মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৩১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবতা

হায়দার আকবর খান রনো

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। জাতিসংঘের পুরস্কার। শিশু মৃত্যুহার হ্রাসের ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য এ পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। বিরোধী দল বিএনপি দাবি করেছে, এ কৃতিত্ব তাদের। তাদের আমলেই এ অগ্রগতি হয়েছে। মোট কথা, আমরা যেন এক বিরাট সাফল্য অর্জন করেছি।

জাতিসংঘ কর্তৃক যেসব-লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল, তার একটি হলো শিশু-মৃত্যুহার হ্রাস করা। সহস্রাব্দের শুরুতে ২০০০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আটটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৫ বছরে এ টার্গেট পূরণ করা হবে। একে বলা হয় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা_ইংরেজিতে সংক্ষেপে বলা হয় 'এমডিজি' (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস্)।
নির্ধারিত সময়ের দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গোটা বিশ্বের ক্ষেত্রে এ টার্গেটের ধারেকাছেও যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশও টার্গেট থেকে অনেক দূরে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো হচ্ছে : ১. চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূলকরণ, ২. সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, ৩. নারী-পুরুষ সমতা অর্জন. ৪. শিশু মৃত্যু হার কমানো, ৫. মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, ৬. এইচআইভি বা এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগনিয়ন্ত্রণ, ৭. পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ৮. উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অংশীদারি গড়ে তোলা।

বলা হচ্ছে, এর একটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পেঁৗছেছে। শিশু-মৃত্যুহার হ্রাসের ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। পাশাপাশি প্রায় একই রকম আরেকটি টার্গেট ছিল মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন। সেখানে কিন্তু সাফল্যের রেকর্ড নেই। মাতৃস্বাস্থ্য আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। বলা বাহুল্য, এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ১ নম্বরের টার্গেটটি। চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল করতে হবে। ব্যাপক মানুষ সাধারণ ক্ষুধার জ্বালায় ভুগলে কিভাবে আশা করা যায় যে, সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে অথবা মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে অথবা নিরাময়যোগ্য রোগব্যাধির হাত থেকে সব মানুষ মুক্তি পাবে?

এ ধরনের টার্গেট নির্ধারণ ও আশাবাদ ব্যক্ত করার ঘটনা গত শতাব্দীতেও বিভিন্ন সময় লক্ষ করা গেছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশ্বব্যবস্থা অটুট রেখে পৃথিবী থেকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য অসাম্য দূর করা সম্ভব হয়নি। এমনকি বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর যেসব মানব উন্নয়ন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়ে এসেছে, তাতে বৈষম্য ও অসাম্যের ভয়াবহ চিত্রই ফুটে উঠেছে। তবু পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে একটি মানবিক চেহারা দেওয়ার জন্য প্রায়ই বড় বড় কথা বলা হয়, টার্গেট তুলে ধরা হয় ইত্যাদি। এ ছাড়া দারিদ্র্য,
সাম্রাজ্যবাদী জগতের তাত্তি্বকরা দারিদ্র্য দূরীকরণের যে ফর্মুলা দেন, সেই ফর্মুলার বাইরে যেতে পারেনি জাতিসংঘ। জাতিসংঘ তেমন কোনো আর্থিক সংস্থাও নয়। এই যে সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা, তা অর্জন করতে হলে দরকার_১. যথাযথ কৌশল বা নীতি, ২. ধনী দেশগুলোর সদিচ্ছা। দুটোর কোনোটাই নেই। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্ধারিত সময়ের দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পর এখন এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে আগামী পাঁচ বছরে টার্গেট পূরণের কোনো সম্ভাবনা নেই।

ক্ষুধা-দারিদ্র্য নির্মূলের কৌশল কী? অন্যান্য টার্গেট অনেকাংশেই এই প্রথম টার্গেটের ওপর নির্ভরশীল। এখানে বলা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির হার বাড়াও, তাহলেই আপনাআপনি দারিদ্র্য দূর হয়ে যাবে। আর, প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়নের একটাই পথ আছে, তা হলো দেশি ও বিদেশি পণ্য এবং পুঁজির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জারকে পরিপূর্ণরূপে মুক্ত করা। ধনী দেশগুলো সাহায্য দেবে, যদি এমন শর্ত মানা হয়। ধনী দেশ অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র দ্বারা পরিচালিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও একই কথা বলে। বাজারসর্বস্ব যে নয়া ক্লাসিক্যাল অর্থনৈতিক তত্ত্ব চালু আছে, তা যে কতটা বিপজ্জনক, তা দুই বছর আগে মহা-অর্থনৈতিক সংকটই বুঝিয়ে দিয়েছে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি পুরোটা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে আর যাই হোক, জনগণের দারিদ্র্য নির্মূল কোনোকালেই সম্ভব হবে না। কারণ, বাজার সবসময় সবলের পক্ষে। এখানে সামাজিক ন্যায়নীতির কোনো বালাই নেই। অন্ধের মতো বাজার সবকিছু ঠিক করে দেবে। এভাবে নির্ধারিত হবে শ্রমশক্তির মূল্য অর্থাৎ মজুরি, নির্ধারিত হবে সব জিনিসের দাম, এমনকি, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো সেবার দামও, যা হয়ে উঠবে বাজারি পণ্যমাত্র। ভর্তুর্কিরও কোনো স্থান নেই এ তত্ত্বে। সোজা কথা, এতে ধনী আরো ধনী হবে, দরিদ্র আরো দরিদ্র হবে। দরিদ্রের সংখ্যাও বাড়বে, কারণ নিম্ন-মধ্যবিত্তের একটা অংশ ছিটকে পড়ে গরিবের কাতারে দাঁড়াবে।

এখানে মনে রাখা দরকার যে, সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা কিন্তু ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমানোর কথা বলেনি। শুধু যেটা বলেছে তা হলো, ক্ষুধা ও চরম দারিদ্র্য নির্মূল করবে। বাস্তবে সেটাও নয়া উদারনৈতিক অর্থনৈতিক তত্ত্বের দ্বারা সম্ভব নয়। বাজারসর্বস্বতা কোনোভাবেই ক্ষুধা নির্মূল করতে পারছে না। কারণ এতে থাকছে না খাদ্য-নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা।

মুক্তবাজারের তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎসও কিন্তু বিভিন্ন রচনায় দেখিয়েছেন_বিশ্বায়নের যুগে বাজার কিভাবে শক্তিশালী পক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 'Making Globalization Workers' গ্রন্থে তিনি উত্তর আমেরিকা ও মেক্সিকার উদাহরণ তুলে ধরেছেন। মেক্সিকাতে বিনা বাধায় প্রবেশ করল মার্কিন পুঁজি। মার্কিন সংস্থায় যে মেক্সিকার শ্রমিকরা কাজ পেল, তাদের মজুরি বাড়েনি। অন্যদিকে মেক্সিকার টমেটো উৎপাদনকারী কৃষক ফ্লোরিডার বাজার থেকেও সরে আসতে বাধ্য হলো 'ডাম্পিং ডিউটির' কারণে।

বাজারমুখী সংস্কারের আধুনিক মডেলটি প্রথম চালু হয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয়। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল সমাজতান্ত্রিক কিউবা। দুই দশকের অভিজ্ঞতার পর এখন লাতিন আমেরিকায় সাতটির মতো দেশ মার্কিন নির্দেশিত উন্নয়ন পন্থা বর্জন করে কিউবার সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিকল্প উন্নয়ন পন্থার সন্ধানে। ভেনিজুয়েলাসহ বেশ কয়েকটি দেশে ফিরে আসছে বর্তমানের উন্নয়ন শাস্ত্রে নিষিদ্ধ 'সমাজতন্ত্র' শব্দটি। বাংলাদেশেও ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করতে হলে যে শেষ পর্যন্ত সমাজতন্ত্র অভিমুখে যেতে হবে, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। জানি, এখনই অনেকে এর সঙ্গে একমত হবেন না। কিন্তু অভিজ্ঞতা আমাদের বিকল্পের সন্ধানে নিয়ে যাবে। সরকার ও উন্নয়ন পথ সন্ধানী অর্থনীতিবিদ, পণ্ডিতবর্গ ও নীতি-নির্ধারকরা সত্যিই যদি আন্তরিক হন এবং সমাজদেহ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে নির্মূল করতে আগ্রহী হন, তাহলে বাজারসর্বস্ব তত্ত্ব পরিত্যাগ করতেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে গাঁটছড়া-নীতিও বর্জন করতে হবে।

যে উন্নয়ন তত্ত্বের মাধ্যমে জাতিসংঘের সহস্রাব্দের লক্ষ্যগুলো অর্জনের চেষ্টা হচ্ছে অথবা বলা ভালো, লক্ষ্যের নামে বাগাড়ম্বর চলছে, তার মূলেই রয়েছে গলদ।

সেখানে বলা হচ্ছে, ৭ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করা সম্ভব হলে টার্গেট পূরণও সম্ভব হবে। জোর পড়েছে দেশের মোট প্রবৃদ্ধির হারের ওপর। কিন্তু সম্পদের পুনর্বণ্টনের বিষয়টি কখনো কখনো কথার কথা হিসেবে এলেও কার্যত তা আর থাকছে না। এ উন্নয়ন তত্ত্বের প্রবক্তাদের দাবি, ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি চাই। বাংলাদেশের গত কয়েক বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হার অতটা না হলেও কাছাকাছি গেছে, ৬ শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করেছে। ২০০৭ সালের অর্থনৈতিক সার্ভে রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) ছয় হাজার ৮০০ কোটি ডলার। বিদেশে কাজ করেন যে-শ্রমিকরা, যাঁরা সাধারণত খুবই প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে অমানুষিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখন অনেক বেড়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যও বেড়েছে। স্বাধীনতার প্রথম বছরে (১৯৭২-৭৩) যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৩৫ কোটি ডলারেরও নিচে, যেখানে সাড়ে তিন দশকে তা ৩০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি নব্য ধনিকশ্রেণী তৈরি হয়েছে, যাদের বিলাসিতা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। মধ্যবিত্তের স্তরটিও প্রসারিত হয়েছে। এসব তো চোখেই দেখা যায়। বিভিন্ন ডেটা বলছে, জনসংখ্যার অনুপাতে দারিদ্র্যের অনুপাতও কমেছে। কিন্তু মোট দরিদ্র ও অতিদরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় এখন ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এসব ভালো খবর। কিন্তু খুব ভালো কিছু নয়। কারণ মাথাপিছু আয়ের হিসাবটি গড় হিসাব। জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেলেও জনসংখ্যার সব অংশের আয় যে সমানভাবে বাড়ে না, তা অর্থনীতির যেকোনো ছাত্রেরই জানা কথা। জাতীয় আয় বেড়েছে, তাই মাথাপিছু গড় আয় বেড়েছে; কিন্তু একইসঙ্গে বেড়েছে বৈষম্য। ওপরের দিকের মাত্র ৫ শতাংশ ধনী জাতীয় আয়ের ৩০ শতাংশ ভোগ করে। আর, সবচেয়ে গরিব ৫ শতাংশ ভোগ করে জাতীয় আয়ের মাত্র ০.৬৭ শতাংশ।

২০০৭ সালের DFID-এর এক সমীক্ষায় পাওয়া যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানে যাদের দরিদ্র ধরা হয় তেমন দৈনিক দুই ডলার আয় করা মানুষের সংখ্যা হচ্ছে জনসংখ্যার ৮৩ শতাংশ। আর দৈনিক এক ডলারের নিচে আয় করে অর্ধেক জনসমষ্টি। ২০০৭ সালের পর চাল ও খাদ্যের মূল্য দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ক্ষুধিতের সংখ্যা বেড়েছে বৈ কমেনি। ওই একই সমীক্ষা বলছে যে দুই কোটি মানুষ এখনো দৈনিক যা রোজগার করে, তা এক ডলারের অনেক নিচে মাত্র ১৬ পেনির সমান। তাদের হতদরিদ্র বললেও কম বলা হয়।

বাংলাদেশের মধ্যেই তাই দুই দেশ আছে, একটি ধনীর দেশ, আরেকটি গরিবের মধ্যেও আছে। মাথাপিছু আয়, মোট জাতীয় আয় ইত্যাদির সংখ্যাতত্ত্ব দ্বারা বৈষম্যপূর্ণ সমাজের আসল খবর পাওয়া যায় না। তবে সংখ্যাতত্ত্ব, গাণিতিক হিসাব অথবা তত্ত্বের কচকচানির বাইরেও খালি চোখেই যা দেখা যায়, সেটাই কি যথেষ্ট নয়? রাস্তায় বের হলেই দেখতে পাই ক্ষুধিত মানুষের ভিড়। ব্যয়বহুল সেমিনার করে অথবা পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণা করে এটা বোঝার দরকার নেই।

দারিদ্র্য যেখানে এত প্রবল, সেখানে চিকিৎসা ও শিক্ষাও যে দুষ্প্রাপ্য, তা সহজেই বোঝা যায়। হ্যাঁ, এ ক্ষেত্রে সরকার যদি সাধারণের জন্য চিকিৎসা (ডাক্তার, অপারেশন ও ওষুধসহ) বিনা মূল্যে করতে পারত, যদি খাবারের নিশ্চয়তা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারত এবং এ ব্যাপারে তথাকথিত দাতা গোষ্ঠীর আন্তরিক সহায়তা থাকত, তাহলে আমরা কিছুটা আশা করতে পারতাম যে, সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারব। বর্তমানে বাংলাদেশে উন্নতমানের চিকিৎসাব্যবস্থা বেড়েছে, বড় বড় হাসপাতাল হয়েছে; কিন্তু তা ব্যাপক জনগোষ্ঠীর আওতার বাইরে। চিকিৎসা ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়া বেড়েই চলেছে। চিকিৎসা ও শিক্ষাকে বাজারি পণ্য ধরে নিয়ে আর যাই হোক গণমুখী উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরো মনে রাখতে হবে যে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এইডস আমাদের জন্য বড় সমস্যা নয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ সাধারণ নিরাময়যোগ্য রোগের কারণে মরে। ভালো ওষুধ প্রয়োগ করেও অনেক সময় লাভ হয় না। কিন্তু পুষ্টিহীনতাই তার আসল ব্যাধি। এককথায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা দেখার মধ্যে ভিন্নতা আছে। সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রনায়করা যেভাবে দেখবেন, আমরা সেভাবে দেখব না। আবার, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য তাঁদের প্রতিশ্রুত অর্থের জোগানও সেভাবে হচ্ছে না। সেটি আরেকটি বিষয়। পরবর্তী লেখায় তথাকথিত ঋণ ও সাহায্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।

যে-উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি, সাম্রাজ্যবাদী মুরবি্বরা যা শেখাচ্ছেন, তাতে জনগণের কোনো উন্নয়ন হবে না। লক্ষণীয়, উন্নয়নের কৌশল নিয়ে কিন্তু প্রতিষ্ঠিত বড় বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেবল বামপন্থীরাই ভিন্ন সুরে কথা বলেন, যা নীতি-নির্ধারণী মহল অথবা প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতিবিদদের আসরে কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। কারণ তাঁরা শ্রেণীস্বার্থের কারণেই পাশ্চাত্যের শেখানো ভাষায় কথা বলতে আগ্রহী। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা জনগণকে বাধ্য করবে নতুন বিকল্পের সন্ধানে সংগ্রামের মাঠে নামতে।
লেখক : কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ
[সূত্রঃ কালের কণ্ঠ, ১৭/১০/১০]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/HaiderAkbarKhanRano
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকা থেকে আযহার লিখেছেন, ১৯ অক্টোবর ২০১০; বিকেল ০৪:২৮
ইসলামকে একবার সুযোগ দিন, এর সুদমুক্ত যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি একবার দেখুন।
38110
বাংলাদেশ থেকে জয়বাংলা লিখেছেন, ১৯ অক্টোবর ২০১০; বিকেল ০৪:৩৩
কানাডিয়ান প্রিন্স ঐ গানটা এখানে দিলেননা? কিছু বলেন?
38111
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy