মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৪৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

বন্ধুর পিরিত ও একজন প্রবাসীর ভাবনা

ইবনে আহমেদ আজাদ

বন্ধুঃ
একই অফিসে কাজ করি আমরা তিনজন। সুদানী, ইন্ডিয়ান এবং আমি বাংলাদেশী। নিজ নিজ দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে বিতর্ক, আবার কখনো আলোচনা হয়। সুদানী লেখাপড়া করেছে পাকিস্তানে। ভালো উদ্দু সে বলতে পারে। তিন দেশের তিনজন হলেও আমাদের কথা বলার মাধ্যম হলো উদ্দু বা আরবী। ইন্ডিয়ান বন্ধুটি পশ্চিম বাংলার। জেলা নদিয়া। বর্তমানে কলকাতায় ফ্লাট নিয়েছে এবং বেগম সহ সবাই ওখানেই থাকেন। রাজনৈতিক দর্শনে তিনি কংগ্রেসী। তবে ইদনিং বিজেপির প্রতি কিছুটা ঝুকে পড়েছেন। তার মতে কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব জওহরলাল নেহেরুর আদর্শ থেকে দুরে সরে গেছে। সোনিয়া গান্ধিকে কংগ্রেসের প্রধান হিসাবে মানতে রাজি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রি হিসাবে মোটেই অসম্ভব মনে করেন।

তিনি প্রচন্ড বাংলাদেশ বিরোধী। অনেক চেষ্টা করেও তার বিরোধিতার কারন জানতে পারিনি। ইন্ডিয়ান বন্ধুটির সকল পরিচিত জনেরাই প্রায় তার মত মনে হলো। বাংলাদেশে মাত্র একজনকে তিনি ভালোবাসেন, তিনি হলেন শেখ মুজিব। বাকি সবাইকে তিনি বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতক মনে করেন। তার সোজা বক্তব্য যে,“বাংলাদেশকে স্বাধিন করার জন্যে আমাদের কত কষ্ট করতে হয়েছে। আমাদের জোয়ানরা (সৈনিক) যুদ্ধ করে তোমাদেরকে একটি স্বাধিন পতাকা দিয়ে এসেছে। ভারতের এ ত্যাগ একমাত্র আওয়ামীলীগ পরিবারের ঘনিষ্টজনরা ছাড়া আর কেউ মুল্যায়ন করে না।

তিনি আরো মনে করেন আজ ভারতের প্রধান দুশমন বাংলাদেশ। ইন্দিরা গান্ধির সাথে যে চুক্তি করেছিলো বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের তা পরবর্তী সরকারগুলো ভংগ করেছে। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধ সময়ে আওয়ামীলীগ নেতারা কলকাতার হোটেলগুলোতে বাজে আড্ডা দিতেন আর রিফোজি মেয়ে নিয়ে পড়ে থাকতেন। তখনকার ছাত্রলীগ নেতাদের সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলে তাতে ব্যটাকে মারতে ইচ্ছে করে। বর্তমান প্রথম সারির প্রতিষ্টিত আওয়ামী নেতাদের সম্পর্কে তার ধারনা বড়ই জঘন্য ধরনের। সে নাকি নিজে এর কিছু কিছু সাক্ষি।

বিএনপিকে গনতান্ত্রিক দল হিসাবে গন্য করতেই নারাজ। আর জামায়াতে ইসলামী হলো তার মতে সবচেয়ে বড় বাধা ভারতের জন্যে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার কোন অধিকার বাংলাদেশে নেই।” এরকম আরো অনেক কথাই বলেন দাদা।

আমি, আমার মত করে ঠাসা জবাব দেই। বলি দাদা কলকাতার হোটেল গুলোতে রিফুজি মেয়েদেরকে সাপ্ল্লাই অবশ্যই আপনি বা আপনার আত্মিয়রা করতেন। আওয়ামী নেতাদেরকে মেরুদন্ডহীন করার জন্যে আপনি বা আপনারা সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশ থেকে আপনাদের জোয়ানরা যুদ্ধ উত্তর যে সবকিছু গনিমত মনে করে নিয়েছিলো তা স্বিকার করবেন। কলকাতায় রিফোজি ব্যবসা করে সুদে আসলে রোজগার করেছেন ইন্দিরা আপা, এগুলো অবশ্য মানবেন। মুখের উপর এসব কথা শুনে কিছুদিন চুপ চাপ থাকে। কিছু দিন গেলেই আবার ঘ্যনার ঘ্যন শুরু করে। বিবাদ লেগেই থাকে। তবে সুদানী বিচারকের ভুমিকা পালন করে। ইতিমধ্যে সুদানী বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে অনেকটা জেনে নিয়েছে। ইন্ডিয়ান বন্ধুটির জবাব সেই দিতে পারে।

ওপার বাংলার অপ্রিয় সত্যঃ
আমি অনেক চেষ্টা করেও দাদার এই ভুল ভাংগাতে পারি না। তাকে যতই বলি দেশ স্বাধিন আমাদের পুর্ব পরিকল্পনার ফসল। ৭১ এর স্বাধিকার আন্দোলনের শুরু হয়েছিলো সেই বংগ ভংগ আন্দোলন থেকে। গত শতাব্দীর শরুতেই কলকাতাকে সালাম জানিয়েছিলো কৃষি প্রধান বাংলাদেশ। তার পর অনেক পানি গড়িয়েছে গঙ্গা অববাহিকায়। ভারত মাতা বা তোমাদের বাংগালী জাতিয়তা যাই বলুন দাদা এই বাংলার সাধারন মানুষ তা সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে। এর জন্যে সকল কার্যকারন তৈরী করেছো তোমরা এবং তোমাদের কুলীন সহিত্যিকরা।

আমি বলি, আমারা রবি ঠাকুরকে শ্রদ্বা করি, সম্মান করি তোমাদের চাইতে বেশী। কিন্তু সেই রবি ঠাকুর ও হিন্দুত্ব থেকে বের হতে পারেননি। এ বাংলায় পালকি চড়ে আসতেন নিজের জমিদারীর খাজনা আদায় করতে। বছরের পর বছর বিরাট পাইক পেয়াদা নিয়ে খাজনা উসুল করছেন ঠিকই। কিন্তু পরম বরনীয় এই বিশ্ব কবি কলকাতার পশ্চাত ভুমি এ বাংলাতে কোন পাঠশালা প্রতিষ্টা বা এ বাংলার চাষাভোষাদেরকে শিক্ষিত করতে তার কোন চেষ্টা চোখে পড়েনা। ইতিহাসে ও তার প্রমান নেই।
বাংলাদেশ থেকে শোষন করা সকল অর্থ কলকাতা ক্রেন্দ্রিক উন্নয়নে ব্যয়িত হয়েছে। সত্য হলো বৃটিশরা তাদের চিরস্থায়ী শাষন ব্যবস্থার জন্যে যখন বাংলাকে ভাগ করলো এবং কলকাতার পরিবর্তে ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব করলো। তখন ন্যড়া ব্রাম্যন্য গোষ্ঠি, উৎকট সাম্প্রদায়ীক হিন্দু সমাজের (তথাকথিত বাংগালী শিক্ষিতজন) সাথে কলিকাতার আনন্দ মঠে এই রবি ঠাকুরের “রাখি বন্দন” সম্মেলন আমরা ভুলি নাই। বাংলা ভাগ হলে মা কর্তন হয়ে যাবেন এই চেতনায় মহান কবি ঐতিহাসিক “আমার সোনার বাংলা” গানটি রচনা করেন। বলি দাদা, আমরা উদার বলে সেই কবিতা আমাদের জাতীয় সংগীত করেছি। আমার সোনার বাংলা কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট ও ছিলো ভিন্ন।

কি নির্মম পরিহাস আবার এই প্রিয় বাংলা ৪৭ এ এসে সেই বাংগালী কুলীন হিন্দু বাবুরাই দুই ভাগ করে দিলেন। সে ইতিহাস বড় করুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মক্কা মাদ্রাসা বলে উপহাস কারীরা কবির একান্ত আপন জন ছিলেন। আমি বলি, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জাতির অহংকার মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মাধমেই আমরা পেয়েছি লাল সবুজ পতাকা। “তোমরা তোমাদের স্বার্থেই আমাদেরকে সাহায্য করেছ”। তোমাদের নেতৃবৃন্দরা ও তাই বলে। রাজিব গান্ধির ছেলে বর্তমান কংগ্রেসের সহ সাধারন সম্পাদক রাহুল গান্ধি তার নির্বাচনী এলাকায় দম্ভভরে বলেছিলেন “আমি এমন এক পরিবারের ছেলে, যে পরিবার উপমহাদেশে যা করতে চায় তাই হয়, যেমন পাকিস্তানকে টুকরা করে বাংলাদেশকে সৃষ্টি আমার পরিবারের কৃর্তি”। এনিয়ে তোমাদের দেশে অনেক বিতর্ক হয়েছে। আফসোস হলো আমাদের দেশের মহান ভারতপন্থি কলামিষ্টরা রাহুল গান্ধির এ মন্তব্য ছেলে মানুষের কথা বলে চালিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবাদ তো নয়ই। বরং অতিমাত্রায় মুক্তিযোদ্ধার চেতনায় বিশ্বাসী সুশীল বান্ধব কলামিষ্টরা চুপ চাপ ছিলেন।

আসলে দাদা রাহুল অংশিক সত্য বলেছে। তার পারিবার নয় বরং ইন্ডিয়ান ব্রাম্মন্য স্বার্থেই ভারত ৭১ এ আমাদেরকে সাহায্য করেছে। ৪৭ এ আযাদী আন্দোলনের প্রথম থেকেই ভারতীয় চানক্য শক্তি এ সিন্দান্ত নিয়েছিলো। বাস্তবায়ন হতে ২২ বছর এর চাইতে একটু বেশী সময় লেগেছে। ভারত তাদের একান্ত স্বার্থেই সেদিন আমাদের পাশে দাড়িয়েছিলো। তবে কলকাতার সাধারন জনগন যারা বাংলাদেশের এই দুর্দিনে পাশে দাড়িয়েছিলো তাদের কথা যেমন আমারা স্বরন রাখবো তেমন আমাদের ইতিহাসে ও লেখা থাকবে।
কিন্তু কে শোনে কার কথা। তার কথা বার্তায় মনে হয়ে যেন বাংলাদেশ টা ওদের বিশেষ দান। ওরা যা করতে বলবে আর যা নিষেধ করবে তা বিনা বাক্যে মেনে নিতে হবে বাংলাদেশকে। তার যুক্তি হলো, “তোমরা ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করো। জাতীয় ভাবে তা তোমাদের জন্যে একটা হাস্যকর দিবস। ৭১ এ যুদ্ধ হয়েছিলো ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে। আর্ন্তরজাতিক ভাবে তা প্রমান করতে পারবেনা যুদ্ধ হয়েছিলো পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বা মুক্তিযোদ্বাদের সাথে। সে বলে “শেখ মুজিব এই সত্যটি জানতেন বলে জীবিত থাকতে কখনো মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকারের নায়কদের সম্মানীত করেন তেমন আসল যুদ্ধ অপরাধীদেরকে ছেড়ে দিতে হয়েছিলো।”

বর্তমান নায়ক যারাঃ
আমার বন্ধু বলেন - ১৬ ডিসেম্বর হানাদারদেরকে আর্তসমপন করতে হয়েছিলো আমাদের কাছে। জেনারেল আরোরা সুদুর দিল্লি থেকে ঢাকায় যেতে পারলেন কিন্তু ওসমানী বা অন্য কেউ রেসর্কোসে উপস্থিত থাকতে পারলেন না। আজকের যারা সেক্টর কামান্ডার, হঠাৎ করে ৩৬ বছর পর মুক্তিযোদ্ধের চেতনা পেলো ঐদিন ওরা কোথায় ছিলেন। ঐতিহাসিক মুহর্তে উপস্থিত থাকার একান্ত বাসনা সেদিন তাদের কারোরই জাগ্রত হয়নি। বাস্তবতা হলো এই কামান্ডারদের কারোরই কোন ক্ষমতাই ছিলোনা। আমাদের জেনারেলরা যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলো।

দাদা আবার বলেন, ১৬ ডিসেম্বর এর আত্বসমর্পনের দলীলটা কোথায়। যে দিনটিকে নিয়ে তোমাদের এত গর্ব সে দিনে নাম করা সব সেক্টর কামান্ডারা কোথায় ছিলেন। ১৯৭১ ডিসেম্বর এর ৩ তারিখের পর কার্যত হানাদার বাহিনী ঢাকাতেই আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। মুফস্বল এরিয়ার সেক্টর কামান্ডাররা ঢাকায় আসতে বাধা দেওয়ার কেউ ছিলো না। এর অর্থ হলো যুদ্ধ হয়েছে ভারতের সাথে পাকিস্তানের। তোমরা ছিলে আমাদের লজিষ্টিক সাপোটার। এর বেশী কিছু নও। তাই আমাদের জোয়ানরা (ইষ্টার্ন কামান্ড) প্রতি বছর বিজয় দিবসটি উদযাপন করে। পৃথিবীর কোন দেশের স্বাধিনতা দিবস পড়সি দেশে পালিত হয় এ দৃষ্টান্ত আমরা ছাড়া আর কেউ দেখাতে পারবে না। এ বিজয় আমাদের একান্ত নিজেদের। তার ব্যখা কিভাবে করবে।”

এ রকম পিলে চমকে যাবার মত তথ্য পরিবেশন করেন আমার প্রিয় দাদা বাবু। সব কিছুর উত্তর দেয়া সম্ভব হয় না। কারন তিনি প্রত্যক্ষদর্শী। জনাব তোফায়েল, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ মনি, সহ তখনকার মুজিব বাহিনীর অনেক নেতাকে তিনি অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেছেন। (সংগত কারনে আমি সে সমস্ত মন্তব্য উল্ল্যেখ করা থেকে বিরত থাকলাম)। এ সমস্ত নামকরা লোকদের নানা কৃর্তি যা আমার দাদা বাবু বলেন, তা শুনে আমার মনে পড়ে জেনারেল ওসমানীর একটি মন্তব্য যা তিনি জীবনের শেষ পর্যায়ে করেছিলেন। (অসুস্থ হয়ে লন্ডনে যাবার পথে এয়ারপোর্টে)।

তিনি বলেছিলেন,” আমাদের মুক্তিযোদ্বা নিয়ে বাজারে যে সমস্ত “গল্প” আছে। এ সব আষাড়ে গল্পকারদের যুদ্ধের নয় মাস কার কি ভুমিকা ছিলো তা আমি সুস্থ হয়ে ফিরত আসতে পারলে জাতিকে জানাবো। শেখ মুজিব মারা গেছেন তাই কারো কাছে আমার আর দ্বায়বদ্ধতা নেই।”স্বাধিনতার অনেক অজানা তথ্য তিনি দিতে পারতেন কিন্তু এই মহান নায়ক জীবিত আর দেশের মাটিতে আসতে পারেননি। কাফন বন্দী হয়ে এসে ছিলেন লন্ডন থেকে।
অনেক সময় সহকর্মী সুদানীকে বাংলাদেশের পক্ষে পাওয়া গেলেও ইন্ডিয়ানকে কখনো বাংলাদেশের স্বার্থে পাইনি। কোম্পানী থেকে ভিসা বের হবে। মালিক পক্ষ আমাদের কাছে জানতে চাইলে সুদানী ও আমি বাংলাদেশ থেকে রিক্রোট করার জন্যে প্রস্তাব করি। কিন্তু ইন্ডিয়ান এই পশ্চিম বাংলার দাদা নেপাল থেকে শ্রমিক নিয়োগের প্রস্তাব করেন। দাদা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ক্ষমতা আরোহনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। তিনি আমাকে বললেন, এবার ছুটিতে গিয়ে ওপার বাংলায় যাবো বেড়াতে। আমি তাকে আগাম আমার বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে রেখেছি। আমার আশা যে, দাদা নিজ চোখে দেখে তার আচরন একটু যদি বদলায়।

কেন এই আচরনঃ
একটি জাতির সুস্থ গঠন প্রক্রিয়ায় যা যা প্রয়োজন তা সবই আমাদের ছিলো এবং আছে। আমাদের চিরস্বাশত মৌলিক বোধ বিশ্বাস আর উদ্দোমী কর্মঠ জনগন সহ সবইতো আছে। কিন্তু আমরা কেন এগোতে পারছিনা। কেন বার বার প্রতারিত হতে হয়েছে। কেন বাংলাদেশের সমুহ সম্ভাবনা থাকার পরও অকার্যকর, ব্যর্থ রাষ্ট ইত্যাদি লেবেল পরাতে চাচ্ছে সুশিল বান্ধব বাংলাদেশের দুশমনরা। কেনইবা ১৫ বছর নিরন্তর গনতান্ত্রিক সরকারের পর চাপিয়ে দেওয়া হাইফেন সরকার আমাদের ভাগ্যে জুটবে। গত ৩৬ বছর যারা রাজনীতি করলেন তারা কি সবাই অপরাধি। দেশ ও জাতীর আযাদীর জন্যে যারা লড়লেন। তারা সবাই কি ভুয়া নায়ক।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অর্জনগুলো যেমন, ৪৭ তার পর ৫২ এরপর ৭১ অতঃপর ৭ ই নভেম্বর সিপাহী বিপ্ল্লব এগুলো সবই কি পরকিয়া ভালোবাসা। আমাদের চির চেনা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তারা কি সবই তাহলে খল নায়ক। সঠিক ইতিহাসের নামে স্বাধিনতার ঘোষক শহীদ জিয়াকে নিয়ে যা শরু হয়েছে। সভ্য সমাজে কি এর উদাহারন পাওয়া যাবে। দিন বদলের নামে আওয়ামীলীগ তার সেই পুরাতন চরিত্র জাতির কাছে পেশ করছে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের খোলস পাল্টানো হয়েছে। প্রশাসনের একেবারে চাপরাশী থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত সবাই আওয়ামীলীগার হতে হবে। শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ হলে চলবে না তাকে বাকশালী চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে কি আমরা আবার সেই অন্ধকার সময়ের দিকে (৭২ থেকে ৭৫) অগ্রসর হচ্ছি। বাকশালী রাজনীতির নিগড়ে আবার কি জাতি পতিত হতে যাচেছ। সংবাদ মাধ্যমের উপর কড়াকড়ি, পাতানো সিলিকশনের নির্বাচনী ফলাফল আমাদেরকে বাকশালী শাষনের দিকে ধাবিত করছে।

এক এগারোঃ
আজকের সুশীল বান্দব বিশেষ ব্যক্তিরাই ছিলেন শেখ হাসিনার ভাষায় ভোট আর ভাতের অধিকার প্রতিষ্টার মহান আন্দেলনের অন্ধ সমর্থক। ১/১১ এর মুল প্রেক্ষাপট তৈরীতে আওয়ামীলীগের সাথে সুশীলরা ও সমভাবে দায়ী। ওরা পরিকল্পিত ভাবেই দেশকে ২৮ অক্টোবরের দিকে নিয়ে এসেছিলো।

২৮ অক্টোবরের সন্ত্রাসই ১/১১ এর জন্মদাতা। ২৮ অক্টোবর এর লগি বৈঠাকে যারা রাজনৈতিক ভাষা বলেছেন। সাপের মত মানুষ হত্যাকে যারা তথাকথিত রাজনৈতিক সংঘাত হিসাবে চিত্রিত করতে চেয়েছেন এরাই মুলতো ১/১১ এর রূপকার। এই শ্রেনীর লোকেরাই ডঃ ফখরুদ্দিনের সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিলো। আর নিজেদের আন্দোলনের ফসল বলে ঘোষনা দিয়েছিলো। তারা সকলেই এক মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন। তাদের পরিকল্পনা এক করে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
যেমন, বিডিয়ার বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমিক মেধাবী অফিসারদেরকে হত্যা করা। দেশকে অকার্যকর এবং ব্যর্থ করতে জঙ্গি বাহিনীর অতি উৎসাহী প্রচারনা করা। জাতিকে বিভক্ত করতে অতীত ইস্যু নিয়ে অধিক হারে মাতামাতি করা। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে তথাকথিত বন্ধু রাষ্টের স্বার্থ রক্ষা করা। ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাবার কথা বলে বাংলাদেশকে মুসলিম পরিচয় মুছে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট হিসাবে প্রতিষ্টা করা। এ সবই এক এগারোর সেই তথাকথিত চেতনা। বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে যারা চক্রান্ত করেছেন তারা সকলেই একই আদর্শের পতাকাবাহি। বাংলাদেশের ইমেইজকে যারা বিশ্বব্যাপি ভুলুন্ঠিত করেছেন তাদের সবার স্বার্থ একটাই। তা হলো বন্ধুর পিরিত। ভারত আমাদের মহান বন্ধু বলে কথা।

আমাদের সামগ্রিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে কি নিষ্টুর সমীকরন করা হয়েছিলো ১/১১তে। যারাই রাজনীতিবীদ তারাই দুর্নীতিবাজ। সৎ রাজনীতির চর্চা যারা করেন তাদেরকে একই কাতারে এনে বাংলাদেশ থেকে রাজনীতি বিদায় করে আফগানিস্তানের কারজাই মার্কা সরকার গঠন করতেই এ সুশীল বান্দব হাইফেনদের আগমন হয়েছিলো। জাতিসংঘের মাত্র একটি পত্র (যা মুলত কুচক্রীদের পরিকল্পিত ছিলো) স্বাধিন দেশের নির্বাচন উলট পালট করে দিলো।

মুলতো এটা ছিলো দেশ বিরোধী চক্রের সাজানো নাটকের একটা দৃশ্য। পৃথিবীর অনেক দেশই তো জাতি সংঘের নির্দেশ অমান্য করছে। আমাদের প্রিয় ভারত, ইসরাইল জাতি সংঘের অসংখ্য নির্দেশ অমান্য করেছে। অর্ধশতাব্দীর চেয়ে বেশী সময় হয়ে গেল জাতি সংঘের সর্বসম্মত আদেশ পালনের কোন আলামত নেই ভারত ও ইসরাইলের। বরং আর্ন্তজাতিক অংগনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধি এ দুটি দেশের প্রভাব বলয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কখনো কি কেউ শুনেছে যে, ভারত বা ইসরাইল জাতি সংঘের আপত্তির কারনে তাদের নির্বাচন পিছিয়েছে বা আগ বাড়িয়েছে।

জাতি সংঘের সেই চিঠিতে কি এমন মহা গজব বয়ে আসলো, যে বাংলাদেশের সংবিধান সহ সকল প্রাতিষ্টানিক দায়বদ্বতা, দেশপ্রেম সবকিছু ডাষ্টবিনে ফেলে দিয়ে ট্রেইনকে লাইনে উঠাতে হলো। একটা পত্রই নিয়ামক হয়ে গেল। আমাদের স্বাধিনচেতা সেনা প্রধান একধাক্কায় কুপোকাত হয়ে গেলেন। পত্র পাওয়া মাত্র অস্ত্র নিয়ে দৌড়ালেন মহামান্য প্রেসিডেন্ট এর বাস ভবনে। প্রেসিডেন্ট নিরূপায়, অসহায়ও বটে। নিজের সরলতায় ধরা পড়লেন প্রেসিডেন্ট। অথচ এই সুশীল বান্ধব এই জেনারেল সাহেবের সহকর্মী অফিসারদেরকে হত্যা করা হলো পরিকল্পিত ভাবে বিদ্রোহের নামে। তিনি নিধিরাম সর্দারের মত জাতির সাথে তামাশা করলেন। নিজের অধঃস্থন অফিসারদেকে হত্যার মত ন্যক্কারজনক কর্মে সাধারন একজন সিপাহীর ভুমিকা নিতে পারলেন না।

কি নির্মম পরিহাস জেনারেলের জন্য, যে শক্তির (স্যেকুলার দলের) জন্য তিনি সকল নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে কামলা খাটলেন। তারাই তাকে ইতিহাসের ঘৃনিত জেনারেল বানিয়ে ছাড়লো। বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীকে কলংকিত করেছেন আমাদের আলু বিশেষজ্ঞ জেনারেল উদ্দিন সাহেব। আপাদত যুক্তরাষ্টের দুতাবাসের চাকরীতে নিরাপদ ই মনে করছেন হয়তো। ডিজিটাল আপার পুরস্কারের পাপেট নিয়ে বাকি জীবন কাঠিয়ে দিবেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগন তাকে সঠিক সময়েই সঠিক হিসাব নিবে।

লেখকঃ জেদ্দা, সৌদি আরব প্রবাসী, ইমেইল, azadahmod@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/IbnAhmadAzad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Italy থেকে AL lover লিখেছেন, ১৭ জুন ২০০৯; দুপুর ০৩:২৪
Dada babu to tikoei bolechen. BD must be greatful to India. India was and is and will be our great friend. You jammatii rajakar does not linke india. Go to ur motherland pakistan or hell.
1652
London থেকে Faruque লিখেছেন, ১৮ জুন ২০০৯; সকাল ০৬:২৪
Hi mr al lover u may be blind suporter of bangladesh.if u thinking who is our great enemy india or pakistan at this moment.who r making tipaimukh.already made farakka.kiling and rape in evryday in border.india never be friend of bangladesh.R dada babura to bolbei karon tara jane jammat jotodin thakbe toto din tara bangladeshk purapuri grass korte parbena.taito indiar media o govt jamat birodi
1663
riyadh থেকে anamdom লিখেছেন, ১৮ জুন ২০০৯; সন্ধ্যা ০৬:২৯
kub balo likcen
1669
Saudi Arabia, Dammam, Dhahran থেকে Shahab Uddin লিখেছেন, ২২ জুন ২০০৯; সন্ধ্যা ০৭:১২
Past is past, talk about present and future. We shoud say our gratitute to India and that is enough in my view. But during 9 months war India was attended approximately 2 months or some days more. Within that tow motns India has gained many things from Bangladesh. I will not go on that. Have you got thought about this after liberation war what we got from India till today? Yes offcourse we got, we got many things, shall we have to be gratitute for these also? What we got like 01. Farakka, 02. Border Fencing, 03. Border Innocent Bangladeshies Killing, 04. Border area residents Rape, 05. Border are residents house looting, 06. River Barrages to make Bangladesh uncultivable, 07. Limited water sharing, 08. Market of Indian garbage goods, 09. Nationally and Internationally manifesting Bangladesh as a terrorist country 10. Conspiracy about abroad going workers (Both Pakistan and India), 11. Restricting our renowned goods to sell internationally, 11. Shouwing misinterest on Bangladeshi products, 12. Restricting TV Channels to India, 13. Restricting product advertisements to India, 14. Political interference, 15. Grabbing Marine and Land Borders, and many more those I don't need to explain. Then think about these, if India is our main barrier on developement of Bangladesh, then how could they are Bangladesh friendly country? India is setting back Bangladesh in every sphere of developements. We should raise our voice against India for more cooperation though they are not willing. We should see Bangladesh interest in every agreement. Not only agree on everything to make them happy. May Bangladesh grow developed faster than fastest. Shahab.
1742
us থেকে awlad লিখেছেন, ০২ জুলাই ২০০৯; সকাল ১০:৪৫
Thanu you for very good and realistick article or story.I wish more people will understand the real fact of indiaan agration.awlad.us.
1896
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy