মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৩৭ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ঢাকা থেকে বিমান বন্দর সরানো কেন জরুরি

হাসান খান

প্রতি বছর ২৬ শে মার্চের আগে বিমান বন্দর সংলগ্ন এলাকায় ফাইটার বিমান গুলোর উড্ডয়ন মহড়া খুবই পিড়া দায়ক হয়ে দাঁড়ায় । বিশেষ করে মিগ ২৯ গুলোর শব্দ তো এক্কেবারে অসহ্য । ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় এই দুষণ নেই বলে পুরো শহরে এর তিব্রতা বোঝা যায় না । বরং ফাইটারের এই শব্দ উতসুক্যের সৃষ্টি করে । কিন্তু যেখানে প্রকট সেখানকার জন সংখ্যা কম নয়। এ নিয়ে সচেতন অনেকেই বিমান বাহিনী সহ বিভিন্ন সরকারি মহলে অভিযোগ করেছেন । কিন্তু চামড়া মোটা গন্ডারের মতো তাদের গ্রাহ্যে আসেনি । আসলে আমাদের পুরো সমাজই সুরসুরিহীন হয়ে গেছে। মানুষের শান্তি বিনষ্ট করার নানা রকম আয়োজনে ভরপুর হয়ে গেছে পুরো পরিবেশ । উন্নত বিশ্বের কোন শহরে এমন অত্যাচার হলে, তা নিয়ে জনগণ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেমে পড়তো ।

[ * বিব - বিমান বন্দর ]
আমি জানি না, ঢাকার মতো ঘন বসতিপূর্ণ কোন শহরের মাঝখানে এমন বিব আছে কিনা ? আর থাকলেও, আশেপাশের মানুষের কথা বিবেচনা না করে সেখানে এমন শব্দ দুষণকারী বিমান উঠে-নামে কিনা ! বিচ্ছিন্নভাবেও এখানে প্রায়ই প্লেন-চপারের মুহুর্মুহ শব্দে পরিবেশ গরম হয়ে ওঠে । শিশুরা এতে মারাত্মক আতঙ্কিত হয় । ঘুমের বাচ্চাও জেগে উঠে অনেক সময়ে ; বজ্রপাতের শব্দে যেমন হয় । কর্তৃপক্ষের ভাব যেনো, কত ভাবেই তো এমন শব্দ হয় ! কিন্তু বিমান তো আর প্রকৃতির মতো আমাদের নিয়ন্ত্রণর বাইরে না । এই 'এ আর এমন কি সমস্যা' মনোভাবটি জাতীয় পর্যায়েও আমাদের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে ।

এছাড়া শব্দ দুষণের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম নিতি মানা হয় না । যত্রতত্র জন সভা করায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, প্রায়ই দেখি রাস্তা ঘাটে রাজনৈতিক সভা বা ধর্মীয় ওয়াজ হচ্ছে । অনেক ক্ষেত্রেই মনে হবে, এই অল্প সময়ের জন্য তেমন কি আর অসুবিধা ! কিন্তু ঐটুকুর জন্যই সংশ্লিষ্টদের অন্যান্য ক্ষেত্রেও জন দুর্ভোগের ব্যাপারে উদাসীন করছে । একটি আইনের কড়া বাস্তবায়ন ঐ রকম অন্য বিষয়েও সবাইকে সচেতন করে । এসব থানার দেখার দায়িত্ব হলেও, সম্ভবত তাদের উপরে হস্তক্ষেপ হয় । নানান প্রতিকূলতা আর প্রতিকার না পাওয়ায় অধিবাসীরাও অভিযোগ করা বাদ দিয়েছে । পুলিশ ভালো করেই জানে, কোন বিষয়টা জনগণের অভিযোগের । তারা সে সব বিষয়ে সক্রিয় হলে তা দেখে নাগরিক অধিকার সম্পর্কে মানুষও আবার সচেতন হবে । কমিউনিটি পুলিশ, থানার সার্ভিস ডেলিভারি সেকশন ইত্যাদি নতুন নতুন নানান বাহারি আয়োজন করা হলেও মানবাধিকার ব্যাপক লঙ্ঘিত হচ্ছে ; সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সচেতন নয় । ইভ টিজিং নিয়ে পুলিশ কিছুদিন খুব দাপাদাপি করলো । এখন সেটা হয় সফলতার কারণে কমেছে অথবা বিষয়টার সারহীনতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে । কিন্তু এছাড়াও নাগরিক আইন পরিপন্থী নন-আইটেমাইজ্‌ড হরেক সমস্যা রয়েছে। থানা গুলো এসব নাগরিক বিষয়ে কঠোর হলে, কোন হস্তক্ষেপই তাদের বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না । যেমন ইভ টিজিংয়ের ব্যাপারে খাটেনি । বিমানের শব্দ দুষণের প্রতি নির্লিপ্ততাও আসলে একই রকম মানসিকতা ।

কিছুদিন আগে অনুমোদন না থাকায় যমুনা সিটির বেশ কিছু অংশ রাজউক ভেঙে দিলো । বিমান ওঠা-নামার অসুবিধাও নাকি একটা কারণ ছিলো । বিমানের জন্য বিপদজনক উচ্চতার আরো কিছু বিল্ডিং বনানী, বারিধারা ডিওএইচএস, বসুন্ধরা আর উত্তরায়ও আছে । আর বিবর চতুর্পাশ ঘিরে অনেক প্রাইভেট ল্যান্ডেও উচু বিল্ডিং করা যাচ্ছে না । বিব আগে ছিলো শহরের বসতিহীন এক প্রান্তে । এখন বলতে গেলে একেবারে ঘন বসতির মাঝেই । আশেপাশে উচ্চ বিত্তের বসতি বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার কমার্শিয়াল ভ্যালু বেড়েছে । বহুতল বিল্ডিং করতে পারলেই ফ্লোর গুলো ভাড়া দিয়ে প্রচুর আয় হয় । অভিজাত এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে ডেভেলপারদের ব্যবসাও বেশ সম্ভাবনাময় । বিব সরিয়ে নেয়ার সাথে সাথে ল্যান্ড ঔনার আর ডেভেলপাররা মাঠে নেমে পরবে । অভিজাত এলাকায় থাকার মানুষ বেড়ে যাওয়ায় ঐসব ফ্ল্যাটেরও চাহিদা বেড়েছে ।

বিত্তবানরাও এখন মোটামুটি পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য বাসা পেলেই ভাড়া নিয়ে নিচ্ছে । সেই বাসা বা এলাকার সাথে নিজের স্ট্যাটাস সামঞ্জস্য কিনা, তা দেখছে না । কারো অফিস বা ব্যবসার কাছে, কারো বা বাচ্চার স্কুল-কলেজের কাছে বাসা নিতে হয় । জ্যামের জন্য বাইরের মানুষ নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করতে পারছে না । এখন ঢাকার ভেতরেই একটু দুরত্বে যাওয়াটাও দুহসাধ্য হয়ে গেছে । সময়ের সাথে এখন আবার যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া । ঢাকায় যানবাহন ব্যবস্থায় সরকারের সাবসিডি দেয়া উচিত । কারণ ঢাকার এই কর্মযজ্ঞ সারা দেশের কর্মসংস্থানে প্রধান ভুমিকা পালন করছে । এখানেই আরো বেশি মানুষের বসবাস আর যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করতে পারলে আরো বেশি বেকারের গতি হবে । কিন্তু সেই একই এফোর্ট অন্য শহর বা এলাকা গুলোতে দিলে, তা ঢাকার সমান সফলতা এনে দেবে না । পাঠক আবার মনে করবেন না, আমি ঐ সব শহরের বা এলাকাকে কম গুরুত্ব দিচ্ছি । সরকারের হিসেব করে প্রতিটি বিশেষ চান্সকে কাজে লাগাতে হবে । আর এজন্য ব্যয় বেশি হবে মনে হলেও, আসলে ব্যায় কমবে । কারণ যত বেশি সংখ্যক মানুষ এক সঙ্গে থাকবে তাদের কমন ব্যয় তত কমে আসবে । সাশ্রয়কৃত সেই অর্থ জনতা বা সরকারও অন্য কাজে ব্যায় করতে পারে ।

মনে করুন, অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে আসতে আপনার রিকশা বা বাস ভাড়া লাগে দৈনিক ৩০ থেকে ৫০ টাকা । মানে মাসে আপনার এ বাবদ খরচ হচ্ছে ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা । কাছাকাছি যদি একটা বাসা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি ভাড়াতেও নেন, তাহলে আপনার অর্থ সাশ্রয় না হলেও সময় আর ঝক্কি বেচে যাবে অনেক । সেই সময় আপনি অন্য কাজে ব্যয় করতে পারবেন । আর যাত্রী হিসেবে আপনি যানবাহনে কমলেন আর রাস্তায় আপনার মতো অনেকের জন্য যানবাহনও কিছু কমলো । ঐ বাড়তি যানবাহনের জন্য সরকারের রাস্তা আর আনুষঙ্গিক ব্যয়ও কমালেন ।

কিন্তু শহরের বাইরে নতুন বিব করলে কিন্তু এতো প্রাইভেট ল্যান্ড আর্থিক ভাবে এতো ক্ষতি গ্রস্থ হবে না । আর ঐ সব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের বিবর পাশেই যদি আধুনিক ফ্ল্যাট দেয়া হয়, তাহলে কিন্তু ঐ ফ্ল্যাটের দাম ফ্ল্যাট বুঝে নেবার আগেই, তাদের কাছ থেকে নেয়া জমির দামের থেকেও বেশি হবে । আর বিমান বন্দরের জন্য ঐ এলাকার কমার্শিয়াল এক্টিভিটি বেড়ে যাবে । ফলে দোকান পাটের মতো ছোট বড় ব্যবসা বা পেশার সুযোগও বেড়ে যাবে । কাজেই শাহ জালাল বিব সরালে একদিকে লাভবান হবেন এর আশেপাশের জমির মালিকেরা ; আরেক দিকে হবেন যেখানে নেয়া হবে সেখানকার জমির মালিক এবং সাধারণ মানুষও । হ্যা, এটা ঠিক যে, এসব প্রকল্প গুলোতে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সঠিক ভাবে পুনর্বাসন না করার অভিযোগ রয়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এর দৃষ্টান্ত রয়েছে । আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলো পাকিস্তান আমলে করা কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র । ওখানকার বসবাসকারীদের সবকিছু নাকি এক রাতে পানির নিচে তলিয়ে যায় । তখন তো ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা হয়ইনি, পরেও নাকি আর সে ব্যাপারে সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি । আমাদের প্রতিবেশি ভারতে তো এসব এখনও ঘটছে । তবে আমি যতটুকু জানি, যমুনা ব্রিজের জন্য ক্ষতিগ্রস্থরা ভালো ভাবেই পুনর্বাসিত হয়েছিলো । ক্ষতিগ্রস্থ লঞ্চ, অন্যান্য জলযান, অস্থায়ি ভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা ঘাটের এক প্রকার অবৈধ দোকান পাট, হোটেল গুলোরও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছিলো । এমন কি ফেরিওয়ালা বা ভিক্ষুকরাও নাকি বাদ যায়নি । আবার শুনছি পদ্মা ব্রিজের জন্যেও ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণ দেয়া শুরু হয়েছে । তাহলে নতুন বিমান বন্দরের জন্য জমি নেয়া হলে, তাতে ক্ষতিগ্রস্থরা কেন ক্ষতিপূরণ পাবেনা ! আসলে বিষয়গুলো সরকার ভালো করে জনগণ কে বোঝায় না । না বোঝানোর আবার অন্তর্নিহিত আরেকটি কারণ আছে । এই ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আবার একটি মধ্যস্বত্ব ভোগি গোষ্ঠি গড়ে ওঠে । এরা কেউ সরাসরি রাজনৈতিক, আবার কেউ বা রাজনীতিকদের বখরা দেন । সরকার যদি ক্ষতিপূরণের ব্যাপারটা জনগণকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দেয়, তাহলে বিষয়টা খুব সহজ হয়ে যায়, প্রকল্পের আগড়ুম-বাগড়ুম খরচ কমে যায় । আর সবাই ক্ষতিপূরণের কারণন আর প্রকৃয়াটা বুঝে ফেললে তো ঐ মধ্যস্বত্ত ভোগিদের দৌরাত্ব কমে যাবে ! এ কারণে কৌশলে তারা আড়ালের অনেক কাহিনীই সরকারকে প্রকাশ করতে দেয় না ।

আরেকটা ভালো আইডিয়া আমার কাছে আছে, যেটা এপ্লাই করলে যে কোন এলাকার মানুষ জমি দিতে রাজি হবে । আজ হোক কাল হোক ঢাকা থেকে বিব সরাতেই হবে । শাহজালাল বিব সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি রয়েছে অনেক । সরিয়ে নিলে বা আকার ছোট করলে এর বিশাল এলাকা খালি হয়ে যাবে । সেখানে কয়েকটি বহুতল ভবন করে, তাতে ছোট বড় সম্ভাব্য কয়েক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করে, যদি নতুন এলাকার জমি দাতাদের লটারি করে দেয়া হয় ; তাহলে কিন্তু সম্ভাব্য এলাকাবাসীরা প্রতিযোগিতা শুরু করবে তাদের এলাকায় বিব নেবার জন্য । এসব বিকল্প বা সহজ বুদ্ধিতে কাজ হাসিল না করে, আড়িয়াল বিলে সরকার জোর খাটাতে গেছে । যে জন্য ওখানে এতো বড় প্রতিরোধের মুখে পরেছিলো । আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে , বুদ্ধি থাকলে ছালায়ও তেল ভরা যায় । কিন্তু আমাদের সরকারের আসলে বুদ্ধি নিয়ে চিন্তার বুদ্ধিটাও নেই । শুধু সরকার নয়, এই সমস্যা আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে । আর এটাই আসলে আমাদের জাতীয় অগ্রগতির প্রধান বাধা ।

ঢাকা থেকে বিব সরাবার আরো কারণ আছে । পাঠক লক্ষ করুন বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা আর তুরাগ নদী পরিবেষ্টিত মুল ঢাকা আসলে একটা দ্বীপের মতো । নগরায়ন যে দ্রুত গতিতে হচ্ছে , তাতে নদী ঘেরা ঢাকার এই মূল ভুখন্ডে অচিরেই সরকারি বেসরকারি জমির সংকট শুরু হবে । যদিও একটি শহরের সব জায়গায় বিল্ডিং স্থাপনা করা যায় না ; কিন্তু পানি বেষ্টিত এই লিমিটেড ল্যান্ডের সর্বোত্তম ব্যাবহারের জন্যই বিব সরানো দরকার । এর ফলে ডেভেলপ করার মতো পর্যাপ্ত জমি বের হয়ে আসবে । সারা বিশ্বেই এ ধরনের ওয়াটার বডি সারাউন্ডেড শহরের ল্যান্ড খুব হিসেব করে কাজে লাগানো হয় । বিমান বন্দরের মতো স্থাপনার জন্য শহরের দামি জমি নষ্ট না করার চেষ্টা করা হয় । নিউ ইয়র্কের ম্যান হাট্টান, দি ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স, ষ্টেটেন আইল্যান্ড এর অন্যতম উদাহরণ । শুনেছি ওখানকার জমির দাম নাকি এখন আকাশচুম্বি । একই অবস্থা হবে ঢাকারও । আর ভুমিকম্পের ঝুঁকি থাকায় বিল্ডিং গুলো খুব বেশি উচুও হতে পারবে না । কাজেই বেশি সংখ্যক কম উচ্চতার দালান করার মতো জায়গা আমাদের বের করতে হবে ।

আরেকটি অন্যতম কারণ হলো, এই বিব'র কারণে ঢাকায় বিশেষ ভাবে সৃষ্ট ট্রাফিক জ্যাম । বনানী থেকে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত পূব-পশ্চিমে শাহ জালাল বিব'র কারণে কোন ক্রসিং নেই। বনানীর-কচুক্ষেত ক্রসিংটিও আবার ক্যান্টনমেন্টের জন্য রেস্ট্রিক্টেড হওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলতে পারে না । এর ফলে আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর-উত্তরা-টঙ্গি-গাজিপুর-উত্তর বঙ্গ থেকে আসা মিরপুর-মোহাম্মদপুর সহ ঢাকার পশ্চিমাংশ গামি যানগুলো ক্যান্টনমেন্ট, বিজয় সরণী আর ফার্মগেটের রাস্তায় প্রকট জ্যামের সৃষ্টি করে । আর সাভার-মানিকগঞ্জ- আরিচা থেকে আসা দক্ষিণবঙ্গ সহ উল্টোমুখি যান গুলোও ঐ একই কম সংখ্যক ক্রসিং রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করে জ্যাম আরো বাড়িয়ে দেয় । মাঝখানে মিরপুর ১২ থেকে ক্যান্টনমেন্ট হয়ে এয়ারপোর্ট রোড পর্যন্ত নতুন একটি ফ্লাই ওভার হচ্ছে । কিন্তু সমস্যা সমাধানে ঐ রকম রাস্তা করতে হবে আরো বেশ ক'টা । আর অমন ফ্লাই ওভার আসলে জনতার সাধারণ চলাচলের জন্য খুব উপযোগীও নয় । আর এমন বিশেষায়িত একটা বিমান বন্দরে সাধারণের চলাচলের উপযোগী যত্রতত্র রাস্তাঘাট করাটাও নিরাপদ নয়। কিন্তু বিশেষায়িতটা সরালে আরো রাস্তা তৈরি হয়ে ঢাকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকার জ্যাম অনেক কমে যাবে ।

বিব যদি ঢাকার বাইরে একটু বেশি দুরেও নিয়ে যাওয়া হয়, তাতেও কোন অসুবিধা হবে না, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট গুলোর জন্য । সম্মানিত পাঠক একটা বিষয় ভেবে দেখুন, যারা শত শত বা হাজার মাইল জার্নি করে দেশে আসেন, তাদের সবাই কিন্তু ঢাকার উদ্দেশ্যেই আসেন না । এমনিতেই বিব থেকে তাদের গন্তব্যে যেতে আবার রেল-রাস্তার ভ্রমণ করেন । আর ঢাকার যাত্রীদেরও গন্তব্যে পৌছাবার জন্য বাড়তি অনধিক ১০০ কিমি কিছু না । হাজার মাইল দুরের অধিকাংশ বিমান যাত্রী আবার এই দীর্ঘ পথের যাত্রা খুব ফ্রিকোয়েন্টলি করে না ; গড়ে বড়জোর একবার । কাজেই এতোদিন পরে এতো দুর থেকে আসা একজন যাত্রী জন্য ঐ টুকুন বেশী দুরত্ব কি বেশী কিছু ? সেক্ষেত্রে যেটা দরকার হবে সেটা হলো, বিব থেকে ঢাকায় পৌছাবার বাকি রাস্তা বা রেল জার্নিটা হতে হবে স্মুদ । আমার জানা মতে, সিএনজির জন্য আরাম দায়ক প্রাইভেট কার, মাইক্রো বা ট্যাক্সি গুলো এখন বেশ সাশ্রয়ী ভাড়ায়ই পাওয়া যায় । সরকারকে শুধু জ্যাম নিরসনে ঐ রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে বা ফ্লাই ওভার করতে হবে এবং নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করতে হবে । আর ঐ টুকুর রেল জার্নিটাও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন করতে হবে । যাতে যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে কোন ঝক্কি না পোহান । ঢাকার বাইরের যাত্রীরাও যাতে ওখান থেকেই নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে এবং এটা খুব বেশী জটিল কাজ নয়, প্রথমে সঠিক ভাবে জরিপ-পরিসংখ্যান করে সম্ভাব্য ট্টাফিক ফ্লো'টা বের করতে হবে । ইন্টার্নেট বা টিকিটের সাথে যদি একটি প্রশ্নমালা রাখা হয়, তাহলে যাত্রিদের দেয়া উত্তরের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে নিয়মিত তাদের ট্রাফিক প্ল্যান পরিবর্তন করতে পারবেন ।

আশেপাশে উচু বিল্ডিং থাকলেও ছোট বিমান গুলোও, আমার মনে হয় শাহ জালালে নামতে পারবে । ফ্রিকোয়েন্টলি জার্নি করাদের জন্য ঐ বিব থেকে শাহ জালালে আসার জন্য ছোট প্লেন এবং হেলিকপ্টার সার্ভিস থাকবে । তাতে ভিআইপি-সিআইপিদের অসুবিধাও দুর হবে আবার কাছাকাছি শহরগুলোর মধ্যে চলা ছোট বিমানের আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও চলবে নির্বিঘ্নে । আর আগামী দিন গুলোতে আরো বড় বা দ্রুত গতির বিমান ঢাকায় আসবে, হয়তো কনকর্ডও আবার চালু হবে । সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় অত্যাধুনিক বিমান বন্দর আরেকটা করতেই হবে । সেটা বর্তমানটায় ডেভলাপ না করে, বরং নতুন একটা করাই যুক্তিযুক্ত হবে । তাতে শব্দ দুষণ আর মূল্যবান জমি ব্যবহার না করার ক্ষতি থেকে শহরের মানুষ রেহাই পাবে ।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/HasanKhan
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Toronto,Canada থেকে Yesmin Sultana Sorgho লিখেছেন, ২৬ জুন ২০১১; রাত ০৯:৩৪
Dalad the great.How much you got,20.taka.
60859
Chittagong থেকে Abu Baset Chowdhury লিখেছেন, ২৭ জুন ২০১১; রাত ১২:৩৪
"ফ্রিকোয়েন্টলি জার্নি করাদের জন্য ঐ বিব থেকে শাহ জালালে আসার জন্য ছোট প্লেন এবং হেলিকপ্টার সার্ভিস থাকবে ......." চমতকার idea. এতদিন কোখায় ছিলেন, কি কি খান জানাবেন
60877
Dhaka থেকে zakhan লিখেছেন, ২৯ জুন ২০১১; সকাল ১০:৩৬
don't worry name of that upcoming airport will also be changed inshaallah.
61115
UAE থেকে monkar লিখেছেন, ২৯ জুন ২০১১; রাত ১১:৩৯
Mister:
How about moving (removing) Dhaka International Airport to "DAM-DAM" Airport (Kolkata)??
61178
Pacific Island থেকে Abu Mazhar Bowal লিখেছেন, ৩০ জুন ২০১১; দুপুর ০১:৪৩
The writer tried to draw attention to a point that was already rejected- "to remove the international airport form its current location". Lots of informative & analytical articles have pointed out that displacing the airport would be detrimental in all aspect of current Bangladeshi situation. I don't think there is any importance to go to debate about this issue when we are facing so many burning issues- of economic downturn, share market crush, price hike of essential commodities, insufficient supply of basic needs of citizens, power, water, health-needs, etc.
I want to mention about some of the issues mentioned in his article. Noise pollution in Dhaka is out of tolerance & is significantly felt if someone has visited Dhaka who lives in any developed country or even returned to Dhaka after staying in any developed countries for sometimes. I want to draw attention that has the writer been to Dhaka in recent years?
Compared to any cities of Australia & New Zeland noise pollution is alarmingly high which is causing significant damage to our nerves leading to anxiety, sleep problem, high blood pressure, mental stress who live in dhaka or other big cities of BD. The important culprit is the sound from the vehicle (engine & constant horn). Sound from aeroplane in the noise pollution list in dhaka is near the bottom of the list.
Wellington Airport in New Zealand in much busier than dhaka's one. Its location is in the city part. So that argument is also rejectable.
About the traffic jam he has not thought about the proportion of traffic that goes to the northern part of dhaka & BD that makes the major share of traffic movement that runs through the airport road. Moreover its not the location of airport & number of vehicle to blame. Many experts already pointed that it is the system in our road & other issues causing the intolerable traffic jam.
When we are not using even 30% capacity of our current airport what is the point to argue further about shifting it?
For further discussion please see the relevant articles of interest:
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4788

http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4758

http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4591

http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4575

http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4892
significant damage to our & by already displace the effect of 2 important issues to insignificant
61212
ভিনগ্রহ থেকে এলিয়েন লিখেছেন, ০১ জুলাই ২০১১; বিকেল ০৪:১৯
লেখাটা ২০ জনের ভালো লাগেনি। কেন লাগেনি বুঝতে পারলাম না। আমার তো মনে হয় লেখকের যুক্তিগুলো একেবারে ফেলনা নয়। আর যদি তার পরিকল্পনা বা বক্তব্যে কোনো ফাঁক থাকে, তাহলে সেটা নিয়ে আলোচনা করাই উচিত। তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা উচিত হয়নি। UAE থেকে monkar, Dhaka থেকে zakhan, Chittagong থেকে Abu Baset Chowdhury, Toronto,Canada থেকে Yesmin Sultana Sorgho, আপনাদের মন্তব্য ভালো লাগেনি। বরং লেখকের যুক্তিতে ফাঁক থাকলে সেটা ধরিয়ে দিতে পারলে ভালো করতেন। ভালো কথা, বিমানের মহড়া যে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকদের শ্রবণযন্ত্রের জন্য কতটা পীড়াদায়ক, সেটা সরেজমিনে না শুনলে বোঝা যাবে না।
61293
সিংগাপুর থেকে বকুল লিখেছেন, ০১ জুলাই ২০১১; রাত ০৯:৪১
আপনার লেখাটা ভালই লাগল ।বিমান বনদর টা যদি দাউদ কানদি ও মেঘনা সেতুর মাঝে হলে ভাল হতো । কারন জনবসতি কম এবং দুই পাশেই বিশাল নদী ।
61315
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy