সমকালীন সময়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে রাষ্ট্রেয় সন্ত্রাসের কবলে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যাযের নেতাকর্মীদের দুর্বিষহ অবস্থা। শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের নেতাকমী নয় রাষ্টের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত নানা অঙ্গনের সাধারণ নাগরিকরা ক্ষমতাসীল বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
আমরা যারা প্রবাসে অবস্থান করছি তাদের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের খবরাখবর খুব দ্রুত দেশের মানুষের আগেই দৃষ্টিগোচর হয়। আকাশ সংস্কৃতির বিকাশের ফলে আমরা প্রবাসের মানুষগুলো বাংলাদেশের চলমান ঘটনাবলীর সাথে খুব দ্রুত একাকার হয়ে যাই। আগামীকাল সকালে দেশের মানুষ যে খবরটি জানবে সেই খবরটি প্রবাসী সচেতন মানুষের কাছে পুরোনো খবর বলে বিবেচিত হয়। যার ফলে দেশের মানুষের চাইতে প্রবাসে থাকার কারণে দেশের চলমান ঘটনা গুলো জানার প্রতি আগ্রহ স্বাভাবিক কারণে কিছুটা বেশি বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। প্রতিদিন ইন্টারনেটে আপলোডকৃত পত্রিকাগুলোর সংবাদ। টিভি সংবাদ বিদেশী মিড়িয়ার মতামত এবং প্রতিদিন দেশে বসবাসরত আপনজনদের সাথে টেলি সংলাপের মাধ্যমে ইতিমধ্যে যা শুনেছি দেখেছি এবং বুঝছি তাতে মনে হয় বাংলাদেশে আজ মানবাধিকার লংঘনের চরমভূমিতে পরিণত হয়েছে।
সম্গ্রতি বাংলাদেশের মানবাধিকার লংঘনের প্রশ্নে মন্তব্য করতে গিয়ে বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান ড: মিজানুর যে শঙ্কা প্রকাশ
করেছন তাতে রীতিমত শিহরে উঠার আবস্থা। এক সাগর রক্ত আর শত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে যে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল, সে দেশ আজ ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে এই আশংকা সত্যি আমাদের জন্য চরম বেদনার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যেমে অর্জিত বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মানুষের আশা আখাংকা বাস্থবায়ন করার কথা ছিল ঠিক সে সময়
তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে যে দুঃশাসন কায়েম করেছিল তাকে ও হার মানিয়েছে। সমকালীন সময়ের বাংলাদেশের সামজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১ বৎসরে সারা বাংলাদেশে যতগুলো মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মিডিয়ায়। প্রকাশিত সংবাদ মাঠপর্যায়ের কর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে এবং সর্বোপরী পর্যবেক্ষক মহলের মতামতের আলোকে রির্পোট প্রাকাশ করেছে। এ সকল রির্পোটগুলোতে দেশে মানবাধিকার লংঘনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে ও হার মানিয়েছে বলে ও অনেকে মনে করেন, টি,আই,বি, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার ফোরাম, অধিকার সহ আরো বেশ কযেকটি মানরাধিকার
সংগঠনের এ সকল রির্পোট দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল, রিপোর্টাস সেষ্ট ফন্টির্য়সে
(আর,এস,এফ,) সহ আরো অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার ওয়েবসাইট গুলোতে বাংলাদেশের মানবাধিকার লংঘনের জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। এ সকল রিপোর্ট গুলো খুব গভীর ভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে দেশের সাধারণ মানুষ বিভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে তার মৌলিক মানবাধিকার থেকে পদে পদে বঞ্চিত হয়। কিভাবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মী হয়ে সরকার বিরোধী শক্তিকে চরম নির্যাতন করে। গত ১ বৎসরে দেশের ২২৭ জন বিভিন্ন পযাযের নিরীহ নাগরিক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।
এক পরি সংখ্যানে দেখা যায় র্যাব, র্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ারে মৃত্যু বরণ করেছেন ৮০ জন, পুলিশে হেফাজতে প্রায় শতাধিক হাজত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রায় অর্ধশত, উল্লেখিত সময়ে জাতির বিবেক বলে বিবেচিত সাংবাদিক গণ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পায়নি এরমধ্যে নিহত হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক, আহত হয়েছেন ৭৪ জন এছাড়া হুমকির সমুখ্খীন হয়েছেন অর্ধশত। এবং বিভিন্ন সময়ে দেশের নানাস্থানে ক্ষমতাশীন সরকারের ছাত্র যুব সংগঠন ছত্রলীগ ও যুবলীগের হাতে লাঞ্চিত হয়েছে প্রায় অর্ধশতের ও বেশি । এই সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ও ব্যাপক ভাবে ঘটেছে। এক পরিসংখ্যানে পাওয়া যায় গত এক বৎসরে ১০৬৬ ও বেশি ধর্ণের ঘটনা ঘটেছে। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় কারা নির্যাতনের সহ সরকারী দলের ক্যাড়ার বাহিনী দ্বারা চরম নির্যাতনের শিকার
হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় গত এক বৎসরে দেশের নানা স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে ১৭০ জনের মত নিহত এবং বারো হাজারের ও অধিক আহত হয়েছে বলে সূত্র থেকে পাওয়া যায়। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যাযের নেতারা বিভিন্ন স্থানে, টেন্ডারবাজি, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সমূহে ভর্তি বাণিজ্য সহ নানা আইনবিরোধি অপতৎপরতার সাথে ওতপ্রোত জড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত এক বৎসরে গোটা বাংলাদেশের বেশিরভাগ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সন্ত্রাস কবলিত। যার সর্বশেষ আখ্যায় সম্প্রতি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘটনা। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে উভয় পক্ষেও গোলাগুলিতে সাধারণ ছাত্র নিহতের ঘটনা ও ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টগুলোতে উল্লেখ করা হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের দায়িত্বশীল সন্ত্রাসীদের অনেক উস্কানীমূলক বক্তব্য দেশে রাষ্টীয় সন্ত্রাস বাস্তাবায়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের উৎসাহিত করেছে। এক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে। তার শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য বিভিন্ন সময়ে জাতিকে হতবাক করেছে। অবশ্য তার ক্ষেত্রে এটি নতুন কিছু নয়।
সম্প্রতি টি,আই,বি, এর প্রকাশের পর সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল সন্ত্রাসীদের মন্তব্যগুলো হয়তো বা নতুন করে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে আমি মনে করছি। মানবাধিকার অথই হচ্ছে মানুষ তার অধিকার নিশ্চিতভাবে যে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ভোগ করবে। অথচ বাংলাদেশ আজ তার অবস্থান বিপরীত মেরুতে নিয়ে গেছে। যে সরকার নিজের খেয়াল খুশীমত নিজ কার্য চরিতার্থ করার জন্য রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের মানুষকে নির্যাতন করে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সে সরকারের হাতে মানবাধিকার নিশ্চিত করা অসম্ভব। এখন দরকার রাষ্টের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় গণআন্দোলনের মাধ্যমে একটি নিখাদ সুস্থ, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা, যা রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করবে।