|
ঢাকা থেকে বিমান বন্দর সরানো কেন জরুরি
হাসান খান |
|
প্রতি বছর ২৬ শে মার্চের আগে বিমান বন্দর সংলগ্ন এলাকায় ফাইটার বিমান গুলোর উড্ডয়ন মহড়া খুবই পিড়া দায়ক হয়ে দাঁড়ায় । বিশেষ করে মিগ ২৯ গুলোর শব্দ তো এক্কেবারে অসহ্য । ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় এই দুষণ নেই বলে পুরো শহরে এর তিব্রতা বোঝা যায় না । বরং ফাইটারের এই শব্দ উতসুক্যের সৃষ্টি করে । কিন্তু যেখানে প্রকট সেখানকার জন সংখ্যা কম নয়। এ নিয়ে সচেতন অনেকেই বিমান বাহিনী সহ বিভিন্ন সরকারি মহলে অভিযোগ করেছেন । কিন্তু চামড়া মোটা গন্ডারের মতো তাদের গ্রাহ্যে আসেনি । আসলে আমাদের পুরো সমাজই সুরসুরিহীন হয়ে গেছে। মানুষের শান্তি বিনষ্ট করার নানা রকম আয়োজনে ভরপুর হয়ে গেছে পুরো পরিবেশ । উন্নত বিশ্বের কোন শহরে এমন অত্যাচার হলে, তা নিয়ে জনগণ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেমে পড়তো ।
[ * বিব - বিমান বন্দর ]
আমি জানি না, ঢাকার মতো ঘন বসতিপূর্ণ কোন শহরের মাঝখানে এমন বিব আছে কিনা ? আর থাকলেও, আশেপাশের মানুষের কথা বিবেচনা না করে সেখানে এমন শব্দ দুষণকারী বিমান উঠে-নামে কিনা ! বিচ্ছিন্নভাবেও এখানে প্রায়ই প্লেন-চপারের মুহুর্মুহ শব্দে পরিবেশ গরম হয়ে ওঠে । শিশুরা এতে মারাত্মক আতঙ্কিত হয় । ঘুমের বাচ্চাও জেগে উঠে অনেক সময়ে ; বজ্রপাতের শব্দে যেমন হয় । কর্তৃপক্ষের ভাব যেনো, কত ভাবেই তো এমন শব্দ হয় ! কিন্তু বিমান তো আর প্রকৃতির মতো আমাদের নিয়ন্ত্রণর বাইরে না । এই 'এ আর এমন কি সমস্যা' মনোভাবটি জাতীয় পর্যায়েও আমাদের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে ।
এছাড়া শব্দ দুষণের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম নিতি মানা হয় না । যত্রতত্র জন সভা করায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, প্রায়ই দেখি রাস্তা ঘাটে রাজনৈতিক সভা বা ধর্মীয় ওয়াজ হচ্ছে । অনেক ক্ষেত্রেই মনে হবে, এই অল্প সময়ের জন্য তেমন কি আর অসুবিধা ! কিন্তু ঐটুকুর জন্যই সংশ্লিষ্টদের অন্যান্য ক্ষেত্রেও জন দুর্ভোগের ব্যাপারে উদাসীন করছে । একটি আইনের কড়া বাস্তবায়ন ঐ রকম অন্য বিষয়েও সবাইকে সচেতন করে । এসব থানার দেখার দায়িত্ব হলেও, সম্ভবত তাদের উপরে হস্তক্ষেপ হয় । নানান প্রতিকূলতা আর প্রতিকার না পাওয়ায় অধিবাসীরাও অভিযোগ করা বাদ দিয়েছে । পুলিশ ভালো করেই জানে, কোন বিষয়টা জনগণের অভিযোগের । তারা সে সব বিষয়ে সক্রিয় হলে তা দেখে নাগরিক অধিকার সম্পর্কে মানুষও আবার সচেতন হবে । কমিউনিটি পুলিশ, থানার সার্ভিস ডেলিভারি সেকশন ইত্যাদি নতুন নতুন নানান বাহারি আয়োজন করা হলেও মানবাধিকার ব্যাপক লঙ্ঘিত হচ্ছে ; সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সচেতন নয় । ইভ টিজিং নিয়ে পুলিশ কিছুদিন খুব দাপাদাপি করলো । এখন সেটা হয় সফলতার কারণে কমেছে অথবা বিষয়টার সারহীনতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে । কিন্তু এছাড়াও নাগরিক আইন পরিপন্থী নন-আইটেমাইজ্ড হরেক সমস্যা রয়েছে। থানা গুলো এসব নাগরিক বিষয়ে কঠোর হলে, কোন হস্তক্ষেপই তাদের বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না । যেমন ইভ টিজিংয়ের ব্যাপারে খাটেনি । বিমানের শব্দ দুষণের প্রতি নির্লিপ্ততাও আসলে একই রকম মানসিকতা ।
কিছুদিন আগে অনুমোদন না থাকায় যমুনা সিটির বেশ কিছু অংশ রাজউক ভেঙে দিলো । বিমান ওঠা-নামার অসুবিধাও নাকি একটা কারণ ছিলো । বিমানের জন্য বিপদজনক উচ্চতার আরো কিছু বিল্ডিং বনানী, বারিধারা ডিওএইচএস, বসুন্ধরা আর উত্তরায়ও আছে । আর বিবর চতুর্পাশ ঘিরে অনেক প্রাইভেট ল্যান্ডেও উচু বিল্ডিং করা যাচ্ছে না । বিব আগে ছিলো শহরের বসতিহীন এক প্রান্তে । এখন বলতে গেলে একেবারে ঘন বসতির মাঝেই । আশেপাশে উচ্চ বিত্তের বসতি বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার কমার্শিয়াল ভ্যালু বেড়েছে । বহুতল বিল্ডিং করতে পারলেই ফ্লোর গুলো ভাড়া দিয়ে প্রচুর আয় হয় । অভিজাত এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে ডেভেলপারদের ব্যবসাও বেশ সম্ভাবনাময় । বিব সরিয়ে নেয়ার সাথে সাথে ল্যান্ড ঔনার আর ডেভেলপাররা মাঠে নেমে পরবে । অভিজাত এলাকায় থাকার মানুষ বেড়ে যাওয়ায় ঐসব ফ্ল্যাটেরও চাহিদা বেড়েছে ।
বিত্তবানরাও এখন মোটামুটি পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য বাসা পেলেই ভাড়া নিয়ে নিচ্ছে । সেই বাসা বা এলাকার সাথে নিজের স্ট্যাটাস সামঞ্জস্য কিনা, তা দেখছে না । কারো অফিস বা ব্যবসার কাছে, কারো বা বাচ্চার স্কুল-কলেজের কাছে বাসা নিতে হয় । জ্যামের জন্য বাইরের মানুষ নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করতে পারছে না । এখন ঢাকার ভেতরেই একটু দুরত্বে যাওয়াটাও দুহসাধ্য হয়ে গেছে । সময়ের সাথে এখন আবার যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া । ঢাকায় যানবাহন ব্যবস্থায় সরকারের সাবসিডি দেয়া উচিত । কারণ ঢাকার এই কর্মযজ্ঞ সারা দেশের কর্মসংস্থানে প্রধান ভুমিকা পালন করছে । এখানেই আরো বেশি মানুষের বসবাস আর যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করতে পারলে আরো বেশি বেকারের গতি হবে । কিন্তু সেই একই এফোর্ট অন্য শহর বা এলাকা গুলোতে দিলে, তা ঢাকার সমান সফলতা এনে দেবে না । পাঠক আবার মনে করবেন না, আমি ঐ সব শহরের বা এলাকাকে কম গুরুত্ব দিচ্ছি । সরকারের হিসেব করে প্রতিটি বিশেষ চান্সকে কাজে লাগাতে হবে । আর এজন্য ব্যয় বেশি হবে মনে হলেও, আসলে ব্যায় কমবে । কারণ যত বেশি সংখ্যক মানুষ এক সঙ্গে থাকবে তাদের কমন ব্যয় তত কমে আসবে । সাশ্রয়কৃত সেই অর্থ জনতা বা সরকারও অন্য কাজে ব্যায় করতে পারে ।
মনে করুন, অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে আসতে আপনার রিকশা বা বাস ভাড়া লাগে দৈনিক ৩০ থেকে ৫০ টাকা । মানে মাসে আপনার এ বাবদ খরচ হচ্ছে ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা । কাছাকাছি যদি একটা বাসা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি ভাড়াতেও নেন, তাহলে আপনার অর্থ সাশ্রয় না হলেও সময় আর ঝক্কি বেচে যাবে অনেক । সেই সময় আপনি অন্য কাজে ব্যয় করতে পারবেন । আর যাত্রী হিসেবে আপনি যানবাহনে কমলেন আর রাস্তায় আপনার মতো অনেকের জন্য যানবাহনও কিছু কমলো । ঐ বাড়তি যানবাহনের জন্য সরকারের রাস্তা আর আনুষঙ্গিক ব্যয়ও কমালেন ।
কিন্তু শহরের বাইরে নতুন বিব করলে কিন্তু এতো প্রাইভেট ল্যান্ড আর্থিক ভাবে এতো ক্ষতি গ্রস্থ হবে না । আর ঐ সব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের বিবর পাশেই যদি আধুনিক ফ্ল্যাট দেয়া হয়, তাহলে কিন্তু ঐ ফ্ল্যাটের দাম ফ্ল্যাট বুঝে নেবার আগেই, তাদের কাছ থেকে নেয়া জমির দামের থেকেও বেশি হবে । আর বিমান বন্দরের জন্য ঐ এলাকার কমার্শিয়াল এক্টিভিটি বেড়ে যাবে । ফলে দোকান পাটের মতো ছোট বড় ব্যবসা বা পেশার সুযোগও বেড়ে যাবে । কাজেই শাহ জালাল বিব সরালে একদিকে লাভবান হবেন এর আশেপাশের জমির মালিকেরা ; আরেক দিকে হবেন যেখানে নেয়া হবে সেখানকার জমির মালিক এবং সাধারণ মানুষও । হ্যা, এটা ঠিক যে, এসব প্রকল্প গুলোতে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সঠিক ভাবে পুনর্বাসন না করার অভিযোগ রয়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এর দৃষ্টান্ত রয়েছে । আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলো পাকিস্তান আমলে করা কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র । ওখানকার বসবাসকারীদের সবকিছু নাকি এক রাতে পানির নিচে তলিয়ে যায় । তখন তো ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা হয়ইনি, পরেও নাকি আর সে ব্যাপারে সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি । আমাদের প্রতিবেশি ভারতে তো এসব এখনও ঘটছে । তবে আমি যতটুকু জানি, যমুনা ব্রিজের জন্য ক্ষতিগ্রস্থরা ভালো ভাবেই পুনর্বাসিত হয়েছিলো । ক্ষতিগ্রস্থ লঞ্চ, অন্যান্য জলযান, অস্থায়ি ভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা ঘাটের এক প্রকার অবৈধ দোকান পাট, হোটেল গুলোরও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছিলো । এমন কি ফেরিওয়ালা বা ভিক্ষুকরাও নাকি বাদ যায়নি । আবার শুনছি পদ্মা ব্রিজের জন্যেও ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণ দেয়া শুরু হয়েছে । তাহলে নতুন বিমান বন্দরের জন্য জমি নেয়া হলে, তাতে ক্ষতিগ্রস্থরা কেন ক্ষতিপূরণ পাবেনা ! আসলে বিষয়গুলো সরকার ভালো করে জনগণ কে বোঝায় না । না বোঝানোর আবার অন্তর্নিহিত আরেকটি কারণ আছে । এই ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আবার একটি মধ্যস্বত্ব ভোগি গোষ্ঠি গড়ে ওঠে । এরা কেউ সরাসরি রাজনৈতিক, আবার কেউ বা রাজনীতিকদের বখরা দেন । সরকার যদি ক্ষতিপূরণের ব্যাপারটা জনগণকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দেয়, তাহলে বিষয়টা খুব সহজ হয়ে যায়, প্রকল্পের আগড়ুম-বাগড়ুম খরচ কমে যায় । আর সবাই ক্ষতিপূরণের কারণন আর প্রকৃয়াটা বুঝে ফেললে তো ঐ মধ্যস্বত্ত ভোগিদের দৌরাত্ব কমে যাবে ! এ কারণে কৌশলে তারা আড়ালের অনেক কাহিনীই সরকারকে প্রকাশ করতে দেয় না ।
আরেকটা ভালো আইডিয়া আমার কাছে আছে, যেটা এপ্লাই করলে যে কোন এলাকার মানুষ জমি দিতে রাজি হবে । আজ হোক কাল হোক ঢাকা থেকে বিব সরাতেই হবে । শাহজালাল বিব সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি রয়েছে অনেক । সরিয়ে নিলে বা আকার ছোট করলে এর বিশাল এলাকা খালি হয়ে যাবে । সেখানে কয়েকটি বহুতল ভবন করে, তাতে ছোট বড় সম্ভাব্য কয়েক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করে, যদি নতুন এলাকার জমি দাতাদের লটারি করে দেয়া হয় ; তাহলে কিন্তু সম্ভাব্য এলাকাবাসীরা প্রতিযোগিতা শুরু করবে তাদের এলাকায় বিব নেবার জন্য । এসব বিকল্প বা সহজ বুদ্ধিতে কাজ হাসিল না করে, আড়িয়াল বিলে সরকার জোর খাটাতে গেছে । যে জন্য ওখানে এতো বড় প্রতিরোধের মুখে পরেছিলো । আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে , বুদ্ধি থাকলে ছালায়ও তেল ভরা যায় । কিন্তু আমাদের সরকারের আসলে বুদ্ধি নিয়ে চিন্তার বুদ্ধিটাও নেই । শুধু সরকার নয়, এই সমস্যা আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে । আর এটাই আসলে আমাদের জাতীয় অগ্রগতির প্রধান বাধা ।
ঢাকা থেকে বিব সরাবার আরো কারণ আছে । পাঠক লক্ষ করুন বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা আর তুরাগ নদী পরিবেষ্টিত মুল ঢাকা আসলে একটা দ্বীপের মতো । নগরায়ন যে দ্রুত গতিতে হচ্ছে , তাতে নদী ঘেরা ঢাকার এই মূল ভুখন্ডে অচিরেই সরকারি বেসরকারি জমির সংকট শুরু হবে । যদিও একটি শহরের সব জায়গায় বিল্ডিং স্থাপনা করা যায় না ; কিন্তু পানি বেষ্টিত এই লিমিটেড ল্যান্ডের সর্বোত্তম ব্যাবহারের জন্যই বিব সরানো দরকার । এর ফলে ডেভেলপ করার মতো পর্যাপ্ত জমি বের হয়ে আসবে । সারা বিশ্বেই এ ধরনের ওয়াটার বডি সারাউন্ডেড শহরের ল্যান্ড খুব হিসেব করে কাজে লাগানো হয় । বিমান বন্দরের মতো স্থাপনার জন্য শহরের দামি জমি নষ্ট না করার চেষ্টা করা হয় । নিউ ইয়র্কের ম্যান হাট্টান, দি ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স, ষ্টেটেন আইল্যান্ড এর অন্যতম উদাহরণ । শুনেছি ওখানকার জমির দাম নাকি এখন আকাশচুম্বি । একই অবস্থা হবে ঢাকারও । আর ভুমিকম্পের ঝুঁকি থাকায় বিল্ডিং গুলো খুব বেশি উচুও হতে পারবে না । কাজেই বেশি সংখ্যক কম উচ্চতার দালান করার মতো জায়গা আমাদের বের করতে হবে ।
আরেকটি অন্যতম কারণ হলো, এই বিব'র কারণে ঢাকায় বিশেষ ভাবে সৃষ্ট ট্রাফিক জ্যাম । বনানী থেকে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত পূব-পশ্চিমে শাহ জালাল বিব'র কারণে কোন ক্রসিং নেই। বনানীর-কচুক্ষেত ক্রসিংটিও আবার ক্যান্টনমেন্টের জন্য রেস্ট্রিক্টেড হওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলতে পারে না । এর ফলে আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর-উত্তরা-টঙ্গি-গাজিপুর-উত্তর বঙ্গ থেকে আসা মিরপুর-মোহাম্মদপুর সহ ঢাকার পশ্চিমাংশ গামি যানগুলো ক্যান্টনমেন্ট, বিজয় সরণী আর ফার্মগেটের রাস্তায় প্রকট জ্যামের সৃষ্টি করে । আর সাভার-মানিকগঞ্জ- আরিচা থেকে আসা দক্ষিণবঙ্গ সহ উল্টোমুখি যান গুলোও ঐ একই কম সংখ্যক ক্রসিং রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করে জ্যাম আরো বাড়িয়ে দেয় । মাঝখানে মিরপুর ১২ থেকে ক্যান্টনমেন্ট হয়ে এয়ারপোর্ট রোড পর্যন্ত নতুন একটি ফ্লাই ওভার হচ্ছে । কিন্তু সমস্যা সমাধানে ঐ রকম রাস্তা করতে হবে আরো বেশ ক'টা । আর অমন ফ্লাই ওভার আসলে জনতার সাধারণ চলাচলের জন্য খুব উপযোগীও নয় । আর এমন বিশেষায়িত একটা বিমান বন্দরে সাধারণের চলাচলের উপযোগী যত্রতত্র রাস্তাঘাট করাটাও নিরাপদ নয়। কিন্তু বিশেষায়িতটা সরালে আরো রাস্তা তৈরি হয়ে ঢাকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকার জ্যাম অনেক কমে যাবে ।
বিব যদি ঢাকার বাইরে একটু বেশি দুরেও নিয়ে যাওয়া হয়, তাতেও কোন অসুবিধা হবে না, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট গুলোর জন্য । সম্মানিত পাঠক একটা বিষয় ভেবে দেখুন, যারা শত শত বা হাজার মাইল জার্নি করে দেশে আসেন, তাদের সবাই কিন্তু ঢাকার উদ্দেশ্যেই আসেন না । এমনিতেই বিব থেকে তাদের গন্তব্যে যেতে আবার রেল-রাস্তার ভ্রমণ করেন । আর ঢাকার যাত্রীদেরও গন্তব্যে পৌছাবার জন্য বাড়তি অনধিক ১০০ কিমি কিছু না । হাজার মাইল দুরের অধিকাংশ বিমান যাত্রী আবার এই দীর্ঘ পথের যাত্রা খুব ফ্রিকোয়েন্টলি করে না ; গড়ে বড়জোর একবার । কাজেই এতোদিন পরে এতো দুর থেকে আসা একজন যাত্রী জন্য ঐ টুকুন বেশী দুরত্ব কি বেশী কিছু ? সেক্ষেত্রে যেটা দরকার হবে সেটা হলো, বিব থেকে ঢাকায় পৌছাবার বাকি রাস্তা বা রেল জার্নিটা হতে হবে স্মুদ । আমার জানা মতে, সিএনজির জন্য আরাম দায়ক প্রাইভেট কার, মাইক্রো বা ট্যাক্সি গুলো এখন বেশ সাশ্রয়ী ভাড়ায়ই পাওয়া যায় । সরকারকে শুধু জ্যাম নিরসনে ঐ রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে বা ফ্লাই ওভার করতে হবে এবং নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করতে হবে । আর ঐ টুকুর রেল জার্নিটাও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন করতে হবে । যাতে যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে কোন ঝক্কি না পোহান । ঢাকার বাইরের যাত্রীরাও যাতে ওখান থেকেই নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে এবং এটা খুব বেশী জটিল কাজ নয়, প্রথমে সঠিক ভাবে জরিপ-পরিসংখ্যান করে সম্ভাব্য ট্টাফিক ফ্লো'টা বের করতে হবে । ইন্টার্নেট বা টিকিটের সাথে যদি একটি প্রশ্নমালা রাখা হয়, তাহলে যাত্রিদের দেয়া উত্তরের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে নিয়মিত তাদের ট্রাফিক প্ল্যান পরিবর্তন করতে পারবেন ।
আশেপাশে উচু বিল্ডিং থাকলেও ছোট বিমান গুলোও, আমার মনে হয় শাহ জালালে নামতে পারবে । ফ্রিকোয়েন্টলি জার্নি করাদের জন্য ঐ বিব থেকে শাহ জালালে আসার জন্য ছোট প্লেন এবং হেলিকপ্টার সার্ভিস থাকবে । তাতে ভিআইপি-সিআইপিদের অসুবিধাও দুর হবে আবার কাছাকাছি শহরগুলোর মধ্যে চলা ছোট বিমানের আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও চলবে নির্বিঘ্নে । আর আগামী দিন গুলোতে আরো বড় বা দ্রুত গতির বিমান ঢাকায় আসবে, হয়তো কনকর্ডও আবার চালু হবে । সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় অত্যাধুনিক বিমান বন্দর আরেকটা করতেই হবে । সেটা বর্তমানটায় ডেভলাপ না করে, বরং নতুন একটা করাই যুক্তিযুক্ত হবে । তাতে শব্দ দুষণ আর মূল্যবান জমি ব্যবহার না করার ক্ষতি থেকে শহরের মানুষ রেহাই পাবে । |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/HasanKhan |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|