মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৩৬ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

রাবিতে যৌন হয়রানি বৃদ্ধি : প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ

হাসান ইলিয়াছ তানিম

অমানুষিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং করা, স্ত্রীকে স্বীকৃতি না দেয়া, রান্না করা খাবার খেতে না দেয়াসহ বিভিন্নপ্রকার অমানবিক নির্যাতনের শিকারে অতিষ্ঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীরা, অবশ্য এ সমস্যা শুধুমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই নয় দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ চিত্র। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সম্প্রতি নিয়োগ প্রাপ্ত কয়েকটি বিভাগের কিছু মাকালফল মার্কা শিক্ষকের দ্বারা গত ৬ মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ১০ জন ছাত্রী লাঞ্চনার শিকার হয়। তাছাড়া সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত কিছু অবিবাহিত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দেয়। এ সকল শিক্ষক সাজেসন, নোট দেখে দেয়া, তাদের সহযোগীতার নাম করে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের তাদের চেম্বারে ডেকে এসকল কার্যকলাপ করে থাকে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের লিখিত অভিযোগ করে আসছে, কিন্তু তারপরেও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে নিরব, বলা যায় একেবারেই নিথর। সর্বশেষ লাঞ্চিত শিক্ষার্থীর নাম নন্দা বর্ধন। সে রাবির নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী। একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা চিন্তা করি তবে দেখতে পাই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে দেশের সাধারণ মানুষ উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ হিসেবে সঙ্গত কারণেই একটু বেশী শ্রদ্ধা করে থাকে। আর যদি সেই শ্রদ্ধাপূর্ণ যায়গায় নিজের মেয়ের সম্ভ্রোমহানি হয় তবে সে পিতামাতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ কেমন হয় সে কথা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিবাবক ছাড়াও সমাজের কিছু বিবেকবানবান মানুষও মনুষত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা হলেও বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে।

ইতোমধ্যে এই বিদ্যাপিঠের অনেক ছাত্রী, শিক্ষক নামের কলংক বহনকারী পশুরূপী হায়েনাদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এ কথা বলার অবকাশ রাখেনা যে, বাংলাদেশের প্রতিদিনের জাতীয় পত্রিকার দিকে তাকালেই দেখা যায় বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের যৌন তাড়না পূরণ করার জন্য ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের কুপ্রস্তার দিয়ে আসছে। মাঝে মাঝে কেন জানি মনে হয় এটা বোধ হয় পরিকল্পিত কোন ইতিহাস তৈরীর সম্মিলিত প্রয়াস। অবশ্য এ ন্যাক্কারজনক কাজের সাথে শুধু শিক্ষকরাই জড়িত নয় এর সাথে পার্শ্ব চরিত্রের খলনায়কের ভূমিকায় রয়েছে দেশের সোনার ছেলে নামে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। পাঠক হয়তোবা জেনে থাকবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণে সেঞ্চুরীপালনকারী ছাত্রলীগ নেতা মানিকের কথা। তবে এ কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জাহাঙ্গীরনগরের ঐ মানিককে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পেশাল পুরষ্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করেন। শিক্ষক বলেন আর হীরার টুকরা কয়লার খনি যাই বলেন না কেন এ সমস্ত অমানুষদের কালো থাবার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবার জন্য লেখাপড়া ছেড়ে অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদ কেন্দ্র মা-বাবার কাছে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বর্তমান সময়ে কিছু শিক্ষার্থী এই সব দুশ্চরিত্রের বীজ লালনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা শুরু করেছে। যার প্রেক্ষিতে গত কয়েক মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় অনেক শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সরকারের সোনার ছেলে ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময়ে ছাত্রী হলের সামনে গিয়ে ছাত্রীদের টিজ করা, তাদের যৌন হয়রানি করা, ছাত্রীদের ম্যানিব্যাগ ছিনতাই সহ অনৈতিক কার্যকলাপ করে চলছে। পাঠকমহলের জ্ঞাতার্থে বলছি দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি যৌন হয়রানি, ইভটিজিংসহ কিছু অমানবিক নির্যাতনের সচিত্র প্রতিবেদন উল্লেখ করছি।

১৭ই জানুয়ারী ২০১১: গত ১৭ই জানুয়ারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক অমিতাভ চ্যাটার্জীর হাতে লাঞ্চিত হয় ঐ বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী নন্দা বর্ধন। শিক্ষার্থীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে অমিতাভ চ্যাটার্জী তাকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ঐ শিক্ষক নন্দাকে প্রায়ই ফোনে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ কথা বলত এবং তাকে কু-প্রস্তাব দিত। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ঐ ছাত্রী সম্মান বাঁচাতে পড়া শোনা বাদ দিয়ে তার দেশের বাড়ি বরিশালে চলে যায়। ফলে ঝরে গেল একটি মেধাবী শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তনুশ্রী দত্তকে সংগীত চর্চার নাম করে অমিতাভ চ্যাটার্জী যৌন কু-প্রস্তাব করে। তার এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঐ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা জীবন ধ্বংসের হুমকি দেয়।

২৪ ডিসেম্বর ২০১০ : স্বামীর কক্ষের সামনে স্ত্রীর অধিকার আদায়ে রাতভর অনশনের পরও স্ত্রীর অধিকার দেয়নি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান। মাহবুবুর রহমানের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সালমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় তার স্বামী তার কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে দুই লাখ টাকা নিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু সম্প্রতি রাবিতে চাকুরি পাওয়ার পর থেকে তার সাথে সে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, রাবিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুবাদে স্বামী মাহবুবুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসলে সালমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। নিরুপায় হয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কোয়াটার জুবেরী ভবনের ৩১৯ নম্বর কক্ষে মাহবুবের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন সালমা এবং সেখানে তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কক্ষের সামনে অনশন শুরু করেন। রাতভর অনশনের কারণে সালমা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাকে স্ত্রীর অধিকার দেয়নি বরং তার বিরুদ্ধে কেলেংকারীর অভিযোগ দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

এদিকে গত দুই মাস আগে একই রকম অভিযোগ উঠে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দলীয় বিবেচনায় সদ্য নিয়োগ পাওয়া আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঐ বিভাগের ৩য় বর্ষের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন একত্রে বসবাস করেছেন তিনি। কিন্তু ওই শিক্ষক তাকে বিয়ে করতে না চাইলে ওই ছাত্রী কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবে প্রক্টরের মধ্যস্থতায় বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়া হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রী ক্যাম্পাসের বাহিরে রয়েছে।

১২ আগস্ট ২০১০ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাপসী রাবেয়া হলের গেটে ছাত্রলীগ কর্মী কাউসার বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের এক ছাত্রীকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত ও মারপিট করে। ভুক্তভোগী জানায়, ১২ আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাবির বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের ও তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী মুন্নী ক্যাম্পাস থেকে হলে ফেরার পথে হল গেটে আসলে রিক্সা থেকে নামিয়ে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও ব্যাপক মারপিট করে ছাত্রলীগ কর্মী কাউসার। এসময় কাউসারের ১০/১২ জন সহযোগী হাততালী দিয়ে আনন্দ উল্লাস করে। ছাত্রলীগের এই কর্মীর বিরুদ্ধে হলের ছাত্রীরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করতে বের হলে রাবি প্রক্টর মো. জাকারিয়া বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করে হল গেটে তালা লাগিয়ে ছাত্রীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচী ভন্ডুল হয়ে যায়। এই খবর পত্রপত্রিকা ও বিবিসিতে প্রচার ও পর্যালোচনা হলে স্বয়ং প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট ফোন আসে “হয় আপনার পদ থেকে সরে দাঁড়ান নয় অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন”। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান কাউসারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করে । কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সে বর্তমানে ক্যাম্পাসে বহাল তবিয়তে চলাফেরা করছে।

২১ জুলাই ২০১০ : রাবি’র অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান সিজু কর্তৃক একই বিভাগের ছাত্রীকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র আসাদুজ্জামান সিজু ঐ বিভাগের একই বর্ষের এক ছাত্রীকে নোট দেয়ার অজুহাতে কৌশলে রাবি সংলগ্ন শামীম ছাত্রাবাসে ডেকে নিয়ে তাকে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ওই ঘটনার পর থেকে লাঞ্ছিত ছাত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লাঞ্ছিত ছাত্রী বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরেও সে ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় এবং তাদের আন্দোলন যথাপোযুক্ত নয় বলে দাবি করেছেন। এ ছাড়াও ১৫ জুলাই মুন্নুজান হল থেকে ওই ছাত্রীর আবাসিকতাও বাতিল করা হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোন বিচার পায়নি ভুক্তভোগীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভটিজিং এবং যৌন হয়রানি মূলক কর্মকান্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে এ সকল অভিযোগ নিয়ে রাবি প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার কাছে গেলেও তিনি কোন ছাত্রীকে এর সুরাহা দিতে পারেননি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাংবাদিকদের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান আমরা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে মেয়েদের সমস্যা নিয়ে তাদের পক্ষে দাবি আদায়ের জন্য গিয়েছি কিন্তু প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিরা অসহযোগিতা করেছে। এবং তারা আরোও বলেন কয়েকটি ঘটনার সাথে উর্ধ্বতন ব্যাক্তিরা জড়িত রয়েছেন বলে আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছেনা। আমরা তাদের (প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি) কারণে সব সময় যথাযথ ব্যাবস্থা নিতে পারছি না।

এই সকল কর্মকান্ড সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষকদের দ্বারা সংগঠিত হওয়ার কারণে কোন শিক্ষার্থী এখনও পর্যন্ত বিচার পায়নি। রাবি উপাচার্য প্রফেসর আব্দুস সোবহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষের মানুষ। একারণে তাদের সোনার ছেলেদের এবং আদরের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পৃথিবীতে নির্যাতিত, বঞ্চিত মানুষ অধিকার আদায়ের জন্য শাসক সমাজের কাছে তাদের ন্যায্য দাবি পেশ করেছে। যেই সরকার মানুষকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে সেই সরকারের বিরুদ্ধে কোন বিক্ষোভ হয়নি। বরং পূজনীয় আসনে সমাসীন হয়েছেন। আর উল্টো দিকে যখনই জনগণের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে শাসক সমাজ তখনই সংগঠিত হয়েছে ফরাসী বিপ্লব, বলশেভিক বিপ্লব, মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি যৌন হয়রানি, ইভটিজিংসহ যাবতীয় অনৈতিক কর্মকান্ডের লাগাম দ্রুত টেনে না ধরেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তবে হয়তো সহসাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভে রূপান্তরিত হবে। যা কখনও কাম্য নয়।

সংযুক্ত:-
সূত্র: সংশ্লিষ্ট দিনের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা
সূত্র: ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের স্বারকলিপি

লেখক: শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
E-mail: tanim90ru@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/HasanIliasTanim
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
সিডনী, অষ্ট্রেলিয়া থেকে প্রতিবাদী পথিক .. .. .. লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১১; সকাল ০৮:২৪
লেখক হাসান ইলিয়াছ তানিম-এর প্রতিঃ
"অমানুষিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং করা, স্ত্রীকে স্বীকৃতি না দেয়া, রান্না করা খাবার খেতে না দেয়াসহ বিভিন্নপ্রকার অমানবিক নির্যাতনের শিকারে অতিষ্ঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীরা, অবশ্য এ সমস্যা শুধুমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই নয় দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ চিত্র।"
ভাই কথায় বলে, "গাছের গোঁড়া কেটে মাথায় পানি দেয়া"। সমস্যা তো আমাদের রক্তের শিরায়-উপশিরায় মিশে গেছে। বাংলাদেশের এমন একটা দিক দেখান যেখানে সমস্যা নেই। এসব সমস্যা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে কিন্তু কোন পরিপূর্ণ সমাধান হয়নি এবং হবেও না। এর কারন সমস্যার মূল জায়গাটা আমরা অন্বেষণ করছি না। আমরা শুধু গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দিয়ে গাছকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। যদিও আমরা জানি কিন্তু মানতে চাই না আমাদের সমস্যার গোঁড়াটা খুঁজে সেখান পানি দিতে। কারণ সেটা করতে গেলে আমার নিজেকেও অনেক "ত্যাগ" করতে হবে। আমাদের মতো ভোগ-বিলাসী মানুষের পক্ষে ত্যাগ করা এ্যাত সহজ নয়। এর জন্য সাধনার প্রয়োজন। তাইতো কথায় বলে, ‌"পশু জন্মমাত্রই পশু; কিন্তু মানুষ অনেক সাধনায় মানুষ।"
চারিদিকের অবস্থাদৃষ্টিতে মনে হয়, "আমরা মানুষবেশী পশু মাত্র।" কারন আমাদের জীবনে সাধনা নেই বলে মানুষ না হয়ে পশুই থেকে যাচ্ছি। আর মানব-পশুকে শুধু আইন দিয়ে মানুষ করা যাবে না সেই সাথে প্রয়োজন শুদ্ধির সাধনা। প্রশ্ন হলো সেই শুদ্ধির সাধনার পথটি কি। উত্তর একটাই; আর তা হলো "ইসলামের পথ"।
আসুন সবার আগে নিজের চরিত্রকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করি। তারপর ক্রমান্বয়ে পরিবারকে, সমাজকে ও দেশকে আলোকিত করার কাজে লেগে যাই। যদি সম্ভব হয় নীচের লিংকটি পড়ে দেখবেনঃ
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MostafizBabu
47210
riyadh থেকে alamgir লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১১; দুপুর ১২:৩৩
Go ahead.
47226
কানাডা থেকে সাইফুল আলম লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১১; দুপুর ০১:৫৭
@ জনাব পথিক,

আসলেই, আপনি ঠিক ধরেছেন ত্যাগ করা এত সহজ না। ভোগ বিলাসের লোভে আপনি নিজেও ইসলামকে খুতির ভিতর গিঠ্ঠুমেরে অস্ট্রেলিয়াতে গোত্তা খেয়েছেন। ধন্যবাদ।
47231
London থেকে রাসেল লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১১; রাত ০২:১১
everyone is saying. বাংলাদেশের এমন একটা দিক দেখান যেখানে সমস্যা নেই।
But no one is comming to solve this problem. Its very easy to say problems everywher. i would appreciate if all bangladeshi come forword and do something to change this situation. thanks
47272
রিয়াদ সৌদি আরব থেকে জাহেদ লিখেছেন, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১১; দুপুর ০২:২০
হাসান ইলিয়াছ তানিম সাহেব যত যাই করেন না কেন অভিযোগ গুলো বন্ধ করতে পারবেন না, কারন আগুন পাশে থাকবে আর মোম গলাবে না, তা হয় না, অভিযোগ থেকে বাঁচতে হলে সহশিক্ষা নামক নারীভোগী শিক্ষা রহিত করতে হবে, বাংলাদেশের এক পাবলিক মেডিক্যাল কলেজে দেখেছি অভিবাবকরা সুযোগ্য সন্তানদের কে ডাকতার বানার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে র্ভতি করেছে, নিজের চোখে যা দেখতে পেলাম ছাত্র ছাত্রী দুইজন দুইজন জোড়া জোড়া করে ভিবিন্ন জায়গায় বসে আড্ডা দিতেছে, মন দেওয়া নেওয়াও হয়ে যাইতেছে স্বামী স্ত্রীর মত বিবাহর সর্ম্পক ব্যাতিত।

কানাডা থেকে সাইফুল আলম কে আপনি ভিবিন্ন নামে সোনার বাংলায় উপস্থিত হলেও সোনার বাংলার পাঠকরা আপনাকে রাজপূত হিসাবে জানে যাই হোক।
পশ্চিমারা বিশেষ করে এমেরিকা মুসলমানের সাথে এত গুতাগুতি করে, এর পরেও তাদের দেশের হাজার হাজার মানুষরা মুসলমান দেশ মধ্যেপ্রচ্যে শুয়ে আছে কেন ? পেট্রোল ডাকাতি করার জন্য । কিছু মুসলমান প্রশ্চোত্যে থাকলে আপনারা অসুবিধা মনে করেন কিন্তু মুসলমান দেশে নন-মুসলিমের উপস্থিতি কে তারা খারাপ মনে করে না । সত্যিকার কথা হল আপনারাই উগ্রবাদি সাম্প্রদায়িক।
47388
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy