানুষ আলাদা আলাদা বাড়িতে থাকতে পারে।

আট জন বাঙালি ডঃ সিনহা, ডঃ অনন, ডঃ চৌধুরী, মারুফি খান, বিযন্ন, কট নামেই সেই সাহসী যুবক, নব দম্পতি নিবিন ও টনা।
ভারতীয়দের মধ্যে কবি নন্দ লাল শিশির, ঘোম সাম, নিলিত ও ডঃ আক্রবর সেন ও সাত জন মডেল নিলিতা, নয়া, বনিয়া, জেন, আকালি, ক্রনানি ও মেশা ঝলমলে উচ্ছল যৌবনা সাতজন সব সময় একত্রে থাকে। এই মডেলদের সাথে কর্ক বাইসন বেশ জমিয়ে তুলেছে সেই হোয়াইট হোল থেকেই। এলিয়েনরাও এদের বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য উন্মুখ এরাও বেশ মানিয়ে উঠছে। সবাই এখানে উচ্ছল স্বাধীন প্রাণবন্ত মানুষ কাউকে নিয়ে কারও মাথা ভাবনা নেই।

আরবি তিন জন হিশাম ফারাহ ও মিশকাশ ব্রাজিলীয় ল্যাটিন নিরাকা ভূতপূর্ব বিশ্ব সুন্দরী ও তার বোন বিন্ন, জুনারের জ্যাক হ্নিন ও পটাক নিস্নস, তিনটা ছোট শিশু যারা একটা সো করতে হংকং যাচ্ছিল। আরও কিছু বাদ্যযন্ত্রকার ডিজাইনার এসব মিলিয়েও আরও বিশ জনের কম না।
পৃথিবী চীনারা শাসন করলেও এই পৃথিবীতে চীনারাই সংখ্যালঘু। মাত্র চারজনের একটা ব্যবসায়ী দল।ও এক মা আর শিশু হুয়াং। সাকুল্যে এই ছয়জন। এলিয়েনরা চীনাদের এখানে লঘু করে রাখবেন এই হয়তো তাদের ইচ্ছে।

১২০জন কলম্বো বিমান যাত্রীদের সাথে সবার পরিচয় থাকলেও বাকি ১০০ যুবক ও ১০০ বিভিন্ন জাতির সুন্দরী যুবতীদের সাথে একে একে পরিচয় হয়ে গেলো একে অপরের সাথে। তাদের সবার সাথে হোয়াইট হোলে দেখা হয়েছে যদিও। সবার মুখেই একটা মিষ্টি উষ্ণতার হাসি ও আন্তরিকতা কয়েক মিনিটের ভেতরেই একে অপরকে ভালোবাসার আবদ্ধে জড়িয়ে নিল। এইখানে কারও সাথে কারও শত্রুতা নেই। ভুল বুঝাবুঝি নেই ভালোবাসার কৃত্রিমতাও লক্ষ্যণীয় নয়।

এলিয়েনরা অনেক আগে থেকেই এক যুগ গবেষণা করে সফল হয়েছে কী করে পৃথিবীর এই মানুষ প্রাণীটার এই ধর্মবোধটা ধ্বংস করে দেওয়া যায় তাদের বিশ্বাস এই ধর্ম মানুষের বিবেধের মূল হোতা। আজ তা সফল হয়েছে। আজ আর কোন ধর্মবোধ জ্ঞান নেই লজ্জা নেই শুধু ভাল লাগার ইচ্ছে বোধটাই সবচেয়ে প্রবল এই নয়া পৃথিবীর মানুষের। হয়তো একদিন এইখানে হাজার হাজার মানুষ বেড়ে উঠবে তারা তাদের পিতৃত্বের পরিচয় পাবে কী! না পেলেও হয়তো কারও ক্ষতি নেই। তরল বিবেকের একটাই তো সমাজ এখানে কারও কোন রক্ত চক্ষু নেই।

(চলবে)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/GullaSanuwer
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
পৃথিবী থেকে কেউ লিখেছেন, ৩১ মে ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৫৬
ভাল হয়েছে তাকি আর বলতে হবে? চালিয়ে যান।
58313
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy